
এই খবরটা মিডিয়াতে প্রায় কোত্থাও নেই, যে, সরশুনাতে একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্কুলছাত্রী মেয়েকে দুটি লোক, সঙ্গে একটি মেয়েও ছিল, গাড়িতে তুলে, মাদক দেওয়া চকলেট খাইয়ে নেশাগ্রস্ত করে, তারপর গণধর্ষণ করে। তারপর সেটার ভিডিও তুলে রেখে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেল করে। যেন কোথাও ফাঁস না হয়। মেয়েটি সত্যিই ভয় পেয়ে মাসখানেক চেপে রাখে, অভিযোগ দায়ের হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে।
খবরটা বেরিয়েছে হাতে গোণা দু-একটা ইংরিজি দৈনিকে ছোট্টো করে। গোদি মিডিয়ায় প্রায় কোত্থাও নেই। অথচ গত পাঁচ বছরের হিসেব নিলে, সারাক্ষণ এইটাই খবর হবার কথা ছিল। সন্দেশখালি বা আরজিকর ছেড়ে দিন। দুর্গাপুরের কলেজ বা কলকাতা ল কলেজের ঘটনা নিয়ে তো হইচই কিচ্ছু কম হয়নি। পানাগড়ে একটি মেয়ে মারা গেল দুর্ঘটনায়, মনে আছে? শোনা গিয়েছিল ইভটিজিং। সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের নারীনিরাপত্তা একদম চুরমার হয়ে ভেঙে পড়ল। রত্না দেবনাথ তথা “কাকিমা”, তখনও তিনি মুখ দেখাতেন না, চলে এলেন বাইট দিতে। দুই মায়ের কথা হল ফোনে, সেটাও ক্যামেরার সামনে। এই টিআরপির কারবার দেখে আমার গা গুলিয়ে উঠেছিল, সেটা লেখায়, অনেকেই খুব গালমন্দ করেছিলেন। যা হোক, দুদিন বাদে জানা গেল, ওটা আদৌ ইভটিজিং না। তখন আর কারো টিকি দেখা গেলনা, এখন যেমন যাচ্ছেনা। এখন টিভি চ্যানেলরা সুখে নিদ্রা গিয়েছে, আর রত্না দেবনাথ নবান্নের চোদ্দ তলায় উঠে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করছেন।
না, আমি মনে করিনা, মেয়েদের নিরাপত্তার ঘটনা নিয়ে হইচই করা ভুল। হওয়া উচিত, মিডিয়ারই করা উচিত। সরকারকে চেপে ধরাও উচিত। কিন্তু খালি এক জমানায় হট্টগোল হবে, আর অন্য জমানায় মুখে ছিপি এঁটে বসে থাকব, এটাকে তো সাংবাদিকতা বলেনা। অন্য কিছু বলে। আর হ্যাঁ, আমি এও মনে করিনা, একটা ঘটনাতেই রাজ্যের নারীনিরাপত্তার সামগ্রিক হাল বেহাল হয়ে গেল। আগের দুই জমানাতেও মনে করিনি, এবারও না। কিন্তু যাঁরা মনে করতেন, তাঁরা কোথায় উবে গেলেন, ভয়ে না ভক্তিতে, সেটা তাঁদেরই বলতে হবে। এই জমানায় তো কিছু নতুন জিনিস দেখছি। মিডিয়া সরকারের সুখ্যাতি করেই কুল পাচ্ছেনা। প্রতিবাদীদের কোথাও দেখা যাচ্ছেনা। বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ধরা-টরা হচ্ছে। সেগুলো যে আদৌ দুর্নীতি-বিষয়ক নয়, এই কথা বলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য খুবই অপ্রিয় হয়েছেন। মতপ্রকাশের জন্য টপাটপ গ্রেপ্তার হচ্ছে। এগুলো আগে দেখিনি। বলতে বাধ্য হচ্ছি, এরকম খুল্লমখুল্লা জিনিস যদি চলতে থাকে, তো সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা এবং নারীনিরাপত্তা উভয়েই গোল্লায় যাবে। যাঁরা নাচছেন, তাঁরাও রেহাই পাবেন না। ফলপ্রকাশের পর একজন নাচছেন, তারপর দোকান-ভাঙা পড়ায় কিংবা গো-নিষেধাজ্ঞা চালু হওয়ায় কাঁদছেন, এরকম 'বিফোর'-'আফটার' কিছু ভিডিও তো বাজারে ভাইরাল। 'শিক্ষিত' লোকেদেরও দুদিন বাদে একই জিনিস করতে না হয়, দেখবেন।