৯/ ১১ এর ডায়েরির পাতা থেকে :আজ রাতে ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমেছে আবার, যে রকম নেমেছিল বছর একুশ আগে এই রকম একটা রাতে l আজ ১০ ই সেপ্টেম্বর এর রাত ভারতে, হিসেব মত এখনও আমেরিকায় ১০ ই সেপ্টেম্বর এর সকাল l তবু সেই রাতের কথা.. সে রাত ২০০১ এর রাত বার বার মনে আসছে আজ ও। আমি অনির্বাণ, আমার একটা ডায়েরি আছে সেই ডায়েরি তে লিখছি তো লিখছি।। রাত প্রায় শেষ হতে চললো, মুষলধারে বৃষ্টি পড়ে চলেছে তো চলেছেই, ঝোড়ো হওয়ার দাপট জানালার শার্শিতে এসে লাগছে আর মাঝে মাঝে ঘন মেঘের বুক চিরে বিদ্যুৎশিখা ঝলকে উঠেই আবার মিলিয়ে যাচ্ছে। ... ...
রিনি অংক পড়ায় একটা হাইস্কুলে l সে হতে চেয়েছিলো ডক্টর, কিন্তু তালেগোলে হরিবোলে জীবনের শেlরগোলে হয়ে গেলো টিচার.. তাও আবার অংকের l খুব ছোটবেলায় জেলার একটি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছিল সে, তখন তো আর social media ছিল না, কিন্তু এখনও মনে পড়ে খবরের কাগজের লোক এসেছিল তার বাড়িতে ইন্টারভিউ নিতে l “একটি কাকু খুব হাসি হাসি মুখে জিজ্ঞাসা করেছিলো, “ খুকি, তুমি কি হতে চাও বড়ো হয়ে? রিনি বলেছিলো, “ আমি ডাক্তার হতে চাই l” “খবরের কাগজের কাকুটা আবার জিজ্ঞাসা করেছিলো, “ কেনো তুমি ডাক্তার হতে চাও? “ রিনির সlফ উত্তর ছিল, “ আমি গরিবদের সেবা শুশ্রূষা করতে চাই l” ছেলেমানুষ ... ...
আজ রাখিবন্ধন।। দাদাদের নিয়ে কতগুলো বিক্ষিপ্ত ছোট ছোট গল্প।।। দাদা আমাদের জীবনে একটি বিশাল বড় অংশ। .সে নিজের দাদাই হোক বা পাড়াতুতো দাদা | নিজের দাদাও কি সব সময়ে সত্যিকারের দাদা হয়ে উঠতে পারে নাকি কোনো সময়ে পথ চলতি লোকও নিজের দাদার ভূমিকা নেয় ? কতগুলো ছোট ছোট ঘটনা লিপিবদ্ধ করলাম কয়েকটি সত্য ঘটনাবলম্বনে ....প্রথম গল্প : থ্যাংক ইউ স্যার---না ...মানে...থ্যাংক ইউ দাদা ----- বিকেল প্রায় পাঁচটা l রিনি পার্কস্ট্রিট থেকে হাওড়া গামী বlসে চড়ে পড়লো। এই সময়ে অনেক অফিসই ছুটি হয়, তাই মারাত্মক ভিড় বাসে। রিনি কোনো মতে এদিকে ওদিকে ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়লো। সারাদিন অফিসে তার অত্যন্ত পরিশ্রম গেছে, মাথাটা টিপটিপ করছে। ... ...
মা হওয়ার নাকি শত জালা, ছোটবেলা থেকে এই প্রবাদ টি শুনে আসছি, কথাটির অর্থ মা হওয়ার আগে কখনো তলিয়ে ভাবতাম না.. আজ মাতৃদিবস, সবাই সব জায়গায় মায়ের ছবি পোস্ট করছে, আমাদের ছোটবেলায় অবশ্য সে বালাই ছিল না, আমার মতে সব দিনই মায়ের জন্য তুলে রেখে দেওয়া উচিত, তবু সবাই মিলে যখন এই দিনটি বেছে নিয়েছে ছোটবেলার কিছু কথা আপনাদের বলি Iআমি তখন কথক নাচের তালিম নিই নাচের স্কুলটা ছিল আমাদের বাড়ি থেকে একটু দূরে অন্য্ পাড়ায়, ক্লাস শেষ হতে হতে রাত ৮ টা ৮:৩০ টা হয়ে যেত, মনে আছে সেই সময়টা আমাদের শহরে সন্ধ্যের পর থেকে বোমাবাজি লেগেই থাকতো, এক ... ...
