পূনশ্চ - নয়টি বছর পরে…
২০.১২.২৫ থেকে ২৪.০১.২৬ - সাড়ে পাঁচ হাজার কিমির কার ট্রিপের শেষ দিকে ওরছা থেকে গেছিলাম চিত্রকূট ধাম। ওখানে গুপ্ত গোদাবরীতে ২/১৭তে একাকী ভ্রমণে গিয়ে দেখেছিলাম একটি মিষ্টি, খুব এক্সপ্রেসিভ চঞ্চল বালিকা। ছবি তুলতে গিয়ে নাজেহাল করে দিয়েছিল। তবু আশ মিটিয়ে কয়েকটি ছবি তুলেছিলাম ওর। তার কয়েকটি এই লেখায় রেখেছি।
এই ট্রিপে যাওয়ার আগে মোবাইলে ঐ কটি ছবি নিয়ে গেছিলাম। ভেবেছিলাম যদি দেখা পাই তার। দেখবো কেমন হয়েছে সে এখন। নিছক কৌতুহল।
নয় বছর পর ১৬.১.২৬ ওখানে গিয়ে দেখি টিকিট কাউন্টার, দর্শনার্থীদের জন্য রেলিং দেওয়া লাইন, শেড, আরো অনেক দোকান এসবের ফলে বেশ কিছুটা বদলে গেছে জায়গাটা। তবু ভিজ্যুয়াল মেমরি থেকে ওরিয়েন্টেশন হাঁটকে একটি পূজাসামগ্ৰীর দোকানের কাছে গিয়ে মহিলা মালকিনকে বলি - নয় বছর আগে ২/১৭ কলকাতা থেকে একা বেড়াতে এসে এখানেই কোথাও এই বাচ্চাটির ছবি নিয়েছিলাম। দেখুন তো একে চেনেন কিনা?
কিমাশ্চর্যম! মহিলাটি সোৎসাহে বলে ওঠেন - আরে - এ তো আমার ভানজি সেজাল! আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন, এখানেই তখন ছিল ওর বাবার মানে আমার চাচাজির দোকান। এখন চাচাজি ঐ চারটে দোকান পরে উল্টো দিকে অন্য দোকান দিয়েছেন। সেজালের বাবা, মানে আমার চাচাজি, ঐ তো বসে আছেন দোকানে। ঐখান থেকেই মহিলাটি উৎসাহে চেঁচিয়ে বলেন, চাচাজি, দেখো তো, ইয়ে বাবুজি কলকাত্তা সে আয়ে হ্যায় সেজাল কি বচপন কি ফটো লেকে!
ওনার কাছে গিয়ে মোবাইলে থাকা ওর ছবিগুলি দেখাই। বলি, খুব মিষ্টি উঠেছিল ছবিগুলো। আমি একটা লেখার সাথে এই ছবিগুলি দিয়েছিলাম। কয়েজনের খুব ভালো লেগেছে।
এক অজনবী পরদেশীর কাছে তার শিশুকন্যার প্রশংসা শুনে পিতার মুখে খেলে যায় মোলায়েম মমতার আল্পনা। বলি এখন কোথায়, কেমন আছে সেজাল?
পিতা বলেন, ও এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। স্কুলে আছে, না হলে ডেকে পাঠাতাম। কাছেই বাড়ি। আপনি নিজেই দেখতেন কেমন আছে। ঠিক আছে ওর কয়েকটি হালের ছবি দেখাচ্ছি। পিতা ওনার মোবাইল থেকে সেজালের সাম্প্রতিক কয়েকটি ছবি দেখান। আমার নম্বর নিয়ে হোয়াতে ওর একটি ছবি আমায় নির্দ্বিধায় পাঠিয়ে দেন।
বছর পনেরো, ষোলোর লাবণ্যময় সুশ্রী মার্জিত কিশোরী। মুখে শৈশবের সেই মিষ্টি আদুরে ভাবের বদলে বয়ঃসন্ধিকালের হালকা গাম্ভীর্যের ছাপ এসেছে। আরো একযুগ বাদে কেমন হবে সেজাল কে জানে। এবারের কার ট্রিপে নয় বছর বাদে একই জায়গায় গিয়ে আগে দেখা ছোট্ট সেজালকে খুঁজে পেয়ে, নতুন রূপে বেশ লাগলো।