এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • হিমাচলের ইতি উতি - ৬

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ০৬ মে ২০২৬ | ৩৮ বার পঠিত
  • ৭ই নভেম্বর আমাদের কল্পা থেকে বিদায় নেবার পালা। ইন্দরজিত সাহেব তো খালি গাড়িতেই আমাদের চাপিয়ে উপরে তুলতে পারেন না, মালপত্র ভর্তি গাড়িতে আমাদের চাপালে চাকা আদৌ গড়াবে কিনা খুব সন্দেহ। আমরা দুজনে গিয়ে ললিতের সাথে কথা বলি। ললিত বলেন ওঁর অল্টোতে আমাদের চাপিয়ে ওপরের মোড়ে পৌঁছে দেবেন চিন্তা নেই। তবে মালপত্র ভরে গাড়ি ইন্দরজিতই বুঝে নেবে। মনে করিয়ে দিই প্রাতরাশ ৮টা নাগাদ যেন তৈরী থাকে।


    রূপালী চাঁদ


    জোছনাধোয়া কৈলাস রেঞ্জ

    কল্পায় আমাদের শেষরাতে আবার ঝকঝকে রূপালী চাঁদ জোছনা ছড়ায় অবিরাম। সেদিক থেকে চোখ ফিরিয়ে ব্যাকপ্যাক আবার ঠিকঠাক করে প্যাক করা কঠিন হলেও উপায় নেই। কোন ভাল জিনিষই তো খুব একটা স্থায়ী হয় না। পরেরদিন সকালে মোটামুটি সওয়া নটা নাগাদ বেরোলাম আমরা। বলে এলাম আবার আসবো। রেকংপিও থেকে গাড়িতে সিএনজি ভরতে হবে। পাম্পে পৌঁছে দেখা গেল মস্ত লাইন। সেসব মিটিয়ে অবশেষে রোঘির পথে।


    সুজ্জিমামা সবে আড়মোড়া ভাঙছে

    রওলা বা রোলা ক্লিফ কল্পা আর রোঘিগ্রামের কাছে ৯৭০০ ফিট উচ্চতায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া পাহাড়ের কোণায় এক ভিউ পয়েন্ট, অনেক নীচে শতদ্রু আর ধাপে ধাপে ছড়ানো আপেল বাগান।
    সামনে পুরো কিন্নর কৈলাশ রেঞ্জ সূর্য্যের আলোয় চোখ ধাঁধানো ঝকঝকে সাদা। এক সময় এখান থেকে বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটায় সরকার থেকে জায়গাটা উঁচু রেলিং দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। স্থানীয় মানুষও স্যুইসাইড পয়েন্ট নামটা শুনলে খুব একটা খুশী হন না।


    রওলা বা রোলা ক্লিফ

    রেলিং দিয়ে ঘেরায় জায়গাটার বন্য সৌন্দর্য্য অনেকটাই কমে গেছে। রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়েই খানিকক্ষণ ছবিটবি তুলে আবার রওনা দেওয়া। এবারে ভর রোদ্দুরে কিন্নরগেট পেরোন, তাই আর নেমে ছবি নেওয়া হয় না। ওই চলতে চলতে যতটুকু হয় আর কি। শিমলাও তো খুব একটা নীচে নয়, তবু কদিন পরে ফিরতে গিয়ে মনে হচ্ছে না জানি কত নীচেই নেমে যাচ্ছি। শিমলা পৌঁছাতেই সন্ধ্যে হয়ে যাবে। তারপর আমাকে হোটেলে ছেড়ে সীমন্তিনীরা আরেকটু এগিয়ে হাইওয়ের পাশে হোটেল নিয়েছে।


    ফিরতি পথে শতদ্রুর পাশে পাশে

    ও বলা হয়নি, এক জায়গায় থেমে কিছু পাইন ফল কুড়ানো হয়েছিল। মাঝে এক জায়গায় থেমে দুপুরের খাওয়া হয়। বেচারি সীমন্তিনী কিছুই খেতে পারে না। ওর বলে দেওয়া বিধিনিষেধ না মেনেই ওর অর্ডারি ডিশটা ভুল করে বানানোয় অল্প খেয়েই প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি আর ইমনবাবু অবশ্য চেটেপুটে খেলাম। ওরা ওই ডিশটার দাম নেয় না, বারেবারে সরি বলে, আবার বানিয়ে দিতে চায়। কিন্তু সীমন্তিনী আর দাঁড়াতে চায় না। সত্যি অনেকটা রাস্তা বাকী। ভাগ্যিস সঙ্গে খানিক বিস্কুট ছিল।

    আসার পথে নারকান্ডায় শ্যাম রিজেন্সির পাশ দিয়ে যাবার সময় দুই বছর আগের স্পিতি ভ্রমণের কথা মনে পড়ে। নাহ ২০২৬এ স্পিতি আরেকবার যেতে হবে। নারকান্ডা পেরিয়ে কিছুদূর আসতেই রাস্তায় লম্বা গাড়ির লাইন। সামনে রাস্তায় কাজ চলছে তাই একদিকের গাড়ি দাঁড় করিয়ে অন্যদিকের ছাড়ছে। সেই চক্কর থেকে বেরোতে লাগল পাক্কা চল্লিশ মিনিট। শিমলা ঢুকতে ঢুকতে অন্ধকার হয়ে গেল। কিন্তু হোটেল আর কিছুতেই পৌঁছানো যায় না। যেদিকেই যাই সেদিকেই ওয়ান ওয়ে করে রেখেছে।

    শিমলায় আমি নিয়েছি হোটেল উইন্ডসর, মেকমাইট্রিপ অনুযায়ী ম্যাল থেকে দূরত্ব ৪০০ মিটার। তা ম্যালে তো গাড়ি ঢুকবে না, কিন্তু হোটেলের বর্ণনায় ছিল দরজা অবধি গাড়ি যায়। সেখানে পৌঁছাবার চেষ্টায় হোটেলে ফোন করা গেল। এমনিতে দুপুরে একজন ফোন করে বলেছিলেন শিমলায় ঢুকেই যেন তাঁকে ফোন করি। তিনিই সারথীমশাইকে বাতলে দেবেন। এর পরেই হল ক্যাচাল। আমরা একটা লুপে ঢুকে গেলাম। একবার করে ফোন, নির্দেশ নিয়ে একদিকে মিনিট দশেক গিয়ে দেখা সেদিকে রাস্তা বন্ধ।

    জানা গেল মুখ্যমন্ত্রী আসছেন, যে কোন সময় এসে যাবেন কিন্তু কোন পথে আসবেন জানা নেই। তাই তেনার বাড়ির দিকের সব রাস্তাগুলোতেই গাড়ি বন্ধ করে স্রেফ পথচারীদের জন্য রাখা হচ্ছে। ওদিকে হোটেল থেকে একজনকে পাঠাল আমাদের ওয়ান ওয়ের উর্ণাজাল থেকে উদ্ধার করতে। সে ছোকরা কোন এক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, আমাদের হুতোমথুমো সারথী আর সেই বাসস্ট্যান্ড খুঁজে পাচ্ছেন না। সক্কলে ফোন নিয়ে একযোগে গুগল ম্যাপ, ম্যাপ্পি, ডায়রেকশান লোকেশান শেয়ার ইত্যাদি বিবিধ পাঁয়তাড়া কষে সে ছোকরাকে তুলে হোটেলের কাছে পৌঁছান গেল।

    একটা বেশ বড়সড় রাস্তার মাঝে দাঁড় করিয়ে ছোকরা বলে নামো, এসে গেছি। অ্যাঁ! হোটেল কই? (বোর্ড আছে কিন্তু তার পাশে তো গভীর শুন্য)
    এই তো নীচেই।
    কই কই?
    এই তো পাশের সিঁড়ি দিয়ে অল্প একটু নামলেই…
    অগত্যা সীমন্তিনী আর ইমনবাবুকে টা টা করে সেদিকে এগোলাম। তা দেখলাম MMTতে প্রায় ঠিকই লিখেছে। গাড়ি হোটেলের দরজা অবধিই যায় বটে তবে মাঝে সাতষট্টিটা সিঁড়ি আছে। মানে হোটেল আর রাস্তা একই তলে অবস্থান করলে সামনাসামনিই হত, ব্যপারটা 2D থেকে 3D হয়ে যাওয়াতেই একটু ইয়েমত হয়ে গেছে।

    হোটেল হিসেবে উইন্ডসর ভালই। রাতে একটা চিকেন ফ্রায়েডরাইস আর রায়তা অর্ডার করে জুতোটুতো খুলে হাত পা ছড়ালাম। জানলা দিয়ে উল্টোদিকের পাহাড়ে চমৎকার আলো ঝলমলে শিমলা দেখা যাচ্ছে। ইমনরা ওদের হোটেলে পৌঁছালো আরেকটু পরে। খেয়েদেয়ে সীমন্তিনীর সাথে গপ্পো করতে গিয়ে জানা গেল এক আজীব কিস্যা। ওরা হোটেলে পৌঁছে ফ্রেশ হবার পরে দেখে হোয়াটস্যাপে অপরিচিত একজন হাই তুলছে।

    নিজের পরিচয় দিল ITBPর সেপাই, সেই যে গতকাল রানীকান্ডা ভিউ পয়েন্টে যাবার জন্য চেকপোস্টে এন্ট্রি করা হয়েছিল সেখান থেকে। সীমন্তিনী একটু ঘাবড়ে ভাবে আমরা তো সেনা সম্পর্কিত কিছু যাতে ফ্রেমে না আসে সেই খেয়াল রেখেই ছবি তুলেছি, তবে কি ভুল করে কিছু চলে এসেছে বা ওদের ক্যামেরায় এমন কিছু দেখেছে? জিজ্ঞাসা করে হ্যাঁ বলুন কী ব্যপার? ওব্বাওয়া সে ব্যটা বলে ‘'মুঝসে দোস্তি করোগী’? কি উৎপাৎ শেষে বর্ডার পে খাড়ে হুয়ে জওয়ানও এইসব করে বেড়াচ্ছে!

    সারাদিন অত গাড়ি দৌড়িয়ে রাত্রে ঘুমটা খাসা হল। এক্কেবারে সোজা সকাল সাড়ে সাতটায় চোখ খুলেই লাফিয়ে উঠে মুখ টুখ ধুয়ে কফি বানিয়ে বসলাম ট্রেনের টিকিট কাটতে। বাইরে ঝকঝকে নীল আকাশ, ঠান্ডাও বেশ আরামদায়ক। আজকে আর অন্য কোথাও যাবো না, এদিক ওদিক ঘুরে মানুষ দেখেই কাটিয়ে দেবো। খানিক আলসেমি করে তৈরী হয়ে বেরোতে প্রায় সাড়ে এগারোটা বাজল। বেরোবার সময় রিসেপশানে বলে যাই পরেরদিন শিমলা থেকে কাসোলে পৌঁছে দেবার গাড়ি কিরকম ভাড়া নেবে জেনে রাখতে।

    ঘর থেকে রিসেপশানে আসতে ষোলোটা সিঁড়ি, রাস্তায় পৌঁছাতে সাতষট্টিটা। তিরাশিখানা সিঁড়ি চড়ে উঠে মনে হল দুয়েক মিনিট দম নেওয়া দরকার। চকচকে রোদ্দুর সকালে ডানদিকে একটু এগিয়ে রাস্তার ওইপাশে দেখি পাহাড়ের গা বেয়ে দিব্বি একটা রোগামত ঝর্ণা তিড়বিড়িয়ে নেমে আসছে। পাশে একটা বেঞ্চও পাতা। কিছুক্ষণ বসে লোকজন দেখে উঠে হাঁটা দিলাম। নাক বরাবর গেলেই ম্যাল। একটু দূরে দূরেই বেঞ্চ পাতা। রাস্তার বাঁকের মুখে পাহাড়ের গায়ে একটু ঝুলিয়ে ভিস্তা পয়েন্ট বানানো।

    গুগল ম্যাপ অন করে চললাম মারিয়া ব্রাদার্সের উদ্দেশ্যে। শিমলার আইকনিক এই বইয়ের দোকান ১৯৪৬ সালে স্থাপিত। বিভিন্ন বইয়ের প্রথম সংস্করণ, দুষ্প্রাপ্য ম্যাপ, অতি পুরানো কাঠ বা পাথরের তৈরী শিল্পবস্তু আর রাশি রাশি গল্প এই বইয়ের দোকানকে শিমলার অন্যতম আকর্ষণ করে তুলেছে। ম্যালের প্রায় শেষপ্রান্তে লক্করবাজারে নামার সিঁড়ির কাছাকাছি মারিয়া ব্রাদার্সে পৌঁছে দেখি দোকান বন্ধ। কোথাও পড়েছিলাম কোভিডের ধাক্কা সামলে উঠতে পারে নি, দোকান প্রায় বন্ধ হবার মুখে। সত্যিই বন্ধ হয়ে গেল নাকি!


