

অলংকরণ: রমিত
১৯০১ সালে প্রকাশিত To the Person Sitting in Darkness [The Project Gutenberg eBook of To the Person Sitting in Darkness, by Mark Twain] প্রবন্ধটি মার্ক টোয়েনের-এর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী তীক্ষ্ণতম রচনাগুলির অন্যতম, যা এমন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে লেখা যখন যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক ভূমিকা নতুনভাবে নির্ধারণ করছিল। ফিলিপাইন - আমেরিকা যুদ্ধ এবং বক্সার বিদ্রোহের -এর মতো ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে লেখা এই প্রবন্ধে টোয়েন আমেরিকার বৈদেশিক নীতির প্রতি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। বিদেশে দীর্ঘদিন কাটিয়ে দেশে ফিরে এসে তিনি মার্কিন অ্যান্টি ইম্পিরিয়ালিস্ট লীগ - এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রকাশ্যে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা করেন। এই সময়ে পাশ্চাত্য শক্তিগুলি যে “সভ্যতার আলো”- পৌঁছনোর যুক্তি তুলে ধরছিল, তার পেছনে কাজ করছিল White Man's Burden-এর মতো মতাদর্শ, যা উপনিবেশিত জনগণকে “অন্ধকারে বসে থাকা” এবং পশ্চিমকে “আলোকদাতা” হিসেবে চিত্রিত করত।
প্রবন্ধটিতে টোয়েন তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের আশ্রয় নিয়ে সাম্রাজ্যবাদকে এক ধরনের ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যেখানে নৈতিকতার আবরণে লুকিয়ে থাকে শোষণ ও মুনাফার উদ্দেশ্য। তিনি দেখান, তথাকথিত “সভ্যতা” আসলে উপনিবেশিত মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এক পণ্য, যা তারা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। এই ব্যঙ্গাত্মক লেখাটির মাধ্যমে টোয়েন আমেরিকার প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ এবং তার সমসাময়িক কর্মকাণ্ডের মধ্যে গভীর দ্বিচারিতা তুলে ধরেন; তিনি ইঙ্গিত করেন যে যে পতাকা স্বাধীনতার প্রতীক হওয়ার কথা, সেটিই বিদেশের মাটিতে একপ্রকার জলদস্যুর পতাকায় পরিণত হয়েছে।
টোয়েন বিশেষভাবে সমালোচনা করেন চীনে কর্মরত খ্রিস্টান মিশনারিদের ভূমিকা যাদের বিরুদ্ধে তিনি দরিদ্র চীনা কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, এই আচরণ শুধু অমানবিকই নয়, বরং খ্রিস্টীয় নীতির পরিপন্থী এবং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের সঙ্গে জড়িত এক শোষণমূলক চৰ্চা।
সবশেষে, টোয়েন সতর্ক করে দেন যে ইউরোপীয় শক্তিগুলির সাম্রাজ্যবাদী পথ অনুসরণ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব গণতান্ত্রিক চেতনাকেই বিপন্ন করছে। যে “আলো” পশ্চিমা বিশ্ব ছড়ানোর দাবি করে, তা প্রকৃতপক্ষে এক ভ্রান্ত ও প্রতারণামূলক আলো, যা লোভ ও সহিংসতাকে আড়াল করে রাখে। ফলে, প্রবন্ধটির মূল বার্তা স্পষ্ট—যে রাষ্ট্র স্বাধীনতা ও জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, সে রাষ্ট্র অন্যত্র সেই একই অধিকার অস্বীকার করলে তার গণতান্ত্রিক চরিত্র অটুট থাকতে পারে না। ১২৫ বছর আগে যা আশঙ্কা করেছিলেন মার্ক টয়েন তা সত্যে পরিনত হয়েছে অনেক আগেই। সাম্প্রতিক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষিতে এই লেখাটিকে আরেক বার পড়ার চেষ্টা করেছি আমরা।
