এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  দর্শন

  • রটন্তী কুমার এবং ভারতীয় ও পাশ্চাত্য দর্শনে প্রমাণ

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | দর্শন | ১৯ মার্চ ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • |
    ইতিহাসে একজন ভয়ানক রটন্তী কুমারের নাম হল গোয়েবেল্‌স। এইরকম ছোটো মেঝো সেজো ন সোনা রাঙা কুট্টি গোয়েবেল্‌স কিন্তু আপনি সমাজে দেখতে পাবেন। খালি তবলা বাজিয়ে চলেছে মানে অপপ্রচার করে চলেছে।

    আবার গণতন্ত্রে ‘প্রচার’ কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের অস্ত্র। প্রচারের জায়গায় অপপ্রচার হলে সেটা তখন ফাশিস্ততন্ত্রের দিকে চলতে শুরু করে।

    কুসুমকুমারী দাশ, জীবনানন্দের মায়ের ছড়ার লাইন দুটি একটু পাল্টে লিখতে ইচ্ছে করে –

    আমাদের দেশে রাজ্যে হবে সেই সেই নেতানেত্রী কবে
    কথায় আর প্রচারে বড় না হয়ে, কাজে কাজে বড় হবে।     

    নানান নিরপেক্ষ ওয়েব চ্যানেলের মাধ্যমে জানতে পারছি, কোনও কোনও দল কাজ করছে চারআনা, আর প্রচার করছে যে ৩২ আনা ৬৪ আনার কাজ হয়েছে। সমাজে যেন একটা অভ্যাস হয়ে গেছে – ‘যাকে দেখতে নারি তার চরণ বাঁকা’। মানে? বিরোধী দল বা পুরনো শাসক দল, তার ভালো কাজের খতিয়ান না দিয়ে খারাপ কাজগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরবো আর নিজের খারাপ কাজের খতিয়ান না দিয়ে ভালো ভালো কাজের খতিয়ানগুলো তুলে ধরবো। আবার বিরোধী দল বা পুরনো শাসক দলও কিন্তু ঠিক একই কান্ড ঘটাচ্ছেন।  

    এইরকম ধান্দাবাজির মানসিকতা সমাজে এলো কেমন করে, কেমন করেই বা বহমান থাকলো, সেটা নিশ্চয়ই সমাজ বিজ্ঞানীরা বলবেন বা আলোচনা করবেন, কিন্তু প্রতিটি রাজনৈতিক দল ধরে ধরে নিজের ভালো-মন্দ কাজের খতিয়ান সঙ্গে বিরোধীদের ভালমন্দ কাজের খতিয়ান যদি দিতেন তাহলে মানুষজন তাদের বিচার বিবেচনার দ্বারা মোটের ওপর একটা ভালো সিধান্ত নিতে পারতেন।

    অনেকে এটিকে গ্রামের প্রাচীন চন্ডীমন্ডপীয় প্রথার একটি কুফল বলে বর্ণিত করেন। সত্যজিৎ রায় গুপি গাইন বাঘা বাইন সিনেমায় দেখিয়ে গেছেন। গত ৫০-৬০ বছর ধরে পাড়ার মোড়ে মোড়েও নানান বিচারসভা বসে চলেছে। আগে পুকুরপাড়ে বসত।  

    আর মানুষ এমনিতেই ইতিহাস অসচেতন। ইতিহাস পড়েন না। আর্কাইভ তৈরি করা এবং তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা দস্তুর মতো যে জরুরী সেটাও মনে করেন না। ফলে …।

    অপরদিকে, আমাদের পূর্বপুরুষরা হেরোডেটাস, ট্যাসিটাসের মতো যেহেতু ‘বিশেষ্য ভিত্তিক শব্দার্থ বিধি’তে ইতিহাস লিখে রেখে যান নি, তাঁরা গেছেন ‘ক্রিয়া ভিত্তিক শব্দার্থ বিধি’তে – ফলে সেই বিধি নিয়ে কারা কারা কাজ করলেন, কতটুকু তাতে জানা গেল ইত্যাদি নিয়ে তাদের কোনও আগ্রহ জন্মায় নি বা কোনও হোলদোলও নেই।

    আমরা যারা যারা রবি চক্রবর্তী ও কলিম খানের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা ছাড়া বহুমানুষ, এমনকি বহু বাঙালি কিন্তু এখনও জানেন না। হ্যাঁ, তারা কাজটা শেষ করতে পারেন নি। হয়তো আগামী দিনে নতুন কেউ আবার তাঁদের অসমাপ্ত কাজটি শুরু করবেন এই আশা রাখি। প্রসঙ্গত, মাষ্টারমশাই রবিবাবু দেবীশ্বরী বিদ্যা নিকেতনের প্রাক্তন প্রধানা শিক্ষিকা হৈমন্তী দিদিভাইয়ের বাবা।         

    সাইকোলজি বা মনোবিদ্যায় আবার বলে বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ। এটি মস্তিষ্কের অপ্রয়োজনীয়, বেদনাদায়ক বা নেতিবাচক স্মৃতি মুছে ফেলে নতুন তথ্য সংরক্ষণের জায়গা করে দেয়। তবে অতিরিক্ত বিস্মৃতি রোগের লক্ষণ। যেমন অতিরিক্ত (রাজনৈতিক ও সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মভিত্তিক) ভক্তি চোরের লক্ষণ।

    আবার মানুষকে ভুলিয়ে রাখবার প্রকরণও সমাজে মজুত করা হয়েছে। ছলচাতুরী করে। নেতিবাচক ছলচাতুরী – নোটবন্দী, ভোটবন্দী, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ইত্যাদি। আর ইতিবাচক ছলচাতুরী – প্রাতিষ্ঠানিক নানান ধর্ম, ট্র্যাশ সিনেমা, ট্র্যাশ ক্রিকেট।

    আর এখন নিরিবিচ্ছিন্ন আত্মপ্রচারের জন্য রয়েছে ফেসবুক, ইন্সটা, রীল ইত্যাদি। সেখানে দেশের, রাজ্যের ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কর্মসংস্থান, রোগবালাই ইত্যাদি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা কোথায়?

    যাইহোক, প্রসঙ্গে ফিরে আসি -   

    তাহলে, প্রমাণ কাকে বলে সেটা এবার আমরা জানতে চেষ্টা করবো। এই যে আমরা যাকে তাকে এটা সেটা বলে দাগিয়ে দিই, দিতাম বা আগামীদিনেও দেবো – সে ইর্ষাকাতরতা থেকেই হোক, ক্ষমতা লিপ্সা বা ক্ষমতা হারাবার ভয়েই হোক, নোংরামির জন্য বা অন্য কিছুর জন্যই হোক – সেটা বুঝতে চেষ্টা করবো।

    এলাকায় এলাকায় এইরকম ইর্ষাকাতর দাঁত-নখ বের করা মানুষ কিন্তু আপনি দেখতে পাবেন। দেখতে পাবেন কেমন ভাবে ইর্ষা না পেলেও, গলায় আঙুল ঢুকিয়ে তারা ইর্ষা বমি করছেন।     
            
    এখন, প্রমা শব্দের অর্থ হল – প্র অর্থাৎ প্রকৃষ্ট বা উৎকৃষ্ট আর মা মানে জ্ঞান। তাহলে প্রমা মানে প্রকৃষ্ট জ্ঞান বা উৎকৃষ্ট জ্ঞান।

    এখন এই প্রমা আমরা লাভ করবো ঠিক কী করে?

    এই নিয়ে আমাদের ভারতীয় দর্শনে ৬ প্রকার উপায়ের কথা বলা আছে যার দ্বারা আমরা প্রমা লাভ করতে পারি। ভারতীয় দর্শনের যে স্কুলগুলো রয়েছে এবং তাঁরা তাঁরা কোন কোন উপায়ে প্রমা লাভ করাকে মেনে নিয়েছেন তার একটা টেবিল নিচে দিলাম –

    চার্বাক - প্রত্যক্ষ

    বৌদ্ধ - প্রত্যক্ষ অনুমান

    জৈন - প্রত্যক্ষ,অনুমান,,শব্দ (আগম)

    সাংখ্য - প্রত্যক্ষ ,অনুমান, শব্দ

    বৈশেষিক - প্রত্যক্ষ অনুমান

    ন্যায় - প্রত্যক্ষ, অনুমান,উপমান ,শব্দ

    মীমাংসা (প্রাভাকর) - প্রত্যক্ষ অনুমান উপমান ,শব্দ ,অর্থাপত্তি

    ভাট্ট মীমাংসা ও অদ্বৈত বেদান্ত - প্রত্যক্ষ, অনুমান উপমান, শব্দ, অর্থাপত্তি, অনুপলব্ধি

    ১) প্রত্যক্ষঃ বিষয়ের সঙ্গে ইন্দ্রিয়ের সন্নিকর্ষের ফলে বিষয়টির সম্পর্কে আমাদের যে অপরোক্ষ অনুভব অর্থাৎ সাক্ষাৎ জ্ঞান হয়, সেটিই হল প্রত্যক্ষ জ্ঞান।

    কিন্তু এখানে একটু সমস্যা আছে। অনেক সময় সামনে আমরা যা দেখি সেখানেও ধোঁকা থাকে। আবার যাদের মানসিক ভারসাম্য নেই তারা বা হ্যালুসিনেট যারা করেন – এইরকম অনেকেরই কিন্তু প্রত্যক্ষ জ্ঞান ভুল হতে পারে। AI দিয়ে এখন কতকিছু করা যাচ্ছে, তাই না? সেসব দেখে যদি সত্যি বলে ধরে নেন তাহলে কী হবে একবার ভেবে দেখেছেন?

    ২) অনুমানঃ নব্য ন্যায়ের প্রবক্তারা বলেন – অনুমান হল ব্যাপ্তিজ্ঞান অনুমিতির করণ। যে কোনও অনুমান প্রক্রিয়ায় ৩টি বিষয় থাকে – পক্ষ, হেতু ও সাধ্য।

    যে বিষয়ে অনুমান করা হয় – সাধ্য।
    যে জায়গাটিতে সাধ্য আছে বলে অনুমান করা হয় – পক্ষ।
    যার সাহায্যে পক্ষে সাধ্যের অনুমান করা হয় – হেতু।

    যেমন বিখ্যাত ও ব্যবহৃত উদাহরণ – পর্বত বহ্নিমান ধুমাৎ।

    পর্বতে ধোঁয়া দেখে বহ্নি বা আগুণের অনুমান করা। আর যেখানেই আপনি ধোঁয়া দেখবেন সেখানেই জানবেন যে আগুণ আছে। বা কোনও শক্তি আছে।

    এখানে পর্বত – পক্ষ, ধুম – হেতু আর বহ্নি – সাধ্য।

    এই অনুমানেও সমস্যা আছে। যেমন – ধরুন, আপনি যত কাক আজ পর্যন্ত দেখেছেন, সেগুলো কালো। তাহলে অফ্রিকায় থাকা কাকও কালো হবে এ আর আশ্চর্য কী। কিন্তু দুম করে আজ থেকে পঞ্চাশ বা দশ বছর পরে আপনি সাদা কাক উড়ে বেড়াতে দেখতেই পারেন। কি? তাহলে? কেমন করে? জেনেটিক মিউটেশন ঘটিয়ে।  

    তাহলে প্রত্যক্ষ আর অনুমানকে মিলিয়ে দেখতে হবে আর তার ফলেই মিলবে সঠিক প্রমা।

    বুঝলাম।

    কিন্তু যেখানে আমরা যেতে পারবো না? সামনা সামনি দেখতে পারবো না বা যা আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতায় ধরা পড়েনি, সেখানে প্রমাণ আর অনুমান তো খাটবে না, তাই না? তাহলে সেখানকার ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করবো কী করে?

    ৩) উপমান – তুলনীয় বস্তুটি, যার সঙ্গে অন্য কোনও প্রত্যক্ষ বস্তুর তুলনা করা হয়। অর্থাৎ, যার সঙ্গে উপমেয় বা উপস্থিত বস্তুটির মিল বা সাদৃশ্য খোঁজা হয়, তাকে উপমান বলে। যেমন – তুষারশুভ্র – তুষারের ন্যায় শুভ্র; এখানে তুষার হল উপমান। বা পুরুষসিংহ – সিংহের ন্যায় পুরুষ। এখানে সিংহ হল উপমান।

    আবার ধরুন কেউ আপনাকে তার দেখা সুপিরিয়ার হ্রদের বা কোনও অফবিট ট্যুরিষ্ট স্পটের বর্ণনা দিল। আপনার মনে সেই জায়গাটার একটা ছবি বা ধারণা তৈরি হল। এবার একদিন আপনি সেটি দেখতে গেলেন আর তখন সেই আগের ধারণার সঙ্গে প্রত্যক্ষ জ্ঞানটিকে মিলিয়ে দেখলেন। এতে নতুন যে জ্ঞান লাভ হল সেটিও উপমান।

    ৪) শব্দ – সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। কেন? পরে আসছি। এখন শব্দ প্রমাণ কাকে বলে? ‘আপ্ত বাক্যং শব্দ’ অর্থাৎ আপ্তবাক্যই হল শব্দ। এখন আবার আপ্ত্যবাক্য কাকে বলে? আপ্ত্যবাক্য মানে আপ্তপুরুষের বাক্য।

    ভারতীয় দর্শনে আপ্ত পুরুষের (পুরুষ বা মহিলা বা বৃহন্নলা যেই হোক না কেন) চারটি গুণ বা বৈশিষ্টের কথা বলা হয়েছে। আপ্ত পুরুষ বা যথার্থ বক্তা হবেন এমন ব্যক্তি যাঁর বাক্যে ভ্রম, প্রসঙ্গ, বিপ্রলিপ্সা ও করণাপাটব – এই ৪টি দোষ নেই।

    আপ্তব্যাক্তি ভ্রমমুক্ত। কারণ জ্ঞানের বিষয়টি যেরকম, সেই বিষয়টিকে সেইরকমভাবেই তিনি জানেন অর্থাৎ আপ্তব্যাক্তি যথার্থ জ্ঞানবান।

    কিন্তু যথার্থ জ্ঞানী ব্যাক্তি আবার আপ্ত নাও হতে পারেন। কারণ সেই জ্ঞানী ব্যাক্তি হয়তো অসাবধানতাবশতঃ যেটি জেনেছেন সেটিকে যথাযথভাবে ব্যাক্ত করতে পারলেন না। আপ্তব্যাক্তি কিন্তু অসাবধানতা দোষ মুক্ত। হয়তো ধান শুনতে কান শুনেছেন বা কী দেখতে কী দেখেছেন!  

    আবার তিনি বিপ্রলিপ্সা মুক্ত কারণ শ্রোতাকে প্রবঞ্চনা করার ইচ্ছা তার বিন্দুমাত্র নেই।

    কিন্তু এই ৩টি দোষ মুক্ত হলেই হবে না, তাকে ‘করণাপাটব’ দোষ মুক্ত হতে হবে। করণাপাটব = করণ + অপাটব। অপাটব মানে অপটুত্ব আর করণ মানে ইন্দ্রিয়। করণাপাটব কথাটির অর্থ দাঁড়ায়, যার ইন্দ্রিয়ের অপটুত্ব বা দুর্বলতা নেই।

    তাহলে এই ৪টি দোষ মুক্ত হলেই তিনি আপ্তব্যাক্তি বলে গণ্য হবেন আর তাদের বক্তব্যই হবে ধ্রুব সত্য!

    আবার নব্যন্যায় মতে আপ্তব্যাক্তির বাক্য বা উপদেশকে শব্দ প্রমাণ বলা হয় না। তাঁরা বলেন, বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের জ্ঞানই হল শব্দ প্রমাণ।             
     
    ৫) অর্থাপত্তি – কোনও প্রত্যক্ষ বা শ্রুত বিষয়ের অসঙ্গতি (ব্যাখ্যার অভাব) দূর করার জন্য যে অদৃশ্য কারণের বা অন্য বিষয়ের কল্পনা করা হয়, তাকেই অর্থাপত্তি প্রমাণ বলে।

    যেমন – মোটা বাপ্পাই দিনের বেলা খায় না। এখন এই অসঙ্গতি দূর করবার করতে আমরা কল্পনা করি যে সে রাতে এমন খায় যে আর দিনে খেতেও হয় না। আমরা এটা ভাবি না যে তার স্থুলতা কোনও রোগ হতে পারে। তাই না? আসলে আমরা যারা লিনিয়ার চিন্তা করি, তাঁরাই এই ভুলটা বেশিরভাগ করে থাকি।  

    অর্থাপত্তি ২ রকমের।

    দৃষ্ট অর্থাপত্তি – যা চাক্ষুষ দেখা গেছে তার ভিত্তিতে কল্পনা। যেমন – স্কুলে অক্ষয়কে আসতে না দেখে কেউ বলল যে ও বাড়িতে আছে। আরে, সেতো অন্য কোথাও ঘুরতেও যেতে পারে।
     
    শ্রুত অর্থাপত্তি – যা শোনা গেছে তার ভিত্তিতে কল্পনা। যেমন – কাউকে চোখে না দেখে তার সম্পর্কে অনেক কথা শুনে তাকে ভালো লেগে যাওয়া বা মন্দ লেগে যাওয়া। পরে হয়তো সেই ভুল ভাঙতেও পারে।

    অর্থাপত্তি মূলত কোনও অসঙ্গতি দূর করার জন্য একটি কাল্পনিক কিন্তু যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু ভুলভাল যূক্তি প্রয়োগ করলে সম্পর্ক সমাজ সংসারে গোলমাল বাঁধতে বাধ্য।

    ৬) অনুপলব্ধি – কোনও বস্তুর অভাব বা অনুপস্থিতই জানবার স্বতন্ত্র মাধ্যম। এটি প্রত্যক্ষ জ্ঞান নয়; বরং কোনও দৃশ্যমান স্থানে কোনও বস্তুর অনুপলদ্ধি বা না থাকবার অনুভুতির মাধ্যমে তার অভাব নিশ্চিন্ত করে।

    যেমন – একজন পড়ুয়ার কাছে একটিও বই না থাকা। বা আলোর অভাবে আমরা অনেক কিছু দেখতে পাই না। কিন্তু আলো থাকলেই দেখতে পাই। আবার খালি চোখে অনেক কিছু আমরা দেখতে পাই না, অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে পাই। সেইজন্য আমরা বলি –শূন্য তবু শূন্য নয়। যেমন আমরা মহাপুরুষদের অভাব অনুভব করি।

    এখন এই ৬টি প্রমাণের মধ্যে শব্দ প্রমাণ কেন ভয়ঙ্কর লিখেছিলাম?

    ধরুন কেউ এসে (পরিচিত বা রেফার্ড) আপনার কানে বিড়বিড় করে কিছু বললেন; জানিস তো, ‘টিউ টিউ ইউ ইউ ইউ’। কারুর সম্পর্কে নালিশ হতে পারে; কোনও অদ্ভুত ঘটনা হতে পারে; অনেক কিছুই হতে পারে। তখন কী করবেন আপনি? তার কথা বিশ্বাস করবেন?

    এই যে আপ্ত পুরুষের ক্ষেত্রে ৪টি গুণের কথা বলা আছে, সাধারণত আমরা আপ্ত পুরুষ বলতে সমাজে কাদের বুঝি? বা তাদের মধ্যে ঐ ৪টি গুণ আছে কীনা সেটা কি যাচাই করি?  

    মা, বাবা, গুরু, শিক্ষক শিক্ষিকা, রাজনীতিবিদ, ধর্মগুরু বা যাদের যাদের বিশ্বাস করি ইত্যাদি। ফলে তাদের কথা তৎক্ষণাৎ আমরা বিশ্বাস করে নি কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে তাঁরা মিথ্যা বলতে পারেন না।   
     
    কিন্তু তাদের বাক্যে ভ্রম, প্রসঙ্গ, বিপ্রলিপ্সা ও করণাপাটব – এই ৪টি দোষ নেই তো?

    আমরা কিন্তু যাচাই করি না।

    ভারতীয় দর্শনে একমাত্র ন্যায় দর্শন (প্রাচীন ও নব্য) – এঁরাই প্রমাণ নিয়ে দারুণ কাজ করেছেন। এখন, সেসব লিখতে বসলে, সংক্ষিপ্ত আকারেও, আরও একটা নতুন নিবন্ধ লিখতে হবে।

    (ক্রমশ)    
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    |
  • আলোচনা | ১৯ মার্চ ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন