এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  গপ্পো

  • ঘোড়া কি দাঁড়িয়ে ঘুমায়? (গল্প)   

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    গপ্পো | ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১০০ বার পঠিত
  •  
    ঘোড়া কি দাঁড়িয়ে ঘুমায়?

    একদিন গাছতলায় কাজুর চায়ের দোকানের আড্ডায় লেগে গেল ধুম তর্ক। ঘোড়া কি দাঁড়িয়ে ঘুমায়?

    প্রশ্নটা করেছিলেন ট্যাঁপামামা।

    আমাদের এলাকার ট্যাঁপামামা নিজেকে খলিফা বলে দাবী করেন। ভালো নাম তপোজ্যোতি ভট্টাচার্য। শুনেছিলাম নিজে যখন স্কুলে পড়াশোনা করতেন তখন দ্বিতীয় বা তৃতীয় পিরিয়ডের ঘন্টা বাজলেই নাকি ঘুমে ঢুলে পড়তেন! স্কুলের জীবন বিজ্ঞান দিদিমনি, রঞ্জনা দিদিভাই, এটিকে প্যাভলভের ক্ল্যাসিকাল কন্ডিশনিং-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলে ক্লাস টেনের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এসে তখন নাকি আবার দেখাতেন; বলতেন, প্র্যাক্টিকাল ক্লাস! কারণ তখন মোবাইলই ছিল না তো ক্যামেরা।

    পাড়ার যারা যারা ট্যাঁপামামার সঙ্গে একই শ্রেণিতে পড়তেন তারা তারা বলতেন – বেঞ্চে মাথা রেখে দস্তুরমতো নাক ডাকিয়ে নাকি ঘুমোতেন ট্যাঁপামামা। বাড়ির থেকে স্কুলে বলা ছিল। বলা ছিল যে ট্যাঁপামামার নাকি নার্ভের সমস্যা, তাই ডাক্তার তাকে কিঞ্চিৎ ঘুমের ওষুধ খেতে দিয়েছিলেন। রাতে খেতে হত। আর রাতে খাওয়ার পর গলাধঃকরণ করা সেই ওষুধের ক্রিয়া রয়ে যেত দিনভর। একে ক্রিয়া না বলে ওষুধের প্রতিক্রিয়া বলাই ভালো। 

    তা সেই ট্যাঁপামামা পরে বড় হয়ে নমো নমো করে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ঢুকে গেলেন কলেজ স্ট্রিটে তার বাবার বইয়ের দোকানের ব্যবসায়। আমরাও অনেক সময় ট্যাঁপামামার কাছ থেকে প্রয়োজন মতো বইটই কিনেছি।

    আজকে ট্যাঁপামামার এই প্রশ্নটা শুনে অমরেশবাবু তার লাঠি ঠুকে বললেন – আলবাৎ দাঁড়িয়ে ঘুমায়।
    -  কে?
    - কেন? ঘোড়া।
    - আপনি দেখেছেন?
    - কত ঘোড়া দেখেছি।
    -ইসস! এমনভাবে বলছেন যেন ঘোড়ায় টানা ট্রাম…। সব দেখেছেন। হু। একটা তির্যক দৃষ্টি হেনে বললেন ট্যাঁপামামা। বললেন – যেন বাড়ির ঘোড়াশালে গাদা গাদা ঘোড়া দাঁড় করানো আছে, আর আজ সকালে কাজুর এখানে তার মধ্যেই কোনও একটায় চড়ে…

    -ওরে বাবা! ঘোড়া কি শুধু ট্রামই টেনেছে নাকি? – এইবার তর্কে অবতীর্ণ করলেন মদন প্রামানিক।

    - তবে?
    - আমি তো শুনেছি ট্রেন, ড্রেন, বাস – সব টেনে… একেবারে। মিউল, ঘোড়া, তাপ্পর গাধা…।
    -ড্রেন! ঘোড়া আবার ড্রেন টানল কবে? ও মশাই পাকড়াশীবাবু মদনদা কী সব বলছে? কিছু টেনে এসেছ নাকি?

    গাছতলার সিমেন্ট করা বসবার জায়গায় নিজের পাইপটা ঠুকে তার মধ্যে থেকে পোড়া তামাক বের করে মিঃ পাকড়াশী বললেন – ড্রেনের কথা জানি না। লুক হিয়ার, উই স দ্যাট হর্স পুল্ড আল্মোস্ট এভ্রিথিং, হোয়েন দেয়ার ওয়াস নো ইঞ্জিন…, অ্যাট অল। তারপর ইঞ্জিন চলে এলো। ওদের কাজ কমল। ঘোড়ার উৎপাদন কমল। ভেরি সিম্পল।
     
    - হ্যাঁ হ্যাঁ। হর্স পাওয়ার। - মদন প্রামানিক ফুট কাটলেন।
    - কিন্তু কোথায় ঘোড়া আর কোথায় ট্রেন! – কথাটা বলে ট্যাঁপামামা আবার পাকড়াশীর দিকে তাকালেন।    
    - আপনার নলেজটা…, ইফ ইউ ওয়ের পাস্‌ড ফ্রম কলেজ / শ্যুড হ্যাভ সাম ডিংডং নলেজ। পাকড়াশী তার পাইপে তামাক ভরতে থাকলেন। বললেন – নাউ, এ কি আপনার আজকালকার ট্রেন পেয়েছেন?
    - না না। আমি কলেজ গ্র্যাজুয়েট।
    - ল্যাজ কাটা গ্র্যাজুয়েট। একটা টোন করলেন মদন। বললেন – হ্যাঁ, কলেজের ‘ক’ শব্দটা কাটলেই পড়ে থাকে লেজ।
    - হে হে। লেজ যে তোমার আছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। আর লেজকাটাই হই আর ইয়েই হই, তুমি তো পেট কাটা।
    - পেট কাটা গ্র্যাজুয়েট আবার কী! অমরেশবাবু জানতে চাইলেন। বললেন – ইয়ে মানে লেজ কাটাই তো শুনিচি।
    - তাহলে শুনুন। লেজ কাটা মানে অনার্স কাটা গেছে। আর পেট কাটা মানে ভর্তি হয়েছিল, ঐ তাপ্পর ফার্স্ট ইয়ার…
    - ও বুঝলাম। নাম লেখানো গ্র্যাজুয়েট?
    - আহ! আমরা প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছি কেন? পাইপে অগ্নিসংযোগ করে একটা টান মেরে বললেন মিঃ পাকড়াশী। বললেন – শুনুন তাহলে, আঠেরো-শ শতাব্দীর প্রথম ৫০ বছর জুড়ে কিন্তু এই ঘোড়া, মিউল এঁরাই ট্রাম, ট্রেন…, হ্যাঁ। ব্যাভারিয়া, প্লাইমাউথ-ডার্টমুর। তাসমানিয়ার পোর্ট আর্থার। তারপর উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফিন্টোন রেলওয়েতে। বেশ কিছু জায়গায় তো ১৯৫০-এর পরেও এঁরা ছিল।
    - বলেন কি! – মদনবাবু একটু যেন অবাক হলেন। জানতে চাইলেন – ব্রিটেনের অতো কাছে থাকা সত্ত্বেও?
    - হ্যাঁ। তবে বেশিরভাগ খনি এলাকায়, আমাদের নাসিকেও…। অনেক খনি এলাকায় এরকম বন্দোবস্ত ছিল। প্রচুর ছিল।
    - বাদ দিন। আমরা আবার ঘুমে ফিরে আসি। - বললেন অমরেশবাবু। তিনি যেন আমাদের কান ধরে আবার রাস্তায় আনতে চাইছিলেন।
    আমরা কয়েকজন চা পান করতে করতে গুটিগুটি ওদের পাশে এসে বসলাম। ফংকা চায়ে চুমুক দিয়ে বলে উঠল – ঘোড়া! কেন? দেশের সব গোলমাল, রাজ্যে রাজ্যে দূর্নীতি, চুরি, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি; লোকজনকে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, দেশ বেচে দিল, রোজকার জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে, কাজ নেই, ফেক যুদ্ধ, গ্যাসের দাম, তেলের দাম…শিক্ষার খরচ, স্বাস্থ্যের খরচ, খাবারের দাম…। গতবার লোকসভার সময় ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে তো খুব হইচই হল। তারপর ভোঁ ভা!

    ঘোঁতনা ফংকার কথায় কথা মিলিয়ে বলল – উফ্‌ফ! হোর্ডিং-এ হোর্ডিং-এ একেবারে ছয়লাপ! এতে যে দৃশ্য দূষণ হয় আর কবে বুঝবে? শঙ্খ ঘোষের সেই ‘মুখ ডেকে যায় বিজ্ঞাপনে’। আর প্রচারের ঢক্কা নিনাদ! কাজের কাজ তো ঐ সামান্যই। কীভাবে যে খালি মন্দির-মসজিদ রাজনীতি করে করে পেছন দিয়ে হাতি গলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, লোকজন টেরও পাচ্ছেন না। ইসস! সত্যজিৎবাবুর ‘শতরঞ্জ কী খিলাড়ি’ ছায়াছবির কথা মনে পড়ছে।

    ঘোঁতনা আবার ফিল্ম বাফ। অনেক মাষ্টারদের সিনেমা টিনেমা দেখেছে। 
     
    ফংকাও কম যায় না। বলল – এই তো, আজকের আ.বা.প.-এ সেমন্তী ঘোষের একটা উত্তর সম্পাদকীয় বেরিয়েছে। লিখেছেন, কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই। ভোট না যুদ্ধ? ইসস! এখনও এস.আই.আর.-এ কত মানুষের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে আর এরা ঘোড়া ঘোড়া করছেন। কবি হিন্দোল ভট্টাচার্য এই সময়ে এই নিয়ে লিখলেন...  
     
    - তুই থাম। আর আমরা এই ক’টা লোক এসব আলোচনা করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? দেশের বাকি লোকেদেরও তো এইসব নিয়ে কথা বলা উচিৎ, নাকি? – মদন প্রামানিক বলে উঠলেন।
    - আজ ওসব থাক। রোজই তো হয়। আচ্ছা, কোন কোন প্রাণী দাঁড়িয়ে ঘুমায়? – জানতে চাইলেন ঝিকুকাকু।
    পাইপে ধোঁয়া ছেড়ে পাকড়াশীবাবু বললেন – অতো শতো জানিনা মশাই…, তবে শুনেছি জিরাফ, ঘোড়া, হাতি, জেব্রা, উট আর আমাদের মনুমেন্ট।

    মনুমেন্ট আমাদের এখানে মনু পিসেমশাইকে বলা হয়। উচ্চতায় প্রায় ছয় ফুট চার ইঞ্চি। ব্যাক ব্র্যাশ চুল। মনু পিসে একহাতে চা আর অন্য হাতে সিগ্রেট নিয়ে মুখে একটা তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাব করে বললেন – আবার আমায় নিয়ে কেন বাওবা?
    - না। আপনি যে দাঁড়িয়ে… দাঁড়িয়ে, স্বচক্ষে দেখা। মাইরি! ভীড় ট্রেন আর আপনি হ্যান্ডেল ধরে…।  
    - ও তো ঘুমানো নয়;
    - তাহলে?
    - ঝিমানো। ঝিমানো। চায়ে চুমুক দিলেন মনু পিসে।
     
