এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  সমোস্কিতি

  • নব্য উদারবাদ

    সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়
    সমোস্কিতি | ১৯ মে ২০২৬ | ৩৩২ বার পঠিত

  • চারদিকে ভাঙচুর চলছে, আর শাইনিং মধ্যবিত্ত হাত-তুলে নাচছে। মহিলাদের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভকে সম্পূর্ণ এডিট করে টিভিতে দেখানো হচ্ছে স্রেফ আইন-শৃঙ্খলা-সমস্যা বলে, বীর ইনফ্লুয়েন্সাররা বলছেন আইন এখন সম্পূর্ণ লিঙ্গনিরপেক্ষ, যে যাকে খুশি ঠ্যাঙানো যেতে পারে, লিঙ্গ-টিঙ্গ দেখার দরকার নেই। পান-থেকে-চুন-খসলেই গর্জে ওঠা দুর্ধর্ষ নারীবাদী-প্রগতিশীলদের কণ্ঠস্বর আর শোনা যাচ্ছেনা, বরং শাইনিং জনতা আবারও লাফাচ্ছে, 'ওদের' কী দারুণ দিচ্ছে।

    এ জিনিস হবারই ছিল। নব্বইয়ের দশকে যখন উদারীকরণ শুরু হল, সত্যি কথা বলতে কি একটা আস্ত প্রজন্মের মধ্যবিত্তকে কর্মসংস্থান জুগিয়েছিল কর্পোরেট, বিশেষ করে আইটি। তার আগের প্রজন্ম করত সরকারি চাকরি, সেসব উঠে যেতে বসে নব্বইয়েই। তার জায়গা নেয় আইটি। আমরা অনেকেই তাতে কুলিগিরি করে বেশ রসেবশে ছিলাম দীর্ঘদিন। ওই একই সঙ্গে ভারতবর্ষে বাড়তে শুরু করে অর্থনৈতিক অসাম্য। উপরের ১% আর নিচের ৫০% র মধ্যের কুৎসিত ব্যবধান গত পনেরো বছরে যা বেড়েছে, তা ছিলনা মনমোহন জমানায়, কিন্তু শুরুটা ওখানেই। অতটা বাড়েনি, কারণ কিছু চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্সেস ছিল। যেমন ১০০ দিনের কাজ চালু হয় সেই সময়ই। কিন্তু ওই একই সময়ে এইসব ভরতুকি মার্কা বাজে জিনিসের বিরুদ্ধে শাইনিং মধ্যবিত্তের একটা আপত্তি শুরু হয়। তার আগে পর্যন্ত তারাও রেশন তুলত, কেরোসিন নিত, গ্যাসের দাম বাড়লে উৎকণ্ঠিত হত, কিন্তু উপরের ৫%এর হঠাৎ আয়বৃদ্ধি, ওসবকে অদরকারি মনে করতে শেখায়। এবং ওই একই সময়ে আস্তে আস্তে উপর তলার ৫% অ্যাসপিরেশনকে মোটামুটি সমাজের জনমত বলে চালানো শুরু হয়।

    পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে বুদ্ধবাবুর জমানায়। তার আগে পর্যন্ত জ্যোতিবাবু একটা স্থিতাবস্থা বজায় রেখে চলতেন। বুদ্ধবাবুর সময় শাইনিং মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন গোটা বাংলার শাসনযন্ত্রটাই দখল করে ফেলে। সেইসময় থেকেই শোনা যেতে শুরু করে, বাংলার ভালো-ভালো ব্রেনগুলো কেন বেঙ্গালুরু চলে যাবে। সত্যিই চলে যাওয়াটা ভালো না, বাংলায় শিল্প থাকা উচিত ছিল। কিন্তু কেন নেই, তার তো কিছু ইতিহাস-ভূগোল আছে, ওগুলো ঠিক অর্থনীতির নিয়মে হয়নি। বাংলার ক্ষেত্রে বলতে গেলে সেই দেশভাগ থেকে শুরু করে বঞ্চনা ইত্যাদির বাদ্য বাজাতে হয়, যেগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কিন্তু অত ধৈর্য কারো ছিলনা, কাজেই বাংলায় শিল্পায়নের বন্যার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই শাইনিংরা, তখন বুদ্ধবাবুর পিছনে ছিলেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এঁদের কোনো রাজনীতি ছিলনা, এঁরা স্টার্ট-আপ, লিডারশিপ, মার্কেট ইকনমি এইসব নানা বুলিতে বিশ্বাস করতেন। ফলে পরবর্তীতে সম্পূর্ণ ডান একটা সরকার এসে যাওয়ায় এঁদের শিবির বদলে ফেলতে কিছুই অসুবিধে হয়নি। মজা হল, ফ্রি মার্কেট বলে যাকে দাবী করা হয়, সে কখনও ছিলই না, কিন্তু সেটা এখনকার বিষয় না।

    এবার, এই উদারীকরণের অনিবার্য ফল ছিল নিচের তলার ৫০%কে আরও নিচে ঠেলা। পশ্চিমবঙ্গে, যেটা হয়, সেটা হল কার্যত এই উদারীকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটা বিদ্রোহ। যে ঢেউয়ের মাথায় চড়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যি কথা বলতে কি, সেই অবস্থান থেকে ওই সরকার ১৫ বছরে সরে আসেনি। এস-ই-জেড হয়নি, গায়ের-জোরে জমি-দখল হয়নি, পুলিশ গুলি চালায়নি, এবং জনকল্যাণমূলক অজস্র প্রকল্প এসেছে। দেউচা-পাচামি আর তাজপুর বন্দর খানিকটা সরে আসা, কিন্তু সেটা খুব বড় সমস্যা হয়নি। এই সরকারের সমস্যা ছিল, শাসক দল। সেই দলের বেশিরভাগ অংশটারই কোনো ধারণা ছিলনা, জনতার ১১ সালের রায়টা কী। প্রচুর লুম্পেন ছিল দলে, সে সব দলেই থাকে, কিন্তু ধরে রাখার মতো কোনো আদর্শ বা বন্ধন কিছুই ছিলনা। এবং ২০০৬ সালেও এদের কোনো ধারণা ছিলনা, যে, পাঁচ বছর পরে তারা ক্ষমতায় আদৌ আসতে পারে। ফলে পুরোটাই হয়ে যায় একটা অর্থকরী ধান্দা। দোকান-বসানো কোনো বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নয়, ওটা স্রেফ হপ্তা আদায়ের ফিকির। একই ভাবে মাঝারি শিল্প প্রচুর এলেও আড়কাঠিরা লোক ধরে আনত সেই গোবলয় থেকেই। মধ্যবিত্তের চাকরি দিতেও আদায় হত পয়সা। এতে করে জনকল্যাণগুলো মিথ্যে হয়ে যায়না, কিন্তু এগুলোও মিথ্যে না। এর মধ্যে এসে যায় নতুন কেন্দ্রীয় সরকার। তারা ধীরে-সুস্থে পুরো মিডিয়াটাকেই কিনে ফেলে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয় 'সংগ্রাম'। সেখানে ওই ওয়েস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি কোনো দুর্নীতি করেনা, হাজার-হাজার কোটি টাকা মেরে দেওয়া কোনো দুর্নীতি না। এটাকে বলে বাদ দেবার রাজনীতি। বরং পুরোটাই পেশ করা হয় কর্পোরেট স্টাইলে। শাইনিং মধ্যবিত্ত মার্কেট ইকনমির আনন্দে নাচতে শুরু করে। হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান বলুন, গণতন্ত্র বলুন, ধর্মনিরপেক্ষতা, কোনোটারই কোনো কোনো মানে এদের কাছে নেই। আর তৃণমূল নামক বারো ভূতের ক্লাবের কাছে, এর কোনো উত্তর ছিলনা। এসআইআর থেকে গণনায় গোলমাল, লড়বে কি, তাদের ট্যাকটিকাল টিমটাই তো হাওয়া হয়ে গিয়েছিল ভয়ে বা ভক্তিতে।

    এখন এর পুরোটাই চরমে পৌঁছেছে। মিডিয়া এই সরকার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক খবর দেবেনা। মধ্যবিত্ত বেশ হয়েছে বলে লাফাবে কিছুদিন। যতদিন না নিজেরা বাঁশ খাচ্ছে। নিচের তলায় লোকে চেঁচাবে। সেই ক্ষোভ সংগঠিত করার লোক পাওয়া কঠিন। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশটাই নেই। এখন যদি আরজিকর কাণ্ড হত, তো নিশ্চিন্ত থাকুন, শুরুতেই ঠেঙিয়ে সব বার করে দেওয়া হত। উন্নাও-হাথরাস প্যাটার্ন অনুযায়ী রত্না দেবনাথের জেলে থাকার কথা। আর টিভিতে এসব কিছু দেখাতই না। ফলে এখন চাপ-চাপ ক্ষোভ বিচ্ছিন্ন ভাবে বেরোবে এবং ধামাচাপা দেওয়া হবে। ১৯৬৬ তে বামপন্থীরা বা ২০০৭-৮ এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফর্মা দেখিয়েছিলেন, কিংবা জরুরি অবস্থায় জয়প্রকাশ নারায়ণ, তার দুগুণ মতো কিছু কেউ করতে পারলে ক্ষোভ সংগঠিত হবে, এবং এই সরকারের গদি ওল্টাতেও পারে। আর সংগঠিত না করতে পারলে কী হবে? মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বহুদিন আগেই 'ওরা কেড়ে খেলনা কেন' এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেছেন।


    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • সমোস্কিতি | ১৯ মে ২০২৬ | ৩৩২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৯ মে ২০২৬ ০৯:৫৩740705
  • "পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে বুদ্ধবাবুর জমানায়। তার আগে পর্যন্ত জ্যোতিবাবু একটা স্থিতাবস্থা বজায় রেখে চলতেন। বুদ্ধবাবুর সময় শাইনিং মধ্যবিত্তের অ্যাসপিরেশন গোটা বাংলার শাসনযন্ত্রটাই দখল করে ফেলে। সেইসময় থেকেই শোনা যেতে শুরু করে, বাংলার ভালো-ভালো ব্রেনগুলো কেন বেঙ্গালুরু চলে যাবে। সত্যিই চলে যাওয়াটা ভালো না, বাংলায় শিল্প থাকা উচিত ছিল। কিন্তু কেন নেই, তার তো কিছু ইতিহাস-ভূগোল আছে, ওগুলো ঠিক অর্থনীতির নিয়মে হয়নি। "
     
    এখানে, আমার মতে, ইতিহাস ভুগোল ছাড়াও আরেকটা ইম্পর্ট্যান্ট ফ্যাক্টর হলো সিটুর মিলিট্যান্ট ট্রেড ইউনিয়নিজম, যা জ্যোতি বসু অনুমোদন করতেন। ঐ ট্রেড ইউনিয়নিজমের ফলে পব থেকে ভালোমতো ক্যাপিটাল ফ্লাইট হয়েছিল, আর পবতে ওয়ার্ক কালচারও ইন জেনারাল একদম বসে গেছিল। চলছি না চলবে না, আর মানছি না মানবো নার রাজ্য হয়ে গেছিল। এটা বুদ্ধবাবু কিছুটা পাল্টাতে চেয়েছিলেন, আর সিটুর ওপরেও নিয়ন্ত্রন আনতে চেয়েছিলেন।
     
    "পশ্চিমবঙ্গে, যেটা হয়, সেটা হল কার্যত এই উদারীকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে একটা বিদ্রোহ। যে ঢেউয়ের মাথায় চড়ে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
     
    এটা, আমার মতে, ২০০% ভুল। পবতে যেটা হয় সেটা হলো মমতা বহুকাল ধরেই সিপিএমের বিরোধিতা করছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুরে হঠাত করে উনি ইস্যু পেয়ে যান। আর সিঙ্গুরে কারা যেন ওনার সাথে মিলে মিডিয়া ম্যানেজ করতে সাহায্য করতে শুরু করেন, সব নাম মনে নেই, তবে অনুরাধা তলোয়ার না কে একজন নাট্যকর্মী হিসেব কষে দেখিয়ে দেন যে গাড়ি কারখানার জন্য নাকি ছশো একরের বেশী জমি দরকার হয়না। এইসব উদ্ভট পোজিশানগুলো আর জি করের সময়েও বোধায় অ্যাপ্লাই করা হয়েছিল, অর্থাত কারখানাটা ভেস্তে দেওয়ার জন্য যা কিছু করা, যাতে ভোটে তার প্রভাব পড়ে। তার ফলে বিদ্রোহ টিদ্রোহ কিছুই হয়নি, মমতার বিরোধিতা আর বুদ্ধবাবুর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ব্যর্থতার ফলে ইস্যু তৈরি হয়েছিল, আর তিনোরা ক্ষমতায় এসেছিল।
     
    "মিডিয়া এই সরকার সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক খবর দেবেনা। মধ্যবিত্ত বেশ হয়েছে বলে লাফাবে কিছুদিন। যতদিন না নিজেরা বাঁশ খাচ্ছে। নিচের তলায় লোকে চেঁচাবে। সেই ক্ষোভ সংগঠিত করার লোক পাওয়া কঠিন। কারণ গণতান্ত্রিক পরিবেশটাই নেই। এখন যদি আরজিকর কাণ্ড হত, তো নিশ্চিন্ত থাকুন, শুরুতেই ঠেঙিয়ে সব বার করে দেওয়া হত। উন্নাও-হাথরাস প্যাটার্ন অনুযায়ী রত্না দেবনাথের জেলে থাকার কথা। "
     
    একদম একমত।
  • dc | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৯ মে ২০২৬ ১০:০০740706
  • আচ্ছা ডিসক্লেমার দিয়ে দি, কারন এ হলো ডিসক্লেমারময় সময় :-)
     
    আমি পুরোপুরি মনমোহন সিং এর ইকোনমিক রিফর্মস সমর্থন করি, ফ্রি মার্কেট সমর্থন করি, আর হেভি ইন্ডাস্ট্রি বা লার্জ স্কেল ইনভেস্টমেন্ট সমর্থন করি। পবতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট হলে ভালো হতো বলে মনে হয়। বাট উই হ্যাভ মিসড দ্যাট বাস, বা, জন টুল্ড এর কথা ধার করে, দ্যাট ইজ স্পিল্ট মিল্ক, আন্ডার দ্য ব্রিজ।
  • জনৈক ভুক্তভোগী | 119.*.*.* | ১৯ মে ২০২৬ ১২:১২740707
  • এবারের নির্বাচনের সমসাময়িক দিনগুলোতে আমি কলকাতায় ছিলাম। আমি নানান মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। এনাদের মধ‍্যে অটোচালক, ওলা/উবের/যাত্রীসাথী ড্রাইভার. ডাক্তার, উকিল, ধরুন বেশকম ভোটের আগে শ' পাঁচেক লোকের সঙ্গে গল্প করতে গিয়ে বুঝেছি যে লোকে তৃণমূলের তোলাবাজি আর স্থানীয় স্তরে গুণ্ডামীতে বিরক্ত হয়ে উঠেছিল।
     
    আমি কলকাতার যে এলাকায় থাকি সেখানে বিজেপির স্বপন বাবুর সাধারণ ভাবে জেতার কথাই নয়, কারণ ভদ্রলোকের পাড়া বাদ দিলে রাসবিহারী অঞ্চল বস্তি অধ‍্যুুষিত এবং সেখানে ত্রিধারার দেবাদার একচ্ছত্র রাজত্ব। সেখানে সে হারল তো।
     
    দেবা sitting MLA। দেবা, আর তার চেলাচামুণ্ডাদের কাজের মধ‍্যে ছিল লোকের বাড়ি দখল করা, কোথাও বাড়ি উঠতে দেখলে উৎপাত করা, এবং যাচ্ছেতাই রকমের গুণ্ডামী। এর পরেও লোকটি কাউন্সিলর হয়ে থেকে যাবে, দেখা যাক আদৌ সে শুধরোয় কিনা। তার ধনসম্পত্তি কিভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছে, তল্লাটে লোকে জানে, কিন্তু এমন তার বস্তির "ভোট ব‍্যাঙ্ক", তাকে হারায় কার সাধ‍্য। তা সেও তো হারল। কেন?
     
    এ যেমন একজনের কাহিনি লিখলাম, আপনি সৈকতবাবু যদি কলকাতায় থাকতেন স্পষ্ট বুঝতেন মানুষের জমা বিক্ষোভের আগুনে তৃণমূল দগ্ধ হয়েছে। জনরোষ যতটা বিজেপিকে সমর্থন করেছে, তার চেয়ে ঢের বেশী বিরক্ত হয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবং যেহেতু কোন তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি যে কোন কারণেই হোক পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি আরেসেস জিতেছে। এর কুফল আগামী পাঁচ বছর বা ততোধিক সময় ধরে বাংলায় ভুগতে হবে।
     
    এই অবস্থায় একটি স্পষ্ট বিরোধীপক্ষ তৈরীর আশু প্রয়োজন, যাদের অবস্থান হওয়া চাই বিজেপি আরেসেসের তো বটেই, সর্ব স্তরে ধর্ম নিয়ে বজ্জাতির বিপক্ষে। কিন্তু তার কোন লক্ষণ দেখছি না। অপরদিকে এবারে কলকাতায় যে রকম পুজো আচ্চার ঘটা দেখলাম, বাঙালী মধ‍্যবিত্তের মুখে যে পরিমাণ হিন্দি শুনলাম, মশাই "বাপের জন্মে" দেখিনি।
     
    ১% বাদ দিন, নীচের ৫০% যে স্তরে নেমেছে, সেখান থেকে বাঙালীর সাবেক বামপন্থী রাজনৈতিক চরিত্রায়ণ এবং রাজনীতি সচেতনতার পুনরুজ্জীবন বেশ দুরূহ বলে মনে হয়। তবে চেষ্টা করতে হবে যাতে ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে অন্তত তরুণ প্রজন্মকে সরিয়ে আনা যায়, এবং তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার পুনর্নির্মাণ। সে কাজ মমতা কে দিয়ে হবে বলে মনে হয় না।
  • . | ১৯ মে ২০২৬ ১৫:৪১740713
  • তিন নম্বর পয়েন্টটার জন্য সিআইটি রোডে না গিয়ে ভাটিয়ালিএর পাতা দেখে নিলেই চলবে। ঃ-)
  • দীপ | 2402:*:*:*:*:*:*:* | ১৯ মে ২০২৬ ১৬:১৮740714
  • সত্যকথা লিখলে অনেকের খুব সমস্যা হয়!
  • Bratin Das | ১৯ মে ২০২৬ ১৬:২৭740715
  • সেই ২০১১ র মতো অবস্থা
    যেই আসুক এনারা যান
  • . | ১৯ মে ২০২৬ ১৬:৩২740716
  • বেসিক্যালি গুণ্ডা কন্ট্রোল করাটা যার কাজ ছিলো, তার আমলে হাজার হাজার ডক্টর হাজরার মতো অসংখ্য গুণ্ডা লালিত পালিত হয়েছে। এদের দিয়েই ক্ষমতায় টিকে ছিলো এদের রাণী। এখন ছাতার ঘায়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। গুন্ডা কট্রোলার তো ডাক দিয়েছে সবরকম টুকরে টুকরে গ্যাংদের। মনে হয় আলাদা দেশ তৈরি করার স্বপ্ন এখনও টুটে যায় নি। মহিলাটি ক্ষমতার লোভে দেশ টুকরো করতেও পেছপা নয়।
  • dc | 106.*.*.* | ১৯ মে ২০২৬ ১৭:০৩740717
  • জনৈক ভুক্তভোগীর পোস্ট পড়ে সেই পুরানো কথাটাই আবার মনে পড়লোঃ হিস্টরি রিপিটস ইটসেল্ফ, ফার্স্ট অ্যাস এ ট্র‌্যাজেডি অ্যান্ড দেন অ্যাজ এ ফার্স :-)
     
    ২০১১ তে মানুষ নাকি সিপিএমের তোলাবাজি, প্রোমোটারিতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনোদের ভোট দিয়েছিল (যদিও এটা আমার শোনা কথা)। সেই তোলাবাজি তো কমলোই না, উল্টে আরও বেড়ে গেল, কারন দিদির করাপশানের কথা ২০১১র আগে থেকেই জানা ছিল। আর এবার তিনোদের বদলে মানুষ ভোট দিল আরও বড়ো তোলাবাজ বিশ্বগরু আর শাহ স্যারকে। এর থেকে বড়ো ফার্স কি আর কিছু হতে পারে?
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। আলোচনা করতে মতামত দিন