অন্ধকারে বসে থাকা আমাদের ভাইদের কাছে সভ্যতার আশীর্বাদ প্রসারিত করা একটি ভালো ব্যবসা এবং সামগ্রিকভাবে লাভজনক; এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করলে বেশ লাভজনক, –যদিও আমার বিবেচনায়, উল্লেখযোগ্য কোনো ঝুঁকি নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। অন্ধকারে বসে থাকা মানুষগুলি কমে যাচ্ছে—খুবই কমে গেছে এবং খুবই লাজুক হয়ে উঠেছে। এখন যে টুকু অন্ধকার অবশিষ্ট আছে তা সত্যিই নিম্ন মানের, ব্যবসার জন্য যথেষ্ট অন্ধকার নয়। অন্ধকারে বসে থাকা সেই মানুষগুলির বেশিরভাগকে আমরা তাদের জন্য ভালো বা আমাদের জন্য লাভজনক হওয়ার চেয়ে বেশি আলো সরবরাহ করে দিয়েছি। আমরা অবিবেচক ছিলাম।
সভ্যতার আশীর্বাদ বিতরণের খেলা, অভিজ্ঞ হাতে সতর্কতার সাথে পরিচালিত হলে, একটি চমৎকার খেলা। এতে অন্য যেকোনো খেলার চেয়ে বেশি টাকা, বেশি ভূখণ্ড, বেশি সার্বভৌমত্ব এবং অন্যান্য ধরনের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু খ্রিস্টান দেশগুলি সম্প্রতি এটি খারাপভাবে খেলছে, এবং আমার মতে, এর ফলে তারা নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সব যে সুযোগ সবুজ মোড়কে দেখা দিয়েছে তা ছোঁয়ার জন্য এতই উৎসাহ দেখাচ্ছে যে, অন্ধকারে বসে থাকা মানুষগুলি এটি লক্ষ্য করেছে—তারা লক্ষ্য করেছে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। তারা সভ্যতার আশীর্বাদ সম্বন্ধে সন্দিগ্ধ হয়ে উঠেছে। তার চেয়েও বেশি—তারা এগুলি পরীক্ষা করতে শুরু করেছে। এটা ভালো কথা নয়। সভ্যতার আশীর্বাদগুলি ঠিক আছে, এবং এগুলো ভালো বাণিজ্যিক সম্পত্তি; আবছা আলোয় এসবের চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। সঠিক ধরনের আলোয়, এবং উপযুক্ত দূরত্বে, পণ্যগুলি কিছুটা অস্পষ্ট হলে, অন্ধকারে বসে থাকা মানুষজনদের মনে হবে এর মধ্যে প্রেম, ন্যায়বিচার, মৃদুতা, খ্রিস্টধর্ম, দুর্বলদের সুরক্ষা, সংযম, আইনশৃঙ্খলা, স্বাধীনতা, সমতা, সম্মানজনক লেনদেন, করুণা, শিক্ষা......... ইত্যাদি প্রভৃতি নানা আকর্ষক উপাদান আছে।
দেখলেন তো। এটা কি ভালো? আরে মশাই, এটি এক্কেবারে এক হাঁড়ি রসগোল্লা। এটা যে কোনো অন্ধকারে বসে থাকা বোকাকে ক্যাম্পে নিয়ে আসবে। কিন্তু যদি আমরা এটাকে অপবিত্র করি তাহলে কিন্তু নয়। এই বিষয়টি ভাল করে বোঝা দরকার। এই ব্র্যান্ডটি কেবল রপ্তানির জন্য— সেটা বোঝেন তো। বুঝুন, ভালো করে বুঝুন ব্যাপারটা। ব্যক্তিগতভাবে এবং গোপনে বলি আপনাদের, এটি একেবারেই তা নয়। এই সব ভালো ভালো চকচকে, রঙিন, সুন্দর এবং আকর্ষক মোড়ক কেবল বাইরের আবরণ, যা আমাদের সভ্যতার বিশেষ নিদর্শন, যা আমরা নিজেদের দেশে ভোগের জন্য সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন করি, আর সেটাই কিনছে ভেবে অন্ধকারে বসে থাকা গ্রাহক যা কেনে তার মূল্য তাদের রক্ত, অশ্ৰু, জমি এবং স্বাধীনতা দিয়ে গুনতে হয়।
সেই আসল জিনিসটি সত্যিই 'সভ্যতা', কিন্তু এটি কেবল রপ্তানির জন্য। দেশের ভেতরের আর রপ্তানীকৃত ব্র্যান্ড দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? খুঁটিয়ে দেখুন, আছে বৈকি।
আমরা সকলে জানি যে এই ব্যবসাটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কারণ খুঁজতে হলে দূরে যেতে হবে না। এর জন্য দায়ী আমাদের মিস্টার ম্যাককিনলে, আর মিস্টার চেম্বারলেন, আর কাইজার, আর জার, আর ফরাসিরা—এরা সবাই বাইরের খোলস ছাড়াই আসল জিনিসটি রপ্তানি করে ফেলেছে। এটা ব্যবসার জন্য খারাপ। এতে প্রমাণিত হয় যে এই নতুন ব্যবসাদাররা এখনও রপ্তানী ব্র্যাণ্ডের সভ্যতার সঙ্গে যথেষ্ট পরিচিত নয়।
এই অদ্ভুত ও অসাড় ভুলগুলো লক্ষ করলে, মাইরি বলছি, বুক ফেটে যায়। মিস্টার চেম্বারলেন এমন অপর্যাপ্ত ও কল্পিত উপাদান থেকে একটা যুদ্ধ তৈরি করেন যা রপ্তানীকারীদের শোকাহত করে এবং দর্শকমণ্ডলিকে হাসায়; আর তিনি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এটা মোটেই টাকার জন্য ব্যক্তিগত লুণ্ঠন নয়, বরং এর মধ্যে কোথাও একটা অস্পষ্ট, ধোঁয়াটে সম্মানজনক ব্যাপার আছে, এবং পরে, যখন তিনি "সভ্যতা" কে কাদা মাখিয়ে একসা করার পর, যদি সেটাকে খুঁজে পান; তখন আবারসভ্যতার পতাকাটাকে পরিষ্কার করে চকচকে করে তুলবেন, এবং এটাকে আকাশে আবার ঝলমল করাবেন, যেমনটা, ওঁর অবিশ্বস্ত হাত এটির ওপর রাখার আগে, হাজার বছর ধরে বিশ্বের দরবারে ঝলমল করতো।
এটা খারাপ খেলা—খারাপ। কারণ এতে আসল জিনিসটি যারা অন্ধকারে বসে আছে তাদের কাছে উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে। তখন তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে: “সে কি! খ্রিস্টান খ্রিস্টানের বিরুদ্ধে? আর কেবল টাকার জন্য? এটাই কি উদারতা, সহিষ্ণুতা, ভালোবাসা, মৃদুতা, করুণা, দুর্বলের সুরক্ষা! এ এক অদ্ভুত ঘটনা, যেখানে এক হাতি ইঁদুররা তাকে অপমানের স্বরে কথা বলেছে এই অজুহাত দেখিয়ে ক্ষেতের ইঁদুরদের বাসায় আক্রমণ করে, কারণ কোনো ‘কোনো আত্মসম্মানী সরকার এই অপমান সহ্য করে না?' মিস্টার চেম্বারলেন প্রায় এই যুক্তিই রেখেছেন। ছোট দেশের জন্য এটা ভালো অজুহাত ছিল, কিন্তু বড় দেশের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয় বোধহয়?—কারণ সম্প্রতি রাশিয়া তিনবার হাতিকে অপমান করেও দিব্বি জীবিত ও অটুট রয়েছে। এটা কি সভ্যতা এবং অগ্রগতি? এটা কি আমাদের কাছে থাকা জিনিসের চেয়ে ভালো কিছু? ট্রান্সভালে এই লুণ্ঠন, দহন এবং মরুভূমি-বানানো—এটাই কি আমাদের অন্ধকারের উন্নতি? তাহলে কি দু রকম সভ্যতা আছে—একটা আমাদের নিজেদের জন্য এবং অন্যটা বাইরের, হিদেনদের বাজারের জন্য?”
এ সব দেখে যারা অন্ধকারে বসে আছে তারা বিচলিত হয়, মাথা নাড়ে; এবং তারা এক ব্রিটিশ সৈনিকের চিঠির এই অংশটি পড়ে, যেখানে সে ম্যাগার্সফনটাইনের ঘটনার কয়েকদিন আগের মেথুয়েনের এক বিজয়ের কথা বর্ণনা করেছে, পড়ে তারা আবার বিচলিত হয়:
“আমরা পাহাড় ডিঙিয়ে উপরে উঠলাম এবং গিরিখাতে ঢুকলাম, এবং বুয়ররা দেখল আমরা তাদের ধরে ফেলেছি; তাই তারা তাদের বন্দুক ফেলে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল এবং হাত জোড় করে করুণা প্রার্থনা করল। এবং আমরা তাদের করুণা দিলাম— লম্বা চামচটা দিয়ে।”
লম্বা চামচ মানে বেয়নেট। সেদিনগুলোর লন্ডনের লয়েডস উইকলি দেখুন। একই সংখ্যা—এবং একই কলামে—বুয়রদের নৃশংসতা ও অমানবিকতার জন্য কিছু ব্যঙ্গোক্তি সহ শোক ও তীব্র নিন্দায় ঠাসা!
