ডটলান- ঠিকই বলেছেন, তবে আপনি তো বিদেশে বহু জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাই আপনার এহেন আক্ষেপ থাকার কথা নয়। তবে YTএর দৌলতে দীর্ঘ ট্র্যাভেল বা ডকু ভিডিওতে নিমগ্ন হয়ে মানসভ্রমণ করেছি এমন সব জায়গায় যেখানে আমি বাস্তবে কোনোদিন যেতে পারবো না।
যেমন ধরুন Wyoming প্রদেশের ওপর একটি দীর্ঘ ভিডিও - যেখানে আছে সুদূর 01.03.1872তে ঘোষিত আমেরিকার তথা বিশ্বের প্রথম জাতীয় উদ্যান - ইয়োলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক। ঐ প্রদেশেই আছে 1906 সালে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ঘোষিত আমেরিকার প্রথম জাতীয় (প্রাকৃতিক) স্মারক - The Devil's Tower National Monument - যে বিচিত্র দর্শন আগ্নেয়শিলার স্তম্ভটি স্পিলবার্গের Close Encounters of the Third Kind ছবিতেও এসেছে। Idaho Backcountry Trail এর ওপর একটি অসাধারণ লংডকুতে মন ভরে গেছে।
দেখেছি আট রাজ্যব্যাপী - শিকাগো থেকে সান্তা মনিকা অবধি - চার হাজার কিমি দীর্ঘ US Route 66 এর ওপর একটি দীর্ঘ ডকুভিডিও। ওদেশের নাগরিক না হয়েও ঐ অনবদ্য ভিডিওটি দেখে নস্টালজিক আবেশে আক্রান্ত হয়েছি। Route 66 এর সমান্তরালে ইন্টারস্টেট এক্সওয়ে হয়ে গেলেও এর অনেকটা অংশ আমেরিকার ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত হেরিটেজ আইটেম হিসেবে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত রয়েছে। হায়, ভারতে আমরা জিটি রোড এভাবে সংরক্ষিত রাখতে পারিনি।
এভাবেই (খামচামারা কয়েক মিনিটের নয়) 45~100+ মিনিটের লং ভিডিওতে ককেশাস, পাটাগোনিয়া, গুয়াতেমালা, সাহারা, যোশিমিতি, স্কটিশ হাইল্যান্ডস, সোকোট্রা আইল্যান্ড, সেন্ট হেলেনা আইল্যান্ড... এমন সব বিচিত্র সুন্দর জায়গায় আচ্ছন্ন হয়ে মানসভ্রমণ করেছি। সেই অবশ করে দেওয়া ভার্চুয়াল ভালো লাগার আবেশ গুরুতেও প্রকাশ করে ফেলেছি - দ্য গ্ৰেট এ্যাপালেচিয়ান ট্রেল বা রিও থেকে লিমার বাসযাত্রার ওপর ভিডিও দেখে। ল্যাপটপে বুঁদ হয়ে, DW কৃত 5 পর্বে, সাড়ে তিন ঘণ্টার সেই দীর্ঘ ডকুভিডিও দেখতে গিয়ে আমিও যেন সেই মার্সিডিজ বাসে করে অতলান্তিক উপকূলের পেরু থেকে যাত্রা শুরু করে, ট্রান্সওশেনিকা হাইওয়ে ধরে, আন্দিজ টপকে, মাচুপিচু দুয়ার কুসকো ছুয়ে, ছয় দিনে 6300 কিমি দীর্ঘ বাসযাত্রা শেষ করেছি প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে লিমায়।
তবে মোল্লার যেমন মসজিদ অবধি, আমার দৌড়ও ভারতেই সীমাবদ্ধ। আমার মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজকর্ম, দায়িত্ব, নানাবিধ অপারগতা সামলে এক জীবনে, এই বিপুলা ধরিত্রীর কতটাই বা দেখা সম্ভব। তবে অনেক কিছু যে দেখতেই হবে, তারও কোনো মানে নেই। আমার মনে হয় ভারতের আনাচেকানাচেই তারিয়ে তারিয়ে দেখতে গেলে এক জীবনের মেয়াদ কম পড়বে। বেড়ানোর নেশাকে আংশিক বা অনেকটাই পেশায় রূপান্তরিত করে ফেলতে পারা সফল ট্র্যাভেল ইউটিউবারদের কথা আলাদা। প্রায়শই নতুন ভিডিও দেওয়ার তাগিতে তাদের প্রভূত ঘুরে বেড়াতে হয়। ঐ পন্থা আমার জন্য নয়। যাই হোক, আবেগতাড়িত হয়ে কিছু অনাবশ্যক কথা লিখে ফেললাম। মনে কিছু করবেন না।
কেকেলান - আপনি তো আর যশোয়ন্তজী নন, তাই স্যামদা অবধিই ঠিক আছে মনে হয় - কেননা, দা-য়ের পেছনে জী-এর লেজুর জুড়লে তা হয়তো +২৮% GST গোছের লাগবে

হ্যাঁ, সদ্য বর্ষার পরে গেছিলাম বলে তখন বাস্তবিকই হরিহর লেগেছিল হরা-ভরা। তবে বর্ষায় গজিয়ে ওঠা অধিকাংশ ঘাস গোছের সবুজপ্রাণ নভেম্বরের শেষ থেকেই শুকিয়ে সোনালী হতে শুরু করে। এই সিরিজটা লিখছি কালানুক্রমিকভাবে - তাই পরের দিকের লেখার সাথে ছবিতে এমন শ্যামলিমা দেখা যাবেনা।
