এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  ধারাবাহিক  অর্থনীতি  শনিবারবেলা

  • দিন গোনার দিন - পর্ব ১০

    হীরেন সিংহরায়
    ধারাবাহিক | অর্থনীতি | ০৯ মে ২০২৬ | ২৪৪ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ছবি: রমিত






    আপনার ধন পরকে দিয়ে

    ঋণের বিবেচনা বা ক্রেডিট ডিসিশন অতি বিষম বস্তু।

    আজকাল অবশ্য নানান বৈজ্ঞানিক মডেল তৈরি হয়েছে; সেখানে কোনো কোম্পানির তিন বছরের ভূত, পাঁচ বছরের ভবিষ্যত ভাবনার ডেটা গুঁজে দিলে যন্ত্র বলে দেবে ঋণ দেওয়া যাবে কি যাবে না– চিৎ ইয়া পট। তাতেও যদি সন্তুষ্টি না মেলে, সার দিয়ে দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি। তারা কোন বিশেষ মডেলিং (দুর্জনে বলে ফি নামক উৎকোচ তাড়িত হয়ে) করে জানিয়ে দেবে ঋণ গ্রহীতা উঁচু কেলাসের অনার্স পাস না নিতান্ত পাস কোর্সের গ্র্যাজুয়েট। আমার ব্যাঙ্কিং জীবনে এমন কয়েকজন ক্রেডিট গুরুর পদতলে বসার সৌভাগ্য হয়েছে যারা ঊর্বশীর নির্মোক নৃত্যে বিচলিত হতেন না; কুতুক মুনির মতো বলতেন, আরও কিছু দেখতে চাও, জানতে চাও, শুধু নম্বর দেখে অভিভূত হয়ো না সে শুধু বসন ভূষণ। সিধে চোখে প্রশ্ন করো, লুক এ কাস্টমার ইন দি আই!

    অফিসের করিডোরে তাঁদের বিষয়ে তির্যক মন্তব্য শুনেছি, কোনো প্রপোজাল নিয়ে যাওয়াটা কি যে ঝকমারি। এঁরা একেবারে বদ্ধ পরিকর, কিছুতেই সই করবেন না! কী যে চান কে জানে!

    এক যদি বলিলেন বহু হইব -উপনিষদের এই বাক্যির মর্ম আজকের বাজারে একেবারে হারিয়ে গেছে তা নয় – একের সফলতা বা ব্যর্থতা দিয়ে বহুর মতিগতিকে চেনা যায় না। কিন্তু একই গাছের অনেকগুলি ডালপালা থেকে সেই গাছটার সম্বন্ধে কি কোন ধারনা করা সমীচীন? বনে অনেক গাছ, সেখানে একটা দুটো ফুলে ভরা, শীর্ণ, জীর্ণ কিছু – সেখানে কি বিশেষ কোন বাণী আছে? সেটি কি আমরা শুনি, শুনতে চাই? শোনার জন্য কি বিশেষ কর্ণ কুহর কি জরুরি?

    সাতের দশক। ব্যাঙ্কের কাজে বদলি, জার্মানি যাবো। আলিপুরে জার্মান কনসুলেটের ভিসা অফিসার বলেছিলেন, খারাপ সময়ে যাচ্ছেন, পশ্চিম ইউরোপে এখন মন্দা। ইউরোপ যাবো বলে লাফাচ্ছি কয়েক মাস, সেখানকার তেজি মন্দা নিয়ে আমার দুশ্চিন্তার কোন কারণ ছিল না। আদার ব্যাপারী, আমার মাইনে আসবে বম্বের মাদাম কামা রোডের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থেকে। কলকাতার পর ফ্রাঙ্কফুর্ট পৌঁছে বাজার বোঝার কোন প্রশ্নই ছিল না, তৈল তণ্ডুল ইন্ধনের সন্ধানে ঘুরেছি, যা দেখি সবই নতুন। ক্রমশ জেনেছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে মার্শাল নামক দয়াময়ের কল্যাণে এবং বহু মানুষের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির ফলে পুনর্গঠনের মহাযজ্ঞ ততদিনে সমাপ্ত, ফুলের কেয়ারি লাগানো হয়ে গেছে, তার যত্ন প্রয়োজন, নতুন চারা পোঁতার নয়। তার ওপরে আরব ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। পশ্চিমের সব দেশের অর্থনীতি ঝিমুনির মুডে। জার্মানিতে একটা কথা শুনেছি তখন, ‘যা করবার করে ফেলেছি, যেটা আছে সেটা রক্ষে করাই কাজ’ (হালটেন হোয়াস উইর হাবেন)। কখনো মাঝে মধ্যেই কারো হাল বেহাল হয়, সেটা কোন বিশেষ সেক্টরের সমস্যা নয়। আমার প্রথম আমেরিকান ব্যাঙ্ক দেউলে হবার পথে গেল, সেটা কন্টিনেন্টাল ইলিনয় ব্যাঙ্কের সমস্যা, ব্যাঙ্কিং ইন্ডাস্ট্রির নয়।

    বছর দশেক পরে স্টক মার্কেটে যে উথাল পাথাল দেখা গেলো তার কোন পূর্বাভাস ছিল না। সাময়িক ভাবে দাম কমল, নিউটনের সূত্র অনুযায়ী সকল গতির সমান বিপরীত গতি অনিবার্য। অতএব কয়েক বছর যাবত নিয়ত ঊর্ধ্বগামী শেয়ার বাজার একদিন উলটোমুখো হবে এতে আর আশ্চর্যের কি আছে? কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। কর্পোরেট ব্যাঙ্কিং যথাপূর্বম চলতে থাকল। ১৯৮৭ সালের অক্টোবর বিপর্যয় একটা ঐতিহাসিক ডেটা পয়েন্ট থেকে গেলো।

    নয়ের দশকে বার্লিন দেওয়ালের পতন এবং পূর্ব ইউরোপ সহ উন্নয়নশীল দেশগুলির বাজারে হঠাৎ আলোর ঝলকানি দেখে সেদিকে আমরা সকলেই ধাওয়া করেছি, সে বাণিজ্য টেলিকম হোক, জাহাজ কোম্পানি বা তেল কোম্পানি হোক। একটা নতুন ফ্রন্টিয়ার খুলে গেছে, ইউরোপের যে অর্থনীতি এতদিন ধুঁকছিল সে দেখল শাকের ক্ষেত। এ শুধু ব্যবসার দিন, এ লগন ব্যবসা বাড়াবার। উধার দিতে কোনো সংশয় নেই, কাল উচিত সুদ সহ নগদ ফেরত আসবে। পূর্ব ইউরোপে আমরা স্বছন্দে উপেক্ষা করেছি ঋণ গ্রহীতার অভিজ্ঞতার অভাব, কমান্ড ইকনমি থেকে মার্কেট ইকনমির যাত্রাপথের ফাঁক ফোকর; থাইল্যান্ডে অজস্র ভুঁইফোড় ফাইনান্স কোম্পানির জন্য প্রভূত অর্থ তুলেছি বাজার থেকে, এমন সব প্রতিষ্ঠান যাদের কয়েকটা চেয়ার টেবিল ছাড়া আর কোন অ্যাসেট ছিল না। পালে লেগেছে হাওয়া, আমরা সবাই তার পন্থী। খুঁটিয়ে দেখিনি, দেখতে চাইনি। কোন ফরাসি ব্যাঙ্কে এক আইরিশ পণ্য ব্যবসায়ীকে ধার দেওয়ার বিষয়ে বিপরীত মন্তব্য করে আমার বন্ধু জেমস লেন বিপদে পড়েছিল; তার বসেরা ধমকে দিয়ে বলেন সোসিতে জেনেরাল, ক্রেদি লিওনে তাদের খাতা খুলে দিয়েছে, তুমি কোথাকার নস্ত্রাদামুস এসে উলটো গাইছ?

    উত্তরে এস্টোনিয়া থেকে দক্ষিণে ক্রোয়েশিয়া অবধি শয়ে শয়ে ব্যাঙ্ক ঝাঁপ খুলেছে সেখানে প্রায় কোন অঙ্কই মেলে না কিন্তু সে মাথাব্যথা এখন মুলতুবি থাক। আজকা লাভ শুভ, কল কিসনে দেখা? এমনি করে যায় যদি দিন যাক না? নয়ের দশকের শেষ নাগাদ খানিকটা ছোঁয়াচে সঙ্কট দেখা দিলো। থাইল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশি মুদ্রার দুর্দিন ছড়িয়ে পড়ল গোটা পূর্ব এশিয়ায়, কোরিয়া জাপান বাদ গেল না। পূর্ব ইউরোপে উত্তর থেকে দক্ষিণে ব্যাঙ্ক প্রায় সব দেশেই ব্যাঙ্কিং ব্যবসা দেউলে হবার মুখে, সোমবার ১৭ই আগস্ট ১৯৯৮ রাশিয়ান সরকার তার আপন মুদ্রায় নেওয়া ঋণ ফেরত দিতে অক্ষম হলে পর প্রকৃত প্রস্তাবে দেউলে ঘোষিত হল। এইবার সমস্যার একটা প্যাটার্ন দেখা গেল; তার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া – ধার দেনা বন্ধ! আপাতত।

    এলো ইন্টারনেটের বিস্ফোরণ - আগের পর্বে আমরা দেখেছি সেই উল্লাসের আয়ু ছিল সীমিত, কারণ ভেতরটা ফোঁপরা। কিন্তু আবার আমরা বাণিজ্য বিস্তারের আনন্দে সেটি উপেক্ষা করে মোচ্ছবে যোগ দিয়েছি। পরে বডি কাউন্ট হলে দেখলাম নব্বই শতাংশ, সাড়ে আটশো স্টার্ট আপ অনেককে সঙ্গে নিয়ে অতল জলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তার মধ্যে বাহুবলির সংখ্যা গোটা চল্লিশ; তারা শুধু টেকেনি, চুটিয়ে ব্যবসা করছে আজও –কোই জিতা কোই হারা, জগতের যেমন নিয়ম।

    পাঁচ বছর বাদে শুরু হল বাড়ি জমির ধার দেনা নিয়ে জুয়ো খেলা – ‘প্যার কিয়ে যা’ নামের একটি ছবি দেখেছিলাম যুবাকালে, এবার আরেক মটো – লোন লিয়ে যা! যুক্তি? কে না জানে বাড়ি জমির দাম বাড়তেই থাকে, ব্যাঙ্ক বাজার থেকে টাকা তুলতেই থাকে, সুদের হার কম বা থিতু থাকে। অতএব সবার রঙে রঙ মিশাতে হবে। সেই জুয়োর ঘোর কাটলে দেখলাম আমরা দান দিয়েছি কালোয়, ক্রুপিয়ারের ডায়ালের কাঁটা থেমেছে লালে। সব ব্যাঙ্কের দেরাজে কঙ্কাল, তাকে আর লুকনোর চেষ্টা করা বৃথা। আগে একটি দুটি ব্যাঙ্ক নানান সমস্যায় পড়েছে, এখন সবাই একই গাড্ডায়; বিশ বছর আগে কন্টিনেন্টাল ব্যাঙ্ক ছিল গাঁয়ের একমাত্র ভিখিরি। এখন বহু দেশের ব্যাঙ্ক কটোরা হাতে দাঁড়াল আপন দেশের সরকারের কাছে, মাথা নোয়াল নিয়ন্ত্রক, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে। বড় ভুল হয়ে গেছে প্রভু, এবারের মতো বাঁচিয়ে দিন, আবার সুবোধ বালক হবো। একটা চান্স দিন।

    নিয়ামকবর্গ একের পর এক বেড়ি বানালেন, মাটিতে সাদা চকের দাগ কেটে বললেন লাফিয়ে পার হও দেখি বাপু। আমরা আজ কেউ মনে রাখি না ১৯৮২ সাল অবধি ব্যাঙ্কের আপন পুঁজির সঙ্গে তার ঋণ দেওয়ার সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তোলেনি কোন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। যা ধার দেওয়া হল সেটি ফেরত না এলে ব্যাঙ্ক যে লাটে উঠতে পারে এই সামান্য ভাবনাটি কেউ করেননি। সুইজারল্যান্ডের বাসেলে সকল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, আমাদের পরম পিতা ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টস এবার বললেন, বাজারে সস্তায় ধার করে বেশি সুদে সেই টাকা লাগানো নয়, ব্যাঙ্কের নিজস্ব অর্থভাণ্ডার বাড়িয়ে ঋণ দেওয়া হোক। ধার শোধ না হলে ব্যাঙ্কের আপন সহন শক্তি কতো তার একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা হল, যার কেতাবি নাম স্ট্রেস টেস্ট। মুশকিল এই যে নিজের ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যবসা করলে খরচ বাড়ে। খদ্দেরের ওপরে আর কত বোঝা চাপানো যায়? সাব প্রাইম সঙ্কটে গাড়ি চাপা যাওয়ার পরে সামগ্রিকভাবে ব্যাঙ্কিং ব্যবসার ঋণ দেবার উৎসাহ এবং সামর্থ্য কমে এলো।

    অতঃকিম?

    ব্যবসা শুরু করতে টাকা লাগে, অর্থই ব্যবসার ধমনিতে রক্ত সঞ্চালক। ঘটি বাটি অথবা স্টিভ জবসের ক্ষেত্রে ফোলকসভাগেন গাড়ি, মার্সিডিজ বেন্তসের ক্ষেত্রে ব্যারথা বেন্তসের যৌতুকের গয়না বেচে জড়ো হয় নিজস্ব পুঁজি। তা দিয়ে দু-দিন কাজ চলে, কিন্তু আরও আরও, আরও আরও অর্থ না পেলে ব্যবসা বাড়ে না। অতএব ঋণং কৃত্বা! সেই ঋণ দেয় কে? ট্র্যাডিশন মাফিক তার প্রাথমিক উৎস দুটি - সাদা সিধে ব্যাঙ্ক যারা আপনার আমার কাছে অল্প সুদে ধার নিয়ে, বাজারে বন্ড ছেড়ে, অন্য নিবেশকের কাছে টাকা নিয়ে বেশি সুদে ব্যবসায় লাগায়। সেটাই তাদের বিজনেস মডেল, বাই চিপ সেল হাই। কোম্পানির ব্যাল্যান্স শিটে বাঁ কলামে তার স্থান। তার নাম ডেট, সেটি অ্যাসেট।

    দ্বিতীয় উৎস ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার, যারা নিজের নয়, সামান্য ফি-র বিনিময়ে অন্য দশজনের ক্যাপিটাল বেওসাতে লাগান সেটা কখনো বন্ডের কখনো কমার্শিয়াল পেপারের রূপ ধারণ করে। নাম যাই হোক না কেন সেটি আসলে ঋণপত্র, আমাদের পুরনো যুগের হুন্ডি, পিতামহের আমলের হ্যান্ড নোট। গত চার দশকে তাদের সংখ্যা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে; তারই সঙ্গে অথবা তারই কারণে বেড়েছে হেজ ফান্ডের সংখ্যা। এই হেজ ফান্ড নামটা ধোঁয়াটে। এঁরা কিছুই হেজ বা আপনার লোকসান সামলানোর কোন বেড়া বানান না। এটি এক বিশাল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যেখানে আপনার টাকা ডলার, ইউরো জমা পড়ে। আপনাকে মেহনত করে ইকনমিক টাইমস পড়ে বা টেলিভিশনের ভবিষ্যতদ্রষ্টা মুনি ঋষিদের সুপারিশ মতন নাম নির্বাচন করে ডি ম্যাট খুলে অন লাইনে টাকা পাঠাতে হয় না। ফান্ড ম্যানেজার অবশ্যই সেই সব লগ্নির একটা লিস্টি পাঠান আপনাকে (যেমনটা আপনার মিউচুয়াল ফান্ড পাঠিয়ে থাকে)। ম্যানেজাররা সেটি ইচ্ছে মতো লাগান, আপনার লাভ লোকসান যাই হোক না কেন, ফি দিতে হবে। হেড আই উইন টেল ইউ লুজ।

    এবার ব্যাল্যান্স শিটের ডান দিক দেখা যাক, তাকে বলি লায়াবিলিটি, দায়।

    দোকানের ঝাঁপ অবধি খোলেনি, সবে ৭৮৬ লিখে সাইনবোর্ড টাঙ্গানো হয়েছে, গণেশ মূর্তির অর্ডার দেওয়া হয়েছে মাত্তর, এমতাবস্থায় এই ব্যবসার আংশিক মালিকানা যদি কোন বিধু বাবু বা অন্য কোন চেনা জানা দরাজ দিল মানুষ কেনেন (যেমন হেনরি ফোর্ডের উকিল হোরেস র‍্যাকহ্যাম যিনি অনেক দ্বিধা পূর্বক পাঁচশ ডলারে ৫০টি শেয়ার কিনেছিলেন; তাঁর ব্যাঙ্কার সাবধান করেছিলেন, হোরেস, ঘোড়ার স্থান কোন যন্ত্র কেড়ে নিতে পারে না; হোরেস ১২ মিলিয়ন ডলারে সেই শেয়ার বিক্রি করেন দশ বছর বাদে) তাদের নতুন নাম প্রাইভেট ইকুইটি ইনভেস্টর; এঁরা টাকা লাগান উপরোধ অনুরোধে, সিইও-র বাক ভঙ্গিমায় অভিভূত হয়ে অথবা সেই উদ্যোগের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা করে, ফাইনানশিয়াল টাইমসের কোম্পানিজ অ্যান্ড মার্কেটস পাতা পড়ে নয়। নবজাতকের কোন ঠিকুজি কুষ্ঠি লেখাই হয়নি। হবে লাভ হবে লাভ, লাভ লাভ হবে হবে এই মন্ত্রের মায়ায় যারা অজস্র স্টার্ট আপে অর্থ বিনিয়োগ করলেন তাঁদের উত্থান পতন দেখলাম ইন্টারনেটের উন্মাদনার কালে। অর্থনীতিক দুনিয়া সাউথ সি বাবল, টিউলিপ ম্যানিয়া, কার্লো পনজির জুয়ো খেলা দেখে চুল পাকিয়েছে। একশো বছরের বেশি আগে পরশুরাম, আমাদের রাজশেখর বসু এ নাটকের চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখে গেছেন, সময় পেলে ইন্টারনেট আর্কাইভে গিয়ে বিনা ব্যয়ে শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড গল্পটি পড়তে পারেন। শ্রী গণ্ডেরিরাম বাটপারিয়া নামক এক আনত্রপ্রেনার কেমন ভাবে হুগলী জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে একটি দেবালয় বানানোর কল্পিত প্রোজেক্টে পাঁচ জনকে আগাম অংশ বেচেছেন, যাদের আমরা আজ প্রাইভেট ইকুইটি ইনভেস্টর বলি, ইন্টারনেটের জুবানে অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর। শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড গল্পে পাবেন লঞ্চ থেকে ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং এবং স্টক মার্কেট কোল্যাপ্সের সম্পূর্ণ ধারা বিবরণী।