    এ দরজা আর খোলা পেলাম না

    পাশের শীতবস্ত্রের দোকানে জিজ্ঞাসা করে জানা গেল না একেবারে বন্ধ হয় নি, তবে রোজ খোলে না আর খুললেও দুবেলা খোলা থাকে না। সকালে ১২টা নাগাদ খুললে বিকেল ৫টায় বন্ধ করে দেয়। আর বিকেলে ৩টে নাগাদ খুললে রাত সাড়ে সাতটা আটটা অবধি থাকে। ঘড়ি বলছে বেলা একটা বাজে প্রায়, তার মানে এবেলা খোলে নি। বিকেলে এসে দেখতে হবে। বাচ্চারা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছে। দলে দলে নারীপুরুষ এটা সেটা দেখে বেড়াচ্ছে, কোথাও দোকানে ঢুকে দরদাম করছে। কোথাও বেঞ্চে বসে একলা যুবতী এতক্ষণ পর্যন্ত হওয়া বিক্রিবাটার হিসেব দিচ্ছে ফোনে।


    অলস সময়


    অলস ঘোরাঘুরি

    কিছু খাবার জন্য The Heritage Trail Cafeতে গিয়ে ঢুকি। ম্যাল থেকে একটু ওপরে অবস্থান হওয়ায় জানলার পাশে বসলে বহুদূর অবধি চোখ চলে যায়। প্রখর রোদ্দুরে বোঝা যাচ্ছে শিমলা বেশ ঘিঞ্জি শহর। যেদিকে তাকাই পাহাড়ের গায়ে ঝুলে আছে ঘিচিঘিচি বাড়িঘর। এদের খাবারের স্বাদ অবশ্য ভাল। Pineapple Cheese Crepe with extra whipped cream আর ক্যাপুচিনো নিয়েছিলাম। ক্যাফে মোটামুটি ফাঁকাই। বলেছিল সন্ধ্যেবেলায় লাইভ মিউজিক হবে। তা সে আর যাওয়া হয় নি।


    ক্যাফেটা বেশ ভাল। রেকোমেন্ডেড।


    ইয়াম্ম

    ধীরেসুস্থে খেয়েদেয়ে আবার মারিয়া ব্রাদার্সের দিকে হাঁটা লাগালাম। টাউন হলে দেখি হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের ফোটোগ্রাফ প্রদর্শনী হচ্ছে। আহ সেসব ছবি দেখলেই ওইসব বুগিয়াল দিয়ে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে অজানা অনামা স্রোতস্বিনীর পাশে গিয়ে চুপ করে বসে থাকতে। কিন্তু বেলা সোয়া চারটেয় গিয়েও দেখি মারিয়া ব্রাদার্স বন্ধই। তার মানে আজ আর খুললই না। বাইরে একটা ফোন নম্বর দেওয়া ছিল, বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলাম। রিং হয়ে গেল কেউই ধরল না।


    আ আ হ

    মারিয়া ব্রাদার্সের আশা ছেড়ে বইয়ের দোকান খুঁজতে বেরোলাম। এত পুরোন এত বড় একটা শহরে এসে একটাও বইয়ের দোকান না দেখেই চলে যাবো তাই কি হয়! একটা পড়ার বইয়ের দোকানে শিমলা শহরের একখানা ম্যাপ পাওয়া গেল। ওদের জিজ্ঞাসা করে জানা গেল লোয়ার বাজারে ভাল দোকান আছে। গুগল দেখালো দুটো দোকানের মাঝ দিয়ে একটা সিঁড়ি নেমে গেছে সেইটেই পথ। ওবাবা নামছি তো নামছিই, পাক্কা ১০৮খানা সিঁড়ি নেমে তবে পৌঁছালাম।


    আপাতত এই কটাই পাওয়া গেল

    সরুমত রাস্তার দুপাশে অজস্র দোকান, বেশিরভাগ নানারকম গরমজামার। খুঁজেপেতে একে তাকে জিজ্ঞাসা করে একটা দোকানে হিমাচলের দুই তিনরকম ম্যাপ পাওয়া গেল। সেসব নিয়ে ফেরার সময় দেখি হাঁটতে হাঁটতে একটা ঢাল বেয়ে উঠে এসেই আবার ম্যালে পৌঁছে গেছি। যাচ্চলে তাহলে যাবার সময় গুগল আমাকে দিয়ে অতগুলো সিঁড়ি ভাঙালো কেন। আকাশ লাল করে সুজ্জিমামা ঘুমোতে যাচ্ছেন। একটা ভিস্তা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে দেখলাম। এবারে ফিরতে হবে। কিন্তু তার আগে টুকটাক কিছু খেয়ে রাতের খাবার প্যাক করে ফিরতে হবে।




    এবারে ঢোকা গেল বুক ক্যাফেতে। ভেতরে দুদিকের দেওয়াল জুড়ে কাচের শোকেসে কিছু থ্রিলার রাখা। বইগুলো দেখে মনে হল খুব সম্ভবত সেকেন্ড হ্যান্ড বই কিনে সাজানো। এসব বই সাধারণত পড়া হয়ে গেলে লোকে বেচেই দেয়। তা হোক, আইডিয়াটা ভাল। কফি খেতে খেতে দিব্বি পাতা উলটানো যায়। একগ্লাস হট চকোলেট খেয়ে একটা গ্রিলড চিকেন স্যান্ডউইচ প্যাক করিয়ে হোটেল ফেরত।


    বইগুলো পাতি থ্রিলার

    হ্যাঁ ক্যাফেটা একেবারেই রেকোমেন্ডেড নয়। হট চকোলেট খুবই সাধারণ মানের আর স্যান্ডউইচের চিকেনগুলো গ্রিলড নয় বরং উডেন চিকেন বলা যায়। চিবোতে গিয়ে টাকরা রীতিমত ছড়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা বাজে। ম্যাল ক্রমশ ফাঁকা হয়ে আসছে। দুই একটা দোকান ঝাঁপ ফেলতে শুরু করেছে। হনুরাও কেউ নেই। ও বলিনি বুঝি, ম্যালে প্রচুর হনুমান। বেঞ্চে একা বসতে দেখলে সামনে এসে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে বসে পড়ে খাবারের আশায়। তবে বেশ ভদ্র। দাঁত খিঁচায় না বা হাতের জিনিষপত্র ধরে টানাটানি করে না দেখলাম।


    রাতের শিমলা

    হোটেলে পৌঁছে শুনলাম গাড়িওলা আমার সাথেই কথা বলতে চেয়েছে। ভাল কথা লাগাও ফোন। প্রথমে তো ‘কাসোল’ বোঝেই না, অন্যসব জায়গার নাম বলতে লাগল। চেষ্টা করে বোঝানো গেল মানালি- কাসোলের কাসোল। তারপর বলে ড্রপ করে আসতে ৬ হাজার লাগবে। এদিকে আমি মেক মাই ট্রিপে দেখে রেখেছি সাড়ে চার হাজার দেখাচ্ছে। যেহেতু শিমলা আর কাসোল দু জায়গাতেই থাকার জায়গা ওদের থেকেই বুক করা তাই আরো ৩৫০ - ৪০০র মত ছাড় পাবো।

    কাজেই সেই গাড়ি কাটিয়ে দিয়ে মেক মাই ট্রিপে বুক করে ব্যাগ আবার প্যাক করে রেখে ঘুম। কাল আবার লম্বা জার্নি।

    কল্পার হোটেল Echor - The Alpine Crest Kalpa
    Lalit Verma - +91 90150 49126

    (চলবে)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ০৬ মে ২০২৬ | ৩৮ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • kk | 2607:fb91:4c8d:6ee5:6483:b808:34ee:***:*** | ০৬ মে ২০২৬ ১৯:৫৯740542
  • বাঃ! ছবি গুলো ক্কী ক্লিয়ার! ঐ 'দোস্তি করোগী' শুনে ভারী বিরক্ত লাগলো! ই কী জ্বালাতন?
    শিমলা আমি গেছি। তবে অনেক বছর আগে, সেই MSc. পড়ার সময় স্যাম্পল কালেকশনের জন্য। ওখানে 'কফিহাউস' খুঁজে পেয়ে বেশ অবাক হয়েছিলাম মনে আছে। আর বাপ রে, ঐ লোয়ার বাজার যাবার সিঁড়ি, উফ্ফ! তবে হনুরা মনে হয় এখন সভ্যভব্য হয়ে গেছে। আমাদের সময়ে যথেষ্ট পাজি ছিলো। বাথরুমের জানালায় বসে দাঁত খিঁচাতো। আমাদের সব্বার সংগ্রহ করা স্যাম্পল একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা হয়েছিলো। সেটা ঐ ব্যাগ সমেত সুজিতের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে হাওয়া হয়ে গেছিলো। পরীক্ষার সময় আমাদের হার্বেরিয়াম শীটের বদলে ঐ পলায়মান হনুর ছবি জমা দিয়ে একজামিনারকে ঠান্ডা করতে হয়েছিলো।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন