তৃণমূলকে লেসার ইভিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা মনে না করে কীভাবে সম্ভব ছিল বলে মনে হয়? প্রতিষ্ঠা করার তো কিছু নেই, গুরুচণ্ডা৯ এত বড় কিছু না যে কোন একটি দল সম্পর্কে ব্যাপক হারে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এবার গুরুচণ্ডা৯তে নানান লোক আছে, নানান রকম ভলান্টিয়ার ইত্যাদি, সে হিসেবে আমিও গুরুচণ্ডা৯র কাজকর্মের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ। তো, আমি তৃণমূলকে নিতান্ত চোর ছ্যাচোর ছাড়া কিছু মনে করিনি কখনো। কিন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষের বেসাতির তুলনায় চোর ছ্যাচোর শ্রেয় বলে মনে করেছি- কারন চুরির কিনারা হয়, জাতিগত বিদ্বেষের মূল্য অনেক বেশি ও তা সমাজে এমন করে চারিয়ে যায় যে তার নিরসন হয় না। বড়জোর সাময়িক ধামাচাপা থাকে।
এবার সে কথা যদি নাও ধরি, ইডি সিবিআই যখন নানাবিধ অপ্রমাণিত মামলায় কিছু ঘাঘু মন্দ লোককে ধরে রেখে দিয়েছে- তখন সেটাকেও অনৈতিক বলেই মনে করেছি, কারন ঐ করে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির অ্যাবসোলিউট ক্ষমতাকে মেনে নেওয়া হয়- যার চূড়ান্ত দেখা গেছে এসআইআর-এ। কেন্দ্রীয় এজেন্সি সর্বশক্তিমান না, তাদেরও প্রসেস্র মধ্যে থেকে কাজ করা উচিত - এই নিয়ে জনমত গঠিত হলে হয়তো এটা এত সহজে হতো না। তো তার সঙ্গে তৃণমূলের অপকর্মকে জাস্টিফাই করার সম্পর্ক কিন্তু থাকার কথা না।
বা ইডি সিবিআই এনআইএ ইত্যাদি - কেষ্ট মণ্ডলের গ্রেপ্তারি ও বিনা বিচারে আটকে রাখা নিয়মবহির্ভূত- এটা বলা মানে কিন্তু এই বলা না যে কেষ্ট মণ্ডলকে আমি ভালো লোক বলে মনে করি। আমি তাকে খারাপ লোক বলেই মনে করি। কিন্তু তাকে ল্যাং মারার জন্য বড় গুন্ডা ডেকে আনবো- এটা গোলমেলে। তথ্য প্রমাণ দিয়ে আইন কানুন মেনে তার জেল হাজত হলে আমি খুশি হতাম। কিন্তু তা তো হয়নি। একই রকম ভাবে পবতে নানান কিছু ভয়ানক অপরাধ হয়েছে, কিন্তু মিডিয়া ইত্যাদি সেগুলিকে যেমন ভাবে দেখিয়েছে, নানান ক্ষেত্রে ধর্মীয় ইত্যাদি রং লাগিয়েছে- তার প্রতিবাদ সর্বসম্মতই হওয়া উচিত ছিল।
সেসব জিনিস বিরোধীরা কেউ করেনি। এবার তার ফলে যা হয়েছে, কেউ যদি মনে করেন তা ঠিকই হয়েছে, তাহলে কিছু বলার নেই।
তৃণমূলের পতন হয়েছে, হওয়ারই ছিল। সর্বক্ষেত্রে গা জোয়ারি, এমনকি সৃজনমূলক বা সাহিত্যকেও মাখিয়ে লাট করেছে। কোন ভালো বিকল্প হয়নি তা দুঃখের - কিন্তু কেন লোকে বামেদের ভোট দেবে তাও ধাঁধা- বামেরা বড় পুঁজির বন্ধু হলে লোকে কেন দক্ষিন ছেড়ে তাদের বেছে নেবে- এই প্রশ্ন শুনলে লোকে রেগে যায়, কিন্তু আদানের কারখানা চাইলে তো তা বিজেপির (বা কং) হাত ধরে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, অভিজ্ঞ ওরা।
- এর ফলে মাধ্যমটির ভাবমূর্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে—এমন অনুভব অনেক পুরোনো পাঠকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশ গুরুচন্ডালি থেকে সরে গিয়েছেন, যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। একটি পাঠকৌম হিসেবে নিজেদের পরিচিতি দেওয়া গুরুচন্ডালির জন্য এই বিচ্ছিন্নতা গুরুত্বসহকারে ভাবার দাবি রাখে।
এবার কথা খোলামেলা কথা, মত বিনিময়। সে তো স্বাগত, মূল ধারার বাম ভাষ্য বুবুভাতেও হয়েছে, আর হপা টই খেরো তো হয়েইছে। কিন্তু যাঁরা বেরিয়ে গেছেন তাঁদের অনেকেরই তো সেসবে আগ্রহ নেই, কেউ পাঁচিলে বসে বাদামভাজা পছন্দ করেন, কেউ কুচ্ছো করতে। বেশিরভাগের তো এখনও সেই হলদি নদীর কুমীর ট্রমাই কাটলো না। তো কী আর হবা।
আর যারা বলেন নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে অসন্তোষের কারনে বিজেপি জিতেছে- তার সঙ্গে একমত হওয়ার কোন উপায় দেখি না, অন্য রাজ্যগুলির দিকে তাকালে। পবতে তো নাহয় সব ভোগে গেছিল, দিল্লিতে সরকারি স্কুলগুলির উন্নতি হয়েছিল, ত্রিপুরাতে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা বেশ ভালো ছিল - সেসব কোনও কাজে আসেনি। দিল্লিতে কী হয়েছে জানি না, ত্রিপুরার গ্রাম পাহাড়ের সরকারি স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্কুলছুটদের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। দুর্নীতি বিষয়েও বিজেপি রাজ্যগুলির হাল ভয়াবহ। উত্তর প্রদেশ মধ্য প্রদেশ ইত্যাদিও উদাহরণযোগ্য। আর সত্যি বলতে কী নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক লেনদেন (পুঁজির আগমন না), বাইরের পর্যটক আসা, উচ্চশিক্ষা - ইত্যাদি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় রিপোর্টেই পব এমন কিছু মন্দ জায়গাতেও নেই যদ্দুর মনে পড়ে, লিং দিতে পারবো না যদিও। কিন্তু চতুর্দিকে ভয়াবহ ইমেজ তৈরি হয়েছে গত কিছু বছরে।
তো সেসব বলা মানে তৃণমূলকে ভালো বলা না, কিন্তু বিজেপি এলে যে রামরাজ্য হবে না- সেই বিশ্বাসের জায়গাটা দশচক্রে লোকে ভুলে গেছে। আর ভুলে যদি না গিয়ে থাকে, তাহলে শুভেন্দু অধিকারীর কথাই লোকে প্রতিষ্ঠা করেছে আরকি- ওসব সেকুলারিজম টিজম চলবে না- হিন্দুস্তান হিন্দুদের দেশ।
পবর পরিবেশ জনঘনত্ব প্রান্তিক মানুষের এজেন্সি ইত্যাদি বিচার করে গুজরাট রাজস্থান মধ্যপ্রদেশের মত গোটা দশেক গ্রাম থেকে লোককে খেদিয়ে কারখানা বানিয়ে ফেলা পবতে অত সহজ না, তাই খুব কিছু হবে - তা না, সেসবাই জানে। বিজেপি অলরেডি বলতে শুরু করেছে যে ৩৪+১৫ বছরের মাৎসন্যায় ইত্যাদি। টো আবার কত দশকের প্রতীক্ষা, দেখা যাক, সুদিনের সন্ধানে।