হারামির হাতবাক্স কী? খবরটা প্রথমে পড়ে ভেবেছিলাম, WhatsApp University-র নতুন ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা। তারপর টিভি৯-এর ফুটেজ দেখলাম। না, রিয়েল। একদম লাইভ। আর চারদিন পরেই, ২৬ সেপ্টেম্বর, বিদ্যাসাগরের ২০৬তম জন্মদিন। তার আগেই বাঙালি জাতি একটা নতুন গবেষণাপত্র পেয়ে গেল: "বীরসিংহ গ্রাম, জেলা বর্ধমান: এক অনাবিষ্কৃত ভূগোল।" গুগল ম্যাপ এখন কাঁদছে। স্কুল মালদার কাদিরপুরের। মঞ্চে প্রধান শিক্ষক, সদ্য 'বিদ্যাসাগর সম্মান' প্রাপ্ত। সাংবাদিক সোজা প্রশ্ন করলেন, বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মেছিলেন? উত্তর এল: বর্ধমান। ঈশ্বরচন্দ্র শুনলে নির্ঘাত ওপর থেকে বলতেন, "বাবা, আমি অনেক জেলা ঘুরেছি, কিন্তু সীতাভোগ-মিহিদানার জেলায় জন্মানোর সৌভাগ্য হয়নি।" তারপর শুরু হল আসল খেলা। 'সহজ পাঠ' নাকি বিদ্যাসাগরের। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতাও তাঁর, রবীন্দ্রনাথের ছড়াও তাঁর। হিসেবটা একবার দেখুন। বিদ্যাসাগর ... ...
শুনুন মশাই, আপনার ঠাকুরদার ঠাকুরদা কি হেলিকপ্টার চেপে কৈলাস থেকে নেমেছিলেন? না, তাও না, উনি বোধহয় স্বর্গীয় ডানাওলা রথে চড়ে সটান বঙ্গোপসাগরের তীরে অবতরণ করেছিলেন, তারপর প্রথম কাজ হিসেবে একখানা ধুতি পরে "আমি খাঁটি বাঙালি" বলে ঘোষণা করেছিলেন! ব্যাপারটা এরকমই তো দাঁড়ায়, যখন কেউ বুক চিতিয়ে বলে "আমাদের বংশে খাঁটি রক্ত, ফরেন মিক্সচার নেই"। আরে দাদা, বাঙালি কোনো স্পেশাল চার্টার্ড ফ্লাইটের প্যাসেঞ্জার নয়, বাঙালি হলো শেয়ালদা লোকাল ট্রেনের একটা কামরা—যেখানে হাজার বছর ধরে হাজারো স্টেশন থেকে মানুষ উঠেছে, নেমেছে, ঠেলাঠেলি করেছে, পাশের লোকের টিফিন থেকে মুড়ি চেয়ে খেয়েছে, আর শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একটাই কামরা—বাঙালি জাতি। এই "আদিম খাঁটি রক্ত" ... ...
মশাই, একটা প্যারাডক্স নিয়ে বাঁচছি আমরা। যে দেশে একটা গরুর গায়ে আঁচড় পড়লে গোটা টুইটার-জগৎ কেঁপে ওঠে, সেই দেশের পাশের দুটো দেশে হিন্দুরা রোজ মরছে, আর আমাদের অতি বিদগ্ধ আঁতেলকুলের কলম সেখানে গিয়ে হঠাৎ অক্সিজেনের অভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। ব্যাপারটা মেডিক্যাল সায়েন্সের কাছেও একটা রহস্য। বাংলাদেশ: বিপ্লবের পরে বুলডোজার নয়, বল্লম ২০২৪-এর অগাস্টে হাসিনা গেলেন, আর তার পরের মাসেই ৪৯ জন সংখ্যালঘু শিক্ষককে জোর করে ইস্তফা দেওয়ানো হল। "গণঅভ্যুত্থান" শব্দটা শুনলেই বুক ফুলে ওঠে যাদের, তারা এই ইস্তফাপত্রগুলো নিয়ে একটা সেমিনারও করলেন না। দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনিতে মারা হল, শরৎ মণি চক্রবর্তীকে নিজের মুদির দোকানে কুপিয়ে ফেলা হল, রানা প্রতাপ বৈরাগীকে ডেকে ... ...
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সবকিছু বেশ শান্ত, স্বস্তিদায়ক। কিন্তু একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই বুঝবেন, থিয়েটারের পর্দাটা আসলে অন্য কারোর ইশারায় উঠছে আর নামছে। বিশ্ব রাজনীতির একটা অলিখিত নিয়ম আছে—যে দেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইবে, তার পায়ে ল্যাং মারার জন্য গ্লোবাল মোড়লরা সবসময় তৈরি। আজকে যে 'ভারত ভাগ করার চেষ্টা' বা দেশকে ভিতর থেকে ভেঙে টুকরো করার একটা সুক্ষ্ম চক্রান্ত চলছে, সেটা কোনো সস্তার হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড নয়, এটা পিওর ভূরাজনীতি বা জিওপলিটিক্স। বাঙালির চায়ের আড্ডার আঁতলামি মার্কা নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চক্করে আমরা আসল বিপদটা দেখতেই পাচ্ছি না। একদিকে ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাংক, অন্যদিকে বেজিংয়ের নীরব আগ্রাসন—দুটি মহাশক্তিই একটা বিষয়ে একমত: ভারতকে ... ...
আধুনিক ফুটবল এখন খেলা নয়—একটা অনিয়ন্ত্রিত কর্পোরেট উৎসব, যেখানে মাঠের ঘাসের চেয়ে বেশি দামী ব্যাঙ্কের লেনদেনের খাতা। আর তারই মাঝখানে আর্জেন্টিনা ফুটবল দুর্নীতির নতুন অধ্যায় লিখছে ২০২৬-এর বিশ্বকাপের পটভূমিকে। AFA Gate: যখন ট্যাপিয়ার নাম শুনলেই কেঁপে ওঠে বুয়েনস আইরেস ক্লাউদিও "চিকি" ট্যাপিয়া—আর্জেন্টিনীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA)-র সভাপতি, যার নাম এখন যুক্ত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির সাথে। ২০২৫-এর ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনীয় পুলিশের অভিযান AFA-র সদরদফতর ও ১৮টি ক্লাবে—টাকা পাচার, কর ফাঁকি, আর ভুয়া চুক্তির অভিযোগ। লা নাসিওঁ-র তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডাভিত্তিক TourProdEnter LLC-র মাধ্যমে AFA অন্তত ২৬০ মিলিয়ন ডলার ঘুরিয়েছে মার্কিন ব্যাঙ্কিং সিস্টেমে—সিটিব্যাঙ্ক, জেপি মর্গান, ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা। সমস্যাটা কোথায়? এই টাকা ক'টা সরাসরি AFA-র পরিচালন ... ...
কলকাতার উপকণ্ঠে রাত নামলে একটা অদ্ভুত শব্দ শোনা যায়। সেটা কুকুরের ডাক নয়, ট্রেনের হুইসেলও নয়। সেটা আসলে ক্ষমতার সাইলেন্সার-লাগানো হাঁপানি। বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এমন এক চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে পোস্টারগুলো গণতন্ত্রের কথা বলে, আর গলিগুলো ফিসফিসিয়ে বলে, “মুখটা বন্ধ রাখ, না হলে বন্ধ করে দেব।” এই রাজ্যে বিরোধী রাজনীতি করা এখন অনেকটা পুরনো ফ্রিজে আইসক্রিম রাখার মতো। বাইরে থেকে ঠান্ডা দেখায়, ভিতরে সব গলে যাচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয়েছে। বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ি আটকে পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রক্ত, ভাঙা কাচ, কার্তুজ, আর যথারীতি “তদন্ত চলছে” নামক ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় লোরি। কিন্তু ... ...
রিপোস্ট করতে হলো, ভয়ে কাঁপছে শাসক! ক্ষমতা থাকলে রুখে দেখাও, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা অসম্ভব। লড়াই চলবে। ভূমিকা: গণতন্ত্রের যে মুখটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে না ভোটের মরশুমে পশ্চিমবঙ্গ একটি অদ্ভুত রূপান্তর ঘটায়। টেলিভিশনের পর্দায় যুক্তি-তর্ক-বাগবিতণ্ডার ঝড় ওঠে, প্যানেলিস্টরা ডেসিবেল প্রতিযোগিতায় নামেন, এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র এমন ভাব দেখান যেন তাঁর দলটিই ভারতে গণতন্ত্রের একমাত্র সত্যিকারের অভিভাবক। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, স্টুডিওর এয়ার কন্ডিশনার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে, বাস্তব পশ্চিমবঙ্গ তার পুরনো অভ্যাসমতো রক্তের হিসাব মেলাচ্ছে। এই প্রবন্ধটি সেই রক্তের হিসাব নিয়ে। সংখ্যা দিয়ে, ঘটনা দিয়ে, নির্দিষ্ট সাল-তারিখ দিয়ে। কারণ স্মৃতি রাজনৈতিক হয়, কিন্তু মৃতদেহ রাজনীতি মানে না। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা কোনো একটি দলের ... ...
ভূমিকা: যখন বিদ্যালয় বন্ধ হয়, তখন উৎসব খোলা থাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসে। "মা-মাটি-মানুষ" থেকে "বাংলার গর্ব" — স্লোগানের অভাব কখনো হয়নি। কিন্তু যে রাজ্যে গত দেড় দশকে হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় চিরতরে তালাবন্দি হয়ে গেছে, যেখানে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে, এবং যেখানে ২০২৬ সালের বাজেটে সাধারণ বিদ্যালয়ের তুলনায় মাদ্রাসা খাতে অনুপাতহীন বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে — সেই রাজ্যে শিক্ষার উৎসব পালন করা অনেকটা জ্বলন্ত ঘরে আলোর উৎসব পালনের মতো। প্রশ্ন হল, এই আগুন কে লাগিয়েছে — এবং কে বাঁচিয়ে রাখছে? --- তৃণমূলের ১৫ বছর: স্কুলের দরজা বন্ধ, স্লোগানের ... ...
মুষ্টিমেয় বাঙালি এখন আর চায়ের দোকানে তুফান তোলে না। তারা এখন ফেসবুকের পাতায় ভবিষ্যদ্বাণী বিলায়। কারোর দাবি দুইশ ত্রিশ আসন, কারোর দাবি তেষট্টি। সঙ্গে অমোঘ নির্দেশ—"স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন"। যেন ভোট গণনার দিন গণৎকারের ভবিষ্যৎবাণী না মিললে ওই স্ক্রিনশট দেখিয়ে পাড়ার রেশনে দু-কিলো চাল বেশি পাওয়া যাবে। অথচ প্রোফাইল নামের বানান ভুল। 'হার্টথ্রব হারু' লিখতে গিয়ে যে থ্রম্বোসিসে হারুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলে, তার কাছে রাষ্ট্রনীতির জটিল সমীকরণ আশা করা আর ডোডো পাখির কাছে ওড়ার কায়দা শেখা একই কথা। এই 'স্ক্রিনশট' সংস্কৃতি আসলে আমাদের এক অদ্ভুত নিরাপত্তাহীনতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা বিশ্বাস করি, ডিজিটাল দলিলে যদি একবার লিখে রাখা যায় যে অমুক পক্ষ জয়ী ... ...
— যাঁরা সংখ্যা দিয়ে কবিতা লেখেন, তাঁদের জন্য একটি বিনীত নিবেদন। --- গল্পটা শুরু হয় যেখানে তৃণমূল সমর্থকদের একটি বিশেষ প্রতিভা আছে—তাঁরা রাজ্যের উন্নয়নের এমন একটি ছবি আঁকেন, যেখানে আলো এত উজ্জ্বল যে ছায়াগুলো আর দেখাই যায় না। Kanyashree আছে, Lakshmir Bhandar আছে, Duare Sarkar আছে—সব আছে। শুধু নেই পরিসংখ্যান, প্রেক্ষাপট, এবং সততার সামান্য একটু আলো। তো চলুন, সেই আলোটা একটু জ্বালাই। --- ১. অর্থনীতি: "বাংলা এগিয়ে চলেছে"—কোথায়? TMC-র আখ্যান: GSDP বাড়ছে, বাংলা উন্নতির পথে। বাস্তবতা: পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে নিচে। RBI-র রাজ্য অর্থনীতির তথ্য অনুযায়ী, বাংলার মাথাপিছু NSDP দেশের রাজ্যগুলির মধ্যে মাঝামাঝি থেকেও নিচে—মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা তো দূরের কথা, বেশ কিছু "পিছিয়ে পড়া" বলে ... ...