সৌমেন অন্যমনস্কভাবে মাথা নাড়ে। মনে তীব্র অপরাধবোধের কাঁটা খচখচ করে। হে ঈশ্বর, এতো আগ্ৰহ নিয়ে যে সম্পূর্ণ অচেনা কাউকে এভাবে আহ্বান জানায় তার সম্পর্কে এমন কুভাবনা কেন এলো মনে? ... ...
এই সিরিজের আগের দুটি পর্ব ছিল শিবের গাজন। এই পর্ব থেকে থাকবে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা। এই পর্বের ভ্রমণের সময়কাল - ৬ ও ৭ই অক্টোবর - ২০১২ - শনিবার ও রবিবার ... ...
"একা বেড়ানোর আনন্দে" - এই সিরিজে আসবে ভারতের কিছু জায়গায় একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এটি পর্ব - ৩৫। রাস্তায় আড্ডারত স্থানীয় তিন তরুণকে শুধোই, আউলিকা প্যায়দল মার্গ কিধর? ওরা বলে, মত যাইয়ে। আমি বলি, কিঁউ? বিজ্ঞের মতো ওরা জানায়, চড়াই বহুত হ্যায় আঙ্কল, থক জায়েঙ্গে। কথা না বাড়িয়ে একটু এগিয়ে অন্যজনকে শুধোই। তিনি রাস্তা বুঝিয়ে দেন। জিজ্ঞাসা করি, খুব চড়াই, পারবো না? তিনি বলেন, চড়াই ভালোই, তবে না পারার মতো কিছু নেই। আমরা স্থানীয়, তাই সোয়া ঘন্টা লাগে। আপনার না হয় দ্বিগুণ লাগবে। ইচ্ছে যখন হয়েছে, ঘুরে আসুন। অসুবিধে হলে ফিরে আসবেন। এই হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গির তফাৎ। ... ...
সলিলদার কথায়, সুরে ও অনুপদার অনুপম গায়কীতে শুনেছি - এমনি চিরদিন তো কভু যায় না। তবে সে গানে দিনগুলি ছিল সর্বনাশা নিরাশার। জামনগরে আমার আটটি বছর কেটেছিল তার বিপরীত - অতীব আনন্দময়। তবে তাও তো আর চিরকাল কপালে সয় না। তাই ঘটলো ছন্দপতন - দু মাসেই অনেকটা ঝরে গেল আট বছরের সঞ্চিত স্নেহ। ... ...
এই ফেনাটির শিরোনাম সন্দীপনীয় শৈলীতে “ভাস্কর সম্পর্কে দুটো একটা কথা যা আমি জানি” - এমনও হতে পারতো। যে শিরোনামটি রয়েছে, সেটাও সন্দীপনের। তাহলে আমি কী করেছি? ... ...
কর্মসূত্রে নভী মুম্বাইয়ের খারঘরে থাকার সময় ১০/১২ থেকে ০২/১৪ সময়কালের মধ্যে সহ্যাদ্রি অঞ্চলে স্থানীয় মারাঠি ট্রেকমেটদের সাথে ১৭টি হিল ফোর্ট ট্রেকিং করেছি। একটু তাড়াহুড়ো হয়েছিল কারণ জানতাম না কবে বদলি হয়ে যাবো। গেলামও হয়ে বদলি - হুবলী - ০৮/১৫। তবে যাওয়ার আগে বহুদিন ধরে লালিত আশার আশ মিটিয়ে নিয়েছি। ঐ অঞ্চলেই আমার গাড়িতে তিন পূর্বপরিচিত কলকাতার বঙ্গ-দাদা-বন্ধুর সাথে করেছিলাম ৮দিনের ১১০০কিমির এক স্বপ্নীল ভ্রমণ - যা আজও স্মৃতিতে অমলিন। একবার অধূনা মুম্বাইবাসী আদতে বিহারের নিবাসী এক ট্রেকমেটের সাথে দুজনে ওর গাড়িতে ঘুরে এলাম সুন্দর কোঙ্কন উপকূলের কিছু জায়গায়। মারাঠি ট্রেকমেটদের সাথে ১৫জনের দলে চারদিন ঘুরেছি অফবিট গোয়া। একাকী ভ্রমণের সিরিজ তো চলছে, তবে এই মিনি সিরিজে সেই অন্যরকম দলগত ভ্রমণের কিছু কথা আসবে ... ...
কৌশিক গাঙ্গুলীর ‘খাদ’ সিনেমায় অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া একটি গান অনেকবার শুনেছি। গানটির শুরুতে কোরাসে উপনিষদের একটি শ্লোক উচ্চারিত হয় - অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়, মৃত্যোর্মামৃতং গময় - শান্তি শান্তি ওম। এটি অজ্ঞতা, মোহ ও অশুভ থেকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও আলোর পথে পরিচালিত হওয়ার একটি প্রার্থনা। তারপর অরিজিতের ঐশ্বরীক গায়কীতে মন্ত্রোচ্চারণের মতো শোনা যায় - দেখো আলোয় আলো আকাশ…। এই আত্মজীবনীটির অন্তিম অংশটি পড়ে এই গানটি শোনার মতো অনুভূতি হোলো। ... ...
তো এইসব নিয়েই গুরু। গুরুর ক্যাবিনেটে অনেক আরশোলা। হিট স্প্রে করার ইচ্ছা কারুরই নেই। শুনেছি রাজহাঁস দুধ জলের মিশ্রণ থেকে কেবল দুধ ছেঁকে খেতে পারে। তাই আমিও আট বছর ধরে গোবিন্দভোগ চাল থেকে আরশোলার নাদি বেছে খাই। নাদির জন্য চাল তো আর ফেলে দিতে পারি না। যখন কিছুদিন ভাত ভালো লাগেনা, রুটি খাই। সে আটায় নাদি নেই। ... ...
আমাদের হাউসিং সোসাইটির একটি বিষয়ে কথা বলতে সেদিন গেছিলাম পাশের টাওয়ারে একটি ফ্ল্যাটে। দরজা খুললেন সুরঞ্জনা। ওনার স্বামী অমিতবাবু তখন নয়ডাতে শুনে চলে আসছিলাম। উনি বলেন, আসুন না, আমায় বলতে পারেন কী ব্যাপার, আমিও এই ফ্ল্যাটের জয়েন্ট ওনার। রাতে ওকে ফোনে বলে দেবো। ঘরে বসে কথা বলছি, দুটি সমবয়সী ছেলেমেয়ে - বছর পাঁচেক বয়স হবে - খেলছিল। বয়সের এত কম ব্যবধানে দুটি সন্তান হয় কি? জিজ্ঞাসা করি, ওরা কি যমজ ভাইবোন? সুরঞ্জনা হেসে বলেন, হ্যাঁ। ঐ ছোট্ট স্ফূলিঙ্গ থেকে নেটসাগরে মানবজন্ম নিয়ে কৌতূহলের জাল ফেলতে গিয়ে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছিলাম জটিলতায়। মনে মনে প্রণাম করছিলাম অচেনা সেইসব বিজ্ঞানীদের যাঁদের বহুদিনের অন্বেষণে ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে মানবশরীরের নানা বিষ্ময়কর কার্যকলাপ। শারীরবিদ্যা আমার ক্ষেত্র নয়। তাই জাল ফেলে প্রাপ্ত ধারণার কিছুটা ধরতে চাইলাম রম্যরসময় আঙ্গিকে। এটা সিরিয়াস অ্যাকাডেমিক নিবন্ধ নয় - নিছক শখের মজদুরী। ... ...
সেদিনের সেই ঘটনার পর মার কথা শুনে মনটা শান্ত হয়ে গেছিল। তারপর থেকে আর কারুর কোনো কথাই গায়ে মাখি না। আইনষ্টাইন বলেছিলেন there is no limit of human stupidity. আমার মনে হয় ওনার মন্তব্যটা human insensitivity র ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। Now I have learnt how to ignore certain things in life and move on. বলতে পারেন এই কাজ করতে গিয়ে এটাই আমার সব থেকে বড় প্রাপ্তি। ... ...