হারামির হাতবাক্স কী? বাঙালি প্রতিবাদ ভালোবাসে। এটা জিনগত। ডিএনএ পরীক্ষা করলে দেখা যাবে প্রতিটি বাঙালির ক্রোমোজোমে একটি ক্ষুদ্র মাইক্রোফোন এম্বেড করা আছে, যেটা সুযোগ পেলেই অ্যাক্টিভেট হয়ে যায়। জন্মের সময় বাঙালি কাঁদে না — স্লোগান দেয়। "আমাকে ঠিকঠাক খাওয়ানো হচ্ছে না, এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করি।" তারপর সারাজীবন এই থিমের ওপর ভ্যারিয়েশন চলতে থাকে। তো যখন খবর এলো যে এস্প্ল্যানেড মেট্রো চ্যানেলের সামনে 'SIR 2026' — অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে পাঁচদিনের মহাধরনা হবে — তখন বাঙালি মন একটা অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করল। অবশেষে। কিছু একটা হচ্ছে। কোথাও একটা অবিচার হচ্ছে। এবং সেই অবিচারের বিরুদ্ধে কেউ একজন রাস্তায় বসছেন। বাঙালির সকালটা সার্থক হলো। প্রথমে বলা দরকার, ... ...
বাঙালি যখন কাউকে 'চাণক্য' বলে ডাকে, তখন বুঝতে হবে সে লোক হয় অত্যন্ত চালাক, নয়তো অত্যন্ত দুর্ভাগা। কারণ বাঙালির কাছে চাণক্য মানেই এমন কেউ, যিনি সারাজীবন অন্যের জন্য জাল বুনলেন, আর শেষমেশ সেই জালেই নিজে জড়িয়ে পড়লেন। মুকুল রায়ের জীবনটাও ঠিক এইরকম একটি অদ্ভুত বাঙালি গল্প — যেখানে চতুরতা আর ভাগ্য, দুটোই পাল্লা দিয়ে হেরেছে। ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মাসের শেষ দিন। বাঙালি সাধারণত মাসের শেষে বেতন পায়, কিন্তু মুকুল রায় সেদিন পেলেন পদচ্যুতির নোটিশ। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো — দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে, একটি ঘোষণার মাধ্যমে, অত্যন্ত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। বাঙালি রাজনীতিতে 'গণতন্ত্র' মানে হলো, নেত্রী ... ...
বাঙালি একটি অদ্ভুত প্রজাতি। পৃথিবীর অন্য কোনো জাতি এত গভীরভাবে নিজের বৌদ্ধিকতা নিয়ে গর্বিত, অথচ একই সাথে এত নিপুণভাবে নিজের মেরুদণ্ড বিসর্জন দিতে পারে। এই দুটো গুণ একসাথে থাকা সম্ভব কিনা, সেটা নিয়ে দার্শনিকরা হয়তো দ্বিধায় পড়বেন। কিন্তু বাঙালি দ্বিধায় পড়ে না। সে একহাতে রবীন্দ্রনাথ ধরে, অন্যহাতে ঝাণ্ডা। এবং দুটোই সমান দক্ষতায়। সম্প্রতি একটি দৃশ্য দেখলাম। একটি পার্টি অফিসের বাইরে, রাস্তার উপর, একজন মানুষের হাতে ঝাণ্ডা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যটি এতটাই স্বাভাবিক যে আমরা কেউ দ্বিতীয়বার তাকাইনি। কারণ বাঙালির কাছে এটি অতিপরিচিত। এখানে ঝাণ্ডা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ঠিক যেমন বিয়েতে সিঁদুর, শ্রাদ্ধে তিল। কেউ জিজ্ঞেস করে না কেন। সবাই জানে এটা ... ...