    মদন প্রামানিক মনু পিসের দিকে তাকিয়ে বললেন – আপনার ফিলামেন্ট তো হেভি মজবুত। হেভি স্ট্রং।
    - ফিলামেন্ট!
    -  আহ! মদন, এতো বাচাল হোয়ও না।ওটা লিগামেন্ট; লিগামেন্ট। - পাকড়াশীবাবু ভুল শুধরে দিলেন। বললেন – ওদের পায়ের পেশি, টেন্ডন আর লিগামেন্ট, ঘোড়াদের। বুঝলেন? লকিং সিস্টেম, স্টেও অ্যাপারেটাস। তাই…। ঘোড়াদের বলছি। মনুদার কথা কিন্তু বলছি না।
    -  তা আমাদের মনু জামাইবাবুর পায়েও কি…
    - থাবড়া খাবি মদন। - বলে মনু পিসে তার সিগ্রেটটা ধরালেন।
    - মজা করছিলাম, সরি। তবে ট্যাঁপার এক দাদার বিয়েতে গিয়ে…, কি গো ট্যাঁপাদা, ভুলে গেলে? সেই যে…গো…
    - কোন দাদা রে? – ট্যাঁপামামাও তার মনের ভিতর হাতড়াতে থাকলেন।
    - সেই যে গো, কালশিটে গেরামে…। ধরো হয়ে গেল, হ্যাঁ, পেরায় ২৫ বছর।
    - বাব্বা! তোর মনে আছে?
    - আহ! ভণিতা না করে খুলেই বলুন না। - অমরেশবাবু আবার তার লাঠি ঠুকলেন।
    - বলছি। তা এক রাউন্ড চা হোক, নাকি?
    - দাঁড়ান। আমি দেখছি। - পাকড়াশী সাহেব উঠে গিয়ে চায়ের অর্ডার দিয়ে এলেন।
     
    মদন প্রামানিক বলতে শুরু করলেন – তা, ট্যাঁপাদার সেই দাদার ছিল মাঝরাত্তিরে লগ্ন। পেরায় ১টা। কেন যে মরতে…। আগে পরে কোনও দিন ছিল না? যদিও আমাদের কাছে রাতজাগা ছিল নস্যি। আজ থেকে পঁচিশ ছাব্বিশ আগেকার কতা। জায়গাটা বলাগড় থেকে পেরায় পাঁচ-ছ কিলোমিটার ভেত্রে। গন্ডগেরাম।
     
    - তারপর? ফংকা বলে উঠল। আমাদের সবার চা পান হয়ে গেছে। গল্পের মৌতাতে আমরাও উঠলাম চেগে।
    - তা ঠাণ্ডার সময়। গা গরম করবার জন্য বরযাত্রীর অনেকেই আবার রাম সেবা…, টেনে একেবারে টং। আম্মো। আর বাকি যা বোতলে ছিল ঐ দুজন পুরুত…, ঠাণ্ডা লাগছিল বলে ওদেরও গেলানো হয়েছিল।
    - বেশ। ভিত পুরো পাকা। মনুপিসে হেসে বললেন।
    - অ্যাঁ? হ্যাঁ। তাপ্পর ইয়ার্কি, ঠাট্টা। সব খেয়েদেয়ে নিলাম। লগ্ন হল। বউ এলো। সেও দেখলাম টলছিল।
    - রাজযোটক!
    - বাইরে বেদম ঠাণ্ডা থাকায় ঘরেই বিয়ের যজ্ঞ…। আর যা মশা, ওরেব্বাস! কে যেন কীসের একটা ধুপ জ্বালিয়ে দিল। পরে জেনেছিলাম ল্যাভেন্ডার…।
    - আচ্ছা?
    - হ্যাঁ। একে সকাল থেকে জেগে থাকবার ক্লান্তি। ভরপেট খাওয়া দাওয়া। অ্যালকোহল। তার ওপর লোকও কম ছিল। হঠাৎ দেখা গেল মন্তর পড়তে পড়তে পুরুত দুজন কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে! ঢুলছে। সঙ্গে বর-বউ।
    - বলেন কী!
    - হ্যাঁ। তাপ্পর পুরুতদুটোকে কাতুকুতু দিয়ে…, খ্যাঁক খ্যাঁক খ্যাঁক…, গায়ে জল দেবার ভয় দেখিয়ে… হা হা হা হা…  
    - টোটালি আউট অফ কন্টেস্ট। হচ্ছিল ঘোড়ার ঘুম, চলে এলো কাদের সব ঘুম। ডিসগাস্টিং! - পাকড়াশিবাবু দেখলাম বিরক্ত।
    অমরেশবাবু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন – আচ্ছা, বলুন তো, কে কে চিৎ হয়ে ঘুমায়? আমি তো বিছানায় পড়লেই চিৎপাত!
    - যদ্দুর জানি, কুকুর বেড়াল আমরা বানর। কিন্তু ঘোড়া না। ঘোড়া কিন্তু দাঁড়িয়ে, নয় বসে ঘুমায়।
    - আবার বসে? ছবি আছে? ভিডিও? – পাকড়াশীবাবু উত্তরে চটে গিয়ে বললেন ট্যাঁপামামা। বললেন – না না। ওসব ফেক ভিডিওতে কিন্তু ভুলছি না। আমি বলছি, হ্যাঁ, আমি বলছি, ঘোড়া দাঁড়িয়েই ঘুমায়। বেট?
    - ঘোড়া ঘোড়া করে যে এতো মেতে উঠলেন, আপনার পূর্বপুরুষের নাম কি ইওহিপ্পাস? নাকি মেসোহিপ্পাস? না প্লিওহিপ্পাস? – ঘটলা ফোঁড়ন কাটল।
    ঘটলার মুখ থেকে এইসব নতুন শব্দগুলো শুনে মদন প্রামানিক আবার খুব চেগে গেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন – মেসোহিপ্পাস? কেন ‘পিসোহিপ্পাস’ নেই? – বলেই ইঙ্গিতে মনুপিসের দিকে ইশারা করলেন।

    পাকড়াশীবাবু একটু হেসে বললেন – এসব প্রাগৈতিহাসিক ঘোড়ার জাত। তবে কিছুই বলা যায় না। যেহেতু অভিযোজন অভিব্যাক্তি অনুসারে এক কোষী প্রাণী থেকে বহু কোষী প্রাণীর অবির্ভাব বলে বৈজ্ঞানিক মত, তাই ঘোড়া, মানুষের পূর্বপুরুষ না হোক, ‘অপূর্বপুরুষ’ হতে বাধা কোথায়?      
     
    - অপূর্বপুরুষ! এরা কারা!

    - ‘অ’ দ্বারা মানে অদৃষ্টের দ্বারা নির্ধারিত পূর্বপুরুষ। এখন তো অদৃষ্টবাদীদেরই রমরমা। উনিজী আবার জানালেন যে উনি নাকি নন-বায়োলজিক্যাল!
    - ও সে যাই হোক। বাজী যখন একবার হয়েছে…
    - একদম। - বলে উঠলেন ট্যাঁপামামা। বললেন – আমি পিছিয়ে যাবার লোক নই।
     
    উত্তর আর প্রত্যুত্তরে গরম হয়ে উঠল আড্ডাখানা। শেষে এমন হল যদি ঘোড়া বসে ঘুমায় প্রমাণিত হয়, তবে ট্যাঁপামামা তার নিজের নামে ঘোড়া পুষবেন। আর বাঙালির বাজী মানেই খাওয়াদাওয়া। কথা হল যদি ট্যাঁপামামা হারেন, তাহলে মাংসভাত আর পাকড়াশীবাবু হারলে মাছভাত। আমরা, মানে বয়সে কিঞ্চিৎ জুনিয়াররা চাইছিলাম যে ট্যাঁপামামাই হারুক। শেষে যখন মাছ বলতে পাকড়াশীবাবু যখন পম্ফ্রেট আর ইলিশের কথা বললেন, তখন ঠাকুরকে ডাকতে থাকলাম যাতে উনিই হারেন।

    এদিকে বাড়ি ফিরে ট্যাঁপামামা আয়নার সামনে একবার হামা দেওয়ার ভঙ্গীতে, একবার দাঁড়িয়ে, একবার বসে, একবার কেত্‌রে, একবার ছেত্‌রে, একবার চেয়ারে… সব নানান কায়দায় ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। আর এইসব করতে করতে মনে মনে শপথ করলেন, ঘোড়া যদি বাই এনি চান্স বসেও ঘুমায়, তবে টাকা খরচ করে সব ক’টা ঘোড়াকে, মানে কলকাতার সব ক’টা ঘোড়াকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমানোর ট্রেনিং দেওয়া করাবেন। ইসস! তার নামে যদি কেউ ঘোড়া পোষে! আর বউ যদি জানতে পারে, আস্ত রাখবে? পিটিয়ে গাধা করে দেবে।

    রাতের দিকে আবার ভাবতে বসলেন। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি তো ট্রেনিং দেওয়া যাবে না। তাহলে? সেদিন থেকে পর পর ক’দিন ট্যাঁপামামার রাতে ভালো করে ঘুম এলো না। স্বপ্নে খালি প্রাগৈতিহাসিক ঘোড়াদের দেখতে থাকলেন। ওরা আসছিল আর থেকে থেকেই ট্যাঁপামামার পায়ের আঙুল চাইছিল। একজন ঘোড়া আবার কক্সিসটা দিয়ে দিতে বলছিল।

    এদিকে ট্যাঁপামামাকে ঘোড়া নিয়ে মেতে উঠতে দেখে আর বসে বা হামাগুড়ি দিয়ে ঘুমোতে দেখে ট্যাঁপামামীর কেমন জানি সন্দেহ হল। ভাবলেন, মামার কি মাথা বিগড়ল? নাকি রেসের মাঠে যাচ্ছেন? সেখানে কি টাকা খুইয়েছেন? একেই সুগার-প্রেশারের রুগী।

    কয়েকবার কায়দা করে বোঝবার চেষ্টা করছিলেন। কারণ দিনের বেলাতেও গুম হয়ে থাকছিলেন ট্যাঁপামামা। ট্যাঁপামামী বারকয়েক কারণ জানতে চেয়েও উত্তর পান নি। ব্যাঙ্গালোরে লেখাপড়া করতে যাওয়া ছেলেকে ফোন করে বলেছিলেন বাবার নতুন কীর্তিকর্ম। ছেলে আমল দেয় নি। পরে অবশ্য ট্যাঁপামামা ঢপ মেরে কলেজ স্ট্রিটের সমস্যার কথা বলে দিলে কাটিয়ে দিয়েছিলেন মামীকে।

     

    ওদিকে আড্ডায় স্থির হল যে T20 ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ শেষ হলেই আমরা কলকাতার কয়েকজন সদলবলে রাজাবাজারের দিকের কোনও আস্তাবলে গিয়ে সরেজমিনে ব্যাপারটা নিরীক্ষণ করে আসব।

    এদিকে আবার ট্যাঁপামামা রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে ঘোড়া দেখে ক্ষীণ স্বরে বলে উঠতে থাকলেন – মে…রি…রি…চি…প্পাস। ইও…হি…হি…প্পাস। ই…ক্যুয়া…স, ইক্যু…। মে…সো… মে … হি…প্পাস।

    মামী ভাবলেন বুঝি তাকে ‘পাশ’ ফিরে শুতে বলছেন। তিনি পাশ ফিরেই শুলেন।

    মনের অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে ট্যাঁপামামা আর স্থির থাকতে পারলেন না। সামনের রবিবার T20-তে ভারত আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলার দিন স্থির করলেন যে নিজেই একবার রাজাবাজার গিয়ে সরেজমিনে দেখে একটা কিছু কায়দা করে আসবেন। আর সেদিন গাছতলার আড্ডাখানার মানুষজন খেলা দেখতে এমন মশগুল থাকবেন যে ট্যাঁপামামা কোথায় গেলেন, কোথায় বেরোলেন তা ঠাহর করে উঠতেই পারবেন না।

    সেই প্ল্যান মাফিক রবিবার খাওয়াদাওয়া করে বই সংক্রান্ত কী একটা কাজ আছে বলে মামীকে ভুজুংভাজুং দিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। বই বাঁধাইয়ের একজন কর্মচারী বছিরুদ্দিনকে বলা আছে। সে একটা আস্তাবল দেখেও রেখেছে। প্ল্যান হল – T20 বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলে সবাইকে ভুজুংভাজুং দিয়ে এই আস্তাবলেই নিয়ে আসবেন। ব্যাস, তাহলেই পাকড়াশীবাবু ‘চিহিহিপ্পাস’ হয়ে যাবেন।

    গুছিয়ে সেজেগুজে ফুলবাবু হয়ে যখন হাওড়া ষ্টেশনে এসে পৌঁছলেন, তখন বাজে সাড়ে চারটে। আজ রবিবার বলে অনেক ট্রেন ক্যান্সেল আর খেলা বলে আরও ফাঁকা ফাঁকা। বাস চত্বরও ফাঁকা। তবে মিনিট দশ-পনের দাঁড়িয়ে একটা সরকারি বাস গেলেন পেয়ে; যদিও তাতে যাত্রী খুবই কম। ভাবলেন, লাক তার সঙ্গেই আছে।

    হৃষ্ট চিত্তে একটা জম্পেশ সিট বেছে নিয়ে বসে পড়লেন ট্যাঁপামামা। তারপর ফোন করে বছিরকে। তারপর কোন্‌ সিটে যে বসবেন স্থির করে উঠতে পারছিলেন না, মানে কোন্‌ সিটে বসলে বেশি হাওয়া পাবেন। বাস স্টার্ট হতেই রাজাবাজারের একটা টিকিট কেটেই বাসের দুলুনিতে ঝিমোতে শুরু করে দিলেন ট্যাঁপামামা। ট্রেনেও ঝিমোচ্ছিলেন। বাইরে তখন ফাল্গুনের মেঘলা আকাশ। সঙ্গে গঙ্গার নাতিশীতল হাওয়ায় চোখের পাতা দুটো চুম্বকের বিপরীত মেরুর মতো এক হয়ে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পরে চটকা ভেঙে উঠে দেখলেন মেছুয়া পেরোচ্ছে। কন্ডাক্টারকে আবার মনে করিয়ে দিলেন ট্যাঁপামামা। তারপর একটু দূরে বসা দুজন লোককে দেখতে দেখতে আবার ঝিমোতে শুরু করে দিলেন।

    কিন্তু কখন যে দু’চোখ লেগে এসেছিল, খেয়াল করে উঠতে পারেন নি। যখন ঘুম ভাঙল, দেখলেন চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও কিছু নেই। আশেপাশে কোনও শব্দ নেই। মাথার ওপর একটা ক্ষীণ কাদের যেন পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। দূরে কোথা থেকে যেন হরিবোল হরিবোল গান শোনা যাচ্ছে। তবে কি মারা গেলেন? তবে কি তিনি এখন নরকের ওয়েটিং রুমে বসে আছেন ডাক পাওয়ার জন্য? হাতড়ে দেখলেন পরনের প্যান্ট নেই। পাঞ্জাবী নেই। খালি ড্রয়ার আর স্যান্ডো গেঞ্জি। মোবাইল, ঘড়ি, আঙুলের আংটি, মানি ব্যাগ – সব হাওয়া! হয়তো নরকে ঢুকবার আগে এটাই দস্তুর! চোখটা ধাতস্ত হতে দেখলেন যে নরকের ওয়েটিং রুমে কিন্তু সেই বাসের সিটেই বসে আছেন। তবে কি বাস সমেত নরকে?

    ওরে মা গো! হায়! হায়! হায়! কত কাজ বাকি ছিলো গো। ছেলের বৌ দেখবেন। তারপর নাতি বা নাতনি। দেশের বাইরেও ঘোরবার শখ ছিল। এবার পুজোয় কেদারবদ্রী। টিকিট বুকিং করা রয়েছে। বউয়ের মানত রয়েছে। এহ্‌! এখন কী অবস্থা হবে গো! বউটা কেঁদে কেঁদে মরে যাবে গো! হায় মা কালী! মা জগদ্ধাত্রী! এ তুমি কী করলে মা? আচ্ছা, ক’টা বাজে? তারপর মনে পড়ল যে নরকে টাইমের কোনও ডাইমেনশন নেই। এখানে টাইমের ডাইমেনশনটাই বা কেমন কে জানে? ইসস! একেবারে নিস্তব্ধ। শুধু ঐ হরিবোল! হরিবোল গান। হায়! হায়! হায়! ইসস! ঘোড়া ঘোড়া করে শেষে বেঘোরে প্রাণটা চলে গেল! সাধের প্রাণ!

    আচ্ছা, মাথার ওপর ঐ ক্ষীণ পদশব্দ কার? যমদূতদের নাকি? হতে পারে? পা টিপে টিপে আসছে; যাচ্ছে। হয়তো অনেকদিন ধরে খালি পায়ে চলাফেরা করতে করতে কড়া পড়ে যাওয়াতে অমন আওয়াজ হচ্ছে!  

    এইসব ভাবতে ভাবতে ক্ষিদেও পাচ্ছিল ট্যাঁপামামার। পাঞ্জাবীর এক পকেটে বিস্কুট আর পানমশলা রাখা ছিল। অন্যটায় জলের বোতল ছিল। ভাবছিলেন, এখন তার অবস্থা বা ষ্টেটটা ঠিক কী? মরে যাওয়ার পর মানুষ আর ভূতের যে মাঝামাঝি অবস্থা, ঐ মিসিং লিঙ্কের মতো, তাতে কি কিছু খাওয়া যায়? সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে ট্যাঁপামামা। মাথা ঘুরছে। বুক ধড়ফড় করছে। অজ্ঞান হয়ে গেলেন ট্যাঁপামামা।

    তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য জ্ঞান ফিরে এলো। এবার নিজের সমস্ত ইচ্ছাশক্তি দিয়ে বাসের মেঝে থেকে উঠে ধরে ধরে আস্তে আস্তে করে নেমে এলেন। দূরে একটা যেন আলো মতো…। আলেয়া নয়তো? জ্বলছে আর হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে গেলে খানিকটা। দেখলেন একটা ঢাউস গেট আর পেছনে ফিরে দেখলেন বেশ কয়েকটা বাস দাঁড় করানো আছে। তারপর যখন বুঝলেন যে বেঁচে আছেন, তখন চিৎকার করে সেই ড্রয়ার আর গেঞ্জি পরা অবস্থায় দৌড়ে গেলেন গেটের দিকে। - আমি বেঁচে আছি! বেঁচে আছি! তারপর হোঁচট খেয়ে পড়লেন।  

    এরপরের ঘটনা খুব সংক্ষিপ্ত। ট্যাঁপামামাকে কাছাকাছি একটা নার্সিং হোমে ভর্তি করানো হয়েছিল। জানা গেছিল যে ঐ বাসের কন্ডাক্টার আর ড্রাইভার টিভিতে T20 খেলা দেখতে গিয়ে বাসটাকে ডিপোর মধ্যে রেখে দিয়ে চলে গেছিলেন। আর সেই ডিপো ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার। ওরা ভেবেছিল, আহা! লোকটা অমন সুন্দর ঘুমাচ্ছে। ওকে ডাকা ঠিক হবে না। পরে কেউ হয়ত ডিপোয় ঢুকে ট্যাঁপামামার সর্বস্ব নিয়ে চলে যায়।

    যাইহোক ভারত সেদিন ইডেনে জিতলেও ট্যাঁপামামা সুস্থ হওয়ার পর ঘোড়া নিয়ে আর টুঁ শব্দটি করেন নি।

    শুধু পাকড়াশীবাবু গাছতলায় আমাদেরকে বলেছিলেন – রেসের মাঠে ঘোড়া ঘোড়া করে অনেককে ফতুর হতে দেখেছি। তবে ট্যাঁপার ঘটনাটা রেয়ারেস্ট অফ দ্য রেয়ার। জাস্ট ভাবা যায় না!

      
     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • গপ্পো | ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১০০ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • রানা সরকার | ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৬739482
  • একজন বিখ্যাত বাঙালি লেখক, অগ্রজ, বিভিন্ন সময় নানা জায়গায় বলেছিলেন যে এখন আর তেমন কেঊ হাসির গল্প বা স্যাটায়ার লেখে না। ২০১৬/১৭, হুগলির গল্পমেলাতেও এই বক্তব্য শুনেছিলাম। যাই হোক, মজার গল্প লেখার চেষ্টা করি। একদম শুরু থেকেই। সেই ২০০৩/২০০৫। 
     
    যদি আমার গল্প ভালো লাগে, তাহলে প্রকাশিত উপন্যাসগুলো আপ্নারা দয়া করে পড়বেন।  কথা দিলাম, মজা পাবেন।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঝপাঝপ প্রতিক্রিয়া দিন