এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • সাইনবোর্ড

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    ১৫ জুন ২০২৬ | ৮৪ বার পঠিত
  • একটু আগে দেখলাম, তৃণমূলের কুড়িজন সাংসদ এনসিপিআইতে যোগ দিচ্ছেন। দলটা কার্যত সাইনবোর্ড সর্বস্ব। বিজেপি এঁদের নিলনা। তৃণমূল টিকবে কিনা জানিনা, কিন্তু কোনো বিজেপি-বিরোধী দলে এঁরা ফিরতে পারবেন না। তাহলে গেলেন কেন? তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ সাফ-সাফ রহস্যটা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "যেসব সাংসদ সই করেননি, তাঁদের কীভাবে চাপ দেওয়া হয়। বাড়ির ভেতরে বিজেপির কর্মীরা হাজির হয়ে বসে ছিল। আর পুলিশ বাইরে থেকে পাহারা দিচ্ছিল। তাঁদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে। অনেকেই ভয় পেয়েছেন ... বাপি হালদারের বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি কাঁপছিলেন। তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচিত একজন তরুণ সাংসদ ... মিতালী বাগেরও বাড়ি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।"

    সোজা কথায়, না গিয়ে উপায় ছিলনা। বাড়ি ভাঙচুর, পরিবারকে হুমকি, এইসব সোজা পন্থার কারণে। এই অভিযোগের সত্য-মিথ্যা তো দূরে বসে যাচাই করা যাবেনা, কিন্তু একটা কথা ঠিক, যে, অন্য যেকোনো পার্টির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ এলে হুলুস্থুলু পড়ে যেত গোদি মিডিয়ায়, কিন্তু এই ক্ষেত্রে, খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। তবে চারদিকে গণরোষ, গণপিটুনি, গ্রেপ্তার এবং ডিম-কালচার চালু হয়েছে, আর সেটাকে যেভাবে গৌরবান্বিত করে দেখানো হচ্ছে, তাতে এসব না হবার কিছু নেই। আর ভাঙছে শুধু তৃণমূলই না। ভেঙেছে আপ। ভেঙেছে এনসিপি, শিবসেনা। এখন উদ্ধব গোষ্ঠীও আবার ভাঙছে।

    এসব খুব প্রাকৃতিক নিয়মে হচ্ছে বলে মনে হয়না। সত্যি কথা, নির্বাচিত নেতাদের কাছ থেকে আমরা সাহস আশা করি। এও সত্যি, অনেকেই দল বদলেছেন স্রেফ ধান্দার কারণে। কেউ কেউ স্রেফ এসেছিলেন গ্ল্যামার দেখাতে, আদর্শের তো বালাই নেইই, রাজনীতি বস্তুটা কী তাই জানেননা। এঁরা এবং এঁদের যাঁরা প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন, তাঁরা সব্বাইই নানা মাত্রায় দায়ী। কিন্তু তার পরেও, দোষটা স্রেফ তাঁদের ঘাড়ে চাপালে, ডাকাতির দায় গেরস্তর ঘাড়ে চাপানোর মতো হয়ে যাবে। সত্যিই তো, তাঁরা সাংসদ হয়েছিলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে তো নাম লেখাননি। তাছাড়া, নিজের ঝুঁকি তাও একরকম ভাবে নেওয়া যায়, কিন্তু পরিবার? খুব, খুবই কঠিন। তো, ওঁদের দোষ দেবার সঙ্গে-সঙ্গে হরতনকে হরতনও বলাটা উচিত। যে, আর ফ্যাসিবাদ-ফ্যাসিবাদ খেলা হচ্ছেনা, জ্যান্ত দৈত্য কিন্তু গিলে খাবার জন্য একদম সামনে হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে।

    পুঃ এই নিয়ে রাহুল গান্ধি ইন্ডিয়া জোটের সাংবাদিক বৈঠকে একটা লম্বা বক্তৃতা দিয়েছেন। সেটাও সবার কাছে সহজবোধ্য কারণেই পৌঁছয়নি। কিন্তু যাওয়া দরকার। এত লিখে উঠতে পারছিনা, কিন্তু তার অনুবাদটাও দেবার চেষ্টা করব পরে।




    ছবি এবং ক্যাপশনগুলো ভালো করে দেখে নিন। যদি কেউ ভুলে গিয়ে থাকেন তো মনে করিয়ে দিই, যাঁকে দেখছেন, তাঁর নাম পুষ্পা নয়। ইনি ফলতার জাহাঙ্গীর খান। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার একজন প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি। তাঁকে কান ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হচ্ছে, সেটা করা হচ্ছে রীতিমতো পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে। তারপর শাসক দলের নেতারা প্রচন্ড উৎসাহ নিয়ে সমাজমাধ্যমে সেসব ভিডিও শেয়ার করছেন। আর বঙ্গ মিডিয়া জুড়ে পুরোটার উদযাপন চলছে। যেন কী দুর্ধর্ষ জিনিস। এবং একবর নয়, পুরোটা হয়েই চলেছে, এই নিয়ে বোধহয় তৃতীয়বার হল।

    বলাবাহুল্য, জাহাঙ্গীর কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কেউ জানেনা। সেটা অবশ্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকও। এমনিতেই সবাই জানে, সিরিয়াল কিলার হলেও এই জিনিস করা যায়না। হাইকোর্টও শুনেছিলাম সেরকমই বলেছেন। যে কোনো সভ্য দেশেই করা যায়না। কিন্তু তাতে কী। ওসব সভ্যতা-টভ্যতা এখন স্থগিত রাখা আছে। আপাতত গণরোষ চলছে। বরং বর্বরতার অবাধ উদযাপন দেখুন। গণতন্ত্রকে কত সহজে লাটে তুলে দেওয়া যায়, সবকটা স্তম্ভের একসঙ্গে শ্রাদ্ধ করা যায়, তার নির্লজ্জ বিজ্ঞাপন দেখুন।

    আমাদের চারদিকে প্রচুর লোকজন আছেন, যাঁরা শিক্ষিত, সচেতন বলে পরিচয় দেন-টেন, কাউকে এসব নিয়ে মুখ খুলতে দেখবেন না। কেউ কেউ বরং এসে মিন-মিন করে বলবেন, এসব এর আগে হয়নি? পরিষ্কার বলা যাক, সত্যিই হয়েছিল, সব জমানাতেই এক-আধটা হয়, কিন্তু বুক-বাজিয়ে নির্লজ্জের মতো যা-করছি-বেশ-করছি-আবার-করব কখনও দেখিনি। এর আগে যা হয়েছে, এক, এই মাত্রার ধারেকাছেও না। দুই, সেগুলো পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী করেনি। তিন, এক-আধটা হলেই, আপনি-আমি সোচ্চারে চিৎকার করেছি। চার, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ প্রশাসনের মুন্ডু না চিবিয়ে এসব উদযাপন করছে, কখনও দেখেছেন? শুধু তাই না, এই ক্যাপশন যাঁরা বানিয়েছেন, যাঁরা সগর্বে এই ভিডিও প্রচার করছেন, দুর্ধর্ষ কাজ বলে, সেই গোদী মিডিয়ার কর্মচারীরাই তো নিজেদের এখনও সাংবাদিক বলেই পরিচয় দিচ্ছেন। কোনো লজ্জা ছাড়াই। উলঙ্গ রাজার গপ্পো পড়েছি, কিন্তু এই আশ্চর্য জিনিস এর আগে আমি অন্তত নিজের চোখে দেখিনি। এখন দেখছি। আপনারাও দেখুন। চক্ষু সার্থক করুন। শাসক দলের রাজ্য সভাপতি টিভিতে অনেক কিছু বলেছিলেন, মাঝে-মধ্যে মিলিয়ে মিশিয়ে দেখবেন, ভালো লাগবে।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। পড়তে পড়তে প্রতিক্রিয়া দিন