এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  আলোচনা  দর্শন

  • রটন্তী কুমার এবং ভারতীয় ও পাশ্চাত্য দর্শনে প্রমাণ

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    আলোচনা | দর্শন | ১৩ মার্চ ২০২৬ | ২০ বার পঠিত
  • অনেকেই হয়তো পরশুরাম ওরফে রাজশেখর বসুর ‘রটন্তী কুমার’ গল্পটি পড়েছেন, কিন্তু স্মৃতিতে সেটি এখন আবছা। বা পড়েন নি।

    তাদেরকে একটু ধরিয়ে দিই।

    রটন্তী কালীপূজোর দিন জন্মলাভ হওয়াতে বাড়িতে নাম রেখেছিল রটন্তী কুমার; রটন্তী কুমার রায়চৌধুরি। ডাকনাম রটাই। কিন্তু সেই বালক যে সত্যি সত্যি পাড়ায় এখানে সেখানে নানান কথা রটিয়ে বেড়াবে সেটা অবশ্য তার বাড়ির লোক আন্দাজও করতে পারেন নি। শুধু তাই নয়, কোন্‌ কথা কোন্‌খানে বলা যায় না বা চক্ষুলজ্জা – কিছুই রটাইয়ের নেই। হাটের মাঝে দুমদাম কথা বললে যে অনেকের সমস্যা হতে পারে সেই জ্ঞানটি পর্যন্ত তার নেই। সে একজন সহজ সরল বালক মাত্র।

    দেখবেন, আপনাদের পাড়াতেও কিন্তু এইরকম রটন্তী কুমার বা রটন্তী কুমারীরা আছেন। এদের কাজই হল নানান শোনা কথা রটিয়ে বেড়ানো। এরা অবশ্য সেইসব কথা রটানোর আগে যাচাই করবার প্রয়োজন মনে করেন না। আসলে এদের কথা রটিয়েই সুখ। কেউ কেউ অবশ্য নিজেকে মাতব্বর প্রমাণ করবার জন্য এটা সেটা রটিয়ে বেড়ান। তার আশেপাশের মানুষজনদের দেখিয়ে বেড়ান, যে দেখো, আমি কত জানি; কত খোঁজখবর রাখি। হু হু বাওয়া! আমাকে তাই একটু সমঝে চলবেন।

    আবার কেউ কেউ কিন্তু কারুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য তার বা তাদের নামে এটা-সেটা রটিয়ে বেড়ান যাতে কোনওভাবে অপদস্ত করা যায় বা এলাকায় একটা নেগেটিভ ইমেজ খাড়া করা যায়। এরা একদম বিষাক্ত মাল।   

    এখন তো আবার কে কোন কথা সবচেয়ে আগে রটাবেন, সেই নিয়ে চলে এক সুতীব্র প্রতিযোগিতা।

    অনেকটা ঠিক খবর বা ফেক খবর ছড়ানো চ্যানেলের মতো; ব্রেকিং নিউজ। তাই না?  

    তা রটন্তী কুমার গল্পটি শুরু হচ্ছে এইভাবে – স্কুল ছুটির পর মানিক বললে, এই রটাই, আজ বিকেলে পাঁচটার সময় আমাদের বাড়ি আসবি। চায়ের নেমন্তন্ন।

    আসলে রটাইকে নেমন্তন্ন করতে মানিকের বাড়ির লোক বাধ্য হয়েছিলেন কারণ মানিকের দিদি, রুবিকে একজন দেখতে আসবেন। পাত্রটি মানিকের দাদা পান্নালাল ওরফে পানুর বন্ধু; নাম খগেন। খগেন দেখতে শুনতে ভালো আর টাকাও রয়েছে দেদার। আসবেন আবার মোটরগাড়ি করে।

    তা আজ থেকে প্রায় ৭০/৮০ বছর আগের কথা। তখনকার দিনে কারুর কাছে মোটর গাড়ি থাকবার মানেটা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই।

    এখন মানিকদের সেই রুবিদিদি বা তার বাড়ির লোকজন ভালো ভালো রান্না করতে পারেন না। পাড়ায় সবচেয়ে ভালো রান্না করে রটাইয়ের দিদি। নাম জয়ন্তীমঙ্গলা; তবে তারা তুলনায় গরীব। অনেকে মালমসলা, কাঁচা আনাজ, মাছ মাংস ইত্যাদি জয়ন্তীকে কিনে দিয়ে আসে, আর সে ফরমাইশ মতো কিছু টাকার বিনিময়ে বানিয়ে দেয়।

    মানিকরা কিন্তু বেশ বড়লোক। আর তাদের মতলবটা হল যে জয়ন্তীর তৈরি সেই লা-জবাব খানা ভদ্রলোককে খাইয়ে একেবারে প্রথম দিনই কুপোকাত করে ফেলা যাতে রুবির সঙ্গে বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায়। ‘পেটের ভিতর দিয়া মরমে পশিবার সুতীব্র চেষ্টা’।

    ভালো এবং সুস্বাদু খাবারের প্রতি লোভ সকলের আর বৌ যদি কাউকে রোজ রোজ মুখরোচক খাবার করে খাওয়াতে পারে, তবে বোধহয় স্বর্গসুখের ৩৩% পাওয়া যায়!

    যথারীতি সেদিন বিকেলে খাবার ভর্তি টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে রটাই হাজির হয়ে গেল মানিকের বাড়িতে।

    কি কি খাবার টিফিন ক্যারিয়ার করে নিয়ে এলো জানতে চাইছেন? তা হলে শুনুন। বাদামের নিমকি, মাছের কচুরি, মাংসের প্যাটি, পেস্তার বরফি আর ল্যাংড়া আমের ল্যাংচা।

    তারপর মোটরগাড়ি চেপে পাত্র, খগেন, এসে যে ঘরে বসল সেখানে রটাই সটান জায়গা করে নিল মানিকের পাশে।

    রুবির মা খগেনকে রুবির তৈরি হাতের সব কাজের জিনিসপত্র দেখাচ্ছিলেন। রুবি খানকতক গানও গাইল; তবে বেসুরো। ওর মা বললেন যে ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়াতে নাকি মেয়ের গলা খারাপ হয়ে গেছে, নয়তো রুবি এমনিতে দারুণ গায়। আবার, রুবির আঁকা দেখিয়ে বললেন যে অনেকে এতো শংসা করেছিল যে ওদের অবন ঠাকুরের কাছে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল; কিন্তু তিনি দুম করে মারা গেলেন। ফলে যাওয়া আর হল না।

    রুবির মায়ের শেষের বক্তব্যটি ছিল আরও ভয়াবহ। মেয়ে যেহেতু দেখতে সুন্দরী(!), তাই তাকে মিস ইন্ডিয়া কম্পিটিশনে পাঠাবার ইচ্ছে তাদের ছিল, কিন্তু রুবির বাবা সরকারি চাকরি করলেও সেকেলে মানুষ, তাই সেটাও আর হল না। সেইসব নিয়ে আক্ষেপ করছিলেন রুবির মা।

    মানিক আবার খগেনের হাতের ঘড়ি, ফাউন্টেন পেন, গাড়ির কথা জিজ্ঞাসা করছিল। রটাই সামান্য দু’একটা কথা বলতে শুরু করেছিল কী রুবি আর তার মা এমন চোখ বড় বড় করে তাকিয়েছিলেন তার দিকে যাতে সে বেফাঁস কিছু না বলে ফেলে, তাই রটাই চুপ করে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করল।

    রটাইয়ের আর কোনও কথা না বলে খালি ভাবছিল যে কখন খাবারগুলো আসবে আর সে খেয়েদেয়ে বিদেয় নেবে।        

    অবশেষে খাবার এল। খাবারগুলো খগেনকে চেয়েচিন্তে খেতে না দেখে রুবির মা বললেন, কই, কিছু তো খাচ্ছ না বাবা খগেন। বল না রে রুবি ভালো করে খেতে, এতো খেটে সব তৈরি করলি, না খেলে মেহনত সার্থক হবে কেন?

    খগেন তো মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে খাচ্ছিল আর খাবারের সুখ্যাতি করছিল। রুবির মা যেই আবার বললেন যে খাবারগুলো রুবি বানিয়েছে, রটাই আর স্থির থাকতে পারল না। মুখভর্তি কচুরি সমেত বলল, বা রে! ওসব খাবার তো আমার বড়দি করেছে।

    রুবির মা গর্জন করে উঠলেন। রুবির মুখের তিন স্তর গোলাপি আভা (যা সে খুব করে মেখে এসেছিল) বেগুনী হয়ে উঠল এবং সে রটাইকে তাড়িয়ে দিতে বলল।

    পানু ওকে টানতে টানতে অন্য ঘরে নিয়ে গেল আর পরে খালি টিফিন ক্যারিয়ার দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলল।

    এদিকে রটাইয়ের সেই কথাটা কিন্তু খগেনের কানে বাজতে থাকল ফলে পাত্রী দেখা উঠল মাথায়। যদিও রটাইয়ের কথা চাপা দেওয়ার জন্য অন্যেরা খগেনকে যারপরনাই খুশি করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে।

    খগেন রুবিদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গমনোদ্যত রটাইকে দেখতে পেয়ে তার গাড়িতে তুলে নিলেন। তারপর অনেক কথা জেনে নিলেন তার কাছ থেকে। আর রটাই তো বুঝতেই পারছেন। সে যা যা বলল তা হল – ওর বড় দিদির নাম জয়ন্তীমঙ্গলা। ছোটো দিদির নাম প্রত্যঙ্গিরা। দিদিদের বিয়ে হয় নি। আর আছে ভুঁদো নামের কুকুর আর রুপসী নামের বেড়াল। রুপসী নাকি ভদ্রমহিলা। ও খুব ভদ্র। খেতে না বললে খায় না আর রুপসীর বাচ্চা হবে।

    এবং আরও নানান কথা রটাই অনর্গল বলতে থাকল। বলল, রুবিদি শুধু আলু আর ডিম সেদ্ধ করতে পারে আর ছবিগুলো ওর আঁকা না। পাশের বাড়ির কেল্টের পিসিমার আঁকা। তার দিদিকে রুবিদির থেকেও দেখতে ভালো। তার বড়দি এম.এ. পাশ। ছোড়দি বি.এ. পাশ আর রুবিদি ৩ বার গাড্ডু মেরেছে। বড়দি আবার সেতারও বাজাতে পারে।

    ভাবুন, তখনকার দিনে বি.এ. ব্যাপারটাই ছিল বিরাট ব্যাপার, তায় জয়ন্তীমঙ্গলা আবার এম.এ. পাশ।
     
    সঙ্গে রটাই এও কথা দিল যে খগেন যদি তাদের বাড়িতে যান, তাহলে এর থেকেও আরও অনেক সুস্বাদু রান্না তার দিদি খগেনকে খাওয়াতে পারবে।

    পাঠক ভাবছেন, তারপর কী হল?

    যা হবার তাই হল, খগেন তার পরের রবিবার রটাইদের বাড়ি গেলেন। খাবার খেলেন। জয়ন্তীমঙ্গলাকে তার পছন্দ হল আর তারপর বেশ কিছুদিন আলাপ সালাপ করবার পর তাদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেল।

    তাহলে? ভাবছেন রটাই লাগানি ভাঙানি দিয়ে খগেনকে তার জামাইবাবু করে ফেলল। রটাই একে বাচ্চা ছেলে, তায় সহজ সরল। দোষের মধ্যে সে প্রচুর কথা বলে আর কোথায় কখন কী বলতে হয় বা হয় না, সে জ্ঞানগম্যি তার নেই।

    তবে সমাজ সংসারে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা কিন্তু খুব ঠাণ্ডা মাথায় সংসারে গোলমাল লাগানোর জন্য, সমাজে অশান্তি লাগানোর জন্য, লাগানি ভাঙানি করে সম্পর্ক ভাঙার জন্য নানান কথা রটিয়ে থাকেন। রটাই কিন্তু তেমন নয়।    

    এখন রটাইদের বাড়িতে খগেনের এতোবার যাতাযাতের ফলে পাড়ায় একটা নিন্দা রটল। মানিকের সঙ্গে আড়ি হয়ে গেল রটাইয়ের। রুবির মা বললেন, উঃ, কি বেহায়া গায়ে পড়া মেয়ে ওই জয়ন্তীটা – জানা নেই শোনা নেই একটা বজ্জাত বিশ্ব বকাট ছোকরা খগেন, তাকে ভেড়া বানালে গা! শুনে কেল্টের পিসি বললেন, মর! মর!

    কিন্তু পরে বিয়ের দিন সেই কেল্টের পিসিই আবার জয়ন্তীমঙ্গলার জন্য নিয়ে গেলেন উপহার!

    রুবির মায়ের বলা শব্দগুলো লক্ষ করুন পাঠক। যে খগেন ছিল তার প্রাণের ধন, যার সঙ্গে তিনি তার মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছিলেন নানান ছলচাতুরী করে, সেটা ভেস্তে যেতেই কেমন দাঁত-নখ বের করে ফেললেন।

    তবে এসব মামুলি ব্যাপার। এর থেকেও অনেক বড় বড় ছলচাতুরী আছে যা সাধারণ মানুষ ধরতেই পারেন না। ধরতেই পারেন না তাদের চেতনার অভাবে। যেখানে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি মানুষের প্রাণ, জীবন ও যাপন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়, যেখানে মানুষকে রাজনীতির নামে, ধর্মের নামে, জাতপাতের নামে, ভাষার নামে লড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, তাদের রুজিরুটির আয়োজন ধ্বংস করে ফেলা হয়, সেখানে রুবির মায়ের এই চাতুরি তো নেহাত নগণ্য।

    কি? ভুল লিখলাম কিছু?

    কেউ কেউ হয়ত বলবেন, যেহেতু বিষ অল্প হলেও বিষ, তাই চাতুরি অল্প বা নগণ্য হলেও চাতুরি। তাদেরকে সবিনয়ে বলি, অল্প বিষ কিন্তু আবার কোথাও কোথাও ওষুধ। কেমন করে?

    এই যে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের টিকা প্রস্তুত করেন, তার প্রণালীটি কী? তার প্রণালী হল, সেই ভাইরাসের এমন একটা অতি ক্ষুদ্রতম অংশ মানুষের দেহে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া, যাতে দেহে সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটা অ্যান্টি বডি তৈরি হয় যা অধিক পরিমাণে ভাইরাসের সংক্রমণ আটকে দেয় আর মানুষ সেই সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়।  

    এই অতি ক্ষুদ্রতম বস্তু দিয়ে কিন্তু আরও অনেক কিছু করা যায়, তবে এখানে সেসবের উল্লেখ অপ্রাসঙ্গিক।
     
    আর বিজ্ঞানের থেকেই এই জ্ঞান মানুষ অর্জন করেছে; কোনও ধর্মের থেকে নয় বা রাজনীতির থেকেও নয়।    

    আবার ধরুন, কিছু মানুষের (ক,খ,গ,ঘ প্রমূখ) ছলচাতুরী আটকাতে গিয়ে একজন মানুষ (ঙ) এমন সামান্য ছলচাতুরী করলেন যে শুধু ক,খ,গ,ঘ নয়, বাকিরাও ঙকে নিয়ে অস্তস্তি পড়ে গেলেন? টানাটানি শুরু করে দিলেন ঙকে নিয়ে। কেমন?  এইরকম ঘটনাও সমাজে আছে বা গল্পও আছে।

    কাউন্ট অফ মন্টিখ্রিস্টো এইরকমই একটি গল্প। বাংলায় জীবনমৃত্যু সিনেমা হয়েছিল। উত্তম-সুপ্রিয়া।  

    এখন সেক্ষেত্রে দেখা গেছে যে বাকিরা কিন্তু ক,খ,গ,ঘ দের ছলচাতুরী নিয়ে প্রশ্ন না তুলে ঙ- এর সামান্য চাতুরি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন! আজব, না? খুব অদ্ভুত। আমি এইসব আজব প্রাণীদের কিন্তু দেখেছি।

    এই হচ্ছে সমাজ। যে আগে ছলচাতুরী করছে তাকে প্রশ্ন না করে, তার কাছে জবাবদিহি না চেয়ে, যে যে সেই ছলচাতুরী কাউন্টার করতে ছলচাতুরী করছে, তাকে প্রশ্ন করা। আহা! ভন্ডামির চূড়ান্ত!  

    দীওয়ার সিনেমায় একটি বিখ্যাত সংলাপ আছে। মনে আছে? – যখন পুলিশ ইনস্পেকটর ভাই তার অন্যভাইকে চোর বলে বদনাম দিচ্ছে, তখন সেই অন্য ভাই বলছেন – ‘যাও, পেহেলে উস আদমীকা সাইন লে কর আও জিস্নে মেরা বাপ কো চোর কাঁহা থা…’

    সমাজ সংসার যাকে চোর হতে বাধ্য করেছে, কিছু মানুষ যাকে চোর হতে বাধ্য করেছে, রাষ্ট্র যাকে চোর হতে বাধ্য করেছে, বা চুরি না করেই চোর বলে বদনাম জুটেছে, বা আগেকার মানুষের চুরি থামানোর জন্য যে চুরি করেছে, বা তার বাপ ঠাকুর্দার চুরি বদনাম ঘোচানোর জন্য যাকে সেই চোরেদের ঘর থেকে (যারা আসলে চুরি করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছিল) চুরি করে জনসাধারণকে দেখাতে হয়েছে যে আসলে কারা চোর, তাকে বা তাদেরকে প্রশ্ন না করে একজন সামান্য চোরকে কে কি প্রশ্ন করা যায়?

    এই নিয়ে অনেক গল্প কিন্তু আছে আমাদের সাহিত্যে।
     
    তবে হ্যাঁ, যদি সম্মানজনক কাজের সুযোগ পাওয়ার পরও সে চুরি করে, তখন তা নিশ্চয়ই শাস্তিযোগ্য।
     
    এইভাবে সমাজ কয়েকজন বা একজনের ছলচাতুরী লুকিয়ে তার নিজের স্বার্থানুযায়ী অন্যের বা অন্যদের (হতে পারে বিরুদ্ধ পক্ষ) ছলচাতুরী নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আর সমাজে সমাজে একটা গোলমাল দিচ্ছে লাগিয়ে। এবং ক্রমশ সেই গোলমাল বাড়ছে। কারণ আগেকার গোলমাল, আগেকার সমস্যা না মিটিয়ে পরের সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করলে অনেক কিছু ঘেঁটে ‘ঘচ্চরি’ যায়।  

    সত্য সেলুকাস!! 

    এলাকায় এলাকায় নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ধরে রাখবার জন্য, রাজ্যে রাজ্যে বা দেশে দেশে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখবার জন্য যে যে রাজনৈতিক দল তাদের নানান ছলচাতুরী করে করে এবং সেসব প্রচার করে করে মানুষকে বোকা বানিয়ে রেখেছিলেন, রাখছেন বা আগামীদিনেও রাখবেন, তাদের সেই ছলচাতুরির দিকে প্রতিস্পর্ধী মানুষেরা আওয়াজ তুললেই কেমন করে তারা রিঅ্যাক্ট করেন আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছিলেন, দেখেছেন বা দেখবেন। (সব নেতা নিশ্চয়ই করেন না, তবে এমন নেতাদের সংখ্যা যেন ক্রমবর্ধমান)।

    আবার এলাকায় এলাকায় যারা সামান্যতম ছলচাতুরী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, কিন্তু রাষ্ট্রের বা প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ধর্মের, ন্যায় বিচারের ছলচাতুরী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না, বা তুলতে ভয় পান, তাদের জন্য আমার করুণা হয়। এরা আবার সাতে-পাঁচেও থাকেন না। গা বাঁচিয়ে যদ্দিন চলা যায় আর কী!  

    আসলে তারা বুঝতে পারছেন না যে রাষ্ট্রের বা প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ধর্মের, ন্যায় বিচারের ছলচাতুরী নিয়ে প্রশ্ন না তুলে শুধু নিজের না, তাদের সন্তানদের জন্য বিষবৎ পৃথিবী রেখে যাচ্ছেন।

    এই যে গল্পটি বললাম, কেন বললাম?

    বললাম কারণ রটাই আগ বাড়িয়ে অনেক কথা খগেনকে বললেও খগেন কিন্তু সেটা যাচাই করে নিল। যাচাই করে নিল যে রটাই যা যা বলেছে তা সত্যি কী না।

    তাহলে কোন খবরটাকে আপনি সত্য বলে জানবেন? আর কোনটাকেই বা নয়? কোনটি আসলে প্রমাণ। প্রমাণ কাকে বলে? আর সেই প্রমাণ নিয়ে কী কী আলোচনা, ব্যাখ্যা হয়েছে, তাই নিয়ে এবার লেখবার চেষ্টা করবো সংক্ষিপ্ত কিছু পরিচ্ছেদ।   

    (ক্রমশ)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • আলোচনা | ১৩ মার্চ ২০২৬ | ২০ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    সাডেন ওয়াক - c
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। মন শক্ত করে প্রতিক্রিয়া দিন