

ছবি: রমিত
রিওর সৈকতে
পাউলা
রিও দে ঝানেইরোর লেবলন পাড়ার মেয়ে পাউলা কবে কি ভাবে যে লন্ডন এসে পৌঁছেছিল সে গল্প কখনো জানা হয় নি তবে কার্যসূত্রে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কে মেটালস অ্যান্ড মাইনিং দফতরের অধ্যক্ষ ডাগ (ডগলাস) এবং তার সহকর্মী পাউলার সঙ্গে আমার সখ্য গড়ে ওঠে। আপাতদৃষ্টিতে ডাগ একেবারে পাক্কা ইংরেজ, কটকটে রোদের দিনেও ছাতাটি রোল করে রাস্তায় হাঁটে, মুখে সব সময়ে একটা ভারিক্কি ভাব। পরিচয় ঘনিষ্ঠ হলে জেনেছি সেই মুখোসের আড়ালে লুকোনো আছে দুষ্টুমি, ইংরেজের টাং ইন চিক হিউমর (যার অনুবাদ করে উঠতে পারিনি)। এই তীক্ষ্ণ সূক্ষ্ম রসবোধের জন্যেই হয়তো এই জাতটার অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া যায়!
ব্রাজিলিয়ান সুন্দরী পাউলার অ্যাডমায়ারের অভাব নেই ব্যাঙ্কে; যে কোন বাহানায় তার সঙ্গে দু দণ্ড কাটানোর জন্য অনেকে লাইন দিচ্ছে। তার মুশকিল হলো ডাগকে নিয়ে। কাজের ব্যাপারে নয়, তবে ডাগের ওই গম্ভীর মুখনিঃসৃত ইংরেজি বুলির মার প্যাঁচ আর আন্ডার স্টেটমেন্টের তালটি ধরতে পারে না; দ্যাটস ইন্টারেস্টিং আর হাউ ইন্টারেস্টিঙের মাঝে যে বেজায় ফাঁক সেটা না বুঝে বাক্যির খেই হারিয়ে ফেলে। ডাগ বলতো, যে বোঝার সে বুঝবে, আই ডু নট এক্সপ্লেন! তার অফিসের দরজা বন্ধ করে আমরা এই নিয়ে প্রচুর হেসেছি।
একদিন কথাচ্ছলে যেই বলেছি ব্রাজিল যাবো বিশ্বকাপের খেলা দেখতে, তৎক্ষণাৎ সে পাউলাকে ডেকে অত্যন্ত সিরিয়াস মুখে বললে, হীরেন তার ছেলেকে নিয়ে তোমার দেশে ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল দেখতে যাবে। আগে কখনো সেখানে যায়নি; ফুটবলের ব্যাপারটা সে ঠিক সামলাতে পারবে। তবে তাকে রিও দে ঝানেইরো সম্বন্ধে সম্যক অবহিত করাটা তোমার জব ডেসক্রিপশনের অন্তর্ভুক্ত না হলেও এ বিষয়ে তোমার সম্পূর্ণ সহায়তা জরুরি (ইওর ফুল সাপোর্ট ইজ রিকুইয়ার্ড)। বাইরে করিডোরে দেখা হতেই পাউলা বললে, চলো বাইরে গিয়ে কফি খেয়ে আসি দু-দিন আমরা একটু কথা বলি যা শুনবে তার সবটা যদি তোমার মনে না থাকে, আমি খুব ডিটেলে একটা সামারি ইমেল লিখে দেবো। আমি বললাম, শোনো, ডাগ ঠাট্টা করছিল। কতো দেশ ঘুরেছি ব্রাজিল আর এমন কি। পাউলা আরও ব্যাকুল হয়ে বললে, না না, বসের হুকুম আর রিওতে প্রথম যাচ্ছ, এ আমাকে করতেই হবে। এক নম্বর বেসিংহল এভিনিউতে ব্যাঙ্কের পাশের কফি হাউসে পাউলা ও আমাকে নিবিষ্ট আলোচনায় লিপ্ত দেখে আমার কোন কোন সহকর্মী যে চিন্তিত হয়ে পড়েননি তা বলা যায় না; ঠোঁট কাটা ডেভিড কেম্পটন তার ইয়র্কশায়ারি সারল্যে জিজ্ঞেস করেছিল, ইজ এভরিথিং অলরাইট অ্যাট হোম?
দেশ ছাড়ার সময় আমার দাদা দুটি পুস্তক হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন; এক- আর্থার ফ্রমারের ইউরোপ অন টেন ডলারস এ ডে (আজ কারো বিশ্বাস হবার নয়, ১৯৭০ নাগাদ বইটি যখন বেরোয়, থাকা খাওয়া সহ ইউরোপের অনেক শহরে দশ ডলারে দিনযাপন করা যেতো; পরে আপডেটেড হয়ে ইউরোপ অন ফিফটিন ডলারস এ ডে নামে, শেষ সংস্করণ ফিফটি ডলারস এ ডে)। দ্বিতীয় বইটি ১৯৫৬ সালে দাদার প্রথম ইউরোপ প্রবাসকালে কেনা, পাতা হলদে হয়ে যাওয়া কয়েক খণ্ড বেডেকার গাইড। প্রায় দুশো বছর আগে রাইন নদীতে নৌকো বিহারের হ্যান্ডবুক দিয়ে জার্মানির এসেন শহরের কার্ল বেডেকার যে পুস্তিকাটি লেখেন, ক্রমশ সেটি নব নব কলেবরে বিশাল আকার ধারণ করে টুরিস্ট বাইবেল নামে আখ্যাত হয়। আর্থার ফ্রমারের বইতে যত্র তত্র ভোজন এবং হট্ট মন্দিরে শয়নের হদিশ মেলে বেশি। বেডেকারের বইয়ের একশোর বেশি দেশ, হাজার শহরের হোটেল বা বাস ভাড়া বিষয়ক তথ্য নির্ভরযোগ্য না হলেও, দ্রষ্টব্য তালিকা, ইতিহাস ভূগোলের নিখুঁত বর্ণনা সেখানে পাওয়া যায়। কথিত আছে ১৯৪০ সালের লন্ডন বম্বিং বা ব্লিতসের সময়ে সেখানকার টার্গেট চিনিয়ে দেওয়ার জন্য স্বয়ং গোয়েরিং জার্মান বোমারু বিমান বাহিনী লুফতওয়াফেকে কয়েকশ কপি বেডেকারের ‘সচিত্র লন্ডন ভ্রমণ’ দান করেছিলেন।
আশির বেশি দেশে গিয়েছি, কখনো কপর্দকশূন্য টুরিস্ট বেশে, পরে ব্যবসার কারণে। সব সময়ে এক্সপেন্স রিপোর্টটি ব্যাঙ্কের হাতে ধরিয়ে দেওয়া যায়নি, ফলে বেসরকারি ভ্রমণ হয়েছে গ্যাঁটের পয়সায়। তবে যেদিন থেকে পথে নেমেছি, অসলো বা ভিয়েনার সুলভ মূল্যের পান্থশালা থেকে যে কোন বড়ো শহরের ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেল খুঁজে নিতে অসুবিধে হয়নি। খুব অবাক হয়েছিলাম যখন সিটি ব্যাঙ্ক লন্ডন অফিসের এক ভারতীয় কলিগের সেক্রেটারি সু আমাকে একদিন বলেছে, জার্মানি তোমার তো চেনা জায়গা; প্রকাশ ফ্রাঙ্কফুর্ট যাচ্ছে, এয়ারপোর্ট থেকে হোটেল কীভাবে যাবে? হোটেলকে গাড়ি পাঠাতে বলব? আমি বললাম, প্রকাশকে বলো এয়ারপোর্টের অ্যারাইভাল থেকে বেরিয়ে পয়লা ট্যাক্সি ধরতে। সু আরও চিন্তিত হয়ে বলল, তারা তো শুনেছি জার্মান বলে শুধু। মনে মনে ভাবলাম এই সব মানুষেরা ঘর ছেড়ে বেরোয় কেন?
বেশ কিছু আলোচনার পরে পাউলা গনসালভেস রচিত এ ফোর পেজে আড়াই পাতার যে ইমেলটি পেলাম সেটি কার্ল বেডেকার বা আর্থার ফ্রমারকে হার মানানো, আমার দীর্ঘ ভবঘুরে জীবনের প্রথম এবং হয়তো শেষ পারসোনালাইজড ট্রাভেল গাইড! এ রেয়ার অনর! যদিও এটি বারো বছরের পুরনো, রিও দে ঝানেইরো শহরের চাল চরিত্র আজ অবধি বদলেছে বলে শুনিনি; প্রায় আকাশে দাঁড়িয়ে দু-হাত বাড়ানো পরিত্রাতা যিশুর মূর্তি, মারাকানা ফুটবল স্টেডিয়াম, সুগার লোফ মাউনটেন, কোপাকাবানা বিচ সেখানেই আছে। বিস্তারিত বার বা নাইটক্লাবের যে ফিরিস্তি পাউলা দিয়েছিল তার কিছু হয়তো দুয়োর বন্ধ করেছে, খুলেছে অনেক বেশি।
আমার গুরু মুজতবা আলী বলেছিলেন পাঠকের প্রয়জনে কাজে আসতে পারে এমন দু চার কথাও লিখবেন। এর উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত তিনি নিজেই দিয়ে গেছেন- দেশে বিদেশেতে আব্দুর রহমানের জুতো পালিশ করা অথবা প্রচণ্ড শীতের দিনে বাড়ি ফেরা মাত্র আলী সাহেবকে তুরন্ত গরম লেপের আশ্রয় নেওয়া থেকে নিরস্ত করার দৃশ্য দুটি স্মরণ করুন। জনসুবিধার্থে আমি তাই মনস্থ করেছি চাওয়া মাত্র পাউলার ইমেলটি যে কোন আগ্রহী পাঠকের কাছে নির্দ্বিধায় পৌঁছে দেবো।
তেনিয়ো উমা বোয়া প্রাইয়া / লাইফ ইজ এ বিচ
পাউলা প্রথমেই জানতে চাইলো আমরা কোথায় থাকব বলে মনস্থ করেছি। জানাতে হলো কোপাকাবানা প্যালেস হোটেল আমাদের সাধ্যের অনেক বাইরে; তবে সে বিচের দু-গজ দূরে আমার সুপুত্র ইন্দ্রনীল একটি এয়ার বি অ্যান্ড বি বুক করেছে। তার ঠিকানা দেখে পাউলার মন্তব্য – ‘ভালো। মধ্যবিত্ত ব্রাজিলিয়ান পরিবারের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচয় হবে।’ বার দুয়েকের আসা যাওয়ার কারণে জেনেছি রিওতে পাড়া এবং রাস্তার নাম দেখে বিত্তের অনুমান করা হয়ে থাকে– একই পাড়াতে দুটো রাস্তায় পার ক্যাপিটা ইনকামের ইতর বিশেষ আছে।
ব্রিজ বা মস্ত থেকে বসনিয়ার এক জনপদের নাম হয়েছে মস্তার, কালো পাহাড়ের দেশের নাম মনতেনেগ্রো; সেগুলি স্থানীয় নাম। কিন্তু পর্তুগিজ নাবিকরা তাদের যাত্রা পথে খেয়াল খুশি মতো যে সব নামের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে তাদের অনেকগুলি আজও বিদ্যমান- যেমন ক্রিসমাসের দিনে (পর্তুগিজ বড়দিন) আফ্রিকার এক বন্দরে তাদের জাহাজ ভিড়েছিল তাই নাটাল, ব্রাজিলের উত্তরে নাটাল শহরের পত্তন হয়েছিল এক বড়দিনে, প্রচুর চিংড়ি মাছ পাওয়া গেল অতএব সে দেশ খ্যাত হোক ক্যামেরুন নামে, দ্বীপটা সুন্দর তাই ফরমোসা (তাইপের পুরনো নাম), সাগর তীরের মেরিনা দেখে মনে হয়েছিল অনেকগুলি হ্রদের (পর্তুগিজ লাগো) সমন্বয়; সে হলো নাইজেরিয়ার লাগোস। ব্রিজ নয়, পাহাড় নয়, লেক অবধি নয়, নেই কোন নদী তবু জানুয়ারি মাসে ব্রাজিলের পূর্ব উপকূলে পাহাড় ঘেরা এক শান্ত জলরাশি দেখে তাকে কোন মোহানা ভেবে যে নাম দিয়েছিলেন পর্তুগিজ নাবিক তার অপভ্রংশটুকু আজ এক শহরের নাম, নদী, রিও! এমন নামটি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
রিওর বিচ প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার লম্বা। তবে টুরিস্টের ঘোরাঘুরি মূলত তিনটি প্রধান বিচে- কোপাকাবানা, ইপানেমা এবং তার লাগোয়া লেবলন; এই টানা নয় কিমি পথে কিছু দূর অন্তর আছে একটি করে পোস্ট (Posto) বা মার্কার। পোস্টের ছোট কেবিনের সামনে লাইফগার্ডরা গজল্লা করে, পোশাক পরিবর্তনের ঘর এবং কম পয়সার টয়লেট আছে। ছেলের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড কাপ ও মেয়ে বউয়ের সঙ্গে অলিম্পিকের সময়ে উপলদ্ধি করেছি এই পোস্ট মার্কারগুলি কি অসম্ভব প্রয়োজনীয়!

রিওর বিচ
আমার খোঁজ পড়লে মোবাইলে ‘এই তো আইসক্রিম স্ট্যান্ডের সামনে আছি’ বলাটাই যথেষ্ট নয়; লেবলন ইপেনামায় দু হাত অন্তর আইসক্রিম স্ট্যান্ড আছে। বলতে হবে এতো নম্বর পোস্টে বা এই দুই নম্বরের মাঝামাঝি আছি। কোপাকাবানা, ইপানেমা থেকে লেবলন- রিওর দীর্ঘ বিচ শুধু স্নানের জন্য, স্বাস্থ্য উদ্ধার মানসে পদচারণার জন্য নয়, সে এই শহরের বিচ লাগোয়া সব পাড়ার সকল নাগরিকের (কারিওকা) বেসরকারি বৈঠকখানা; বিশ্ব অবলোকনের প্রসন্ন অবসর, চোখ ধাঁধানো বিকিনি সুন্দরীদের ক্যাট ওয়াক, স্বাস্থ্যবান সুপুরুষদের সকাল বিকেল বিচরণের স্থল। স্পেন ইতালি ফ্রান্সে মঞ্জুর হলেও মহিলাদের টপ লেস সঞ্চরণ এখানে বেআইনি। দু-নম্বর থেকে ছ-নম্বর পোস্টের মাঝে চলছে যোগ ব্যায়াম, কুস্তি; লাগানো আছে ভ্রাম্যমাণ জিম (সেখানে ইন্দ্রনীল লেগে পড়তো সকাল সকাল, তার মূল মোটিভেশন হয়তো ছিল স্বল্প বসনা বালিকাদের নৈকট্য), সেখানে চলে ফ্রেসকোবল, সেটা খানিকটা টেনিসের মতন। দুটো পাম গাছের মাঝে দড়ি বেঁধে কেউ রোপওয়াক করছে এমনটা বেশ দেখা যায়, নিচে কোন সাপোর্ট নেই! দিবারাত্র ফুটবল – পেলে, রোনালদিনিও, নেমায়ারে শৈশব কালে হয়তো এমনি খেলেছেন। বিদেশি টুরিস্টকে সানন্দে যোগ দিতে ডাকবে তারা কিন্তু এই বিচ বালকদের স্ট্যান্ডার্ড এমনি উঁচু যে নিজেকে সর্ব সমক্ষে সম্পূর্ণ আনাড়ি ফুটবলার হিসেবে প্রতিপন্ন করার বাসনা না থাকলে সে আমন্ত্রণ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করাই ভাল।
জীবনের চক্র আবর্তিত হয় রিওর বিচে।

ইন্দ্রনীল ও ব্রাজিলিয়ান টিভি রিপোর্টার
একদিন ভোরে উঠে ‘এই একটু বিচে যাচ্ছি’ বলে ইন্দ্রনীল অদৃশ্য হয়েছে, মোবাইলে তাকে পাচ্ছি না। ব্যস্ত হয়ে সেই অস্থায়ী জিম এলাকায় গিয়ে দেখি এক মহিলার সঙ্গে সে গভীর আলোচনায় রত; পরে জানলাম তিনি কোন ব্রাজিলিয়ান টিভি রিপোর্টার, ঘুরে ঘুরে নানান দেশ থেকে আসা ফুটবল প্রেমীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। বলা বাহুল্য বহু কাল আগে কাজাখ বিজনেস টিভি তে আমার দেওয়া ইন্টারভিউয়ের মতন এটিও কখনো দৃশ্য গোচর হয় নি। দুই আর ছ-নম্বর পোস্টের যে কোন জায়গা থেকে সুগার লোফ মাউনটেনে সূর্যোদয় দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ছ নম্বরে আছে কোপাকাবানা ফোর্ট– নামেই কেল্লা, অতি সাধারণ এক দেড় তলা প্রাথমিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরে শত্রু জাহাজ চোখে পড়লে গোলাবারি করা যেতো। আর্মি মিউজিয়াম দেখার মতো, কফি পানের সুব্যবস্থা আছে – আর আছে সব কাজ ভুলে আটলান্টিকের অনন্ত জলরাশির দিকে চেয়ে থাকার প্রশান্ত পরিবেশ। অলিম্পিকের সময়ে এখানে সুইমিং ম্যারাথন দেখা গেল, মানে অনেকটা দূর থেকে জলের ভেতরে বহু মানুষ হাত পা ছুঁড়ছেন সেটা দেখা। একদা কোপাকাবানা ছিল একটি মেছুরে গ্রাম- তাদের উত্তরসূরিরা এখনো আছেন। এই ফোর্ট এলাকায় একটু সকাল সকাল মানে এগারোটার আগে এলে দেখা যাবে তাঁরা নৌকো নিয়ে বেরুচ্ছেন অথবা নৌকোয় মাছ ভরে ফিরছেন। পরের পোস্ট সাত নম্বর আরপোয়াদোর (বড়ো মাছ মারার হাতিয়ার, হারপুন), বিচ অত্যন্ত ফ্ল্যাট, ছুটির দিন হোক না হোক ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে পিতা মাতারা জলে নামেন, দু বছর বাদে মায়াকে নিয়ে আমিও! এই বিচের পেছনেই আছে দুটি পাহাড় চুড়ো, তাদের নাম দুই ভাই, দোইস ইরমাওঁস। সানসেট স্পট! সন্ধ্যেবেলা ফ্লাডলাইটে বিচের দৃশ্যটি অপূর্ব।

কোপাকাবানা ফোর্ট

ফোর্ট থেকে সমুদ্র সৈকত
পাউলার ইনফরমেশন অনুযায়ী নয় নম্বর পোস্টে প্রকাশ্যে গঞ্জিকা সেবন অনুমোদিত। ইন্দ্রনীলকে তদন্তে পাঠালাম - জানি হ্যাম্পস্টেড ইউনিভারসিটি কলেজ স্কুল এবং ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটান বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়টি তার এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটির অন্তর্ভুক্ত ছিল, বুঝ গুণী যে জান সন্ধান। পর্যবেক্ষণ করে এসে ইন্দ্রনীল জানালো, লটস অফ চিপ উইড অ্যান্ড সাম মোর। আড়ালে কী করে না করে তার খোঁজ রেখে নিজেকে ব্যতিব্যস্ত করি না। তবে এক্ষেত্রে পিতৃ সুলভ অথরিটি দেখিয়ে বললাম, দূরে থাকো, লোভে পাপ, পাপে হাজত। সে অবশ্য মনে করিয়ে দিলে আগের দিন সেজার পার্ক হোটেলে ব্যারির কাছে খেলার টিকিট তুলে বেরুনোর সময়েও কিছু গঞ্জিকা সেবনকারী চোখে পড়েছিল, তার গন্ধ রীতিমত সুদূর প্রসারী।
সিটি ব্যাঙ্ক প্যারিসে আমার এককালীন সহকর্মী বেরত্রঁ গিওর বাল্যকাল কেটেছিল আর্জেন্টিনায়, তারপরে স্কুল কলেজ প্যারিসে। সে একবার আমাকে প্যারিস থেকে কিছুটা দূরে সাঁ ক্লুতে (Saint-Cloud) নিয়ে যায় ইন্টারন্যাশনাল ওয়েট অ্যান্ড মেজারের অফিস দেখাতে। সন্ধ্যেবেলা পরিচয় করায় একটি বিশেষ পানীয়ের সঙ্গে, তার নাম কাইপিরিনিয়া। মনে হয়েছিল এ যেন আমার পদুমা গ্রামের ঘানিতে পেশা (আমরা বলতাম শাল) আখের রস, তার সঙ্গে লেবু মেশানো অ্যালকোহল। স্বাদ দারুণ তবে সে যে কি শক্তিশালী তার প্রমাণ পেয়েছিলাম পরের দিন; মাথা তোলা শক্ত! আর্ক দ্য ত্রিউম্ফ বা এতোয়ালের হোটেল থেকে লা দিফঁসের সিটি ব্যাঙ্ক অফিস পৌঁছুতে দুপুর!
আর্জেন্টিনার সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক সাপে নেউলে; তবে বেরত্রঁ বলেছিল মানতেই হবে এই বিশেষ ড্রিংকটির কপিরাইট ব্রাজিলের - কাইপিরিনিয়া, রিওর যে কোন বিচে প্রাপ্তব্য এর নাম স্থানীয় নাম কাকাও (Cachao)।
সেই কবে থেকে ফরাসিরা বলে এসেছেন ভইয়ে কনসোমে দালকুল আভেক মদারাশিওঁ / প্লিজ ড্রিংক ইন মডারেশন - রিওর বিচে এই সতর্কতা বাণীটি সর্বদা মাথায় রেখে চলা বাঞ্ছনীয়।
প্রসঙ্গত, কাজু থেকে বানানো গোয়ার বিখ্যাত পানীয় ফেনির সঙ্গে কাইপিরিনিয়ার কোথাও একটা মিল আছে, সেখানেও পর্তুগিজ অবদান অনস্বীকার্য। তারাই ব্রাজিল থেকে কাজুর চারা এনে গোয়ায় পুঁতেছিল। যদিও সাউথ গোয়ার লোকে বলেন পর্তুগিজরা আসার আগে নারকোল থেকে একটি ফেনায়িত ড্রিংক তৈরির রেওয়াজ ছিল আর ওই ফেনা থেকেই নাকি ফেনি নাম হয়েছে।
মনে পড়ল বহু বছর আগে ব্রাজিলিয়ান জীবন দর্শনের একটি পরিচয় পেয়েছিলাম সিটি ব্যাঙ্কে। কার্লোস নামের এক সিনিয়র অফিসার তিন বছরের অ্যাসাইনমেন্টে রিও থেকে লন্ডনের স্ট্র্যানড অফিসে আসেন। আমার সরাসরি প্রভু নন তবে প্রভু সমগোত্রীয়। ফুটবল পাগল মানুষ ছিলেন, লাঞ্চ রুমে লিফটে কথা হতো। ব্রাজিল তখনো যাইনি তবে সে বিষয়ে দুটো গল্প শুনতাম। একদিন আমার অফিসে এসে চেয়ার টেনে বসলেন। বললেন আমাদের আভ্যন্তরীণ সিটি মেলে নোটিস দেবার আগে ভাবলাম তোমাকে বলে যাই, ব্রাজিল ফিরে যাচ্ছি। খুব অবাক হয়ে বললাম আপনার তো সবে এক বছর হলো, এখনই ফিরে যাবেন কেন? কার্লোস বলেছিলেন, ব্রাজিল কখনো যাওনি, তুমি ঠিক বুঝবে না। গেলে জানবে শুধু সাম্বা কারনেভাল আর ফুটবল নয়, রোদ্দুর বন্ধু বান্ধব অন্তহীন আড্ডা আর সোনালি বিচ নিয়ে ব্রাজিলের জীবনটাই ম্যাজিকাল! লাইফ স্টাইল তোমাদের ঠাণ্ডা ভেজা ব্রিটেনের চেয়ে অনেক আলাদা। আমার পোষাচ্ছে না!

এই অলসবেলায়
শুধু কি আবহাওয়া? না। রিও সান পাউলোতে সামান্য সময় কাটিয়ে হয়তো বুঝেছি কার্লোস কেন হেলায় তাঁর এক্সপ্যাট্রিয়েট মাইনে, হল্যান্ড পার্কে ফ্রি অ্যাপার্টমেন্ট হেলায় তুচ্ছ করে ফিরে গিয়েছিলেন রৌদ্রস্নাত রিওর দিনগুলিতে।
রিওর প্রভাতী সম্ভাষণ ‘তোমার দিন ভালো যাক’, ‘হ্যাভ এ গুড ডে’ নয়; কারিওকা একে অপরকে বলে
তেনিয়ো উমা বোয়া প্রাইয়া, বৃষ্টি বাদলা নয়, তোমার বিচ ভালো হোক!
পানীয় শুধু নয়, আরেক প্রকারের বিপদ আপদের বিষয়ে পাউলা যে দীর্ঘ লেকচারটি দিয়েছিলো, ভবিষ্যৎ রিও ভ্রমণকারীদের জন্য সেটি ভার্বাটিম উদ্ধৃত করি –
“ তোমাদের আস্তানা কোপাকাবানায়। এটা টুরিস্ট এলাকা। এখানে যখন তখন ঘুরো না, সেটা মোটে সমর্থন করি না। যদি একান্তই সেখানে হাঁটতে যেতে চাও, সঙ্গে কোন টাকা পয়সা নিয়ো না, এমনকি ক্রেডিট কার্ড অ্যাপার্টমেন্টের সেফে রেখে যাবে। চোরকে আকৃষ্ট করতে পারে এমন কোন মূল্যবান বস্তু যেমন রেবান রোদ চশমা (আমি জীবনে রেবান পরিনি কিন্তু পাউলাকে তা বলে লাভ নেই) অঙ্গে রেখো না। মোবাইল ফোন কখনো হাতে নয়, পকেটের গভীরে রাখবে। ‘এই যে কোপাকাবানায় বেড়াচ্ছি’ বলে বন্ধুদের ফোন করে ভিডিও দেখানো বা সেলফি নেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে। নিতান্ত প্রাণের দায়ে না পড়লে পথ চলতি অবস্থায় মোবাইল ফোন কোনমতেই হাতে নেবে না, কোন বার বা রেস্তোরাঁয় ঢুকে ফোন করো। জানি তোমরা রাত-বেরাতে কোপাকাবানায় যাবেই তবু বারবার বলে রাখি কোন প্রকারের সতর্কতাই সেখানে যথেষ্ট নয়। বিচে তোমার তোয়ালে আর ব্যাগ রেখে পাশে লোককে বোলো না, এটা একটু দেখবেন, আমি জলে নামছি; তার ভেতরে মূল্যবান কিছু থাকুক না থাকুক মুহূর্তের মধ্যে সে ব্যাগ হাওয়া হয়ে যাবে। বরং যেও ইপানেমা বিচে, সেটি আপমার্কেট- চোর চোট্টা কম। গল্পে পড়া সিনেমায় দেখা (দি গার্ল ফ্রম ইপানেমা) এই বিচ স্টানিং মহিলা এবং ব্রোঞ্জ রঙের আপোলোরা একেবারে আলো করে রাখে, একেবারে এ বলে আমায় দ্যাখ ও বলে আমায় দ্যাখ (ওয়ান মোর স্টানিং দ্যান দি আদার)। বিলিওনেয়ার বিচ তার নাম, মিলিওনেয়ার ফুটবলাররাও পাত্তা পায় না তবু সেখানেও সতর্কতার মার নেই, মনে রেখো।

কোপাকাবানায়
সন্ধ্যাবেলায় এ কোন খেলায়
মারাকানা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল দেখা হলো; ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে জার্মানি সেমি ফাইনালে উঠেছে। সেই ম্যাচে তার প্রতিপক্ষের নাম জানা যাবে সেদিন ৪ জুলাই সন্ধ্যে বেলার দ্বিতীয় খেলায়; রিও থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার উত্তরে ফরটালেজার এস্তাদিও কাস্তেলাওঁতে ব্রাজিল খেলবে প্রতিবেশী দেশ কলোম্বিয়ার বিরুদ্ধে – সে দূরত্ব প্রায় দিল্লি থেকে কন্যাকুমারী! পরদিন দুপুরে আর্জেন্টিনা বনাম বেলজিয়ামের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ব্রাজিলিয়াতে, সন্ধ্যেয় হল্যান্ড-কোস্টা রিকা খেলবে সালভাদোরে – প্রতিটি হাজার/ দেড় হাজার কিলোমিটারের ধাক্কা! ম্যাপে দেখলে মালুম হয় কি বিশাল এই দেশ- পুব থেকে পশ্চিমে এবং উত্তর থেকে দক্ষিণে দুদিকেই ব্রাজিলের বিস্তার চার হাজার কিমি। চিলি, ইকুয়াদর বাদে দক্ষিণ আমেরিকার বাকি নটি দেশের সঙ্গে ব্রাজিলের সীমান্ত রেখার দৈর্ঘ্য পনেরো হাজার কিলোমিটার! একা বলিভিয়ার সঙ্গে সাড়ে তিন হাজার।
লজিস্টিকের ব্যাপার যতোই জটিল হোক না কেন, ফুটবলে উন্মত্ত ব্রাজিলে ওয়ার্ল্ড কাপের ম্যাচ হয়েছে বহু দূরে দূরে, দেশের প্রায় প্রতিটি কোণায়। কি ভাগ্যে আমাদের পরের খেলার টিকেট সাঁও পাউলোতে, দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল; সে মাত্র সোয়া ঘণ্টার ফ্লাইট।
ভ্লাদিভস্তকে ফুটবল কতোটা জনপ্রিয় আমার জানা নেই তবে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত পরবর্তী বিশ্বকাপের (২০১৮) ম্যাচগুলি খেলা হয়েছে মস্কো সেন্ট পিটারসবুর্গ থেকে খুব বেশি দূরে নয়; বড়জোর ইয়াকাতেরিনবুর্গ বা ভলগোগ্রাদের মতন শহরে মস্কো হতে যাদের দূরত্ব কলকাতা-মুম্বাইয়ের বেশি নয়।

মার্কসের ডিজাইন করা সেই অসাধারণ ঢেউ খেলানো মোজাইক
রিওর কন্যা, কারিওকা পাউলা গনসালভেসের সাবধানবাণীকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে ইন্দ্রনীল ও আমি দু মিনিট হেঁটে বুরলে মার্কসের ডিজাইন করা সেই অসাধারণ ঢেউ খেলানো মোজাইক পেরিয়ে গেলাম কোপাকাবানা। দুপুরে মারাকানা যাবার সময়ে দেখেছিলাম যে বিচ সেটি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত; যতদূর দেখা যায়, বিশ পঁচিশটি দেশের জার্সি পরা এক সুখী জনতার জন্য পেল্লায় টেলিভিশন সেটে খেলা দেখানো হচ্ছে। পরম ব্রহ্মের সন্ধান মেলে সহজেই, ব্রাজিলের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিয়ারের নাম ব্রহ্মা- তার সরবরাহ ওয়াটার অফ ইন্ডিয়া ম্যাজিকের মতো, ফুরোয় না। রাস্তার পাশ ধরে বিচ বরাবর অজস্র অস্থায়ী পানশলা, সর্বত্র টি ভি, ক্যানভাসের চেয়ারের গায়ে লেখা আছে এই আসনটি রিওর নাগরিকের সম্পত্তি (caiso de carioca)! আপনার সম্পত্তি বুঝিয়া লইলাম বলে রিওর অন্য নাগরিক সেটি নিয়ে অদৃশ্য হন না!

রিওর নাগরিকের সম্পত্তি (caiso de carioca)
মেক্সিকো বেলজিয়াম হনডুরাস উরুগুয়ে স্পেন সহ অনেক দেশের ফুটবল টিম প্রতিযোগিতায় হেরে বিদায় নিয়েছে কিন্তু তাদের সমর্থকরা তাতে বিন্দুমাত্র দুঃখী না হয়ে এক আন্তর্জাতিক উৎসবে যোগ দিয়েছেন। জার্মানি ও দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ার্ল্ড কাপের সময়ে দেখেছি অজস্র ফুটবল প্রেমী কেবলমাত্র তাঁদের দলের বিজয়ের আশায় এতো দূরে আসেন না, ফুটবল উপলক্ষে তাঁরা যোগ দেন এক মানুষের মহামেলায়, এক বিশাল উৎসবে। তবে জার্মানি বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন প্রশস্ত এতো সুন্দর কোন ময়দান নেই। যেমন এইখানে আছে এই বিশাল বালুকাবেলা। আটলানটিকের ফ্রেমে বাঁধানো কোপাকাবানার আদিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রতটের আশ্চর্য সন্ধ্যায় সকলেই সকলের আত্মার আত্মীয়, ভাষায় না কুলোলেও গল্প জোড়েন, কখন কে বা কারা কার হাতে যে কোন ড্রিংক তুলে দিচ্ছেন কেউ জানে না! এই কোপাকাবানা আজ আমাদের সকলের।









রিওর ফ্যানজোনের স্মৃতি
একদিন ভুলে যাবো অনেক বছর আগে কোনো বিচে অনেকটা দূরে টাঙানো টেলিভিশন সেটে দেখা খেলার পক্ষ প্রতিপক্ষের নাম, তার ফলাফল।
এই পৃথিবীর ভিড়ে মনে থেকে যাবে কোপাকাবানার উচ্চকিত সন্ধ্যাগুলি।
পুনশ্চ:
লন্ডনে ফিরে এসে পাউলাকে ধন্যবাদ জানলাম। সঙ্গে যোগ করলাম খামোখা তোমার শহরের বদনাম কোরো না– তোমার উপদেশ উপেক্ষা করে আমরা কোপাকাবানায় কেন যত্র তত্র সন্ধ্যে কাটিয়েছি, আমাদের ওয়ালেট এবং আই ফোন চুরি হয় নি। পাউলা বললে জানি। রিওর পুলিস সব চোর চোট্টাকে চেনে, ওয়ার্ল্ড কাপের আগে ক্লিন আপ অপারেশন করে তাদের তুলে নিয়েছিল। তাই তোমাদের কিছু চুরি হয় নি। সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পুলিস রিওতে, বিশেষ করে কোপাকাবানায় মোতায়েন করা হয়েছিল। সেটা তোমাদের চোখে পড়ার কথা নয়, তবে ওয়ার্ল্ড কাপের শেষে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। চোর পকেটমাররা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এখন পুরনো কাজে নেমে পড়েছে। এই দু সপ্তাহ আগে আমার কাকী সন্ধ্যে ছটা নাগাদ হেঁটে যাচ্ছিল, তোমরা যেখানে ছিলে সেই বাতাতা রিবেরো থেকে আটলানটিকোর দিকে। তার ব্রেসলেট ও হাতব্যাগ ছিনতাই হয়েছে।

শুধু মাত্র তথ্যের খাতিরে
কোপাকাবানার মাঠে টেলিভিশনে দেখা খেলার ফলাফল
কোয়ার্টার ফাইনাল দুই: ফরতালেজা
ব্রাজিল ২ - কলোম্বিয়া ১
কোয়ার্টার ফাইনাল তিন : ব্রাজিলিয়া
আর্জেন্টিনা ১ - বেলজিয়াম ০
কোয়ার্টার ফাইনাল চার : সালভাদোর
হল্যান্ড ০ - কোস্টা রিকা ০
পেনাল্টি
হল্যান্ড ৪ - কোস্টা রিকা ৩
এবার সাঁও পাওলোতে দেখবো হল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা সেমি ফাইনাল।
Debanjan | 103.4.***.*** | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৯738709