এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  সমাজ

  • হিন্দু ধর্ম হিন্দুত্ববাদ ও ধর্ম ক্ষমতা রাজনীতি ব্যবসায়

    ঋত রায়চৌধুরী
    আলোচনা | সমাজ | ০৯ মে ২০২৬ | ১০৬ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • 'হিন্দুত্ববাদী' শব্দে আমার আপত্তি আছে। ওরা চোরপোরেট রাজতন্ত্রী। ধর্মকে ব্যবহার করছে। ওরা অপধর্ম রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবসায়ী।
    জামাত যেমন ইসলামের কলঙ্ক। বিছে পার্টিও হিন্দু ধর্মের কলঙ্ক। ওরা হিন্দুত্বকে বাদ দিতে চায়।

    হিন্দু একটা বহুত্ববাদী ধর্ম।
    মা তারার পোড়া শোল মাছ প্রসাদ।
    কালী ঘাটে পাঁঠার মাংস। তা আবার নিরামিষ। পেঁয়াজ রসুন ছাড়া। হিং আর আদা দিয়ে। অপূর্ব খেতে। আমি একাধিকবার খেয়েছি।
    আবার গুজরাট রাজস্থান পাঞ্জাবে পেঁয়াজ রসুন আমিষ নয়। নিরামিষ।

    কারও মদ বারণ। কারও কাছে তা 'কারণ'। কারণবারি প্রসাদ। কারও কাছে গাঁজা ঘৃণ্য। কারও গঞ্জিকা সেবন সেবা।

    কেউ রাম পূজা করেন, কেউ রাবণ।
    দুর্যোধনের নামে মন্দির আছে। যুধিষ্ঠিরের আছে কি? জানা নেই।
    কেরলে একদল বামনরূপী বিষ্ণুর পূজা করে, যিনি বলি রাজাকে নির্বাসিত করেছিলেন। আর একদল বলি রাজার বছরে একদিন ফিরে আসার দিনে পালন করে ওনাম।
    শুভেন্দুও হিন্দু। মমতাও হিন্দু। আবার চৈতন্যও।

    হিন্দু-কে বাদ দেওয়ার নাম হিন্দুত্ববাদ।

    কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গত ১২ বছরে।
    নোটবন্দির লাইনে ১৭০ জনের মধ্যে ১৫৬ জন হিন্দু।
    লক ডাউনে হেঁটে হেঁটে চলে আসতে বাধ্য হওয়া মানুষদের ৯০ ভাগ হিন্দু। ১২০০ র বেশি মানুষ মারা যান।
    লক ডাউনের সময় রেল লাইন দিয়ে হেঁটে আসার পথে কাটা পড়া ১২ জন মানুষই হিন্দু।
    আবার সারে মৃত ২২০ জনের মধ্যে ১৮০± জন হিন্দু।
    ২৪৮ জন আই এ এসের চাকরি গেছে এই আমলে ৯৫ কেন ১০০ ভাগ হিন্দু।
    ১ লাখ ৯৭ হাজার ছাঁটাই হয়েছে বিএসএনএল থেকে। দু হাজার মানুষও হিন্দু বা শিখ বা খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ নন।

    যত কৃষক আত্মহত্যা করেন তার ৯০ ভাগ হিন্দু। করোনায় উত্তরপ্রদেশে মৃতদের বড় অংশ হিন্দু। যাদের গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    হিন্দু ধর্মের ওরা ঠিকেদার ভাবছে। কিন্তু ওঁরা কি বেদ উপনিষদ পড়েছেন?
    মুনি ঋষিরা যে নানা ধরনের মাংস খেতেন ওঁরা জানেন?
    রামায়ণ মহাকাব্য। মহাভারতও। তাতে গোমাংস ভক্ষণ সম্পর্কে কী কথা আছে? কারা কারা করেছেন?

    গঙ্গা পবিত্র নদী। গঙ্গা এত অপরিষ্কার করে রেখেছে কেন? বিষ্ণুপুরে অনেক ঐতিহ্যবাহী মন্দির। কেন্দ্রীয় সরকার সেগুলো সংরক্ষণ করেন না কেন? বেনারসে ৩৬০টা মন্দির ভাঙলো? মণিকর্ণিকা ঘাটের অবস্থা কী? দিল্লিতে ১৫০০ বছরের পুরোনো মন্দির ভাঙা হয়েছে কাদের সংগঠনের লোকদের গাড়ি পার্কিং করার জন্য?

    আসলে সবটাই অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ক্ষমতাবাদী খেলা।
    তাকে হিন্দুত্ববাদ নামে প্যাকেজিং করা হচ্ছে!

    সাধু সাবধান!

    পুনশ্চ :

    জেমিনি কী বলছে?

    গোলওয়ালকর ও সাভারকরের 'হিন্দুত্ব' এবং রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের 'হিন্দু ধর্ম'—এই দুই ভাবধারার মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে।

    যদিও উভয়েই হিন্দু ঐতিহ্য ও গৌরবের কথা বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য এবং দর্শনের পথ ভিন্ন।

    ​নিচে এই দুই ধারার প্রধান পার্থক্যগুলি দেখতে পারেন

    ​১. রাজনৈতিক আদর্শ বনাম আধ্যাত্মিক সাধনা
    ​সাভারকর ও গোলওয়ালকর: এঁদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করা। সাভারকরের 'হিন্দুত্ব' (Hindutva) মূলত একটি জাতিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি হিন্দু ধর্মকে একটি সাংস্কৃতিক এবং ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন। গোলওয়ালকরও 'রাষ্ট্র' এবং 'জাতির' সংহতির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন।

    ​রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ: এঁদের প্রধান ভিত্তি ছিল আধ্যাত্মিকতা এবং বেদান্ত। শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, "যত মত তত পথ", অর্থাৎ সব ধর্মই সত্য।

    বিবেকানন্দ এই সর্বজনীনতাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন। তাঁদের কাছে ধর্ম হলো মানুষের অন্তরের দেবত্ব জাগিয়ে তোলা, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল নয়।

    ​২. অন্তর্ভুক্তিকরণ বনাম বর্জন
    ​হিন্দুত্ব (সাভারকর-গোলওয়ালকর): সাভারকরের সংজ্ঞানুযায়ী, হিন্দু তিনিই যার কাছে এই ভারতভূমি একাধারে 'পিতৃভূমি' এবং 'পুণ্যভূমি'। এই সংজ্ঞায় বৌদ্ধ, জৈন ও শিখদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের ক্ষেত্রে কিছুটা বর্জনের সুর ছিল, কারণ তাঁদের পুণ্যভূমি ভারতের বাইরে।

    ​হিন্দু ধর্ম (রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ):

    বিবেকানন্দ শিকাগো ধর্মসভায় বলেছিলেন, "আমরা শুধু সহনশীলতাই শিখি না, আমরা সব ধর্মকেই সত্য বলে বিশ্বাস করি।"।
    রামকৃষ্ণ নিজে ইসলাম এবং খ্রিস্টধর্মের সাধনা করে দেখিয়েছিলেন যে সব পথই এক গন্তব্যে পৌঁছায়। এখানে কাউকেই বর্জন করার অবকাশ নেই।

    ​৩. শক্তির প্রকাশ ও সেবা
    ​সাভারকর ও গোলওয়ালকর: এঁরা মনে করতেন হিন্দু সমাজকে শক্তিশালী ও সামরিকভাবে সক্ষম হতে হবে যাতে বাহ্যিক আক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের মোকাবিলা করা যায়। হিন্দু যুবকদের মধ্যে বীরত্ব ও সংগঠন শক্তির বিকাশ ছিল তাঁদের লক্ষ্য।

    ​বিবেকানন্দ: বিবেকানন্দও শক্তির কথা বলেছেন ("নায়েমাত্মা বলহীনেন লভ্য"), কিন্তু তাঁর সেই শক্তি ছিল 'সেবা'র শক্তি। তিনি বলতেন, "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" দরিদ্র নারায়ণের সেবা করাই ছিল তাঁর কাছে শ্রেষ্ঠ ধর্ম।

    ​৪. সংস্কৃতির সংজ্ঞা

    সাভারকর ও গোলওয়ালকর হিন্দু পরিচয়কে একটি 'রাজনৈতিক অস্ত্র' বা সংহতির মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মকে একটি 'আধ্যাত্মিক মহাসমুদ্র' হিসেবে দেখেছিলেন, যা সকল মানুষকে আপন করে নিতে পারে এবং মানুষের নৈতিক উন্নতির পথ প্রশস্ত করে। বিবেকানন্দের হিন্দুত্ব ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আধ্যাত্মিক, আর সাভারকরের হিন্দুত্ব ছিল রাজনৈতিক ও ভূ-সাংস্কৃতিক ও বর্জনমূলক।

    আরেকবার যদি দেখি :

    ​তুলনামূলক পার্থক্য
    ​১. মূল ভিত্তি
    ​সাভারকর ও গোলওয়ালকর: সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ।

    ​রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ: আধ্যাত্মিকতাবাদ ও মানবতাবাদ।

    ​২. দৃষ্টিভঙ্গি
    ​সাভারকর ও গোলওয়ালকর: হিন্দুরা একটি স্বতন্ত্র জাতি (Nation)।
    ​রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ: হিন্দু ধর্ম একটি সর্বজনীন জীবনদর্শন।

    ​৩. উদ্দেশ্য
    ​সাভারকর ও গোলওয়ালকর: হিন্দু রাষ্ট্র গঠন ও সামাজিক সংহতি।
    ​রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ: চরিত্র গঠন ও আত্মার মুক্তি।

    ​৪. অন্য ধর্মের প্রতি
    ​সাভারকর ও গোলওয়ালকর:

    আনুগত্যের প্রশ্নে রাজনৈতিক শর্তারোপ।।

    ​রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দ: পরমতসহিষ্ণুতা ও স্বীকৃতি।

    ​আসলে একপক্ষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ওপর, অন্যপক্ষ গুরুত্ব দিয়েছেন মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিকাশের ওপর।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ০৯ মে ২০২৬ | ১০৬ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন