

অলংকরণ: রমিত
সে-ও ছিল এক বৈশাখী দিন।
আজ থেকে তিন দশক আগের কথা। তখন আমি বোস ইনস্টিটিউটে কাজ করি। রিসার্চের কারণেই একদিন যেতে হয়েছিল কলেজস্ট্রিট। সময়টা ভর্তি দুপুর। একেবারে যাকে বলে ‘ঝাঁ ঝাঁ রোদ, ঠা ঠা রোদ, নিঝুম দুপুর’। তবে কিনা কলেজস্ট্রিট সত্যিসত্যি কখনো নিঝুম থাকে না। তাকে নিঝুম আখ্যা দিতে হলে তার তুলনা করতে হবে অন্য কোনও সময়ের কলেজস্ট্রিটের সঙ্গেই; যেমন, শীত দুপুরের কলেজস্ট্রিট, কিংবা সন্ধ্যের কলেজস্ট্রিট, ইত্যাদি আরকি।
আমি চলেছি মেডিকেল কলেজ পার হয়ে বৌবাজার মোড়ের দিকে। আমার কাজ সেখানের এক অফিসে। বৈশাখের মাঝামাঝি, অনেকদিন বৃষ্টির নামগন্ধ নেই। শুকনো দিন, কিন্তু ভ্যাপসা ভাবও খুব। দরদরিয়ে ঘামছি। বেলা আড়াইটা-তিনটেয় মাথার ওপর গনগনে রোদ, পায়ের নিচে এবড়খেবড়ো ফুটপাথ। মাঝে মাঝে পুতিগন্ধের ধাক্কা। ওই রাস্তায়, যার নাম নির্মলচন্দ্র স্ট্রিট, সকালে বাজার বসে। সবজিওয়ালাদের ফেলে যাওয়া পাতাপুতি আর থ্যাঁতলানো সবজি গরমে ভেপসে উঠে পচা গন্ধ ছড়ায়। রাস্তার ধারে ছানার আড়তও বেশ কয়েকটা। এখনও তারা আছে কিনা জানি না অবশ্য, তখন ছিল। তিন দশকে অনেক রাস্তার চেহারা আমূল বদলে গেছে। ছানার আড়ৎ থেকে গড়িয়ে আসা জলে ও ফুটপাথ তখন কাদা কাদা হয়ে থাকত। দুর্গন্ধ বিলোতেও তাদের অবদান কম ছিল না। তার ওপর ফুটপাথের যত্রতত্র নানা কিসিমের জিনিসপত্র ঢিপি হয়ে থাকা। কোনও নিষেধাজ্ঞার বালাই নেই, কারও মাথাব্যথাও নেই। মেনে নেবার আর মানিয়ে নেবার ক্ষমতা যে অসীম আমাদের।
তবে আমার সেটা সসীম। তাই রাস্তায় চলতে চলতে মনে মনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলাম। তার ওপর ভিড় ম্যানেজ করতে চিরকালই আমি অপটু। ফলে আমার পদযাত্রা হচ্ছিল রাস্তায় হোঁচট খেতে খেতে আর লোকের ধাক্কা খেতে খেতে। হঠাৎ গরম হাওয়ার একটা ঝলক যেন পাক খেয়ে গেল গোটা এলাকাটা জুড়ে। অমন হাওয়াকে আমরা বলি ‘ঝলাস’। অনেকে ‘লু’ও বলেন। সেই হাওয়ার ধাক্কায় রাস্তার ধুলো বালি তো বটেই, অনেক কাগজ প্লাস্টিকও রাস্তা থেকে উড়ে গোল গোল পাক খেতে লাগল চোখের সামনে। সেইসঙ্গে চোখেমুখে ঢুকে গেল একগাদা ধুলো। সাধ করে তখন আমি মাঝে মধ্যে কনট্যাক্ট লেন্স পরতাম। সেদিনও পরেছিলাম। লেন্স পরা চোখে ধুলো ঢুকলে কী হয় ভুক্তভোগীরা জানেন। যাঁরা জানেন না তাঁদের বলি, চোখ এত কড়কড় করে যে তাকে আর খুলে রাখা যায় না। খোলা চোখেই যে ক্রমাগত হোঁচট খাচ্ছিল, সে আর এখন হাঁটে কী করে? অতএব রাস্তার ধার ঘেঁসে দাঁড়িয়ে পড়ি। চোখদুটো কিছুক্ষণ পিটপিট করে বুঝি, এদের আর পরে থাকা যাবে না কিছুতেই। লেন্সের তলায় ধুলো ঢুকে গেছে, তাদের বের করে নিতেই হবে চোখ থেকে। যে কাজটা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে করার কথা, তাকে অগত্যা ওখানে দাঁড়িয়ে নোংরা হাতেই করতে হয়। ব্যাগে লেন্সের বাক্স ছিল। প্রথম লেন্সটা তাতে ভরেও ফেলি কোনরকমে। কিন্তু দ্বিতীয়টা ভরার সময় কনুই-য়ে খাই গোঁত্তা। সেই গোঁত্তায় আঙুলের ডগা থেকে ছিটকে গিয়ে লেন্স পড়ে ফুটপাথে। যেখানে ছানার পচা জল থিকথিকে কাদার সৃষ্টি করেছে, একেবারে সেইখানে। ওইখান থেকে তাকে, আমার চশমা বিহীন চোখে খুঁজে বের করা অসম্ভব। তবুও খুঁজি। সুগন্ধি কাদার কাছে প্রায় নাক নিয়ে গিয়ে খুঁজি। কারণ জিনিসটা দামি। বেশ দামি। আজকের মতো সস্তাদামের লেন্স তখন পাওয়া যেত না। কন্ট্যাক্ট লেন্স মানেই মহার্ঘ বস্তু। কিন্তু এক সেন্টিমিটার ব্যাসের আলটুসি সেই স্ফটিকস্বচ্ছ ‘বাটি’কে আর খুঁজে পেলাম না। যতক্ষণ খুঁজছিলাম ততক্ষণে সে হয়ত কারও চটিতে চেপ্টে গিয়ে দশ-বিশ পা দূরেই পৌঁছে গিয়েছিল। কারো পায়ের চাপে ওই কাদার তলাতে সমাধিলাভ করাটাও অসম্ভব ছিল না। বুক থেকে কান্নাভেজা এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এসে সেদিন মিশে গিয়েছিল বাইরের ঝলাসের সঙ্গে। আর কি কখনো কবে, লেন্স কেনা আর হবে? সত্যি বলতে, হয়ওনি।
খিঁচড়ে যাওয়া মন আর লেন্সের শোকে টনটনে বুক নিয়ে একসময় পৌঁছলাম সেই অফিসে, যেখানে যাবার জন্য আমার এই নিদাঘ-অভিযান। পৌঁছে শুনলাম, যাঁর সঙ্গে দেখা করার ছিল তিনি একটু আগে ‘বিশেষ কাজে’ বেরিয়ে গেছেন, আজ আর ফেরার আশা নেই। বুঝলাম আজকের দিনটা আমার নয়। ওখান থেকে আরও একটা কাজে অন্য আর এক জায়গায় যাবার কথা ছিল। কিন্তু ঘটে চলা ঘটনাদির লক্ষণ বিচার করে আর কোথাও যেতে ইচ্ছে করল না। অবসন্ন মনটা তখন বলছে, অনেক হয়েছে, বাড়ি চ’।
মনের কথা মেনে বাড়িমুখো হই। চড়ে বসি এক বাসে। বাসের গা গরম, ভিতরটা তন্দুরের মতো। যেখানে পিঠ ঠেকছে সেখানটাই ছ্যাঁক করে উঠছে। কণ্ডাকটারের কালো টিশার্ট ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে আসা নুনের কারুকাজে কারুকার্যময়। অনেক সময় অনেক স্পেসিমেনকে ডিহাইড্রেট বা জলশূণ্য করার দরকার হতো আমাদের। বাসের কন্ডাকটারকে দেখে মনে হচ্ছিল তাকেও যেন কেউ ডিহাইড্রেট করে দিয়েছে। কোটরগত চোখ আর শুকনো চেহারাটা একেবারে বিধ্বস্ত। তবু সে কাজ করে চলেছে। করতেই হবে। পাপী পেট কা সওয়াল। মোটাসোটা ড্রাইভার দাদাটির অবস্থা অবশ্য তত করুণ ছিল না। গেঞ্জিকে ভুঁড়ির ওপর, আর লুঙ্গিকে হাঁটুর ওপর তুলে সে দিব্যি গাড়ি চালাচ্ছিল। মুখে কেবল তার খিস্তির ফুলঝুরি ছুটছিল। কার উদ্দেশে কে জানে! হঠাৎ আমার মনে হলো, এই লোকদুটকে ছায়ায় বসিয়ে যদি দু’ গেলাস নুন-চিনি-লেবুর সরবত খাওয়াতে পারতাম! আহা! তারাও বাঁচত, আমারও খানিক পুণ্যি অর্জন হতো। বৈশাখে জলদান বড় পুণ্যকর্ম। কিন্তু পরিস্থিতির কল্যাণে সে পুণ্যকর্মটি করা গেলো না। ভাবনাতেই রয়ে গেল। এমন কতশত সদ্ভাবনা যে কাজের ঘাট অবধি পৌঁছতে পারে না!।
বাস কন্ডাকটর আর ড্রাইভারদের জল খাওয়ানোর ব্যবস্থা অবশ্য রাস্তায় অনেক জায়গায় থাকে দেখেছি। বাস থামলেই কেউ একজন স্টিলের জগ আর গেলাস নিয়ে ছুটে এসে জল ধরে ওদের সামনে। জল খাওয়ার পর আরেকটু জল নিয়ে ঘাড় গলা মুখ ভিজিয়ে নিতেও দেখেছি অনেক কন্ডাকটরকে। তবে সেখানে শুধু জলই থাকে, নুনজল নয়। নুনজল থাকলে তা দিয়ে মুখ ধোওয়া যেত না। অথচ অবিশ্রান্ত ঘামে শরীর থেকে যখন নুন আর জল দুটোই বেরিয়ে যায় তখন শুধু জলে সে অভাব পূরণ হবার নয়। শুধু জলে ক্ষতিই বরং বেশি হয়। আমরা অনেকেই সেটা জানি না। ঘেমেনেয়ে বাড়ি ফিরে ঢকঢকিয়ে জল খেয়ে নিই। এতে শরীরের ভিতর যে গোলমালটা ঘটে, বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলে হাইপোন্যাট্রিমিয়া। জলের সঙ্গে খানিকটা নুন অথবা একটু নোনতা খাবার খেলে হাইপোন্যাট্রিমিয়াকে খানিকটা কব্জা করা যায়। যাইহোক, শীতল জল, লেবুর শরবত ইত্যাদির কথা ভাবতে ভাবতে নিজেরই তেষ্টা পেয়ে যায়। ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে গলায় ঢালি। আর ঢালতেই এক ঢোকে তেষ্টা যায় ছুটে। বোতলের জল বিচ্ছিরি গরম।
মায়োপিক ভিশন আমার, মানে, দূর-দৃষ্টি দুর্বল। চশমা ছাড়া এমনিতেই চারপাশ ঝাপসা দেখি। তার ওপরে এখন চোখ ঝলসানো রোদ্দুর। চোখদুটোকে সরু করে বাইরের তাকাচ্ছি আর ভাবছি, কোনও কাজ তো হলো না আজ, তার মানে আবার একদিন আসতে হবে এই মনোরম অভিযানে? মনটা বিগড়ে যায়। সেই বিগড়ানো মন নিয়ে কলেজস্ট্রিটের মোড়ে নামি। বাড়ি যেতে হলে বাস পাল্টাতে হবে এখানে। রোদে গা চিটপিট করছে। আমার বাস আসবে বড়বাজারের দিক থেকে, যাবে শেয়ালদার দিকে। এ রুটের বাস সবসময়ই লক্ষ্মীমন্ত, মানে ভিড়ে ঠাসা। অপেক্ষাকৃত ফাঁকা বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হলে রোদে সেঁকাপোড়া হতে হবে। তাতেও ফাঁকা বাস পাব, তা নিশ্চিত নয়। অর্থাৎ যে দুটো অপশন আমার হাতে, তারা দুজনেই সমান; হয় রোদে সেঁকা হও, নয় ভিড়বাসে সিদ্ধ হও। তা দুটোই যখন সমান আরামের তখন আর ভেবে করি কী? ভিড় বাসেই উঠে পড়ি গুঁতোগুতি করে। বাসের হ্যান্ডেল, শুধু তেতে নেই, চ্যাটচ্যাটও করছে। বাস চলতে থাকে ঢিকিস ঢিকিস করে। ও রাস্তায় বাস দ্রুত যেতে পারে না; অপ্রশস্ত রাস্তা, ভিড় বেশি, স্টপ বেশি। তার ওপর থেকে থেকে ধুলোর ঝড় বইছে আজ।
বাস যখন ফ্লাইওভারে উঠছে, হঠাৎ কী যেন হলো! কোথা থেকে একটা ঠাণ্ডা হওয়ার ঝাপটা খেলে গেল বাসের মধ্যে। শরীরটা শিরশির করে উঠল আমার। সক্কলে দেখি সচকিত! বাসের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে কেউ কেউ বোঝারও চেষ্টা করল ব্যপারটা। বাইরে শ্যালদা-ই তো! হঠাৎ এমন সিমলা-সমীরণ বয়ে এলো কোত্থেকে!
বোঝার জন্য বেশি সময় দিতে হলো না। পর পর কয়েকটা ঠান্ডা হাওয়ার দমকে ধুলোরা আরো তেজে পাক খেতে থাকল রাস্তায়। রোদের রক্তনয়ন কেমন যেন ঝট করে বুজে এলো। আর তারপরেই শুনি, চড়বড় চড়বড় শব্দ। বাসের চালে বৃষ্টি ফোঁটার শব্দ। খুব দ্রুত সেই শব্দ বদলে গেল প্রবল ঝমঝমে আওয়াজে। ঝেঁপে বৃষ্টি নেমেছে। আআহ! বৃষ্টি বৃষ্টি! সব গোলমাল কিছুক্ষণের জন্য যেন একেবারে চুপ। মনে মনে সবার আকুল প্রার্থনা, হোক হোক, এ বৃষ্টি হোক কিছুক্ষণ। এখুনি যেন থেমে না যায়। এখানে মাটি নেই, সবটাই পিচ, তবু কোথা থেকে একঝলক সোঁদা গন্ধ ভেসে এল। সিগন্যাল খোলার আগেই দেখি ফ্লাইওভারের কালো পিচ ভিজে চুপ্পুস। বৃষ্টির এমন তোড় যে তাপমাত্রা ম্যাজিকের মতো ঝপ করে নেমে গেল অনেকখানি।
বৃষ্টি হলে সাধারণত বাসের জানলাগুলো ধড়াধ্বড় বন্ধ হয়ে যায়। কোনও বৃষ্টিপ্রেমী তার পাশের জানলাটুকু খুলে রাখতে চাইলে বাকিদের গঞ্জনায় বেচারাকে বন্ধ করে দিতেই হয়। আজ কেউ কারওকে জানলা বন্ধ করতে বলল না। বাস ভরতি মানুষ এই শীতলতা যেন শুষে নিচ্ছিল সমস্ত শরীর-মন দিয়ে। কন্ডাকটারের কোটরগত চোখের তীক্ষ্ণ মরীয়া দৃষ্টিটা কেমন নরম হয়ে এসেছিল। ড্রাইভারের গালাগালি থেমেছিল একটু আগেই, এখন দেখলাম ভুঁড়িটাও চলে গেল গেঞ্জির আড়ালে। পাশের মোটা মহিলার ঘাম প্যাচপেচে বাহুর থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে এতক্ষণ একটা অপ্রকাশ্য লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছিল আমাকে। সেটাও বন্ধ হয়ে গেল, কারণ তার ঘাম শুকিয়ে গেছে। এই লজ্ঝরমার্কা বাসটাকে আমার আর একটুও খারাপ লাগছিল না। ভাবছিলাম, তাড়া কিসের বাড়ি ফেরার? বাসটা আমাদের নিয়ে চলুক না আরও চারঘন্টা। উত্তমসুচিত্রার মতো কে যেন গুনগুনিয়েও উঠল অন্তরে, এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো...। একটু বৃষ্টি, একটু তাপমাত্রা কমে যাওয়া, একটু ঠাণ্ডা বাতাস পৃথিবীটাকে এমন সহজে স্বপ্নের দেশ বানিয়ে দেয়, এ অভিজ্ঞতা সত্যিই আগে কখনও হয়নি।
সেই দিন, অর্থাৎ আজ থেকে তিন দশক আগের এক কাঠফাটা গরম বৈশাখী দিন, ‘ফরটিফোর-এ’ নম্বর বাসের পেটের ভেতর বসে থাকা আমার মনে এক ‘রেভেলেশন’ বা দিব্যানুভূতির জন্ম দিয়েছিল। প্রফেটদের যেমন হয় আরকি। সে অনুভূতিকে অক্ষরে সাজালে যে বাক্য হয় সে বাক্য তার আগে, পাঠ্য বইয়ে অথবা গল্পের বইয়ে, কম করে ছশো ছত্রিশ বার পড়েছি। ফলে একটা তথ্য হিসেবে সে কথা মগজে গোঁজা ছিল আমার। কিন্তু সেদিনের কালবৈশাখী ও তথ্যকে একটা বিশ্বাসে বদলে দিয়ে পৌঁছে দিয়েছিল সোজা একেবারে হৃদকন্দরে। তারপর থেকে লক্ষ করেছি, যখনই কোনও সমস্যায় হাবুডুবু খাই, বা চারপাশে কোনও আশা-ভরসার কূলকিনারা দেখতে পাই না, তখন কালবৈশাখীর এই স্মৃতিটাই আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। আমার ঘাড়ে হাত রেখে বলে, ঘাবড়াস না। কেটে যাবে। এ আঁধার ঠিক কেটে যাবে।
Amit Chatterjee | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৫739923
মহুয়া চৌধুরী | 2401:4900:3be9:d594:c8e1:6ab7:6b04:***:*** | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৯739924