এক || একটা বছরের গল্প এই বছরটাও একই রকম গেলো যেমন করে যায় আর আসে হিসেব মেলায় … যেমন করে নিজের নিক্তিটুকু মাপতে মাপতেনতুন যুগ জন্ম নেয়.. একটা বৃদ্ধ বছরের শেষে আরও একটা তরুণ বছর ... নতুন যৌবনে পড়া তরুণ বছরে মেয়েটি ভেবেছিলো তার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা সে দিতে পারে তার প্রেমিককে উদ্বেল ভালোবাসার জোয়ারে ভাসতে ভাসতে কুলে ফেরার পথটুকু সে ভুলেছিলএরপর বছর পুরোনো হতে সে বুঝলো শুধু মাত্র সে নয় তারই মত ছেলেটির একাধিক প্রেমিকা আছে।.... শহরের নামী এলাকায় বাড়ির এক কোণে একা থাকা তরুণ বছরে কোন এক বৃদ্ধা ভেবেছিল তার খোকন বা খুকি আসবে উড়োজাহাজে চেপে সাগরের ওপার থেকে তারপর বছর পুরোনো হতে সে বুঝলো বছরটা সময় চেয়েছে আরো এক বছরের তেমনি ভাবেই.. হিমেল শীতল দিনে ব্ল্যাক কফি ... ...
নয় : প্রতিবেশী ll সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় যে বাংলার লড়াই ছিল ভাষা যে বাংলায় এসেছিল বিজয় দিবস সেই বাংলাই জ্বলছে ধিকিধিকি মানুষ আজ হারিয়েছে আশা .. এক আশাতেই কত মানুষ বেঁচেছিল জাগিয়ে রেখে শুধু স্বপ্নগুলো স্বপ্নগুলো বাতাসে এলোমেলো উড়ে গেলো সব কিছুই যেনো পলকা.. বড্ড খেলো.. এখন শুধুই দগ্ধ লাশের গন্ধ কতো মানুষের যাত্রা বদল হলো.. “নমঃ নমঃ নমো বাঙলাদেশ মম”কবিতা গানে কতোবার জয়ধ্বনি I বাংলা অক্ষর মায়ের হাত ছেড়ে এখন কি শুধু বিষাদ রাত্রি গুনি? ছায়ানট এখন গভীর রাতের ছায়া সা থেকে সা তান গিয়েছে ছিঁড়ে মধ্যরাতের রাগিণী বেসুরো ঈশ্বর বা আল্লা কেউ কি ক্ষমা কর? দেওয়ালে ছেঁড়া কবির ছবিখানি এই বর্বরতার নীরব সাক্ষী জানি l হিন্দু বা মুসলিম কিছুতেই কিছু নয়.. সকল ধর্মের একটাই কথা হয়.. “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি… ... ...
আট : নকশাল ll সহেলি বন্দ্যোপাধ্যায় “ভাগ শালা ভাগ হারামী… বেজন্মl… চুতিয়ার বাচ্চা ছেড়ে দিলাম…এক্ষুনি দৌড়ে পালা….. শুয়োরের বাচ্চা.. না হলে কুকুরের মত গুলি করে মেরে ফেলব” lকুড়ি-একুশ বছরের চার পাঁচজনকে পিছনে হাত মোড়া অবস্থায় পুলিশের ভ্যানের পিছন থেকে লাথি মেরে মাটিতে সজোরে নিক্ষেপ করলো জাঁদরেল এক পুলিশ অফিসlর .. ঘড়ির কাঁটা বলছে রাত আড়াইটে.. জীপের তীব্র হেডলাইট.. তাতে… আস্তে আস্তে প্রতীয়মান হলো একটা লম্বা কালো পেটমোটা চেহারা, দুটি নৃশংস জ্বলন্ত চোখ.. কঠিন বীভৎস মুখে চুরুট আর মদের কড়া বিশ্রী গন্ধ আর সেই মুখ থেকেই নিঃসৃত হচ্ছে অশ্রাব্য গালি গালাজ.. অরিত্র মুখ থুব্ড়ে পড়ে বুঝলো ওকে পালাতে হবে.. কিন্তু কি করে??? পিছন দিকে থাকা দুজন কনস্টেবল এগিয়ে এলো.. অফিসারের হাতের ইশারায়… হাতের বাঁধন দিলো খুলে.. বললো দৌড় লাগাও, না হলে এখানেই ... ...
