এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • রাষ্ট্রের খেলা, ক্ষমতার জুয়া এবং আমাদের মহার্ঘ বিভ্রম

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৬৪ বার পঠিত
  • ধরুন আপনি পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানে বসে আছেন। পাশে দুইজন লোক মারামারি করছে — একজনের নাম আমেরিকা, আরেকজনের নাম ইরান। তাদের মারামারি দেখতে দেখতে আপনি লক্ষ করলেন, একটু দূরে দাঁড়িয়ে দুটো লোক নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করছে, মাঝেমধ্যে একজনের হাতে চুপিচুপি কিছু একটা দিয়ে দিচ্ছে। সেই দুটো লোকের নাম রাশিয়া এবং চীন। এই পরিস্থিতি দেখে হান্স জে. মর্গেনথাউ নামক এক জার্মান-আমেরিকান ভদ্রলোক — যিনি ১৯৫০-এর দশকে বলেছিলেন, "আন্তর্জাতিক রাজনীতি মানেই ক্ষমতার সংগ্রাম" — তিনি তাঁর কবরে নিশ্চয়ই মৃদু হেসে বলছেন, "বলেছিলাম না?"
     
    কিন্তু আমরা — মানে আমজনতা — এখনও বিশ্বাস করি যে যুদ্ধ মানে দুটো দেশের ঝগড়া। ঠিক যেমন আমরা বিশ্বাস করি পাড়ার মোড়ের মারামারিতে শুধু দুজনই জড়িত, পেছনের গলির ষড়যন্ত্রকারীরা নয়। এই বিশ্বাসটি মনোরম, কিন্তু ঠিক ততটাই সত্য যতটা সত্য "আমাদের নেতারা দেশের কথা ভেবে রাত ঘুমাতে পারেন না" — এই দাবিটি।
     
    "আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বন্ধু নেই, শত্রু নেই — আছে শুধু স্বার্থ। এটা মর্গেনথাউ বলেছিলেন। এটা পামার্স্টনও বলেছিলেন। এবং এটা আপনার পাড়ার সেই চাচাও জানেন, যিনি প্রতি নির্বাচনে দল বদলান।"
     
    ২৮ ফেব্রুয়ারি: যেদিন পৃথিবী কাঁপল এবং তেলের দাম হাসল
     
    ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে শুরু করল 'অপারেশন এপিক ফিউরি' — নামটি শুনলে মনে হয় হলিউডের কোনো সিক্যুয়েলের টাইটেল। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হলেন। পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধুলোয় মিশে গেল। এরপর যা হওয়ার তাই হলো — বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে জরুরি বৈঠক, জাতিসংঘে বক্তৃতার ঝড় এবং তেলের বাজারে রাতারাতি উৎসব।
     
    তেলের বাজারে উৎসব কারণ তেলের দাম বাড়লে কারও কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আলো জ্বলে। মানবিক বিপর্যয়, মৃত্যু, বাস্তুহারা মানুষ — এগুলো খবরের পাতার জন্য; কিন্তু তেলের ব্যারেলের দর কত উঠল, সেটা বোর্ডরুমের আলোচনা। এটা নিষ্ঠুর? হ্যাঁ। এটা বাস্তব? মর্গেনথাউ বলতেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে হ্যাঁ।
     
    এখন প্রশ্ন হলো: এই যুদ্ধে কারা গোপনে হাত মেলাল? কারণ কোনো যুদ্ধই — এমনকি পাড়ার মোড়ের সেই মারামারিটিও — কখনো শুধু দুজনের মধ্যে সীমিত থাকে না। সবসময় একটা "তৃতীয় পক্ষ" থাকে, যে দূর থেকে দেখে, মাঝেমধ্যে উৎসাহ দেয়, এবং শেষে নিজের ভাগটুকু বুঝে নেয়।
     
    রাশিয়া: সেই পুরনো মিত্র, যার বন্ধুত্বে সবসময় একটা শর্ত থাকে
     
    রাশিয়াকে বোঝার জন্য একটা সহজ উপমা দিই। ধরুন আপনার একজন বন্ধু আছে, যে আপনাকে তখনই সাহায্য করে যখন তাতে তার নিজেরও লাভ হয়। আপনার বিপদে সে পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু আপনার সুদিনে সে কোথায় থাকে আপনি জানেন না। রাশিয়া ঠিক এরকমই ইরানের "বন্ধু" — বন্ধুত্বের উষ্ণতা ততক্ষণই আছে যতক্ষণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অস্বস্তিতে ফেলা যায়।
     
    ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কোর হিসাবটা সরল: আমেরিকাকে একসঙ্গে দুই জায়গায় ব্যস্ত রাখো — ইউরোপে আর মধ্যপ্রাচ্যে। তাহলে মস্কোর নিজের হাতের কাজটা নিরাপদে করা যাবে। এই হিসাবকে রিয়েলিস্টরা বলেন "ব্যালেন্স অফ পাওয়ার" — কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাষায় বললে এটা হলো: "তুমি ব্যস্ত থাকো, আমি আমার কাজ সারি।"
     
    তাই গোপনে — সিরিয়া বা অন্য কোনো মধ্যস্থতার পথ ধরে — রাশিয়া ইরানকে দিয়েছে ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট তথ্য এবং কূটনৈতিক ছাদ। এই ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে ইরান তার প্রক্সি নেটওয়ার্ক — হিজবুল্লাহ, হুথি, ইরাকি মিলিশিয়া — সক্রিয় রাখতে পেরেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে, আমেরিকার সম্পদ ক্ষয় হয়েছে, আর রাশিয়া দূর থেকে দেখেছে এবং তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে।
     
    এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা: রাশিয়া কিন্তু ইরানকে ভালোবাসে না। সে ইরানকে ব্যবহার করে। ইরানও জানে এটা। কিন্তু উভয়েরই আপাতত একটাই শত্রু — মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা। শত্রুর শত্রু বন্ধু — এই প্রবাদটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এত জনপ্রিয় যে এটাকে রিয়েলিজমের অলিখিত সংবিধান বলা চলে।
     
    চীন: মঞ্চে "শান্তির দূত", মঞ্চের পেছনে কী?
     
    চীনের কৌশলটি আরও মনোরম। বেইজিং প্রকাশ্যে বলছে, "আমরা শান্তি চাই, আলোচনা চাই, উভয় পক্ষের সংযম দরকার।" এই বক্তব্য শুনলে আপনার মনে হবে চীন হলো একজন অতি-ভদ্র প্রতিবেশী, যে পাশের বাড়ির মারামারিতে মাথা না দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত। কিন্তু বাস্তবে?
     
    বাস্তবে চীনের অবস্থা অনেকটা সেই রেফারির মতো, যে মুখে নিরপেক্ষতার কথা বলে কিন্তু হলুদ কার্ড দেয় শুধু একটা দলকে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চীনের তেল আমদানির বিশাল অংশ যায়। এই প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকলে চীনের সুবিধা; না থাকলে আমেরিকার সুবিধা। তাহলে চীন কার পক্ষে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য রকেট বিজ্ঞান লাগে না।
     
    "চীন গোপনে রেনমিনবিতে তেল কিনে ইরানের অর্থনীতিকে অক্সিজেন দিয়েছে, কূটনৈতিক চ্যানেলে আশ্বাস দিয়েছে — এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে 'শান্তির দূত' সেজে বক্তৃতা দিয়েছে। এই দক্ষতাকে কূটনৈতিক ভাষায় বলে 'strategic ambiguity'; বাংলায় বললে: দুই নৌকায় পা দিয়ে হাঁটার শিল্প।"
     
    চীনের আসল লক্ষ্য হলো তাইওয়ান। সেখানে সুযোগ পেতে হলে দরকার — আমেরিকা যেন মধ্যপ্রাচ্যে এতটাই আটকে যায় যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নজর দেওয়ার সময়-সুযোগ না থাকে। ইরানকে টিকিয়ে রাখলে এই কাজটা হয়। তাই গোপন অর্থায়ন, গোয়েন্দা সহায়তা এবং কূটনৈতিক ছত্রছায়া — এই তিনটি অস্ত্র দিয়ে চীন একটা মাস্টারক্লাস পারফর্ম করছে "কীভাবে যুদ্ধে না জড়িয়ে যুদ্ধের ফল পাওয়া যায়।"
     
    অন্য খেলোয়াড়রা: পাকিস্তান থেকে ব্রিটেন
     
    আন্তর্জাতিক রাজনীতির মজা হলো, এখানে খেলোয়াড়ের সংখ্যা কখনো দুইয়ে সীমিত থাকে না। পাকিস্তানের কথাই ধরুন। ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে মধ্যস্থতার কথা বলছে, কিন্তু গোপনে ইরানকে সীমান্ত-সহায়তা দিয়েছে বলে ধারণা করা যায়। কেন? কারণ পাকিস্তানের স্বার্থ হলো ভারতের প্রভাব কমানো, আর ভারত এই যুদ্ধে নিঃশব্দে আমেরিকার দিকে ঝুঁকেছে। শত্রুর বন্ধু মানেই শত্রু — তাই পাকিস্তান চায় ইরান টিকে থাকুক।
     
    ব্রিটেনের ভূমিকাটা আরও আকর্ষণীয়। মার্চ ২০২৬-এ ব্রিটিশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল গোপনে জেনেভায় মার্কিন-ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ব্রিটেন প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করে, কিন্তু গোপনে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টাও করে। এই দ্বিচারিতাটি ব্রিটিশ কূটনীতির বহু পুরনো ঐতিহ্য — ঔপনিবেশিক যুগ থেকে এটি চলে আসছে, শুধু পোশাক বদলেছে।
     
    এখন ভারতের কথা বলা যাক। নয়াদিল্লি মুখে "কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন"-এর কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে চীন-পাকিস্তান অক্ষকে ভয় পায়। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ রাখে, ইরানের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কও ছিন্ন করে না। ভারতের এই অবস্থান দেখে মর্গেনথাউ বলতেন, "এটাই সঠিক রিয়েলিস্ট নীতি।" আমি বলব, এটা অনেকটা সেই লোকের মতো যে শ্বশুরবাড়িতে গেলে বলে "এখানেই ভালো", আর নিজের বাড়িতে ফিরলে বলে "এখানেও ভালো।" উভয়ক্ষেত্রেই সে সৎ নয়, কিন্তু উভয়ক্ষেত্রেই সে টিকে আছে।
     
    মর্গেনথাউয়ের ভূত এবং আমাদের নৈতিক বিভ্রম
     
    এই পুরো বিশ্লেষণটি পড়ে আপনার মনে হতে পারে, "তাহলে কি নৈতিকতা বলে কিছুই নেই? সবই কি ক্ষমতার খেলা?" মর্গেনথাউ বলতেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নৈতিকতার জায়গা আছে, কিন্তু সেটা রাষ্ট্রের আচরণের মূল চালিকাশক্তি নয়। রাষ্ট্র যখন "মানবাধিকার রক্ষা" বা "গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা"র কথা বলে তেল-সমৃদ্ধ দেশে যুদ্ধ করে, তখন বুঝতে হবে — নৈতিকতাটা আসলে একটা আবরণ, ভেতরে আছে জাতীয় স্বার্থের শক্ত কঙ্কাল।
     
    এটা শুনতে কঠোর লাগে। কিন্তু ভাবুন: ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকা "কমিউনিজম রোধ"-এর কথা বলেছিল। আফগানিস্তানে বলেছিল "সন্ত্রাসবাদ দমন"। ইরাকে বলেছিল "গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস"। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নৈতিক আবরণের আড়ালে ছিল কৌশলগত স্বার্থ — তেল, আধিপত্য, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। ইরানের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নেই।
     
    একইভাবে, রাশিয়া যখন "আমেরিকার আগ্রাসন"-এর বিরুদ্ধে কথা বলে, সেটাও বিশুদ্ধ নৈতিক আপত্তি নয় — সেটা ক্ষমতার রাজনীতি। চীন যখন "সার্বভৌমত্বের সম্মান"-এর কথা বলে, সেটাও তাইওয়ানকে মাথায় রেখে বলা কথা। সবাই নিজের স্বার্থের কথা অন্যের ভালোর ভাষায় বলে — এই শিল্পটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির সবচেয়ে পুরনো এবং সবচেয়ে সফল কলা।
     
    যুদ্ধের পরিণতি: ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, মানুষের বলিদান
     
    পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি চলা এই যুদ্ধ এবং এপ্রিলের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরেও উত্তেজনা কমেনি। রাশিয়া ও চীনের গোপন সহায়তায় ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি — হোক না তার নেতৃত্ব নিহত, স্থাপনা বিধ্বস্ত। রাষ্ট্র মরে না, রাষ্ট্র রূপান্তরিত হয়। এবং এই রূপান্তরের মধ্যে থেকেও ইরান হরমুজ প্রণালীতে যথেষ্ট ঝামেলা করেছে যাতে তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আভাস দেখা গেছে।
     
    আর এই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন কারা? ইরানের সাধারণ মানুষ, লেবাননের পরিবারগুলো, ইয়েমেনের শিশুরা, ইরাকের কৃষকরা — এবং বিশ্বব্যাপী সেই কোটি কোটি মানুষ যাদের তেলের দাম বাড়লে রান্নার গ্যাসের বিল বাড়ে। রাষ্ট্রগুলো "জাতীয় স্বার্থ" রক্ষা করছে — কিন্তু সেই স্বার্থ রক্ষার খরচটা দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
     
    এটাই রিয়েলিজমের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য, যেটা মর্গেনথাউ বলেছিলেন কিন্তু তাঁর অনুসরণকারীরা প্রায়ই ভুলে যান: ক্ষমতার রাজনীতি বিশ্লেষণ করা মানে তাকে সমর্থন করা নয়। "এটাই বাস্তবতা" বলে মেনে নেওয়া মানে "এটাই হওয়া উচিত" বলে সায় দেওয়া নয়। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা কথা — যদিও অনেক কথিত রিয়েলিস্ট এই পার্থক্যটা সুবিধামতো মুছে ফেলেন।
     
    শীতল যুদ্ধের আয়নায় গরম মধ্যপ্রাচ্য
     
    ইতিহাস বইয়ের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই খেলাটা নতুন নয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন গোপনে উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন দিয়েছিল। কোরিয়া যুদ্ধে চীন "স্বেচ্ছাসেবক সেনা" পাঠিয়েছিল। আফগানিস্তানে আমেরিকা সোভিয়েত-বিরোধী মুজাহিদিনদের অস্ত্র দিয়েছিল — এবং পরে সেই একই মুজাহিদিনদের উত্তরসূরিরা টুইন টাওয়ার ধ্বংস করেছিল। ইতিহাসের এই মর্মান্তিক পরিহাস দেখে মর্গেনথাউ নিশ্চয়ই বলতেন, "ক্ষমতার খেলায় বুমেরাং একটি স্থায়ী হাতিয়ার।"
     
    এই ইতিহাস মাথায় রেখে ২০২৬ সালের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে: রাশিয়া-চীনের গোপন সমর্থনে ইরান যদি আবার মাথা তোলে, যদি নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকাকে আরও সম্পদ ঢালতে হবে মধ্যপ্রাচ্যে। এই সম্পদ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে খরচ হবে না। ফলে তাইওয়ান নিয়ে চীনের সুযোগ বাড়বে।
     
    এটাকে একটি দাবা খেলার সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে একটি গুটি সরানো মানে বোর্ডের অন্য প্রান্তে আরেকটি সুযোগ তৈরি হওয়া। রাশিয়া-চীন এই খেলাটা অনেক পরিণত মাথায় খেলছে। আমেরিকা প্রতিটি চাল দিচ্ছে দৃঢ়তার সঙ্গে, কিন্তু বোর্ডের বড় ছবিটা মাঝেমাঝে মিস করছে।
     
    তাহলে আমরা কী করব?
     
    এই দীর্ঘ বিশ্লেষণের শেষে সাধারণ পাঠক স্বভাবতই জিজ্ঞেস করতে পারেন: "ঠিক আছে, বুঝলাম সব ক্ষমতার খেলা। কিন্তু তাহলে আমরা — মানে আমজনতা — কী করব?" এই প্রশ্নের উত্তর মর্গেনথাউ দেননি, কারণ তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের তাত্ত্বিক, মানুষের নয়।
     
    কিন্তু আমি বলব: প্রথম কাজ হলো নৈতিক আবরণটা সরিয়ে বাস্তবতাটা দেখা। যখন কোনো শক্তিধর রাষ্ট্র "মানবতার স্বার্থে" যুদ্ধ ঘোষণা করে, তখন প্রশ্ন করুন — মানবতার কোথায় স্বার্থ? আর শক্তিধরের কোথায়? দুটো একই জায়গায় মিলছে কি? যদি না মেলে, তাহলে বুঝতে হবে "মানবতার স্বার্থ" শব্দগুলো আসলে একটা প্রসাধনী, আসল চেহারাটা আলাদা।
     
    দ্বিতীয় কাজ হলো গোপন হস্তক্ষেপকারীদের চেনা। যে দেশগুলো দূর থেকে ফিসফিস করছে, অস্ত্র দিচ্ছে, অর্থ দিচ্ছে — তাদের চেনা এবং তাদের স্বার্থটাও বোঝা। রাশিয়া কেন ইরানকে সাহায্য করছে? চীন কেন চুপ থেকে চুপিচুপি কাজ করছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজলে বোঝা যাবে বিশ্বের ক্ষমতার মানচিত্রটা আসলে কেমন।
     
    তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ: মনে রাখা যে রাষ্ট্রের "জাতীয় স্বার্থ" আর নাগরিকের "স্বার্থ" সবসময় এক নয়। রাষ্ট্র যখন যুদ্ধ করে, সাধারণ মানুষই মরে। রাষ্ট্র যখন তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে হস্তক্ষেপ করে, সাধারণ ইরানি পরিবারই বাস্তুহারা হয়। ক্ষমতার এই নির্মম যুক্তিটা যখন বোঝা যাবে, তখনই হয়তো আমরা এর বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করব।
     
    উপসংহার: মর্গেনথাউ সত্যি বলেছিলেন, কিন্তু পুরোটা বলেননি
     
    হান্স জে. মর্গেনথাউ ক্ষমতার রাজনীতির যে বিশ্লেষণ দিয়েছিলেন, সেটা অনেকাংশে সত্য। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ — এবং তাতে রাশিয়া-চীনের গোপন হস্তক্ষেপ — মর্গেনথাউয়ের তত্ত্বকে আরও একবার প্রমাণ করেছে। রাষ্ট্রগুলো জাতীয় স্বার্থ দিয়ে চালিত হয়, নৈতিকতা দিয়ে নয়। ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
     
    কিন্তু মর্গেনথাউ যেটা পুরোপুরি বলেননি — বা যা পরে তাঁর অনুসরণকারীরা সুবিধামতো এড়িয়ে গেছেন — সেটা হলো: এই বিশ্লেষণ একটা রোগ নির্ণয়, সমাধান নয়। রোগ নির্ণয় করার পর চিকিৎসা না করলে রোগী মরে। রাষ্ট্রের ক্ষমতার খেলার মাঝে মানুষের জীবন, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ বলি হচ্ছে — এই সত্যটার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু "এটাই বাস্তবতা" বলে হাত ধুয়ে ফেলাটা আসলে একধরনের নৈতিক পলায়নবাদ।
     
    পাড়ার মোড়ের সেই মারামারির উপমায় ফিরে যাই। দুজন লড়ছে, দূরে দাঁড়িয়ে দুজন ইন্ধন দিচ্ছে — এই পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমান মানুষ শুধু বিশ্লেষণ করে না, সে মারামারি থামানোর কথাও ভাবে। হয়তো একা পারবে না। হয়তো এই লেখা পড়ে পৃথিবী বদলাবে না। কিন্তু অন্তত চায়ের কাপ হাতে নিয়ে, ক্ষমতার এই খেলার দর্শক হিসেবে, আমরা যদি একটু সচেতন হই — বুঝি কে কেন কী করছে — তাহলে হয়তো একদিন এই খেলার নিয়ম বদলানোর দাবি উঠবে।
     
    মর্গেনথাউ বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি হলো ক্ষমতার সংগ্রামের বিজ্ঞান। সত্যি কথা। কিন্তু বিজ্ঞানের কাজ শুধু বর্ণনা করা নয়, রূপান্তরও করা। সেই রূপান্তরের স্বপ্নটুকু না থাকলে রিয়েলিজম হয়ে ওঠে নিষ্ঠুরতার দার্শনিক সনদ। এবং সেটা, এমনকি রিয়েলিস্টদের কাছেও, কাম্য হওয়া উচিত নয়।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:d503:9711:6b00:***:*** | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:০৯739774
  • এই লেখাটা ভীষন ভালো লাগলো। অন্য একটা টইতে দেবজিৎ ঘোষ একটা সিরিজ লিখছেন, তার দ্বিতীয় পর্ব, আর এই লেখাটা, দুটোই রিয়েলিস্টিক অ্যানালিসিস হয়েছে, যা সাধারনত দেখতে পাই না। 
     
    ইরানের আয়াতোল্লারা আর তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক, ইজরায়েলে নেতানিয়াহু, রাশিয়ায় পুটিন, অ্যামেরিকায় ট্রাম্প, চীনে শি, সবাই নিজের নিজের স্বার্থে নিজের মতো করে খেলছে। এরা কেউ নিজেদের দেশের লোকেদের কথা ভাবেনা, সবাই নিজের মতো করে নিজের ক্ষমতা বাড়াতে চায়। আর আমরা কফি হাউসে বসে চায়ের কাপে ঝড় তুলি :-)
     
    "এই দীর্ঘ বিশ্লেষণের শেষে সাধারণ পাঠক স্বভাবতই জিজ্ঞেস করতে পারেন: "ঠিক আছে, বুঝলাম সব ক্ষমতার খেলা। কিন্তু তাহলে আমরা — মানে আমজনতা — কী করব?"
     
    আমার মতে আমরা, ম্যাঙ্গো পিপুল, কিস্যুই করবো না, কারন কিছু করার সুযোগ আমাদের নেই। জ্যারেড কুশনার আর রেভোলিউশনারি গার্ডের কোন ডেপুটি চিফ, যে এখনো অক্কা পায় নি, যখন আলোচনা করে তখন আমাদের ডাকে না। আমরা স্রেফ টাইম পাস করার জন্য য়ুটুব ভিডিও বানাবো, সেখানে বলবো জানো তো, আসলে এই কারনে ইজরায়েল হনুলুলু আক্রমন করেছে। সেই ভিডিও খুব হিট হবে আর আমরা আমাদের মতো করে ইনকাম করবো :-)
  • বিশ্বগুরু | 2401:4900:91fd:33b6:2cac:3456:57d9:***:*** | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১২739775
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:9502:4748:e68a:***:*** | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৪739776
  • আগের হপ্তায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে লিখেছিল যে ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখে নাকি নেতানিয়াহু সাদাবাড়িতে ট্রাম্পের সাথে দেখা করে আর বোঝায় লোহা গরম হ্যায়, মার দো হাতোড়া। নেতানিয়াহুর (আর ইজরায়েলি ইনটেলিজেন্সের) অ্যানালিসিস নাকি ট্রাম্পের পছন্দ হয়, আর ট্রাম্পের ইনার সার্কেল (মানে জ্যারেড কুশনার, স্টিভ উইটকফ, সুসি ওয়াইল্স ইত্যাদিরা) বলে যে এখনই ইরান সবচেয়ে উইক, কারন ইজরায়েল ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ককে কেলিয়ে পাট করে দিয়েছে, আর ইরানে অভ্যন্তরীন অসন্তোষ বাড়ছে। আয়াতোল্লার গদি টলছে। তখন ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেয়, বসন্ত এসে গেছে। ফলে যুদ্ধ ​​​​​​​শুরু। 
     
    কিন্তু ​​​​​​​কবি ​​​​​​​বলেছেন, ​​​​​​​নো ​​​​​​​ব্যাটল ​​​​​​​প্ল্যান সারভাইভস ​​​​​​​ফার্স্ট ​​​​​​​কনট্যাক্ট ​​​​​​​উইথ ​​​​​​​দি ​​​​​​​এনিমি। ​​​​​​​ট্রাম্প ​​​​​​​ভেবেছিল খামেনেইকে ​​​​​​​টপকে ​​​​​​​দিলে ইরানের ​​​​​​​অটোক্রেটিক ​​​​​​​রেজিম ​​​​​​​ভেঙে ​​​​​​​পড়বে, ​​​​​​​কিন্তু ​​​​​​​বাস্তবে ​​​​​​​তা ​​​​​​​হলো ​​​​​​​না। অলরেডি ​​​​​​​ইরানের ​​​​​​​রেভোলিউশনারি ​​​​​​​গার্ডরা ​​​​​​​হাজার তিরিশেক ​​​​​​​ইরানিকে ​​​​​​​টপকে ​​​​​​​দিয়েছে, ​​​​​​​তাই ​​​​​​​ইরানিরা ​​​​​​​আর ​​​​​​​ঝামেলা ​​​​​​​বাড়াতে ​​​​​​​চায়না। ​​​​​​​বসন্ত ​​​​​​​এলো ​​​​​​​না, ​​​​​​​এদিকে ​​​​​​​তেলের ​​​​​​​দাম ​​​​​​​বেড়ে ​​​​​​​গিয়ে ​​​​​​​ট্রাম্প ​​​​​​​আর রিপাবলিকানরা মিডটার্মে ভরাডুবির ​​​​​​​মুখে ​​​​​​​এসে দাঁড়ালো। সেই ​​​​​​​সুযোগে ​​​​​​​চীন, ​​​​​​​পাকিস্তান, নর্থ কোরিয়া, এলিয়েন, আরও ​​​​​​​কারা ​​​​​​​সব ​​​​​​​এসে ​​​​​​​মধ্যস্থতা ​​​​​​​শুরু করলো। ​​​​​​​ফলে ​​​​​​​যুদ্ধ শেষ। এই তো হলো ব্যাপার। 
     
    এনওয়াই ​​​​​​​টাইমসের রিপোর্টঃ 
  • Debanjan Banerjee | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:০২739778
  • লেখককে অজস্র ধন্যবাদ রিয়ালিজমের বাস্তবটা সঠিক ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্যে | ভালো লাগলো এই লেখাটা পড়ে | তবে একটা ব্যাপার এই যুদ্ধের মূল হোতা কিন্তু ইস্রাঈল , আম্রিকা নয় | হয়তো এটাই প্রথম যুদ্ধ যেখানে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ইস্রাঈল , আম্রিকার মত বিশাল সুপারপাওয়ারকে নিজের কাজে ইচ্ছামত ব্যবহার করতে পেরেছে | এই যুদ্ধ এক্ষেত্রে স্বকীয় | আর রিয়ালিজমের ক্ষেত্রে পুরো ব্যাপারটাই হচ্ছে যে এখানে মনে করে নেওয়া হয় যে রাষ্ট্রের সব সময়েই রিয়ালিস্টিক স্বার্থ থাকে যেমন কৌশলগত স্বার্থ — তেল, আধিপত্য, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এই সবগুলোই কিন্তু মেটেরিয়ালিস্টিক স্বার্থের উপরে দাঁড়িয়ে তৈরী | কিন্তু ইস্রাঈল কি শুধুই রিয়ালিস্টিক স্বার্থ নিয়ে চলে ? এই যুদ্ধ এই প্রশ্নটা তুলে দিলো কিন্তু 
  • X | 103.56.***.*** | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩০739779
  • ইসরায়েল, সৌদি - এরা কোথায় গেল? যারা যুদ্ধ শুরু করালে? যাহোক, শুধু nyt বা economist এর রিপোর্ট পড়ে ধারণা তৈরি করলে হবে না - একটু সব রকম সোর্স ঘেঁটে দেখুন
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:e0d3:bcd2:d71e:***:*** | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৮739780
  • ইজরায়েল আর সৌদিরা তো নিজেদের মধ্যে ইকোনমিক কো-অপারেশান বাড়াতে চায়। অন্য টইতে এটা লিখেছিলামঃ 
     
    ইরানের অটোক্রেটিক শাসকদের (আয়াতোল্লাদের) অবস্থান যদি দেখি, তাহলে অনেক দশক ধরেই তারা রিজিওনাল পাওয়ার, আর তারা সেইমতো রিজিওনাল এনফোর্সমেন্ট স্ট্রাকচার তৈরি করেছে। মিডল ইস্টে সৌদি আরব, ইরান, আর ইরাকের সংঘাত বহু দশকের, ইরাক পরাজিত হওয়ার পর সেটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আর ইরানের মধ্যে। আর এই পাওয়ার ব্যালেন্সের খেলা নিজেদের পক্ষে টানার জন্য ইরানের শাসকরা বহু দশক ধরে বেশ কয়েকটা প্রক্সি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যেমন হামাস, হেজবোল্লা, হুথি ইত্যাদিরা। সেইজন্য, ২০২৩ সালে ইজরায়েল আর সৌদিরা যখন চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছিল, তখন হামাস ইজরায়েলকে আক্রমন করে। 
     
    কাজেই আগামী এক বছরে যদি মিডল ইস্টে কিছুটা স্টেবিলিটি আসে তাহলে হয়তো এমবিএস আর নেতানিয়াহু আবার চুক্তির দিকে অগ্রসর হবে। দেখা যাক। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু মতামত দিন