এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • অন্নপূর্ণা ও বুভুক্ষার ইতিবৃত্ত।

    Somnath mukhopadhyay লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ১১ মে ২০২৬ | ৮৭ বার পঠিত
  • অন্নপূর্ণা ও বুভুক্ষার ইতিবৃত্ত।

    মা অন্নপূর্ণার সামনে স্বয়ং ভগবান মহাদেব ভিক্ষা পাত্র হাতে নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন অন্নের সংস্থানে। এ দৃশ্য আমাদের কাছে অপরিচিত নয়। মা অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার অফুরান। জগতবাসীর খাবারের তিনিই হলেন জোগানদার, দুর্ভিক্ষ, অনটন, অনাহারে তিনিই আমাদের ভরসা। অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের মূল উপজীব্য‌ই হলো দেবী অন্নদা বা অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য বর্ণনা।

    পুরাণ বা লোকায়ত কাহিনীর বিবরণী থেকে সরে এসে একেবারে এই সময়ের মাটির পৃথিবীর দিকে তাকাই। এই মুহূর্তে পৃথিবীর ৪৭ টি দেশের প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন সংখ্যক মানুষ সুতীব্র খাদ্য সংকটের শিকার। খাবারের পাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জোগান তো দূরের কথা দৈনন্দিন ক্ষুণ্ণিবৃত্তি নিবারণের সামর্থ্যেও আজ টান পড়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের। পৃথিবীর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি সত্যিই আজ গম্ভীর প্রশ্নের মুখে। পৃথিবীর দ্রুত বদলে যাওয়া আবহিক পরিমণ্ডলের কারণে শস্যের উৎপাদন প্রভাবিত হ‌ওয়ায়, অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আপামর মানুষের খাদ্যের জোগান। পাশাপাশি দুনিয়ার নানান প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া লাগাতার হানাহানি, লড়াই, যুদ্ধ, বিসম্বাদের কারণে গভীরভাবে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য সরবরাহের প্রচলিত ব্যবস্থা। খুব সম্প্রতি Global Report on Food Crisis 2026 (GRFC 2026) শীর্ষক রিপোর্টটি এই ঘনায়মান বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে বিগত এক দশক সময়কালের মধ্যে পৃথিবী জুড়ে বুভুক্ষু মানুষের কাতার ক্রমশই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। গাজা ভুখণ্ড সহ আফ্রিকার সুদানে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এক‌ই সময়ের বৃত্তে দু - দুটি দেশে এমন বিপর্যয়ের আবির্ভাব সত্যিই উদ্বেগের যা সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা যায় নি। এই তথ্য থেকে হয়তো খাদ্য সংকটের গভীরতা সম্পর্কে খুব স্পষ্ট ধারণা করা যাবেনা কিন্তু এ কথা মেনে নিতে কোনো দ্বিধা থাকার অবকাশ নেই যে গোটা দুনিয়ার অর্থনৈতিকভাবে পিছনে থাকা দেশগুলোর এক বড়োসড়ো সংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান পায়না। তাঁরা পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে তিলতিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    গত ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ এ প্রকাশিত এই যৌথ প্রতিবেদনটি আমাদের নজরে এসেছে। মুখ্যত সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে এই সমীক্ষার কাজটি সম্পন্ন করা হলেও সমীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রকের সদস্যরা, জার্মানি, বৃটেনের বিদেশ মন্ত্রক, কমন‌ওয়েলথ এবং উন্নয়ন বিভাগ, আয়ারল্যান্ড সরকার, গ্রুপ অব সেভেন প্লাস সহ আরও অনেক অসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য।

    কী উঠে এলো এই সমীক্ষায়? এই রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীর ৪৭ টি দেশের ২২.৯% বা ২৬৬ মিলিয়ন মানুষ চরম বুভুক্ষা পীড়িত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের অন্তর্বর্তী সময়ে পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং ২০২০‘র পরবর্তী সময়ে এই হার কখনোই ২০% নিচে নামেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যক দেশের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। এর ফলে মনে হতে পারে যে আমরা হয়তো এই মুহূর্তে সংখ্যাটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি কিন্তু বাস্তবে খিদে নিয়ে সাধারণ মানুষের অবস্থানে এই সময়ের মধ্যে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। অবস্থা যথা পূর্বং, তথা পরং। তাই সমীক্ষার পরিসর আরও বিস্তৃত না করে সত্যিকারের পীড়িত মানুষদের নিয়েই কাজটা করা হয়েছে।

    সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে বুভুক্ষু মানুষের সংখ্যা কয়েকটি বিশেষ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বটে, তবে তার পরিসর বেড়ে যাবার আশঙ্কাকে বাতিল করা যায়না। এই মুহূর্তে পৃথিবীর ১০টি দেশে এই সংকটের মাত্রা তীব্রতম। ফলে এই দেশগুলোতেই মোট বুভুক্ষু মানুষের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ বসবাস করেন। এই চরম বুভুক্ষু মানুষের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে – আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, দ্যা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মায়ানমার, নাইজেরিয়া,পাকিস্তান দক্ষিণ সুদান,সুদান, সিরিয়ান আরব রিপাবলিক এবং ইয়েমেন। এদের মধ্যে আফগানিস্তান, সাউথ সুদান,সুদান ও ইয়েমেনের অবস্থা ভয়াবহ। বুভুক্ষু মানুষের সারিতে আজ একেবারে সামনে রয়েছে এই চারটি দেশের সাধারণ মানুষ। তথ্য বিশ্লেষণ করে সমীক্ষকরা দেখিয়েছেন যে ৬ টি দেশের ১.৪ মিলিয়ন মানুষ বুভুক্ষার চরমতম সীমান্তে (catastrophe category) এসে পৌঁছেছে। ২০১৬ সালের তুলনায় তাদের সংখ্যা প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যা এক ভয়াবহ স্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবস্থা এতোটাই গম্ভীর যে পরিবারগুলোর পক্ষে নিজেদের ন্যূনতম দৈনন্দিন ক্ষুণ্ণিবৃত্তি নিবারণের সামর্থ্যেও আজ টান পড়েছে। অর্ধাহার, অনাহারে বিপন্ন মানুষ আজ জীবনের শেষ পরিণতির অপেক্ষায় অপেক্ষমান। এ এক চরম হতাশার পরিস্থিতি।

    এরপরের তালিকায় রয়েছে পৃথিবীর আরও ৩২ টি দেশ এবং সেই সব দেশের ৩৯ মিলিয়ন মানুষ, যেখানে খাদ্য সংকটের মাত্রা একেবারে বুভুক্ষার প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ একটু এদিক ওদিক হলেই এইসব দেশের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গভীর প্রশ্ন চিহ্নের সামনে পড়বে।

    গবেষকরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে এই সমস্যা রাতারাতি তৈরি হয়েছে তেমনটা নয়। ২০১৬ সাল থেকেই এমন সংকটের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল একটু একটু করে। FAO এর পক্ষ থেকে আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হলেও তাকে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে তেমন কার্যকর প্রয়াস করা সম্ভব হয়নি। একটা বিষয় খুব স্পষ্ট করে বলতে হবে যে খাদ্য সংকটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে পুষ্টির সংকট অর্থাৎ উদরপূর্তির জন্য কিছু আহার্য‌ই যথেষ্ট নয়,তা প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হ‌ওয়াটাও খুব খুব জরুরি। দুঃখের বিষয় হলো এখানেই বড়ো রকমের ঘাটতি রয়েছে ভীষণভাবে যারফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর, সুস্থতার ওপর, কর্মক্ষমতার ওপর, আয়ুষ্কালের ওপর সর্বোপরি মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    ২০২৫ সালেই ক্ষুধার্ত দুনিয়ার ৩৫.৫ মিলিয়ন শিশু গভীর অপুষ্টির শিকার হতে বাধ্য হয়েছে যাদের মধ্যে ১০ মিলিয়ন শিশু বর্ণনাতীত অপুষ্টিতে ভুগছে। যুদ্ধ বিগ্রহ, গোষ্ঠী সংঘর্ষ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে এই বিপুল সংখ্যক শিশুর খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি আজ গভীর প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ এক অসহায় পরিস্থিতি!

    সমীক্ষকদের মতে নানান প্রাকৃতিক কারণে ফসলের উৎপাদন ও জোগানে টান পড়েছে এ কথা যেমন সত্যি, সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে ঘনিয়ে আসা এই সংকটের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে পারস্পরিক সংঘর্ষ ও জীবনের নিরাপত্তার অভাবকেই সবথেকে জোরালোতম কারণ হিসেবে দায়ি করেছেন। বেঁচে থাকার পরিবেশটাই যদি বিপর্যয়ের শিকার হয় তাহলে সাধারণ মানুষের যাপনের লড়াই ক্রমশই কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে যায়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ২০২৫ সালে পৃথিবীর নানান প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ১৯ টি দেশের প্রায় ৫৬% মানুষের জীবনে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি গভীর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সাথেসাথে ১৪৭. ৪ মিলিয়ন মানুষ বুভুক্ষার অনিশ্চয়তা নিয়েই কোনোরকমে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছে। এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশই যে বাড়ছে পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। ২০২৪ সালে এমন আশঙ্কিত মানুষের সংখ্যা ছিল ১৩৯. ৮ মিলিয়ন। আর ২০১৮ সালে ৭৩. ৯ মিলিয়ন মানুষ এই চরম খাদ্য হীনতার আশঙ্কায় ভুগছিলেন। উদ্বেগের কথা এই যে মাত্র ৮ বছরেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

    সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুত্রেস এর মতে – “ মানুষে মানুষে হানাহানি আর দ্বন্দ্ব সংঘাতের কারণেই পৃথিবীর একটা বড়ো অংশের মানুষের কাছেই খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি ক্রমশই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আর এই কারণেই অভাবিত ভাবে এক বছরের মধ্যেই পৃথিবীর দুটি এলাকায় খাদ্যের পর্যাপ্ত পরিমাণে জোগানের অভাবে চরম খাদ্য সংকট তথা দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।” মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকেই আজকের পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তার এই মহাসংকট।

    প্রকৃতির রুষ্ট, রুদ্র রূপ এই সংকটের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সমস্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে খাদ্য উৎপাদনকারী কৃষিজীবীদের। ২০২৫ সালে পৃথিবীর ১৬ টি দেশে জলবায়ুগত প্রতিকুলতার কারণে মানুষের সুস্হিত যাপনের ধারা ব্যাহত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৭. ৫ মিলিয়ন মানুষ। ২০২৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৯৬.৬ মিলিয়ন।

    এই পরিবর্তনটি লক্ষণীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে আবহিক পরিমণ্ডলের নানান ধরনের বিপর্যয় যেমন খরা, বন্যা, বৃষ্টিপাতের অনিয়মিতি বিপুল পরিমাণ মানুষকে গৃহহীন, আশ্রয়হীন করার পাশাপাশি গভীর খাদ্য সংকটের দিকে এগিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতি যত বিরূপ হয়েছে তত বেড়েছে মানুষের খাদ্য সংকট, বেড়েছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। আজ যদি দেখা যায় যে সেই পুরনো ঐতিহ্যকে পেছনে ফেলে নতুন করে উঠে এসেছে সম্পূর্ন (অ)মানবিক কিছু কারণ, তাহলে বুভুক্ষা পীড়িত মানুষদের সঙ্গে সঙ্গে সভ্যতার সংকট নিয়েও গভীর আশঙ্কা জাগে বৈকি! আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে রাশিয়া – ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কথাও। এই সব বিসম্বাদ জীবনযাত্রার পরিচিত ছন্দটাকেই যে বিলকুল বদলে দিয়েছে, বঞ্চিত করেছে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ন্যূনতম অবকাশকে। এসব‌ই বাড়িয়েছে সমস্যার গহীনতা।

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে এমন‌ই এক প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে একবার আমাদের দেশের অবস্থার দিকে নজর দেওয়া যাক্। ভারতের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স এর সূচক মান হলো ২৫.৮। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে মান যথেষ্ট উদ্বেগের। ২০২৫ সালে পৃথিবীর ১২৩ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ১০২ তম। খুব নিরাপদ অবস্থানে আমরা রয়েছি এমনটা কখনোই নয়। দেশে বিপুল পরিমাণ দারিদ্র্য রয়েছে। এই পথেই বুভুক্ষা এসেছে বারংবার নানান চেহারায়। দেশে খাদ্য শস্যের ঘাটতি নেই বলে দাবি করা হলেও সুষ্ঠু বন্টনের অভাবে এক বড়ো অংশের মানুষের কাছে তা ঠিকঠাক পৌঁছচ্ছে না। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছে, যে পদ্ধতিতে এই সূচক মান নির্ধারণ করা হয় তা ত্রুটিপূর্ণ। ফলে গণনায় হেরফের ঘটছে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলতেই পারি যে বিষয়টিকে এভাবে এড়িয়ে চলা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়।

    পৃথিবীর মানবসমাজ আজ যে সমস্যাটি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন সেই খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে মোকাবেলা করতে আজ সর্বস্তরেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এখানেও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে সমস্যা – আর্থিক সহায়তার সমস্যা। দুর্ভাগ্যবশত ২০১৬ – ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরেও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে এক ধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে। এরফলে খুব সামান্য সংকট অচিরেই সমাজের বুকে খুব বড়ো চেহারা নিচ্ছে খুব অল্প সময়েই। অর্থাভাবে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকেও দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সত্যিই দুশ্চিন্তা বাড়ায়।

    মানুষের জৈবনিক অস্তিত্ব নির্ভর করে ন্যূনতম তিনটি উপকরণের ওপর – অন্ন বা খাদ্য, পরিধেয় বা বস্ত্র এবং আশ্রয় বা বাসস্থানের ওপর। দুর্ভাগ্যবশত আজ‌ও পৃথিবীর সকল আবাসিকের কাছে এই তিনটি উপকরণের জোগান সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়নি। যতদিন আদিম অরণ্যচারী মানুষ নিজেদের খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করেছে ততদিন একভাবে চলেছে। এখন পরিমিত খাদ্যের জোগান নিয়ন্ত্রণে সামাজিক বিধি ব্যবস্থার ভূমিকা অপরিসীম। আগামী দিনে এই ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ঘটাতে পারলে পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান বুভুক্ষু মানুষের সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটতে পারি আমরা। আশা ভরা চোখে সেদিকেই হয়তো তাকিয়ে থাকতে হবে আমাদের।

    সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
    মে ০৭, ২০২৬.
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ১১ মে ২০২৬ | ৮৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • পৌলমী | 2409:*:*:*:*:*:*:* | ১২ মে ২০২৬ ১৯:১৪740622
  • আরও একটি প্রয়োজনীয় বিষয়ে লেখক আমাদের সচেতন করলেন। খাদ্য, পুষ্টি, বাসস্থানের মতো উপকরণগুলো এখনও সকলের কাছে সুলভ হয়ে ওঠেনি। এটা আমাদের অপূর্ণতা।
     
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আদরবাসামূলক মতামত দিন