এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • বুলবুলভাজা  প্রবন্ধ  ইদবোশেখি

  • ওহ, ডায়মন্ড! ডায়মন্ড! ...

    সহস্রলোচন শর্মা
    প্রবন্ধ | ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ৫৪ বার পঠিত
  • অলংকরণ: রমিত




    । । ১ : অগ্নিকাণ্ড। ।



    ২৯ মে ১৬৯৪। বিখ্যাত ডাচ (নেদারল্যান্ডের) পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান হয়গেনসের (Christiaan Huygens, 1629 – 1695) সাথে দেখা করতে এলেন জনৈক স্কটল্যান্ডবাসী এম. কলিন (M. Colin)। নানান কথা প্রসঙ্গে কলিন জানান, বছর দেড়েক আগে মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইজাক নিউটন। নিউটনের এই অসুস্থতার খবর জানা ছিল না হয়গেনসের। ফলে খবরটা শুনে বিচলিত হয়ে উঠেন তিনি। ঠিক কী হয়েছিল নিউটনের? জানতে চান হয়গেনস। প্রত্যুত্তরে কলিন জানান, সম্ভবত অতিরিক্ত পড়াশোনা আর চিন্তাভাবনার চাপেই মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন নিউটন। কলিন আরও জানান, অসুস্থতার কিছুকাল আগে, আচমকাই আগুন ধরে যায় নিউটনের পরীক্ষাগারে। বহু বছরের গবেষণার ফলাফল সংবলিত বেশ কিছু কাগজপত্র ভস্মীভূত হয়ে যায় সেই অগ্নিকাণ্ডে। এই অগ্নিকাণ্ডও তাঁর মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন। তবে পরিজনদের পরিচর্চার ফলে এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পরবর্তীকালে কলিনের সাথে এই সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় হয়গেনস লেখেন, “On the 29th May, 1694, M. colin, a Scotsman, informed me that eighteen months ago the illustrious geometer, Isaac Newton, had become insane, either in consequence of his too intense application to his studies, or from excessive grief at having lost, by fire, his chymical laboratory and several manuscripts.” [1]

    ১৬৯৪ সালে যখন নিউটনের অসুস্থতার খবর জানতে পারেন হয়গেনস, নিউটন কিন্তু তখনও বহাল তবিয়তেই জীবিত ছিলেন। তখন তাঁর বয়স হবে ৫১ বছরের মতো। নিউটন মারা যান ১৭২৭ সালে, আরও ৩৩ বছর পরে। ফলে নিউটনের অসুস্থতার খবর বা অগ্নিকাণ্ডের খবরটা সরাসরি নিউটনের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়ার যথেষ্টই ফুরসৎ ছিল হয়গেনসের কাছে। কিন্তু কোনো কারণবশত সে সংযোগ আর ঘটে নি। নিউটনের নিকটজনের কাছে নিউটনের অসুস্থতার খবর বা অগ্নিকাণ্ডের খবর জানা থাকলেও, দূরের পরিজন বা শুভাকাঙ্খীদের কাছে সে খবরটা জানা ছিল না। এদিকে, স্বাভাবিকভাবেই হয়গেনসের লেখা এই ব্যক্তিগত ডায়েরির কথাও জানা ছিল না কারও। ফলে নিউটনের পরীক্ষাগারে অগ্নিকাণ্ডের খবরটা প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছিল সময়ের গহ্বরে। হয়গেনসের মৃত্যুর শতাধিক বছর পর, তাঁর সেই ডায়রির হদিশ পান তাঁরই স্বদেশীয় গণিতজ্ঞ ও পদার্থবিদ জঁ অঁরি ভ্যান সুইন্ডেন (Jean Henri van Swinden, 1746 – 1823)। হয়গেনসের সেই ডায়েরির পাতা উলটাতে উলটাতে নিউটনের অসুস্থতার খবরটা চোখে পড়ে ভ্যান সুইন্ডেনের। হয়গেনস ও নিউটনের জীবনের এমন দুর্লভ সংযোগের হদিশ পেয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা অনুভব করতে থাকেন ভ্যান সুইন্ডেন। ফরাসি গণিতজ্ঞ ও দার্শনিক, জঁ-ব্যাতিস্ত্‌ বিয়ৎ (Jean-Baptiste Biot 1774 - 1862) ছিলেন ভ্যান সুইন্ডেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিয়ৎকে লেখা এক পত্রে, হয়গেনসের ডায়রি থেকে উদ্ধার হওয়া নিউটনের মানসিক অবসাদ ও অগ্নিকাণ্ডের কথাটা উল্লেখ করেন তিনি। ঠিক সেই সময়েই আবার, ফরাসি ভাষায় নিউটনের একটা জীবনী লেখার কাজে নিরত ছিলেন বিয়ৎ। ফলে, নিউটনের জীবনের অকথিত এই ঘটনার কথা সোৎসাহে তাঁর গ্রন্থে বিবৃত করলেন বিয়ৎ। ১৮২২ সালে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয় বিয়তের লেখা নিউটনের এই জীবনীটা। ১৮৩৩ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয় ‘লাইভস্‌ অব এমিনেন্ট পারসেনস্‌’ (Lives of Eminent Persons) নামের একটা জীবনী সংকলন। সেই সংকলনে গ্যালিলেও, কেপলার, মিচেল এঞ্জেলো, অ্যাডাম স্মিথ সমেত একাধিক মনীষীদের জীবনী সংকলিত করা হয়। এই গ্রন্থেই স্থান পায় বিয়ৎ রচিত এবং মেজর জেনারেল হওয়ার্ড এলফিনস্টোন (Howard Elphinstone 1773 – 1846) অনূদিত ‘লাইফ অব স্যর আইজাক নিউটন’ (Life of Sir Isaac Newton) প্রবন্ধটা। অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে তাঁর প্রবন্ধে বিয়ৎ লেখেন, ‘তাঁর প্রিয় কুকুর ডায়মন্ডকে ঘরে রেখে, এক শীতের সকালে চ্যাপেলের (চার্চের) কাজে বাইরে গিয়েছিলেন নিউটন। ফিরে এসে দেখেন টেবিলের উপর রাখা মোমদানি উলটে তাঁর কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে’। বিয়তের কলমে সেই ঘটনাটা এই রকম- "Newton had a favourite little dog called "Diamond." One winter's morning, while attending early [religious] service, he inadvertently left his dog shut up in his room; on returning from chapel, he found that the animal, by upsetting a taper on his desk, had set fire to the papers on which he had written down his experiments; and thus he saw before him the labours of so many years reduced to ashes. It is said, that on first perceiving this great loss, he contented himself by exclaiming, "Oh, Diamond! Diamond! thou little knowest the mischief thou hast done." ... This incident in Newton's life, which appears to be confirmed by many collateral circumstances, is mentioned in a manuscript note of Huygens, …”[2]

