এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • হ্যাপি মাদারস ডে 

    Saheli Bandyopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    ১০ মে ২০২৬ | ৬০ বার পঠিত
  • মা হওয়ার নাকি শত জালা, ছোটবেলা থেকে এই প্রবাদ টি শুনে আসছি, কথাটির অর্থ মা হওয়ার আগে কখনো তলিয়ে ভাবতাম না.. আজ মাতৃদিবস, সবাই সব জায়গায় মায়ের ছবি পোস্ট করছে, আমাদের ছোটবেলায় অবশ্য সে বালাই ছিল না, আমার মতে সব দিনই মায়ের জন্য তুলে রেখে দেওয়া উচিত, তবু সবাই মিলে যখন এই দিনটি বেছে নিয়েছে ছোটবেলার কিছু কথা আপনাদের বলি I
    আমি তখন কথক নাচের তালিম নিই নাচের স্কুলটা ছিল আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে অন্য্ পাড়ায়, ক্লাস শেষ হতে হতে রাত ৮ টা ৮:৩০ টা হয়ে যেত, মনে আছে সেই সময়টা আমাদের শহরে সন্ধ্যের পর থেকে বোমাবাজি লেগেই থাকতো, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় যাওয়ার একমাত্র উপায় সাইকেল রিক্স, মনে আছে ক্লাস শেষ হওয়ার পর রিক্সাওয়ালারা আমাদের পাড়ায় যেতে গেলে বিরাট দর হাঁকতো, কেননা যখন ফিরছি তার কিছুক্ষন আগেই হয়তো পথে বোমাবাজি হয়ে গেছে, চারিদিক সুনসান, দোকান সব বন্ধ হয়ে গেছে, কেমন একটা থমথমে পরিবেশ. আমার কিন্তু বেশ ভয় ভয় করতো, মাকে দেখলাম নির্ভয় এ আমাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে, আমি ভয় এ সারা পথ মাকে জড়িয়ে থাকতাম, মা আশ্বাস দিতো কোনো ভয় নেই, অনেকে বলেছিলো তখন মাকে ছাড়িয়ে দাও নাচ কি হবে শিখে ? কিন্তু না এই ভাবেই কথক আর রবীন্দ্রনৃত্যে ফাইনাল দিলাম, এখন ভাবি মা কত শক্ত ছিল সেই সময় তাই এটা আমার শেখা হয়েছিল, পরবর্তী কালে এই বিদ্যে নিয়েই আমার মেয়ে থেকে শুরু করে অনেক বাচ্ছাকে নাচ শিখিয়েছি, অনেক এখানকার বাচ্ছাদের ও শিখিয়েছিই I
    আর একটা গল্প ও খুব মনে পড়ে, আমার মা স্কুল এ পড়াতেন, তবে মাকে মর্নিং স্কুল করতে হতো আর আমার স্কুল শুরু হতো সকাল ১০টায়, আমি ৯:৪৫ এ বাড়ি থেকে বেরোতাম, তার আগে ভাত খেয়ে স্কুল এ যেতাম, মার্ লাঞ্চ হতো ৯ টার সময়, মা নিজে লাঞ্চ না খেয়ে ওই সময়টা স্কুল থেকে দৌড়ে দৌড়ে বাড়ি আসতেন, কেননা আমি মাছ খেতে ভালো বাসতাম বলে বাজার থেকে প্রতিদিন যে মাছ আসতো মা টার মধ্যে থেকে সব থেকে বড় পিএস টা বার করে আমাকে ঝোল করে দিতেন, মনে আছে মার্ খুব কষ্ট হতো দৌড়াদৌড়ি করে কাজ করতে, আধ ঘন্টার মধ্যে আমার জন্য মাছের ঝোল ভাত করে আমাকে টিফিন গুছিয়ে দিয়ে আবার স্কুল এ ফিরে যেতেন, কখনো জিগ্যেস করি নি, মা তুমি কখন নিজে খেলে ?
    গল্প বলতে থাকলে গল্পের পাহাড় হয়ে যাবে, এরকম অনেক ছোট ছোট অনেক স্মৃতি আছে যেগুলো কখনোই মন থেকে মুছে যায় নি
    মার্ কথা বলতে বলতে এক জনের কথা আজ খুব ই মনে পড়ছে, আমার মেজো জেঠিমা, ওনার কোনো ছেলে মেয়ে হয় নি কিন্তু যেন ছিলেন মাতৃত্বের প্রতিরূপ, এতো স্নেহময়ী মহিলা আমি জীবনে খুব কম ই দেখেছি, সংসারে স্বাধীনতা কোনো দিন ই তেমন ছিল না, সারা পরিবার কে খুশি করতে করতেই বোধহয় জীবন কাটিয়েছেন, আমার মায়ের ভালো বন্ধু ছিলেন, মনে আছে আমার খাওয়ার খুব ঝামেলা ছিল, আমি নাকি মুখে নিয়ে খাবার চুপ করে বসে থাকতাম, কিছুতেই চিবিয়ে গিলতাম না, মেজদি আমায় বেড়াল,পুতুল, ইঁদুর, কুকুর, ঠাকুর নানা ধরণের গল্প বলে আমায় খাইয়ে দিতেন এখানেই বলে রাখি আমি ডাকতাম মেজদি মায়ের দেখাদেখি যেহেতু মাও বলতো মেজদি, পরবর্তী কালে আমরা যখন বাড়ি করে এসে অন্য জায়গায় চলে আসি প্রায়ই আসতেন, আমার সাথে দেখা করতেন, আমার ফরমাস হতো আমাকে মাংসের ঘুগনি করে এনে দাও, বুঝতে পারতাম না গরমের মধ্যে কত কষ্ট হতো করতে, তাও কি একান্নবর্তী পরিবারের সব রান্না সামলিয়ে সব রান্না ঘরের কাজ সামলিয়ে আমারটা করতে বসতেন. হাই ডায়াবেটিকস ছিল তার মধ্যে মোটা মানুষ ছিলেন নিশ্ছই খুব কষ্ট হতো, ছিলেন বলছি কারণ মানুষটা আমাদের ছেড়ে অনেক আগেই চলে গেছেন, আমার বিয়ের ও আগে, বুঝতে পারতাম আমাকে অপরিসীম ভালোবাসা তার থেকে সব ধরণের বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে মাঝে মাঝে দৌড়ে দেখা করতে আসা, আজ লিখতে বসে এতদিন পর দুচোখ ঝাপসা হয়ে উঠলো, জানি না কেন!!!
    এখন আমি ও দুই ছেলে মেয়ের মা, মা হিসেবে কতটা সফল হতে পেরেছি তা ভবিষ্যৎ ই বলবে, শুধু জানি এখন দিন কাল বদলে গেছে, ছেলে মেয়েকে আমাদের ছোটবেলার মতো করে কথা বলা যায় না, আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী মার্ ধর ও দেওয়া যায় না, তবে বলে রাখি আমি অবশ্য মারধরের পক্ষপাতী নই, আমি নিজে কখনো মার্ খাই নি সে ভাবে সুতরাং ছেলে মেয়েকেও কখনো করি নি, আমেরিকায় ছেলে মেয়ের চিন্তাধারা অবশ্য আলাদা, এবং পৃথিবীও অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, তবে বিকেল বেলায় একটা প্রাপ্তি হলো, মেয়ে দেখলাম কিচেন এ আমার জন্য কেক বানাচ্ছে mothers day বলে আর ছেলে চা বানাচ্ছে মাইক্রোওয়েভ এ, আনন্দে বুক ভরে উঠলো . দেখলাম এরাও মনে রেখেছে তাদের মায়ের কথা, আমাকে এসে দুজনেই জড়িয়ে ধরলো আর আমি ও বললাম এস দুজনে ই এসে আদর খেয়ে যাও.
    সকল মা ভালো থাকবেন,,, Happy Mothers Day to all lovely mothers.
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন