এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  গপ্পো

  • পারিলাম না ।।  অমলেন্দু বিশ্বাস ।। 

    অমলেন্দু বিশ্বাস লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ১৬ মে ২০২৬ | ৮৯ বার পঠিত
  • পারিলাম না ।।
    অমলেন্দু বিশ্বাস ।।

    বঙ্কু অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে। ওর একটা ভাল নাম ছিল কিন্তু সেটা এখন আর কারো মনে নেই। ওকে সকলে বঙ্কু বলেই ডাকে। বঙ্কুর লেখাপড়ায় মন ছিল। অঙ্কে ওর মাথাটা বেশ ভাল। ওর স্মৃতিশক্তিকেও শিক্ষকরা তারিফ করত। কিন্তু পড়াশুনা বেশিদূর হয়নি। ক্লাস্ টেনে উঠেই স্কুল ছেড়ে দিয়েছিল। ওর সহপাঠী গোপাল ওকে এক মন-খারাপের-দিনে গোপালের বন্ধুদের আড্ডায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে দুদিন যাওয়ার পর বঙ্কুর জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছিল।

    বঙ্কুর নারী জাতির উপর একটা বিশেষ ধারণা আছে। এ ধারণা আক্রোশ বিদ্বেষ ঘৃণা দিয়ে ভরা। নারীকে বা মেয়েদের ও দেখে কোন সামগ্রী বা ভোগ্য বস্তু হিসেবে। বঙ্কু কখনো মা, বোন, দিদি, বৌদি, পিসি, মাসির সঙ্গে থাকেনি, দেখিনি, মেশেনি। ওকে দোষ দেওয়া যায় না। ওর অভিজ্ঞতায় নারীজাতির কোন স্নেহ, ভালবাসা, দয়া, মমতা সহমর্মিতা ওর কাছে পৌঁছয় নি।

    অনাথ আশ্রমে যে মহিলার সংস্পর্শে ও এসেছিল সে আশ্রমের রান্নামাসি। এই মহিলা ছিল কিচেন বা রান্নাঘরের সর্বেসর্বা। এই রান্নামাসি আশ্রমের সব অনাথ ছেলে মেয়েদের খাবার দিত। বঙ্কুর বরাদ্দে যা খাবার আসত তা দিয়ে ওর পেট ভরত না। একদিন খিদের জ্বালায় অন্ধকারে রান্নাঘরে ঢুকেছিল খাবারের সন্ধানে। রান্নামাসির হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিল। রান্নামাসি ওকে খুব মারধর করেছিল। পরদিন সকালে সকলের সামনে ওকে কান ধরে পঞ্চাশবার উঠবস করতে হয়েছিল। সেই থেকে সারা নারীজাতির উপর ওর রাগ। ওদের ও ঘৃণা করে।

    সেই দিন সন্ধেবেলা বঙ্কু যখন রাগে কষ্টে বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল সেই তখন গোপাল এসেছিল ওকে সহানুভূতি দেখাতে। গোপাল বলেছিল, “ এখানে যা খেতে দেয় তাতে পেট ভরেনা। আমি তাই বাইরে গিয়ে টাকা রোজকগার করি। বাইরে থেকে কিনে খাই। “

    বঙ্কু উৎসুক হয়েছিল। জানতে চেয়েছিল কি করে সেটা করা যায়। সেই সন্ধ্যায় গোপাল ওকে নিয়ে গিয়েছিল ওর বন্ধুদের আড্ডায়। অনেক গুলো বঙ্কুর বয়সী ছেলেরা বসে বিড়ি টানছে, সঙ্গে চা-চানাচুর। কিছুক্ষণ পরে এক মধ্য বয়সী লোক এলো। দীর্ঘকায়, মাথায় লম্বা চুল, মুখের ডান চোয়ালে এক ক্ষতের চিহ্ন। লোকটা ট্যারা, ঠিক কোন দিকে যে তাকিয়ে আছে তা বোঝা যায় না। লোকটার একটা পা বোধহয় অন্য পাটার থেকে ছোট। একটু টেনে টেনে চলে। গোপাল বঙ্কুকে নিয়ে লোকটার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।

    “ কিষানজী, এর নাম বঙ্কু, আমার বন্ধু। ও আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়। “

    এটা কিষানজীর ছোট পকেটমারের গ্যাং। কিষানজী এদের শিখিয়ে পড়িয়ে তৈরি করেছে। এরা কলকাতার ট্রামে বাসে ট্রেনে বা ভিড়ের মধ্যে লোকের পকেট সাফাই করে। দিনের শেষে যা উঠে সেটা কিষানজী সকলকে ভাগ করে দেয়, অবশ্যই নিজের জন্য যথেষ্ট রেখে।

    কিষানজীর গ্যাঙে যোগ দেয়ার পর বঙ্কু আর স্কুলে যায় নি। আশ্রমের কতৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু বঙ্কুকে স্কুল যেতে রাজী করাতে পারেনি। একদিন বিরক্ত হয়ে বঙ্কু আশ্রম থেকে পালিয়ে এসেছিল। আশ্রমের কতৃপক্ষ পুলিশে খবর দিয়েছিল। পুলিশ ‘মিসিং পারসন্স’-র খাতায় নাম লিখে নিয়েছিল। তারপর কিছুদিন পরে যাথারীতি সকলে বঙ্কুর কথা ভুলে গিয়েছিল।

    বঙ্কু অচিরেই কিষানজীর নেকনজরে পড়ে গেল। কিষানজির এই ক্ষুদে পকেটমারের গ্যাং ছাড়া আরো একটা গ্রুপ ছিল। সেই গ্রুপের সদস্য মোটে চারজন। কয়েকবছরের মধ্যে কিষানজী বঙ্কুকে সেই গ্রুপে সরিয়ে আনল। এটা একটা দক্ষ এবং বিশেষ চোরের দল। এরা পরিকল্পনা করে দলগত ভাবে বা একক দায়িত্বে অতি মূল্যবান বস্তু ধনী বা কোন সংস্থা থেকে চুরি করে। কিষানজী অনেক দিনধরে নিজ-হাতে-বাছা কয়েকজনকে চৌর্যবৃত্তির খুঁটিনাটি শিক্ষা দিয়েছে। সবাই খুবই দক্ষ, চৌর্যবৃত্তির পেশায় ‘কৃতি’। এরা খুব কমই চুরি করে ধরা পড়ে জেল খেটেছে। কিষানজী বঙ্কুকে নিয়ে খুব যত্ন করে চৌর্যবৃত্তির সূক্ষ্ম কলা কৌশল শিখিয়েছিল। ওদের দলের চোরদের অনেক নিয়ম আছে। তার মধ্যে একটা ছিল কোন গরীবের কানা কড়ি চুরি করবে না, কারোর শেষ সম্পদ চুরি করে তাকে নিঃস্ব করবে না।

    কিষানজী তার আস্তানায় বঙ্কুর থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। বঙ্কুর এই দলে থেকে নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হল। আইনের নজরে আসবে বলে বাড়ি করেনি, ভাড়া বাড়িতে থাকে কিন্তু একটা ছটখাট গাড়ী আছে। চুরি করার ‘টার্গেট’ দূরে দূরে হতে পারে। তাড়াতাড়ি কাজ সেরে পালাতে হয়। সেই জন্য গাড়ি একটা অতি প্রয়োজনীয় ‘টুল’, চুরি করার যন্ত্র। ও মাঝে মাঝে ঘুষখোর পুলিশ অফিসার এবং অসৎ দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীর বাড়িতে চুরি করতে যেত। এসব বাড়িতে চুরি করার সুবিধা অনেক। আবার ধরা পড়ার ঝুঁকি ও বিপদও অনেক। সুবিধা হল এরা সহজে চুরির কথা পুলিশকে জানায় না। পুলিশকে জানালে ইনভেস্টিগেশনের ভয় আছে। ইনভেস্টিগেশন হলে বান্ডিল বান্ডিল টাকা ও সোনাদানার উৎস কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাই এরা পুলিশের কাছে যায় না।

    বিপদ হল এরা বাড়িতে প্রহরী রেখে দেয় এবং আধুনিক ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবস্থা দিয়ে সুরক্ষা করে রাখে। এরা এদের অসৎ উপায়ে ধনসম্পদ প্রায়ই নিজের বাড়িতে না রেখে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে রেখে দেয়। একবার এক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার ভাইয়ের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে একটু অসর্কতার জন্য বঙ্কু ধরা পড়ে যায়। ফলে অনেক দিন জেলে কাটাতে হয়েছিল। জেল থেকে ফিরে ও অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিল এবার চৌর্যবৃত্তি ছেড়ে দেবে। যা আছে তার সঙ্গে আর একটা ছোটখাট কাজ করলে জীবনটা মোটামুটি চলে যাবে। অনাথ আশ্রমের দিনের মত খিদের যন্ত্রণায় কষ্টও পেতে হবে না। ও ওর সিদ্ধান্তের কথা কিষানজীকে বলল। কিষানজী বঙ্কুর সিদ্ধান্তে রাজী হল।

    বলল, “ তাহলে কি করবে ঠিক করেছ ? “

    বঙ্কু বলল, “ জানিনা, একটা কিছু কাজ করব। তবে কোন অসৎ, সামাজ-বিরোধী কাজ করব না। “

    অনেক ভেবে কিষানজী বলল, “ আমার জানাশোনা একজন আছে তার একটা গাড়ির ডিলারশিপ আছে। তার সঙ্গে গিয়ে দেখা কর। সে কোন কাজ দিতে পারে। “

    বঙ্কু সেই ডিলারশিপে কাজ পেল। সেই ডিলারের নাম শশধর দলুই। ওর কাজ গাড়ির শোরুম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, কাস্টমারকে আপ্যায়ন করা। আর একটা কাজ ছিল ওর --- নতুন গাড়ি কাস্টমারের বাড়িতে ডেলিভারি দেওয়া।

    সিম্পি কলকাতার এক বস্তিতে বড় হয়েছে। ওর মা বাড়ি বাড়ি ঠিকে কাজ করে। বাবা দিন মজুরি খাটে। কোনদিন কাজ থাকে কোনদিন না। সিম্পি ছোটবেলা থেকেই একটু দুরন্ত, ছটফটে। ওর খেলার সাথী মেয়েদের থেকে ছেলেরা বেশী। মেয়েদের খেলার চেয়ে ও ছেলেদের খেলা বেশি পছন্দ করে। বস্তিতে একটা ছোট প্রাইমারী স্কুল ছিল। সিম্পি ওই স্কুলে যেত। কিন্তু সেই স্কুলে সব সব দিন শিক্ষক আসত না। যখন শিক্ষক থাকত না তখন স্কুলের এক উচ্চ শ্রেণীর ছাত্রী নিচু ক্লাসের মেয়েদের শিক্ষকের কাজ করত। এমনিতেই সিম্পির স্কুলে যেতে ভাল লাগত না। আর স্কুলে যখন শিক্ষকই নেই তখন আর স্কুলে যায় কে? সিম্পি আস্তে আস্তে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দিল। তবে অক্ষরজ্ঞান হয়েছিল। সহজ বাংলা পড়তে পারে, নিজের নামটা কোনরকমে সই করতে পারে। সহজ যোগবিয়োগ-গুণভাগ করতে পারে। একটু যখন বয়স বাড়ল ফ্রক ছেড়ে ও শাড়ী ধরেনি। ও জিনস পরত বা সালোয়ার কামিজ পরত। হাতে নাতে কাজ করতে ভালবাসত। কাজ খুঁজতে খুঁজতে একটা সাইকেল সারানোর দোকানে কাজ নিল। সেই দোকানে ওই একমাত্র মেয়ে মেকানিক। ছেলেদের সঙ্গে কাজ করতে ওর কোন সংকোচ নেই।

    পার্ক সার্কাসে শশধর দলুইয়ের গাড়ির শোরুম। শোরুমের পিছন দিকে একটা অয়ার্কশপ আছে। সেখানে গাড়ির সার্ভিস, প্রিডেলিভারি ইন্সপেক্সন, ছোটখাট রিপেয়ার ইত্যাদি করা হয়।

    সিম্পির সাইকেলের দোকানে কাজ আর ভাল লাগছিল না। ওর ইচ্ছা ও মোটর গাড়ি সারানোর কাজ শেখে। তাই সব মোটর গাড়ির কারখানায় গিয়ে গিয়ে চেষ্টা করত সুযোগের জন্য। অবশেষে সিম্পি শশধর দলুইয়ের গাড়ির অয়ার্কশপে কাজ পেল।

    বঙ্কু ওয়ার্কশপে এক মেয়ে মেকানিক দেখে একটু অবাক হল। এবং কৌতূহলীও বটে। কয়েকদিন পরে বঙ্কু নিজে গিয়ে সিপম্পির সঙ্গে আলাপ করল। মহিলা সম্প্রদায়ের উপর বঙ্কুর যে বৈরিভাব স্বাভাবিক তার প্রকাশ পেল না সিম্পির সঙ্গে আচরণে। সিম্পি বুঝি অন্য রকমের। সিম্পিকে ভাল লাগল বঙ্কুর। দিন যায় ; সময় পেলে চায়ের দোকানে দুজনে একসঙ্গে বসে চা খায়, সিনেমা দেখতে যায়। ইতিমধ্যে সিম্পি যাতায়াতের সুবিধার জন্য শোরুরের কাছাকাছি একটা ঘর ভাড়া নিয়ে একা থাকে। এখন মাঝে মাঝে বঙ্কু সিম্পির ঘরে আসে, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে গল্প করে।

    সেদিন রবিবার। সন্ধ্যায় শোরুম বন্ধ। আকাশটা মুখ গোমড়া করে আছে। একটু একটু করে মেঘ জমছে। সন্ধ্যা নেমে আসার আগেই চারিদিক অন্ধকার করে এসেছে। বঙ্কুর ভালো লাগছে না ; ভাবল সিম্পির ঘরে গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে আসে। ভর সন্ধ্যায় বঙ্কু এলো সিম্পির ঘরে। দুজনে চা নিয়ে বসল। ওরা গল্পে মশগুল হয়ে গেল। বাইরে টিপ টিপ বৃষ্টি। গল্প করতে করতে ওরা দেখল ঝির ঝির বৃষ্টি মুষল ধারায় পরিণত হল। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড ঝড়। সিম্পি বলল, “ বঙ্কুদা, এই অবস্থায় তুমি বাড়ি যেতে পারবে না। একটু বসে যাও। আমি খিচুড়ি বসিয়ে দিচ্ছি ; খেয়ে যাও। “ বাইরে ঝড়বৃষ্টি, গরম খিচুড়ি, সঙ্গে সিম্পি --- মুহূর্তের মধ্যে একটা মনোরম ছবি ফুটে উঠল বঙ্কুর চোখের উপর। বঙ্কু ‘না’ করল না।

    খেতে খেতে রাত হয়ে গেল। বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণ নেই। বঙ্কু অস্বস্তি বোধ করতে লাগল। কলকাতার এই অঞ্চলে একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। আর আজ তো কয়েক ঘণ্টা ধরে অঝোরে অবিরাম বৃষ্টি পড়ছে। সিম্পি জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখল বাইরে বেশ জল জমেছে। নিচের তলায় জল ঢুকেছে। রাস্তায় হাঁটু সমান জল। সকালের আগে এই জল নামবে বলে মনে হয় না। ঘন দুর্যোগ। বঙ্কু সমস্যায় পড়ল। চিন্তায় পড়ল সিম্পিও। একটু ভেবে সিম্পি বলল, “ বঙ্কুদা, মনে হচ্ছে এ বৃষ্টি থামবে না এখুনি। আর থামলেও রাস্তার যা অবস্থা তাতে তুমি রাস্তায় নামতে পারবে না। আজ রাতটা তুমি এখানেই থেকে যাও। “ বঙ্কু ইতস্ততঃ করল। কিন্তু ও আর ভাবতে পারছে না। অন্য কোন উপায়ও দেখছে না। অগত্যা রাজী হয়ে গেল।

    সিম্পি নিজের খাটটা ছেড়ে দিয়ে বঙ্কুকে বলল, “ এসো, এখানে শুয়ে পড়ো। আমি নীচে একটা বিছানা করে নিচ্ছি। “ বঙ্কু বলল, “না, তা হবে না। তুমি তোমার বিছানাতে শোও। আমি মেঝেতে শোবো। “ বঙ্কু নাছোড়বান্দা। শেষে তাই ঠিক হল। বঙ্কু মেঝেতে, সিম্পি তার নিজের বিছানায়।

    মাঝ রাতে সিম্পির ঘুম ভেঙ্গে গেল। মেঘেরা তাদের সব জল উজাড় করে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে উধাও হয়ে গিয়েছে। আকাশ এখন পরিষ্কার। সিম্পি দেখল জানালা দিয়ে আধখানা চাঁদের এক ফালি আলো বঙ্কুর গায়ের উপর পড়েছে। অত বৃষ্টির পর ঘরের ভিতর বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। আজ থেকেই বোধ হয় শীত পড়ল। সিম্পি দেখে বঙ্কু পা মুড়ে কুঁকড়ে শুয়ে আছে। বোধ হয় ওর শীত করছে। সিম্পির মনটা কোমলতায় ভরে গেল। ওর অনুকম্পা হল। নিজের গায়ের চাদরটা নিয়ে বঙ্কুর গায়ে মেলে দিল। তারপর নিজের বিছানায় ফিরে এলো। একটাই চাদর। ওরও একটু শীত শীত করছে। বিছানায় বসে এক মুহূর্ত কি যেন ভাবল ; তারপর উঠে গিয়ে বঙ্কুর পাশে সেই চাদরের নিচে শুয়ে পড়ল। সেই শুরু।

    সেই দিনের পর থেকে বঙ্কু প্রায়ই সিম্পির ঘরে রাত কাটিয়ে যায়।

    বঙ্কু সিম্পি যে ঘনিষ্ঠ, ওদের মধ্যে যে অনরকম সম্পর্ক গোড়ে উঠেছে সেটা কারো অজানা ছিল না। শশধর দলুইও সে কথা জানত। বঙ্কুর যখন কোন সহকারীর দরকার হত তখন শোরুমের মালিক শশধর দলুইও সিম্পিকেই বলত বঙ্কুর সঙ্গে কাজ করতে।

    সুরেশ সামন্ত কার্সিয়াঙ শহরের প্রান্তে থাকেন। সুরেশ সামন্ত সফল ব্যবসায়ী, সৎ ও পরোপকারী। বলা যায় ধনী এবং জনপ্রিয়। সমাজ কল্যাণ ও সামাজিক অনুঠানে তাঁর অর্থানুকুল্য থাকে সর্বদা। তাঁর অনেক প্রকারের সখ আছে তার মধ্য একটা হচ্ছে, গাড়ি সংগ্রহ করা। ব্যবসাসূত্রে সুরেশকে প্রায়ই কলকাতায় আসতে হয়। আর কলকাতায় এলে উনি গাড়ির শোরুম ঘুরে দেখেন। সেবার কলকাতায় টাটার শোরুমে ওদের নতুন গাড়ি দেখে বেশ ভাল লাগল। অনেকদিন হল নতুন কোন গাড়ি কেনা হয় নি। গাড়ি কেনার কোন পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু নতুন মডেল ‘সিয়েরা’ দেখে ভাল লেগে গেল। সুরেশবাবু একটা টাটা ‘সিয়েরা’ অর্ডার দিয়ে দিলেন।

    গাড়ি ডেলিভারি করার দায়িত্ব বঙ্কুর উপর। শশধরবাবু বঙ্কুকে বলল গাড়ি নিয়ে
    কার্সিয়াঙএ যেতে। অনেকদূর পথ। গাড়ি দিয়ে বাসে ট্রেনে আসতে অনেক সময় লেগে যাবে। শশধরবাবু সিম্পিকে বলল আর একটা গাড়ি নিয়ে বঙ্কুর সঙ্গে যেতে। শশধরবাবু বঙ্কু-সিম্পির সম্পর্কের কথা জানত ; তাই সুযোগ পেলে কোন কাজে ওদের দুজনকে একসঙ্গে পাঠাত। নতুন সিয়েরা নিয়ে বঙ্কু রওনা হল ; পিছন পিছন সিম্পি একটা ছোট গাড়ি নিয়ে ওকে অনুসরণ করল।