    মন্দা নব নব

    ইন্টারনেট আবিষ্কারের তুমুল উল্লাস একদিন শেষ হল।

    দুনিয়া থেমে থাকে না, ব্যবসা বাণিজ্যের কল, কম্পিউটারের ইঁদুর থামতে পারে না। ব্যাঙ্কের সস্তা সুদ, রেগুলেটরদের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ নিয়মাবলীর কল্যাণে গল্প এগিয়ে চলল। রাজনৈতিক নেতা এবং অর্থনীতির বেত্তারা বললেন, কড়াকড়ি নয়, এখন সময় এসেছে বাণিজ্যের বাজারে হালকা ছোঁয়া দেবার (এ সফট টাচ)। বার্নি মেডফ নামের এক অ্যাসেট ম্যানেজার - এক সময়ে নাসডাকের অধিকর্তাও ছিলেন- বললেন, এতো বেশি আইনকানুন ব্যবসার পক্ষে মোটে ভালো নয় (পরে তিনি কার্লো পনজির নব অবতাররূপে ৬৫ বিলিয়ন ডলার হাপিশ করে দোকান বন্ধ করবেন, এতাবৎ পনজি স্কিমের বৃহত্তম নমুনা)।

    বাড়ি জমি বন্ধক নিয়ে কমার্শিয়াল ব্যাঙ্ক দিলো মর্টগেজ, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কগুলি সেটি কিনে বানাল বন্ড, বেচল আপামর জনগণকে - সাব প্রাইম ক্রাইসিসের কথা আপনারা এবে সকলেই অবহিত আছেন, তার পুনরাবৃত্তি নিরর্থক। গৃহদাহের পরে ছাইয়ের গাদার সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুরক্ষা সমিতি শুধু নয় রানি এলিজাবেথ অবধি প্রশ্ন করলেন, এমনটা ঘটল কেমনে? কোন গাঁজার ছিলিমে টান দিচ্ছিলেন ম্যানেজমেন্ট, ক্রেডিট গুরুরা? গ্রিড ইজ গুড কথাটা বড়ো বেশি ফিল্মি (যদিও ইভান বোয়েস্কি অন রেকর্ড বলেছিলেন) শোনায়, দ্যাট ইজ নট প্রফেশনাল। আমেরিকার ফেডারাল রিজার্ভ, ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ড, জার্মানির বুন্দেসবাঙ্ক বাসেলের বড়ো নিয়ামক সকলে মিলে বললেন ঋণদানের ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি আনা দরকার। স্বাভাবিক। এলোমেলো ধার দিয়ে হাত পুড়িয়ে মতান্তরে শার্ট হারানোর পরে ব্যাঙ্কগুলি ঋণের ব্যাপারে অনেক বেশি সতর্ক হলেন, তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি আরও হাতকড়া পরিয়ে তার চাবি দূরে ছুঁড়ে ফেললেন। ধার দেওয়াটা ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠলো। যারা এতদিন এসো হে খদ্দের এসো এসো বলে সদর দরোজায় বসে থাকতেন - ফার্স্ট হ্যান্ড আইরিশ গল্প, সাব প্রাইমের সুসময়ে আয়ারল্যান্ডে বাড়ি কেনার পুরো দামটা ধার দেবার পরে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বলেছেন একটু বেশি নিন, একশ দশ পারসেনট, ফার্নিচার কিনতে হবে না? আমস্টারডামে একই গল্প শোনা গেছে। সুর বদলালো। এবার ধার চাইলে তাঁরা এবার ঋণ গ্রহীতাকে হাজারটা প্রশ্ন করলেন, সুদের হার বাড়ালেন, লাভ হোক না হোক, লোকসান যেন না হয় বোনাসের কথা ভুললেন। আজ বাঁচলে কাল নাহয় বাপের নাম নেওয়া যাবে।

    ইন্টারনেট বুমের আমলে বড়ো অঙ্কের খেলাটা চলেছিল প্রাইভেট কোম্পানিকে নিয়ে, তারা নিতুই নব বিজনেস প্ল্যানের ভেল্কি দেখিয়ে শেয়ার মার্কেটে আবির্ভূত হয়ে একদিনে দাম দুগুনা করবার রঙিন ছবি দেখাচ্ছিল। ‘ঘুমিয়ে আছে গুগলের মাতা সব স্টার্ট আপের অন্তরে’ -এই আশা ভ্রান্ত প্রমাণিত হওয়ার পরে রব উঠলো আরও তথ্য চাই, চাই ডিসক্লোজার। কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানির কোন পাবলিক ফেস নেই, শেয়ার ট্রেডিং হয় না, অতএব বোঝবার উপায় নেই এঁরা সত্যি বলছেন না গড়াপেটা নম্বর দেখাচ্ছেন (এলিজাবেথ হোমস নাম্নী উনিশ বছরের স্ট্যানফোর্ড ড্রপ আউট যুবতী আট বছর যাবত সকলকে টুপি পরালেন এই বলে যে এক ফোঁটা রক্ত থেকে শরীরের যাবতীয় ব্যাধির লক্ষণ জেনে নেওয়ার টেকনোলজি তিনি আবিষ্কার করেছেন, বিল ক্লিনটনের সঙ্গে পোডিয়াম শেয়ার করেছেন) চোর পালালে বা ইন্টারনেটের বুদ্বুদ ফাটলে পর জ্ঞানোদয় হলো। ক্রেডিট কর্তারা বলতে শুরু করলেন হমে দেখনা হ্যায়, আউর সোচনা হ্যায়।

    পাবলিক কোম্পানিকে শত আইনকানুন মানতে হয়, নিয়ন্ত্রক, অডিটরকে নিয়মিত হিসেবপত্র দেখাতে হয়, কাগজি কারবাইতে তাঁরা বিশেষ দক্ষ। সিঁথি বরানগরের বুদ্ধিতে আমার মনে হয়েছে কাগজে ছাপা হলেই সেটাকে কি যুধিষ্ঠিরের দরবারের প্রভাতী বার্তা বলে মানতে হবে? তার কতটা সত্যি, কতটা গুল গল্প? ছোটবেলায় গ্রামে বড়োদের বলতে শুনেছি, খবরটা ছাপার অক্ষরে বাইরাছে, সেটা কখনো মিথ্যা হইতে পারে? বড়ো হয়ে দেখলাম, পারে, হারগিজ পারে – লাই, ড্যাম লাই অ্যান্ড স্ট‍্যাটিসটিক্স। শক্ত ডবল ডিমাই কাগজে ছাপা হলেও। কিন্তু ওয়াল স্ট্রিট, লম্বার্ড স্ট্রিট সুন্দর কাগজে বাঁধানো ব্যাল্যান্স শিটকে কোন কোম্পানির এক মুহূর্তের স্ন্যাপ শট নয়, তাকে বেদ-কোরান-বাইবেল জ্ঞানে পুজো করে। নিয়ামক বললেন কানুন মেনে পাবলিক কোম্পানিকে ব্যাঙ্ক অবশ্য ধার দিতে পারো; সুদ ও ফি বাড়িয়ে নিয়ে আপন বিবেচনা মাফিক।

    সমস্যা হল প্রাইভেট কোম্পানিদের নিয়ে। পাবলিক কোম্পানির ঋণপত্র, লোন ট্রেডিং হয়, তার দর থেকে বাজারের সেন্টিমেন্ট বোঝা যায়, প্রাইভেট কোম্পানিতে সেটা সম্ভব নয়। এদের হিসেবপত্র কোথাও সরকারিভাবে পেশ করা হয় না। আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখে বেশিরভাগ ব্যাঙ্ক নিজেদের মুঠো বন্ধ করে রাখলেন।

    এই মহাবিশ্বে, প্রকৃতিতে শূন্য থাকে না কিছুই, নেচার অ্যাভরস ভ্যাকুয়াম। এবার দিগন্তে জিনের দুপাশে অর্থ সম্ভারে সজ্জিত এক অশ্বারোহী বাহিনী দেখা দিলেন- তাদের পতাকায় লেখা, প্রাইভেট ক্রেডিট। ব্যাঙ্কের লোন মেলা নয় যে হাজারটা ডকুমেন্ট, পিতৃ পুরুষের কুলুজি, দশ বছরের টেলিফোন/বিজলি বিল, তিন বছরের এক বা দু নম্বরি খাতা দেখাতে হবে। সামনা সামনি দোনো কা বাতচিত হোবে, সওয়াল কম ব্যাজ জিয়াদা, বস। সব তয় হোয়ে যাবে, কিতনা লেনা দেনা হ্যায়।

    স্নেহ এবং জল নিম্নগামী। ঋণের জন্য বুভুক্ষু প্রাইভেট কোম্পানির সামনে পরিত্রাতা হাজির হলেন – প্রাইভেট ক্রেডিটের জাবদা খাতায় ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেলো ট্রিলিয়ন ডলার; পৃথিবীতে মাত্র কুড়িটা দেশের জাতীয় আয় তার চেয়ে বেশি। কিছু অর্বাচীন অশ্বারোহী হাটে বাজারে অর্থ বণ্টন এবং ভারি সুদ আদায় করে নিজেদের ঝোলা ভরছেন। খানিকদূর থেকে সেটি দেখে জে পি মরগান, বারকলেজ, জেফরিজ প্রমুখ ভুবন বিখ্যাত ব্যাঙ্কের কর্তারা বিশেষ ঈর্ষা বোধ করলেন। এ কোন নেপো দই খেয়ে যাচ্ছে? আমরাই বা কেন পিছিয়ে থাকি? ট্রিকলর, ফার্স্ট ব্র্যান্ড (আগের পর্ব পশ্য) প্রাইভেট কিন্তু বিজনেস বিশাল। সেই মাঠে নেমে পড়তে ক্ষতি কি?

    আটের দশকে স্টক মার্কেটের অন্তহীন বৃদ্ধি, নয়ের দশকে নতুন দিগন্তে অবাধ ঋণদানের উচ্ছ্বাস, ইন্টারনেটের উল্লাস, এই শতাব্দীতে সাব প্রাইমের হিড়িক – যে কোন মোচ্ছব ফুরুলে দেখা গেল কিছু ধনীর এবং অভিভাবকের দুয়ারে সব হারিয়ে ক্রন্দনরত হাজার জনতা। গুরুজনেরা তাদের শাসন করলেন, কেন বুঝে শুনে কাজ করোনি? তার খেসারত দাও। তবে বাপু এবার থেকে সাবধান হও। ব্যাঙ্ক বললে অবশ্যই, আগের বারে বুঝিনি বিপদটা কোন দিয়ে আসবে তাই গভীর গাড্ডায় পড়েছি কিন্তু আর নয়, নিলাম অগ্নিশপথ।

    আবার এসেছে আঁধার?

    এক চক্ষু হরিণ ভেবেছিল তার বিপদ আসতে পারে ডাঙ্গার শিকারির দিকে, নদী থেকে নয়। এতদিনের ব্যাঙ্কিং ব্যবসায় দেখলাম আমরা সেই এক চক্ষু হরিণের উত্তরসূরি। সব দ্বার রুদ্ধ করে দিলে মুনাফা তবে কথা দিয়ে ঢোকে? আবার অন্যদিকে কোন দরজা দিয়ে, কোন ভাঙ্গনের পথে আপদ ঘরে ঢুকতে পারে, তার চেহারাটা কি সেই চিন্তা থেকেই যায়। একদিকে বজ্র আঁটুনি দিলে আর কোথাও গেরোটা ফসকাতে পারে। কখনো অচেনা দুনিয়াতে দিল দরিয়া ঋণ দেওয়া, ইন্টারনেটের ফানুসকে ধ্রুব সত্য মনে করা, বাড়ি জমির দাম কখনো কমে না ধরে নিয়ে অকাতরে তিজোরি খুলে দেওয়া -তিন দশকে তিন রকমের বিপর্যয় এলো। দশ বছরের সাইকল চলতেই থাকে। জ্ঞানী-গুণীরা কোনো সঙ্কেত কি দেখতে পান না আকাশে কোথাও? একেই কি বলে হার্ড মেন্টালিটি, সামনের ভেড়া যেদিকে ছুটছে পেছনের ভেড়াও ছোটে সেদিকে? সব্বাই করে বলে সব্বাই করে তাই?

    আসন্ন দুর্যোগের নাম কি প্রাইভেট ক্রেডিট?

    দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রাইভেট ক্রেডিটের বাজারে আজ নেমে এসেছে সঙ্কটের ছায়া। ফার্স্ট ব্র্যান্ডস, ট্রিকলর দেউলে হবার পরে গ্রিক ঋষি জেমি ডাইমন হঠাৎ ধ্যান নিদ্রা থেকে জেগে উঠে আবিষ্কার করেছেন এই সব লোন আরশোলার মতো নোংরা, ক্ষতিকর। আরও বিপদে পড়েছেন সেই সব নিবেশক যারা আপনার ধন হেজ ফাণ্ডকে দিয়ে সুখনিদ্রায় মগ্ন ছিলেন। তাঁরা জে পি মরগানের মন্তব্য শুনে আতঙ্কিত হয়ে ফান্ড ম্যানেজারকে ফোন করছেন, লাভ চাইনে, আমার জমা টাকাটা ফেরত দাও। প্রাইভেট ক্রেডিটের মুশকিল এইখানেই। শেয়ার বাজারে কেনা বেচা হয়, ইন্সিউরেন্স বাজারেও। বিক্রি করতে চাইলে কম বেশি একটা দর জানা যায়। প্রাইভেট ক্রেডিট একটি গুপ্ত রহস্য; এখানে কোন সরকারি ট্রেডিং হয় না, কেনা বেচা দ্বিপাক্ষিক। আপনি যদি ফান্ড ম্যানেজারকে বলেন লাভ চাইনে, আমার টাকা ফেরত দাও, তিনি তৎক্ষণাৎ তা পারেন না। আপনার কষ্টার্জিত ধন আটকে আছে কোন ঋণ গ্রহীতার ক্যাশ বাকসোয়, তিন বছরের কড়ারে। ফান্ড ম্যানেজার চাইলেই সে ধার শোধ করতে বাধ্য নয় বরং শর্ত ভাঙ্গার অভিযোগে সে আদালতের দ্বারস্থ হবে। এবার আপনার ধনের যক্ষ সেই ফান্ড ম্যানেজারের সামনে দুটি রাস্তা – সেকেন্ডারি মার্কেটে খদ্দেরের সন্ধানে হাটে মাঠে ছোটা, কোথায় পাবো তারে? আপনার দেওয়া ফি-তে বর্ধিত এই ম্যানেজার ঝুট ঝামেলায় যাবেন কেন? সুখের দিনে ইনিশিয়াল ফি নিয়েছেন, বছরে বছরে বাঁধা পারিশ্রমিক পান। অতএব তাঁরা দ্বিতীয় পথ অবলম্বন করেন। বলেন ফেরতের কথা ভুলে যান। আপাতত জমা টাকার রিডেমশন বন্ধ, সিন্দুকে কুলুপ। তিন পাঁচ বছর বাদে দেখা যাবে এই সব দেনদাররা সুদ সহ টাকা ফেরত দেন কিনা। ততদিন ঈশ্বরের নামে মালা জপ করুন। বিশ্বাসে মিলায় প্রফিট।

    এখন দেখা যাচ্ছে প্রাইভেট ক্রেডিট দেনেওলার একটি বৃহৎ অংশ ইন্সিউরেন্স কোম্পানি যারা আপনার প্রিমিয়ামের টাকাটি লম্বা রেসের ঘোড়া বা দীর্ঘ মেয়াদি লাভজনক লোনে লাগিয়ে থাকেন। আপনি তো আর রোজ রোজ ক্লেম করতে যাচ্ছেন না? ক্যাশ টাকা রাখবার কি প্রয়োজন? তাঁদের অ্যাসেট অ্যালকেটর বা টাকা বণ্টনের নায়েব প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছেন উঁচু সুদের প্রাইভেট ক্রেডিটে। অবশ্য এছাড়া তাঁদের ভাঁড়ারে আছে অনেক সম্পদ। তবু! প্রাইভেট ক্রেডিট জনিত সঙ্কট কি একটি সেক্টরাল বিষয়? এ জন্তু খাঁচা থেকে বেরিয়ে কি অন্য কারো ক্ষতি করতে পারে?

    ইন্টারনেটের উচ্ছ্বাসের সঙ্গে আজকের কৃত্রিম মেধার প্রবল আলোড়নের অকৃত্রিম সাদৃশ্য কি দৈব যোগাযোগ? সব চরিত্র কাল্পনিক?

    কয়েকটি মানদণ্ড নেওয়া যাক;

    নবজাত কোম্পানির সম্ভাব্য বাজার দর, মার্কেট ভ্যালুয়েশন, আশু আয়ের প্রত্যাশা, প্রাইস আর্নিং রেশিওকে শিকেয় তুলে আইপিও-র অনেক আগেই তার শেয়ার বাজারের দরকে মহাশূন্যে পাঠানোর সুনহরি সপনা দেখানো হচ্ছে। ১৯৯৮-৯৯ সালে এটাই আমরা দেখেছি।

    আজকের একেকটি এ আই কোম্পানি কয়েকশো একর জমিতে গড়ে তুলেছে বিরাট তথ্যকেন্দ্র। টেক্সাসের অ্যাবিলেনে এনভিডিয়া, ওরাকল, ওপেন এ আইয়ের মিলিত স্টারগেট প্রোজেক্টের যে ডেটা সেন্টার গড়ে উঠেছে তার আয়তন প্রায় নশো একর (মানস চক্ষে একবার দেখে নিন, হাইকোর্ট থেকে রেসকোর্স পর্যন্ত দীর্ঘ, গঙ্গার তীর থেকে রবীন্দ্র সদন পর্যন্ত প্রশস্ত কলকাতা ময়দানের আয়তন প্রায় হাজার একর - আমাজনের গুদাম বা ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের গড় আয়তন বিশ একর, কুঁড়ে ঘর মাত্র)। এক বছরের কম সময়ে বন্ড বাজারে একশো বিলিয়ন তাতে নিবেশিত হয়েছে। এক পা পিছিয়ে গিয়ে মনে রাখি ইন্টারনেটের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বানাতে একশো বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচায় যোজন যোজন অপটিক ফাইবার লাইন পাতা হয়েছিল, তার অনেকটাই কাজে লাগেনি।



    আবিলেন, টেক্সাসের ডেটা সেন্টার



    ডেটা সেন্টার বানানোর যে ব্যস্ততা আজ দেখা যাচ্ছে তাতে শিগগির এক ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে এমন কথা শুনি। গৌরি সেনের অভাব নেই এ বাজারে, তাঁরা ফতুয়ার পকেট খুলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, ঐ দেখ প্রভাত উদয়! মার্ক জুকারবার্গ বন্ডের বাজারে নামলেন, চাই আশি বিলিয়ন ডলার; সে খাতা বন্ধ হবার আগেই জমা পড়ল একশো পঁচিশ বিলিয়ন – আমেরিকান বা পৃথিবীর বন্ডের ইতিহাসে এতো বড়ো বাই অর্ডার কখনো দেখা যায়নি। আমেরিকান বাজারে মেটা, গুগল, আলফাবেট, ওরাকল মিলে যে পরিমাণ ডলার তুলেছে সেটা দেশের গোটা কর্পোরেট বন্ডের পঁচিশ শতাংশ। কোন জোগানই অন্তহীন হতে পারে না। ভবিষ্যতের আলেয়ার আলো দেখে এ আই-তে নিবেশক যতো বেশি ডলার লাগাবেন, তত টান পড়বে বাকি ব্যবসা বাণিজ্যের অর্থায়নে, তার বৃদ্ধি হবে সীমিত।

    লোভে উন্মত্ত এ আই ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং-এর চিত্র খানিকটা বদলাতে শুরু করেছে, সবাই মুক্ত কচ্ছ হয়ে টাকা ঢালতে দৌড়ুচ্ছেন না। ল্যারি এলিসনের ওরাকল থেকে তিনশো বিলিয়ন ডলারের কম্পিউটিং পাওয়ার কেনার জন্য ওপেন এ আই যে চুক্তি করেছে তার ফাইনান্সিং করতে গিয়ে জে পি মরগান পড়েছে বিষম বিপাকে। এই পরিমাণ অর্থ বাজার থেকে তোলা যাচ্ছে না, এর নাম আনসোল্ড আন্ডাররাইটিং পজিশন, ব্যাঙ্কের নিজের ব্যাল্যান্স শিটে রাখা যায় না; আমার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং-এর সময়ে ছিল এটি ছিল সবচেয়ে বড়ো আতঙ্কের, নিদ্রাহরণের কারণ। বসের ফোন ধরতে ভয় হতো, কেন বেচতে পারোনি? জবাব দাও।

    অথচ এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম বাড়তেই থাকে ঠিক যেমনটি ঘটত ইন্টারনেটের আমলে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন ওয়াল স্ট্রিটের ঊর্ধ্বগতি এবং আমেরিকান অর্থনীতির ঊত্থান সমার্থক, কিন্তু সেটা আসলে ফিল গুড ফ্যাক্টর, শুধু ফিলিং! স্বপন যদি মধুর এমন, জাগিও না আমায় জাগিও না। যেদিন সেনসেক্স দশ পারসেন্ট বাড়ে সেদিন দেশের সর্ব সাধারণের পকেটে নগদ পনেরো লাখ টাকা এসে পৌঁছয় না। সেটি যে স্বপন তা বুঝতে পারি যখন দূরে কোথাও কোন দেশে গোলাবাজি ঘটলে ওয়াল স্ট্রিটের, দালাল স্ট্রিটের উড়ন্ত ঘুড়ি ভোকাট্টা হয়ে যায়। শেয়ারের দর বাড়লে অবশ্যই কিছু মানুষজন নিজেকে ধনী ভাবতে থাকেন।

    ইংল্যান্ডে এসে ইস্তক দেখছি কিন্তু কিছুতেই তার কারণ বুঝে উঠতে পারিনি কেন বাড়ির দাম বাড়লে মানুষ নিজেকে বড়লোক মনে করতে আরম্ভ করেন, ডিনারে চায়ে কেন তারই গল্প চলে। বাবু কহিলেন বুঝেছ হীরেন এ বাড়ির দাম বাড়িল! বরানগরি বুদ্ধিতে দুটো কথা মনে হয়েছে - যেখানে কেউ বাস করেন সেটি তাঁর আশ্রয় বটে তবে যতদিন তার পুরো দাম না মেটানো হচ্ছে, সেই ফ্ল্যাট বা বাড়ির আসলি মালিক তিনি নন, সে কোনো ব্যাঙ্ক। দ্বিতীয়ত দাম বাড়ল বলে বাড়ি বেচে ক্যাশ আউট করতে তো যাচ্ছেন না, এটা শেয়ার বাজারের হিসেবে প্রফিট টেকিং নয়। যদি আপন আবাস বেশি দামে বিক্রিও করেন, মাথা গোঁজার জন্য যে আরেক আস্তানা কিনতে হবে তার দামও বেড়েছে সমান হারে।

    জেগে উঠুন বাবু, এর নাম জিরো সাম গেম।

    সাতের দশকে কলকাতায় ব্যাঙ্কের কাজে কম্পিউটার ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আন্দোলন দেখেছি, মেশিন লাগিয়ে বেকারি বাড়ানোর প্রকল্প নিপাত যাক! জার্মানিতে তেমন কোন প্রকাশ্য প্রতিরোধ না দেখে থাকলেও বলতে পারি আমার দেখা ইউরোপে ব্যাঙ্কের কাজে, ব্যক্তিগত ব্যবহারে কম্পিউটারের প্রচলন এসেছে অতি মন্দ মন্থরে। ফ্রাঙ্কফুর্টের কন্টিনেন্টাল ব্যাঙ্কে হের বাউয়ার মাঝে মাঝে আমাদের হাতে লেখা ভাউচার এন্ট্রির সঙ্গে কম্পিউটার প্রিন্ট আউট মিলিয়ে দেখতেন। কেন সেটা করছেন জিজ্ঞেস করায় সপ্রতিভ জবাবে বলেছিলেন ওদেরও তো ভুল হতে পারে, দেখে নেওয়া ভালো (জার্মানে বলে ফেরত্রাউয়েন ইস্ট গুট আবার কনত্রলে ইস্ট বেসার – বিশ্বাস করা ভালো, তবে খতিয়ে দেখাটা আরও ভালো)। আজকের জেনারেশন জেড বা জেন জি বিশ্বাস করতে পারবেন না ১৯৭০ সালেও ফ্রান্সের ঘরে ঘরে টেলিফোন ছিল না, পাড়ার ওষুধের দোকানে গিয়ে ফোন করতে হতো (অ্যান অ্যামেরিকান ইন প্যারিস ছবিটি দেখুন)। শুধু প্রভাঁস পিকারদির গ্রামে নয়, প্যারিস, মার্সেই, লিওঁর মতন শহরে বেশ কিছু নির্দিষ্ট ফার্মেসি সারা রাত্তির খোলা থাকতো জন সুবিধার্থে, শুধু ওষুধ নয়, বার্তালাপের জন্যেও। আমাদের পাইকপাড়ার বাড়িতে ফোন ছিল না অতএব সেই একই সময়ে আমরা টালা পার্কের পাশে সুমতি ফার্মেসিতে কুড়ি পয়সা দিয়ে ফোন করতাম। ১৯৮৪ সালে যখন জার্মানি ছেড়ে আসি, সরকারি টেলিফোন দফতরের কাছে লাল, সবুজ এবং ধূসর এই তিনটে রঙের মধ্যে একটা হ্যান্ডসেট ভাড়া নিতে হয়েছে। নয়ের দশকের গোড়ায় মাদ্রিদ বার্সেলোনা সান্তান্দারে খবর কাগজের বিজ্ঞাপনে লেখা হতো – দুই কামরার ফ্ল্যাট বিক্রি আছে, টেলিফোন নম্বর সহ।

    সে পুরনো গল্প। গত বিশ বছরে টেকনোলজি আমাদের জন জীবনের আবশ্যিক অঙ্গে পরিণত। এককালে ওয়াকম্যান (যা কোন ম্যান নয়, হাঁটতো না) দেখা গেছে একটি বিশেষ বয়সের মানুষের হাতে, আজ ট্রেনে টিউবে বয়স্ক মানুষ একহাতে আই ফোন ধরে অন্য হাতের আঙ্গুল দিয়ে বার্তা বিনিময় করেন, টরে টক্কার মতন।