সাত: বাবা ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি (আমার বাবা অধ্যাপক ডক্টর নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণে..) চোখে ভারী চশমা পরা এক ব্যাক্তিত্ত্বপূর্ণ মানুষ.. তাঁর পড়ার ঘরে বিশাল এক লম্বা টেবিল.. আর রাশি রাশি বইয়ের পাহাড়কাগজ, পেন,ডায়েরি আর তাঁর অজস্র লেখাস্টাডিরুমের আলমারিগুলো বইতে ঠাসা ..আর সামনের তাকে রবীন্দ্র রচনাবলীর ভিড় যাঁর কথা বললাম তিনি আমার বাবা…. হলুদ রঙের একটা দোতলা বাড়ি.. পুব দিকে গঙ্গা নদীছটা বাজতেই গম্ভীর গলায় ডাক.. “উঠে পড়ো”রেডিওতে শুরু হতো সংগীতাঞ্জলিপুবের জানলা দিয়ে মিঠে রোদ বিছানায়.. ভেসে আসত গঙ্গার ভোরের হাওয়া.. আমি পড়তে পড়তে দেখতাম বাবা খাবার টেবিলে বসে আছেন.. পিঠে রোদ পোয়াতে পোয়াতে চা খাচ্ছেনপাশে রেডিও থেকে ভেসে আসছে রবীন্দ্রসঙ্গীত.. সকাল থেকেই ভিড় প্রচুর ছাত্রছাত্রীর.. চল্লিশ বছরের অধ্যাপনার জীবন.. জনপ্রিয় অধ্যাপক… কিন্তু ছুটির দিনে বিকেল বেলার দিনগুলো শুধু ... ...
ছয় : নারী দিবস আজ সকাল থেকেই অনবরত লোকের ভিড়মিস্টার আর মিসেস পাকড়াশীর তিন কামরার ফ্ল্যাটে ....বেজে উঠছে প্রায়শই কলিং বেলদেখা করতে আসছে অনেকেই হাতে ফুল বা সৌহার্দ্য বিনিময় .. আজ যে ৮ ই মার্চ , আন্তর্জাতিক নারী দিবস | এই নারীর মুক্তির কথা রিনিতা পাকড়াশীর কলমে উঠে এসেছে বারবার ..লেখিকা হিসেবে পরিচিতি এখন প্রতিবাদী কলম বলে ..হতভাগ্য নারী, দুর্ভাগা নারীর ভাগ্যকে তাঁর কলম দেখিয়েছে আলোতাঁর প্রতিটি গল্প, কবিতা আর উপন্যাসে নারীর ক্ষমতায়ণ, নারীর উঠে দাঁড়ানোর গল্প ..কত সাধারণ মেয়ে অর্জন করেছে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যয় |কয়েকটি বাচ্চা মেয়ে আর ছেলে দেখা করতে এসেছে'হাতে তাদের ফুল, মুখে স্মিত হাসিএপাড়ারই হবে..বোধহয় সদ্য কলেজ যোগ দিয়েছে প্রণাম করে বললে, "আজ দুপুরে ... ...
: একটি চিঠি তোমায় কলকাতা..প্রিয় কলকাতা,ভালো আছো?কেমন আছে তোমার ভিক্টোরিয়া, গড়ের মাঠ, হাওড়া ব্রিজ?কেমন আছে বাবু ঘাট, প্রিন্সেপ ঘাটের চত্বর আর স্রোতসিনী গঙ্গা?হাওড়া ব্রিজ তুমিও নিশ্চই ভালো আছো, জনকোলাহলে মেতে আছো,এসপ্লানেড, ডালহৌসী আর কফি হাউস তোমাদের খবরও জানিও ..সারাদিনের যানজট আর মানুষের কোলাহলে ব্যস্ত আজও ?রাতের পার্কস্ট্রিট রঙিন মোহনায় এখনো জ্বলজ্বল করো কি?শহর যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে মূর্ছনায়.....এসব কথা ভাবতে গিয়ে রাত কাবার যখনআমি তখন দূরে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারেমনের কোণে জমানো কথায় ব্যাথায়চোখের নিচে ধূসর ধুলোয়আর কানে হেডফোনে রবি ঠাকুরের গানে "আমার যে দিন ভেসে গেছে চোখের জলে".....খুঁজি খুঁজি ফিরি তোমায় সারাদিন সর্বক্ষণ..কত দিনএমন সময় "পুরোনো ... ...
: সেতুযেখানে পাহাড়গুলো এসে শেষ হয়েছে সাগরেযেখানে সাগরটা রুষে ফুসে উঠছেযেখানে নীলাভ শুভ্র ঢেউগুলো গর্জে উঠে জানান দিচ্ছেপৃথিবীর শেষ সীমানা..কিন্তু ওধারেও তাকিয়ে দেখো....দূরে... দূরে...যেখানে অন্যান্য কালো উঁচু ঝাপসা পাহাড়গুলোর দলহাতছানি দেয়এপারের পাহাড়গুলোর সাথে বন্ধুত্ত চায়যেখানে সুন্দরী মোহিনী সাগর নীল বেশে এসে বিভাজন ঘটিয়েছে তাদেরতবে...যেখানে মানব সভ্যতা টেক্কা দিয়েছে সৃষ্টিকেযেখানে পৃথিবীর আদিম কাল থেকে তৈরি হয়েছেপ্রকৃতিকে জয় করে নেওয়ার লড়াই....যেখানে মানুষ বানিয়েছে সেতু .......(Bixby Creek Bridge or Big Sur bridge in California between the Sierra Nevada Mountains and the Pacific Ocean)Penned by Saheli BandyopadhyayCopyright Nov 20, 2024 ... ...
তিন : ll Praying llThe world is too much now with us… Past and present.. Already spread darkness.. Already lost our power and lives… Little what we left is the nature surrounding us.. The wind is hollowing over the dry yellowish land.. Sounds like it is talking loudly… Seeking friendship? Or fighting? Freeze sometimes… The trees are out of leaves now .. rough dry branches.. Still the pine is standing straight with its evergreen appearance The sunlight of falling afternoon turns it bright... Still this is so much magnificent beauty.. Hoping the disappeared light will shine again.. Praying… Praying..... Illustrated by Saheli Bandyopadhyay, Copyright November , 2020, USA2020 সালে লেখা আমার একটি ইংলিশ কবিতা ... ...
কবিতা দুই : আরামকেদারl.. আমার পুরোনো বাপের বাড়িতে একটা আরামকেদারা ছিলএকতলার ঘরে আমরা যে ঘরটাকে বলতাম বাইরের ঘর সেই ঘরে ঢুকতেই ডান দিক ঘেঁষে শোভা পেতো এই কেদারা বড় একটা জানলার পাশে হাতল দুটি বেশ ছড়ানো বড় আর আরাম করে পিঠ হেলিয়ে বসার জায়গাটিও ...সক্কাল সক্কাল বাবা সেই আরামকেদারায় বসতেন আর তার চারিপাশ ঘিরে ভিড় করতো বাবার ছাত্রছাত্রীরা বাবা সেখানে বসে পড়াতেন ...অনর্গল ভাবে বলে যেতেন রবীন্দ্রনাথ, বৈষ্ণব পদাবলী বা শেক্সপীয়ার ..কখনো বা ওই কেদারায় বসে লিখে চলতেন অবিরাম দিন রাত..বাবার পান্ডিত্য যে আকাশ ছোঁয়া খুব ছোট হলেও সেটা বুঝতাম ...স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে যখন ঢুকি আরামকেদারাটা একই ভাবে ছিল, বাবাও একই ভাবে পড়াতেন ... তবে শনি ... ...
কবিতা এক : আমিও লেখক একটা পরিচয়ের জন্য নিজেকে খুঁজছি আমি lসেদিন মেয়েদের গোল বৈঠকে উঠলো তুমুল গল্প কে রেঁধেছে কি? আমি মিশে গেলাম তাতে জলের মত কারণ রন্ধন আমার জন্মগত অধিকার মেয়েরা বললো তুমি সুগৃহিণী আমি মনে ভাবলাম আমি রন্ধন--- শিল্পী তারপর সেদিন ছেলেদের বৈঠকে উঠলো রাজনীতি, ক্রিকেট, ফুটবল এর গল্প বললাম বিশেষ কিছু জানি না আধেক শুনলাম আধেক না তবু গল্পে যোগ দিতে কিছু কথা বললাম কারণ কথা বলাও আমার জন্মগত অধিকার ছেলেরা বললো তুমি বাক্যপটু আমি মনে ভাবলাম আমি কথা… শিল্পী তারপর সেদিন ঘটনা চক্রে পরিচয় হলো একজন লেখকের সাথে দেখলাম তাঁর প্রতিটি কথায় এক একটি গল্প লেখা হয়ে চলেছে আমি মিশতে চাইলাম তাতে জলের মত কারণ আমিও কলম ধরতে জানি চাইলে সাত সমুদ্র তেরো নদীর কথা মুঠো করে ধরে ... ...