আমাদের এইসব ভারি ক্ষয় ক্ষতির পরপরই, কাইজার, খেলাটা ভাল ভাবে না শিখেই খেলতে শুরু করলেন। তিনি শানটুং-এ একটা দাঙ্গায় দুজন মিশনারিকে হারালেন, এবং হিসাব কষে তাদের জন্য অতিরিক্ত চার্জ চাপালেন চীনের ওপর। চীনকে তাদের প্রত্যেকের জন্য এক লক্ষ ডলার টাকা দিতে হল; দিতে হলো বারো মাইল ভূখণ্ড, যাতে কয়েক লক্ষ বাসিন্দা আছেন এবং দু কোটি ডলার মূল্য, একটা স্মৃতিস্তম্ভ এবং একটা খ্রিস্টান গির্জা তৈরি করতে হল! চীনের লোকেরা এই দামী স্মৃতিচিহ্ন ছাড়াই মিশনারিদের মনে রাখত। এটা খারাপ খেলা ছিল। খারাপ, কারণ এটা অন্ধকারে বসে থাকা লোকেদেরও এখনও বা কখনো প্রতারিত করতে পারবে না। তারা জানে যে তাঁদের ঘাড়ে অত্যন্ত বি-সম একটা মুল্য চাপানো হচ্ছে। তারা জানে যে একজন মিশনারি অন্য যেকোনো মানুষের মতোই; তার মূল্য কেবল যা দিয়ে তার জায়গা ভর্তি করা যায়, তার বেশি নয়। সে উপকারী, কিন্তু ডাক্তারও উপকারী, শেরিফও উপকারী, সম্পাদকও উপকারী; কিন্তু কোনো ন্যায় পরায়ণ রাজা এদের জন্য এমন জন্য যুদ্ধের দাম চাইবেন না। একটা পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান কিন্তু অপ্ৰখ্যাত মিশনারি, এবং একটা পরিশ্রমী, বুদ্ধিমান দেশীয় সম্পাদক অনেক মূল্যবান, আমরা জানি; কিন্তু তাদের মূল্য সারা পৃথিবীর মূল্যের সমান হতে পারে না। আমরা এমন সম্পাদককে সম্মান করি, এবং তাঁর চলে যাওয়াতে দুঃখিত হই; কিন্তু, যখন তি ই চলে যান, আমরা বিবেচনা করব যে বারো মাইল ভূখণ্ড, একটা গির্জা, এবং একটা সম্পদ তাঁকে হারানোর জন্য অনেক বেশী ক্ষতিপূরণ। যদি সে চীনা সম্পাদক হতো, আমরা কি তার জন্য এই মূল্য নিতাম? এটা কোনো সম্পাদক বা মিশনারির জন্য উপযুক্ত মূল্য নয়; এর চেয়ে কম দামে দোকানে আধপচা রাজা বাদশা কিনতে পাওয়া যায়। কাইজারের পক্ষ থেকে এটা খারাপ খেলা ছিল। জার্মানি এই সম্পত্তি পেয়েছে, সত্যি; কিন্তু তার বদলে চীনের বিদ্রোহ, চীনের অপমানিত দেশপ্রেমিকদের ক্ষোভজনক উত্থান, বক্সারদের উৎপাদন করেছে। ফলাফল জার্মানির জন্য, এবং অন্যান্য অগ্রগতি ও সভ্যতার আশীর্বাদ-বিতরণকারীদের জন্য ব্যয়বহুল হয়েছে।
কাইজারের দাবি পরিশোধ করা হয়েছে, তবু এটা খারাপ খেলা ছিল, কারণ এটা চীনে অন্ধকারে বসে থাকা ব্যক্তিদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলেছে অব্যর্থ । অন্ধকারে থাকা মানুষেরা ঘটনাটির উপর চিন্তা করবে, এবং হয়তো বলাবলি করবে : “সভ্যতা কোমল ও সুন্দর, এমনই তার খ্যাতি; কিন্তু আমরা কি এটা বহন করতে পারি? চীনে ধনী লোক আছে, হয়তো তারা পারে; কিন্তু এই কর ধনীদের উপর নয়, শানটুং-এর কৃষকদের উপর; যাদের মজুরি মাত্র চার সেন্ট দিনে। এটা কি আমাদের চেয়ে ভালো সভ্যতা, আর পবিত্র, উচ্চতর, মহান? এটা কি লোভ? এটা কি চাঁদাবাজি নয়? জার্মানি কি আমেরিকাকে দুজন মিশনারির জন্য দুই লক্ষ ডলার চার্জ করবে, তার মুখের সামনে লোহার মুষ্টি নাড়াবে, যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে, সৈন্য পাঠাবে, এবং বলবে: ‘দুজন মিশনারির অতিরিক্ত মজুরি হিসেবে বিশ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বারো মাইল ভূখণ্ড দখল করো; এবং সেই কৃষকদের দিয়ে মিশনারিদের স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করাও, এবং তাদের মনে রাখার জন্য একটা দামি খ্রিস্টান গির্জা?' এবং এর পরে জার্মানি কি তার সৈন্যদের বলবে: ‘আমেরিকায় মার্চ করো এবং হত্যা করো, কাউকে রেহাই নয়; সেখানে জার্মান মুখ তৈরি করো, যেমন আমরা এখানে হুন-মুখ তৈরি করেছি, হাজার বছরের ভয়াবহতা; মহান মার্কিন প্রজাতন্ত্রের ওপর মার্চ করো এবং হত্যা করো, হত্যা করো, হত্যা করো, আমাদের আহত ধর্মের জন্য আমেরিকার হৃদয় ও অস্ত্র দিয়ে রাস্তা কেটে?' জার্মানি কি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়ার সঙ্গে এমন করবে? না কি ক্ষেতের ইঁদুরের উপর হাতির আক্রমণের অনুকরণ করে কেবল অসহায় চীনের সঙ্গেই এই আচরণ করা হবে? আমাদের কি এই সভ্যতায় বিনিয়োগ করা উচিত—এই সভ্যতা যা নেপোলিয়নকে ভেনিসের ব্রোঞ্জ ঘোড়া নিয়ে গেল বলে লুটেরা বলে, কিন্তু আমাদের দেয়াল থেকে প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যার যন্ত্র চুরি করে, এবং সাধারণ ডাকাতের মতো লুট করে, ভয়ার্ত গ্রাম আক্ৰমণ করে এবং প্রতিদিন দেশের আনন্দিত সংবাদপত্রে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে খবর দেয়: ‘চীনা ক্ষয়, ৪৫০ মৃত; আমাদের, একজন অফিসার এবং দুজন সৈনিক আহত। কালকেই পাশের গ্রামের বিরুদ্ধে অগ্রসর হব, যেখানে হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে।' অন্ধকার দেশের বাসিন্দারা কি এই সভ্যতা বহন করতে পারে?"
এবং পরবর্তীতে, রাশিয়াও অবশ্যই অবিবেচকভাবে খেলাটি খেলতে নামল। সে ইংল্যান্ডকে একবার বা দুবার অপমান করে; অন্ধকারে বসে থাকা ব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করে এবং নোট করে; ফ্রান্স ও জার্মানির নৈতিক সহায়তায়, সে জাপানের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ লুট করে –চীনা রক্তে ভেসে যাওয়া পোর্ট আর্থার ছিনিয়ে নেয়; অন্ধকারবাসী ব্যক্তি আবারও পর্যবেক্ষণ করে এবং নোট করে; তারপর রাশিয়া মাঞ্চুরিয়া দখল করে, তার গ্রামগুলো লুণ্ঠন করে, এবং অগণিত নিহত কৃষকের ফুলে ওঠা মৃতদেহ দিয়ে তার মহান নদীগুলো আটকে দেয়—সেই বিস্মিত ব্যক্তি তখনও পর্যবেক্ষণ করে এবং নোট করে। হয়তো সে নিজের মনে বলছে: “এটাও আরেকটি সভ্য শক্তি, চলেছে এক হাতে শান্তির পতাকা এবং অন্য হাতে লুণ্ঠনের ঝুড়ি ও কসাইয়ের ছুরি নিয়ে। আমাদের জন্য কি উদ্ধারের কোনো পথ নেই, শুধু সভ্যতা গ্রহণ করে নিজেদের তাদের স্তরে নামিয়ে আনা ছাড়া?”
এবং ক্রমে আমেরিকা আসে, এবং আমাদের খেলায় দক্ষ দেশটা খেলাটা বেশ খারাপভাবে খেলে অনেকটা দক্ষিণ আফ্রিকায় মিস্টার চেম্বারলেইন যেভাবে খেলছিলেন, সেভাবে। এটা করা একটি ভুল ছিল; এমন ভুল ছিল যা কিউবায় এত ভালোভাবে খেলা এক দেশের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। কিউবায়, আমেরিকা সাধারণ এবং নিয়মিত আমেরিকান খেলা খেলছিল, এবং তাতে লাভ হয়েছিল, কারণ এই পদ্ধতিতে হারার কোনো উপায় নেই। কিউবার প্রসঙ্গে এই খেলোয়াড় বলেছিলেন: “এখানে একটি নিপীড়িত এবং বন্ধুবিহীন ছোট জাতি রয়েছে যা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত; আমরা এদের অংশীদার হই, এবং সত্তর মিলিয়ন সহানুভূতিশীলের শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ দিয়ে খেলি!” শুধুমাত্র একত্রিত ইউরোপই সেই সেই সমর্থন কে ব্যর্থ করে তুলতে পারত: কিন্তু ইউরোপ কোনো কিছুতে একত্রিত হতে পারে না। সেখানে, কিউবায়, আমেরিকা আমাদের মহান ঐতিহ্যগুলোকে এমনভাবে অনুসরণ করছিল তার জন্য আমরা গর্ব বোধ করেছিলাম; কন্টিনেন্টাল ইউরোপে এই নিয়মে খেলা যে উস্কানিমূলক অসন্তোষ জাগাচ্ছিল তাতেও আমরা গর্বিত বোধ করছিলাম। উচ্চ প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, আমেরিকা ঘোষণা করেছিল যে যে কোনো জোরপূর্বক অধিগ্রহণ “অপরাধমূলক আগ্রাসন” রূপে গণ্য হবে; এবং সেই উক্তিতে “বিশ্বজুড়ে শোনা গুলির শব্দ” এর কথাও জুড়ে দিয়েছিল। সেই চমৎকার উক্তির স্মৃতি আমেরিকার কোনো কাজের স্মৃতিকে ছাড়িয়ে যাবে না।
দুর্ভাগ্য যে আমেরিকা এক বছরের মধ্যে এ সব ভুলে গেল।
এই আখ্যানের এই বিন্দুতে, আমাদের যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের বীরত্বের একটু অহংকার করা উচিত হবে, যাতে আমাদের কর্মকাণ্ড দক্ষিণ আফ্রিকায় ইংল্যান্ডের মতো চমৎকার দেখায়; কিন্তু আমি মনে করি এটাকে অতিরিক্ত জোর দেওয়া সবচেয়ে ভালো হবে না। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্যই, আমাদের সততা বজায় রাখার জন্য সবাইকে যুদ্ধ-টেলিগ্রামগুলো পড়তে হবে; কিন্তু আমরা তাদের উপর হাস্যরসের আভা ফেলতে পারি, এবং যা হয়তো তাদের ভীতিপ্রদ বাকপটুতাকে কিছুটা নরম করবে, এবং তাদের রক্তাক্ত উল্লাসের কিছুটা অসতর্ক
প্রদর্শনকে হয়তো সংযত করবে। নভেম্বর ১৮, ১৯০০-এর ১৮ ই নভেম্বরের ডিসপ্যাচগুলোর শিরোনামগুলো পড়ার আগে, প্রথমে ব্যক্তিগতভাবে তাদের উপর অনুশীলন করা উচিত, যাতে খবরগুলোয় সঠিক হালকা এবং আনন্দময় স্বাদ আনা যায়:
“ফিলিপিনো বিদ্রোহীদের১ জন্য সত্যিকারের যুদ্ধ সামনে!”
“কোনো দয়া দেখাব না!”
“কিচেনারের পরিকল্পনা গৃহীত!”
১. “বিদ্রোহী!” এই মজার শব্দটি বিড়বিড় করে বলুন - মানুষকে স্পষ্টভাবে শোনাবেন না৷
কিচেনার জানেন কীভাবে তাদের বাড়ি এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা অপ্রিয় লোকদের হ্যান্ডেল করতে হয়, এবং আমাদের দেখাতে হবে যে আমরা শুধু কিচেনারকে অনুকরণ করছি, এবং এই বিষয়ে, যে মহান সমাবেশে আমাদের মুখ্য খেলোয়াড় আমাদের জন্য পেছনের সারিতে একটা জায়গা কিনেছেন, সেই মহান জাতি গোষ্ঠীদের কাছে প্ৰশংসা পাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো জাতীয় স্বার্থ নেই।
অবশ্যই, আমাদের জেনারেল ম্যাকআর্থারের রিপোর্টগুলো উপেক্ষা করতে পারব না – ইসস!!!, কেন যে তারা এই লজ্জাজনক খবরগুলো ছাপতে থাকে?—আমাদের পাঠকদের বিষয়টা সহজপাচ্য করে দিতে হবে একটু ঝুঁকি নিয়ে: “গত দশ মাসে আমাদের ক্ষতি ২৬৮ জন নিহত এবং ৭৫০ জন আহত; ফিলিপিনোদের ক্ষতি, তিন হাজার দুইশো সত্তর সাত জন নিহত এবং ৬৯৪ জন আহত।”
আমাদের অন্ধকারে বসে থাকা ব্যক্তিকে ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ এই স্বীকারোক্তিতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন, বলবেন: “হে ঈশ্বর, সেই ' দেশী লোকগুলো' তাদের আহতদের বাঁচিয়ে রাখে, আর আমেরিকানরা তাদের হত্যা করে!”
আমাদের এই আঁধারবাসীদের জাগাতে হবে, এবং আদর করে তাঁদের আশ্বস্ত করতে হবে যে প্রভুর পথগুলো সবচেয়ে ভালো, এবং আমাদের দোষ খুঁজে বেড়ানো উচিত নয়। তারপর, তাদের দেখাতে হবে যে আমরা শুধু অনুকরণকারী, উদ্ভাবক নই, আমাদের ফিলিপাইনে এক আমেরিকান সৈনিকের মায়ের কাছে চিঠি থেকে নিম্নলিখিত অংশ পড়তে হবে, যা ডেকোরাহ, আইওয়া-এর পাবলিক ওপিনিয়নে প্রকাশিত, একটি বিজয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি বর্ণনা: “আমরা কাউকেই জীবিত রেখে যাইনি। যদি কেউ আহত হয়, আমরা তার মধ্যে বেয়োনেট ঢুকিয়ে দিতাম।”
এখন সকল ঐতিহাসিক তথ্য অন্ধকারে বসে থাকা ব্যক্তির সামনে রেখে দিয়ে, আমাদের তাকে আবার জাগাতে হবে এবং ভালো করে ব্যাখ্যা করতে হবে। আমাদের তাকে বলতে হবে : “এগুলো দেখতে সন্দেহজনক—হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে—কিন্তু, প্রিয় পাঠক, কেবলমাত্র সেই রকম দেখায় বলেই তো সত্য হয় না! আমরা মিথ্যা বলেছি—এ কথা অস্বীকার করছি না—কিন্তু সে মিথ্যা ছিল একেবারেই ভদ্রলোকোচিত, উন্নত উদ্দেশ্যে নিবেদিত। আমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি—হ্যাঁ, করেছি—কিন্তু তা ছিল বৃহত্তর নৈতিক উত্তেজনার স্বার্থে, যেন পাপটাকেও একটু শিক্ষিত করে তোলা যায়।
স্বীকার করছি, আমরা এক নিরীহ, সরল এবং বিশ্বাসপ্রবণ জাতিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছি; যারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তাদের দিকেই ফিরেছি অস্ত্র তাক করে; এক সুবিবেচিত, সুশৃঙ্খল প্রজাতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করেছি; মিত্রের পিঠে ছুরি মেরেছি, অতিথির গালে সপাটে চড় কষিয়েছি; এমন এক শত্রুর কাছ থেকে ছায়া কিনেছি, যার নিজেরই তা বিক্রি করার অধিকার ছিল না; এক বিশ্বস্ত বন্ধুর ভূমি ও স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছি; এবং আমাদের ঝকঝকে, সদ্য-স্নাত তরুণদের কাঁধে এক অপমানিত বন্দুক চাপিয়ে দিয়ে এমন কাজে পাঠিয়েছি, যা দস্যুরাও করতে কুণ্ঠিত হয়—এবং সবটাই সেই পতাকার তলায়, যেটা দেখে দস্যুরাও ভয়ে পথ বদলাত!
হ্যাঁ, আমরা আমেরিকার সম্মানকে খানিকটা মলিন করেছি, তার মুখে বিশ্বসমক্ষে একটু কালি মেখে দিয়েছি—কিন্তু, আহা! প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল “মহৎ উদ্দেশ্যে।” আমরা তা জানি—আর আমরা যখন জানি, তখন তো সেটাই যথেষ্ট!
খ্রিস্টধর্মীয় প্রতিটি রাষ্ট্রের কর্ণধার, প্রতিটি আইনসভার নব্বই শতাংশ সদস্য—আমাদের কংগ্রেস, আমাদের পঞ্চাশ রাজ্যের বিধানসভা— সবাই কেবল গির্জার সদস্যই নন, তাঁরা সভ্যতার আশীর্বাদ-ট্রাস্টেরও বিশ্বস্ত রক্ষক। এই সুপ্রশিক্ষিত নৈতিকতা, এই উচ্চ নীতি, এই সুবিচারের সঞ্চয়—এরা কি কখনও অন্যায়, অবৈধ, অকৃপণ বা অপবিত্র কিছু করতে পারে? না, কখনওই না! এরা জানে তারা কী করছে। অতএব, উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই—সবই ঠিক আছে, বরং অত্যন্ত চমৎকারভাবে ঠিক আছে।
এখন, এই বক্তব্যটি ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করবে—আপনি দেখবেন। ব্যবসা আবার চাঙা হয়ে উঠবে—অবশ্যই উঠবে। আর তদুপরি, আমাদের জাতীয় দেবতাদের পবিত্র ত্রয়ীতে যে শূন্যস্থান ছিল, সেখানে আমরা নতুন প্রতিমা বসাতে চলেছি। সেই উচ্চ সিংহাসনে যুগের পর যুগ তিনজন বিরাজ করবেন—জনগণের দৃষ্টির সামনে—প্রত্যেকে নিজের কীর্তির প্রতীক হাতে:
ওয়াশিংটন—মুক্তিদাতার তলোয়ার;
লিংকন—দাসের ভাঙা শিকল;
আর আমাদের নতুন গুরু—মেরামতকৃত শিকল। কী অপূর্ব অগ্রগতি!
এতে ব্যবসার এক নতুন ভোরের সূচনা হবে—আপনারা দেখবেন। সবকিছুই এখন সমৃদ্ধ, সবকিছু আমাদের ইচ্ছামতো চলছে। আমরা দ্বীপপুঞ্জটা পেয়েছি—এবং, স্বভাবতই, তা কখনও ছাড়ব না। তাছাড়া, এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে অচিরেই আমরা কিউবার সঙ্গে করা আমাদের কংগ্রেসীয় প্রতিশ্রুতি থেকে চুপিসারে সরে এসে তার বদলে তাকে “আরও ভালো” কিছু উপহার দেব। দেশটি ধনী—এবং আমরা ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করতে শুরু করেছি যে সেই পুরোনো চুক্তিটি ছিল বড্ড বেশি আবেগপ্রবণ ভুল।
কিন্তু এই মুহূর্তে—ঠিক এই মহামূল্যবান মুহূর্তে—লাভজনক পুনর্বিন্যাসের কাজটাই সবচেয়ে জরুরি, যা আমাদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে, আমাদের আরাম দেবে, এবং সর্বোপরি, অনর্থক গুজবচর্চার পথ বন্ধ করবে।
তবুও, একেবারে সত্যি কথা বলতে গেলে—(যদিও সত্যি কথাটা আমরা সাধারণত সাবধানে ব্যবহার করি)—আমরা আমাদের ইউনিফর্ম নিয়ে একটু চিন্তিত। এটি আমাদের গর্ব, আমাদের সম্মানের প্রতীক; এটি মহান কাজ ও উচ্চ আদর্শের সঙ্গে যুক্ত। আমরা একে ভালোবাসি, শ্ৰদ্ধা করি—আর সেই কারণেই, এর বর্তমান ব্যবহার আমাদের সামান্য অস্বস্তিতে ফেলে।
আর আমাদের পতাকা—আহা, আমাদের সর্বোচ্চ গর্ব! কত ভক্তিভরে আমরা একে শ্রদ্ধা করেছি! দূর দেশের আকাশে যখন এটি হঠাৎ উড়তে দেখা যায়—অপরিচিত নীলিমায় অপ্রত্যাশিতভাবে দোল খেতে খেতে যেন আমাদের স্বাগত জানায়—তখন আমাদের নিঃশ্বাস আটকে আসে, মাথা অনায়াসেই নত হয়ে যায়... "
এবং আমরা নিশ্চিন্ত হই—কারণ আমরা জানি, এই সবকিছুই, নিঃসন্দেহে, সর্বোত্তম উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।
dc | 2402:e280:2141:1e8:3497:cff8:ed80:***:*** | ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২২739798