    কার্সিয়াঙএ সুরেশ সামন্তর বাড়ি গিয়ে পৌঁছতে বেশ রাত হয়ে গেল। গাড়ি এসেছে শুনে বাড়ির সকলে ভিড় করে এলো দেখতে। সুরেশবাবু ও তার একমাত্র মেয়ে মধুমিতাও এলো। বঙ্কু সুরেশবাবু ও মধুমিতাকে গাড়ির ভিতরে নিয়ে বসিয়ে গাড়ির বিশেষত্ব কি কি তা বুঝিয়ে দিল। সুরেশবাবু মেয়ে মধুমিতাকে বললেন, “সব ভাল করে দেখে নাও। তুমিই তো চালাবে বেশি। “ মধুমিতা ড্রাইভারের সিটে বসল, পাশে বসল বঙ্কু। মধুমিতা গাড়িটা স্টার্ট দিয়ে দুজনে এক চক্কর ঘুরে এলো। ফিরে এসে বঙ্কু সুরেশবাবুকে বলল, “এবার আপনি আসুন। “ সুরেশবাবু বললেন, “না, থাক। আপনারা অনেক দূর থেকে আসছেন। নিশ্চয়ই খুব ক্লান্ত। খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম করুন। “ মধুমিতা বলল, ”ঠিক বলেছ, বাবা। “ তারপর বঙ্কুর দিকে চেয়ে বলল, “ আসুন, আপনারা আমার সঙ্গে আসুন। “ বঙ্কু ও সিম্পি ওকে অনুসরণ করল।

    খাবার টেবিলে মধুমিতাই ওদের আপ্যায়ন করতে লাগল। ওদের বসিয়ে দেখাশোনা করতে লাগল। “ আরো দুটো লুচি দিই “ মধুমিতা বলল। সারাদিন গাড়ি চালিয়ে শরীর ও মন খুবই ক্লান্ত। মধুমিতাকে যখন গাড়িতে বসিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল তখনো বঙ্কু মধুমিতাকে চোখ উঁচু করে ভাল করে দেখেনি। একটু বিশ্রাম করে, উদরে কিছু পড়ার পর শরীরটা বেশ শান্ত। ক্লান্তি নেই আর। বঙ্কু এবার চোখ তুলে মধুমিতার দিকে তাকাল। ভাল করে দেখল। মনে হল ওর সামনে স্বয়ং লক্ষ্মী বসে আছে। মুখে সারল্য, আন্তরিকতা, যেন দয়ার প্রতীক। বঙ্কুকে কেউ কখনো যত্ন করে নি, আদর করে সামনে বসে খাওয়ায় নি। ও কোনদিন কোন মা বোনের আদর ভালবাসা পায় নি। ওর মনটা গলে গেল।

    ঘাড় নেড়ে খুব নিচু গলায় একটু লজ্জা লজ্জা মুখে বলল, “দিন”।

    খুব তৃপ্তি সহ নৈশাহার শেষ হোল। বাড়ীর একপ্রান্তে অতিথি নিবাস। সেখানে বঙ্কু ও সিম্পির শোবার ব্যবস্থা। মাঝরাতে বঙ্কুর হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। অনেকক্ষণ বিছানায় ছটফট করে উঠে পড়ল। গায়ে জামাটা চড়িয়ে বাড়িটা দেখতে বের হল। বাইরের ঘর থেকে ভিতর বাড়িতে ঠুকল। দরজাগুলো ভেজানো, চাবি নেই বা ভিতর থেকে বন্ধ নয়। বঙ্কু একটা ঘর থেকে আরেকটা ঘরে ঘুরতে লাগল। সবাই অঘোরে ঘুমাচ্ছে। একটা ঘরে ঢুকে দেখে সেটা মধুমিতার ঘর। ঘরটা বেশ বড়। ঘরের একধারে মস্ত খাট, সেখানে মধুমিতা শুয়ে আছে।

    কিষাণজীর কাছ থেকে বঙ্কু চৌর্য কর্মের অনেক কলা কৌশল শিখেছিল। ও অতি সন্তর্পনে চলা ফেরা করতে পারত ; মনে হয় মেঝেতে পা পড়ছে না। চোখদুটো তীক্ষ্ণ, প্রায় অন্ধকারে দেখতে পেত। কিষাণঞ্জী ওকে বলেছিল কখনো কোন কাজ খালি হাতে করবে না। আঙ্গুলের ছাপ রেখে যেও না কোথাও।

    বঙ্কু যখন মাঝ রাতে ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তখন ওর মনে কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু ছিল কৌতূহল। কিন্তু এমন নিঝুম রাত্রে কৌতূহলটা হঠাৎ অন্যদিকে মোড় নিল। পুরানো অভ্যাস সহজে মরে না। মাঝে মাঝে বিষাক্ত সাপের মত ফণা তোলে। ঘরের এক কোনে একটা আলমারি। টেনে দেখল আলমারিটা বন্ধ, চাবি দেওয়া।

    কিষাণজী বঙ্কুকে একবার একটি ছুরি উপহার দিয়েছিল। সেটা একটা সাধারণ ছুরি নয়। এক ধরনের বিশেষ ছুরি। অনেকটা সুইস আর্মি নাইফের মত। একটা ছোট ছুরি ছাড়াও এর মধ্যে আরো গোটাআস্টেক ছোট মিনিয়েচার যন্ত্রপাতি আছে। যেমন ছোট স্ক্রু ড্রাইভার, কাঁচি, সাঁড়াশি ইত্যাদি। বহুদিনের অভ্যাস, বঙ্কু এই বস্তুটিকে সব সময় জামার পকেটে রাখে। কখন কি দরকার পড়ে কে জানে। কিষাণজীর দলে যখন ও চুরি করতে যেত তখন এটি ছিল একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।

    আলমারিটা খুলল না দেখে বঙ্কু ঘর থেকে বের হয়ার জন্য দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজা পর্যন্ত এসে হঠাৎ কি যেন মনে হল। আলমারি দিকে আবার এগিয়ে এলো। কেমন যেন ‘পরাজিত’ ‘পরাজিত’ মনে হল। ‘আলমারিটা কি খুলতে পারব না ?’ কৌতূহল হল আলমারির মধ্যে কি আছে জানতে। পকেটে হাত দিয়ে দেখল ওর প্রিয় ছুরিটা আছে। ছুরিটা বার করে তার থেকে একটা লম্বা পিনের মত জিনিষ টেনে নিল। সেই পিন আর স্ক্রু ড্রাইভার নিয়ে আলমারির চাবির গর্তে ঢুকিয়ে কয়েকবার নাড়াচাড়া করল। তারপর হান্ডেল্টা ঘোরালো। আশ্চর্য , আলমারিটা খুলে গেল। বঙ্কু সাফল্যের নিঃশ্বাস ফেলল। মনে মনে হাসল – তাহলে পুরানো বিদ্যা এখনো ভোলেনি। আলমারির মধ্যে দামী শাড়ী, সোনার গয়না, কিছু টাকার বান্ডিল। ভাজ করা শাড়ীর তাকে হাত বুলাতে থাকল। শাড়ীর নীচেটা শক্ত। শাড়ীটা তুলে দেখে একটা সবুজ ভেলভেটের বাক্স। বাক্সটা খুলে ও চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না। সোনা-প্লাটিনামের একটা নেকলেস, মূল্যবান রত্নে অলংকৃত। নেকলেসের নীচে একটি লকেট, লকেটের মাঝে একটি বড় দ্যুতিমান হীরক। বঙ্কু দেখল অন্ধকারেও হীরকটি জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। বঙ্কু অনেক ক্ষণ তাকিয়ে থাকল। তারপর মন্ত্রমুগ্ধের মত নেকলেসটি তুলে পকেটে রাখল। ওর হুঁস নেই ও কি করছে।

    ঘরে ফিরে অবসন্ন শরীরটা বিছানায় ফেলল। বঙ্কুর মনে হল ও যেন মঙ্গলগ্রহ থেকে ফিরেছে। কেমন একটা আচ্ছন্ন ভাব। রাতে আর ঘুম হল না।

    পরদিন ভোরে দুজনে গাড়ি নিয়ে কলকাতার দিকে রওনা হল।

    সকাল থেকেই বঙ্কুর চোখের উপর মধুমিতার মুখটা ভেসে উঠছে। মন দিয়ে গাড়ি চালাতে পারছে না। নাঃ, কাজটা ঠিক হয় নি। ও তো এ সব কর্ম ছেড়েই দিয়েছিল। তবে এমন কাজ করতে গেল কেন ? লোভ ? না লোভ হবে কেন ? ওর তো আর কোন অভাব নেই। অতি ধনী হবার ইচ্ছাও নেই। শিশুর মত সরল, ফুলের মত কোমল এক সুন্দর মুখ প্রিয় জিনিষ হারাবার বেদনায় কেমন শুকিয়ে যায় সে ছবি মনে করে ওর খুব কষ্ট হল। কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিল না।

    গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ গাড়ির মুখ ঘুরিয়ে কার্শিয়াং শহরের দিকে চলতে শুরু করল। সিম্পি অবাক। বঙ্কুদার কি হল ? জিগ্যেস করল, “ কি করছ ? গাড়ি ঘোরালে কেন ?” বঙ্কু চুপ করে থাকল, সিম্পির প্রশ্নের কোন উত্তর দিল না। শহরের কেন্দ্রে গিয়ে গাড়ি থামাল একটা বড় দোকানের সামনে। দোকান থেকে দুটো উৎকৃষ্ট চকোলেটের বাক্স কিনল। গাড়িতে ফিরে এলে সিম্পি ওর হাতে চকোলেটের বাক্স দেখে খুব খুশি। চোখ দুটো চকচক করে উঠল। বঙ্কু জানে সিম্পি চকোলেট খেতে ভালবাসে। সিম্পির জন্য বঙ্কু চকোলেট কিনে এনেছে মনে করে উৎফুল্ল হয়ে উঠল। কিন্তু বঙ্কু এসে চকোলেটের বাক্স সিম্পির দিকে এগিয়ে দিল না। বঙ্কু গাড়ির বুটের ভিতর থেকে একটা ছোট কার্ডবোর্ডের বাক্স বার করল। তারপর একটা চকোলেটের বাক্স খুলল। তারমধ্য থেকে সব চকোলেটগুলো বার করে এক মুঠো চকোলেট সিম্পির হাতে দিল। সিম্পি আনন্দে গদগদ। তারপর পকেট থেকে চুরি-করা নেকলেসটা নিয়ে চকোলেটের খালি বাক্সটার মধ্যে রাখল। সেই চকোলেটের বাক্স আর অন্য চকোলেট বাক্সটা নিয়ে রাখল সেই কার্ডবোর্ড বাক্সটার মধ্যে। তারপর একটা সাদা কাগজ আর ডট পেন বার করে সিম্পিকে বলল, “ লেখ, ‘পারিলাম না। ‘। “

    বঙ্কু কাগজটা নিয়ে কার্ডবোর্ড বাক্সটার মধ্যে রাখল। সেলোটেপ দিয়ে ভাল করে বাক্সটা বন্ধ করে সিম্পিকে দিয়ে মধুমিতার নাম লিখল c/o সুরেশ সামন্ত ও তার ঠিকানা। প্রেরকের জায়গায় লিখল এক কাল্পনিক নাম ও ঠিকানা। গাড়িটা স্টার্ট দিল, একটা পোস্টঅফিসের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। কাউন্টারে গিয়ে বলল, “ আমি এই বাক্সটা রেজিস্টার্ড পোস্টে পাঠাতে চাই । “

    বাক্সটা পোস্ট করে বঙ্কু গাড়িতে ফিরে এলো। মনটা এখন হাল্কা ; সেই যন্ত্রণাটা আর নেই। এবার শান্তি।

    বঙ্কু এক্সিলেটারে চাপ দিল। গাড়ি ঊর্ধগতিতে কলকাতার উদ্দ্যেশে ছুটে চলল। ।

    ... ... ...

     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • গপ্পো | ১৬ মে ২০২৬ | ৮৯ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • তপতী বিশ্বাস, সিংগাপুর | 194.*.*.* | ১৬ মে ২০২৬ ১৬:১৬740676
  • খুবই ভালো লাগল। পরিছন্ন ছোট্ট সুন্দর গল্প। মন ছুয়ে যাওয়া!
  • Bishakha deb | 24.*.*.* | ১৬ মে ২০২৬ ১৭:৫১740677
  • ভালো লাগলো, )
  • Bratin Das | ১৬ মে ২০২৬ ২০:২২740680
  • বেশি ভালো লাগলো
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন