এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  SIR

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের নেপথ্যে থাকা সেই কৌশলগত নীল নকশা, যা বিজেপি-বিরোধী দলগুলো কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।

    Analyst
    SIR | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২৬ বার পঠিত
  • ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে TMC বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেও, পর্দার আড়ালে BJP তাদের পরাজয়কে একটি দীর্ঘমেয়াদী Strategic Blueprint-এ রূপান্তর করেছে। তৃণমূল এবং বাম-কংগ্রেস জোট যখন প্রথাগত প্রচারে ব্যস্ত, তখন বিজেপি এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে।

    ২০২১ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তৃণমূল এমন ৩৭টি আসনে জিতেছিল যেখানে জয়ের ব্যবধান ছিল ৫% এর কম, যার মধ্যে ১৮টি আসনে ব্যবধান ছিল মাত্র ২% এর নিচে। এই আসনগুলোকে ‘Green Zone’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিজেপি গত ৩-৪ বছর ধরে একটি Slow and Gradual Process শুরু করে।
    কৌশলটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত: পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক অ-বাঙালি জনসংখ্যাকে এই হাই-মার্জিন এলাকাগুলোতে কাজের উছিলায় নিয়ে আসা হয়। এরা সেখানে ঘর ভাড়া নিয়ে স্থানীয় Address Proof জোগাড় করে এবং ধাপে ধাপে তাদের নির্বাচনী পরিচয়পত্র (Voter Card) নিজ রাজ্য থেকে সংশ্লিষ্ট আসনে স্থানান্তরিত করে। এই Targeted Migration-এর মাধ্যমে বিজেপি নিশ্চিত করেছে যে, পরবর্তী নির্বাচনে তাদের নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক কয়েক হাজার বেড়ে যাবে, যা জয়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে যথেষ্ট। এটি কোনো ওভারনাইট প্রসেস নয়, বরং ৩-৪ বছরের একটি নিরবচ্ছিন্ন কাজ।

    বিজেপির স্ট্র্যাটেজিক টিম লক্ষ্য করেছে যে বিরোধী ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে আসে। SIR চলাকালীন অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারিগরি ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে এই নামগুলো সরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
    Logical Discrepancy বা নথিপত্রের সামান্য ত্রুটি, ঠিকানার অসংগতি বা টেকনিক্যাল কোনো অজুহাতে অনেক বিরোধী ভোটারের নাম সাময়িকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের দিনে বিরোধী দলের নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা কার্যত বিজেপির জয়ের পথকে প্রশস্ত করছে।

    পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বিজেপি টার্গেট করেছে সরাসরি আর্থিক স্বার্থের (Financial Interests) মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা Dearness Allowance (DA) এবং কেন্দ্রীয় হারে পে-কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা রাজ্য সরকারি কর্মীদের বড় অংশকে নিজেদের পক্ষে টেনে নিয়েছে।
    বিজেপি স্ট্র্যাটেজিক টিমের বিশ্বাস, এবার Postal Ballot পুরোপুরি তাদের অনুকূলে যাবে। অনেক সরকারি কর্মচারী কোনো বিশেষ আদর্শের চেয়েও ব্যক্তিগত আর্থিক স্বচ্ছলতা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিজেপির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এমনকি যারা প্রশাসনিক স্তরে কাজ করেন, তারাও মনে করছেন ক্ষমতায় পরিবর্তন এলে তাদের বেতন ও সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

    পুলিশ প্রশাসনের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও ‘রিলিফ’ :
    এই পরিকল্পনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো রাজ্য পুলিশের একাংশের বিজেপির প্রতি ঝুঁকে পড়া। বিশেষ করে Investigating Officers (IO) যারা পাহাড়প্রমাণ মামলার চাপে পিষ্ট, তারা উত্তরপ্রদেশ বা অন্যান্য রাজ্যের ‘পার্টি ড্রিভেন’ বিচার পদ্ধতির প্রতি এক ধরণের আকর্ষণ অনুভব করছেন।
    • Case Load Reduction: পুলিশ অফিসাররা মনে করছেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা দলীয় বডি অনেক বিবাদ মিটিয়ে ফেলবে, ফলে থানায় মামলার চাপ কমবে।
       
    • Encounter and Quick Relief: দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার ঝক্কি থেকে বাঁচতে এবং ‘Summary Justice’ বা এনকাউন্টার মডেলের মাধ্যমে দ্রুত মামলা শেষ করার প্রলোভনে পুলিশের নিচের তলার কর্মীরা অনেকেই পরিবর্তনের আশা করছেন। তারা মনে করছেন এতে তাদের কাজের বোঝা (Load of long duration trial) থেকে মুক্তি মিলবে।
    তৃণমূল যখন তাদের সামাজিক প্রকল্পগুলোর ওপর ভরসা করে আছে, বিজেপি তখন তৃণমূল স্তরে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক স্তম্ভগুলোকে নিজেদের অনুকূলে আনার কাজ নিঃশব্দে সেরে ফেলেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে মতামত দিন