এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  ঘুমক্কড়

  • পায়ে পায়ে আউলি

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | ঘুমক্কড় | ১০ মে ২০২৬ | ১১৯ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • ২১.২.১৯ - গোয়ালিয়র

    রিটায়ারিং রুমে আলাপ হোলো বিশালের সাথে। নামের সাথে মানানসই ছ’ফুটিয়া দশাসই পেটানো চেহারা। বিশ বছর সেনাবাহিনী‌তে কাটিয়ে উনচল্লিশে সদ‍্য অবসরপ্রাপ্ত। এখনও অবিবাহিত এবং অচিরে সে স্ট‍্যাটাস বদলের সম্ভাবনা নেই বলে জানালো বিশাল। তার‌ও একাকী ভ্রমণ পছন্দ শুনে শুধোই,

    -কেন?

    -যেখানে ইচ্ছা যাওয়া যায়, যদ্দিন খুশি থাকা যায়, কারুর সাথে নো ঝিকঝিক।

    -একা লাগে না?

    -নাঃ, পথে অনেকে‌র সাথে ক্ষণিকের আলাপ হয়, ঐ ঢের। তবে কখনো মনে হয়েছে সঙ্গে আর একজন অন্ততঃ কেউ থাকলে ভালো হোতো।

    -কেন?

    -একবার যোশীমঠ থেকে হেঁটে আউলি গেছি‌লাম। আন্দাজ পাঁচ কিমি পথ। শেষে অন্ধকার হয়ে এলো। সেদিন ঐ জঙ্গলের পথে একটু অস্বস্তি হচ্ছিল।

    -আপনি সৈনিক, এমন সুন্দর স্বাস্থ্য, বয়স‌ও বেশী নয়, তাও অস্বস্তি?

    -দেখুন আমি কমান্ডো ট্রেনিং নিয়েছি। মার্শাল আর্ট‌ জানি। খালি হাতে‌‌ও দু চার জনকে শুইয়ে দিতে পারি। কিন্তু সেদিন সাথে টর্চ নেই, মোবাইল ব‍্যাটারী ডাউন, সাথে একটা হান্টিং নাইফ‌‌‌ও নেই। তখনই মনে পড়লো যোশীমঠ ইউনিটের একজনের সাবধানবাণী - ওই পথে সন্ধ‍্যার পর মাঝেমধ্যে ভালুক নেমে আসে। তিনি জাপটে ধরলে কমান্ডো ট্রেনিং‌ ফ্রেনিং ফেল। মুহূর্তে ছুরির মতো নখ দিয়ে বুক পেট ফালাফালা করে করে দেবে। ভালুক এমন গোঁয়ার বাঘকে‌ও ভয় পায় না। এটা খেয়াল থাকলে পাঁচটার পর র‌ওনাই হতাম না।

    -তারপর?

    -না, না, অঘটন কিছু হয়নি। নাহলে আজ আপনার সাথে গল্প করছি কী করে। আসলে বেশ চড়াই ছিল, ভাবিনি অতক্ষণ লাগবে। পৌঁছতে প্রায় সাতটা বেজে গেল।

    -সেদিন একজন সঙ্গী থাকলে কী হোতো?

    -দেখুন অন‍্যান‍্য জানোয়ার সচরাচর মানুষকে এড়িয়ে যায়, ভালুক উল্টে তেড়ে আসে। দুজনে‌ও খালি হাতে ভালুকের মোকাবিলা করা অসম্ভব। তবু সঙ্গে কেউ থাকলে একটা মানসিক ভরসা হয় - এই যা।


    ২১.৫.১৯ - যোশীমঠ

    ভুল করে চারধাম যাত্রা মরশুমে চলে গেছি উত্তরাখন্ডে একমাসের একাকী ভ্রমণে। লোকে লোকারণ‍্য দেখে কেদার, বদ্রী দর্শনের ইচ্ছা উপে গেল। ভাবলাম তার চেয়ে বরং শোনপ্রয়াগ থেকে ত্রিযুগীনারায়ণ ঘুরে আসবো। নারায়ণ সাক্ষী রেখে শিব পার্বতী‌র বিবাহস্থলে ত্রিযুগ ধরে অবিরাম জ্বলছে পূতাগ্নি, আহা তার মহিমা‌ই অন‍্য।