    নিউটন সম্পর্কে যাঁরা একটু আধটু খোঁজখবর রাখেন, তাঁদের অনেকেরই হয়তো জানা আছে, মাঝেমধ্যেই মানসিক অবসাদে ভুগতেন নিউটন। যার প্রভাবে বেশ কিছুদিন অসুস্থও থাকতেন তিনি।

    ১৮৭৪ সালে জনৈক ফরাসি শিল্পীর কল্পনায় নিউটনের ঘরে অগ্নিকাণ্ডের তৈলচিত্র। মাটিতে পড়ে থাকা কাগজপত্রের মধ্যে লাফাচ্ছে ডায়মন্ড।

    কিন্তু নিউটনের ঘরে যে আগুন লেগেছিল এবং সেই আগুনে তাঁর গবেষণাপত্র পুড়ে গিয়েছিল এমন খবর হয়তো অনেকেরই জানা নেই। তবে তার থেকেও চমকপ্রদ খবর হল, নিউটনের ঘরে সেই আগুন লাগার পিছনে রয়েছে এক খুদে শয়তান- ডায়মন্ডের অবদান। এই ডায়মন্ড হল নিউটনের প্রিয় পোষ্য- এক কুকুর, যে কিনা এই অগ্নিকাণ্ডের হোতা। নিউটনের কুকুর?! শুনে বিস্মিত হন অনেকেই। নিউটন কখনও কুকুর পুষেছিলেন বলে তো প্রায় কারও জানা নেই। এদিকে একদল গবেষক জোরের সাথে দাবি করে বলেন, ‘কে বলল নিউটন কোনোদিনও কুকুর পোষেন নি? দিব্যি কুকুর পুষেছিলেন তিনি। কুকুর না পুষলে আগুনটা লাগল কে?’ তাঁদের বক্তব্য এই বিচ্চু ডায়মন্ডের কারণেই অগ্নিকাণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছিল নিউটনকে। এই সমস্ত গবেষকদের দাবি শুনে অনেক নিউটন বিশারদও ধন্দে পড়ে যান। তাঁদের অনেকেই আবার ডায়মন্ডের অস্তিত্বকে স্বীকারই করতে চান না। পরিণতিতে ডায়মন্ডের অস্তিত্ব নিয়ে শুরু হল দু’পক্ষের দড়ি টানাটানি। একদল গবেষক বলেন, ডায়মন্ড ছিল, আলবৎ ছিল। অপরপক্ষ বলেন, ডায়মন্ড বলে নিউটনের কোনো পোষ্য কোনোদিনও ছিল না। পাঠক নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন, আজ আমরা সেই ডায়মন্ড বিতর্ক খোলসা করার উদেশ্যেই অবতীর্ণ হয়েছি। দেখা যাক্‌, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ডায়মন্ড বিতর্কের কোনো ইতি টানতে পারা যায় কিনা।

    । । ২ : পমেরানিয়ান। ।



    ডায়মন্ড বিতর্কের মূল কাণ্ডারিই হলেন বিয়ৎ। তাঁর লেখা থেকেই ডায়মন্ড কাহিনী জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। এখন প্রশ্ন হল, কোথা থেকে এই ডায়মন্ডকে খুঁজে পেলেন বিয়ৎ? হয়গেনসের ডায়েরিতে তো ডায়মন্ড নামে কোনো কুকুরের উল্লেখ নেই! বিয়ৎ অবশ্য তাঁর রচনার মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেছেন। বিয়তের আগেও নিউটনের পরীক্ষাগারে অগ্নিকাণ্ড ও ডায়মন্ড বিষয়ে উল্লেখ করে গেছেন কেউ কেউ, যাকে ‘confirmed by many collateral circumstances’ বলে উল্লেখ করেছেন বিয়ৎ। সেই সমস্ত ‘collateral circumstances’ গুলোর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য ও প্রাচীন দলিল হল বিশিষ্ট ইংরেজ পুরাতত্ত্ববিদ আব্রাহাম ডি লা প্রিম (Abraham De la Pryme, 1671 – 1704)-এর ডায়েরি। ছাত্রাবস্থা থেকেই জীবনের বিশেষ দিনগুলোর কথা বা বিশেষ ঘটনার কথা তাঁর ব্যক্তিগত ডায়রিতে লিখে রাখতেন আব্রাহাম ডি লা প্রিম। ১৬৯০ সাল নাগাদ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইন্ট জন’স কলেজে পড়াশোনা করতে আসেন আব্রাহাম। ঠিক সেই সময়েই, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন নিউটন। বলা প্রয়োজন, একই চত্বরের মধ্যে পাশাপাশি দুটো ভবনে সেইন্ট জন’স কলেজ আর ট্রিনিটি কলেজের অবস্থান। মানে একদম গায়ে গায়ে লাগান কলেজ দু’টো। ফলে, বিশ্বশ্রুত বিজ্ঞানীকে কেবলমাত্র চাক্ষুসই করেন নি আব্রাহাম, নিউটন সম্পর্কে বিশেষ ওয়াকিবহালও ছিলেন তিনি। ৩ ফেব্রুয়ারি ১৬৯২, নিউটনের ঘরে অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর ডায়রিতে আব্রাহাম লেখেন, ‘এক শীতের সকালে (নিউটন) যখন চ্যাপেলে গিয়েছিলেন, তখন দুর্ভাগ্যবশত তাঁর ঘরের পড়ার টেবিলের উপর একটা জ্বলন্ত মোমবাতি রেখে গিয়েছিলেন, যা থেকে তাঁর মূল্যবান কাগজপত্রে আগুন ধরে যায়’। আব্রাহামের কলমে, "In a winter's morning, leaving it amongst his other papers on his study table whilst he went to chapel, the candle, which he had unfortunately left burning there too, catched hold by some means of other papers, … and several other valuable writings; … But when Mr. Newton came from chapel, and had seen what was done, every one thought he would have run mad, he was so troubled thereat that he was not himself for a month after.”[5]

    প্রকৃতপক্ষে কালানুক্রমের হিসেবে আব্রাহামই হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নিউটনের পরীক্ষাগারে অগ্নিকাণ্ডের কথা লিপিবদ্ধ করেছিলেন। সেই আব্রাহামের ডায়রিতেই কিন্তু ডায়মন্ডের কোনো উল্লেখ নেই! অবশ্য, আব্রাহামের জীবদ্দশায় তাঁর ডায়েরির কথা জানতে পারেন নি কেউই এবং সেটাই স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে ঠিক সেই মুহূর্তে ডায়মন্ডের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পান নি কেউই। নিউটনের ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ২০০ বছর পর, ১৮৭০ সালে, ইংলন্ডের ডুরহাম শহর থেকে প্রকাশিত হয় আব্রাহামের ডায়রি- ‘The diary of Abraham De la Pryme, the Yorkshire antiquary’। সেই সূত্রেই সামনে আসে ডায়মন্ডের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন। এদিকে তার প্রায় বছর ৪০ আগে, ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয়ে গেছে বিয়তের রচনা। প্রকাশকাল থেকেই হু হু করে বাড়তে থাকে ডায়মন্ডের জনপ্রিয়তা। প্রত্যেক নিউটন-প্রেমীদের কাছেই ডায়মন্ড তখন এক মুখরোচক আলোচনায় পর্যবসিত হয়েছে। কিন্তু আব্রাহামের ডায়রি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ডায়মন্ডের অস্তিত্বকে ঘিরে উঠতে থাকে প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে সমস্যা হয়ে দাঁড়াল- প্রচার। আব্রাহামের ডায়েরি কিন্তু মোটেও বহুল বিক্রীত বা বহুল প্রচারিত কোনো বই ছিল না। ফলে ডায়মন্ডের অস্তিত্বকে ঘিরে এই স্বল্প বিক্রীত বইয়ের পাতা থেকে উঠা আসা দুর্বল প্রশ্নগুলো, বিয়তের লেখা বইয়ের সুনামির কাছে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। পরিণতিতে, আব্রাহামের ডায়রি প্রকাশের পরও ডায়মন্ডের জনপ্রিয়তায় এতটুকুও ঘটতি তো পড়েই নি, উলটে তার ঊর্ধ্বগতি অব্যহত ছিল। সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভেসেই মানুষ তখন জানতে চাইছে, কোন্‌ জাতের কুকুর ছিল ডায়মন্ড? তার গায়ের রঙ কেমন ছিল? কত ওজন ছিল তার? ইত্যাদি ইত্যাদি। শতকের পর শতক ধরে ডায়মন্ডকে নিয়ে মানুষের এই কৌতুহল অব্যহত ছিল। অবশেষে সেই কৌতুহল নিবৃত্ত করতে উদ্যোগী হন হাল আমলের ইউএসএর মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক ও সারমেয় বিশেষজ্ঞ স্ট্যানলি কোরেন (Stanley Coren 1942 -)। কুকুরের স্বভাব, তার আচরণের বৈশিষ্ট্য, তার বুদ্ধি, তার ভালোবাসা, তার রাগ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি কুকুরদের উপর অজস্র বই ও প্রবন্ধ লিখেছেন স্ট্যানলি। নিউটনের পোষ্য ডায়মন্ডকে নিয়েও বিস্তারিত গবেষণা করে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন স্ট্যানলি। ২০০৩ সালে নিউ ইয়র্ক শহর থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা The pawprints of history : dogs and the course of human events নামের বইটা। এই বইতে ডায়মন্ড সম্পর্কে স্ট্যানলি লিখেছেন, ‘ডায়মড হল ক্রিম রঙের স্পিচ গোত্রীয় পমেরানিয়ান বা সংকর জাতের মাদি কুকুর’। ডায়মন্ডের হাবভাব বর্ণনা করে তিনি লেখেন, "Newton’s dog was a creamy white Pomeranian named Diamond … Casual description of Diamond suggest that she was a medium-sized dog (about thirty-five Pounds) feisty, and quite protective, at least to the best of her ability. Does she made a good watch dog.”[6]

    অধ্যাপক স্ট্যানলির মতে ডায়মন্ড ছিল ছটফটে, আক্রমণাত্মক ও প্রভুভক্ত কুকুর। সারমেয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্ট্যানলি কোরেন যথেষ্টই পরিচিত। ফলে ডায়মন্ড সম্পর্কে তিনি যা লিখেছেন তা প্রণিধানযোগ্য। অগ্নিকাণ্ডের নির্দিষ্ট দিনে ডায়মন্ডের অবদানও বিশদে বর্ণনা করেছেন স্ট্যানলি। তাঁর মতে অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুড়ে যাওয়া নথিগুলোর মধ্যে নিউটনের অন্যতম প্রধান গ্রন্থ প্রিন্সিপিয়া ম্যাথামেটিকার চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপিও ছিল। মূল পাণ্ডুলিপির কিয়দংশ পুড়ে যাওয়ার কারণেই প্রিন্সিপিয়া প্রকাশে বিলম্ব ঘটেছিল বলেই স্ট্যানলি জানাচ্ছেন। স্ট্যানলি বর্ণনায়, এক সন্ধ্যায় প্রিন্সিপিয়ার পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তকরণের কাজে মগ্ন ছিলেন নিউটন। সেই সময়ে তাঁর কাছেই শুয়ে ছিল তাঁর পোষ্য ডায়মন্ড। এমন সময় দরজায় করাঘাত হয়।

    পমেরানিয়ান জাতের কুকুরের সাম্প্রতিক চিত্র। এই রকমই দেখতে ছিল নিউটনের ডায়মন্ড।

    সম্ভবত কেউ দেখা করতে এসেছেন নিউটনের সাথে। আওয়াজ শুনে চেয়ার ছেড়ে ঘরের বাইরে চলে যান নিউটন। বাইরের যাওয়ার সময়ে, ঘরের দরজাটা টেনে বন্ধ করে দেন। এদিকে দরজার ওপারে অপরিচিত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনে ঘরে ভিতর থেকে চেঁচাতে শুরু করে দেয় ডায়মন্ড। সেও চাইছে অপরিচিতকে দেখতে, তাঁর ঘ্রাণ নিতে। কিন্তু ঘরের দরজা তো বন্ধ। ফলে সে বাইরে বেরতে পারছে না। পরিণতিতে ঘরের ভিতরে উত্তেজিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে সে। এই ছোটাছুটি করার সময়ে নিউটনের পড়ার টেবিলের সাথে ধাক্কা লাগে তার। পরিণতিতে টেবিলের উপর রাখা জ্বলন্ত মোমবাতিটা উলটে পড়ে। আর তা থেকেই ঘটে যায় অগ্নিকাণ্ড। তাঁর The pawprints of history গ্রন্থে স্ট্যানলি লিখেছেন, “ … in a letter that Newton wrote to explain why his publication of the treaties that contained his law of gravity would be delayed. Newton was working on the final revisions; … He had worked all day, and when the sun went down he needed to light some candles to continue his calculations. As usual Diamond was sleeping nearby. A knock on the door called Newton out of the room, and apparently Diamond awakened to the sound of talking, which included voices that were unfamiliar to her. Her protective instincts were immediately aroused, and tried to get to her master. Unfortunately Newton had closed the door to his study, so she was reduced to running wildly around the room, barking in excitement. On one circuit of the room Diamond apparently collided with the leg of Newton's small writing table, and the shock of her collision caused the burning candle to tip over, directly on to the manuscript. In the resulting fire there was actually little damage to the room, but the manuscript that Newton was working on was completely destroyed …”[6]

    বিস্তারিতভাবে ভিন্ন এক কাহিনী শোনালেন অধ্যাপক স্ট্যানলি। স্ট্যানলি বলছেন, মহাকর্ষ সম্বন্ধীয় নিউটনের মূল পাণ্ডুলিপিটাই পুড়ে গিয়েছিল অগ্নিকাণ্ডে। কিন্তু তা কী করে সম্ভব? ১৬৯২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর রোজনামচায় অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টা লিপিবদ্ধ করেছিলেন আব্রাহাম ডি লা প্রিম। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডটা ঘটেছিল ১৬৯২ সালের শুরুতে বা তার কিছুকাল আগে। আর নিউটনের প্রিন্সিপিয়া তো প্রকাশিত হয়েছিল তারও ৫ বছর আগে, ১৬৮৭ সালে। অর্থাৎ, নিউটনের ঘরে যখন আগুন লাগে, তখন তো প্রিন্সিপিয়া ছেপে বেরিয়ে গেছে। সুতরাং, প্রিন্সিপিয়ার পাণ্ডুলিপি পুড়ে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই বলেই মনে করেন অনেকে। তাই প্রিন্সিপিয়ার পাণ্ডুলিপি পুড়ে যাওয়ার যুক্তিটা মোটেও গ্রহণযোগ্য যুক্তি নয় বলেই মনে করেন তাঁরা। এই বিষয়ে আরও জোরাল তথ্য মজুত আছে গবেষকদের হাতে। আর তা হল, সেই পাণ্ডুলিপির অনুলেখক হামফ্রে নিউটন (Humphrey Newton, আইজাক নিউটন বংশের কেউ নন)। কর্মজীবনের প্রায় প্রথমদিন থেকেই নিজের গবেষণার পাণ্ডুলিপি লেখার কাজে অনুলেখকের সাহায্য নিতেন নিউটন। পাণ্ডুলিপি লেখার জন্য, বেতনের বিনিময়ে, কর্মচারী নিয়োগ করতেন তিনি। সাধারণত, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরকেই এই কাজে নিযুক্ত করতেন তিনি। রচনার শুরুতে উল্লিখিত এম. কলিন ছিলেন তাঁর এই রকমই একজন অনুলেখক। ১৬৮৪ থেকে ১৬৮৯ সাল পর্যন্ত নিউটনের পাণ্ডুলিপির অনুলেখক হিসেবে কাজ করতেন হামফ্রে নিউটন। হামফ্রেই ছিলেন প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমাটিকার মূল পাণ্ডুলিপির অনুলেখক। এহেন হামফ্রে জানিয়েছেন, তাঁর কর্মকালের মধ্যে প্রিন্সিপিয়ার কোনো পাণ্ডুলিপি পুড়ে যায় নি। খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে হামফ্রে আরও জানিয়েছেন, কস্মিনকালেও কুকুর বা বিড়াল পোষার কোনো বাতিক ছিল না নিউটনের।[3]

    অগ্নিকান্ড ও ডায়মন্ড বিতর্কের ক্ষেত্রে হামফ্রে নিউটনের বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু হামফ্রের বক্তব্যের মধ্যেও স্পষ্টভাবে সমগ্র চিত্রটা ধরা পড়ছে না। হামফ্রে নিউটনের বক্তব্য থেকে এবং প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমাটিকার প্রকাশকালের (১৬৮৭) তথ্য থেকে এ কথা স্পষ্ট, প্রিন্সিপিয়া ম্যাথমাটিকার কোনো পাণ্ডুলিপি কখনও পুড়ে যায় নি। তারমানে কি নিউটনের ঘরে কখনও আগুন লাগে নি? হামফ্রে কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টা উল্লেখই করেন নি। অথচ, এটা তো ঠিক যে নিউটনের ঘরে আগুন লেগেছিল। তাহলে তো প্রশ্ন উঠবেই, সেই অগ্নিকাণ্ডে নিউটনের কোনো পাণ্ডুলিপি আদৌ কি পুড়ে গিয়েছিল? যদি পুড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে কী লেখাছিল সেই পাণ্ডুলিপিতে? নিউটনের ঘরে অগ্নিকাণ্ড ও সেই আগুনে পুড়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি বিষয় মন্তব্য করে গেছেন স্বয়ং নিউটনই। নিউটনের মৃত্যুর বছর দুয়েক আগে, ১৭২৫ সালে, নিউটনের একটা সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন তাঁর ভাগ্নিজামাই জন খনডুএট (John Conduitt 1688 – 1737)। সেই সাক্ষাকার গ্রহণের সময় অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গটাও উত্থাপন করেছিলেন খনডুএট। প্রশ্নের জবাবে নিউটন যা বলেছিলেন, তা সযত্ন লিপিবদ্ধ করে গেছেন খনডুএট। খনডুএট লিখেছেন, “When he was in the warmest pursuit of his discoveries, he going out, left a candle upon his table amongst his papers, he went down into the bowling-green, and meeting somebody who diverted him from returning as, he intended, the candle set fire to his papers (and he could never recover them.)”[3]। তাঁর মৃত্যুর দু’বছর আগে সজ্ঞানে এই সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন নিউটন। খনডুএটের রচনাকে তাই নিউটনের জীবনের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রাহ্য করা হয় সর্বত্র। খনডুএটের নেওয়া নিউটনের এই সাক্ষাৎকার থেকে এটা স্পষ্ট যে, নিজের পরীক্ষাগারে একটা অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছিলেন নিউটন। তাহলে তো প্রশ্ন উঠবেই, ঠিক কী কী নথি পুড়ে গিয়েছিল সেই অগ্নিকাণ্ডে? নিউটনের কাছে এই প্রশ্নটাও রেখেছিলেন খনডুএট। প্রত্যুত্তরে নিউটন জানিয়েছিলেন, পুড়ে যাওয়া নথিগুলোর মধ্যে আলোকবিজ্ঞান ও কলনবিদ্যা বা ক্যালকুলাসের কিছু গণনা ছিল[3]

    স্বয়ং নিউটন বলে গেছেন, তাঁর ঘরে আগুন লেগেছিল আর সেই আগুনে আলোকবিজ্ঞান ও ক্যালকুলাসের কিছু পাণ্ডুলিপি পুড়ে গিয়েছিল। নিউটনের এই বয়ান থেকে ‘কোন পাণ্ডুলিপি পুড়ে গিয়েছিল’ বিতর্কটার ইতি টানা যেতে পারে। কিন্তু বিতর্ক তো রয়েছে আরও অনেক কিছুকে কেন্দ্র করে। যেমন খনডুএটের নেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে জানা যাচ্ছে, বাড়িতে কোনো অতিথি আসাতে, তাঁর সাথে কথা বলতে বাগানে গিয়েছিলেন বা বাগানে বসে কথা বলছিলেন নিউটন। অর্থাৎ, সেই সময়ে বাড়িতেই ছিলেন নিউটন। অধ্যাপক স্ট্যানলির বক্তব্যের সাথে এই বক্তব্যর অনেকটাই সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু বিয়ৎ ও আব্রাহাম ডি লা প্রিম লিখেছেন, নিউটন সেই সময়ে চ্যাপেলের (চার্চের) কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। তাহলে কোনটা সত্য? অগ্নিকাণ্ডের সময় নিউটন বাড়িতেই ছিলেন না বাড়ির বাইরে ছিলেন? অবশ্যই খোদ নিউটনের বক্তব্যটাই গ্রহণ করতে হবে আমাদের। অর্থাৎ, অগ্নিকাণ্ডের দিন নিউটন বাড়িতেই ছিলেন। চ্যাপেলে যাওয়ার গল্পটা সত্য নয়। তাহলে আরেকটা বিতর্কের অবসান হল বলেই ধরা যেতে পারে।

    বেশ, অগ্নিকাণ্ডের দিন না হয় বাড়িতেই ছিলেন নিউটন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডটা হয়েছিল কখন? বিয়ৎ ও আব্রাহাম ডি লা প্রিম লিখেছেন, অগ্নিকাণ্ডটা ঘটেছিল সকালে। কিন্তু স্ট্যানলি তো বলছেন ‘when the sun went down he needed to light some candles’। অর্থাৎ সন্ধ্যাবেলায় ঘটেছিল অগ্নিকাণ্ডটা! তাহলে প্রশ্ন থাকছে, সকালে না বিকালে, কখন ঘটেছিল অগ্নিকান্ডটা? সাধারণ বোধবুদ্ধিতে বলে, সন্ধ্যাবেলাতেই ঘরের আলো জ্বালানর প্রয়োজন পড়ে। সে অর্থে অধ্যাপক স্ট্যানলির বিবৃতিটা অধিক গ্রহণযোগ্য। একটু তলিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে, বিয়ৎ বা আব্রাহামের বক্তব্যটাও কিন্তু ফেলে দেওয়ার মত নয়। অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে আব্রাহাম তাঁর রোজনামচাটা লিপিবদ্ধ করেছিলেন ৩ ফেব্রুয়ারি ১৬৯২ সালে। তারও কিছুকাল আগে আগুন লেগেছিল নিউটনের ঘরে। সেই হিসবে অনুমান করা যায়, ১৬৯২ সালের শুরুতেই বা শীতকালে আগুন লেগেছিল নিউটনের ঘরে। বিয়ৎও তাঁর রচনায় ‘One winter's morning’ উল্লেখ করে গেছেন। স্পষ্টতই আগুন লেগেছিল শীতকালে। স্বাভাবিকভাবেই শীতের সকালে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করেই রাখেন সবাই। বিশেষত ইংলন্ডের মতো শীতপ্রধান দেশে, শীতের সকালে জানালা দরজা বন্ধ থাকারই কথা। আর ঘরের দরজা জানালা বন্ধ থাকলে কখনও কখনও ঘরের ভিতর আলো জ্বালানর প্রয়োজন হয় বইকি। তাহলে তো সকালবেলায় অগ্নিকান্ডের সম্ভবানাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই অগ্নিকাণ্ডের সঠিক সময় নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছনও যাচ্ছে না। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় সংক্রান্ত বিতর্কটার কোনো ইতি কিন্তু টানা যাচ্ছে না। এই বিতর্ক আজও বহমান।

    । । ৩ : অর্দ্ধদগ্ধ । ।



    পাঠক নিশ্চয় ভাবছেন, অগ্নিকাণ্ড সকালে হয়েছিল না বিকেলে হয়েছিল এই সব আগড়ুম বাগড়ুম জেনে আমরা কী করব? আমরা তো জানতে চাই ডায়মন্ড নামে কোনো কুকুর নিউটন পুষেছিলেন কি না? যদি পুষে থাকেন, তাহলে ডায়মন্ডই কি সেই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী?

    ডায়মন্ড বিতর্ক কিন্তু সমাধান করেই ফেলেছি আমরা। এযাবৎ প্রাপ্ত দু’টো জবরদস্ত তথ্য মোতাবেক, ডায়মন্ড বলে কোনো কুকুর ছিল না নিউটনের। সেই দুই তথ্যর প্রথম তথ্যটা হল, খনডুএটের নেওয়া নিউটনের সাক্ষাৎকার। সেই সাক্ষাৎকারে অগ্নিকাণ্ডের কথা বিবৃত করলেও ডায়মন্ড নামে কোনো কুকুরের কথা কিন্তু উচ্চারণ করেন নি খোদ নিউটনই। ডায়মন্ডই যদি আগুন লাগিয়ে থাকবে, তাহলে তো তাঁর সাক্ষাৎকারে ডায়মন্ডের কথা উল্লেখ করতেন নিউটন। কিন্তু নিউটন তো কোনো ডায়মন্ডের গল্প শোনান নি। শুধু ডায়মন্ড নামেই নয়, কস্মিনকালেও কোনো নামেই কোনো কুকুর বা বিড়াল পোষার বাতিক ছিল না নিউটনের- এমন কথাই তো জানিয়ে গেছেন হামফ্রে নিউটন। হামফ্রে বক্তবই আমাদের দ্বিতীয় জবরদস্ত তথ্য। এই দুই তথ্য থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি, কস্মিনকালেও ডায়মন্ড নামে কোনো কুকুর ছিল না নিউটনের। ডায়মন্ড একটা কল্পিত চরিত্র মাত্র। ব্যস, ডায়মন্ড বিতর্ক খতম। দ্য এন্ড।

    ‘আরে রুকো যারা। সবর করো। পিকচার আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত’। হাসতে হাসতে যেন এমনই কথা বলে উঠলেন কিছু গবেষক। ‘আরে বাবা, হামফ্রে তো বছর পাঁচেকের মত কাজ করেছিলেন নিউটনের কাছে। তারপর তো আরও ৪০ বছর বেঁচেছিলেন নিউটন। এই ৪০ বছরের মধ্যে কি কোনো কুকুর পুষতে পারেন না তিনি?’ এমনই প্রশ্ন তুললেন তাঁদের কেউ কেউ। শুনে তো বেবাক বনে যাই আমরা। ১৬৮৭ সালে প্রিন্সিপিয়া ছাপা হয়ে গেছে, ১৬৯২ সালে অগ্নিকাণ্ড হয়ে, তার আগুনও নিবে গেছে- তারপর ঘটেছিল ডায়মন্ডের আবির্ভাব? সবকিছু ঘটে যাওয়ার পরই যদি ডায়মন্ডের আবির্ভাব ঘটে থাকে, তা হলে ডায়মন্ডের সাথে অগ্নিকাণ্ডের কী সম্পর্ক?

    ‘আছে, আছে, সম্পর্ক আছে’- দাবি করেন কিছু গবেষক। তাঁরা বলেন, একবার নয়, দুবার, এমনকি তারও বেশিবার আগুন লেগেছিল নিউটনের ঘরে[6]। আর এই দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের সাথেই জড়িয়ে আছে ডায়মন্ডের নাম। তাঁরা বলেন, প্রথমবারের অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া নথির মধ্যে ছিল আলোকবিজ্ঞান আর খুব সম্ভবত সমাকলন বা ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাসের সাহায্যে ক্ষেত্রফল নির্ণয় (Quadrature, Area under the curve) সংক্রান্ত আলোচনা। এমন কথা স্বয়ং নিউটনও বলে গেছেন। এই নথিগুলো পুরোটাই ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। পরে এই সব তথ্য পুনরায় সংগ্রহ করতে হয়েছিল নিউটনকে। কিন্তু দ্বিতীয়বারের অগ্নিকাণ্ডে পাণ্ডুলিপিগুলো পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে যায় নি। পাণ্ডুলিপির বেশ কিছু অংশ রক্ষা পেয়েছিল অগ্নিকাণ্ড থেকে। সেই অর্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো সুরক্ষিতই ছিল এতদিন পর্যন্ত। সম্প্রতি সেই অর্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলোকে নিলামের জন্য প্রকাশ্যে আনে বিখ্যাত নিলাম সংস্থা সদাবি’স (Sotheby's)। ৯ ডিসেম্বর ২০২০, ৩,৮০,০০০ পাউন্ডের বিনিময় নিউটনের সেই অগ্নিদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো বিক্রি করা হয়। সদাবি’স জানিয়েছে, পদার্থবিজ্ঞান বা গণিত নয়, অর্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিতে মিশরের পিরামিড নিয়ে আলোচনা করেছেন নিউটন।[7] নিউটনের জীবনী নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করলেই জানা যাবে, অতিপ্রাকৃতিক, অতিন্দ্রীয়, ভবিষ্যৎ বাণী, কালা জাদু প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন নিউটন। তিনি মনে করতেন, প্রাচীনকালে, বিশেষত বাইবেলে উল্লিখিত সময় সমূহে, বিশ্বচরাচর সম্পর্কে অনেক উন্নত ধারণা পোষণ করত মানুষ। ধারাবাহিকতার অভাবে সেই জ্ঞান বর্তমানে লুপ্ত হয়েছে। সেই লুপ্ত জ্ঞানের খোঁজে আজীবন নীরবে নিষ্ঠ ছিলেন নিউটন। আর সেই কারণে গ্রিক ও হিব্রু ভাষাও রপ্ত করেছিলেন তিনি। তিনি মনে করতেন, মিশরের পিরামিড গঠনের পিছনে রয়েছে অনেক অজানা তথ্য ও গুপ্ত জ্ঞান। সেই জন্য পিরামিড, আলকেমি, অধিবিদ্যা নিয়েও লেখাপড়া করতেন নিউটন, করতেন গবেষণা, লিখতেন নোট।

    ২০২০ সালে নিলাম হওয়া নিউটনের সেই অর্ধদগ্ধ নথি।

    কিন্তু খ্রিস্টিয় পরিসরে এই সমস্ত অতিপ্রাকৃতিক, অতিন্দ্রীয় কার্যকলাপকে ধর্মবিরোধী কাজ বলে গণ্য করা হয়। বস্তুত ধর্মীয় অনুশাসনের ভয়েই পিরামিড সংক্রান্ত গবেষণাপত্রগুলো কোনোদিনই প্রকাশ্যে আনেন নি নিউটন। এই গবেষণাপত্রগুলো সযত্নে রেখেছিলেন নিজের তত্ত্বাবধানে। আর দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডে সেই অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিগুলোই পুড়ে গিয়েছিল বলেই জানায় সদাবি’স। সদাবি’স দাবি করেছে, অর্দ্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো ১৬৮০ সাল নাগাদ রচনা করেছিলেন নিউটন[7]। আর এই কাহিনীর মধ্যেই ঘাপটি মেরে বসে আছে ডায়মন্ড। সদাবি’সের দাবি, হঠাৎই নিউটনের পড়ার টেবিলের উপর লাফিয়ে উঠে পড়ে ডায়মন্ড। আর তাতেই মোমদানি উলটে বিপত্তি ঘটে।

    নিউটন স্বয়ং বলে গেছেন অগ্নিকাণ্ডে আলোকবিজ্ঞান ও ক্যালকুলাসের সমস্ত পাণ্ডুলিপিগুলোই পুড়ে গিয়েছিল। তাহলে পিরামিড সংক্রান্ত লেখা অর্দ্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপিগুলো এল কোথা থেকে? তাহলে তো বলতেই হয়, অন্তত দু’বার অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছিলেন নিউটন। প্রথমটা ১৬৮০ সালে, দ্বিতীয়টা ১৬৯২ সাল। সদাবি’সের দাবি সত্য হলে কিন্তু অনেক কিছুই উলটপালট হয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, এ কথা সত্য, ১৬৮০ সাল নাগাদ প্রিন্সিপিয়া রচনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিউটন। হতে পারে, এই প্রথম অগ্নিকাণ্ডের জেরে, পিরামিডের নথির পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল প্রিন্সিপিয়ার পাণ্ডুলিপিও। যার পরিণতিতে publication of the treaties that contained his law of gravity would be delayed বলে উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক স্ট্যানলি। অর্থাৎ প্রিন্সিপিয়ার পাণ্ডুলিপি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটা সত্য। দ্বিতীয়ত, প্রথম অগ্নিকাণ্ডে প্রিন্সিপিয়ার সামান্য অংশই পুড়েছিল বলে মনে করা হয়। এই সামান্য পোড়াটাকে, বড় একটা ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করেন নি নিউটন। অধিকিন্তু, প্রিন্সিপিয়ার পাশাপাশি পুড়েছিল পিরামিডের নথিও। চিরকালই পিরামিড সংক্রান্ত গবেষণাটা গোপনই রেখেছিলেন নিউটন। তাই, প্রথম অগ্নিকাণ্ড নিয়ে খনডুএটের কাছেও মুখ খোলেন নি তিনি। খনডুএটকে কেবল বলেছেন দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের কথা। তৃতীয়ত, সাধারণত কুকুরের গড় আয়ু ১২ থেকে ১৪ বছরের মতো হয়। ১৬৮০ সাল নাগাদ ডায়মন্ডের বয়স ৩ বা ৪ বছর ধরলে, ১৬৯২ সালের আগেই মারা যাওয়ার কথা ডায়মন্ডের। স্পষ্টতই, দ্বিতীয় অগ্নিকাণ্ডের পিছনে ডায়মন্ডের কোনো ভূমিকা ছিল না। নিউটনও তাই, খনডুএটের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, অগ্নিকাণ্ডের কথা স্বীকার করলেও ডায়মন্ড নাম উত্থাপন করেন নি।

    নিউটন যদি দু’টো অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হয়ে থাকেন তাহলে তো ডয়মন্ডের অনুকূলে পরিস্থিতি অনেকটাই ঘুরে যাচ্ছে। ছিল, ডায়মন্ড নামে একটা কুকুর ছিল নিউটনের। আর সেই ডায়মন্ডই প্রথম অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী- এমন দাবি আর উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সমস্যা থেকে যাচ্ছে হামফ্র নিউটনকে নিয়ে। ১৬৮০ সালে ডায়মন্ডের বয়স ৩-৪ বছর হলে, হামফ্রে তাঁর কর্মকালের (১৬৮৪ থেকে ১৬৮৯) মধ্যে ডায়মন্ডকে প্রত্যক্ষ করতেন তিনি। ডায়মন্ডকে দেখে থাকলে কি আর এমন জোর দিয়ে তিনি বলতে পারতেন, ‘কস্মিনকালেও কুকুর-বিড়াল পোষার বাতিক ছিল না নিউটনের’? হামফ্রের এই বক্তব্যকে অবশ্য খণ্ডন করার মত যুক্তি মজুত রয়েছে বিরোধীপক্ষের হাতে। ১৬৮০ সালে ডায়মন্ডের বয়স যে ৩-৪ বছর ছিল, এমন তথ্য কিন্তু কারও হাতে নেই। হতেই তো পারে, তখনই ডায়মন্ডের বয়স ছিল ১০-১২ বছরের মত। সেই হিসেবে, হামফ্রে কাজে যোগ দেওয়ার আগেই হয়তো জীবনাবসান হয়েছিল ডায়মন্ডের। তাহলে তো মূল প্রশ্নটা গিয়ে ঠেকছে, কত সালে জন্ম হয়েছিল ডায়মন্ডের? আরে বাবা, আজকের দিনেও যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বহু মানুষের সঠিক জন্মসাল বলতে পারে না কেউ, সেখানে ৩৫০ বছর আগে, একটা কুকুরে জন্মসাল কে বাতলাবে? হুম্‌ম্‌ম্‌, ডায়মন্ডের ব্যাপারটা ঠিক যেন নিউটনের পুড়ে যাওয়া অর্দ্ধদগ্ধ পাণ্ডুলিপির মতই দেখাচ্ছে। আধা আছে, আধা নেই। তবে কোনো সন্দেহ নেই এই ‘আধা ডায়মন্ড’ই যুগের পর যুগ ধরে স্থান করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। নিবন্ধের শেষে এসে, আমাদের হৃদয়েও কি তবে স্থান করে নিল ডায়মন্ড? আজকের পর, কেউ হয়তো ভালোবেসে তাঁর পোষ্যর নাম রাখবেন- ডায়মন্ড। আর দুষ্টুমি করে সে যখন কোনো অনিষ্ট করবে, তার প্রভু হয়তো তখন বলে উঠবেন, ‘ওহ, ডায়মন্ড! ডায়মন্ড! ...’।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক।
  • প্রবন্ধ | ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ৫৪ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৩১739892
  • খুব ইন্টারেস্টিং লেখা। ছোটবেলায় পড়েছিলাম নিউটনের কুকুরের নাম ডায়মন্ড। এবং ওর লাফালাফিতে মোমবাতি উল্টে গবেষণার বেশ কিছু জরুরি কাগজপত্র পুড়ে গেছিল। সেটাকেই ধ্রুব সত্য ভাবতাম। এটা নিয়ে এত বিতর্ক আছে জানাই ছিল না।
     
    যদিও শেষেও মিলিয়েও মিলল না, অর্থাৎ কিছুটা এখনো ধোঁয়াশাই রয়ে গেল। ভালো লাগল।
  • dc | 42.***.*** | ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৩৪739894
  • দারুন লাগলো। ছোটবেলায় আমরা সবাই নিউটনের সম্বন্ধে দুটো ঘটনা পড়তামঃ ওনার মাথায় আপেল পড়ার ফলে গ্র‌্যাভিটির তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন, আর ওনার কুকুরের বদমাইসির ফলে মূল্যবান কিছু নথি পুড়ে গেছিল। সেই কুকুরের পেছনে যে এতো কান্ড, জানতাম না। সহস্রলোচন শর্মাকে ধন্যবাদ।
     
    আর chymical - এই ওয়ার্ডটাও জানতাম না, খুব সুন্দর একটা ওয়ার্ড আমার কালেকশানে অ্যাড করলাম।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা খুশি মতামত দিন