

অলংকরণ: রমিত
হালকা। সুফিদের হালকা অর্থাৎ তাঁদের জমায়েত। হালকা হল গোল করে বসা। যখন একজন বলেন আর অন্যরা শোনে তখন এমন গোলাকারে বসে থাকে মানুষ। এখানেও তাই। গুরু তার শিষ্যদের শিক্ষা দেন। ধর্ম দর্শন তত্ত্ব রীতি নীতি। কখনও এই হালকা হয়ে ওঠে হালকা এ কিসসা। ধর্ম, নীতিকথা, উপদেশ তো দেশে দেশে গল্পের মাধ্যমেই দেওয়া হয়েছে। সুফিরা তার ব্যতিক্রম নয়। প্রত্যেকটির মধ্যে কিছু নিগূঢ় অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। তাই তাঁদের নীতিশিক্ষা। গল্পের মাধ্যমে তাকে অনেক সরল ও সহজ করে অনুগামীর মনে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।
মনে আছে নিশ্চয়ই রাজা অমরশক্তি তার তিনটি অপোগন্ড ছেলের বিদ্যার্জনের জন্য আশি বছরের ব্রাহ্মণ বিষ্ণু শর্মার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিষ্ণুশর্মা যে পদ্ধতি নিয়েছিলেন তা হল গল্পের পথ। গল্প বলে বলেই পঞ্চতন্ত্র তৈরি হয়ে গেল। গণ্ডমূর্খ ছেলেরা অল্প সময়ে তুখোড় হয়ে উঠল।
জালালুদ্দিম রুমির গুরু শামস এ তাব্রিজি একবার কোনিয়া থেকে উধাও হয়ে যান। পরে তাঁর খোঁজ পেয়ে দামাস্কাস থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চলে রুমির প্রিয় অনুগামী। পথে ফিরে আসতে আসতে শামস কত গল্প শুনিয়েছেন তাদের। সে সব গল্পগুলো গেল কোথায় ? উত্তর আসত পাগল শামসুদ্দিনের গল্প ? সে তো হাওয়ার গায়ে লেখা হয়েছিল !
সুফি সাধকেরা তাঁদের গল্পগুলো মুখে মুখে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। শুধু সুফি সাধকেরা কেন মুখে মুখে গল্পের আকারে নীতিকথা ছড়িয়ে দেবার ইতিহাস অতি প্রাচীন। আদিতে সাহিত্য মূলত মৌখিক ছিল। পরে লোকায়ত মৌখিক সাহিত্যের মৃতদেহের ওপরেই গড়ে ওঠে অভিজাত সাহিত্যের প্রাসাদ। মৌখিক কথন বলেই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গল্পের জমিতে নানান বিবর্তনের রঙ এসে পড়েছে।
সুফি সন্তদের গল্প ছড়িয়ে পড়ত দূর দূরান্তে তার আরও একটা কারণ যে তাঁরা ঘুরে ঘুরে বেড়াতেন। দিনের শেষে বসত হালকা। গল্পের কাপাশ তুলো উড়ে গিয়ে পড়ত বহুদূর। এসব গল্পগুলো ছাত্ররা মন দিয়ে শুনত। কারণ তার মর্মার্থই হল শিক্ষা। শুনুন তাহলে কয়েকটি সুফি গল্প। গল্পগুলি নেওয়া হয়েছে ইদ্রিশ শাহ এর টেলস অফ দেরভিশেস বইটি থেকে। গল্পগুলি রহস্যময় অতীন্দ্রিয়তায় মায়াবী ও ইঙ্গিতবাহী।