পাঁচ : স্থলপদ্ম কলমে সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় মার্চ 26,2026, Arkansas মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটা বাড়ি খুঁজছি কারণ আমার ছোটবেলার বাড়িটা হারিয়ে গেছে বাবা হঠাৎই গত হলেন আমরা ছাড়লাম একপেশে তক্তা দেওয়া ঘর.. সামনের উঠোনে স্থলপদ্ম গাছ, আর এক চিলতে পূব বারান্দার তেরছা রোদ্দুর তারপর এপlড়া ওপlড়া ঘুরে চললাম এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি দেওয়ালগুলোর রঙ বদল হতে থাকলো কিন্তু কোথাও স্থলপদ্ম পেলাম না.. স্থলপদ্ম থাকলে রঙ হত “ভালোবাসা”হৃদয়ে থাকতেl আঁচড় .. যৌবনে প্রেম ঠিক উথ্লে উঠলো আমার মতই এক ভাগাড় এসে বললো ‘বিয়ে করি চ.. “তারপর সেই আবার এপlড়া ওপlড়া.. এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি একটা বাড়ি খুঁজছি তখনও দেওয়ালগুলোর রঙ বদল হতে থাকে শরীরে শরীরে প্রেম হয় কিন্তু ভালোবাসা হয় কি? সেই স্থলপদ্ম পাই না.. স্থলপদ্ম থাকলে রঙ হত “ভালোবাসা” এক ঝলক মিষ্টি বাতাস হঠাৎ ... ...
এখন বসন্ত অপেক্ষায় ছিলাম বসন্ত উন্মুক্ত আকাশের নিচে নিজের দুই বাহু ছড়িয়ে শ্বাস নেওয়ার অপেক্ষায়… শীতের কাঠিন্য থেকে মুক্তির আস্বাদন.. মৃদু মন্দ বাতাসের হিল্লোল বয়ে আনছে সুগন্ধ.. চারিদিকে নানা রঙে মাখানো মেশানো জড়াজড়িড্যাফোডিল, টিউলিপ , লিলি , চেরি,বেরি আরও কতো...নাম না জানা ফুল পায়ে পায়ে জড়িয়ে নতুন জন্মানো সবুজ ঘাস অনেক বছর আগে......ছোট্ট বেলার বসন্তে রঙ অন্য রকম.. অপেক্ষায় বসন্ত তখনও তোমার ...অশোক পলাশ কৃষ্ণচূড়াদের ভিড়... বসন্তের রং শুধুই লাল ...সাথে রবি ঠাকুরের গান ... রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও ..এখনো বসন্ত আসে .. রং অনেক হয়েছে ফিকে....বসন্ত এখন ভীষণ একলা আপন ...আমি ধ্যানরতা সমাহিত ..ডুবে গেছি সেই অতলে.. আমার প্রতিটি শিরায় মজ্জায় বসন্ত আসুক সেই অনুভবে, সেই গভীরে ... বসন্ত মধ্যমে বসন্ত. এসে গেলো ... ...
শুভ দোলযাত্রা মার্চ ৩ , ২০২৬ কলমে : সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একটা আর্টরুমে গিয়েছিলামসেখানে আঁকিয়েদের সামনে রঙের পাত্রলাল, হলুদ, নীল, সবুজ কত রকমের রঙ তুলি দিয়ে ওখানে রঙ মেশানোর কাজ চলছেআমি একজন কে ডেকে বললাম.. “ ও ভাই, শুভ দোলযাত্রা.. “সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখলো কিছুক্ষণ. তারপর আবার ছবি আঁকতে বসে গেলো.. বোধহয় সে জীবনের রঙগুলো খাতায় মেশাচ্ছিল.. তার খাতায় সব গাঢ় রঙ ফিকে হচ্ছিল আস্তে আস্তে তারপর সে হঠাৎই জিজ্ঞেস করে বসলো “ আচ্ছা যুদ্ধের রঙ কি? তারপর সে নিজের মনেই বিড়বিড় করতে লাগলো.. “ সব কালো.. কালো কালো ছায়া… অন্ধকার.. নিকষ কালো.. যুদ্ধ.. পাল্টা যুদ্ধ.. শুধু ধোঁয়া.. শুধুই কালো রঙ… “ ... ...
একটি ছাদের গল্প কলমে সহেলী বন্দ্যোপাধ্যায় মনের মধ্যে একটা ছাদের পথ মাঝে মাঝেই গুনগুনিয়ে ওঠে.. বাবা বলতেন ,মাথার ওপর ছাদ থাকাটা খুব দরকার বুঝলি. তোরা এসব বুঝবি না.. তোদের মাথার উপর ছাদের অভাব কখনো হয় নি মাকে দেখেছি খুব কষ্ট করতে বাবা তখন সামান্য স্টেশন মাস্টার আর বাড়িতে এতগুলো পেট. সঙ্গে মাঝে মাঝেই আত্মীয় স্বজন এক টুকরো মাথার উপর ছাদ রাখতে এক টুকরো রুটি বা এক মুঠো ভাতের বা এক ফালি কাপড়ের খুব দরকার.. ছাদ, ভাত, রুটি বা কাপড় একে অপরের সাথে হাত ধরাধরি করে চলে ছাদের উপর গ্রীষ্মের তাপ, বর্ষার বৃষ্টি, আর শীতের রুক্ষতা প্রবল হত মাঝে মাঝেই ছাদ বাঁচানোর তাগিদে শরৎ, হেমন্ত বা বসন্তের অবকাশ কোথায় বা ছিল? বড় হলাম যখন মাথার ওপর ছাদ হল তিন তলার আর সেই ছাদে ... ...
এক || একটা বছরের গল্প এই বছরটাও একই রকম গেলো যেমন করে যায় আর আসে হিসেব মেলায় … যেমন করে নিজের নিক্তিটুকু মাপতে মাপতেনতুন যুগ জন্ম নেয়.. একটা বৃদ্ধ বছরের শেষে আরও একটা তরুণ বছর ... নতুন যৌবনে পড়া তরুণ বছরে মেয়েটি ভেবেছিলো তার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা সে দিতে পারে তার প্রেমিককে উদ্বেল ভালোবাসার জোয়ারে ভাসতে ভাসতে কুলে ফেরার পথটুকু সে ভুলেছিলএরপর বছর পুরোনো হতে সে বুঝলো শুধু মাত্র সে নয় তারই মত ছেলেটির একাধিক প্রেমিকা আছে।.... শহরের নামী এলাকায় বাড়ির এক কোণে একা থাকা তরুণ বছরে কোন এক বৃদ্ধা ভেবেছিল তার খোকন বা খুকি আসবে উড়োজাহাজে চেপে সাগরের ওপার থেকে তারপর বছর পুরোনো হতে সে বুঝলো বছরটা সময় চেয়েছে আরো এক বছরের তেমনি ভাবেই.. হিমেল শীতল দিনে ব্ল্যাক কফি ... ...
নয় : প্রতিবেশী ll সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় যে বাংলার লড়াই ছিল ভাষা যে বাংলায় এসেছিল বিজয় দিবস সেই বাংলাই জ্বলছে ধিকিধিকি মানুষ আজ হারিয়েছে আশা .. এক আশাতেই কত মানুষ বেঁচেছিল জাগিয়ে রেখে শুধু স্বপ্নগুলো স্বপ্নগুলো বাতাসে এলোমেলো উড়ে গেলো সব কিছুই যেনো পলকা.. বড্ড খেলো.. এখন শুধুই দগ্ধ লাশের গন্ধ কতো মানুষের যাত্রা বদল হলো.. “নমঃ নমঃ নমো বাঙলাদেশ মম”কবিতা গানে কতোবার জয়ধ্বনি I বাংলা অক্ষর মায়ের হাত ছেড়ে এখন কি শুধু বিষাদ রাত্রি গুনি? ছায়ানট এখন গভীর রাতের ছায়া সা থেকে সা তান গিয়েছে ছিঁড়ে মধ্যরাতের রাগিণী বেসুরো ঈশ্বর বা আল্লা কেউ কি ক্ষমা কর? দেওয়ালে ছেঁড়া কবির ছবিখানি এই বর্বরতার নীরব সাক্ষী জানি l হিন্দু বা মুসলিম কিছুতেই কিছু নয়.. সকল ধর্মের একটাই কথা হয়.. “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি… ... ...
আট : নকশাল ll সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় “ভাগ শালা ভাগ হারামী… বেজন্মl… চুতিয়ার বাচ্চা ছেড়ে দিলাম…এক্ষুনি দৌড়ে পালা….. শুয়োরের বাচ্চা.. না হলে কুকুরের মত গুলি করে মেরে ফেলব” lকুড়ি-একুশ বছরের চার পাঁচজনকে পিছনে হাত মোড়া অবস্থায় পুলিশের ভ্যানের পিছন থেকে লাথি মেরে মাটিতে সজোরে নিক্ষেপ করলো জাঁদরেল এক পুলিশ অফিসlর .. ঘড়ির কাঁটা বলছে রাত আড়াইটে.. জীপের তীব্র হেডলাইট.. তাতে… আস্তে আস্তে প্রতীয়মান হলো একটা লম্বা কালো পেটমোটা চেহারা, দুটি নৃশংস জ্বলন্ত চোখ.. কঠিন বীভৎস মুখে চুরুট আর মদের কড়া বিশ্রী গন্ধ আর সেই মুখ থেকেই নিঃসৃত হচ্ছে অশ্রাব্য গালি গালাজ.. অরিত্র মুখ থুব্ড়ে পড়ে বুঝলো ওকে পালাতে হবে.. কিন্তু কি করে??? পিছন দিকে থাকা দুজন কনস্টেবল এগিয়ে এলো.. অফিসারের হাতের ইশারায়… হাতের বাঁধন দিলো খুলে.. বললো দৌড় লাগাও, না হলে এখানেই ... ...
সাত: বাবা ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি (আমার বাবা অধ্যাপক ডক্টর নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে..) চোখে ভারী চশমা পরা এক ব্যাক্তিত্ত্বপূর্ণ মানুষ.. তাঁর পড়ার ঘরে বিশাল এক লম্বা টেবিল.. আর রাশি রাশি বইয়ের পাহাড়কাগজ, পেন,ডায়েরি আর তাঁর অজস্র লেখাস্টাডিরুমের আলমারিগুলো বইতে ঠাসা ..আর সামনের তাকে রবীন্দ্র রচনাবলীর ভিড় যাঁর কথা বললাম তিনি আমার বাবা…. হলুদ রঙের একটা দোতলা বাড়ি.. পুব দিকে গঙ্গা নদীছটা বাজতেই গম্ভীর গলায় ডাক.. “উঠে পড়ো”রেডিওতে শুরু হতো সংগীতাঞ্জলিপুবের জানলা দিয়ে মিঠে রোদ বিছানায়.. ভেসে আসত গঙ্গার ভোরের হাওয়া.. আমি পড়তে পড়তে দেখতাম বাবা খাবার টেবিলে বসে আছেন.. পিঠে রোদ পোয়াতে পোয়াতে চা খাচ্ছেনপাশে রেডিও থেকে ভেসে আসছে রবীন্দ্রসঙ্গীত.. সকাল থেকেই ভিড় প্রচুর ছাত্রছাত্রীর.. চল্লিশ বছরের অধ্যাপনার জীবন.. জনপ্রিয় অধ্যাপক… কিন্তু ছুটির দিনে বিকেল বেলার দিনগুলো শুধু ... ...
ছয় : নারী দিবস আজ সকাল থেকেই অনবরত লোকের ভিড়মিস্টার আর মিসেস পাকড়াশীর তিন কামরার ফ্ল্যাটে ....বেজে উঠছে প্রায়শই কলিং বেলদেখা করতে আসছে অনেকেই হাতে ফুল বা সৌহার্দ্য বিনিময় .. আজ যে ৮ ই মার্চ , আন্তর্জাতিক নারী দিবস | এই নারীর মুক্তির কথা রিনিতা পাকড়াশীর কলমে উঠে এসেছে বারবার ..লেখিকা হিসেবে পরিচিতি এখন প্রতিবাদী কলম বলে ..হতভাগ্য নারী, দুর্ভাগা নারীর ভাগ্যকে তাঁর কলম দেখিয়েছে আলোতাঁর প্রতিটি গল্প, কবিতা আর উপন্যাসে নারীর ক্ষমতায়ণ, নারীর উঠে দাঁড়ানোর গল্প ..কত সাধারণ মেয়ে অর্জন করেছে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় |কয়েকটি বাচ্চা মেয়ে আর ছেলে দেখা করতে এসেছে'হাতে তাদের ফুল, মুখে স্মিত হাসিএপাড়ারই হবে..বোধহয় সদ্য কলেজ যোগ দিয়েছে প্রণাম করে বললে, "আজ দুপুরে ... ...
: একটি চিঠি তোমায় কলকাতা..প্রিয় কলকাতা,ভালো আছো?কেমন আছে তোমার ভিক্টোরিয়া, গড়ের মাঠ, হাওড়া ব্রিজ?কেমন আছে বাবু ঘাট, প্রিন্সেপ ঘাটের চত্বর আর স্রোতসিনী গঙ্গা?হাওড়া ব্রিজ তুমিও নিশ্চই ভালো আছো, জনকোলাহলে মেতে আছো,এসপ্লানেড, ডালহৌসী আর কফি হাউস তোমাদের খবরও জানিও ..সারাদিনের যানজট আর মানুষের কোলাহলে ব্যস্ত আজও ?রাতের পার্কস্ট্রিট রঙিন মোহনায় এখনো জ্বলজ্বল করো কি?শহর যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে মূর্ছনায়.....এসব কথা ভাবতে গিয়ে রাত কাবার যখনআমি তখন দূরে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারেমনের কোণে জমানো কথায় ব্যাথায়চোখের নিচে ধূসর ধুলোয়আর কানে হেডফোনে রবি ঠাকুরের গানে "আমার যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে".....খুঁজি খুঁজি ফিরি তোমায় সারাদিন সর্বক্ষণ..কত দিনএমন সময় "পুরোনো ... ...