এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বাংলাদেশ সমাচার - ২২ 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ৪০৭ বার পঠিত | রেটিং ৫ (১ জন)
  • সদ্য নির্বাচিত দলটার প্রতি কেন জানি অনেকেই প্রচুর আশা করে বসেছিল। খুব দারুণ কিছু করবে বলে আশা করছিল। বিশেষ করে লীগের নেতাকর্মীরা, সমর্থকেরা। কেন করছে এইটার উত্তর আমার কাছে নাই। আমার একবারের জন্যও মনে হয় নাই এই মুহূর্তে খুব বেশি ভালো করার সুযোগ আছে বিএনপির। আর লীগ যে আশা করে ছিল তা তো কোনদিনই সম্ভব না। একটুও স্পেস দিবে না লীগকে বিএনপি। খালেদা জিয়া জেল খাটছে, এই দিন দেখতে হয়েছে বিএনপিকে, এইটা তারা ভুলে যাবে? একই বৃন্তের আরেক কলি জামাতই বা কেন লীগকে স্পেস দিতে যাবে? শীর্ষ নেতাদের ধরে লটকায় দিছে দিনে দুপুরে! এইটার কোন জ্বালা যন্ত্রণা নাই? কিন্তু তবুও লীগ আশা করেছিল তাদেরকে স্পেস দিবে বিএনপি। সব আশায় পানি ঢেলে সংসদে লীগকে নিষিদ্ধ করার আইন পাশ করা হয়েছে! নেও, এবার কইরা খাও!

    এখন পর্যন্ত লীগ নিজেকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতেই পারে নাই। ভারতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক উন্নয়ন হচ্ছে, যত হচ্ছে তত লীগের কলিজার জোর কমে আসছে। শেখ হাসিনাকে তুলে দিবে এদের হাতে? ভয় পাওয়া খুব অস্বাভাবিক? দেশে তো নাইই বিদেশেও এখন পর্যন্ত চোখে পড়ার মত কোন কার্যক্রম দেখি নাই। অনলাইনে হাতি ঘোড়া প্রচুর মারা হচ্ছে। অথচ আসল কাজে লবডঙ্কা! শুনলে হাসতে হাসতে মরে যাবেন যে অনলাইনে এই হাতি ঘোড়া মারতে গিয়েও লীগের নেতাকর্মীরা একে আরেকজনকে নাঙ্গা বাবা করে দিচ্ছে। প্রচণ্ড দলীয় কোন্দল দেখা যাচ্ছে। আর হচ্ছে কে লাল ছিল আর কে সহি লীগ ছিল গত আন্দোলনের সময় এই নিয়ে ক্যাচাল! যারা দৈনিক ডজন ডজন লাশ পড়ার পরেও লীগকে সমর্থন দিয়ে গেছে তারা এখন দাবি করছে তারাই আসল লীগ বাকিরা সব ভুয়া! এই নিয়ে দৈনিক অন্তত কয়েক ডজন পোস্ট দেখতে হয় ফেসবুকে। কেউ কেউ আবার উল্টোও আছে। তখন প্রচণ্ড লীগ বা শেখ হাসিনা বিদ্বেষ দেখিয়ে এখন লীগের একেবারে দলীয় দায়িত্ব নিতে হাজির হচ্ছে! এইটা আবার কোর লীগ পন্থিরা মানতেই পারছে না। পারার কথাও না।

    এই ক্ষেত্রে আমার কথা হচ্ছে স্পষ্ট। ওই সময় প্রায় পুরো দেশই লীগের বিরুদ্ধে চলে গেছিল। যাওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। যে ভাবেই হোক, ষড়যন্ত্র বলেন আর যাই বলেন, মানুষ বিপক্ষে চলে গিয়েছিল। এবং এই যে সাধারণ মানুষ যে চলে গেল বিরুদ্ধে এইটাই হয়েছে আন্দোলনের শক্তি। এদেরই আবার বিপুল সংখ্যক পরবর্তীতে ধাক্কা খেয়েছে, আন্দোলন পরবর্তী ইনুস সরকারের কাজ কারবার দেখে হতাশ হয়েছে। নানা ফর্মুলার খবর যখন আসা শুরু হল তখন আরও বেশি করে ফিরে এসেছে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের যে সদস্যরা আন্দোলনের সময় আন্দোলনে সায় দিয়েছিল তারা বাপ চাচাদের অপমান দেখে ভুলটা কোন জায়গায় হয়েছে তা বুঝতে পারছে। এদেরকে বাদ দিয়ে দিবেন এখন? আন্দোলনের সময় লাশ পড়েছে। এর দায় সরকারের, লীগের, শেখ হাসিনার। ষড়যন্ত্র হলেও শেখ হাসিনার, লীগের না হলেও তাদেরই। এর মধ্যে যদি কিন্তু নাই। আমরা কেউ সুপার ম্যান না। আমাদের কাছে কোন অলৌকিক শক্তি নাই যা দিয়ে আমরা তখন বুঝে যাব এত পরাক্রমশালী লীগ সরকার ষড়যন্ত্রে ধরা খাচ্ছে। অংক মিলতেছিল না এইটাই একমাত্র বুঝার উপায় ছিল। এত ক্ষুদ্র একটা বিষয় নিয়ে এমন করে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন দিয়ে দিচ্ছে এইটা স্বাভাবিক না। এইটাই শুধু বুঝা গেছে। কিন্তু তবুও এইটা বুঝা গেলেও দৈনিক লাশ দেখতে চাই নাই। পতন হয়ে হলেও লাশ পড়া বন্ধ হোক এইটাই তখন একমাত্র চাওয়া হয়ে উঠেছিল। শুধু আমি না, শেখ হাসিনা নিজেও এমনই ভাবছে, লাশ পড়া বন্ধ করতে তিনি ক্ষমতা ছাড়তেও শেষ মুহূর্তে প্রস্তুত ছিলেন, এমন এখন আমরা নানা জায়গায় শুনছি। তাদের নেতারা তো বলছেই বারবার করে যে মৃত্যুর সংখ্যা যেন আর না বাড়ে তাই তিনি চলে গেছেন। ইরানের মত হাজার হাজার মেরে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চান নাই।

    এখন এইটা সত্য মিথ্যা অন্য আলাপ। আমি বলছি এমনটা তো তারাও ভাবছে বলছে এখন। তাহলে সেই সময় যদি কোন সাধারণ মানুষ এমন ভেবে থাকে তাহলে তাকে দোষ দিবেন কেন? দোষ দেওয়া যাবে কাকে? যে যখন অনেক কিছু পরিষ্কার হয়েছে তখনও জোর করেই যা হইছে ঠিকই হয়েছে বলে চলে তাকে।এইটা সমস্যা, তাহলে সে ডলার খাইছে এমনটা হিসাব করা যায়। কিন্তু আর সবার জন্য আপনাকে উদার হতে হবে, হতেই হবে। আর কোন বিকল্প নাই আপনার। সাধারণ মানুষকে যত নিজেদের দিকে টানা যাবে তত সহজ হবে সব কিছু। কিন্তু অনলাইনে এই যুদ্ধই শেষ হচ্ছে না এখন পর্যন্ত।

    লীগের এই দিনের জন্যও লীগ বা শেখ হাসিনা দায়ী। এইদিন বলতে বর্তমান দুঃসময়ের কথা বলছি না, এই যে নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ নাই, এইটার কথা বলছি। শেখ হাসিনা বা লীগ সরকার মনে করত তাদের কোনদিন পতন হবে না! পতন হবে না এইটা মনে করার তাও যুক্তি বুঝি, কিন্তু তারা সবাই মনে করত শেখ হাসিনা কোনদিন মরবেও না, এমন বিশ্বাসের কারণ জানি না, বুঝি না। আজকে এমন করে দেশ ছাড়তে না হয়ে যদি হুট করে শেখ হাসিনা মারা যেত তাহলেও এর কাছাকাছি ব্যরাছ্যারা লাগত। নেতৃত্ব তৈরি করে নাই। তার পরে কে, প্ল্যান এ বি কিছুই নাই। একটা সময় শোনা যেত শেখ রেহানার ছেলে ববি নেতৃত্ব দিবে। ভাবসাবে তাই মনে হচ্ছিল তখন। বিদেশে অতিথি আসলে ববিই তাদেরকে সঙ্গ দিত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ববিই ৩২ নাম্বার বাড়ি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিল। তখন মনে হচ্ছিল ববি প্রস্তুত হচ্ছে সামনের জন্য। তো এখন ববি কই? নাকি আমাদের এলাকার মত সেখানেও কোন্দল চলছে? দুই বোনের মধ্যে ঝগড়া? ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্ব? শেখ হাসিনা আর শেখ রেহানার মধ্যে ক্ষমতার দড়ি টানাটানি রাজনতিক মহলে বহুল আলোচিত গল্প। যদিও এই লেবেলের খবরের কাণ্ডারি আমি না, সবাই লোকমুখে শোনা কথা তাই কোনদিন এই সব নিয়ে লেখি নাই। আমার বুঝের অনেক উপরের আলাপ এগুলা। চরম বিপদের সময়ও দুই বোন এক সাথেই আছে, ৫ আগস্টের সময় শেখ রেহানা দেশে এসে বোনকে নিয়ে গেছেন, নানা সময় নানা ইন্টার্ভিউ দেখছি তাতে মনে হয়েছে যে তাদের মধ্যে তারা ঠিক আছে। আজকে যদি শেখ হাসিনা পরিবারের কাছ থেকে ক্ষমতার নাটাই শেখ রেহানার পরিবারে যায় তাহলে আমার মতে খুব একটা খারাপ হয় না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এইটা হচ্ছে কি না। হলে এখনই সময়। ববির নামে দুর্নীতির কোন কেস নাই। ক্লিন ইমেজ নিয়ে নতুন করে শুরু করতে পারবে সহজেই। শেখ মুজিবের নাতি হিসেবে তার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নাই। আসল প্রশ্ন হচ্ছে ববি কি প্রস্তুত? নাকি মানুষই হুদাই এই বাতাস চালু করেছে? সময়ই বলে দিবে আসল কাহিনী।

    শতধা বিভক্ত এই দলের কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী একটা উদ্যোগ নিয়েছে। তারা বাংলাদেশ সনদ নামে একটা সনদ সামনে এনেছে। এখানে সর্বসাধারণ সহজেই যেন এর সাথে ঐকমতে যেতে পারবে। এই সনদে আছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, মানবাধিকার, সুশাসন, গণতন্ত্রের মত বিষয়। আমিও একটা ফরম পূর্ণ করে এতে সায় দিয়েছি। কিন্তু ফেসবুকে প্রকাশ করার যে অপশন তা বন্ধ করে রেখেছি। কারণ এই জিনিসকে যে বিএনপি সহজ ভাবে নিবে না তা জানা কথা। যে দেশে সাত মার্চের ভাষণ বাজালে জেলে যেতে হয় সেই দেশে এগুলা সাজে না। আমার মত লোকের তো খাটেই না। লীগের একটা সুতার সুযোগ সুবিধা না নিয়েও এখন লীগের কর্মী হিসেবে জেলে যাইতে রাজি না আমি। কিন্তু বিপদ দেখি অন্য জায়গায়। ওই যে নিজেদের মধ্যে কোন্দল, তা আবার সামনে আসল। এক পক্ষ এইটাকে এন্টি লীগ কর্মকাণ্ড বলে দিল, আরেক পক্ষ এইটা মানতে চাইল না! দেখছেন অবস্থাটা! আরে যারা যে ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে, করুক, আপনি তা আটকাবেন কেন? এইটা শেখ হাসিনা অনুমতি দিছে না দিছে এইটা কেন মুখ্য হবে? একজন সাধারণ মানুষ, যার মনে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের জন্য কাজ করা দরকার, সে যদি এই প্লাটফর্মে আসতে চায় তাকে কেন শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে আসতে হবে? আশ্চর্য!
    আমাদের এলাকার লীগের ছেলেরা সবাই পলাতক। পলাতক অবস্থায় ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েছে। বেশ সাহসী উদ্যোগ। পরে শুনি এই সময়েও তারা তাদের কোন্দল থামাতে পারে নাই। যেখানে সবাই পলাতক সেখানেও কামড়াকামড়ি চলছে, এই কমিটিকে স্থগিত করে দিয়েছে আরেক পক্ষ! কত সুন্দর না? আমি এর আগেও লিখেছি যে মানুষ চায় লীগ ফিরে আসুক কিন্তু যার যার নিজ এলাকার নেতাদের চায় না! যতদিন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন না হবে ততদিন আসলে কিছু করার নাই। নেতারা পরিবর্তন হয়ে যাবে এমন আশা করা বোকামি, তারা যে পরিবর্তন হবে না তার নমুনা হচ্ছে এতকিছুর পরেও দলীয় কোন্দল বজায় রেখে এখনও এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দেখতে পারছে না অথচ দুই পক্ষই কলকাতায় গিয়ে বসে আছে! এদের দিয়ে কীভাবে পরিবর্তন সম্ভব?

    এই চলছে। আর এই সুযোগে ১৭ বছরের ক্ষুধা নিয়ে যে দলটা ক্ষমতায় বসছে তারা যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। সংসদে দাঁড়িয়ে রাজাকারদের নামে শোক প্রস্তাব আনা হচ্ছে, ২৬ মার্চের ইতিহাস তৈরি করছে, খালেদা জিয়াকে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা, তারেক, কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করার দাবি করছে!

    লীগের এই নিষিদ্ধ সময়ে ভালো ইমেজের লোকজনকে দিয়ে আস্তে ধীরে এগুনোর পরিকল্পনা করা ছাড়া আর কিছু করার নাই। আইয়ুব খানও লীগকে নিষিদ্ধ করেছিল। বঙ্গবন্ধু তখন আলফা ইনস্যুরেন্সে চাকরি নিয়েছিলেন। চাকরি করছেন আর দলকে তলেতলে গুছিয়েছেন। এই নিষিদ্ধ সময়ে এখনও তাই করা উচিত লীগের। সময় দাও, মানুষের কাছে যাও।


    সারা দুনিয়া টালমাটাল হয়ে আছে। দুনিয়া ধ্বংসের কিনারা থেকে বেঁচে ফিরল। দেশ জুড়ে পেট্রোল, অকটেনের পাম্পে লম্বা লাইন। এক মুখে বলছে দেশে তেলের সমস্যা নাই অন্য দিকে সন্ধ্যা সাতটায় সমস্ত শপং মল বন্ধ ঘোষণা করছে। মানুষ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইন দিচ্ছে, কয়েক মাইল লম্বা লাইন হয়ে যাচ্ছে লাইন। ভোগান্তির চরমে সবাই। কিন্তু আপনি এইসবের কিছুই আমাদের মহান জাতীয় সংসদে দেখতে পাবেন না। না বৈশ্বিক টালমাটালের আলাপ না দেশে যে মানুষ প্রচণ্ড ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তার আলাপ! খুব বোরিং সংসদ হচ্ছে? না। খুব প্রাণবন্ত সংসদ হচ্ছে! তুমুল আলোচনা চলছে, ঝগড়া হচ্ছে, সরকারি দল বিরোধী দলের মধ্যে বাহাস হচ্ছে, ওয়াকআউট করে দুইবার বের হয়ে গেছে এর মধ্যেই বিরোধী দল! কিন্তু সবই তাদের অলৌকিক দুনিয়া নিয়ে, এর সাথে বর্তমান বাংলাদেশের সমস্যা, পৃথিবীতে যে এত কিছু হচ্ছে তার কোন সম্পর্ক নাই! তারা গণভোট বাদ করে দিচ্ছে, জুলাই সনদ বাদ দিয়ে দিচ্ছে! কেন বাদ দিল এইটা নিয়ে ক্যাচাল! এই নিয়া তুমুল ঝগড়া!

    এদিকে নোবেলের ম্যানের আরেক কিচ্ছা বের হয়ে আসছে। তারা যেহেতু বিশ্বাস করত আগের সব খারাপ তাই লীগ সরকার যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসছিল তা তারা বাদ দিয়ে দিয়েছিল! ফলে টিকা নাই হয়ে যায় দেশ থেকে। যেখানে বাংলাদেশের এই টিকাদান কর্মসূচি দুনিয়া জুড়ে প্রশংসিত হয়ে আসছে সেখানে আমাদের শিশুরা টিকা পায় নাই। হামের টিকা পায় নাই! এখন এর ফল আসা শুরু হয়েছে। প্রায় দুইশ শিশু মারা গেছে এই কয়দিনে! প্রথমে বিএনপির স্বাস্থ্য মন্ত্রী লীগের ঘাড়ে দোষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বহু বছর ধরে টিকা বন্ধ এমন একটা কথা বলে বসে। পরে দেখা গেল না, শুধু টিকা না, এর মধ্যে টিকা দানের জন্য লীগ সরকার পুরস্কারও পেয়েছে তখন সুর পরিবর্তন করা হল। এখন মোটামুটি তারাও বলা শুরু করছে যে ইনুস সরকার হামের টিকা নিয়ে সর্বনাশ করেছে যার ফল ভুগছে শিশুরা।
    আমরা জানি শুধু হাম না, আরও অনেক কিছুই সেই সময় ইনুস সরকার বাতিল করেছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ক্যাম্পেইন চলত এখন আর তা চলে না। সব বন্ধ। এইডসের ওষুধ সরকারি ভাবে দেওয়া হত, যক্ষ্মার চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হত। এইসবই এখন বন্ধ। ইনুস সরকার বন্ধ করে গেছে! হামের বিপদে আমরা এখন পড়েছে, বাকি গুলোর জন্য বিপদে পড়ব না? কিন্তু! কিন্তু আপনি এইসবের কিছুই সংসদের আলোচনায় পাবেন না! এতগুলো শিশু মারা গেল, সংসদে এই নিয়ে তেমন কোন কথাই নাই। উল্টো এনসিপির এক নেতা, সারজিস আলমের একটা ভিডিও দেখলাম সেখানে জুলাই সনদ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, মানুষ ওইটা নিয়ে কথা না বলে কেন হামের টিকা নিয়ে কথা বলছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে! এনসিপির নেতারা যদিও তাদের জুলাই আন্দোলনের জন্য দায়মুক্তি পেয়ে গেছে। তবুও তারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে পড়ে আছে। হামের কারণে শিশুর মৃত্যুও তাদের কাছে গৌণ হয়ে যাচ্ছে। হাসনাত বলেছে আবার জুলাই হবে! জুলাই সনদকে বাস্তবায়ন করার জন্য তারা আবার জুলাই আনবে!

    এগুলা সবই হুদা আলাপ। সংসদকে জমায় রাখার জন্য প্যাচাল। এর সাথে দেশ জাতির কোন সম্পর্ক নাই। লীগ সরকারের সংসদের স্পিকারকে এতদিন পরে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। একদম নির্ভেজাল একজন ব্যক্তি ছিলেন শিরিন শারমিন। বয়স্ক এই মহিলাকে জেলে পাঠিয়ে এবং পরে লীগকে নিষিদ্ধ করে বিএনপি পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিল। লীগ এই বার্তাও বুঝতে পারছে কি না সন্দেহ আমার।
     

    মুশকিল হচ্ছে লীগ না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ সবই মারা যায়। আর না হলে লীগ না থাকলেই কী! ইনুস সরকার এবং এখন বিএনপি সরকার এইটাকে আরও বেশ শক্ত করে প্রমাণ করে দিয়েছে। এই দেশ বসে, জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে বসে এখন আলোচনা হয় কেমন করে আরাম আয়েস করে পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেছেন। কেমন করে সাজানো গুছানো একটা দেশকে ধ্বংস করেছে লীগ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ইন্দিরা মুজিব আঁতাত করে পাকিস্তানকে ধ্বংস করেছে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা তো সত্য ছিল, সব ভারতের চাল! এগুলা শুনলে শরীরে কেমন জানি লাগে, বমি বমি লাগে, এই যা। না হলে দেশ তো ভালোই আছে! ভণ্ড শহিদুল আলম এখন শিবিরের প্রোগ্রামে গিয়ে বসে থাকে, এখন এগুলা অনেকের চোখেই পড়ে না। আমাদেরই কেমন জানি লাগে, এই যা। এই কেমন লাগাটা বন্ধ হয়ে গেলেই সব সমস্যা মিটে যাবে আশা করি!

    এই যে ১০ এপ্রিল চলে আসল। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। কিন্তু এর কোন গুরুত্ব এখন দেওয়া যাবে না, কারণ এই কাজ যারা করছে তারা সবাই আওয়ামীলীগের নেতা! লীগের তৎকালীন সভাপতিকে রাষ্ট্রপতি আর সহ সভাপতিকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করে, সাধারণ সম্পাদককে প্রধানমন্ত্রী করে যে সরকার গঠন করা হয় তা কীভাবে এখন আলোচিত হবে? লীগ তো নিষিদ্ধ! তাই বাংলাদেশের এই ইতিহাস চাপাই পড়ে যাবে, যাচ্ছে। আরে ভাই, ইতিহাস ঠিক আছে, তাই বলে এখন লীগের ইতিহাস পালন করতে হবে? স্বাধীনতা দিবসে তো তবু ঠেলেঠুলে স্বাধীনতার ঘোষক নামের প্যাচ দিয়ে জায়গা পাওয়া গেছে। কিন্তু এখন? এইখানে তো কোন মেজর সুবেদারের জায়গা নাই! ২৫ মার্চ কালরাতের পরে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সরকার গঠন করে ফেলছে! এই ইতিহাস তো আবার লীগ প্রস্তুত ছিল না, লীগ স্বাধীনতাই চায় নাই, ( দ্বিমুখী অবস্থাটা দেখেন, একদিকে কয় লীগ, শেখ মুজিব দেশ স্বাধীন হোক চায় নাই, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হইতে চাইছে অন্যদিকে এরাই আবার কয় মুজিব ভারতের সাথে ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তান ভাঙছে!) এইসব বলার উপায়ও তো থাকে না! তারচেয়ে এগুলা ইতিহাস পড়া, এগুলা দিবস পালন করা বন্ধ থাকুক। না হলে কী জবাব দিবে মানুষকে? এগুলা লীগের ইতিহাস, বাংলাদেশ, বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। তাই ১০ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল এইসব এখন নিষিদ্ধ। এগুলা নিয়ে আলাপ করে লীগকে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা? ৭ মার্চের ভাষণের সময়ও এই চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলা বরদাস্ত করা হবে না।

    এন্টি লীগ রাজনীতি করতে গিয়ে এন্টি মুক্তিযুদ্ধ, এন্টি স্বাধীনতা, এন্টি বাঙালি জাতীয়তাবাদ পক্ষ নিতেও সমস্যা নাই বর্তমান সরকারের এবং তাদেরই মিলেমিশে তৈরি করা বিরোধীদলের। সহজ সরল সমীকরণ। খুব কঠিন কিছু না।

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ৪০৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • দীপ | ২২ আগস্ট ২০২৬ ১০:১০742340
  • এই জাতি হয় নিজেদের ওপর সহিংসতা করে, নয়তো কোনো নিরপরাধ প্রাণীর ওপর। কখনো রাজনৈতিক অজুহাতে, কখনো নিছক অশিক্ষা ও অসহিষ্ণুতার কারণে। এই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাগুলোর একটি হলো জাতিকে শিক্ষিত করতে পারেনি, মানবিক করতেও পারেনি।

    এই দেশে মানবিকতার শিক্ষা পেতে হলে বিদেশে গিয়ে অর্জন করতে হয়। এমনই এক জাতি গড়ে উঠেছে, যারা নিজেদের সম্পদ ভাঙচুর করে, অগ্নিসংযোগ করে; নিজের প্রাণপ্রকৃতি নিজেই ধ্বংস করে নিজের দেশটাকেই বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে।

    একটি মেছো বাঘকে হত্যা করা হয়েছে। কবরের পেছনে লুকিয়ে ও রক্ষা পেল না। দিনের পর দিন এমন নিরীহ প্রাণীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হচ্ছে। প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মেছো বাঘ। কী দুঃখজনক! বিড়ালটির চোখ দুটির দিকে তাকালে নিজেকে বড় অসহায় ও অপরাধী মনে হয় মানুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার জন্য।

    প্রতিদিনই কোনো না কোনো হত্যা, রাজনৈতিক সহিংসতা—এসব থেকে দেশ মুক্তি পাবে কীভাবে? বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ার খবরগুলোতে যখন প্রকৃতির প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা দেখি, তখন বোঝা যায় আমাদের মানবিকতা ও প্রকৃতিবোধ কতটা দুর্বল।

    — নাহিদ আক্তার
    শিক্ষক
  • দীপ | ২২ আগস্ট ২০২৬ ১৪:৪২742347
  • প্রায়ই কিছু নিউজ দেখতে পাই। অমুক জায়গায় মন্দির মসজিদ গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে, হিন্দু মুসলমানরা মিলেমিশে নামাজ পূজা করছে কোন সমস্যা নেই। এটাই বাংলাদেশ...। প্রতি বছর এইসব নিউজ দেখে দেখে দেশে অসাম্প্রদায়িকতা একটুও বাড়েনি উল্টো কমেছে। কেন কমেছে? কারণ মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দিলে ভালো কিছু তৈরি হয় না। সত্যকে নির্দয়ভাবেই গ্রহণ করতে হয়। নিচে এরকম কিছু মন্দির ও মসজিদের তালিকা দিচ্ছি ও তাদের নির্মাণ সময়কাল দেয়া হলো-
     
    লালমনিরহাট কালীবাড়ি মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে। এর দেয়াল ঘেঁষে জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। ব্যবধান ৬৪ বছর।
     
    ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কালভৈরব মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে। পাশের জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে। ব্যবধান ১৩০ বছর।
     
    টাইঙ্গাইল কালিহাতী বল্লা বাজার মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের মসজিদটি নির্মাণ হয় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে। ব্যবধান ১৫ বছর।
     
    কুড়িগ্রাম ঘোগাদহ বাজার মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১০২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ২০ বছর।
     
    মৌলবীবাজার কালীবাড়ী মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের জামে মসজিদটি নির্মাণ করা হয় ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। ১০ বছরের ব্যবধান।
     
    পটুয়াখালী বরগোপালদী দূর্গা মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের জামে মসজিদটি নির্মাণকাল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ১০ বছর।
     
    পটুয়াখালীর রাধাগোবিন্দ মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো মসজিদটি নির্মাণকাল ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ১০ বছর।
     
    রংপুর ধাপ কালী মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের গা ঘেঁষে বানানো জামে মসজিদটির নির্মাণ সময় ১৯০০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ১০০ বছর।
     
    ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শিব মন্দির: প্রতিষ্ঠা কাল ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ। এর দেয়াল ঘেঁষে বানানো জামে মসজিদটি নির্মাণ সময় ১৯১০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৬০ বছর।
     
    যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচরা দূর্গা মন্দির: নির্মাণকাল ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৩০ বছর।
     
    কুমিল্লার কালীবাজারে অবস্থিত রাধাকৃষ্ণ মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ানো মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৯০ বছর।
     
    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী বাজার শিব মন্দির: প্রতিষ্ঠা ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ। পাশের গা ঘেঁষাঘেঁষি মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ। ব্যবধান ৩০ বছর।
     
    খুব সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা দিয়েছি। আমি জানি আপনাদের গ্রাম গঞ্জে এরকম মন্দির মসজিদের ‘অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থান’ আরো আছে। কিন্তু এই তালিকার একটি জায়গায়ও আগে মসজিদ তারপর তার দেয়াল ঘেঁষে কোন মন্দির নির্মাণের ইতিহাস নেই! সবখানে মন্দির হওয়ার অনেক পরে সেই মন্দিরের দেয়াল ঘেঁষে, মন্দিরের জমি দখল করে মসজিদ বানিয়ে ঐতিহাসিক ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ নির্মাণ করা হয়েছে!
     
    দেশে মসজিদ বানানোর জমির কোন অভাব নেই। তবু মন্দিরের পাশেই কেন মসজিদ? যাতে পাঁচ ওয়াক্ত মন্দিরে আজান পৌঁছে দেয়া যায়! মসজিদ পরে নির্মাণ হলেও তালিকার মন্দিরগুলোকে নির্দেশ দেয়া আছে নামাজের সময় শব্দ না করতে! মন্দিরগুলো সে নির্দেশ মেনেই অসাম্প্রদায়িকতা প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। আমরাও প্রতি রমজান মাসে বাংলাদেশে শতভাগ ‘অসাম্প্রদায়িক মিডিয়ার’ কল্যাণে জানতে পারি মন্দির মসজিদের এমন সহাবস্থান কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি!
     
    জাস্ট কোন মসজিদের পাশেই একটা মন্দির নির্মাণ করে দেখাও তো দেখি কেমন অসাম্প্রদায়িক তুমি!
     
    -সুষুপ্ত পাঠক
    ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • দীপ | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৯742360
  • রক্তাক্ত রংপুরে হিন্দু নিধন! স্ত্রী-মেয়েকে ধর্ষণ! শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকেই নৃশংস খুন

    বাংলাদেশে অব্যাহত হিন্দু নিধন। তারেকের বাংলাদেশের রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকেই খুন। স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন। খুন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর শিশুপুত্রকেও। রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার সমালোচনায় সরব মানবাধিকার সংগঠন। এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে।

    রংপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, একদল দুষ্কৃতকারী বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে হত্যা করে। খুনের আগে স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণও করে। রংপুর মহানগরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। তিনতলা বাড়ির দোতলা থেকে উদ্ধার হয় পুরো পরিবারের দেহ। মৃতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী (১২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫)। শনিবার রাতে ঘর থেকে নিহতদের দেহ উদ্ধার করে পুলিস। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কে বা কারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিস। রংপুর সিআইডি পুলিসের পরিদর্শক আবু হাসান কবির জানান, পুরো ভবনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁদের কেউ হত্যা করেছে। তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পুরো পরিবার থাকত। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, মনে করা হচ্ছে যে, দু-তিন দিন আগে ওই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা, মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখল, মন্দির ভাঙচুর ও তাদের উপর আক্রমণের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। শিক্ষক পরিবারের চারজনকে একযোগে খুনের এই ঘটনা ফের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনা সংখ্যালঘু হিন্দুদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদও হচ্ছে।
     
    সংবাদসূত্র
  • :X | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১৩:১৭742361
  • আরে আবালচোদা চাড্ডি অন্যের লেখার নিচে হাগিস কেন?কপিপেস্ট না করলে যখন তোর পেটের ভাত জোটে না তখন নিজের জাগায় গিয়ে ঢালতে থাক। বারবার মুখে লাথি খেলেও আবার ল্যাক ল্যাক করে আসে বাপশার নির্লজ্জ পোষ্যটা।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লড়াকু প্রতিক্রিয়া দিন