প্রায়ই কিছু নিউজ দেখতে পাই। অমুক জায়গায় মন্দির মসজিদ গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে, হিন্দু মুসলমানরা মিলেমিশে নামাজ পূজা করছে কোন সমস্যা নেই। এটাই বাংলাদেশ...। প্রতি বছর এইসব নিউজ দেখে দেখে দেশে অসাম্প্রদায়িকতা একটুও বাড়েনি উল্টো কমেছে। কেন কমেছে? কারণ মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দিলে ভালো কিছু তৈরি হয় না। সত্যকে নির্দয়ভাবেই গ্রহণ করতে হয়। নিচে এরকম কিছু মন্দির ও মসজিদের তালিকা দিচ্ছি ও তাদের নির্মাণ সময়কাল দেয়া হলো-
লালমনিরহাট কালীবাড়ি মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে। এর দেয়াল ঘেঁষে জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। ব্যবধান ৬৪ বছর।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কালভৈরব মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে। পাশের জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে। ব্যবধান ১৩০ বছর।
টাইঙ্গাইল কালিহাতী বল্লা বাজার মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের মসজিদটি নির্মাণ হয় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে। ব্যবধান ১৫ বছর।
কুড়িগ্রাম ঘোগাদহ বাজার মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১০২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ২০ বছর।
মৌলবীবাজার কালীবাড়ী মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের জামে মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। ১০ বছরের ব্যবধান।
পটুয়াখালী বরগোপালদী দূর্গা মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের জামে মসজিদটি নির্মাণকাল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ১০ বছর।
পটুয়াখালীর রাধাগোবিন্দ মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো মসজিদটি নির্মাণকাল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ১০ বছর।
রংপুর ধাপ কালী মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের গা ঘেঁষে বানানো জামে মসজিদটির নির্মাণ সময় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ১০০ বছর।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শিব মন্দির: প্রতিষ্ঠা কাল ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ। এর দেয়াল ঘেঁষে বানানো জামে মসজিদটি নির্মাণ সময় ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৬০ বছর।
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচরা দূর্গা মন্দির: নির্মাণকাল ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৩০ বছর।
কুমিল্লার কালীবাজারে অবস্থিত রাধাকৃষ্ণ মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৯০ বছর।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী বাজার শিব মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের গা ঘেঁষাঘেঁষি মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৩০ বছর।
খুব সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা দিয়েছি। আমি জানি আপনাদের গ্রাম গঞ্জে এরকম মন্দির মসজিদের ‘অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থান’ আরো আছে। কিন্তু এই তালিকার একটি জায়গায়ও আগে মসজিদ তারপর তার দেয়াল ঘেঁষে কোন মন্দির নির্মাণের ইতিহাস নেই! সবখানে মন্দির হওয়ার অনেক পরে সেই মন্দিরের দেয়াল ঘেঁষে, মন্দিরের জমি দখল করে মসজিদ বানিয়ে ঐতিহাসিক ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ নির্মাণ করা হয়েছে!
দেশে মসজিদ বানানোর জমির কোন অভাব নেই। তবু মন্দিরের পাশেই কেন মসজিদ? যাতে পাঁচ ওয়াক্ত মন্দিরে আজান পৌঁছে দেয়া যায়! মসজিদ পরে নির্মাণ হলেও তালিকার মন্দিরগুলোকে নির্দেশ দেয়া আছে নামাজের সময় শব্দ না করতে! মন্দিরগুলো সে নির্দেশ মেনেই অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। আমরাও প্রতি রমজান মাসে বাংলাদেশে শতভাগ ‘অসাম্প্রদায়িক মিডিয়ার’ কল্যাণে জানতে পারি মন্দির মসজিদের এমন সহাবস্থান কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি!
জাস্ট কোন মসজিদের পাশেই একটা মন্দির নির্মাণ করে দেখাও তো দেখি কেমন অসাম্প্রদায়িক তুমি!
-সুষুপ্ত পাঠক
২২ আগস্ট, ২০২৬