এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • সিদ্ধির সদ্ভাবনা

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১০ মার্চ ২০২৬ | ১৪২ বার পঠিত
  • ২০১৫ সালের এক শনিবার। অফিস ছুটি। তখন নভী মুম্বাইয়ে খারঘরে থাকি। বেডরুমের টেবিলে ল‍্যাপটপে কিছু লিখছিলাম। সকাল দশটা নাগাদ ডোর বেল বাজলো। স্ত্রী দরজা খুলে কারোর সাথে মৃদু বাক‍্য বিনিময় করে ভেতরে এসে বলে, একটু এসো তো, তোমার সাথে একটি মেয়ে দেখা করতে এসেছে। 
     
    - মেয়ে? আমার সাথে? কী জন‍্য বললো কিছু?
     
    - না, জিজ্ঞাসা করলাম। বলে, আঙ্কল আছে? তুমি বাড়ীতে আছ শুনে বললো, তোমার সাথে একটু কথা বলতে চায়।
     
    - একটা বিষয়ে লিখছিলাম, যত্তো সব ব‍্যাঘাত। কোনো সেলসগার্ল টার্ল হবে বোধহয়। কিছু একটা বলে কাটিয়ে দিতে পারলে না? বলতে গেলে কেন আমি বাড়ী আছি? ছুটির দিন বলে দাড়িটাও কামাইনি, বারমুডা আর পুরোনো টিশার্ট পরে আছি, এভাবে একটা মেয়ের সামনে যাওয়া যায়? - লেখার মাঝে ছেদ পড়ায় ইষৎ বিরক্ত হয়েই এসব কথা বলি। 
     
    স্ত্রী বলে - না গো, সেলসগার্ল ধরনের মনে হলো না। তোমার থেকে অনেক ছোট। বেশী ভ‍্যানতারা না কষে যাও তো। দ্যাখো কী বলে। এভাবে কাউকে দরজার বাইরে অপেক্ষা করিয়ে রাখাটা অভদ্রতা হয়ে যাচ্ছে।
     
    অগত‍্যা নিমরাজি হয়ে যাই।‌ আধ খোলা দরজার বাইরে একটি বাইশ তেইশ বছরের মেয়ে শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমায় দেখে মিষ্টি হেসে হাত তুলে নমস্কার করলো। কথাবার্তা সব ইংরাজিতেই হোলো, কিন্তু আমি বাঙলাতেই লিখছি।
     
    - গুড মর্নিং আঙ্কল। আমার নাম সিদ্ধি। আমি Helpage India র হয়ে আপনার কাছে কিছু অনুদান সংগ্ৰহের আশায় এসেছি। চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে, দেখা করতে আসার মূল উদ্দেশ‍্যটি, ভনিতা না করে, স্পষ্ট ভাবে বলল মেয়েটি। ব্যাগ থেকে Helpage India Volunteer ID Card বার করেও দেখালো। খুব কম মানুষ‌কে এমন সটান, স্বচ্ছ ভাবে কথা বলতে দেখেছি। তাই খুব ভালো লাগল। 
     
    কোনো এক সেমিনারে শুনেছিলাম, Like love at first sight, when you are going to meet someone with a purpose, ability to make a right impression at first sight is very important. মেয়েটিকে দেখে মনে হলো ও সেই সেমিনারে শোনা বক্ত‍ব‍্যের জীবন্ত উদাহরন।
     
    - ভেতরে এসো। দরজাটা পুরো খুলে ওকে ড্রয়িং‌রুমে ডাকি। পা গলানো জুতোটা বাইরে খুলে, ঘরে এসে সোফায় বসে মেয়েটি।
     
    মাঝারি গড়ন, ফর্সা, ঝকঝকে চেহারা, মসৃন ত্বক, ঝলমলে অমলিন হাসিমুখের মেয়েটিকে দেখলেই মনে হয় ও বেশ আত্মপ্রত‍্যয়ী। সচ্ছল পরিবারে ভাল খাওয়া পরা ছাড়াও যথে‌ষ্ট আদর যত্নে লালিত মেয়ে। আকাশী জীনসের ওপর হালকা ক্রীম রঙের শর্ট স্লীভ টপে ওকে বেশ সপ্রতিভ ও মার্জিত লাগছে। বাঁ হাতের কব্জীতে একটি ছোট্ট সাদা ঘড়ি। আসল বা নকল মুক্তোর দুটো ছোট্ট কানচাপা দুল ছাড়া হাতে, গলায় আর কোনো আভরণ নেই। অথচ এরকম নিটোল হাতে বা পেলব কন্ঠেই তো অলঙ্কার খোলে ভালো। হতেও পারে এখন ও অনুদান সংগ্ৰহে বেরিয়েছে বলে এমন ছিমছাম ভাবে এসেছে।
     
    ওর সামনে মেরুন বারমুডার ওপর কোঁচকানো রঙচটা নীল টী-শার্ট পরে, উশকো খুশকো চুল আর না কাটা দাড়িতে আমায় নিশ্চ‌য়ই একটু ন‍্যালাখ‍্যাপার মতো লাগছিল কিন্তু ওর দৃষ্টি‌তে মনে হোলো এসব নিয়ে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ‌ই নেই। বৃথাই ওসব ভাবছিলাম আমি। সোফায় বসে সেন্টার টেবিলের ওপর লিফলেট বিছিয়ে রীতিমত কেজো গলায় ও আমায় বোঝাতে শুরু করলো Helpage India কি ধরনের কাজ করে এবং ও আমার কাছে কি সাহায‍্য আশা করছে। 
     
    এর আগে আমি SOS, CRY তে কিছু সাহায‍্য করেছি। Helpage সম্বন্ধেও শুনেছিলাম। তাই ওকে বললাম - তোমার ইন্ট্রো শুনে তোমায় ঘরে ডেকে বসতে বলেছি মানে কিছু সাহায‍্য‌ আমি নিশ্চয়‌ই করবো তবে Helpage এর মতো একটি পরিচিত NGO সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানার কোনো উৎসাহ নেই। তবে তোমার আপত্তি না থাকলে এবং একটু সময় থাকলে আমি তোমার সম্পর্কে কিছু জানতে আগ্ৰহী। 
     
    একগাল হেসে একটু অবাক হয়ে সিদ্ধি বলে - আমার সম্পর্কে জানতে চান? না, তাতে কোনো আপত্তি নেই কিন্তু আমি তো খুব সাধারন একজন, আমার সম্পর্কে কি জানার থাকতে পারে বুঝলাম না।
     
    - সেটা আমার ব‍্যাপার। তার আগে বলো, কি খাবে তুমি? চা না কফি?
     
    - না না, কাকু ওসবের কোনো দরকার নেই। এবারে একটু বিব্রত লাগে ওকে।
     
    - তা বললে হয়। শুকনো মুখে তো আর গল্প হয় না। তাছাড়া আমার স্ত্রী কফিটা ভালোই বানায়, একদম দোকানের মতো। খেয়ে দেখো একবার।
     
    - আচ্ছা, তাহলে কফি। সেই সাতসকালে ব্রেকফাষ্ট করে বেরিয়েছি। মনটা সত‍্যি‌ই একটু কফির জন‍্য আনচান করছিলো। আপনি একদম আমার মনের কথাটা বলে দিলেন। সলজ্জ হেসে বলে ও। তাহলে এগুলো তুলে রাখি? লিফলেট গুলো দেখিয়ে জানতে চায় ও।
     
    - হ‍্যাঁ। তুলে রাখো। আর তোমার নিজের সম্বন্ধে যতটুকু বলতে চাও, ভেবে নাও। আমি ততক্ষণে কফিটা বানাতে বলে আসি। 
     
    সিদ্ধি কেন এসেছে শুনেই আমার স্ত্রীর কৌতুহল মিটে গেছে। ও তখন পিছনের বারান্দায় ওয়াশিং মেশিনে জামা কাপড় কাচতে ব্যস্ত। কফি করতে বলায় ভুরু নাচিয়ে, দুষ্টু হেসে বলে, ব‍্যাপারটা কী মশাই? একটু আগে তো ওকে না দেখে‌ই কাটিয়ে দিতে চাইছিলে। দেখার পর কফি!
     
    - ব‍্যাপার আবার কী। ওকে দেখে ভাল বাড়ীর মেয়ে বলে মনে হচ্ছে। শনিবার, ছুটির দিনে ঘরের খেয়ে চ‍্যারিটি ওয়ার্ক করতে বেরিয়েছে। নতুন প্রজন্মের এইসব ছেলেমেয়েদের সাথে একটু কথা বলতে ভালোই লাগে। আর সেটা তো শুকনো মুখে ভালো দেখায় না, তাই কফি। 
     
    এবার আমার স্ত্রীও মস্করা ছেড়ে স্বাভাবিক গলায় বলে, হ্যাঁ, গো, আমার‌ও তাই মনে হয়েছিল, তাই তো তোমায় জোর করছিলাম একবার দেখা করার জন‍্যে। ঠিক আছে, তোমরা কথা বলো, আমি কফি বানিয়ে আসছি।
     
    বসার ঘরে এসে দেখি চুপটি করে, হাতের ওপর হাত রেখে সোফায় বসে আছে মেয়েটি। আমায় দেখে লাজুক হেসে বলে, শুধু শুধু আবার আন্টিকে আমার জন‍্যে এখন কিচেনে যেতে হবে। 
     
    - তাতে কি হয়েছে, এমনিতেই ছুটির দিনে সকালে দুবার চা খাই আমরা। আচ্ছা এবার তোমার কথা কিছু বলো।
     
    - আমরা এক ভাই, এক বোন। আমি বড়। অনার্স নিয়ে কমার্সে গ্ৰাজুয়েশন করে এখন মার্কেটিং ম‍্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ছি। তিন বছরের কোর্স। এই সবে সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি। আমার ভাই এই বছর মুম্বাই আই.আই.টিতে মেকানিক‍্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। আমার বাবা আইনজীবি। মুম্বাই হাইকোর্টে প্র‍্যাকটিস করেন। মা ডাক্তার। চাইল্ড স্পেশালিষ্ট। সরকারি হাসপাতালের সাথে যুক্ত। উনি প্রাইভেট প্রাকটিস করেন না। আমরা সাউথ মুম্বাইয়ের পারেলে থাকি। গুছিয়ে, ধীর স্বরে কথাগুলো বলে ও।
     
    - পারেলে তোমরা ভাড়া বাড়ীতে থাকো না নিজেদের ফ্ল‍্যাটে?
     
    - অনেকদিন আগে আমার ঠাকুরদার বাবা পারেলে একটা ছোট জমি কিনে সেখানে দু কামরার একটা একতলা বাড়ী করেছিলেন। কিছুটা জমি ছাড়া ছিল। সেই থেকে আমরা চার প্রজন্ম ধরে ওখানেই আছি। ঠাকুরদা আর‌ও একটা কামরা যোগ করেন। পরে বাবা দোতলায় দুটো ঘর বানিয়ে বাকিটা খোলা ছাদ হিসাবে রেখে দিয়েছেন। এখনো সামনে পিছনে কিছুটা খালি জমি আছে। বাবার কাছে শুনেছি ঠাকুরদার বাবার ছিল খুব বাগানের শখ। সেটা ঠাকুরদার‌ও ছিল, এখন বাবার‌ও আছে। সপ্তাহে একদিন মালী আসে। অন‍্যদিন সকালে আমি বাবার সাথে বাগানে একটু হাত লাগাই। ভাল‌ই লাগে। দোতলায় এতদিন আমি আর ভাই থাকতাম। এখন ও হোষ্টেলে চলে গেছে। ছুটিছাটায় আসে। একতলার একটা ঘরে মা বাবা থাকেন। একটা ঘরে বাবার অফিস। অন‍্যটা গেষ্ট রুম। আসলে ঠাকুরদা আর বাবা দুজনেই ছিলেন একমাত্র সন্তান, তাই এই বাড়ী এতদিন ভাগ হয়নি। 
     
    ওর গোছানো কথা শুনে বেশ লাগে। 
     
    - আচ্ছা এই যে তুমি আমাদের এ্যাপার্টমন্টে এলে, নীচে যে ওয়াচম‍্যান আছে, পান্ডে, সে তোমায় আসতে দিলো? কিছু জিজ্ঞাসা করলো না? এখানে তো ক‍্যুরিয়ার, ধোবি, কাজের লোক, ফুড হোম ডেলিভারী বা ওইরকম যারা নিয়মিত আসে তারা ছাড়া অন‍্য কেউ এলে কে, কী বৃত্তান্ত, কার সাথে দেখা করতে চাও এসব জানতে চায়, ভিজিটর বুকে এনট্রি করতে হয়। তোমায় কিছু জিজ্ঞাসা করেনি?
     
    - করেনি আবার! আসলে শনি, রবি আমাদের কলেজ ছুটি থাকে। আমি মাসে দুটো শনিবার সকাল আটটা থেকে এই কাজের জন‍্য বেরোই। গত মঙ্গলবার ছুটি ছিল। আমি খারঘরে অন‍্য সোসাইটিতে কাজ করে আপনাদের এই সোসাইটিতে এসেছিলাম। আপনাদের ওয়াচম‍্যান পান্ডেজী খুব স্মার্ট আর হুঁশিয়ার মানুষ। উনি অনেক কথা জানতে চাইলেন, Helpage এর আই কার্ড দেখতে চাইলেন। তারপরে আপনাদের সোসাইটির সেক্রেটারির সাথে আমায় ফোনে কথা বলিয়ে দিলেন। উনিই বললেন শনি, রবি বা ছুটীর দিন এলে অনেককে পাওয়া যেতে পারে। তাই আজকে আবার এসেছি। 
     
    - তুমি কী ভাবে এখানে এসেছ?
     
    - লোকাল ট্রেনে। খারঘর তো নভী মুম্বাইতে। আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে কোনো ডিরেক্ট ট্রেন নেই খারঘরের। তাই সেন্ট্রাল লাইনের থাণে লোকাল ধরে কুরলাতে নেমে ট্রেন বদলে হারবার লাইনে পানভেল লোকাল ধরে এসেছি।
     
    সিদ্ধির এই জবাব বেশ ভাবায় আমায়। সপ্তাহে মোটে পাঁচদিন ঝাঁ চকচকে দশ লেনের সায়ন-পানভেল হাইওয়েতে তিরিশ মিনিটে সতেরো কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে অফিস যাতায়াত করেই মানসিকভাবে এমন ক্লান্ত লাগে যে ছুটির দিনে দরকার না পড়লে বা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার না থাকলে গাড়ী চালিয়ে বা লোকাল ট্রেনে কোথাও যেতে ইচ্ছে করেনা। অথচ শনিবার সাত সকালে বাড়ী থেকে বেরিয়ে মাঝপথে গাড়ি বদলে দুটো লোকাল ট্রেনে করে ও এতদূর স্বেচ্ছায় এসেছে Helpage এর জন‍্যে অনুদান সংগ্ৰহের আশায়! সাউথ মুম্বাইয়ের পারেলের মতো জায়গায় জমি সমেত বাড়ী ওদের ,যার বাজারদর এখন হয়তো কয়েক কোটি টাকা। বাবা উকিল, মা ডাক্তার, তাই ধরে নেওয়া যায় ওদের বাড়ীর আর্থিক অবস্থা আমার প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক ভাল। ওর ভাই আই.আই.টিতে পড়ে, ও নিজেও এখন ম‍্যানেজমেন্ট পড়ছে তাই ওরা নিজেরাও বাস্তববাদী আর কেরিয়ার সচেতন। এরকম বাড়ীর একটি যুবতী মেয়ে এহেন ঘরের খেয়ে লোকের বাড়ী বাড়ী ঘুরে ডোনেশন সংগ্ৰহ করছে দেখে বেশ অবাক লাগলো। তাই ওকে আর একটু খুঁটিয়ে জানতে ইচ্ছে হলো।
     
    - তোমার মতো অল্পবয়সী একটি মেয়ে ছুটীর দিনে সকালে জগিং করতে যাবে বা একটু বেলা অবধি ঘুমোবে, তারপর ব্রেকফাস্ট করে কোনো মলে বা মাল্টিপ্লেক্সে বন্ধুদের সাথে কেনাকাটা করতে, সিনেমা দেখতে বা আড্ডা দিতে যাবে এরকমটা দেখতেই আমরা অভ‍্যস্থ। কিন্তু তুমি একা এতদূর এসেছ বয়স্ক মানুষদের জন‍্য কাজ করে এমন একটি NGOর হয়ে ডোনেশন সংগ্ৰহ করতে। এটা ঠিক মেলাতে পারছি না।
     
    - কাকু আপনি যেরকম বললেন, একসময় প্রায় সেরকম‌ই ছিল আমার জীবনযাত্রা। কেবল নিজের জন‍্যে বাঁচা। নিজের আনন্দ, আরাম, নিরাপত্তা, ব‍্যস। এসবের বাইরেও যে একটা জীবন আছে, অবহেলিত, কষ্টকর, অকিঞ্চৎকর তা কখোনো সখোনো রাস্তাঘাটে চোখে পড়েছে বটে তবে মনে বিশেষ রেখাপাত করেনি। এরকম বিষয়ের ওপর তৈরী সিনেমায় দেখেছি তার শৈল্পিক উপস্থাপনা। অভিনেতাদের অভিনয় শৈলী নিয়ে আলোচনা করেছি, তারপর ভূলে গেছি। অচিরেই আবার ফিরে গেছি নিজস্ব কমফর্ট জোনে।
     
    - তাহলে এখন যা করছো, এর প্রেরণা তুমি কী ভাবে পেলে?”
     
    - কয়েক বছর আগে টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে নারায়নন্ কৃ‌ষ্ণন এর ওপর একটা খবর পড়ে ভীষন অভিভূত হয়ে পড়ি। খবরটা কোনো দূর্দশাগ্ৰস্থ মানুষের ওপর নয়। বরং নিজের পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণন কিভাবে নিজের আরাম, সুরক্ষা, নিশ্চিন্ততা এসব ত‍্যাগ করে রাস্তার ভিখারী, পাগল, গৃহহীন মানুষদের খাবার জোগানোর জন‍্য একক উদ‍্যোগে শুরু করেছেন অক্ষয় ট্রাস্ট। উনি ছিলেন তাজ ব‍্যাঙ্গালোরের সেলিব্রেটি শেফ্‌। অনেক পুরস্কার টুরস্কার‌ও পেয়েছেন। কিন্তু চাকরী ছেড়ে এই সমাজসেবামূলক কাজের জন‍্য নিজের উপার্জনের সঞ্চিত অর্থ‌ও লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। রান্না করা খাবার নিয়ে গাড়ীতে ঘুরে ঘুরে রাস্তায় ভিখারী, পাগলদের কাছে গিয়ে ডিসপোজেবল থালায় খাবার দিয়ে আসেন। 
     
    - বাঃ, খুব ভালো উদ্যোগ তো!
     
    - হ্যাঁ, ঠিক তাই। কিছু মানসিক ভারসাম‍্যহীন মানুষ আবার সেই খাবার খেতেই ভুলে যায়। তাদের খাবার গরুতে, কুকুরে খেয়ে নেয়। তাই দেখে কাউকে আবার উনি নিজে হাতে খাইয়ে দেন। অনেকেই কফ্, থুতু মেখে নোংরা অবস্থায় রাস্তার পড়ে থাকা অমন মানুষদের ছোঁয়া তো দূরের কথা, দেখলেও হয়তো বিবমিষা বোধ করতে পারে। কিন্তু কৃষ্ণন অন‍্য ধাতের মানুষ।
     
    - ঠিক বলেছো। এটা অস্বীকার করা যায় না। তারপর?
     
    - ঐ খবরটা পড়ে আমি খুব বিচলিত হয়ে পড়ি। মাকে বলি। আমার মা সরকারি মেডিক‍্যাল কলেজ থেকে MBBS করেছেন। MD করার ইচ্ছে ছিল। বিয়ে হয়ে যাওয়াতে আর হয়নি। চাইল্ড হেল্থের ওপর একটা পোষ্টগ্ৰাজুয়েট ডিপ্লোমা করেছেন। উনি বলেন, একজন ডাক্তার তৈরী করতে সরকারের অনেক খরচা হয়। তার বেশীর ভাগটাই আসে সাধারন মানুষের দেওয়া করের টাকায়। ছাত্রেরা যা ফি দেয় তা নামমাত্র। তাই উনি প্রথম থেকেই সরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। প্রাইভেট হাসপাতালে যোগ দেওয়ার বা প্রাইভেট প্রাকটিস করার কথা কখোনো ভাবেননি। উনি বলেন, তোমাদের বাবা যা রোজগার করেন তাতেই তো আমাদের চলে যায়। তাই হাসপাতালের চাকরিটা উনি অনেকটা সোস্যাল সার্ভিস হিসাবে করেন, পয়সা উপার্জনের জন‍্য নয়। এছাড়া প্রত‍্যেক রবিবার সকালে বাড়ীর কাছে একটি দাতব‍্য চিকিৎসালয়ে উনি দুঘন্টা বিনা পয়সায় রোগী দেখেন। 
     
    - বাঃ, খুব ভালো তো!
     
    - মা বলেন, এভাবে উনি সমাজের কাছে ওনার ঋণ শোধ করছেন। যদিও আমার মা খুব ভালো রান্না করতে পারেন তবু আমাদের বাড়ীতে চব্বিশ ঘন্টার কাজের লোক এবং রান্নার লোক আছে। মা বলেন একজন ডাক্তারের ঘরের কাজ বা রান্না করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। সেই সময়টায় বরং রোগী দেখলে লোকের উপকার হয়। তাই কাজের বা রান্নার লোক রাখাটা মা দেখেন বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হিসাবে, বিলাসিতা হিসাবে নয়। তার ওপর দুটো মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে, সেটাও একটা কথা। মা আমার কাছে রোল মডেল তবে উনি ওনার জীবনদর্শন দিয়ে কখনো আমাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি। উনি বলেন, কিছু তাগিদ অন্তর থেকে আসতে পারে, যদি না আসে, তাতেও ক্ষতি নেই কিন্তু কখনোই তা জোর করে, বাইরে থেকে কারুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। 
     
    - খুব দামি কথা বলেছেন তোমার মা।
     
    - ঠিক বলেছেন। জানেন কাকু, লায়োনেল রিচি আর মাইকেল জ্যাকসনের লেখা “U.S.A for Africa" গানটা আমার খুব প্রিয়। আমার কাছে ওটাতো গান নয়, যেন এ্যানথেমের মতো লাগে। তার প্রথম লাইনটা ভাবুন - রিচি যখন তাঁর ম্যাজিকাল ব্যারিটোন ভয়েসে শুরু করেন - There comes a time when we heed a certain call - আমার ভেতর অবধি কেঁপে ওঠে। ঠিক ওভাবেই সেদিন কাগজে কৃষ্ণনের কথা পড়ে হঠাৎ‌ই যেন আমার ভিত নড়ে গেল। খুব স্বার্থপর লাগলো নিজেকে। মনে হলো আমার‌ও তো কিছু করা উচিত। মায়ের সাথে আলোচনা করলাম। মা এই কাজটা করতে বললেন। বাবাও খুব উৎসাহ দিলেন। আমার সংগ্ৰহ করা প্রথম অনুদান বাবার দেওয়া।
     
    - খুব ভালো লাগলো তোমার বাবা ও মায়ের কথা শুনে। আচ্ছা এই কাজ তো তুমি শুরু করেছ প্রায় বছর তিনেক আগে। এতদিনে কী কোন একঘেয়েমি এসেছে তোমার?”
     
    - ঠিক তার উল্টো। এখন এটা একটা জেদ হয়ে গেছে। প্রতি বছর, নিজের গত বছরের সংগ্ৰহের থেকে কমপক্ষে দশ শতাংশ বেশী লক্ষ‍্যমাত্রা ঠিক করি। এই কাজটা আমার মার্কেটিং ম‍্যানেজমেন্ট পড়ার ক্ষেত্রে ফিল্ড ট্রেনীং এর কাজ করছে। কতরকম মানুষের সাথে ইন্টার‌এ্যাকশন হচ্ছে, কতরকম তাদের রেসপন্স। এখন কারুর সাথে দেখা করে, তার তাৎক্ষণিক মুখভঙ্গি দেখে তিরিশ সেকেন্ডের মধ‍্যে বুঝতে চেষ্টা করি, তার রেসপন্স কী হতে পারে। এটা একটা নেশার মতো হয়ে গেছে।
     
    - তোমার ওই প্রাথমিক ধারণা কতদূর সঠিক হয় বলে মনে হয় তোমার?
     
    - মনে হ‌ওয়ার কোন ব‍্যাপার নেই। যেদিন এই কাজে বেরোই, সেদিন বাড়ী ফিরেই আমি ল‍্যাপটপে সমস্ত তথ‍্য এন্ট্রি করি। কোথায় গেছিলাম, কতজনকে মিট করলাম, আমার প্রাথমিক ধারণা কি ছিল, বাস্তবে কি হলো, ইত‍্যাদি। ওইসব তথ‍্য আমি তিনমাসে একবার বিশ্লেষন করি। ভবিষ‍্যতে এই তথ‍্য আমার কাজে আসতে পারে। আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী শতকরা সত্তর ভাগ ক্ষেত্রে আমার প্রাথমিক অনুমান মিলে যায়।
     
    - এই কাজ করতে গিয়ে তোমার কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় নি?”
     
    - অনেক হয়েছে। একবারের ঘটনায় খুব খারাপ লেগেছিল। এক ভদ্রমহিলা আমার একটাও কথা না শুনে “আমাদের কিছু কেনার নেই” বলে মুখের ওপর দরজাটা দড়াম করে বন্ধ করে দিলেন। উনি আমায় সেলস গার্ল ভেবেছিলেন। আমি হতবাক হয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে সেই বন্ধ দরজার দিকে চেয়ে ছিলাম। সেদিন আর কোথাও না গিয়ে সোজা বাড়ী চলে গেলাম। মা আমায় দেখেই কিছু একটা আন্দাজ করে জানতে চাইলেন, কি হয়েছে। ঘটনাটা জানিয়ে বললাম, একাজ আমি আর করব না। বলতে গিয়ে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। মা খুব নরম করে, সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বললেন, বুঝতে পারছি ওই মহিলার রূঢ়তায় তুমি অপমানিত বোধ করেছ আর তার ইনসেনসিটিভিটি দেখে দূঃখ পেয়েছ। 
     
    - তোমার মা সত্যিই খুব বিচক্ষণ মহিলা।
     
    - একদম তাই। সেদিন তিনি আমায় যে কথাটি বলেছিলেন, তা আজীবন মনে থাকবে। মা বললেন, বিখ্যাত সমাজকর্মী ও আমেরিকা‌ন রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টের পত্নী এলিনর রুজভেল্টের একটি বিখ্যাত উক্তি মনে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে কারুর কথায় বা ব্যবহারে হয়তো তুমি এভাবে ভেঙে পড়বে না। 
     
    - কথাটা হয়তো আমি‌ও কোথাও পড়েছি - Nobody can insult you without your permission. তাই কী?
     
    - অনেকটা তাই। মা বললেন, এলিনর তাঁর “This is my story" ব‌ইতে লিখেছেন - “No one can make you feel inferior without your consent.” মানে, মেনে নিয়ে মনে না নিলে, কেউ তোমায় অপমান করতে পারে না। তুমি স্বেচ্ছায় অন‍্যের জন‍্য এই কাজটি করার তাগিদ অনুভব করেছো। কেউ তোমায় বাধ্য করেনি। এতে তোমার কোনো স্বার্থ‌ নেই, তাই কে কি বললো, কীভাবে রিয়্যাক্ট করলো - তা তোমার গায়ে মাখা উচিত নয়। আর মানুষের সংবেদনহীনতা তো সমুদ্রের মতো ব‍্যাপক। যত দেখবে তত অবাক হয়ে যাবে। কিন্তু মন খারাপ করে ভেঙ্গে পড়লে বেঁচে থাকা তোমার কাছে কষ্টকর অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়াবে। 
     
    - সত্যিই তোমার মা একজন মহীয়সী মহিলা।
     
    - মা সেদিন আর একটা দামি কথা বলেছিলেন। অবাঞ্ছিত বা অপছন্দের কিছু ত‍্যাগ করা সহজ কিন্তু প্রিয় কিছু ত‍্যাগ করা খুব কঠিন। জীবনে প্রয়োজন পড়লে বরং সেরকম কিছু ত‍্যাগ করার জন‍্য মানসিক ভাবে তৈরী থেকো। কষ্ট কম পাবে। 
     
    - বাঃ, এটা তো দারুণ কথা বললে!
     
    - আমি নয়, মা বলেছিলেন। মা আমার জীবনে লাইটহাউসের মতো। যখন‌ই কোনো দ্বিধা, সংশয়, সঙ্কট বা জটিলতায় পড়েছি, মার কাছে গেছি। উনি সহজ এবং সুন্দর ভাবে পরিস্থিতি ব‍্যাখ‍্যা করে সেক্ষেত্রে কী করণীয় তা বলে দিয়েছেন। ফলে ক্রমশ জীবন, সমাজ, মানবচরিত্র সম্পর্কে কিছু ধারণা তৈরী হচ্ছে। মানুষের থেকে প্রত‍্যাশা কমে যাচ্ছে। ক্রমশ মানুষের অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়া দেখলেও বিমর্ষ না হতে অভ‍্যস্থ হয়ে যাচ্ছি। এটা একটা বড় প্রাপ্তি। কেবল নিজস্ব শখ শৌখিনতা নিয়ে নিজের কমফোর্ট জোনে বাস করলে এই অভিজ্ঞতা অজানা থেকে যেত আমার।
     
    - আমার প্রতিটি কৌতুহলে‌র উত্তর তুমি খুব গুছিয়ে দিচ্ছ। কোন অসংবদ্ধতা বা জড়তা নেই। এটা খুব সহজ নয়। অনেকেই পারেনা। চিন্তার সচ্ছতা না থাকলে এটা হয় না। তুমি কি এ ব‍্যাপারে সচেতন? এই বয়েসেই এরকম আত্মবিশ্বাসী বাচন ভঙ্গী কী ভাবে রপ্ত করেছ তুমি?
     
    - বাড়ীতে আমার বাবা মাঝে মধ‍্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার উত্থাপন করেন। আমি, মা, ভাই সবাই তাতে অংশ নিই। বাবা বলেন বিষয়টির ব‍্যাপারে মোটামুটি ধারণা থাকলে আলোচনায় অংশ নিয়ে ধোঁয়াটে বা পাশ কাটানো কথাবার্তা না বলে সুচিন্তিত বক্ত‍ব‍্য পেশ করা বাঞ্ছনীয়। বক্তব্য সবার পছন্দ না হলেও ক্ষতি নেই। কিন্তু নিজস্ব অভিমত থাকা জরুরী। বাবার এই উদ‍্যোগ আমাদের মুক্তমনে, যুক্তি দিয়ে ভাবতে সাহায‍্য করেছে। পরে কলেজ ডিবেটে অংশ নিয়ে সুসংহত ভাবে কথা বলার অভ‍্যেসটা আরো রপ্ত হয়েছে যেটা এই কাজ করতে আমায় খুব সাহায‍্য করেছে। আজকাল মানুষের অন‍্যের কথা শোনার ধৈর্য‌্য আর সময়, দুটোই কম। তাই যা বলার অল্প সময়ে এমনভাবে গুছিয়ে বলতে হবে যাতে প্রত‍্যাখানের সম্ভাবনা কম থাকে। আর আপনি তো রীতিমত আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছেন। লীডিং কোশ্চেন করে কি বলতে হবে তার দিশা ঠিক করে দিচ্ছেন। এটা একতরফা বলে যাওয়ার থেকে অনেক সোজা”
     
    - আমাদের এ্যাপার্টমেন্টে কিরকম রেসপন্স পেলে?
     
    - 501 তালা বন্ধ। 502 অফিস বেরোচ্ছিলেন। কথা বলার সময় ছিল না ওনার। 401 কোথাও সপরিবারে বেড়াতে বেরোচ্ছিলেন, একটু শুনে পরে একদিন আসতে বললেন‌। 402 অল্প সময় নিয়ে, বিশেষ কিছু না বলে 1000/- দিলেন। বেশ ব‍্যস্ত মনে হল। 301র বয়স্ক ভদ্রমহিলা বাইরের সিকিওরিটি গেট না খুলে ভিতরে‌র দরজার ঘুলঘুলি খুলে আমার বক্তব‍্য অল্প শুনে ‘we are not interested” বলে ঘুলঘুলি বন্ধ করে দিলেন‌। আর 302 তো আপনি।”
     
    - তার মানে, এতদুর এসে এখনো অবধি তোমার সাকসেস রেট 5/1 এবং প্রাপ্তি মাত্র এক হাজার! আমরা সবাই জানি আমাদের গার্ড পান্ডে খুব সাবধানী, যাকে তাকে উপরে আসতে দেয় না। তাও 301 তোমার আগে দেখা সেই মহিলার মতো মুখের ওপর দড়াম করে দরজা বন্ধ না করলেও, একা তোমার মতো একটি ভদ্র মেয়েকে দেখেও দরজা খোলেননি। তারপরেও ওরকম হাসি মুখে, উৎসাহ নিয়ে আমায় ইন্ট্রো দিলে কী করে? তার একটু আগেই যে 301 থেকে ওভাবে প্রত‍্যাখাত হয়েছ তার তো ছাপ পড়েনি তোমার কথায়?
     
    - ওই যে বললাম, সেদিনের সেই ঘটনার পর মার কথা শুনে মনটা শান্ত হয়ে গেছিল। তারপর থেকে আর কারুর কোনো কথাই গায়ে মাখি না। আইনষ্টাইন বলেছিলেন there is no limit of human stupidity. আমার মনে হয় ওনার মন্তব‍্যটা human insensitivity র ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ‍্য। Now I have learnt how to ignore certain things in life and move on. বলতে পারেন এই কাজ করতে গিয়ে এটাই আমার সব থেকে বড় প্রাপ্তি।
     
    - সিদ্ধি, তোমার সাথে কথা বলে খুব ভালো লাগলো। তোমার অনেক সময় নিয়ে নিলাম। এবার বলো, তুমি আমার থেকে কি অনুদান আশা করছো।
     
    - দেখুন, বেশীর ভাগ মানুষ‌কেই আমি পাঁচশো থেকে দু হাজারের মধ‍্যে দিতে দেখেছি। তাই আপনি যদি এক হাজার‌‌ও দেন তাহলেই ভাবব অনেক। 
     
    সিদ্ধি সরল স্বীকারোক্তি করে। আমি একটা ছ হাজারের চেক লিখে ওর হাতে দিলাম। অঙ্কটা দেখে ওর খুশী আর ধরে না। আমায় প্রচুর ধন‍্যবাদ জানিয়ে ও রসিদ লিখতে লিখতে বললো, “আঙ্কল, আপনি চাইলে নেরুল হেল্পেজ সেন্টারেও কখোনো সখোনো যেতে পারেন। কোনো অনুষ্ঠান দেখতে বা ওখানকার কোনো অধিবাসীদের সাথে একটু গল্প করে আসতে পারেন। ওনাদের ভালো লাগে। আমি মাঝে মাঝে যাই। ওখানে যাঁরা আছেন তাঁরা বেশীর ভাগ‌ই খুব নিঃসঙ্গ বোধ করেন। অনেকেই তাদের বয়স্ক মা, বাবাকে হোমে পাঠিয়ে মাসে মাসে টাকা দিয়েই তাদের দায়িত্ব পালন করেন। অনেকে দেশের বাইরে থাকে, ইচ্ছে থাকলেও আসতে পারে না। 
     
    সিদ্ধির কোমল মুখটা দেখে আমার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হলো। এখন ওর যা বয়স তাতে বয়স্ক মানুষের দুঃখ কষ্ট অনুভব করে তাঁদের জন‍্য নিজের সময় ব‍্যয় করার চেয়ে যৌবনের দামাল আনন্দে কাটিয়ে দেওয়াটাই স্বাভাবিক। সে তুলনায় আমি আছি সেই পরিস্থিতির বছর কুড়ি আগে দাঁড়িয়ে, তবু আমি ওর মতো তাঁদের জন‍্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করতে পারছি না। ওর কথা শুনে তাই মৃদু হেসে নিজের আত্মকেন্দ্রিকতা আড়াল করি।
     
    সিদ্ধি মিষ্টি হেসে হাত তুলে নমস্কার করে চলে গেল। রেখে গেল ওর সংবেদনশীল উজ্বল তারুণ‍্যের ক্ষণিক উপস্থিতির মাঝে আমার স্থবির অক্ষমতার বিষাদ মাখা এক মিশ্র অনুভূতির রেশ।
     
    আমার স্ত্রী বললো, তুমি তো প্রতি বছর SOS এ দু হাজার করে দাও, ওকে একবারে ছ হাজার দিয়ে দিলে যে?
     
    বললাম, দেখো আমার কাছে মৃত‍্যুর চেয়ে জীবনের প্রাধান‍্য বেশী। কারণ জীবন বৈচিত্রময়, রোমাঞ্চকর, কখনো হয়তো তুচ্ছ কিন্তু কিছু মহাজীবনের প্রয়াণ ব্যতীত অধিকাংশ মৃত‍্যু‌ই অকিঞ্চিৎকর। তাই শৈশব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ - তার সামনে আছে ভবিষ‍্যতের নানা সম্ভাবনা। তুলনায় আমার কাছে জীবন সায়াহ্নে বার্ধক‍্যকাল দিনগত পাপক্ষয়। তাই আমি পরিত‍্যক্ত শিশুদের ভবিষ‍্যৎ গড়ার প্রয়াসে নিযুক্ত SOS এ সাহায‍্য করে থাকি। 
     
    কিন্তু আজকের ব‍্যাপারটা আলাদা। আমি ছ হাজার টাকা দিলাম শুধু সিদ্ধিকে দেখে, ওর সদ্ভাবনার উৎসাহ দেখে। এখানে ও কোন সংস্থার হয়ে এসেছে সেটা আমার কাছে বিচার্য নয়। ও বৃদ্ধ, অনাথ শিশু, অন্ধ, বণ‍্যাত্রাণ, আদিবাসী উন্নয়ন বা অন্য কোন উদ্দেশ‍্যে এলেও আমি ওটাই দিতাম। ওর মতো সামাজিক কাজে আমি আমার সময় ও শ্রম দিতে পারিনি, তাই সামর্থ‍্য অনুযায়ী ওর প্রত্যাশা‌র অতিরিক্ত কিছু অর্থ সাহায‍্য করে ওকে উৎসাহিত করে নিজের আত্মগ্লানি একটু কম করতে চেয়েছি। এর বেশী তো কিছু এখনো করে উঠতে পারলাম না।
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১০ মার্চ ২০২৬ | ১৪২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2401:4900:4dfc:95e9:9de:9a18:b3bc:***:*** | ১০ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৮739079
  • ভালো লাগলো পড়তে। 
     
    হেল্পএজ, ক্রাই ইত্যাদি সংস্থারা অনেক সময়ে আবাসনগুলোতে ক্যাম্পও করে দেখেছি, মানে শনি-রোববার আবাসনের ভেতর টেবিল নিয়ে বসে, ওদের নানারকম প্রোগ্রামের লিফলেট দেয়। 
  • . | ১০ মার্চ ২০২৬ ১৪:০৪739080
  • এমন মানুষের সংখ‍্যা যত বাড়বে, ততই মঙ্গল।
  • kk | 2607:fb91:4c1f:10de:45a8:b5c8:a8a6:***:*** | ১০ মার্চ ২০২৬ ২০:২১739088
  • ভালো লাগলো লেখাটা। আপনাকে অনেকদিন পর লিখতে দেখেও ভালো লাগলো। আর বেড়াতে যাচ্ছেন না? সেসব গল্প আর শুনতে পাবো না? খুব ভালো লাগতো ওগুলো।
  • সমরেশ মুখার্জী | ১১ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৫739098
  • ডট - ঠিক বলেছেন। এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ুক - আপনার, অনেকের মতো আমারও তাই মনোবাসনা। তবে এ‌ও মনে হয় আমাদের তেমন চাওয়া হয়তো wishful thinking হয়ে‌ই রয়ে যাবে। Even at the risk of sounding pessimistic - মনে হয় সতত‌ই সর্বব্যাপী হয়ে থাকবে নীচতা, বিদ্বেষ, কলুষতা, কারণ যারা এই ধরনের মানসিকতা‌র ধারক তারা সংখ্যা‌লঘু হলেও এহেন প্রবণতা‌র প্রকাশ প্রবল ও প্রকট। তুলনায় বিপরীত বৈশিষ্ট্যগুলি - সৌজন্য, শিষ্টাচার, সংবেদনশীলতা নরম, সুক্ষ্ম (subtle) মানবিক প্রবণতা। তাই এগুলি‌ রয়ে যাবে ক্ষীণস্বর হয়ে। অসহিষ্ণুতা, অসংবেদনশীল‌তা, অসভ্যতা বিরাজ করবে সর্বত্র। হয়তো এটা‌ই মানবজাতির দুর্ভাগ্যজনক ভবিতব্য। 
     
    এই সব দেখে ভেবে যখন মন ভারাক্রান্ত হয় তখন আজ‌ও অমলিন হয়ে রয়ে যাওয়া কিছু অতীত স্মৃতি, যেমন সিদ্ধির মত তরুণীর উদ্যম বা তার মায়ের মতো ঋদ্ধ ভাবনার মানুষের কথা মনে পড়লে, তাদের কথা কজনের সাথে শেয়ার করলে মনে যেন ক্ষণিকের জন্য শান্তির জলের প্রলেপ লাগে। অবশ্য কেবল অতীত স্মৃতি‌ই নয়, হালেও একাকী ভ্রমণে কিছু সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের অপূর্ব সৌহার্দ্যে দ্রব হয়েছে মন। তাদের কথাও বলতে ইচ্ছা করে।
     
    dc/kk - লেখাটি ভালো লেগেছে জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
     
    kk - আমার খুব প্যাশনেটলি ইচ্ছা করে একাকী ভ্রমণে মনে থেকে যাওয়া কিছু বিশেষ অভিজ্ঞতা মানুষের সাথে শেয়ার করি। তাই গুরুতে “একা বেড়ানোর আনন্দে" সিরিজে এযাবৎ ৩৪টি পর্ব পোষ্ট করেছি। আরো কিছু একাকী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লেখার ইচ্ছা আছে। দেখি…। আসলে আমার স্বভাবে ধারাবাহিকতার অভাব আছে। তাই কখনো Lull phase আচ্ছন্ন করে। তখন কিছু লিখতে ইচ্ছে করে না।
     
    হ্যাঁ বেড়াতেও গেছি। হালে ২০শে ডিসেম্বর থেকে ৭ই মার্চের মধ্যে দু’বারে আমার ২৭ বছরের প্রাচীন পুঁচকে মারুতি আটশোতে একষট্টি দিন‌ ধরে সাতটি রাজ্যে সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার ঘুরে এলাম। 
     
    তবে ওটা একাকী ভ্রমণ ছিল না। সস্ত্রীক আর এক বন্ধু ও তার স্ত্রী - চার জনে গেছিলাম। ইচ্ছা ছিল কিছু নতুন জায়গা‌র সাথে স্ত্রীকে কিছু অপ্রচলিত জায়গায় ঘুরিয়ে আনার যেগুলো একাকী ভ্রমণে ব্যাকপ্যাকার শৈলীতে গিয়ে বেশ লেগেছিল। ওর‌ও বেশ লেগেছে সেই সব জায়গার নির্জনতার মোড়কে মোড়া প্রাচীনতার মিস্টিক চার্ম।
     
    দলের বাকি তিনজন চালাতে জানেনা বলে গোটা পথে আমি‌ই চালিয়েছি। লং ড্রাইভ আমার প্যাশন। Osho’র Dynamic Meditation এর মতো পাহাড়, অরণ্য‌ময় দীর্ঘ নির্জন পথে এপাশ ওপাশ দেখতে দেখতে 55 kmph এর আশপাশে স্টেডি চালিয়ে যাওয়া‌টাও আমার কাছে Meditation on wheels গোছের মনে হয়। তখন অযথা কথাবার্তা ভালো লাগে না। কার স্টিরিও‌তে মৃদু ভল্যুমে চলে কিছু বহুবার শোনা প্রিয় গান। হর্ণ খুব কম দিই। তাই একটানা, এক ছন্দে গাড়ির চলনে দলের বাকিদের ঝিমুনি আসে, ঘুমিয়েও পড়ে‌। আমি চালিয়ে যাই।
     
    তবে ছোট গাড়িতে চারজনে ঘোর শীতে গুচ্ছের মালপত্র নিয়ে চাপাচাপি করে যেতে একটু অসুবিধা‌ও হয়েছে। তবে বেড়ানোর আনন্দে‌র কাছে সেসব এমন কিছু নয়। ভালো থাকবেন।
     
     
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:bd54:13fd:5e34:***:*** | ১১ মার্চ ২০২৬ ১০:২৪739099
  • বুঝতে পেরেছি, সমরেশবাবু রাস্তার বাঁ দিক ধরে এক স্পিডে চালিয়ে যান :-)
     
    লং ড্রাইভ আমারও প্রিয়, হাইওয়েতে দূরের পাহাড়, দুপাশে গাছের সারি, মাঝে মাঝে লেক বা নদী দেখতে দেখতে চালাতে খুব ভাল্লাগে। কিছুদিন আগে আমি আর বৌ মিলে ওয়আনাড গেছিলাম, মার বয়স হয়ে গেছে বলে এখন আর যেতে চায়না, তাই আমরা দুজনেই গেলাম। ভোর ছটায় বেরিয়ে সন্ধে সাতটায় পৌঁছলাম। তবে এরকম লম্বা ড্রাইভে বৌ এর সাথে কথা বলতে আমার ভাল্লাগে। কুড়ি বছরের জীবনের কতো কথা, আমাদের নিজেদের নিজেদের ছোটবেলার কথা, সে কথা আর ফুরোয়না। আর মাঝে মাঝে ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ চা ডাবের জল খাওয়ার জন্য থামা, যেতে যেতে কোথাও খুব সুন্দর কিছু দেখলে একটু থামা, সেসব তো থাকেই। আর য়ুটুবে গান, গল্পপাঠ, ইত্যাদি। সুকুমার আর শিব্রাম আমাদের দুজনেরই খুব প্রিয়, সেসব হাজারবার শুনেও আবার শুনি, দুজনে মিলে হাসি। দ্য জার্নি ইজ মোর বিউটিফুল দ্যান দ্য ডেস্টিনেশান।  
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ১১ মার্চ ২০২৬ ১০:৩০739100
  • সমরেশ বাবুর দেখা পেলাম বহু বহু দিন বাদে। খুব ভালো লাগছে। আবার আপনার ঘোরার অভিজ্ঞতা গুলো অল্প অল্প করে লিখুন গুরুতে। আপনার এই লং ড্রাইভে সাত রাজ্য ভ্রমণ ব্যাপক লাগল, তবে টানা এতটা ড্রাইভ করা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়, কিন্তু একটা জেন মোডে চালিয়ে গেছেন বলে অতটা প্রেশার লাগেনি যা বুঝলাম। 
     
    এই লেখাটাও ভালো লাগল।  ভালো থাকুন, আনন্দে থাকুন।
  • aranya | 2601:84:8582:8580:1c71:1655:cb2d:***:*** | ১১ মার্চ ২০২৬ ১১:১০739101
  • ভাল লাগল। সমরেশ অনেক দিন পর লিখলেন 
  • . | ১১ মার্চ ২০২৬ ১১:৪১739103
  • " হালে ২০শে ডিসেম্বর থেকে ৭ই মার্চের মধ্যে দু’বারে আমার ২৭ বছরের প্রাচীন পুঁচকে মারুতি আটশোতে একষট্টি দিন‌ ধরে সাতটি রাজ্যে সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার ঘুরে এলাম। "
    এই ভ্রমণ কিন্তু একটা সিরিজ দাবি করে। লিখে ফেলুন। আমরা পড়তে চাই।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খেলতে খেলতে প্রতিক্রিয়া দিন