হ্যাজ নামানো আদতে কোনো কষ্টসাধ্য কাজ নয়, এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। একে শিল্প বলাটা বোধহয় শিল্পের অবমাননা, বরং একে 'পাবলিক টয়লেট'-এর সার্থক বিকল্প ভাবাই শ্রেয়। এই মহান কার্যে দীক্ষিত হতে কোনো সাধনার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন পড়ে না কোনো ব্যাকরণ বা নন্দনতত্ত্বের। আপনার যদি পেট পরিষ্কার থাকে—এবং তার চেয়েও বড় কথা, যদি আপনার মাথায় আবর্জনা থিকথিক করে—তবে আপনিও অনায়াসে হ্যাজ নামাতে পারেন। সোজা কথায়, যদি আপনার মধ্যে ‘হাগার’ ক্ষমতা থাকে, তবে জনসমক্ষে হাগুন। বাঙালির বৌদ্ধিক চর্চা এখন অনেকটা এমনই; যেখানে ইনপুট যাই হোক না কেন, আউটপুট সর্বদা দুর্গন্ধযুক্ত একরাশ শব্দবন্ধ। নীতিনৈতিকতার ডিজিটাল ভণ্ডামি: আজকাল আবার একদল নতুন প্রজাতির বাঙালি বেরিয়েছে, যাদের নৈতিকতা ... ...
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের টাকায় নিজের বিরুদ্ধে একটি অকাট্য প্রমাণপত্র তৈরি করেছে। এমন সততা আজকাল দুর্লভ। "লক্ষ্মী এলো ঘরে" দেখে মনে হলো সরকার হয়তো ভুল করে ডকুমেন্টারি বানিয়েছিল, পরে আইডিয়া এলো - এটাকে ফিচার ফিল্ম বলে চালিয়ে দিই। কাহিনী এমন - গোপাল বাড়ুই মরে গেল (সারদায় টাকা রেখেছিল কিনা জানা যায়নি), বিধবা স্ত্রী লক্ষ্মী এখন শাশুড়ির অত্যাচার আর গ্রাম্য মাতব্বরের হেনস্থায় অবরুদ্ধ। পাশে আছে চিরকালের বন্ধু সুজন, যে হোয়াটসঅ্যাপের চেয়ে দ্রুত হাজির হয়। প্রেম না সেবা, তা নিয়ে দর্শকের মনে হালকা সন্দেহ থাকলেও ছবি সেদিকে যায়নি। ছবিতে দেখানো হলো মাটির ঘর। সেই ঘর ভেঙে পড়লে "বাংলার বাড়ি" প্রকল্পের টাকা মিললো। প্রধানমন্ত্রী আবাস ... ...
শান্তিনিকেতনের লাল মাটি—না, মাটি বলা ভুল—সেই রক্তরাগা ধুলো, যেন কোনো প্রাচীন দেবতার চূর্ণ হয়ে যাওয়া হৃদয়ের গুঁড়ো, সেই ধুলোর প্রতিটি কণায় মিশে ছিল এক বিদ্রোহী নেশা। অবাধ্যতা? না, অবাধ্যতা শব্দটা অতি সভ্য, অতি নাগরিক। এ ছিল নিরুদ্দেশের টান, ছিল সব বাঁধন ছিঁড়ে ফেলার এক উন্মত্ত আকাঙ্ক্ষা। সেই লাল ধুলোয় পা রেখেই মনটা হুস করে উড়ে যেত—কোথায়? কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নয়, উড়ে যেত শুধু দূরে, অনেক দূরে, যেখানে কোনো নাম নেই, ঠিকানা নেই, শুধু আছে এক অসীম শূন্যতা। বোলপুরের সোনাঝুরি। নামটাই যেন এক স্বপ্নের টুকরো। সেখানকার বাউলের আখড়া—আখড়া বললে ভুল হবে, ওটা ছিল এক জাদুঘর, এক পাগলখানা, এক মন্দির, এক শ্মশান, সবকিছু ... ...
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন পনেরো বছরের রিপোর্ট কার্ড বের করেন, তখন বুঝতে হবে নির্বাচন কাছে এসে গেছে। আমরা বাঙালিরা রিপোর্ট কার্ড দেখতে ভালোবাসি—স্কুলে ছেলেমেয়েদের, সরকারের, এমনকি প্রতিবেশীর বউয়ের রান্নার। এবার সাত হাজার কোটি টাকা থেকে বাষট্টি হাজার কোটি টাকা—সংখ্যাটা শুনলে মনে হয় আমরা সিঙ্গাপুরে আছি। কিন্তু হাসপাতালে গেলে এখনও সিরিয়াল পেতে রাত জাগতে হয়, স্কুলে বাচ্চাদের বেঞ্চ নেই, রাস্তায় গর্ত আছে যেখানে পুকুর বানানো যায়। তবু আমরা বিশ্বাস করি। কারণ বিশ্বাস না করলে আমাদের আর কী-ই বা আছে? চুরানব্বইটা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—এই সংখ্যাটা শুনে মনে হয় আমরা প্রত্যেকে একেকটা প্রকল্পের ভাগীদার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধু—এই নামগুলো শুনলে মনে হয় দেবী লক্ষ্মী ... ...
■ প্রথম দিন: রাস্তার শুরু বাসটা যখন শহরের শেষ চেকপোস্ট পার করল, আমি বুঝতে পারলাম যে আমি এমন এক জায়গায় যাচ্ছি যেখান থেকে ফিরে আসার রাস্তাটা হয়তো এত সহজ হবে না। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছিল ধুলোমাখা রাস্তা, দু'পাশে শুকনো গাছ আর মাঝে মাঝে ভাঙা দোকান। সহযাত্রীরা চুপচাপ বসে ছিল, যেন সবাই কোনো অলিখিত চুক্তি মেনে নিয়েছে—এখানে কথা বলা নিরাপদ নয়। আমার পাশের সিটে বসা লোকটির মুখে তিন দিনের দাড়ি, চোখে একটা অদ্ভুত শূন্যতা। সে একবারও আমার দিকে তাকায়নি। তার হাতে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ, ভেতরে কী আছে বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু সে ব্যাগটা এমনভাবে ধরে রেখেছে, যেন ওটাই তার একমাত্র সম্পদ। বাসের ড্রাইভার—একজন মধ্যবয়সী ... ...
আমার বন্ধু হরিপদ-গোপালপদ্দা (নাম পরিবর্তিত, কারণ উনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় খুবই সক্রিয় এবং আমার ওপর রাগ করলে ব্লক করে দেবেন) দশ বছর আগে আমায় প্রশ্ন করতেন - "মোদী পারবে কানহাইয়ার সাথে ডিবেটে?"আমি তখন বলেছিলাম, "দাদা, এ যেন জিজ্ঞাসা করা - পদ্মলোচন-হরবোলা পারবে কি সাঁতার প্রতিযোগিতায় যে জীবনে জলে নামেনি?"কিন্তু হরিপদ-গোপালপদ্দার কথা ছিল - "তুই বুঝিস না! ডিবেট মানে রাজনীতির আসল পরীক্ষা!"আমি ভাবলাম, হ্যাঁ ঠিক। আর নির্বাচনে জেতা মানে নিশ্চয়ই ফুটবলে গোল দেওয়া। দুটোর কোনো সম্পর্ক নেই!এদিকে দশ বছর কেটে গেল। দেখতে দেখতে। যেমন আমার চুল পড়ে গেল, তেমনি কিছু রাজনৈতিক তত্ত্বও।এখন শুনছি, কানহাইয়া যেখানে যেখানে বক্তৃতা দিয়েছেন, সেখানে সেখানে কংগ্রেস ... ...
বলরাম বসুর জীবনী নিয়ে এত তথ্য! কিন্তু এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে আপনারাই নিজেই সন্দিহান, তাই না? আচ্ছা, আপনারা বলছেন উনি সন্ন্যাসী নন, অথচ রক্তজবা পরেন। তাহলে কি উনি অভিনেতা? নাকি রাজনৈতিক ম্যাজিশিয়ান - এক মুহূর্তে টিভি মেকানিক, পরের মুহূর্তে কট্টর আরএসএস সমর্থক? আপনারা যে প্রগতিশীলদের সমালোচনা করছেন, সেটা কি আপনাদের নিজের প্রগতিশীলতার প্রমাণ? নাকি আপনারাও সেই দলেই পড়েন যারা পোশাক দেখে মানুষ ... ...