

অলংকরণ: রমিত
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন নজরুল জাতির জীবনে বসন্ত এনেছেন। তাই জাতির দুর্যোগের সাইরেন ভেদ করে বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ শুনতে আমাদের শরণ নিতে হয় কাজি নজরুল ইসলামের। জাতের জয়ধ্বনিতে যখন জাতির বিপর্যয় নেমে আসে, সেরকমই এক সংকটলগ্নের কবি ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক পুঁজি থাবা মেলে আসছে আর মরণকামড় দিচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ- আর সেই আগ্রাসনের সামনে সমাজ ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, দেশ ভেঙে যাচ্ছে, এই ছিল তাঁর কবিজীবনের প্রেক্ষাপট। জাহান্নামের আগুনে পুষ্পের হাসি- এ তো আক্ষরিক অর্থেই তাঁর সাধনা ছিল।
নজরুলের সাহিত্যজীবনের শুরু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সেনাছাউনিতে বসে। পরবর্তীকালে একবার মৌলবাদীরা তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করতে চায়। বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিক তিনি, আক্রমণকারীর হাতের লাঠি কেড়ে তাদেরই ঠেঙিয়ে দেন উলটে। শিল্পী-সাহিত্যিকদের রগড়ে দেওয়ার শাসন তো আর শুধু আজকের সময়ের না। কবিতা লেখার জন্য জেলে যাওয়া, অনশনে জীবন সংকট ডেকে আনা – এই সবের মধ্যে দিয়েই বিকশিত হয়েছে নজরুলের শিল্প, বিদ্রোহ।
নজরুল সাধকও ছিলেন। তাঁর কালীসাধনার কথা যেমন সুবিদিত, তেমনি আমরা জানি বাঙলার শ্রেষ্ঠ ইসলামি সঙ্গীতের রচয়িতাও তিনি। আবার, কোন বনের মাঝে কানুর বেণু বাজে – কৃষ্ণপ্রেমের সেই নয়নার্দ্রকারী আবেগ, তাও তিনি রেখে গেছেন প্রজন্মান্তরের জন্যে। বাঙলার হিন্দু-মুসলিম যৌথসাধনার ধারার এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন তাঁর জীবন। আর, তাই ধর্মপরিচিতির রাজনীতির বিপরীতে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি- যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা।
বিপর্যয়ের চরমতম মুহূর্তেও নজরুল আশা রেখেছিলেন, যে- প্রভাতে হবে না ভায়ে ভায়ে রণ/ চিনিবে শত্রু চিনিবে স্বজন/ করুক কলহ, তবু তো জেগেছে- বিজয় কেতন উড়া।
তাই, সংকটের দিনে আমরা নজরুলের পক্ষে থাকতে চাই। জাতির একতার সাধনার দিশারি হিসেবে স্মরণ করতে চাই কবি নজরুলকে। ১১ই জ্যৈষ্ঠ নজরুলজয়ন্তী। আগামী এক পক্ষকাল আমরা কাজি নজরুলকে নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে চাই। চর্চা করতে চাই তাঁর সাহিত্য ও সঙ্গীতজীবনের। তেমনি জানতে চাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কথা, তাঁর ব্যক্তিজীবনের বিদ্রোহী চেতনার প্রকাশের কথা। আমরা তাঁর অসাম্প্রদায়িক আধ্যাত্মিক সাধনার আলোচনাও করতে চাই।
আহ্বান রইল-আপনার লেখা মেল করে দিন guruchandali@gmail.com-এ ১০ই জুনের মধ্যে।