@ রমিত চট্টোপাধ্যায়/ পলিটিশিয়ান/ প্রতিভা/ কেকে/ অরিন্দম বসু/ রঞ্জন রায় :
আমার লেখ্যভঙ্গি সোজাসাপ্টা - তাতে আঙ্গিক, শৈলীর নৈপুণ্য প্রদর্শনের তাগিদের থেকেও প্রাধান্য পায় নানা অভিজ্ঞতার অভিঘাত, অনুভূতি আন্তরিকভাবে বিশদে প্রকাশের তাগিদ। তাই আমার অধিকাংশ লেখার বা কিছু মন্তব্যের আকারও বড় হয়ে যায়। যেমন এটা।
ইংগিতময়তা, রূপক, চর্চিত অস্পষ্টতার মাধ্যমে কাব্যের মতো গদ্য লেখা - বিন্দুতে সিন্ধু প্রকাশের কলা - অথবা উবের স্মার্ট উপস্থাপনা - এসব আমার আসেনা। আমার প্রকাশভঙ্গি সাদা-মেঠো। তাই হয়তো মুষ্টিমেয় কারুর তা ভালো লাগলেও অনেকের পাতি লাগতে পারে। আবেগের আতিশয্য বলেও মনে হতে পারে। তাতে আমার কিছু করার নেই।
ওর মুখে একটু জল দেওয়া ছাড়া আমি আর কিছু করতে পারিনি। তবে সেদিন আসন্ন সন্ধ্যায় ঐ প্রান্তরে দাঁড়িয়ে, একটি মৃতপ্রায় অবলা প্রাণীকে বাঁচাতে না পারার অসহায়তায় বুকের কাছে হাতজোড় করে আকাশের দিকে তাকিয়ে নীরবে প্রার্থনা করেছিলাম। কে বলে প্রার্থনায় কাজ হয় না? সেদিন তো হাতেনাতে হয়েছিল। পরোক্ষভাবে হলেও। আমার ভাবাবেগে প্রভাবিত হয়েই তো ঐ ছেলেগুলি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঐ ভারী পশুটিকে সবাই মিলে ঠেলেঠুলে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। আমার একার পক্ষে তো সম্ভব ছিল না। তাই সে সেযাত্রা বেঁচে গেছে। না হলে ওরা তো ওসব দেখে অভ্যস্থ, ওদিকে নাও আসতে পারতো।
একটা কথা এ প্রসঙ্গে লিখতে ভুলেছি। অশোক বলেছিল, হয়তো ওকে কেউ হালকা বিষ খাইয়েও দিতে পারে, তাই মুখে রক্ত উঠে এসেছিল। শুধুমাত্র ক্ষেতে ফসল খেতে গিয়ে চাষীর লাঠির বা টাঙির ঘা খেয়ে মরে যাওয়ার মতো ক্ষীণ প্রাণ ওর নয়।
এ লেখার প্রথম পর্বে যেমন শৈলেশের পত্নীর অস্বাভাবিকতা, এই পর্বে তেমনি চৌমুখনাথকে সাক্ষী রেখে ভাঙা বিয়ের হিসেব-নিকেশ এবং ঐ মৃতপ্রায় প্রাণীটির ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া - এ দুটিই ছিল আমার কাছে মুখ্য মানবিক অনুষঙ্গ। তাই ঐ গরুপর্ব বিশদে এসেছে। তাই হয়তো তা কয়েকজনকে নাড়া দিয়েছে।
আমাকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাই ওরা এসে বলায় আনন্দে চোখে জল এসে গেছিল। বুড়ো বয়সেও কখনো আবেগে বাকরূদ্ধ হয়ে যাওয়া বা চোখে জল এসে যাওয়ায় আমার কোনো লজ্জা নেই। A man never cry ধরনের মাচো ইমেজ ক্যারি করার কোনো দায় আমার নেই। বরং মনে হয় এখনো কিছু সংবেদনশীলতা বেঁচে আছে বলে, এখনো আমার জ্ঞান, বুদ্ধি, তার্কিক প্রবণতা আমার মানবিক বোধকে দাবিয়ে ছাপিয়ে যায়নি বলে - নিজেকে মানুষ বলে মনে হয়।
তাই তেমন কিছু বিশেষ অনুভব লিখতে এবং শেয়ার করতে সংকোচ হয় না। লেখা তো কেবল পাঠককে আনন্দদানের জন্য নয়। তাই তো বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হীরেন সিংহরায়ের “দুরে কোথায়” বা রঞ্জন রায়ের “হারানো কলকাতার গল্প” লেখার কিছু অংশ পড়ে মন ভারী হয়ে গেছিল। সেটাও পাওনা।
Life is not an episode of eternal spring. না, এটা বিখ্যাত কারুর বাণী কোট করলাম না, আমার নিজস্ব অনুভব।
আবেগতাড়িত হয়ে অনেককিছু লিখে ফেললাম। সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।