রবীন্দ্র জয়ন্তী সেদিনের আকাশও ছিল কালো মেঘে ঢাকাবৈশাখ মাসে নেমেছিল ঝিরঝির বৃষ্টি একটা দোতলা বাড়ির একতলা থেকে ভেসে আসছিল শোরগোল, হাসি, গান আর গানের তালে তালে পা ফেলার শব্দ.. কাল রবীন্দ্রজয়ন্তী সেই উপলক্ষে মহড়া বসেছে আজ শোরগোল একটু বাড়তেই দোতলা থেকে নিচে নেমে এলেন তরুণ অধ্যাপক গম্ভীর গলা, ভারী পায়ের আওয়াজ lএই দলের সবচেয়ে ছোট যে মেয়েটি নাচছে, তার বাবা মেয়েটি যতো না নাচছিল হাসছিল আরও বেশি তার ভাগে পড়েছে “মেঘের কোলে রোদ হেসেছে বাদল গেছে টুটি “এই নাচটি করার.. অধ্যাপক মেয়ের মাথায় হাত রেখে অসীম স্নেহে বললেন, “তোমায় হাসতে হবে ওপরের দিকে তাকিয়ে, মেঘের দিকে চেয়ে, তাহলে তোমার হাসিতে বাদল যাবে কেটে l”অধ্যাপক আবৃত্তি করলেন প্রথম দুটি লাইন মেয়ের কাছে মেয়েটি জানলো না.. কোন ... ...
আমার জন্মদিন উপলক্ষে লেখা কয়েকটি কবিতাআপনাদের আশীর্বাদ প্রার্থনীয় জন্মদিনের উপহার ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ কলমে : সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেয়ে.. জন্মদিনে চাস কি?? একটা খোলা আকাশ.. একটু মুঠো বাতাস.. পাবো কি? ও মেয়ে জন্মদিনে চাস কি? একটা খোলা মাঠ… সবুজ ঘাসে ভরা… এপার ওপার দৌড়ে যাবো.. করবে না কেউ মানা…. পাবো কি?.. ও মেয়ে জন্মদিনে চাস কি? নিমগাছের তলা.. কামারপাড়ার ঘর.. সামনে মেঠো পথ.. পথের পাশে বাড়ি হলুদ দোতলা…. পাবো কি? ও মেয়ে জন্মদিনে চাস কি? বাড়ির মধ্যে ঘর.. ঘরের মধ্যে খাট.. পূবদিক্ রোদ্দুর.. মন যেনো সমুদ্দুর.. পাবো কি? ও মেয়ে জন্মদিনে চাস কি? বাবার ভারী স্বর.. মায়ের হাতের পায়েস… রেডিওতে আকাশবাণী.. ছোটবেলা হারিয়ে গেছে জানি.. ফিরে পাবো কি? আমার কথা শোন.. . জন্মদিনের উপহার পেতেই যদি হয়….ছেলেবেলা এমনি করেই ফিরিয়ে দিতে হয়.. ফিরিয়ে দাও না কেন?গোধূলি বেলায়.. কলমে সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮ ই এপ্রিল, ২০২৫ নীলচে আকাশ লালচে মেঘ লাগছে ... ...
পাঁচ : স্থলপদ্ম কলমে সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় মার্চ 26,2026, Arkansas মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটা বাড়ি খুঁজছি কারণ আমার ছোটবেলার বাড়িটা হারিয়ে গেছে বাবা হঠাৎই গত হলেন আমরা ছাড়লাম একপেশে তক্তা দেওয়া ঘর.. সামনের উঠোনে স্থলপদ্ম গাছ, আর এক চিলতে পূব বারান্দার তেরছা রোদ্দুর তারপর এপlড়া ওপlড়া ঘুরে চললাম এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি দেওয়ালগুলোর রঙ বদল হতে থাকলো কিন্তু কোথাও স্থলপদ্ম পেলাম না.. স্থলপদ্ম থাকলে রঙ হত “ভালোবাসা”হৃদয়ে থাকতেl আঁচড় .. যৌবনে প্রেম ঠিক উথ্লে উঠলো আমার মতই এক ভাগাড় এসে বললো ‘বিয়ে করি চ.. “তারপর সেই আবার এপlড়া ওপlড়া.. এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি একটা বাড়ি খুঁজছি তখনও দেওয়ালগুলোর রঙ বদল হতে থাকে শরীরে শরীরে প্রেম হয় কিন্তু ভালোবাসা হয় কি? সেই স্থলপদ্ম পাই না.. স্থলপদ্ম থাকলে রঙ হত “ভালোবাসা” এক ঝলক মিষ্টি বাতাস হঠাৎ ... ...
এখন বসন্ত অপেক্ষায় ছিলাম বসন্ত উন্মুক্ত আকাশের নিচে নিজের দুই বাহু ছড়িয়ে শ্বাস নেওয়ার অপেক্ষায়… শীতের কাঠিন্য থেকে মুক্তির আস্বাদন.. মৃদু মন্দ বাতাসের হিল্লোল বয়ে আনছে সুগন্ধ.. চারিদিকে নানা রঙে মাখানো মেশানো জড়াজড়িড্যাফোডিল, টিউলিপ, লিলি, চেরি,বেরি আরও কতো...নাম না জানা ফুল পায়ে পায়ে জড়িয়ে নতুন জন্মানো সবুজ ঘাস অনেক বছর আগে......ছোট্ট বেলার বসন্তে রঙ অন্য রকম.. অপেক্ষায় বসন্ত তখনও তোমার ...অশোক পলাশ কৃষ্ণচূড়াদের ভিড়... বসন্তের রং শুধুই লাল ...সাথে রবি ঠাকুরের গান ... রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও ..এখনো বসন্ত আসে .. রং অনেক হয়েছে ফিকে....বসন্ত এখন ভীষণ একলা আপন ...আমি ধ্যানরতা সমাহিত ..ডুবে গেছি সেই অতলে.. আমার প্রতিটি শিরায় মজ্জায় বসন্ত আসুক সেই অনুভবে, সেই গভীরে ... বসন্ত মধ্যমে বসন্ত. এসে গেলো ... ...
শুভ দোলযাত্রা মার্চ ৩, ২০২৬ কলমে : সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একটা আর্টরুমে গিয়েছিলামসেখানে আঁকিয়েদের সামনে রঙের পাত্রলাল, হলুদ, নীল, সবুজ কত রকমের রঙ তুলি দিয়ে ওখানে রঙ মেশানোর কাজ চলছেআমি একজন কে ডেকে বললাম.. “ ও ভাই, শুভ দোলযাত্রা.. “সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখলো কিছুক্ষণ. তারপর আবার ছবি আঁকতে বসে গেলো.. বোধহয় সে জীবনের রঙগুলো খাতায় মেশাচ্ছিল.. তার খাতায় সব গাঢ় রঙ ফিকে হচ্ছিল আস্তে আস্তে তারপর সে হঠাৎই জিজ্ঞেস করে বসলো “ আচ্ছা যুদ্ধের রঙ কি? তারপর সে নিজের মনেই বিড়বিড় করতে লাগলো.. “ সব কালো.. কালো কালো ছায়া… অন্ধকার.. নিকষ কালো.. যুদ্ধ.. পাল্টা যুদ্ধ.. শুধু ধোঁয়া.. শুধুই কালো রঙ… “ ... ...
একটি ছাদের গল্প কলমে সহেলী বন্দ্যোপাধ্যায় মনের মধ্যে একটা ছাদের পথ মাঝে মাঝেই গুনগুনিয়ে ওঠে.. বাবা বলতেন, মাথার ওপর ছাদ থাকাটা খুব দরকার বুঝলি. তোরা এসব বুঝবি না.. তোদের মাথার উপর ছাদের অভাব কখনো হয় নি মাকে দেখেছি খুব কষ্ট করতে বাবা তখন সামান্য স্টেশন মাস্টার আর বাড়িতে এতগুলো পেট. সঙ্গে মাঝে মাঝেই আত্মীয় স্বজন এক টুকরো মাথার উপর ছাদ রাখতে এক টুকরো রুটি বা এক মুঠো ভাতের বা এক ফালি কাপড়ের খুব দরকার.. ছাদ, ভাত, রুটি বা কাপড় একে অপরের সাথে হাত ধরাধরি করে চলে ছাদের উপর গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার বৃষ্টি, আর শীতের রুক্ষতা প্রবল হত মাঝে মাঝেই ছাদ বাঁচানোর তাগিদে শরৎ, হেমন্ত বা বসন্তের অবকাশ কোথায় বা ছিল? বড় হলাম যখন মাথার ওপর ছাদ হল তিন তলার আর সেই ছাদে ... ...