হ্যাজ নামানো আদতে কোনো কষ্টসাধ্য কাজ নয়, এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। একে শিল্প বলাটা বোধহয় শিল্পের অবমাননা, বরং একে 'পাবলিক টয়লেট'-এর সার্থক বিকল্প ভাবাই শ্রেয়। এই মহান কার্যে দীক্ষিত হতে কোনো সাধনার প্রয়োজন পড়ে না, প্রয়োজন পড়ে না কোনো ব্যাকরণ বা নন্দনতত্ত্বের। আপনার যদি পেট পরিষ্কার থাকে—এবং তার চেয়েও বড় কথা, যদি আপনার মাথায় আবর্জনা থিকথিক করে—তবে আপনিও অনায়াসে হ্যাজ নামাতে পারেন। সোজা কথায়, যদি আপনার মধ্যে ‘হাগার’ ক্ষমতা থাকে, তবে জনসমক্ষে হাগুন। বাঙালির বৌদ্ধিক চর্চা এখন অনেকটা এমনই; যেখানে ইনপুট যাই হোক না কেন, আউটপুট সর্বদা দুর্গন্ধযুক্ত একরাশ শব্দবন্ধ।
নীতিনৈতিকতার ডিজিটাল ভণ্ডামি:
আজকাল আবার একদল নতুন প্রজাতির বাঙালি বেরিয়েছে, যাদের নৈতিকতা ফেসবুক বা টুইটারের ‘বায়ো’-তে সীমাবদ্ধ। সেখানে বড় বড় অক্ষরে "বামপন্থী" বা "উদারপন্থী" লিখে দিলেই রাতারাতি একটা ঋজু মেরুদণ্ড গজিয়ে যায় বলে তাদের ধারণা। অথচ এদের নীতি আর বাস্তবের দূরত্ব আকাশ-পাতাল। নিজের পেটের বায়ু যখন শব্দ করে বেরোয়, তখন সেটাকে মনে হয় সংগীত; কিন্তু অন্য কেউ একটু শব্দ করলেই আমরা নাকে রুমাল দিই। হ্যাজও ঠিক তাই। নিজের বকবকানিকে মনে হয় জ্ঞানগর্ভ ভাষণ, আর অন্যের কথাকে মনে হয় আঁশটে গন্ধওয়ালা আবর্জনা।
স্বশিক্ষিত বুদ্ধি বনাম যান্ত্রিক নীতি:
বাস্তবটা হলো, নীতি কোনো লেবেল নয় যে জামার কলারের মতো সেঁটে রাখলেই হলো। যাদের প্রকৃত নৈতিকতা থাকে, তাদের সেটা বিজ্ঞাপনে ঢাক পিটিয়ে জানানোর প্রয়োজন পড়ে না। যারা অন্যের শেখানো বুলিতে নাচেন, তারা আসলে ওই ‘হ্যাজ’ শিল্পী ছাড়া আর কিছুই নন। জীবনটাকে বোঝার জন্য কোনো রাজনৈতিক তকমা বা কারো পদলেহনের প্রয়োজন নেই; নিজের কাণ্ডজ্ঞানটুকু যদি সজাগ থাকে, তবে বুদ্ধি আর বিদ্যার অভাব কোনোদিন হবে না।
মনে রাখবেন, পরের দেওয়া বালের নীতিতে জীবন চলে না। নিজের বুদ্ধিতে ভুল করাও ওই পরজীবী ‘হ্যাজ’ হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের। বাঙালির ড্রয়িংরুম থেকে কফি হাউস—সর্বত্র আজ এই সস্তা হ্যাজের আসর। অথচ আমাদের দরকার ছিল একটু নীরবতা, আর অনেকটা আত্মোপলব্ধি।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।