    বদ্রীনাথের দিকে গোবিন্দঘাটে একদিন থেকে পরদিন হেমকুন্ড সাহিব, ফুলো কি ঘাঁটি‌ এসব যাওয়ার‌ বাসনা‌ও ছিল। তবে দশেরার পর এপথে গেলে ঠান্ডা একটু বেশী হলেও ভক্তজনের ভীড় অনেক কম হোতো। যাত্রাসীজনে রুটের অনেক রেগুলার বাস, জীপ, সুমো রিজার্ভ হয়ে চারধাম যাত্রায় চলছে। বলে জন-বাহনের স্বল্পতায় বেশ ভুগতে হয়েছে। নাহলে গলাকাটা দামে রিজার্ভে যাওয়া যায়। তবে সেটা আমার দিনপ্রতি তিনশো টাকায় একাকী ভ্রমণপন্থা‌র পরিপন্থী।

    যাত্রা পথের বাইরে হ‌ওয়া‌য় গোপেশ্বরে তিনটে দিন বেশ কাটলো। মাঝে একদিন জড়িবুটি সংস্থা‌র স্টাফ বাসে পনেরো কিমি দূরে মন্ডল গ্ৰামে নেমে সেখান থেকে চুনকি একটা ট্রেক করে একরাত কাটিয়ে এলাম অনসূয়া দেবী মন্দিরে। নির্জন বনপথে যাতায়াতে দশ কিমি। আমি নিছক ভ্রামণিক‌, তীর্থযাত্রী নয়। অনসূয়া দেবী মন্দির ভক্তজনের কাছে একটি মান‍্যতাপ্রাপ্ত তীর্থ‌ক্ষেত্র। বহু নিঃসন্তান দম্পতি সন্তান কামনায় বহুদূর থেকে এখানে আসেন। মেলার সময় এখানে‌ও লোকারণ্য হয়। তবে এসব জায়গায় আমি কোনো ঐশ্বরিক বা আধ্যাত্মিক‌তার টানে যাই না। তবে লোকবিশ্বাসে দেবভূমি হিমালয়ের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, ঘন অরণ‍্যে‌র গভীর নিস্তব্ধ‌তায় এক অপার্থিবপ্রায় আনন্দ অনুভবে অন্তরাত্মা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে সে ভ্রমণে। সে প্রসঙ্গ আছে - “চললুম ইর্ষাহীন দেবীর গৃহে।" (এই সিরিজের ২৬~২৮ পর্বে)

    অনসূয়া দেবী মন্দির থেকে পঞ্চকেদারের কঠিন‌তম তীর্থ রুদ্রনাথের‌ও একটা পথ আছে। তবে সে পথ বেশ দূর্গম। আমার মতো বয়স্ক ট্রেকারের পক্ষে একাকী ওপথে গমন অনুচিত। রাতে ছিলাম‌ ঐ মন্দিরে - একা। সে অভিজ্ঞতা‌ও সুন্দর।

    গোপেশ্বরে ফাঁকায় ফাঁকায় কাটিয়ে যোশীমঠের ভীড়ভাট্টায় এসে হোলো ছন্দপতন। হিন্দুধর্ম প্রসারে অষ্টম শতকে আদিশঙ্করা ভারতে চারটি জ‍্যোতর্মঠ নির্মাণ করেন। উত্তরে যোশীমঠ, দক্ষিণে শ্রীঙ্গেরী, পূবে পূরী ও পশ্চিমে দ্বারকায়। লোয়ার বাজারে বিষ্ণুর চতুর্থ অবতাররূপী নৃসিংহ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা‌‌‌ও তিনি। বাসস্ট্যান্ডে‌র ওপরে ২৪০০ বছরের প্রাচীন কল্পবৃক্ষতলে‌ তিনি পাঁচ বছর তপস‍্যা করেন। পাশেই জগৎগুরুর প্রাচীন গদ্দী। মনোরম আশ্রমিক পরিবেশ।

    নৃসিংহ মন্দিরের পাশে শঙ্করাচার্য আশ্রমে কিছু আবাসিক ছাত্র শাস্ত্র‌চর্চার শিক্ষা নেয়। আশ্রমের মামূলী যাত্রীনিবাসের ভাড়া‌ও সীজনে সাতশো। তরুণ সুদর্শন আশ্রম সচিব দীপকের কাছে চেয়েছিলাম আশ্রমের ছাদের কোনে তাঁবু পাতার অনুমতি। বিনম্র নিবেদন, ভদ্রজনোচিত চেহারা দেখে (হয়তো ব্রাহ্মণ বলেও) তিনি আমায় আদিশঙ্করার স্মৃতি‌মন্দিরে‌ই থাকতে দিলেন। একাকী ভ্রমণে বহুবার অচেনা মানুষের এমন উদারতা আমায় অভিভূত করেছে।

    রৌপ‍্যসিংহাসনে আদিশঙ্করার তৈলচিত্র। তাঁর পদতলে মেঝেয় পাতা মোটা শতরঞ্জির ওপর আমার পাতলা ফোমম‍্যাটে তিন রাত দিব‍্যি কাটলো। কম খরচে একাকী ভ্রমণের শখ শুনে দীপক আমায় বিনামূল্যে আশ্রয় দিয়েছিলেন। আসার আগে দানবাক্সে কিছু অর্পণ করি। প্রথমদিন যোশীমঠে কাটিয়ে পরদিন কল্পেশ্বর ঘুরে এসে মনে পড়লো বিশালের কথা। গেলে হয় না - পায়ে পায়ে আউলি?

    রাস্তায় আড্ডা‌রত স্থানীয় তিন তরুণকে শুধোই, আউলিকা প‍্যায়দল মার্গ কিধর? ওরা বলে, মত যাইয়ে। আমি বলি, কিঁউ? বিজ্ঞের মতো ওরা জানায়, চড়াই বহুত হ‍্যায় আঙ্কল, থক জায়েঙ্গে।

    কথা না বাড়ি‌য়ে একটু এগিয়ে অন‍্যজনকে শুধোই। তিনি রাস্তা বুঝি‌য়ে দেন। জিজ্ঞাসা করি, খুব চড়া‌ই, পারবো না? তিনি বলেন, চড়াই ভালো‌‌ই, তবে না পারার মতো কিছু নেই। আমরা স্থানীয়, তাই সোয়া ঘন্টা লাগে। আপনার না হয় দ্বিগুণ লাগবে। ইচ্ছে যখন হয়েছে, ঘুরে আসুন। অসুবিধে হলে ফিরে আসবেন।

    এই হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি‌র তফাৎ। বলি, পথে কি ভালুকের ভয় আছে? উনি বলেন, ওটা স্থানীয়‌দের শর্টকাট পাকদণ্ডী পথ। তবে লোক চলাচল কম বলে নির্জন। অবশ‍্য দিনের বেলা কোনো ভয় নেই।

    সন্ধ্যায় দীপককে মনোবাঞ্ছা জানা‌ই। বলেন, ঘুরে আসুন, ভালো লাগবে। তবে দুটো স‍্যাক নিয়ে অসুবিধা হবে। ফিরবেন তো এখানে‌ই, বড় স্যাকটা রেখে যান। ওখানে হোটেলের রেট গলাকাটা। সঞ্জীবনী পাহাড়ের মাথায় হনুমান মন্দির আছে। ITBP মেনটেন করে। বেশ ভালো। পূজারীজীকে বলে ওখানে রাতটা থেকে যেতে পারেন। যদি আপত্তি করেন একবার আমার সাথে কথা বলিয়ে দেবেন।‌

    যোশীমঠ থেকে আউলি গাড়িতে ১৬কিমি, রোপ‌ওয়েতে ৪কিমি। মনোবাঞ্ছার সাথে মালাইচাকির মিলনে ৫কিমিতে দুহাজার ফুট চড়াই ভাঙার আনন্দ অন‍্য। নিবিড় অরণ‍্যময় পথে উচ্চতার সাথে ক্রমশ বদলায় দৃশ‍্যপট।



    এই কটেজের একজনের সাথে কথা হয়েছিল। তার কাছে বিশালের কথার প্রতিধ্বনি‌ শুনি। রাতে এপথে একাকী চলা অনুচিত।

    পিঠে ন‍্যাপস‍্যাক, কাঁধের ঝোলায় স্লিপিংব‍্যাগ। আধা উঠে‌ই ঘেমে একসা। রোদে স‍্যাক, জামা মেলে উড়নি জড়িয়ে বসি। ষাটোর্ধ্ব বিদেশী ডেভিড‌ও চলেছেন একা। ছিপছিপে শরীরের চলার ছন্দ‌ বলে দেয় সক্ষম ট্রেকার। আজকেই ফিরবেন। তাই খুব পুঁচকে একটা ন্যাপস্যাক নিয়ে চলেছে‌ন। হাই-হ‍্যালো অন্তে এগোন ডেভিড। আমার তাড়া নেই। তাই আধঘণ্টা নির্জনে বসে মোবাইলে ব‌ই পড়ি। বিশ্রামে মেলায় শ্রান্তি। ততক্ষণে আর কেউ যায় না। তখন বেলা এগারো‌টা।

    ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বরফাবৃত স্কি রিসর্ট আউলির রূপ চোখ ঝলসানো। তখন ওখানে চলে স্কি প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা‌। অন‍্য সময় হাজার ফুট ঢালে ৩কিমি আউলি বুগিয়াল সবুজ মখমল। নীচে GMVN ট‍্যূরিস্ট কমপ্লেক্স। পার্কিংয়ের দুপাশে দুটো জলখাবারের দোকান সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যায়।



    সঞ্জীবনী টিলার টঙে দীপক বর্ণিত হনুমান
    মন্দির। অনেকটা সিঁড়ি উঠে মন্দির। হয়তো ITBP'র তরফে‌‌ই নির্মিত। পাথরের দেওয়াল। গোলাপি টিনের ছাদ, শিখর।



    বড় হলের পুরো মেঝেটায় ফোমম‍্যাটের ওপর পাতলা সবুজ কার্পেট পাতা। ঝকঝকে পরিষ্কার। লৌহদরজার ওপাশে বেদীতে অধিষ্ঠিত হনুমানজী। হলের দুপাশে কয়েকসার কাঁচের জানলা।

    মন্দিরে কেউ নেই। নীচের ঢালে কিছু হোটেল। বাঁদিকে স্বল্পদূরে রোপ‌ওয়ে চেঞ্জ স্টেশন। যোশীমঠ থেকে কেবলকারে এসে ওখানে নেমে হাজার ফুট ওপরে স্কি স্টার্টিং পয়েন্টে যেতে ওখান থেকে বসতে হয় চেয়ারলিফ্টে। স্কি-পয়েন্ট থেকে পাঁচশো ফুট চড়াই ভেঙে ১কিমি দক্ষিণে গরসন বুগিয়াল অবধি যাওয়া যায়। তবে ওপথে শীতের বরফ এড়িয়ে যাওয়া‌ই ভালো।



    মন্দির পরিসর থেকে ডানদিকে নন্দাদেবী শিখর দৃশ‍্যমান (লাল তীর)। অনেক পাহাড়ি শহরে‌ই অপরিকল্পিত নির্মাণ দৃশ‍্যদূষণ ঘটায়। আউলির পূব ঢালে ITBP'র সুপরিকল্পিত হলুদ-সবুজ স্কি এ্যান্ড মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট ও সংলগ্ন বাড়িগুলি তার সুন্দর ব‍্যতিক্রম।



    জানা গেল অন্যদিকে দিগন্তের দৃশ্যপটে দুনাগিরি, বারমাল, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি নানা শিখর দৃশ্যমান। তবে আমার পক্ষে সেসব শিখর চেনা সম্ভব হয়নি।

    ধীরেসুস্থে হেঁটে‌‌‌‌‌ও বারোটা নাগাদ এসে গেছি। তিন ঘন্টা লেগেছে। চাইলে ফিরে যাওয়া যায়। কিন্তু রাতে থাকা‌র ইচ্ছা। নতুন জায়গায় সন্ধ‍্যা ও ভোর না দেখলে একটা অতৃপ্তি থেকে যায়। নীচের দোকানে ম‍্যাগী, চা খেয়ে এসে হলের এক কোনে ন‍্যাপস‍্যাক, স্লিপিংব‍্যাগের ঝোলা রেখে মেঝেতে পাতা ফোম ম্যাটের ওপর কার্পেটে শুয়ে পড়ি।



    চড়াই ভাঙার ক্লান্তিতে নিস্তব্ধ মন্দিরে শুয়ে চোখ জুড়িয়ে এসেছিল। চটকা ভাঙে একদল পর্যটকের কলরোলে। চারটে বাজে। নীচের দোকান থেকে আর এক দফা চা খেয়ে আসি। আর কোথাও যাই না। মন্দির থেকে‌ই দৃশ‍্যমান তিনশো ষাট ডিগ্ৰি প‍্যানোরামা। দলটা চলে যেতে মন্দির পরিসর পুনরায় ডুবে যায় নির্জন‌তায়।

    পাঁচটা নাগাদ একজন এসে মাইকে মৃদু ভল‍্যূমে হরিহরনের কণ্ঠে 'জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর' ভজন চালালেন। বহু জায়গায় শুনেছি এই সুমধুর হনুমানবন্দনা। দীপ, ধূপ জ্বালিয়ে চলে যাচ্ছি‌লেন। বলি,

    -রাতটা মন্দিরে থাকতে পারি?

    -নিশ্চিন্তে থাকুন।

    এত সহজে অনুমতি পাবো ভাবিনি। তাই আর যোশিমঠে দীপককে ফোন করার প্রয়োজন পড়ে না। নীচে আদিশঙ্করার আশীর্বাদ, উপরে হনুমানজীর কৃপা। এভাবেই হয় আমার বাজেটভ্রমণ। দানপেটীতে কিছু নিবেদন করি।

    সূর্যাস্তে মুগ্ধ হয়ে দেখছি নন্দাদেবীর শরীরে অস্তরাগের আশ্চর্য মাধুরী। ঢং করে ঘন্টার আ‌ওয়াজ। মন্দিরের ছোট লোহার গেট খুলে ঢুকছেন সম্ভবত সদ‍্য চল্লিশোর্ধ্ব এক দীর্ঘদেহী সুঠাম সুপুরুষ। সাথে এক মধ‍্যতিরিশের মহিলা ও একটি বছর দশেকের বালিকা।

    আদর্শ ছোট পরিবার। দুজনে আমায় দেখে হাত তুলে নমস্কার করেন। আমি‌‌ও করি প্রতিনমস্কার। জিগর প‍্যাটেল সুনীলের 'সংসারে এক সন্ন‍্যাসী' উপন্যাসের মানবেন্দ্র‌র মতো শান্ত, সমাহিত, মৃদু‌ভাষী পুরুষ। বরোদা নিবাসী নিউরোসার্জন। এসেছেন ঐ কল্লোলিনী গুজরাটী দলের সাথে‌ই, তবে বেশী হৈচৈ পছন্দ নয় বলে কখনো ক্ষণিকের জন‍্য আলাদা হয়ে নিরালা খোঁজে‌ন

    আমার একাকী ভ্রমণের প‍্যাশন শুনে বলেন,

    -জানেন, আমার‌ও খুব ইচ্ছে করে কখোনো একা বেরিয়ে পড়ি। আপনাকে দেখে ইচ্ছে‌টা বেশ জোরদার হোলো।

    -আর আমি বুঝি বাড়িতে একা থাকবো?

    সপ্রশংস দৃষ্টিতে দেখি সুন্দর মুখে স্বতঃস্ফূর্ত ভ্রুবিভঙ্গ। জিগর জিভ কেটে বলে,

    -ও হ‍্যাঁ, তাও তো বটে, হিনাল‌ও যে বেড়াতে খুব ভালো‌বাসে। তাহলে আর আমার এ জীবনে একা বেড়ানো হোলো না।

    গোয়ালিয়রে আলাপ বিশালের মতোই হিনালের নাম‌ও যথার্থ। গ্ৰীক পূরাণে‌ আফ্রোদিতির মতোই গুজরাতী ভাষায় হিনালের অর্থ‌ সৌন্দর্য্য ও সম্পদের দেবী। অর্থাৎ মালক্ষীর গুজরাটী সংস্করণ।

    জিগর বলেন, জানেন, দু বছর আগে আমরা দুজনে আউলি এসে সেবার গরসন বুগিয়াল হয়ে ছত্রকুন্ড অবধি হেঁটে গেছিলাম।

    পঞ্চম শ্রেণী‌তে পাঠরতা বালিকা‌র জননী জীনস পরিহিতা সুঠাম হিনাল তখন গরসন শৃঙ্গের দিকে স্মৃতি‌মেদুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হয়তো মনে পড়ছে দু বছর আগে দুজনের সেই হাঁটি-হাঁটি-পা-পা।

    পূজারী এসে ভজন বন্ধ করে চলে যাওয়ার সময় বলেন,

    -আপনি তো আজ এখানে রাতে থাকবেন, তাই আমি আর আসবো না। আটটায় গেট বন্ধ করে দেবেন।

    পূজারী চলে যেতে হিনাল বলেন,

    -আপনি রাতে এখানে‌ই থাকবেন নাকি?

    -হ‍্যাঁ, কেন, জায়গাটা ভালো না?

    -না, না, তা নয়, বেশ ভালো‌, ঢাকা বড় হল, ঠান্ডা লাগবে না, তবে কেউ নেই, ভয় করবে না? মুখে মেয়েলী শংকার ছায়া।

    -অচেনা স্থানে রাতে একলা থাকতে একটু অস্বস্তি হয়‌ বৈকি। তবে একে তো মন্দির, তায় হনুমান‌জীর, তাই ভরসা করে থেকে যাবো।

    মনে পড়ে অষ্টআশীতে হর-কি-দুন ট্রেকের কথা। সন্ধ্যায় পৌঁছে‌ছি নৈটয়ার। সেদিন দশেরা। বনবাংলো তালাবন্ধ। চৌকিদার‌‌ বেপাত্তা। রাতের খাওয়া সেরে আমি আর উৎপল অন্ধকার বাংলোর খোলা বারান্দায় শুয়ে পড়ি। সেদিন একা থাকলে বেশ অস্বস্তি হোতো। জিগর বলে,

    -চিন্তার কিছু নেই। এটা ITBP এলাকা, তবু আমার নম্বর রাখুন, বেড়াতে এলেও আমার ফোন হামেশা অন থাকে। কোনো অসুবিধা হলে ফোন করবেন। আমি চলে আসবো। নীচে GMVN লজে‌‌ই আছি আমরা।

    সদ‍্য পরিচিত জিগরের আন্তরিকতা স্পর্শ করে। মেয়েটি বাবার মতোই শান্ত। আমরা কথা বলছিলাম, ও নিজের মনে চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখছি‌ল। যাওয়ার সময় আমায় হাত নাড়ে। আমি মূলতঃ নির্জনতাপ্রিয় মানুষ। তবু সেদিন সন্ধ্যায় ঐ জনহীন পরিবেশে ক্ষণিকের জন‍্য অচেনা সাহচর্যের আন্তরিক উষ্ণতা বেশ লাগে। এগুলো‌ই পথের প্রাপ্তি। গোয়ালিয়রে বিশাল‌ও এমন কথাই বলেছিল।

    জীবন সায়াহ্ণে ঋষি অরবিন্দ সুদীর্ঘ বারো বছর আত্মনির্বাসনে মৌন হয়ে ছিলেন। হলিউডের গ্ল‍্যামারসর্বস্ব জীবনে ক্লান্ত হয়ে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বিষন্ন সুন্দরী সুইডিশ অভিনেত্রী গ্ৰেটা গার্বো জনপ্রিয়তা‌র শীর্ষ থাকা অবস্থায় - "I want to be LET alone" বলে ডুব দিলেন স্বেচ্ছানির্বাসনে। ৪৮ বছর সম্পূর্ণ একাকী জীবন কাটিয়ে অনন্ত‌লোকে চলে গেলেন ৮৪ বছরে। টলিউডি গার্বো সুচিত্রা‌ সেন জীবনের শেষ ৩৬ বছর একান্তবাসী হয়ে জীবনযাপন করে ৮৩ বছরে ইহলোক ত‍্যাগ করেন। তবে তিনি গার্বোর মতো সম্পূর্ণ একাকী কাটান নি। মেয়ে, নাতনী‌রা আসতেন। সুচিত্রা শুধু বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করেছিলেন। মহাযোগী বা বীতস্পৃহ সেলিব্রেটিদের কথা আলাদা। তবে তাদের ক্ষেত্রে‌ও এহেন আত্মনির্বাসনের পশ্চাতে থাকতে পারে কোনো গুঢ় কারণ। কিন্তু সংসারের ঝোলে ঝালে অম্বলে জড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের পক্ষে‌‌ সেই মায়াজাল কেটে বেরিয়ে এহেন সুদীর্ঘ নিঃসঙ্গ জীবনযাপন খুব‌ই কঠিন ব‍্যাপার।

    পরশু ছিল পূর্ণিমা। আজ চাঁদ উঠবে দেরিতে। অন্ধকারে দূরে ITBP এলাকায় কিছু আলোর বিন্দু। নীচে GMVN লজে পর্দাটানা আলোকিত জানলার অন্তরালে উষ্ণ সাচ্ছন্দ‍্যে তৃপ্ত ভ্রামণিক। আটটায় গেট বন্ধ করে মুড়ি, কড়াইশুঁটি, বাদাম পাটালি দিয়ে হালকা ডিনার সারি।

    ক্রমশ বাড়ে হাওয়ার দাপট। টিনের ছাদে পাইনের ডালের ঝাপটায় ওঠে অবোধ‍্য ধাতব সংলাপ। দেওয়ালে হেলান দিয়ে মোবাইলে খুলি সুনীলের - একা এবং কয়েকজন। এই নিয়ে চারদশকে তিনবার পড়ছি। লেখনীর জাদু নিয়ে যায় অন‍্য জগতে।

    হলের আলো নিভিয়ে দি। জানলা দিয়ে ঝকঝকে জোৎস্না‌ এসে লুটোয় হলের মেঝেয়। অন্যত্র সপসপে ফিকে ছায়া। বেদী‌তে দীপের মৃদু আলো ও বিচ্ছুরিত জোৎস্না‌র আলোছায়ায় গদা, গন্ধমাদন হাতে মারুতি‌নন্দন‌কে লাগে অপার্থিব। সেই গভীর নির্জন‌তায় কিঞ্চিৎ অস্বস্তি হলেও সেই পরিবেশে‌‌ মনুষ্যস্বর‌ও মনে হয় অবাঞ্ছিত। দশটা নাগাদ শুয়ে পড়ি। ক্রমশ জাগ্ৰত চেতনা লুপ্ত হয়ে আসে প্রাকৃতিক নিয়মে।


    ভোর বেলা ঘুম ভাঙতে বাইরে এসে ভোরের তেরছা আলোয় গতকাল দেখা পাহাড়গুলি শ্যিলুটের মতো লাগে। খানিক সেসব দেখে ভেতরে আসি। কয়েকজন ITBP'র জ‌ওয়ান দৌড়তে বেরিয়ে মন্দিরে এসে হনুমানজীর সামনে প্রণত হন। আমায় মন্দিরে‌র মেঝে থেকে স্লিপিং ব্যাগ গোটাতে দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হয়ে তাকান। তবে কিছু বলেন না। অভ‍্যস্ত নিয়মে আবার দৌড়তে চলে‌ যান।



    একটু পরে সকালের উদ্ভাসিত আলোয় শিল্যুট হারিয়ে যায়। বাঁদিকে GMVN হোটেলের নীচে দূর অবধি ঝকঝক করছে। ডানদিকে নন্দাদেবী, গরসন, আউলি বুগিয়াল ঝলমল করছে। গতকাল শেষ বিকেলে নন্দাদেবীর শরীরের ভাঁজে ভাঁজে দেখা গোধূলি‌র হেঁয়ালি তখন উধাও।

    হয়তো আর কখনো আসা হবেনা আউলি। তাই শেষবারের মতো মনের ব্লটিং‌ পেপারে সেই দিগন্ত‌বিস্তারি দৃশ‍্যপট শুষে নিয়ে GMVN হোটেলে‌র পার্কিং এলাকায় নামি। একটু চা পেলে ভালো হোতো। কিন্তু তখন‌ও দোকান খোলে নি। চলতে থাকি যোশীমঠের দিকে। রাস্তায় কোথাও পেলে খেয়ে নেবো। পথের ধারে বিশাল একটা পাথরে ITBP’র সৈনিকরা দড়িদড়া লাগিয়ে শৈলারোহণ অভ‍্যাস করছেন।

    কাল মধ‍্যাহ্নের আলোয় দেখা অরণ্যপথের দৃশ‍্যপট সকালের নরম আলোয় মোহময় লাগছে। তাই রাতটা থেকে গেছিলাম। নাহলে সকালে‌র এই সৌন্দর্য অদেখা রয়ে যেতো। বিশালের কথা শুনে এ পথে এসেছি‌লাম। মনে মনে বিশালকে ধন‍্যবাদ জানিয়ে জঙ্গুলে পাকদন্ডী পথে নামতে থাকি যোশীমঠের দিকে। ওখানে আজকের দিনটা থেকে কাল সকালে আউলির মতোই পায়ে হেঁটে‌ চলে যাবো বিষ্ণু‌প্রয়াগ - তবে সে পথ চড়াই নয়, উৎরাই। তাই সব মালপত্র নিয়েই চলে যাবো।

    যোশীমঠ থেকে বদ্রীনাথের পাকা সড়কপথে‌ পড়ে বলে গাড়িতে বদ্রীনাথযাত্রীরা গাড়ি থামিয়ে‌ দেখে নেন বিষ্ণুপ্রয়াগ। সিঁড়ি দিয়ে নীচে ঘাটে নেমে অলকনন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গমের জল ভক্তি‌ভরে মাথায় ছোঁয়া‌ন। মন্দির দর্শন করে ঘন্টা বাজিয়ে, কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলে যান। কিন্তু আমার ওখানেও একরাত থাকার বাসনা। অমন হুড়ুমতাল বেড়ানো আমার পছন্দ নয়। তখন‌ও জানি না আকাশের মুখভার হতে আমি ওখানেও দিব্যি থেকে যাবো দু রাত - সম্পূর্ণ বিনিপয়সায়। যাত্রাপথের এহেন সব অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তি‌ই একাকী ভ্রমণের আশীর্বাদ। এবং আকর্ষণ। অবশ‍্য‌ই সেসব যাদের পোষায়। তবে সে অন‍্য গল্প। হবে কখোনো পরে।


    পুনশ্চ - কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করি - এই লেখাটি‌ একটু সংক্ষিপ্ত আকারে তিন বছর আগে বাংলা লাইভে প্রকাশিত হয়েছিল। এটা তার‌ই একটু পরিমার্জিত সংস্করণ।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ১০ মে ২০২৬ | ১১৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:*:*:*:*:*:*:* | ১০ মে ২০২৬ ০২:২৩740588
  • ভালো লাগলো পড়তে, যথারীতি। ছবিগুলোতে রঙের স্যাচুরেশন কি একটু বেশি হয়েছে। একটু যেন চোখে লাগছে। অবশ্য সেটা আমার নিজের প্রবলেম হয়ে থাকতে পারে।
    ঐ যে সমাজ থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে একান্তে জীবন কাটানোর কথা লিখেছেন, খুব কঠিন হয়তো নয় জানেন? ঐ জিনিষটা আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। হয়তো কোনোদিন চলেও যাবো। অবশ্যই একেকজনের মানসিকতায় এটা একেক রকম ভাবে ধরা পড়ে।
  • . | ১০ মে ২০২৬ ০২:৩৫740589
  • ক বছর আগে যোশীমঠ ধ্বংস হয়ে গেছল না?
  • সমরেশ মুখার্জী | ১০ মে ২০২৬ ০৯:০৩740590
  • ডট লান
    জানুয়ারি ২০২৩এর শুরুতে যোশিমঠে অনেক বাড়ি, রাস্তায় ফাটল দেখা দেয়, কিছু জায়গা এক ফুট অবধি বসে যায় (land subsidence), অনেক জায়গা থেকে লোকজন‌কে সরিয়ে দিতে হয়।
     
    তবে তার জন্য 'যোশি‌মঠ ধ্বংস হয়ে গেছিল' - সেটা বলা যায় না হয়তো। নীচের রিপোর্ট‌টা দেখতে পারেন।
     
    আমি ওখানে গেছি‌লাম মে ২০১৯ - তাই তখনো অবধি যোশিমঠ তার তলে তলে ঘনিয়ে ওঠা সেই বিপর্যয়ের আঁচ টের পায়নি।
     
    https://www.bbc.com/news/world-asia-india-64201536
  • সমরেশ মুখার্জী | ১০ মে ২০২৬ ০৯:০৭740591
  • কেকে লান
     
    ছবিগুলো Xiaomi MI5 মোবাইল ক্যামেরা‌য় Dynamic / Vibrant মোডে তোলা। তাই হয়তো colour saturation appears dramatic or accentuated.
  • . | ১০ মে ২০২৬ ১০:৫২740594
  • ঠিক কথা। আমি শিবাজির ইউটিউবে হালকা এক ঝলক যোশিমঠ দেখেছি যে ঐ ধ্বস নামার পরের অবস্থা। আপনি আগে গিয়েছিলেন, ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক বেশি দেখতে পেয়েছেন। smiley
  • হীরেন সিংহরায় | ১০ মে ২০২৬ ১১:০৫740595
  • কত যায়গা দেখা হলো। নিজের কোনদিন যাওয়া হবে না, তোমার সৌজন্যে মনে মনে ঘুরে এলাম কত যোজন পথ। ছবিগুলি অপূর্ব।
  • সমরেশ মুখার্জী | ১০ মে ২০২৬ ১২:২৪740598
  • হীরেনদা,
     
    আপনি কর্মসূত্রে‌ই বিশ্বভ্রামণিক। শখেও বেড়াতে‌ গেছেন নানান দেশে। যেসব জায়গায় যাওয়ার আমার কোনো সম্ভাবনাই তেমন অনেক জায়গা‌র কথা আপনার লেখায় জানতে পাই। সাথে বোনাস হিসেবে পাই নানা আকর্ষণীয় উপাখ্যান - ইপানিমার সেই মেয়েটি … স্বপ্নদ্রষ্টা আর্কিটেক্ট আন্তনি গাউদি … এমন অনেক বিচিত্র মানুষের কথা।
     
    আমার একাকী ভ্রমণ ভারতে‌ই সীমাবদ্ধ।হয়তো খেয়াল করেছেন প্রচলিত বা UNESCO World Heritage এর তকমা পাওয়া বিখ্যাত পর্যটন স্থান আমার এই সিরিজের লেখায় বিশেষ আসে না। সেসব জায়গা‌র ওপর অনেক লেখা আছে। আরো অনেকে লিখবে।
     
    এই সিরিজের অধিকাংশ লেখাই মামূলী কিছু জায়গার ওপরে। তাও যখন আপনার ভালো লাগে - মনে হয় তা শুধু স্থানমাহাত্ম্য বা সৌন্দর্যের জন্য নয় - হয়তো ছেড়ে আসা শিকড়ের টানে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে প্রতিক্রিয়া দিন