এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • শ্রমিকের রক্তে কর্পূরের ঘ্রাণ 

    asim nondon লেখকের গ্রাহক হোন
    ১২ মে ২০২৬ | ১৭ বার পঠিত
  • ভোর ৫টা বেজে ১৩মি.

    সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর লোড করে সুরুজ মিয়া ময়মনসিংহ শহরের দিকে যাচ্ছে। মাল খালাস করতে হবে কাচারিঘাটে। ব্রহ্মপুত্রের পেটের মধ্যে পাথর চালান করে দিতে হবে। সেই কোথায় হিমালয়, তাঁর বুক বরফ-মাখা জাদুতে আচ্ছন্ন, সেখানে শাদা বরফের চাদরে গা সেঁধিয়ে ঘুমিয়ে থাকে কৈলাস পর্বতশৃঙ্গ, সেই পর্বতের বুকের মধ্যে লুকিয়ে লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে মানস সরোবর, সেই সেখান থেকে নেমে এসেছে এই ব্রহ্মার পুত্র...ব্রহ্মপুত্র নদ, তারপর কত শত মাইল পাড়ি দিয়ে এসে প্রোথিত হয়েছে এই ময়মনসিংহের নাভীর গভীরে; সেই ভাবনা সুরুজ মিয়াকে ভাবায় না।

    সে ভাবে, তাকে খুব দ্রুত মাল খালাস করতে হবে। এই ভোরবেলায় শহরে জ্যাম থাকে না, যে স্পিডে সে ট্রাক গাড়িটা চালাচ্ছে তাতে মিনিট বিশেকের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। সারারাত ঘুমহীন, গাড়ি চালিয়ে সে ক্লান্ত। সুরুজ মিয়া তার হেল্পার নুরুর দিকে তাকিয়ে দেখে, নুরু ঝিমাচ্ছে। দৃশ্যটা দেখেই তার মাথায় রক্ত উঠে যায়। রানিং গাড়িতে হেল্পার ঘুমালে সুরুজের মেজাজ খারাপ হয়। এভাবে কাজ করলে তো হেল্পার থেকে ড্রাইভার হতে নুরু'র বহু বছর লেগে যাবে। আর তাছাড়া রানিং গাড়িতে হেল্পার ঘুমালে ড্রাইভারেরও ঘুম পায়। এটাই মেকানিজম। হেল্পারের কাজই হলো, রানিং অবস্থায় ওস্তাদের সাথে কথা বলে রাস্তা সম্পর্কে তাকে অবগত করা আর ওস্তাদকে জাগিয়ে রাখা।

    সুরুজ হাঁক দেয়, অই ছ্যাড়া ঘুমাস ক্যা?
    নুরু চমকে উঠে। বলে, না ওস্তাদ, কই? ঘুমাই নাতো। চোখডা এট্টু লাইগা গেছিল।
    সুরুজ বলে, হ তা ত দেখতাছি। ১ কাম কর। বেলাল স্যাররে ফোন লাগা। ফোন দিয়া ক। মাল চইলা আইসে। ৮টার মইধ্যে খালাস দিয়া আমরা যামু গা।

    নুরু ফোন করে। রিং হয়। বেলাল ফোন ধরে না। বেলাল হচ্ছে পাথরের দালাল। ভদ্রভাষায় বললে বলতে হয় পাথরের মিডলম্যান, ব্যবসায়ী। নুরু নাছোড়বান্দা। পরপর ৩ বার ফোন দেয়। তৃতীয় বারে বেলাল কল রিসিভ করে। নুরু ফোনটা লাউড স্পিকারে দিয়ে ওস্তাদের দিকে এগিয়ে দেয়।

    অপর পাশ থেকে বিরক্তিমাখা ঘুম জড়ানো গলা ভেসে আসে।
    বেলাল বলে, হ্যালো? ক্যাডা?
    সুরুজ গিয়ার পাল্টাতে পাল্টাতে সালাম দিয়ে বলে, স্যার মাল ত চইলা আইছে। ৮টার মইধ্যে খালাসের ব্যবস্থা করণ যায় না?
    বেলাল এবার ধাতস্থ হয়। তার মনে পড়ে, আজ পাথর ডেলিভারি হবার কথা। সে সালামের প্রতি-উত্তর দিয়ে বলে, ও... সুরুজ? আজকা তো পয়লা মে। জানুইন না? শ্রমিক দিবস। সকাল ১০টায় কুলি সমিতির মিটিং। সভায় মন্ত্রীসাবও থাকব। তাই লেবার নাই। সকালে খালাস অইতো না, খালাস করতে বিকাল অইতো।

    এই কথা শুনে যেন সুরুজের মাথায় বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়। মনটা বিক্ষিপ্ত হয়। মনকে স্থির করতে সে রানিং গাড়িটা রাস্তার পাশেই ব্রেক কষে থামায়। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ ব্রেক কষায় ট্রাক গাড়িটা গাড়লের মত কেষে থেমে যায়।

    সরুজ উৎকণ্ঠায় বলে, এইডা কী কন? আমার পোলাডার অসুখ। হাম হইছে। বাড়িত যায়া ডাক্তার দেখামু বইলা ওয়াদা কইরা আইছি।
    বেলাল একটু সহানুভূতি দেখায়। বলে, আহারে। বয়স কত? ৬ মাস? আইচ্ছা। আপনে ১টা কাম করুইন। গাড়িডা হেল্পারের হাতে বুঝায়া দিয়া বাড়িত যাইন গা। বাড়ি কুনহানো?
    সুরুজ বলে, মধুপুর।
    বেলালের গলার স্বর এখন আবার স্বাভাবিক কর্তৃত্ববাদী হয়ে যায়। সে বলে, ও..তাইলে চিন্তা নাই। মধুপুর ত কাছেই। আপনে বুঝছুইন? এইডা করলেই ভালা অইতো। বিকালের দিকে মাল খালাস অইলে হেল্পার গাড়ি নিয়া গেল। হেল্পার কি গাড়ি চালাইতে পারে? না পারলে আপনেই আপনের সুযোগ বুইঝা গাড়ি লইয়া গেলেন। আর পোলারে ডাক্তার দেহাবাইন তো? ডাক্তার তো এই ময়মনসিংহ মেডিকেলেই ভালা। পোলারে আর পোলার মায়েরে নিয়া মমিসিং আইলে, মেডিকেলে ভালা ডাক্তার দেহাইতে আরবাইন।

    'দেখতাছি' বলে সুরুজ ফোন রেখে দেয়। তার কেন যেন খুব রাগ লাগে। এই পাথরের ট্রিপটা সুরুজ বাদ দিতে চেয়েছিল। ট্রাক গাড়ির মালিক যে মহাজন, সেই মহাজনের আদেশ সে অমান্য করে কীভাবে? সে তো চাকরি করে। মহাজনের আদেশই তার জন্য বেদবাক্য! সুরুজের মহাজন লোকটা অবশ্য সদয় লোক। মহাজন সুরুজকে বুঝিয়েছে, সুরুজ যদি রাতে রাতে সিলেট থেকে ময়মনসিংহ চলে আসে তাহলে সকাল সকাল মাল খালাস দিয়ে মধুপুর এসে সে তার ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে পারবে। তার যুক্তি ছিল, ডাক্তার দেখাতে টাকা লাগে। আর ট্রিপটা মারলেই নগদ বেশ কিছু টাকা তাদের পকেটে ঢুকবে। টাকার ধান্দাতেই এই জীবনের এই এত সব আয়োজন। সুরুজের টাকা দরকার, সে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ নিজ হাতে ঠেলে দিতে পারে না, কারণ লক্ষ্মীর কৃপা ছাড়া এ জীবন এ সমাজে অচল। সে ফোনটা নুরুর হাতে দিয়ে সিগারেটের প্যাকেট থেকে গাঁজা ভরা ১টা স্টিক বের করে ধরায়। তারপর স্টিকটা টেনে একরাশ ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে গাড়ি নিয়ে কাচারিঘাটের দিকে যায়।

    সকাল ১১টা বেজে ৩ মি.

    আকাশ রোদে ঝকঝক করছে। তীব্র গরম। তাপদাহে প্রকৃতি তার রুদ্র মৃর্তি ধারণ করেছে। সুরুজ মিয়া নুরুকে মাল খালাসের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে প্রান্তিক বাসে চড়ে মধুপুরে চলে এসেছে। বাংলাদেশের বুকের ঠিক মাঝ বরাবর মধুপুর, শালবনে ঘেরা উন্নয়নের ধ্বজাধারী ১টা ছোট্ট উপজেলা। উন্নয়নের নামে শালবন উজাড় করে দিচ্ছে মানুষ। সুরুজের বাড়ি মধুপুর পৌর এলাকার থেকে একটু দূরে, জঙ্গলের দিকে চুনিয়া নামের ১টা গ্রামে।

    বাড়ির আঙিনায় লেবু গাছটার কাছে পৌঁছাতেই সুরুজের কানে কান্নার আওয়াজ কড়া নাড়ে।

    এই মাস ছয়েক আগে সুরুজের প্রথম সন্তান হয়েছে। মানুষের জীবনকে সুরুজ এখন দুই পর্বে ভাগ করেছে: বাবা হওয়ার আগের পর্ব এবং বাবা হবার পরের পর্ব। তার মনে হয়, প্রতিটা শিশুই যেন ২টা কচি পাতাবিশিষ্ট ১টা চারাগাছ। টিকে থাকলে সময়ের সাথে ধীরে একদিন ঠিক বৃক্ষে রূপান্তরিত হবে। তার বাচ্চাটা একটু রোগা। সুরুজ মিয়ার বয়স আর কত হবে? ২৭/২৮। সে বিয়ে করেছে ৩ বছর আগে। তার স্ত্রী জুলেখার বয়স হবে ১৯ কি ২০। বিয়ের সময় সুরুজ গাড়িচালক ছিল না। তখন হেল্পার হিসাবে কাজ করতো। তারপর ২ বছর হলো সে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছে। আয়রোজগার একটু বেড়েছে বিধায় সন্তান জন্মদানের প্রজেক্টের দিকে তারা এগিয়ে গেছে। সমাজে এরকম বন্দোবস্তই প্রচলিত আছে।

    বাচ্চার কান্নার মাঝেও কিছু ভালো দিক আছে। যেমন জন্মের পর পরই ডাক্তাররা বাচ্চার কান্না শুনে নির্ধারণ করে শিশুর স্বরতন্ত্রীয় প্রত্যঙ্গ ঠিক আছে কিনা। ডাক্তাররা তো পিঠ চাপড়ে কাঁদিয়ে পরীক্ষা করে নেয়। মানে জীবনটাকে মানুষ কান্নার নিক্তিতে মেপে নেবার পরই উদযাপন শুরু করে। এই জন্য বাচ্চার কান্নার আওয়াজে সুরুজ একটু স্বস্তি পায়। এই অনুভূতি অন্যরকম। দ্বান্দ্বিক। যদি বাচ্চা না কেঁদে বাচ্চার মা কাঁদতো, তাহলে খবরটা আরো বেশি খারাপ হবার সম্ভাবনা থাকতো। সোনামণিটা যে এখনও পৃথিবীর আলো হাওয়ার স্বাদ পাচ্ছে, এটাই একজন বাবার জন্য সেই মুহূর্তে আশা জাগানিয়া ব্যাপার।

    ঘরে ঢুকতেই সুরুজ দেখে, বাচ্চাটা তার স্ত্রী জুলেখার বুকে মুখ গুজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে চলেছে। তাকে ঘরে ঢুকতে দেখে জুলেখা উৎকণ্ঠায় ডুবে গিয়ে বলে, দেহেন না.. বাবুর তো চিক্কুর থামে না। সারা রাইত জ্বালাইছে।
    সুরুজ ধীর স্বরে বলে, রেডি হয়া নেও। অটোরিসকা ডাইকা আনি। হাসপাতালে নিতে হবো।
    জুলেখা বলে, কুন হাসপাতাল?
    সুরুজ বলে, এইখানকার হাসপাতালে কি কাম হইবো? চলো দেহি। নাইলে মমিসিং নিয়া যাই।
    জুলেখা বলে, ঠিক কইরা বলেন। মমিসিং গেলে গুছগাছ করার আছে। আর উপজেলার হাসপাতালে গেলে অন্য কতা।
    সুরুজ বলে, তুমি মমিসিং যাওয়ার জন্য রেডি হও।
    জুলেখা বলে, আপনে নাস্তাপাতি কিছু খাইছেন? রাইতে তো ঘুমানও নাই। এহনই যাবেন? নাহি দুপুরে দুইডা ভাত খায়া বিকালে নিয়া যাবেন?

    সুরুজ এই কথার উত্তর দেয় না। তার খুব পানি তেষ্টা পেয়েছিল। কিন্তু ছেলের কান্না শুনে পানির কথা ভুলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তার শরীর ক্লান্ত, কিন্তু বাচ্চাটাকে নিয়ে বসেও থাকা যাচ্ছে না। ৫ দিন হয়ে গেছে হাম উঠেছে। চিকিৎসা বলতে এই গণ্ডগ্রামে কিছু নেই। চিকিৎসার জন্য ১২ কিলো দূরে মধুপুর পৌরসভাই ভরসা। সেখানে আছে হাসপাতাল।

    এই বাংলাদেশে মাঝেমধ্যে কিছু রোগের বায়ু উঠে। তখন ঘরে ঘরে সেই রোগ ছড়িয়ে যায়। ইদানিং এই হাম ছড়াচ্ছে ঘরে ঘরে। টিভিতে খবর হচ্ছে এই বিষয়ে। কেন এত হাম হচ্ছে? তাও কেবল বাচ্চাদের? কারণ হিসাবে বর্তমান সরকার বিগত সরকারের দায়িত্বে গাফিলতির কথা বলে বেড়াচ্ছে। বিগত সরকার হামের টিকা দেয়নি বলে নাকি এই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজব এক দেশ এটা। নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোই যেন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

    দুপুর ৩টা বেজে ২৩ মি.

    ময়মনসিংহ মেডিকেলে সুরুজ তার বাচ্চাকে ভর্তি করেছে। বেড পায় নাই। তাই নারী ও শিশু বিভাগের বারান্দায় এক কোণে তারা পাটি পেতে জায়গা করে নিয়েছে। পাটি এই হাসপাতালের ভিতরেই বিক্রি হয়। এখান থেকে সুরুজ ১টা পাটি, হাতপাখা, মশার কয়েল, পাউরুটি আর খাবার পানি কিনে নিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হতে না হতেই বেশ অনেকগুলো টাকা চলে গেল। সুস্থ থাকার জন্য এবং সুস্থ হওয়ার জন্য কেবল টাকাই প্রয়োজন। বালিশ আর কাঁথা অবশ্য তারা বাড়ি থেকেই নিয়ে এসেছিল। সাধারণত সরকারি হাসপাতালে এই রীতি।

    সুরুজের হাতের অবস্থাও খারাপ। পকেটে কেবল হাজার খানেক টাকা আছে। চিকিৎসা তো এখনও শুরুই হয়নি। ভর্তি করার মুহূর্তে ইন্টার্ন ডাক্তারের পরামর্শে দায়িত্বরত নার্স কী যেন ১টা ইঞ্জেকশন পুশ করেছে। তারপর থেকে বাচ্চাটা ঘুমাচ্ছে। বড় ডাক্তার রাউন্ডে আসবে বিকাল সাড়ে ৪টায়। ততক্ষণ তেমন কিছু করার নেই।

    বাচ্চাটাকে জুলেখার কাছে রেখে সুরুজ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসে। কিছু টাকা জোগাড় করতে হবে। বড় ডাক্তার এসে যদি কোনো ওষুধ লেখে, সেই ওষুধ তো তাকে ফার্মেসি থেকে কিনে দিতে হবে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সে ১টা স্টার সিগারেট ধরায়। সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে প্রথমে নুরুকে কল দেয়। মাল খালাস হলে সেখান থেকে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। ভাড়ার টাকা। সে ভাবে, গাড়ির মহাজনকে চিকিৎসার কথা বলে কিছু টাকা সে ভাড়া থেকে রেখে দেবে।

    নুরু ফোন ধরে বলে, হ্যালো ওস্তাদ...
    সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে সুরুজ বলে, কী রে? খালাস হইছে?
    নুরু বলে, না ওস্তাদ। লেবার টেবার কেউ নাইকা তো।
    সুরুজ বিরক্ত হয়ে বলে, কী কস? বেলালের সাতে দেহা অইছে? হ্যায় কি আইছিল গাড়ির বুগলে?
    নুরু জানায়, হ্যায় তো আহে নাইকা। কল দিলে রিসিভও করে না। হালায় ১টা চিজ।
    সুরুজ বলে, আইচ্ছা। আমি মমিসিং আয়া পড়ছি। গাড়ির কাছে আইতাছি। তুই গাড়ি থুইয়া কুনোহানে যাস নাই তো আবর?
    নুরু বলে, না না ওস্তাদ কী যে কন! আমি তো গাড়ির মইদ্দেই হুইত্তা আছি।
    'আইচ্ছা থাক', বলে সুরুজ ফোন কেটে দেয়। সে তার চোখের সামনে সমূহ বিপদ দেখতে পায়। কেননা ডেলিভারি না হলে টাকা পাওয়া যাবে না। এই জায়গা থেকে টাকা না পেলে অন্য কোন জায়গা থেকে টাকা ধার নেয়া যেতে পারে, সেই কথাই তাকে উত্তেজিত করে তুলেছে। সে কাচারিঘাটে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় উঠে। মনে মনে ঠিক করে, আপাতত গাড়িতে গিয়ে সে ১টা স্টিক খাবে। তারপর বেলালের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। তাতে ব্যর্থ হলে টাকা জোগাড়ের অন্য পথ দেখতে হবে।

    বিকাল ৫টা বেজে ১৩ মি.

    সুরুজ মিয়া ১টা থান ইট দিয়ে বারবার বেলালের মাথায় আঘাত করে মগজটাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। যেন ১টা পঁচা কুমড়া থেঁতলে ছড়িয়ে পড়ছে নদীতটের বালুকাবেলায়। নুরু ভয় আর ঘৃণায় শিহরিত হয়ে একজন নিশ্চল মানুষের মত দূরে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাটা দেখে। সে দেখে রক্তের ধারা গিয়ে ব্রহ্মপুত্রের ঘোলা জলে আরেক অদ্ভুত বর্ণালি সৃষ্টি করছে। বিভৎস ভাবে হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে বেলাল মগজহীন অবস্থায় আকাশের দিকে মুখ করে চিৎ হয়ে আছে। মে মাসের তপ্ত বিকেলে কাচারিঘাটের বালুর ঘাট এলাকায় জমায়েত হওয়া আমজনতা ১টা বিভৎস খুনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলো। ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনাকে স্মরণে রেখে তারা নিজেদের ফোনে দৃশ্যটাকে ধারণ করায় ব্যস্ত হয়ে রইলো। যেন এটা কোনো খুন নয়। এটা ফুটবল ম্যাচ। কেউ এই দৃশ্যের ছন্দপতনে এগিয়ে এলো না।

    এই ঘটনার দায় কি কেবল সুরুজ মিয়াই বহন করবে? এরকম নিরর্থক প্রশ্ন উত্থাপন করে নৈতিকতার রাফখাতাকেই কেবল হৃষ্টপুষ্ট করা হবে। আকাঙ্ক্ষিত উত্তর মিলবে না। উত্তর মিলবে অন্য কোনো সূক্ষ্ম শরীরের ভাঁজে ভাঁজে। সুরুজ মিয়া অবশ্যই অপরাধী। সে ১টা হতদরিদ্র দেশের ভাগ্যাহত বাবা। তার দোষকে কোনো দেশের সংবিধানই ক্ষমার চোখে দেখবে না। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। একটা মানুষ কেন আরেকটা মানুষের মাথা পঁচা কুমড়োর আন্দাজে থেঁতলে দেবে? কী অধিকারে কোন সাহসে সে এই কাজ করে? সে যতই গরিব হোক, তার শিক্ষার ঘাটতি থাকুক, তার অন্ধের যষ্টি সন্তান মারা যাক, সে যতই মাদকাসক্ত হোক, রাষ্ট্র যতই শ্রমিকের রক্ত শুষে নিক; মানুষের মাথা থেঁতলানো কোনো ভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। আর তাছাড়া মাথা থেঁতলানোর কাজ যদি কেউ করে সে হবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। ১টা ট্রাক ড্রাইভার কেন দিনেদুপুরে মগজ খুবলে ছড়িয়ে দেবে?

    হাসপাতাল থেকে কাচারিঘাটে এসে যখন সুরুজ পৌঁছায় তখন আসরের আযান হচ্ছে। নুরু গাড়ির ভিতরেই ছিল। সুরুজের ডাক শুনে নুরু গাড়ির দরজা খুলে দেয়।
    সুরুজ বলে, কী রে? বেলাল আইছিল?
    নুরু বলে, না ওস্তাদ। ফোন দিছিলাম। কাইটা দেয়।
    সুরুজ বলে, তামাক আছে?
    নুরু বলে, না ওস্তাদ। শেষ হয়া গ্যাছে। আপনের পুলার অবস্থা কী এহন?
    সুরুজ বলে, ভালা না। তুই দৌঁড় দিয়া যাইয়া ১টা পুটলা কিন্না আন দেহি। ট্যাহা আছে না? আমি বেলালরে ফোন লাগায়া দেহি, ধরে নাহি...
    নুরু বলে, ট্যাহা ৩০০ আছে। ১টাই নিমু?
    সুরুজ ইশারায় জানিয়ে দেয় ১টা হলেই হবে। নুরু গাড়ি থেকে নেমে গাঙ্গিনাপাড়ের বেশ্যাপল্লীর দিকে তামাক কিনতে যায়। নুরু ২০ বছর বয়সী টগবগে যুবক। লিকলিকে শরীর কিন্তু মজবুত। কায়িকশ্রমে শরীর শক্ত না হয়ে পারে না। নুরুর হিসাব ভিন্ন। পকেটে ৩০০ টাকা আছে। আর লুকানো পকেটে আছে আরো ২০০ টাকা। জমানো টাকা অবশ্য বিপদের বন্ধু, লুকানো ধন খরচ করা যাবে না। ১০০ দিয়ে স্কোর করা হয়ে যাবে। যাতায়াতে যাবে ৫০। বাকী থাকে ১৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে যদি সস্তায় কাউকে একটু চটকানো যায়, তো সে সেই লোভেই গাঙ্গিনাপাড়ের দিকে যায়। নয়তো স্টেশনের দিকে কিংবা জয়নুল আবেদীন পার্কের দিকে গেলেও স্কোর করা যেতো। কিন্তু সেই জায়গা গুলোতে তো চটকানোর জিনিস নাই।

    নুরু গাড়ি থেকে নেমে যাবার পর সুরুজ বেলালকে প্রতি ১০ মিনিট পরপর ১বার ফোন করে। ফোন বাজে, বেলাল ফোন ধরে না। পঞ্চম বার কল দেবার আগে সে গাড়ির দরজা ভালো করে লক করে চা খেতে টং দোকানে যায়। এই সময় জুলেখা তাকে ফোন করে। ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে অপর পাশ থেকে জুলেখার আর্তচিৎকারের আওয়াজ এসে সুরুজের বুক ভেঙে চুরমার করে দিয়ে যায়। সুরুজ কাঁদে না, পুরুষ মানুষের তো কান্না শোভা পায় না। বুকের দুঃখ বুকে পুষে সে জুলেখাকে স্বান্তনা দিয়ে জানায়, খুব জলদি সে হাসপাতালে পৌঁছে যাবে। পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত যেন জুলেখা একটু ধৈর্য্য ধরে বসে থাকে। সে মনে মনে হিসাব করে, অটোরিকশা ভাড়া করে গেলে, জ্যামে না পড়লে ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যাবে।

    সুরুজ চায়ের কথা ভুলে উঠে পড়ে। রিকশার জন্য রাস্তায় দাঁড়াতেই বেলালের সাথে তার দেখা হয়ে যায়। চোখে চোখ পড়তেই বেলাল অমায়িক হাসি হেসে সুরুজের দিকে এগিয়ে আসে। কাছে আসতেই সুরুজ গন্ধ পায়। দামী ব্র্যান্ডের মদের গন্ধ। সুরুজ বুঝতে পারে, এজন্যই বেলাল ফোন রিসিভ করছিল না।

    সুরুজকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বেলাল তার হাত ধরে পরম আত্মীয়ের মতো উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে তাকে ১টা পান-সিগারেটের দোকানে নিয়ে চলে। বেলাল দোকানিকে পান সিগারেট দিতে বলে। দোকানি পান সেজে দিলে পানটা সে মুখে চালান করে দেয়। সুরুজকে ১টা বেনসন সিগারেট এগিয়ে দিয়ে পান চিবাতে চিবাতে সে কথা বলে।

    বেলাল বলে, ১টা দাওয়াত আছিল বুজছো মিয়া? ফোন দিছিলা? ধরতে পারি নাই।

    সুরুজ লক্ষ্য করে, পেটে মদ পড়ার কারণে বেলাল তাকে তুমি সম্বোধন করতে শুরু করেছে। সচরাচর সে তাকে আপনি সম্বোধন করে।

    সুরুজ বলে, ভাই আমার খুব বিপদ। আমার পোলাডা...
    বেলাল সুরুজকে বলার সুযোগ দেয় না। সুরুজের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে সে বলে, আরে হুনছি ত। তুমার পোলাডা অসুস্থ। হাম হইছে। ঠিক হয়া যাইবো। আইজকার দিনে হাম কুনো রোগবালাই নাহি। হুনো জব্বর এডা মাল খিলাইলো বুজতে আরছ? রেড লেবেল। ১৬ হাজার ট্যাহায় ১ বুতল। ৩ জন মিল্লা খতম দিয়া আইলাম। খুব নিশা অইছে। আইজ আর মাল খালাস অইতো না।
    সুরুজ বলে, কী কন ভাই? আমার ট্যাহা লাগবো তো।
    বেলাল এইবার আগের থেকেও ফুরফুরা মেজাজে বলে, আরে রাহুইন আমনের ট্যাহাপইসার আলাপ। পিনিকডা চরম অইছে। ট্যাহাপইসার আলাপ দিয়া মেজাজ বিগড়ায়া দিবাইন না যে।
    নেশার কারণে বেলালের কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। সম্বোধনে গোলমাল হচ্ছে।
    সুরুজ বলে, ভাই শুনেন আমার পোলাডা...
    বেলাল আবারো সুরুজের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলে, ধুরবাল। বালের পোলা। খালি পোলা পোলা করুইন ক্যা? ১টা মাইয়ার খোঁজ থাকলে কইন। আইজ মনডা খুব পাতলা কইরালচে। মাইয়া থাকলে নাইচ অইবো!
    সুরুজের মেজাজ খারাপ হয়। সে বলে, আমার কতাই তো আপনে হুনতাছেন না। বাল। হাজার পাঁচেক ট্যাহা থাকলে ধার দ্যান।
    এবার বেলালও একটু রাগান্বিত হয়। বলে, ধুর হালা খানকির পোলা। আমি কী কই আর আমার হারিন্দায় কী বাজায়? ট্যাকা কি গাছের গুটা নাহি? কী করবাইন?
    সুরুজ গলা চড়িয়ে বলে, মা তুইলা গাইল দেন ক্যান? ভালোভাবে কতা কইতাছি। মায়ের নামে গাইল দিয়েন না কইলাম। মটকা গরম হয়া আছে।
    বেলাল আবারো সুরুজকে গালি দেয়। বলে, গালি দিতাম না? ১০০ বার দিয়াম। খানকির পোলা...খানকির পোলা...খানকির পোলা...

    চতুর্থ বার গালি দেয়ার সুযোগ বেলাল পায় না। তার আগেই সুরুজ বেলালকে ধাক্কা দিয়ে মাটির উপর ফেলে দেয়। তারপর চোখের সামনে পড়ে থাকা ১টা থান ইট নিয়ে বেলালের মাথা বরাবর আঘাত করতে থাকে। মাথাটা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। ফিনকি দিয়ে রক্ত গড়ায় ব্রহ্মপুত্রের জলের দিকে।

    নুরু ঠিক এই মুহূর্তেই এসে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল। সে গাঙ্গিনার পাড়ে বেশ্যাপল্লীর ১টা মেয়েকে ২০০ টাকার বিনিময়ে হালকা চটকাচটকি শেষে ১ পুটলা তামাক নিয়ে কাচারিঘাটে ফিরে এসে দেখে, বেলালের বুকের উপর সুরুজ বসে আছে। তার হাতে ১টা থান ইট। সেই ইট দিয়ে বেলালের মাথায় সে উন্মাদের মত বারবার আঘাত করছে। এই ঘটনা দেখে নুরু থ মেরে যায়। তার মুখে জবান ফোটে না।

    রাত ১১টা বেজে ৩ মি.

    দেশের স্বনামধন্য ১টা বেসরকারি টিভি চ্যানেলে টক শো শুরু হয়েছে। টক শো'র টপিক: 'শ্রমিকের রক্তে কর্পূরের ঘ্রাণ'। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এবং আরো ২ জন দেশবরেণ্য বক্তা মিলে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে 'শ্রমিকের উদ্বায়ী রক্ত' বিষয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে এটা তাদের বিশেষ আয়োজন। তারা আমেরিকার কথা, ইরানের কথা, যুদ্ধের কথা, ধর্মের কথা, দেশের কথা, রাজনীতির কথা, নৈতিকতার কথা, আইনের কথা এবং শ্রমিকের কথা বলতে থাকেন। তারা বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কঠোর পরিশ্রমী। উদয়াস্ত তিনি কাজ করেন। নিরবিচ্ছিন্ন তাঁর ব্যস্ততা। তিনিই এদেশের প্রধানশ্রমিক। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে 'বিশ্ব শ্রমিক দিবস' উপলক্ষ্যে যে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে ভালো খাবার ছিল, এই বিষয়টাও তাদের বলার টপিক থেকে বাদ যায় না। কিন্তু তারা কেউ সুরুজের কথা জানে না। সুরুজ যে এত বড় ১টা অপরাধ করেছে, তাকে যে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে তা নিয়ে তাদের উৎসাহ নেই। সুরুজ কেন খুন করলো? দেশে কেন হামের চিকিৎসা নেই? তা নিয়েও তারা কথা বলে না।

    আবার কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে তারা একটু চা-টা পান করে, বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু করেন। তারা কেবল আমেরিকা থেকে ভারত, ভারত থেকে পাকিস্তান, পাকিস্তান থেকে সৌদি আরব, সৌদি আরব থেকে দুবাই, দুবাই থেকে লন্ডন, প্রধানমন্ত্রী থেকে বানিজ্যমন্ত্রী, বানিজ্য থেকে কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে পক্ষে এবং বিপক্ষে আলোচনা করেন। তারা সকল মন্ত্রীকে সকল ব্যবসায়ীকে সকল ক্ষমতাবানকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে বসে শ্রমিক খেতাবে ভূষিত করেন।

    তারা আসলে সুরুজের অস্তিত্বকে স্বীকার করেন না। তারা ভাবেন এদেশে প্রধানমন্ত্রী থাকবে, প্রতিমন্ত্রী থাকবে, প্রধানমন্ত্রীর সন্তানরা থাকবে, রাষ্ট্রপতি থাকবে, তারা নিজেরা থাকবে, সুরুজের এখানে প্রয়োজন কী আছে? সুরুজের অস্তিত্ব এখানে শুধু গোলযোগই ঘটাবে। সুরুজের মতন লোক দিয়ে কি কোনোদিন সংসদ চালানো গেছে? নাকি কোনো শিল্পকারখানা চালানো গেছে? এদেশ পরিচালনায় একজন মাদকাসক্ত-খুনি-শ্রমিকের প্রয়োজন নেই। তাই তারা শ্রমিকের রক্তে কর্পূরের ঘ্রাণ খোঁজে। তারা রক্তের মধ্যেও সুঘ্রাণ পেতে চায়। তাই সুরুজের মত রক্তলোলুপ শ্রমিককে তারা ২ লাইনের সংবাদ শিরোনামে রেখে নিজেদের টিআরপি বাড়ানোর ধান্দায় মন্ত্রীদের গুণগান করে।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন