এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক

  • দিলদার নগর ২১

    Aditi Dasgupta লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • নগন্য সে অশ্রুমেঘ একদিন 
    ঢাকিবে আকাশ। 
    বাতাসের দীর্ঘশ্বাসে---
    প্রতিটি বৃষ্টি ফোঁটা বলিবেই তাহাদের কথা !

    ১২৬৪ সনের শেষ বৈশাখের এক সকাল গড়ানো বেলায় স্নেহলতা তার  সংসারটিকে একলা একলা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে লাগলো।স্নান সারা ভিজে চুলগুলি পিঠে মেলা তার। মাথা ঘষার মশলার হাল্কা গন্ধ তাকে ছেয়ে আছে। 

     খুব অল্প সর্ষের তেলে  দু চারটি সর্ষে দানার ফোড়ন দিয়ে ছোলার ডাল বাটা দিতে হয় মৃদু আঁচে।নাড়তে নাড়তেই তার মধ্যে  ঝিরিঝিরি  কাঁচা আম দিয়ে দিতে হয়। খুব অল্প নুন আর অল্প মিষ্টি দিয়ে নেড়ে চেড়ে পাথরের বা মাটির খোরায় ঠান্ডা করে রাখতে হয়।  কাঁচা লঙ্কার ছালটুকু অল্প মেশানো যেতে পারে রুচি বুঝে, কিন্তু বীজ একদম ই না। স্বাদে আর গন্ধে জিভ আর নাক দুটি ই সাড়া দেয়। মন ভালো হয়ে যায়। স্নেহলতার হাতে এখন ছোট্ট পাথরের বাটিতে সেই অমৃত। আঙ্গুল দিয়ে অল্প অল্প জিভে ছোঁয়াচ্ছে সে। 

    দোতলার বাইরের দিকের বারান্দার চিক অল্প ফাঁক করে সে এখন দেখছে তার চলমান শহর টি এই হা হা করা বোশেখ বেলায়। ঘূর্ণি বাতাসে পাক খেয়ে উঠছে ধুলো আর শুকনো পাতা। একটু পরেই আপিস কাছারি, ছেলেদের ইস্কুল পাঠশালা মকতব ছুটি হয়ে যাবে দিলদারি রীতে। গরমকালে সকাল সকাল শুরু হয় সব কিছু, তারপর দুপুরের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে লোকে দুয়ার আঁটে গরম বাতাস থেকে রক্ষা পেতে। সাহেবরা বলে লু! হাঁস ফাঁস করে তারা। স্নেহলতা আপন মনে হাসে - ওরা কি আর আমানি, তেঁতুলঝোল খায়? আমের জল টক?

    লাল ধুলো ওড়া রাস্তায় এই মুহূর্তে হেঁটে যাওয়া মানুষ বা ঘোড়ার গাড়ি কম। দু একটি গরুর গাড়ি মন্থর চালে চলেছে এই সুযোগে। ঝাঁকা মুটে বাজার ফেরটা গুটি কয় আর খালি চুবড়ি হাতে মেছুনি, তরকারি ওয়ালী দু চার জন।আছে তফাৎ রাখা ঝাড়ুদারনি। এদের ভারী হিংসে করে স্নেহলতা মাঝে মাঝে। কি মজা এদের। হাটে বাজারে রোদে জলে কত অনায়াসে ঘুরে বেড়ায় এরা। কত কি দেখে!স্নেহর ও অমন উড়তে ইচ্ছে হয়। তবে স্নেহ ও এখন এ শহরে ঘোরার সুযোগ পেয়েছে, যদিও মেমদের মত ছাতা হাতে  পায়ে পায়ে পুরোনো জেলখানার পেল্লাই মাঠে বা গির্জার মাঠে নয়। ভাড়ার টমটম এর ফাঁক দিয়ে সে দেখতে থাকে তার শহর, পথ ঘাট মাঠ ময়দান। নাক দিয়ে টেনে নেয় রোদ জল গাছপালা আর ধুলোর গন্ধ। 

    সে যায়  ভঞ্জ বাড়ি, মহসিন মঞ্জিল,প্রসন্ন মাসিমার বাড়ি, ডরথি দাশের বাড়ি ।  সাথে যায় অন্ন ঝি।  সে রপ্ত করতে থাকে বিলিতি এমব্রয়ডারি, কুরুশ কাঠিতে লেসের কাজ। সে শোনে অন্য রকম সব কিসসা, দাস্তান। কোচোয়ান  সাদা দাড়ির বদরালি পাড়ার মানুষ। গাড়ির গতি কমিয়ে  পথের সময় একটু বাড়িয়ে দিয়ে মজা দিতে চায় স্নেহকে।  বিশেষ করে জেলখানা বা গির্জার মাঠ পেরোনোর সময়, কিংবা গোপ গৃহের নিচের  রোদে মাখা শালবনের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময়। স্নেহ জানে। বদরালি তাকে পৌঁছে দিয়ে আসে, আবার আসার সময় নিয়ে আসে। কখনো তাদের বাড়ির তারা  স্নেহকে রেখে দেয়, নিজেরা  পাঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে। 
    দিলদারে তখন---
    কতিপয় স্বামী-সোহাগিনী/পরিত্যক্তা/নষ্টে/মৃতে/প্রব্রজিতে গৃহিনীর গৃহ তাদের নিজেদের পরিচয়েই পরিচিত হতে শুরু করেছে!
    এগুলি কোঠি নয়।

    স্নেহর ব্যাপারে এরা সবাই  একটু বেশী সজাগ। মাঘ মাসের শেষে স্নেহর বিয়েটি নিয়ে শহরে বেশ গোল বাধিয়েছিল কিছু মানুষ যাদের পালের গোদা ছিল ভানু উকিল। নিজের মাটিতে দাঁড়িয়ে গা জোয়ারি করে পৌরুষের জানান দিতে চেয়েছিল। বেধবার বিয়ে দিতে চাওয়া, বাইরে থেকে শহরে এসে অনাচার করা লোকজনদের পুড়িয়ে মারার হুমকি টুমকি দিয়ে। তবু কে না জানে দিলদারের বসত দিল এর সাথে? বিয়েটি হয়ে গেল, আর দিলদার ও মনে রেখে দিলে দিলের কারবারিদের, গুন্ডাদের নয়। চোদ্দো বছরের স্নেহলতা পেলে বাইশ বছরের মৃত্যুঞ্জয়কে। সে কালেকটরের আপিসের কেরানি। তিন সাড়ে তিন মাসে কত কিছুই না ঘটে  গেলো তার জীবনে! মাঝে  মাঝে এক মানুষ উঁচু পাঁচিল তোলা ছাদে, আকাশ ভরা তারার আলোর নিচে মাদুর পেতে শুয়ে থাকে সে। কত কি ভাবে ! মৃত্যুঞ্জয় এসে বসে। দুজনে মিলে তারা খসে পড়ার স্বাক্ষী হয়।

    দিলদারের মাথার দিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে যাওয়া জংলা সবুজ  ঝর্ণাডাঙ্গার দুই তিন ঘর ভিষগের একঘর স্নেহলতারা। দাদাদের পাঠশালা আর টোলে অক্ষরমালা, শুভঙ্করী তাকেও ছুঁয়েছিল। বাড়িতে ও  নিয়ে ছুঁই মুই হয়নি।  শিশু সেবধি  আর তত্ত্ববোধিনীর বর্ণমালা নিয়ে মকশো করতে করতে সেও পাঁচালি পদাবলী পড়তে শিখে গিয়েছিলো।  তখনো হালের বর্ণপরিচয়, শিশুশিক্ষা আসেনি। তবে দেশকালের আচার মেনে বিয়েটি  হয়ে গেলো নয় পুরতেই  আর দশেই  খবর পেল গুটি বসন্তে তার ষোলো বছরের  স্বামীটির মরার খবর। কিন্তু অন্ধকারের যেমন বিশেষ দেশকাল হয়না, আলোরও হয়না। নিরীহ মমতা দেশ কালের নিষ্ঠুর আচার  বিচারের  উপর অনেক সময় তার আলোকমায়ার  নরম আঁচলটি বুলিয়ে তাকে  কিছুটা সহনীয় করে রাখে। তাই স্নেহর বুকে দুঃখ ছিল, কিন্তু তাকে  অসহ্য করে তুলতে কেউ তেমন উঠে পড়ে লাগেনি। নির্জলা একাদশীতে মা  বাপ্ দাদাদের সজল  চোখ বুঝি  অনেক তেষ্টাই ভুলিয়ে দিত।। 

    "দশ জনকে পড়াইয়া শুনাইবার" বিধবা বিবাহ পুস্তিকাটি  স্নেহর বাপের হাতে গিয়ে জমা দিয়েছিলো মৃত্যুঞ্জয় আর তার দলবল। সে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছে  দিলদারকে  কলিকাতার গতিতে সামিল করতে। পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে সে স্নেহকে দেখেছিলো কিনা জানা যায়নি। বাপ দোর দিলেন সে যুক্তিমালা নিয়ে। তিন দিন পর বাড়ির লোকজনের  ডাক পড়লো ভিতর বাড়ির বড়ো দোচালাটিতে। অশ্রু, প্রতিযুক্তি আর শেষ পর্যন্ত স্নেহকে শুধানোর মধ্যে দিয়ে প্রাকপর্ব মিটলো। লজ্জা, পাপবোধ অতিক্রম করে জীবনের সহজ দাবীর মৌন সম্মতিতে স্নেহ দিলদারের মধ্যখানে  এসে সংসার  পাতলে। এ বাড়িতে মৃত্যুঞ্জয় আগে থেকেই  বসত গেড়েছিল আপিসের সুবিধে বলে। এছাড়া তার অন্য কাজগুলি তো ছিলই।

    স্নেহলতার ভাগ্য নিয়ে মন্তব্য কি ভেসে আসেনা? রাস্তার ওপারে নন্দীদের বাড়ির বৌরা কি স্নেহলতা র মত ভাগ্য নিয়ে এসেছে? তাদের বারান্দার চিক সরানোই বারণ আছে, আছে ছাদে ওঠাতেও। তাও তারা লুকিয়ে চুরিয়ে তা করে থাকে। চিক শরীরটিকে আড়াল করে গলাটিকে তো আর নয়!  স্নেহ শুনতে পায় বৌদের গজ গজ। এক মাথা সিঁদুর দিয়ে আর নানান উপোস কাপাস, তুকতাক করেও যারা নাকি সোয়ামিদের দেখাই পায়না, আর ইদিকে পাশের বাড়ির জন কেমন শাঁখা সিঁদুর একবার খুইয়ে দ্বিতীয় বার আবার  বৌ -সোহাগী সোয়ামি পেয়ে গেলে! তাদের কথাগুলি যেন কেমন কেমন!

    বিত্তশালী শহুরে বঞ্চনার এই আদিম হাহাকারে স্নেহর সারা শরীর কেঁপে ওঠে। মন কু- ডাক ডাকে। সে সরে যায়। ক দিন আগেও ঘড়া ঘড়া জল ঢালতো মাথায়। কিন্তু এখন তার অন্য দায়িত্ব। সে মধুর দায়িত্ব যেন অতীতের সব সংশয় সংস্কার ঝেটিয়ে বিদেয় করে তাকে এক টলটলে জলের থির দীঘিতে পরিণত করেছে। তবে মাঝে মাঝেই মনে উথালপাথাল হয়না কি? শরীটাও বেজুত  হচ্ছে থেকে থেকে। মাছ দেখলে বমি আসে। ঠান্ডা দুধে দুটি ভাত ভিজিয়ে একটু পোস্ত বাটা দিয়ে খেতে পারে সে। ঝর্ণাডাঙ্গা থেকে  এখন পালা করে দুই বাড়ির নারীদের আসা যাওয়া চলছে। নতুন জীবনের টান বুঝি এমনই ---সব সংস্কার পাপ পুণ্যের হিসাব গুলিয়ে দেয়! 

    দক্ষিণ দিকের  বারান্দা থেকে সে সরে যায় এবার পুবদিকে। সেদিকে চিক নেই, হাওয়া আসে ফুরফুরে। এদিকে গায়ে গায়ে আরেক বাড়ি--এ বাড়ির কেয়ারাণীর সাথে তার বারান্দায় বারান্দায় কথা হয়। হয় আচার আমসত্বের দেওয়া নেওয়া।কেয়ারানীকে সে প্যারিবাবুর মাসিক পত্রিকা পড়ে শোনায়। মৃত্যুঞ্জয় জোগাড় করে এনে দিয়েছে যা বেইলি লাইব্রেরি থেকে।এমন সহজ  আলাদুলা ভাষাতেও যে পুঁথি লেখা যায়, আর তাতে মজা পাওয়া যায় -- কেয়ারাণী জানতোনাতো! সে অবশ্য অক্ষর চেনেনা। দুজনের আরো কত হাসাহাসি হয়। কেয়ারাণীর বারান্দায় রুপোর নোলক পরা ময়না দাঁড়ে বসে ওদের নকল করে   ট্যাক ট্যাক করে কথা বলে।

     আজ, এখন আমের বাটি রেখে, বারান্দার কোনে রাখা ঘড়ার জলে হাত ধুয়ে স্নেহ কেয়ারাণীকে আবার অবাক করতে চায়। ওর হাতে এখন একটি ডিম্বাকৃতি স্বচ্ছ জিনিস। সেটি নাকের উপর বসিয়ে সে তার ভিতর থেকে কেয়ারানীকে দেখতে থাকে। কেয়ারাণী আর তার গা ঘেঁষে যা কিছু, তা এখন লালচে বাদামী দেখায়। স্নিগ্ধ গন্ধে নাক ভরে যায়। মধ্যশীতের পয়রা গুড়ের মত রং এর। ভিতর দিয়ে সব কিছুই অমনই রং দেখায়। মৃত্যুঞ্জয় গতকালই এক বাক্স বিলিতি পিয়ার্স সাবান ওকে উপহার দিয়েছে কলিকাতা থেকে আনিয়ে। ওর ইচ্ছে হয় একখানা কেয়ারানীকেও দেয়। কিন্তু দশজনের সংসারে ও জিনিস ব্যবহারের সুযোগ কোথায় তার? চর্বি টর্বি ও নাকি আছে ওর মধ্যে! এসব কথার মধ্যেই ওরা সর্দি মেথরানীকে দেখতে পায়।মস্ত এক ঝাঁটা নিয়ে সে পিছনে উত্তর দিকের এজমালি জমিটুকু থেকে শুকনো  পাতা ঝেটিয়ে  তুলছে। সে  জমি এই সব বাড়িগুলির ভিতর বাড়ির উঠোন পেরিয়ে উঁচু পাঁচিলের ওপারে। ওদিকে এরা কেউ যায়না। সর্দি মেথরানী এবং ওরা পাঁচিলের এধারে আসেনা।

    খরার দেশ দিলদারে প্রায় প্রতিটা সম্পন্ন বাড়িতেই একটি  করে পাতকুঁয়ো  তাদেরকে এক ধরণের নিশ্চিন্তি এনে দেয়। কপিশার বুকের দিকে পা   বাড়ানো গোপন ভূমিজলের ধারা গুলিকে এদেশে  'ঝর্ণা'  বলে। ওস্তাদ কুঁয়ো কাটিয়ে লোক ঝর্ণার উৎস বুঝবে মাটির  উপর থেকেই। তা না বুঝলে খোঁড়াখুড়ি  মাটি হবে  জল   মিলবেনা।

    উঠোনের মধ্যখানে পাতকুঁয়োর গা ঘেঁষে স্নানের ঘর। উত্তর পশ্চিম কোনগুলি শৌচাগারের জন্য নির্দিষ্ট।  বেশ কয়েক ধাপ সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয়। সিঁড়িটি ভিতর বাড়ি দিয়ে গেলেও  শৌচাগার আর তার ঠিক নিচের মলভান্ডটির খোলামুখ কুঠুরি  কিন্তু  পাঁচিলের ওদিকে এজমালি জায়গাটিতে । প্রতিটি বাড়িরই তাই। সর্দি মেথরানীরা  পর পর যাতে বাইরে থেকে ভান্ডগুলি পরিষ্কার করে দিয়ে যেতে পারে ছোঁয়াছানি বাঁচিয়ে। সর্দি এ কাজটি করে  যায় ভোরের আলো ফোটার আগেই। ছোটো থেকেই সে মায়ের সাথে এই কাজ করছে। এই শৌচাগারে জলের চল নেই। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মুখে আরেকটি ছোট ঘরে  জল ভরা থাকে সবরকম ধোয়াপাখলার জন্য।

    সর্দির বয়স চোদ্দো হতে পারে,পনেরো ও হতে পারে। সে ঠিকঠাক বলতে পারবেনা। সেই যেবার খুব জাড় পড়লো, জল ও হলো পৌষ মাসের গোড়ায় - সেবার তার জন্ম। মা বলে। বুকের ওমের মধ্যে তাকে জড়িয়ে রেখে অনেক সেঁকতাপ নিয়ে জীবন বাঁচানো গেছে। তাই সে সর্দি --শীত! মায়ের জাবেদা সই তার জানপেহচান কোন দিলের দোস্ত বাবুর্চিকে ধরে কোনো রসুইঘর থেকে অনেকটাই সর্ষের তেল আর জায়ফল জোগাড় করে এনেছিল। তেলের সাথে রোজ তারই গুঁড়ো মিশিয়ে আচ্ছা করে হাত পা ডলে ডলে সে নাকি চাঙ্গা করেছে সর্দিকে। ওরা বসে বসে গপ্পো করে, এ ওর চুল আঁচড়ে দেয়। 

    এই সময় সে যখন ঝাঁট দেয় তখন তার বর ধম্ম ধাঙ্গড় সিপাহী ব্যারাকের কাজ শেষ করে এসে দাঁড়ায়। দুটো কথা, দুটো ইশারা, হাসি মজাক চলে। কেয়ারাণী আর স্নেহলতা তাদের কথা ততটা স্পষ্ট ভাবে শুনতে না পেলেও অসুবিধে নেই। সব ভাষায় কি শব্দ লাগে? ধম্ম ধাঙ্গড় এর হাতে আজ কিছু একটা আছে যা সে সর্দিকে একবার হাতে দেবার চেষ্টা করছে, পরক্ষণেই উপরে তুলে নিচ্ছে। সর্দিও হাসছে আর লাফিয়ে সেটি নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এক সুযোগে সে ছিনিয়ে নেয় সেটি, চোখের সামনে তুলে ধরে। স্নেহলতা আর কেয়ারানী দেখে সর্দির হাতেও অমনই সাবান তবে  একটু ক্ষয়া, একটু ছোট। হয়তো কোনো মেমের ফেলে যাওয়া বা ধম্মর কাজে সন্তুষ্টির ইঙ্গিত। নেহাতই উদারতা হয়তো বা। স্নেহলতার হটাৎ খুব খুশী লাগে। কী যে হচ্ছে এখন তার! নিজেই থৈ  পায়না!

    হপ্তা দুয়েক পর, একদিন সকাল থেকেই  মেঘলা আর গুমোট করে রইল। গাছের পাতা নড়েনা।কেমন যেন শুকনো ধুলো ধুলো গন্ধ চারদিকে। আপিস ছুটির পর মৃত্যুঞ্জয় যখন দুপুরে ফিরলো, তার মুখেও সেই গুমোট ছায়া। শহরের হালচাল ভালোনা। তার খানিকটা অবশ্য সকাল থেকেই স্নেহর চোখে পড়ছিলো চিকের ফাঁকে ধরা দেওয়া  রাস্তায়। কেমন যেন থমথমের ভাব, শুনশান রাস্তায় একটি দুটি মানুষ-- দেখা হলেই কিছু একটা নিয়ে আলোচনার করছে বুঝি! মিছরি পানার গেলাশে চুমুক দিয়ে মৃত্যুঞ্জয় জানায় ব্যারাকপুর, মিরাট এর ঢেউ দিলদারেও লাগলো বুঝি। এমনিতেই বনবাসীদের  সাথে সায়েবদের যেন একটা স্থায়ী লড়াই এর জায়গা অনেকদিন আগে থেকেই তৈরি হয়ে আছে এই বন পাহাড়ের ভূমিতে। তাই ফৌজ ও রাখতে হয়েছে তাদের বেশ ভালো রকম। আবার এখানে সেই দিশি ফৌজএর লোকজন বেশির ভাগই পশ্চিমা। তারা গাঁয়ের উঁচু জাতের জন, জাত ধম্মর নিয়ম রাখতে যারা মরতেও পারে, মারতেও পারে! 

    ক্রান্তি কখন, বা ঠিক কী কারণে শুরু হয়, কোথায় পৌছায় --- তা বাঁধাধরা ব্যাখ্যায় বুঝি আটেনা। তবে একবার শুরু হয়ে গেলে, তা কারণ ছাড়াও অকারণকেও  দলে টানে। ভাতে মারা নাকি ধম্মে মারা- ঠিক কী কারণটি  সামনে ছিল বলা মুশকিল, কিন্তু শত্রুর সাথে যা কিছুর যোগ আছে --- তার সব কিছুই উড়িয়ে পুড়িয়ে কচুকাটা করলে বুঝি জ্বালা জুড়োয়। তাই নিরপরাধ নারী শিশুও রক্ষা পায়না ! সে সিঁদুরে মেঘ দেখেছিল দিলদারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষের মানুষরা। ইংরেজি ইস্কুল, মেয়েদের লেখাপড়া, বেধবাদের বিয়ে দেওয়া, জাত পাতের বিরুদ্ধে  কথা -- কোনটি যে তাদের কখন খেপিয়ে তুলবে, তা তখন নিশ্চয় করে কিছুই বলা যায়না! মৃত্যুঞ্জয় স্নেহলতাকে পরদিনই ঝর্ণাডাঙায় রেখে এলে।

    শহরে সাজো সাজো রব উঠলো। দিলদার নগরের সরকারি ইংরেজি ইস্কুলের মাস্টাররা সায়েবি সুট  এর তলায় ধুতি পরে যেতে লাগলে, সিপাহী এলেই যাতে দিশি বাবু সেজে যেতে পারে তারা । ম্যাজিস্ট্রেট লসিংটন  সায়েব তখন একদিকে সেপাইদের কাছ থেকে বিশুদ্ধ নেটিভ পদ্ধতিতে ধান দুব্বো ছুঁইয়ে ঝামেলা না করার শপথ আদায় করছে  তো আরেকদিকে ভদ্দর লোকদের  তলব করে, হাজিরা নথি ধরে নাম ডেকে ডেকে  আচ্ছা করে সমঝে দিচ্ছে --- সেপাইদের ভয় পেলে জেলে যেতে হবে !  সেপাইদের উস্কানি দেবার অভিযোগে এক তিওয়ারি বামুনকে ফাঁসিতেও লটকে দেওয়া হলো জেলখানার মাঠে ! আর এই ইধার উধার ভয়ের আঁধারে সারা রাত্তির শহর টহল মারতে থাকলো লসিংটন নিজে, তার বগি গাড়িটি চেপে --- দিলদারের ভয় দূর করতে।  

    এখন স্বস্তি আর ভয়ের মাঝে দুলতে দুলতে দিলদার  গুলিয়ে ফেলছে কাকে ভরসা করতে হবে আর কাকেই বা বিশ্বাস করা চলবেনা ! তারা দেখে বিয়ে- শাদী -পরবে একটা পটকা ফাটলেই সায়েবদের হাত থেকে কাঁটাচামচ ছিটকে পড়ছে! কপিশার ধারে ধারে তাদের আর দিশি বড়লোকদের নৌকা গুলি বাঁধা আছে। তেমন পরিস্থিতি হলে সেগুলিতে উঠে পড়ে  পালানোই যাবে। বৃষ্টি নামতে আর কদিন! কপিশা তখন ঢেউ ভাঙবে।

    কোম্পানির কড়া শাসনেই হোক বা অন্য কোনো কারণে, দিলদারে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু আর ঘটলোনা। পশ্চিমা সেই বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া হলো আরো পশ্চিমে। অন্য কোনো কারণ হিসেবে কানাঘুষোয়  উঠে এলো ব্রিটিশ কর্নেলের হাফ-গিন্নি এক রাজপুতানির নাম। সেপাইরা, যে কোনো কারণেই হোক, তাকে নাকি ভারী মান দিত। সে তার সেই মর্যাদা কাজে লাগিয়ে সায়েব ও সেপাইদের মধ্যে একটা সমঝোতা করে দিলে। কিংবা তাকে কাজে লাগানো হলো।

    স্নেহলতা দিলদারে ফিরে এলো। ফিরে এলো আরো অনেকেই। পরদিন ঘোর বর্ষার কাকভোরে সে এসে দাঁড়ালো তার পুবের বারান্দায় --- হাওয়া নিতে। আজকাল তার ঘুম বার বার ভেঙে যায়। নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে। স্ফীত শরীরের কারণে হাঁটা চলায় অলসতা। অনেকদিন পর আজ সে সর্দিকে পেছন থেকে দেখতে পেল। এই সময় ওরা কেমন ছিল কে জানে! একটি হাত কোমরে রেখে অপর হাতে বিষ্ঠার মালসা মাথায় ধরে  অলস গতিতে সে ভিজতে ভিজতে চলে যাচ্ছে।

    ক্রান্তিকালে কারা কারা শেষ পর্যন্ত যোগ দিলে, তাদের কে বা কি উদ্দেশ্য নিয়ে যোগ দিলে - তাই নিয়ে নানান খবর  তখন ভেসে আসছিলো। বিদ্রোহ থামলেও তা নিয়ে তক্কো তো থামলোনা!কোম্পানির বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ, তা কেবল উঁচু জাতের সেপাইদেরই নয় আরো অনেকেরই যে ছিল -সেটা  ক্রমে ফুটে উঠলো। নীচু জাতের কথাতো আর পুঁথির অক্ষরে ফুটে ওঠেনি, গল্প কথা, গান, পদ্যতেই তার দেখা মিলেছিল। আর মিলেছিলো সায়েবদের রিপোর্টে। কালো কেলো কিছু মানুষ--যাদের চর্বির জাত নিয়ে জাত যাবার ভয় নেই, তারাও কি লড়াইটাই না দিয়েছিল মাঠে ঘাটে, গাছের উপর চড়ে! তাদের মধ্যে মেয়েগুলিকে সে জঙ্গে  নাকি আলাদা করে চেনাই যায়নি যতক্ষন না তারা মরেছে! মেয়ে বলে চেনার পরে শত্তুর সায়েবরাও নাকি টুপি খুলে সম্মান দিয়েছিল সে মরা মেয়েগুলির সামনে দাঁড়িয়ে।

    নিন্দুকেরা বলে নীচু জাতের কাছে দেশ কিছু নয়, জাতের যাঁতাকলে থেকে বেরোনোটাই তাদের কাছে আসল। তাই সায়েবরাই তাদের কাছে খোলা হাওয়া ছিল। আরেক দল  মনে করতে শুরু করেছিল পুঁথি লেখা দরদী সায়েব আর কোম্পানির বন্দুক ধরা সায়েব আলাদা। পরের দলটা নিজের লাভের খাতিরে সব বদমায়েশিকেই কাজে লাগায় --অর্থ,জাতপাত, ধম্ম নিয়ে মারামারি। এই দুই এর মাঝে, তাই, সেই ক্রান্তিকালে, যাদের কথা কেউ শুনতোনা - তাদের লড়াইটি নিয়ে নানান  তত্ত্ব এলো, তর্ক চলতে লাগলো। আর তারই মাঝে তারা বলতে শুরু করলে নিজেদের কথা-  যা এতদিন ঠাঁই পায়নি ইস্কুল কলেজের ইতিহাস বইতে।

    বলাতো শুরু হলো, কিন্তু প্রথম বক্তা তো পুরুষই। সে তার জাতকে তুলে ধরতে গিয়ে লড়াকু মেয়েগুলির ছবিতে বড্ড বেশীই বুঝি মিশিয়ে ফেললে নিজের ইচ্ছার মাধুরী! হয়তো অন্যের সাথে টক্কর দেবার ইচ্ছাটি লুকিয়েছিল । তাদের মেয়েগুলির বিশেষ প্রতিকূল বাস্তব অবস্থা, ক্ষোভ, দূর্বলতা, আবার তাকে জয় করার একান্ত নিজস্ব বাহাদুরি --অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেল বুঝি।  রূপ, গুণ, বাহাদুরি, নৈতিক চরিত্র ---সব দিক থেকেই যেন তাদের এক নতুন নির্মাণ হলো অন্যের মাপকাঠিতে, সব কিছুর পরাকাষ্ঠা  রূপে! তাই তারা দেবী হয়ে গেলো। ---উদা দেবী, আশা দেবী, মহাভিরি দেবী ! রক্তমাংসের মেয়েরা তাদের আর ছুঁতেই পারবেনা। একবার দেবী হয়ে গেলে আর মানবীর আসল কণ্ঠ,আসল সমস্যা, শোনা যায়না। খোল করতাল ধামসা মাদল বা করতালিতে চাপা পড়ে যায়।  তাই আবার এক নতুন জাতভেদ এলো অন্তজ  মেয়েদের নিজেদের ভিতরেও --দেবী আর মেথরানী। 

    এরপর থেকে নীচু জাতের  এই দেবীদের মূর্তি বসবে রাস্তার মোড়ে, তাদের  সেই অবিশ্বাস্য ছবি -যেমনটি আঁকা হয়েছে--সূর্যের আলো মেখে -পতপত করে উড়বে রাজনীতির জঙ্গের ময়দানে। আর সর্দি মেথরানীরা ভোরের আলো ফোটার আগেই চেষ্টা করে যাবে যাতে সকলের আগোচরে  সেই 'সকলেরই'  বিষ্ঠাভান্ড পরিষ্কার করে রেখে দেওয়া যায়। তাদের সূর্য প্রণাম নেই। শতাব্দী যাবে আসবে। 

    পরের কথা পরেই থাক। আমরা এখন ফিরে যাই আবার ১২৬৪র দিলদারে।

    ভাদ্রের পরিণত বর্ষায় কপিশা ভাসিয়েছে তার দুই কুল। শহরের ভিতরে  থকথকে লালচে কাদা। জল ও জমে আছে কোথাও। বৃষ্টি কখনো জোরে কখনো ঝিরঝির  করে ঝরেই চলেছে, সাথে দমকা হাওয়া। পাকা তাল জ্বাল দেওয়ার গন্ধ ভেসে আছে  সম্পন্ন পাড়াগুলির বাতাসে। অন্তজ পাড়া তাদের শুকরগুলিকে আজ ঢুকিয়ে নিয়েছে নিজেদের কুঁড়ের ভিতর।তালপাতা, ছেড়া মাদুর, ভাঙা হাঁড়ি - যা পেরেছে তাই দিয়ে জল আটকানোর মরিয়া চেষ্টা। এ পাড়ার অধিকাংশ নারী পুরুষ ই এখন সাফাই কাজে বাইরে। না গিয়ে উপায় কি? বুড়োবুড়িরা জবুথোবু মেরে আছে, আর বাচ্ছারা জলে কাদায় মারামারি করছে। দিন গড়িয়ে কখন সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে  বিকেল  আর বিকেল থেকে সন্ধ্যে নামলো আজ দিলদার বুঝলোইনা !

    পরদিন বৃষ্টি আর অন্ধকারের ভোরে স্নেহলতা আর মৃত্যুঞ্জয়ের ঘুম ভেঙে গেল তুমুল গন্ডগোলের মধ্যে। পুতিগন্ধময় বাতাসে তাদের শ্বাস আটকে এলো। প্রায় প্রতিটা বাড়ির ভিতর-উঠোনে বাড়ির লোকজনের জটলা -- নাকে কাপড় দিয়ে, হাঁক ডাক। আর বাইরের সেই এজমালি জমিটির উল্টো দিকের খোলা রাস্তার দিক থেকে বিলাপ করতে করতে ছুটে  আসছে  ধাঙ্গড় বস্তির  নারী পুরুষ ! মল ভর্তি ভারী মালসা মাটিতে আছড়ে পড়ে খান খান হয়ে ছড়িয়ে  আছে  চারদিকে ! তারই মাঝে অন্যের বিষ্ঠা, নিজের আর নিজের অজাত সন্তানের কালচে রক্তে মাখামাখি হয়ে পড়ে আছে কিশোরী সর্দি ---সাত সকালে অনাছিষ্টি কান্ডটি ঘটিয়ে!
     জন্মাষ্টমী র পুজো মাথায় উঠলো সারা মহল্লার। 

    স্নেহলতা বিছানা নিলে সেইদিনই। বমি,জ্বর, ক্ষুধামান্দ্য , বিষন্নতা -- নানান উপসর্গে সে কাহিল থেকে কাহিলতর হতে থাকলো। কখনো সে কথাই বলেনা, আবার কখনো বার বার একই কথা বলতে থাকে--- অসংলগ্ন, অস্পষ্ট। কেয়ারানী তার পাশে এসে বসলে সে কাউকে পরিষ্কার করার কথা বলে বার বার। সাবান ফুরিয়ে গেছে বুঝি কারো, সে কথা চিন্তা করে আবার কাঁদে কখনো গুঙিয়ে গুঙিয়ে। কখনো আবার নিজের শাড়ি দিয়ে তাকে ঢেকে দিতে চায় ! কখনো পরম মমতায়, নিজের হাতের পাতাদুটি বোলাতে থাকে সর্বাঙ্গে ---মাথা থেকে কপাল- গাল-গলা-বুক-উদর -উরু থেকে উরুসন্ধি....। যেন নিজের নয়, অন্য কোনো ব্যাথাতুর দেহে সে বুলিয়ে চলেছে মন্ত্রঃপূত  দুটি পালক ! তারপর একদিন, এক হিম গোধূলিতে, সময়ের আগেই, সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। আর চোখ মেলেনা।

    আবেগ ও বিবেক যখন  কোনো কিছু মেনে নিতে একেবারেই নারাজ হয়, অথচ পরিস্থিতি পাল্টাবার বা সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো পথ কিছুতেই খুঁজে পায়না, তখন কারো কারো  প্রকৃতি  বুঝি নিজেই নিজের পথ বের করে নেয় শরীর পাতনের মধ্যে দিয়ে, ব্যক্তিটির মৌখিক জবাবের আর তোয়াক্কা না করেই ! সবার যে এমনটা বাড়াবাড়ি হয় তাতো নয়--- হয়তো কোটিকে গুটিক ! তবু, হরষ ও বিষাদ নিয়ে  এ বাড়াবাড়িই বুঝি আমি- তুমি ঘুচিয়ে দেওয়া সেই আদিম আবেগ। সমস্ত তর্কের শুরুতে সে, শেষেও সে ! সেই অনন্ত সম্ভাবনার হিরণ্যগর্ভ!

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ধারাবাহিক | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন