এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  ঘুমক্কড়

  • সহ্যাদ্রি‌র অঙ্গনে-১ - প্রাককথন

    সমরেশ মুখার্জী লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | ঘুমক্কড় | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ বার পঠিত
  • গুজরাত থেকে তামিলনাড়ু, ভারতের পশ্চিম উপকূল ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৬০০ কিমি বিস্তৃত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার মহারাষ্ট্রের অংশটি সহ্যাদ্রী রেঞ্জ নামে পরিচিত। এই মনোরম পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে দিয়েই লোনাভালা, পুণা, সাতারা হয়ে যায় দৈনিক মুম্বাই কোলহাপুর সহ্যাদ্রি এক্সপ্রেস। মুম্বাই হাওড়া রেলপথের সামান্য একটু অংশ‌ও পশ্চিমঘাটের মধ্যে দিয়ে যায় যেটা একটি বিশেষ কারণে উল্লেখযোগ্য তাই একটু পার্শ্বচারণা হয়তো মন্দ লাগবে না।

    একবার মুম্বাই থেকে দুরন্ত এক্সপ্রেসে হাওড়া আসছি। কল্যাণের পরবর্তী হল্ট চারশো কিমি দূরে ভুস‌ওয়াল। কিন্তু দেখলাম ট্রেন কল্যাণ থেকে সত্তর কিমি দূরে কাসারা স্টেশনে দাঁড়িয়ে গেল। ভাবলাম হয়তো সিগন্যাল পায়নি। ক্যাটারিং‌য়ের ছেলেগুলি বাঙালি। জিজ্ঞাসা করে জানলাম, সিগন্যালের ব্যাপার নয়, ওটা ছোট্ট টেকনিক্যাল হল্ট - পিছনে একটা ইঞ্জিন লাগবে। চুলকে উঠলো মাথা। ট্রেনে বসেই নেট থেকে একটি চমকপ্রদ তথ্য জানলাম।

    মুম্বাইয়ের উপকূলীয় সমতল অঞ্চল থেকে নাসিকের কাছে Deccan plateau বা দাক্ষিণাত্যের মালভূমি হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে যেতে হলে কাসারা থেকে ইগতপুরী - মাত্র ২০ কিমি দূরত্বে ট্রেন উঠে যায় প্রায় ১৬০০ ফুট! এই ঘাট সেকশনটি কাসারা ঘাট বা থাল ঘাট নামে পরিচিত। রেলপথ হাইওয়ের মতো খুব বেশি ঘুরে ঘুরে যেতে পারেনা। ব্রডগেজ লাইন শিলিগুড়ি দার্জিলিং ন্যারো গেজ (৬০০মিমি) টয় ট্রেনের মতো শার্প কার্ভ ধরে‌ও যেতে পারে না। ওটা‌ ব্রডগেজ (১৬৭৬মিমি) সেকশন। সেখানে ট্রেনের ন্যূনতম গতির জন্য সার্কুলার কার্ভের ন্যূনতম রেডিয়াস বজায় রাখতে হয়। তাই ও পথে কয়েকটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি টানেল‌ও আছে।‌

    ঐ তীব্র চড়াইতে উঠতে তাই কাসারাতে ট্রেন কয়েক মিনিট দাঁড়ায়। সা‌ইডিংয়ে অপেক্ষমান অতিরিক্ত ইঞ্জিন (Banker Engine) পিছনে এসে লাগে ঠেলার জন্য। Push-Pull মেথডে দুটো ইঞ্জিন ট্রেন নিয়ে ইগতপুরী পৌঁছলে আর একটা ছোট্ট টেকনিক্যাল হল্ট নেয়। পিছনের ইঞ্জিন বিযুক্ত হয়ে ফিরে যায় কাসারা। তারপর সমতল, তাই একটা ইঞ্জিন‌ই ট্রেনকে টেনে নিয়ে যায় হাওড়া অবধি। ইগতপুরী থেকে মুম্বাই ঢালু পথ। তাই ফেরার পথে অতিরিক্ত ইঞ্জিন লাগে না।

    মুম্বাই পুণা রেলপথ‌ও পশ্চিম‌ঘাটের মধ্যে দিয়ে ভোর ঘাট (Bhor Ghat) হয়ে যায়। ওখানে‌ও চড়াই বেশ খাড়া - কারজত থেকে লোনাভালা - ২৬ কিমি‌তে ট্রেন উঠে যায় ১৮০০ ফুট। ও পথে টানেলের সংখ্যা‌ও বেশি। ওখানেও কখনো মালগাড়ি‌তে অতিরিক্ত ইঞ্জিন লাগাতে হয়। তবে চড়াই‌য়ের তীব্রতা হিসেবে কাসারা ঘাট ভারতীয় রেলের ব্রডগেজ সেকশনে অন্যতম।



    শীতকালে ট্রেনে কাসারা ঘাট। ঘাস শুকিয়ে হলুদ। ছবির ডানদিকে পাহাড়ি ঢালে জমি কম, তাই একটি মাত্র লাইন নালার ওপরে সেতু পেরিয়ে টানেলে ঢুকে গেছে। ছবির বাঁদিকে দুটি লাইন। তার একটি‌তে ট্রেনে করে যাচ্ছিলাম আমি। In such a hilly landscape, finalising Railway Alignment is a very interesting engineering task.

    কর্মসূত্রে কোম্পানির গাড়িতে অনেকবার মুম্বাই থেকে নাসিক এবং আরো দূরে ভালসাড ঐ প্যাঁচালো কাসারা ঘাট হয়েই গেছি। একবার জামনগর থেকে প্রাক্তন কলিগ সমীর গুপ্তা সপরিবারে আমাদের বাড়ি বেড়াতে এলো খারঘরে। আমার পুঁচকে মারুতি‌তে ঐ কাসারা ঘাট হয়েই পাঁচজনে সপরিবারে বেড়াতে গেছি শিরডি, শনি সিংগনাপুর।‌ বর্ষায় ও পথে মাঝে মধ্যে এখানে ওখানে ধ্বস নামে, রাস্তায় কখনো ফাটল ধরে। তবে নীচে বহুদূরের দৃশ্য, চারপাশে সবুজ ও বর্ষায় জন্ম নেওয়া কিছু স্বল্পায়ু ঝর্ণার দেখা পাওয়া যায় বলে বর্ষায় কাসারা ঘাট ধরে গাড়িতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনন্য।



    বর্ষার মরশুমে কাসারা ঘাট হাইওয়ে ধরে যেতে গিয়ে তোলা দূরের দৃশ্য - চারপাশ সবুজে সবুজ

    সহ্যাদ্রি অঞ্চলে পাহাড়ের পাদদেশে ঘন জঙ্গল থাকলেও উপরিভাগ অনেক জায়গায় বৃক্ষহীন। গাঢ় কালচে রঙের কঠিন আগ্নেয় শিলার সেইসব পাহাড়ি অবয়ব বেশ সম্ভ্রম উদ্রেককারী। কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ লাগে। অনেক পাহাড়‌ই দূরারোহ। এইসব পাহাড়ে মুম্বাই, পুণার কিছু রক ক্লাইম্বিং ক্লাব মাঝারি থেকে সিরিয়াস গ্ৰেডের রক ক্লাইম্বিং অভিযান করে থাকে।



    বারি থেকে জ‌ওহার যাওয়ার পথে দেখা সহ্যাদ্রি‌র সম্ভ্রম উদ্রেক‌কারী সটান খাড়া সুবিশাল কিছু স্তম্ভ সদৃশ পাহাড়



    আমেরিকা যাইনি - তবে ছবিতে দেখে‌ও আ্যারিজোনা ও উটার সীমান্তে মনুমেন্ট ভ্যালির দৃশ্যের সাথে আকৃতিগত‌ভাবে সহ্যাদ্রি‌র ঐ পাহাড়ের সাদৃশ্য মনে হয়েছিল। তবে সহ্যাদ্রি‌র পাথর কালচে কঠিন আগ্নেয়শিলা (Solid Igneous rocks - Granite or Basalt) আর নাটকীয় লালচে মনুমেন্ট ভ্যালির পাহাড় অপেক্ষাকৃত ভঙ্গুর বালি পাথরের পাললিক শিলায় তৈরি (Red Sandstone Sedimentary Rock)। প্রাকৃতিক ক্ষয়কারী শক্তি‌র প্রভাবে (Weathering actions of wind, water, heat etc) নরম বালিপাথরের তুলনায় কঠিন আগ্নেয়শিলার ক্ষয় অপেক্ষাকৃত ধীরে হয়।

    হরিশচন্দ্র গড়ের কাছে র‌্যাপেলিং (Rappelling) পয়েন্ট “কোঙ্কন কাডা" (মারাঠি ভাষায় কাডা মানে steep drop) তার ১৮০০ ফুটের বিশাল ড্রপের জন্য বিখ্যাত। তবে ওখানে পুরোটা একবারে র‌্যাপেল করে সচরাচর কেউ নামে না, অতো লম্বা দড়ি পাওয়া মুশকিল। তাই ওখানে ৩০০~৪০০ ফুটের Multistage Rappelling হয়।



    সমীহ‌উদ্রেককারী কোঙ্কন কাডা (ছবি আন্তর্জাল)

    লোনাভালার কাছে আর এক জনপ্রিয় Climbing & Rappelling পয়েন্ট Duke's Nose. ওখানে পিছন দিক দিয়ে চড়ার মতো রুটে উঠে নৃপতি‌র নাসিকা বেয়ে সটান ৩৫০ ফুটের Rappelling একবারে‌ই করা হয়।


    নৃপতি‌র নাসিকা (ছবি আন্তর্জাল)

    এই সব নানা বিচিত্র সুন্দর দুর্গম খাজানা‌য় ভরপুর বলে সহ্যাদ্রি অঞ্চল Trekking, Rock Climbing, Rappelling, Waterfall Rappelling, Zipline জাতীয় Outward Bound Activity তে উৎসাহী মানুষজনের কাছে প্রকৃতির বরদান স্বরূপ।

    দূর এবং ওপর থেকে শত্রুপক্ষের গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত নেমে এসে নীচে খবর দেওয়া বা মোকাবিলা করার জন্যই ঐ সব এলাকায় Strategic locationএ পাহাড়ের ওপর অতীতে কেল্লা, নজর মিনার বানিয়ে, সৈন্য মোতায়েন করে রাখা হোতো। বিজাপুর সুলতানের জবরদস্ত সেনাপতি আফজল খাঁকে সহ্যাদ্রি অঞ্চলের ঐ রকম এক পাহাড়ি কেল্লা প্রতাপগড়ের পাদদেশে শিবাজী মহারাজ ১৬৫৯ সালে বাঘনখ দিয়ে হত্যা করেন।

    ২০১২ সালের আগস্টে নভী মুম্বাই‌য়ের খারঘরে এসে শুরুতে একা ছিলাম আটমাস। তখন আমার আমন্ত্রনে জানুয়ারি ২০১৩তে ওখানে এসেছি‌লেন কলকাতার তিন পাহাড়ি দাদা-বন্ধু - আমার থেকে ১০-১৩-১৫ বছরের সিনিয়র।‌ চারজনে আমার সেই পুঁচকে মারুতি আটশোতে আটদিন‌ ধরে সহ্যাদ্রি‌ অঞ্চলে ১১০০ কিমি কাছাখোলা মোডে এবং মুডে ঘুরে বেড়িয়েছি। সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অবিস্মরণীয়। সেবার প্রতাপগড়ের পাদদেশ দেখে একটু দূরে আম্বেনেলি বাংলোয় ছিলাম।




    প্রতাপগড় কেল্লা (ছবি আন্তর্জাল)

    ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের রাজধানীও ছিল এরকমই এক সুবিশাল, দুর্ভেদ্য কেল্লায়, রায়গড়ে। বর্তমানে অধিকাংশ সেইসব পাহাড়ি কেল্লাগুলি পরিত্যক্ত, জঙ্গলাকীর্ণ, জনমানবহীন। এই কেল্লাগুলি সপ্তাহান্তিক হিল ফোর্ট ট্রেকিং-এর জন্য জনপ্রিয়। মূলতঃ মুম্বাই, পুণার মত বড় শহরে‌ বসবাসকারী উৎসাহী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ এমন ট্রেকিং‌য়ে যান। নগরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে ক্লান্ত মনে একটু উন্মুক্ত বাতাস, সবুজের ছোঁয়া লাগে। হাত পায়ের জং ছাড়ে, চড়াই ভাঙতে পরিশ্রম হলেও আনন্দে‌র ঘাম ঝড়ে। কঠিন ট্রেক হলে, দড়িদড়া নিয়ে কোথাও পাথরে চড়া-নামা করে একটু এ্যাড্রিনালিন রাশ চেখে এ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ‌ও পাওয়া যায়।

    মারাঠি অভিনেতা মিলিন্দ গুণাজী (কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন) একজন সক্ষম ও অভিজ্ঞ ট্রেকার। তিনি এসব এলাকায় অনেকদিন ঘুরেছেন। কখনো একাও গেছেন। ‘অফবীট ট্রেকস অফ মহারাষ্ট্র’ নামে ট্রেকিং গাইড বুক‌ লিখেছেন। ২০০০ দশকের প্রথমদিকে সানডে টাইমসে সহ্যাদ্রি‌তে ট্রেকিং‌য়ের ওপর মিলিন্দের দু একটি নিবন্ধ পড়েছিলাম। অনেক বিখ্যাত পর্বতারোহী‌র মতো তাঁর‌ও দৃঢ় বিশ্বাস ছিল “Mountains are not conquered, they are experienced.” ঐ এলাকায় বেশ কিছু কেল্লার সাথে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ‌ ও নানা দেবদেবী‌র প্রতি স্থানীয় মানুষের গভীর বিশ্বাস জড়িত। তাই মিলিন্দ বলতেন, ওসব জায়গায় নিছক পিকনিক মুডে হৈচৈ করার জন্য যাওয়া উচিত নয়। বরং ওখানে গিয়ে ভ্রামণিকের উচিত সম্ভ্রমের সাথে প্রকৃতির বিশালতা, শক্তি, বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য, নির্জনতা - এইসব বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করা।

    তিনি শারীরিক সক্ষমতার (endurance level) ওপরে‌ জোর দিতেন। লিখেছেন যে স্থানীয় না হলে, খুব অভিজ্ঞ না হলে, কন্টুর ম্যাপ-কম্পাস সহকারে দিক নির্ণয়ে সক্ষম না হলে, সারভাইভাল স্কিলে দক্ষ না হলে, কজন আনাড়ী সঙ্গী মিলে এসব জায়গায় যাওয়াটা উচিত নয়। একা যাওয়া তো যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কয়েক কিমির মধ্যে কোন সাহায্য পাওয়ার আশা নেই। দুর্গমতা হেতু লোকবসতি কম। পাহাড় ও খাদের জন্য অনেক জায়গায় মোবাইল সিগন্যাল পাওয়া যায় না। পথ হারিয়ে জঙ্গলে ঘুরে মরলে বা কোনো বিপদে পড়লে কাউকে খবর দেওয়া‌ খুব কঠিন। ১০~১২ জনের বড় দলে গেলে একটা ম্যাক্সী ক্যাব (14 seater Trax of Force motors) ভাড়া করে গেলে ট্রেক রুটের বেস ভিলেজ পর্যন্ত যাওয়ার এবং ফিরে আসার জন্য ST লালবাসের জন্য হা-পিত্যেশ করে অপেক্ষা করতে হবে না। বেস ভিলেজে গিয়ে সাথে একজন স্থানীয় গাইড নিয়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত যে ঐ এলাকা চেনে। আমি যখন (২০১২~১৪) গেছি তারা এক দিনের জন্য ৬০০ টাকা চাইতো। ২~৩ দিনের রেঞ্জ ট্রেক হলে দিন প্রতি ৫০০ আশা করতো। এমন কিছু বেশি নয়। শহুরে বাবুরা জঙ্গলে ঘুরতে এলে এভাবে ওদের‌ও দু পয়সা রোজগার হয়।

    টাইমসের এক খবরে‌ই (সম্ভবত ২০০৭~১০ নাগাদ) পড়েছি‌লাম, একবার পুণার জনা ছয়েক কম্পিউটার প্রফেশনাল লোনাভালার কাছে কোনো ট্রেকিং‌য়ে গেছিল। অধিকাংশই অভিজ্ঞ বলে তারা স্থানীয় গাইড নেয়নি। নিজেরাই যাচ্ছিল। কিন্তু দলে ছিল এক অনভিজ্ঞ সদস্য। তার হাঁটতে অসুবিধা হচ্ছিল। বাকিদের উচিত ছিল তাকে মাঝে রাখা।‌ কিন্তু তা হয়নি। সে বারবার পিছিয়ে পড়ছিল। একজায়গায় সে ছবি তুলতে গিয়ে সময় নিতে দলের বাকিরা এগিয়ে গেছিল। তারা ভাবছি‌ল সে পিছনে‌ই আসছে। কিন্তু সে পথ হারিয়ে ভুল দিকে চলে গেল।

    অতঃপর, অত্যন্ত অবিশ্বাস্য লাগলেও, সে পাঁচ ছয়দিন ধরে পথ হারিয়ে জঙ্গলে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিল। মোবাইল সিগন্যাল নেই। থাকলেও ব্যাটারি ডাউন।‌ সঙ্গে আনা স্ন্যাকস, জল শেষ। জঙ্গলে‌র অচেনা ফল খেয়ে, অজানা জল পান করে শরীর অবসন্ন। খিদে, তেষ্টায়, প্যানিক এ্যাটাকে কাহিল হয়ে একসময় সে খাদের ধার থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার কথা‌ও ভেবেছিল। বিধবা মায়ের মুখ মনে পড়তে কোনো রকমে টিকে ছিল। নিতান্তই ভাগ্যক্রমে জঙ্গলে কাঠ কাটতে আসা এক কাঠুরিয়া তাকে জঙ্গলে জমিতে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে লোকজন ডেকে উদ্ধার করে। পরে জানা গেছি‌ল সে মুম্বাই পুণা এক্স‌ওয়ে থেকে নীচে জঙ্গলে‌র মধ্যে তিন চার কিমি‌র মধ্যেই ছিল কিন্তু গোলকধাঁধায় পড়ে যাওয়ার মতো জঙ্গলে এলোমেলো ঘুরপাক খেয়েছে।

    ঐ এলাকা‌য় নিজেরা ট্রেকিং করতে গিয়ে পথ হারানোর এমন বেশ কিছু খবর পাওয়া গেছে। খারঘর থেকে আমি যাদের সাথে গেছি, যেখানে পথ হারানোর সম্ভাবনা‌ কম, সেখানে নিজেরাই গেছি। কয়েকটি ট্রেক ছিল ঘন জঙ্গুলে এলাকায়, সেখানে দলনেতা স্থানীয় গাইড নিয়েছিল।




     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ভালবেসে প্রতিক্রিয়া দিন