সম্ভবতঃ ২০১৮’র শুরু থেকে গুরুতে মাঝে মধ্যে ঢুঁ মারলেও ২৮.১০.১৮ থেকে মজলাম গু৯তে। তার জন্য দায়ী শিবাংশু। উনি মার্চ ২০২১ থেকে গুরু থেকে দূরে আছেন - মানে নিজের লেখা পোস্ট করার ক্ষেত্রে। তবে এখনও মাঝেমধ্যে গুরুতে অন্যের লেখার ওপর তাঁর সুললিত মন্তব্য দেখা যায়। যেমন ওনার মন্তব্যটি রয়ে গেল গু৯ প্রকাশিত অমলেন্দু বিশ্বাসের সেই দিন সেই মন বইয়ের জ্যাকেটে। শুনেছি তিনি এখন সিরিয়াস লেখালেখি নিয়ে নিমগ্ন, যেগুলি বই হয়ে প্রকাশিত হচ্ছে।
কর্মজীবনে সাড়ে পঞ্চান্নয় স্বেচ্ছায় ইতি টেনে ২০১৬ থেকে ২২ - ছয়টি বছর কর্ণাটকের উদুপীর কাছে মণিপালে আক্ষরিক অর্থে সম্পূর্ণ নির্বান্ধব জীবন তিনজনে কাটিয়েছি সপরিবারে (স্ত্রী ও এক পূত্র)। এমন বন্ধুবান্ধবহীন জীবনযাপনে অনেকে হাঁফিয়ে উঠতে পারে। আমার কোনো অস্বস্তি ছিলনা, হয়তো আত্মসঙ্গে নিত্যানন্দ পাবলিক বলেই।
তো সেই সময় ২৮.১০.১৮ সন্ধ্যা থেকে একঠায়ে পড়ে গেলাম শিবাংশুর ১১ হাজার শব্দের একটি বড় লেখা “আমাকে তুই আনলি কেন..”। কবিতার মর্মার্থ আমার মর্মে প্রবেশ করে না। সেই লেখাটির শিরোনাম, লেখার মাঝে মাঝে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার অংশ ও চাইবাসায় শক্তির কিছু প্রসঙ্গ এসেছে। তবে লেখাটি কবিতা নয়। কাব্যিক গদ্য যা পড়ার অদ্ভুত এক ভালোলাগার অনুভবের রেশ রয়ে গেছে আজও।
শিবাংশুর আরো কিছু লেখা মন ছুঁয়ে গেছে - অন্য মেয়েটা, বসন্ত মুখারী:, ক্লোরোফিলগাথা, ...যেন হেঁটে যেতে পারি ইত্যাদি। কালী এক অনার্য ওডিসি বা বুদ্ধকথা গোছের বেশ কিছু লেখাও আছে। ওগুলো সিরিয়াস ঘরাণার। ওসব ঋদ্ধ পাঠকদের Atkins diet. আমার মতো পাতিরাম পাঠুরের রসনায় টকডাল, আলুপোস্ত, ভাতই লাগে অপূর্ব। তাই ওনার যাঃ…, স্বপনে তাহারে বা বাসুকির ব্যাথা লাগে খাসা।
গু৯তে পড়া কিছু প্রিয় লেখকের কথা আগেও বলেছি, আবার বলি। কিছু ভালোলাগা একবার ব্যক্ত করে আশ মেটেনা।
হীরেন সিংহরায় - ওনার ৪৩ পর্বের “দূরে কোথায়" আমায় মজিয়ে রেখেছিল বলবো না কারণ লেখাটির মূল প্রসঙ্গ এবং আন্ডারটোন মরবিড - রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে ধরে রেখেছিল শেষ অবধি। তেমনি ওনার কিছুক্ষণ, বৈঠকী আড্ডায়, পবিত্র ভূমি, তবিলদারের দুনিয়াদারি ইত্যাদি সিরিজ বেশ লেগেছে। হীরেনদার লেখার USP আমার মনে হয়েছে ইতিহাস, বহু অজানা তথ্য এবং বর্ণনা সুস্বাদু ভঙ্গিতে পরিবেশন। মাঝে মধ্যে তাতে থাকে মজানো আচারের সরসতা।
রঞ্জন রায় - অদ্বৈত বেদান্ত ও মায়াবাদ নিয়ে এ্যাকাডেমিক টোনের লেখা যে লেখক লেখেন তিনিই আবার “হারানো কলকাতার” গল্প বা “ছত্তিশগড়ের গেঁয়ো ব্যাঙ্কের স্মৃতি” র মতো অত্যন্ত সরস বা “যে আঁধার আলোর অধিক”-এর গোত্রের ভাবানোর মতো লেখাও লেখেন। রঞ্জনবাবুর এই ভার্সাটালিটি এবং ক্যাসুয়াল এ্যাপ্রোচ বেশ টানে।
অমর মিত্র - পেনসিলে লেখা জীবন। সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রখ্যাত লেখকের গুরুতে প্রথম প্রকাশিত বাস্তব অভিজ্ঞতা আধারিত মাটিঘেঁষা ঐ সিরিজটি বেশ লেগেছিল।
যোষিতা - এল ডোরাডো। লেখিকার দেশে বিদেশে নিজের জীবনের কঠিন কিছু সময় এবং গোল্ডিজীর মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডে প্রথাগতভাবে না আসা ভারতীয় অভিবাসীর জীবনের কঠিন কিছু আখ্যান বিশেষভাবে ছুঁয়ে গেছে। এসব আমার অজানা ছিল।
সাদেকুজ্জামান শরীফ - বাঙালের রোমানিয়া গমন। যোষিতার মতো শরীফভাইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার অকপটভাষণ মুগ্ধ করেছিল।
কল্লোল - কারাগার বধ্যভূমি ও একঝাঁক স্মৃতি বুলেট। মন বিবশ হয়ে গেছিল এ লেখা পড়ে।
অমলেন্দু বিশ্বাস- সম্প্রতি একটানা পড়ে শেষ করলাম ৩৩ পর্বের সেই দিন সেই মন। বিরাট ক্যানভাসে লেখা এক বৈচিত্র্যময় জীবনের সুলিখিত আখ্যান। এটার ওপর পরে আরো কিছু মনোভাব ব্যক্ত করার ইচ্ছা আছে। বস্তুত ওনার লেখাটি আজ শেষ করেই গুরুর সাথে আটবছরের সম্পর্ক নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে করলো। কারণ গুরুসঙ্গ না করলে এগুলি হয়তো আমার অজানাই থেকে যেতো।
এছাড়াও আরো কয়েকজনের লেখা ভালো লেগেছে যেমন সুকান্ত ঘোষ (চেনা মানুষ অজানা কথা সিরিজ), প্যালারামের রাসেলের পশ্চিমা দর্শনের অনুবাদ, স্বাতী রায় অনুদিত হেনরি মর্টন স্ট্যানলের ডেভিড লিভিংস্টোনের খোঁজে ইত্যাদি।
আমার মনে হয়েছে গুরুর কিছু বিশেষ ধরণের লেখা অনুধাবন করতে গেলে পাঠকেরও বিশেষ লেভেলের মননশীলতা, পড়াশোনা, বৌদ্ধিক চর্চার প্রয়োজন। আমি আমার সীমাবদ্ধতা জানি। তা অতিক্রম করার সাধ এবং সাধ্যও নেই। আমি বুঝি সবকিছু সবার জন্য নয়। যা কিছু আমার পাচন ক্ষমতার উপযুক্ত, তাও পড়ে উঠতে পারিনা। কারণ আমি খুব ধীরগতির পাঠক।
গু৯র আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য - ভাটিয়ালি। এই দরিয়ার প্লাবনে আমি ভাসতে আসিনা। মাঝেমধ্যে এসে পাড়ে বসে দেখি। কখনো মনে হয় কোনো আকর্ষণীয়, বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনাচক্রের দর্শকাসনে বসে আছি। যেমন জুলাই ২০২৫এ হয়েছিল সত্যজিৎ কমলকুমার নিয়ে বা হালে হোলো দলিত সাহিত্য নিয়ে।
কখনো মনে হয় যেন কপিল শর্মার কমেডি শো দেখছি। তখন আপন মনে মন খুলে হাসি। অক্সিজেন শরীরের পক্ষে সব বয়সেই উপকারী।
কখনো কোনো প্রসঙ্গে সুচিন্তিত, ফোকাসড, বিশ্লেষণাত্মক মন্তব্য ভাবায়। কখনো তাতে কিছু পজিটিভ টেকএ্যাওয়ে পাওয়া যায়। তেমন দেখেছি kk, lcm, অরণ্য, যদুবাবু, অরিন, অমিতাভ চক্রবর্তী, রমিত চট্টোপাধ্যায় এনাদের মধ্যে।
মন্তব্য বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু নির্দোষ রম্যসময় হলেও সুপাচ্য লাগে। যেমন dc, :|:, র২হ
মন্তব্য হিটিং বিলো দ্য বেল্ট না হলে বর্ডারলাইন শ্লেষাত্মক পর্যন্ত মেনে নেওয়া যায় কারণ - শ্লেষ, বক্রোক্তি, তির্যক উক্তি এগুলিও ব্যাকরণে অলঙ্কার বিশেষ।
কিন্তু কখনো মন্তব্য / প্রতিমন্তব্য এমন নিকৃষ্ট পর্যায়ে চলে যায় যে মনে হয় কিছু নেড়ি কুকুর পেঁকো নর্দমায় নেমে খেয়োখেয়ি করছে। দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যায়। তখন যা ভাষার ব্যবহার হয়, তা দেখে একটিই শব্দ মনে আসে - ছিঃ।
এসবের মুখ্য কারণ গুরুর ঘোষিত দর্শন - গুরু ব্যবকারকারী লেখক, পাঠক, ভাটুরে - কারুরই আত্মপরিচয় দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে আত্মপ্রকাশ না করে নিকের আড়াল থেকে, ঘনঘন IP Address বদলে কিছু মানুষের (!) চলে চূড়ান্ত অসভ্যতার কদর্য প্রদর্শন।
তো এসব নিয়েই গুরু। গুরুর ক্যাবিনেটে অনেক আরশোলা। হিট স্প্রে করার ইচ্ছা কারুরই নেই। শুনেছি রাজহাঁস দুধজলের মিশ্রণ থেকে কেবল দুধ ছেঁকে খেতে পারে। তাই আমিও আট বছর ধরে গোবিন্দভোগ চাল থেকে আরশোলার নাদি বেছে খাই। নাদির জন্য চাল তো আর ফেলে দিতে পারি না। যখন কিছুদিন ভাত ভালো লাগেনা, রুটি খাই। সে আটায় নাদি নেই।
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।