

অলংকরণ: রমিত
১
একটা গোলাপফুলকে কে নাকি হেসে ওড়াচ্ছিল!
খবর রাখিনি, পরে জানলাম সেই ফুল নাকি
মিসাইল হয়ে তেল আভিভে ফুটেছে।
টিভিতে গ্যাসের পাইপ জুড়ে দিয়ে নাকি দেখা গেছে
চমৎকার রান্নাবান্না হয়।
যাবতীয় বাসী মিথ্যে কথাগুলো
গরম তেলে কড়মড়ে ভেজে তুললে
তার তেজে রুজিরোজগারের দফারফা।
কাজেই ফুল টুল আর নয়, কথা হোক কম—
যে কোনও তেলেভাজা শব্দকেই আসুন আমরা
সেরেফ হেসে উড়িয়ে দিই, দেখি তার কত দম।
২
এক আধটা ফুল ফুটল কি ফুটল না
বারান্দার ফুলগাছে পাখি চলে আসে
কিছুক্ষণেই তিড়িং বিড়িং করে উড়ে যায়
আচমকাই ঠিক যেভাবে হাজির হয়েছিল।
টবের গাছটা একঠায়ে কোনওমতে
টিকে গেছে এ যাত্রা অতিরিক্ত জল বা খটখটে
নির্জলা উপবাস কাটিয়ে। পাতাটাতা ঝরিয়ে
আস্ত এক বছর সামান্য ডালপালা ছড়িয়ে।
ঝড়জলে একদিন টবশুদ্ধ গড়াগড়ি মেঝেতে।
ক্রমে পোকামাকড়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়েছে
কয়েকটা পাতা হলদে হয়েছে অপ্রয়োজনে
ছোট ডালপালায় হাত বাড়িয়ে পাতা গজিয়ে
ওই যা কয়েকটা কুঁড়ি ফুটিয়েছে অতি সাবধানে
যেন ওই পাখি বসার মুহূর্তটিতে বাঁচার জন্য।
৩
অজস্র মুখের সঙ্গে দেখা হয় আমার সারাদিনে
মাঝেমধ্যে স্রোতের মতো বিশাল ভিড় দেখি আমি
প্রচুর বাবা-মা জুতোর সঙ্গে কোলে উঠে চলাচল করে
নানান বয়সী ব্যাগ, যাদের শৈশব চিহ্নের মতো লাগে।
নানান পোশাক দেখি, যারা মানুষকে লাইনে ফেরায়
অথবা বৃথাই চালাক হতে গিয়ে বাড়ায় হয়রানি।
কেউ যানবাহনের মতো রাস্তা ফাঁকা পেলে ফুরফুরে,
অন্যথায় ভ্রূকুটি দেখালেও বিপথ হয় না, এত সাবধানী।
কারও চোখের সঙ্গে কথা বলি আমি সঙ্গোপনে
হয়ত তার আঙুল ধরে গড়ের মাঠে বাদাম ভেঙেছি
আর ফেরার পথে বৃষ্টিতে ছাতায় ডাকলে তৎক্ষনাৎ
অজস্র মুখের মধ্যে সারাজীবনের জন্য হারিয়ে গিয়েছি।
উচ্চারিত শব্দ উষ্মা হাহাকার ও যত অকাজের কথা
গুণে গেঁথে রাখি মাঝে মাঝে নির্জন সৈকতে অযথা।
৪
অফিসের লিফটের মতো নির্জনতা কমই দেখেছি আমি
জামার কলারের ঠিক ওপর থেকে একজোড়া ঠোঁট
অস্ফুটে সুপ্রভাত উচ্চারণ করলে একজোড়া ভুরু
ঘাড়টিকে সামান্য নামায়। তারপর সব চুপচাপ।
প্রায় নিঃশব্দ লিফট, পাখার ফুরফুরে হাওয়ার সঙ্গে
খসখসে শব্দের হ্যান্ডবিল ইস্তেহারের মতো গুঁজে দেয় হাতে।
একটা বাড়তি কথার টুকরো মেঝেতে পড়ে নেই।
চপলতার দম বন্ধ, সে কক্ষণও দরজা খোলে না ছাতের।
৫
একটা ভাঙা বাড়ির ছাতের ওপর থেকে ঘুড়ি ওড়াচ্ছিলাম।
আজ আর কেউ দাঁড়াতে পারছে না।
আকাশে সবাই সমান, হাওয়া বুঝে টিকে গেলে
যে-কোনও আস্ফালন
আমি স্তব্ধ করে দিতে পারি।
হাতে লাটাই ধরে ঘুড়ির সঙ্গে উড়ি
যতক্ষণ আলোর আয়ুটুকু থাকে বিকেলে।
সারাদিন জুড়ে এক চিলতে দাঁড়ানোর জায়গা পেলে
একদিন ঠিক হিসেব নিয়ে নেব সম্পূর্ণ আকাশের।
৬
এত সাঙ্ঘাতিক ভাবে চাইছি তোমায়
তাই বুঝি দিন-রাত্রি হয় আজকাল?
মাঝে মধ্যে মেঘ ও রৌদ্র
ও রৌদ্র, আমার পায়ের নিচের মাটি
দেখ, আংরা হয়ে যাচ্ছে।
চামড়া ফেটে ছড়িয়ে যাচ্ছে রক্ত মেদ মাংস মজ্জা
আমি তবু তোমায় ছাড়তে পারছি না
পরের পর বাস ছেড়ে দিচ্ছি
একের পর এক বছর পার হয়ে
বয়সের জন্ম দিতে দিতে ন্যুব্জ হয়ে গেলে
ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছি অতলে..
ও অতল, তুমিও কি সবার মতো যাবে ভুলে?