    পশ্চিমে টেকনোলজি সেক্টরে লোক ছাঁটাই শুরু হয়ে গেছে, তার কারণ বাণিজ্যিক। পারিবারিক সূত্রে জানি খরচ বাঁচানোর জন্য মাইক্রোসফট পূর্ব ইউরোপের ব্যবসা পরিচালনার ভার দিয়েছে তাদের বুখারেস্ট অফিসের ওপর, বুলগারিয়া সহ একাধিক দেশে অফিস বন্ধ। এখন টেক সেক্টরের মাথার ওপরে স্বয়ং স্যাম অলটমানের মনোগ্রাম করা এ আই রূপী একটি প্রকাণ্ড খাঁড়া ঝুলছে; অনেকের কাজ যাবে।

    ম্যাসাচুসেটসের টাফটস ইউনিভারসিটিতে ফ্লেচার স্কুলের ডিন ভাস্কর চক্রবর্তী তাঁর ডিজিটাল প্ল্যানেট রিসার্চ সেন্টার থেকে একটি এ আই জবস রিস্ক ইনডেক্স প্রকাশ করেছেন, কেবল মাত্র আমেরিকার জন্য। তার সারাংশ নিম্নরূপ (পাঠক ভীত হবেন না, এটি একটি আমেরিকান হরর মুভির চিত্রনাট্য, ভারতে এ ছবি রিলিজ হয়নি, আশা করি হবে না):

    মোট এক কোটি মানুষের কাজ এবং টেক সেক্টরের প্রায় আটশো বিলিয়নের মতো আয় খতরে মে, অ্যাট রিস্ক। আগামী পাঁচ বছরের ভেতরে কর্মহারার সংখ্যা দু কোটি এবং আয়ের ক্ষতি দেড় ট্রিলিয়ন ডলার পৌঁছুতে পারে। অবশ্যই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সিলিকন ভ্যালি, সিয়াটল, ফিনিক্স, আটলান্টা, ফিলাডেলফিয়ায় কর্মরত মানুষ, ফার্মবেল্টের চাষিরা নন; আমাদের হিসেবে খতরা বেঙ্গালুরুতে, বিহারে নয়! ন্যাংটার নেই বাটপাড়ের ভয়।

    দ্বিতীয় ধাপে দেখানো হয়েছে ঠিক কোন কাজগুলির আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা -
    পয়লা নম্বরে আছেন তাঁরা যারা জটিল টেকনিকাল তথ্যকে সহজ সরল করে আম জনতার সামনে পেশ করেন (রাইটার), তাদের মধ্যে ৫৭% চাকরি হারাতে পারেন সামনের তিন বছরে, এর পর কম্পিউটার প্রোগ্রামার (55%) এবং ওয়েব ডেভেলপার (৪৬%)।*

    যুদ্ধক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে অজস্র হতাহতকে পাশ কাটিয়ে যাবার সময় জীবিত মানুষেরা হয়তো বলেছিলেন, এ পথে আর নয়। লেমান ব্রাদার্সের অন্ত্যেষ্টির পরে ঘর সামলানোর পালা শুরু হয়েছিল, এবারটা অন্য রকম, দিস টাইম ইজ ডিফারেন্ট।

    সব অঙ্ক ভণ্ডুল হয়ে যায়, পারস্য উপসাগরে রণবাদ্য বেজে ওঠে, তেলের গ্যাসের দাম বাড়ে, তার কারণে সারের দাম, তার কারণে খাদ্য শস্যের দাম বাড়ে। মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাবনায় সুদের হার বাড়তে পারে। আর কোন কিছুই কাল্পনিক নয়।

    এবার সিট বেল্ট বাঁধার সময়। দিন গোনার পালা শেষ?

    স্টপ প্রেস

    মেটার চিফ পিপল অফিসার জানেল গেল একটি আভ্যন্তরীণ মেমোতে জানিয়েছেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে ব্যাপক ইনভেস্টমেন্টের জন্য জরুরি অর্থের সাশ্রয় করার উদ্দেশ্যে এই মে মাসের মধ্যেই আট হাজার জনকে ছাঁটাই করা হবে (মেটার মোট কর্মী বল আশি হাজার)।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
    ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

    *Americas coming revolt is in the wired belt by Bhaskar Chakrvorti, Dean of Global Business, Fletcher School, Tufts University .
    Financial Times April 20

    স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সাবধানবাণী

    দশটি পর্বে রচিত দিন গোনার দিন আখ্যানটি পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার সম্ভাব্য আর্থনীতিক পরিবর্তনের একটি দুর্বল চিত্রণ মাত্র। ভারতবর্ষের বর্তমান অথবা ভবিষ্যত অর্থনীতির সহিত ইহার কোনরূপ সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হইলে তাহার জন্য লেখক কোনমতেই দায়ী নহেন।



    (সমাপ্ত)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • ধারাবাহিক | ০৯ মে ২০২৬ | ২৪৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • সমরেশ মুখার্জী | ০৯ মে ২০২৬ ১০:০৯740566
  • সাবধানবাণী সত্ত্বেও - রচনা রম্যরসে ভরপুর হ‌ইলেও - এযাবৎ রক্তচাপ কম থাকিলে‌ও - এ নিবন্ধ পড়িয়া তা কিঞ্চিৎ বাড়িয়া গেল sad
  • | ০৯ মে ২০২৬ ১৪:৩০740580
  • যুদ্ধটা আরেকটু লম্বা হলে এয়াই বাবল এখুনি ফাটত বলে আমার ধারণা।
    এয়াইয়ের আরেকটা বড় ইমপ্যাক্ট হল পরিবেশের উপরে। সেটা নিয়ে কথা খুব একটা হয় না। এয়াই শুনতে বলতে গিয়ে কিছু লোক কেমন স্টারি আইজ হ্যালু টাইপ হয়ে যায়।
     
    আপনার এই সিরিজটা বড় ভাল। অনেক কিছুই নিজের দেখা, নিজের অভিজ্ঞতার সাথে মিলেছে বলেও আরো বেশী ভাল লেগেছে।
  • Debanjan Banerjee | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৯ মে ২০২৬ ১৭:২৯740583
  • অসাধারণ হয়েছে দাদা l বিশ্বের ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ও তার সঙ্গে অর্থনীতির ওঠা পড়া বুঝবার জন্যে এটি একটা টেক্সট বুক হিসাবে পরিচিত হয়ে থাকুক বাংলা সাহিত্যে l আপনার অগাধ অভিজ্ঞতার ফসল বাংলা সাহিত্যের পাঠকের হাতে তুলে দেবার জন্যে অনেক ধন্যবাদ l
  • Debanjan | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ০৯ মে ২০২৬ ১৭:৫৭740584
  • তবে শেষ হয়েও মনে হচ্ছে হইলো না শেষ l
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন