এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • লা পত্নী ভ্যানতাড়াঃ পর্ব ১৯

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৭ বার পঠিত
  • 0 | | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯
    “কাগজটার নাম যেন কী বলেছিল?”, মিতুল হেসে বলে উঠল।

    “লা পত্নী ভ্যানতাড়া বলেই তো শুনেছিলাম…”। সিঞ্জিনি হেসে বলে উঠল।

    “নাহ্‌, আমি ভাবছিলাম যে অন্য কোনও আকাশ নেই তো? যে পুলিসে কাজ করে। আর মহিলাও কাজ করে পুলিশে? কারণ প্রণয় বলেছে যে সে দু দু’বার সেই একই কথাবার্তা লালবাজারে শুনেছে?”, প্রোফেসর আকাশ জিজ্ঞাসা করল।

    “আমিও না ঠিক বুঝতে পারছি না। ছেলেটা আইবিএস আছে বলেছিল। সঙ্গে আছে জীবনে ব্যার্থতার কাহিনী। এখন দুম করে লাইমলাইটে আসতে গিয়ে সে আবার এইসব করল না তো?”, ডাক্তার আকাশ সবার কাছে জানতে চাইল।

    “কিন্তু এখন তো ব্যাপারটা আর প্রণয়ের হ্যালুসিনেশন বা লাইমলাইটে আটকে নেই। জলজ্যান্ত দুজন মহিলা গায়েব। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কে জানে তারা আদৌ…”, বলেই মিতুল প্রোফেসরের দিকে তাকিয়ে তার কথা শেষ করল না।

    “তবে কেসটা কিন্তু অভিনব। আর ওই মেয়েটারও প্রশংসা করা দরকার যে প্রণয়কে সাহায্য করেছে। বৈদেহী না কী যেন নাম”, তানিয়া বলে উঠল।

    “আমার তো মনে হয় ওরা দুজন দুজনকে ভালবাসে”, সিঞ্জিনি তানিয়াকে বলল। “আহা! খুব ভালো মানাবে কিন্তু ওদের। আর আমি ওদের জন্য সব সময় ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করব”।

    “কিন্তু পুলিশ এইসব যদি প্রথম থেকেই জানত, তাহলে আমাদের ডেকে জেরা করল না কেন?”, প্রোফেসর সবার দিকে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলেন।

    “হয়তো পুলিশ জল মাপছিল বা তোমাদের ওপর নজর রাখছিল”, তানিয়া ফট করে উত্তর দিল।

    “কিন্তু আমি ভাবছি যে এই ক’দিন নাগাড়ে টিভিতে সোহিনী আর মৈথিলীর ছবি দেখানো সত্ত্বেও কেন যে পুলিশ ওদের ট্রেস করতে পারছে না কে জানে বাবা!”, মিতুল সবার দিকে তাকিয়ে বলল।

    “তাহলে কি এখানে অন্য কোনও খেলা আছে? শুনেছিলাম যে সোহিনীর নাকি একজন বয়ফ্রেন্ড আছে। ওই যে, যার বাড়িতে মৈথিলী সিন ক্রিয়েট করেছিল আর সোহিনী অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল…”, তানিয়া প্রোফেসর আকাশের দিকে বলল।

    “কে? সাগ্নিক?”, ডাক্তার আকাশ জিজ্ঞাসা করলেন। তানিয়া মাথা নাড়ল। আকাশ বলে চলল, “হতে পারে। যদি ধরে নেওয়া যায় যে সোহিনী সাগ্নিকের কাছেই আছে, তাহলে মৈথিলী আছেটা কোথায়?”

    “ওদিকে সেদিন শুনানিতেই তো আমরা জানতে পারলাম যে প্রণয় আকাশের থেকে নাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে…”

    “পুলিশ নিশ্চয়ই দেখবে…”

    “কিন্তু কেন নেবে?”

    “প্রণয়ের কথা মতো পরিচালক আকাশ তাকে নাকি চিত্রনাট্য লেখার জন্য অগ্রিম দিয়েছে”।

    “যত্তসব”।  

    ওরা ঠিক করল যে একবার দল বেঁধে সাগ্নিক আর প্রণয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবে।

    পরদিন সাগ্নিকের বাড়িতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না করেই ওরা হানা দিল। প্রাথমিক অপ্রস্তুত ভাবটা কাটিয়ে সাগ্নিক ভেতরে ডেকে নিল ওদের। চা পান করতে করতে কথা হচ্ছিল। সাগ্নিক বলল, “আকাশের হাতে খুন হতে পারার আশঙ্কা অবশ্য অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিল সোহিনী। কিন্তু প্রথমে আমি তেমন একটা আমল দিই নি। কিন্তু পরে যখন ওর বেড়ালটা মারা গেল, তখন…”

    “বেড়াল!”, ডাক্তার আকাশ বলে উঠল।

    “হ্যাঁ। আমার এখানে পার্টির আগে আমরা প্ল্যান করেছিলাম যে পার্টির রাতেই আকাশের অনুপস্থিতিতে ওর ঘর আলমারি সার্চ করবো। তা সেদিন রাতে ফিরতেই আকাশ সোহিনীকে প্রন গার্লিক রান্না করে খাওয়াতে চায়। সোহিনী বলে যে সে খাবে না, তার মাথা ধরেছে। তাতে আকাশ নিজে হাতে কফি করে তাতে কিছু মিশিয়ে নিয়ে আসে। এইবার ভয়ের চোটে সেই কফি সোহিনী ব্যালকনির বারান্দা দিয়ে ফেলে দেয় আর পরদিন সকালে আবিষ্কার করে যে সেই কফি খেয়ে বাড়ির বিড়ালটা মরে গেছে…”

    “এই ঘটনার কথা তো আগে শুনিনি…”।

    “আমি বলিনি। সামনের দিন বলবার ইচ্ছে আছে”।

    “আচ্ছা, সার্চ করে আকাশের ঘরে কী কী পেয়েছিলেন?”

    “একটা গুলি ভর্তি রিভলভার, খান কতক ব্রা আর প্যান্টি, বেশ দামী। আর একটা ডায়েরী…”

    “ডায়েরী?”, প্রোফেসর আকাশ জানতে চাইল।

    “হ্যাঁ। আর তাতে লেখা ‘To Mio Amore’. আর লেখাগুলো কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখা…”

    “To Mio Amore মানে ‘আমার ভালোবাসার প্রতি’। হুম। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগে আবার ডায়েরী কেন?”। ফটোগ্রাফার আকাশ প্রশ্ন করল।

    “কে জানে? যাই হোক এখান থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতেই পারে যে আকাশের নিশ্চয়ই কোনও এক্সট্রা ম্যারাইটাল…”

    “কিন্তু সোহিনীর কোনও খবর আপনার কাছে নেই বলছেন?”। ডাক্তার আকাশ সাগ্নিকের চোখের দিকে সোজা তাকাল।

    “বিশ্বাস না হয়, আমার অন্য ঘরগুলোতে গিয়ে দেখে আসুন। আর এই দেখুন আমার গত কয়েক দিনের কল লিস্ট”। সাগ্নিক ওর ফোনের পাসোয়ার্ড খুলে ওদের দেখাল। “দেখেছেন?”

    “তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়?”

    “আর আমার মৈথিলী?”। এবার প্রোফেসরের গলায় আশঙ্কা।

    “আপনি শ্বশুরবাড়ি বা অন্য আত্মীয়ের বাড়ি খোঁজ নিয়েছিলেন?”

    “হ্যাঁ”।

    “স্ট্রেঞ্জ!”

    “সব গেল কোথায়?”

    “অ্যাক্সিডেন্ট বা অন্য কিছু হয় নি তো?”

    “তাহলে পুলিশ এতক্ষণে খবর একটা ঠিক পেয়ে যেত”।

    “কিন্তু আমি ভাবছি…” ডাক্তার উঠে পায়চারী করল। বলল, “যে ডেবিট কার্ড ইউজ করলে না হয় জানা যেত আছে কোথায়?”। এসে বসল ডাক্তার। “না, মনে হচ্ছে হয় হাতে বেশ টাকা নিয়ে প্ল্যান করে লুকিয়েছে আর নয়তো…”

    “নয়তো কী?”, দুরু দুরু গলায় প্রোফেসর জিজ্ঞাসা করল।

    “কেউ গেম ওভার করে দিয়েছে”।

    “মানে খুন!” সাগ্নিক চিৎকার করে উঠল।

    “সবই কপাল…, আর কাকে যে প্রণয় সেদিন পার্কে বা লালবাজারে কথাবার্তা বলতে দেখেছিল, বোঝাই যাচ্ছে না…”

    “তাহলে একবার ছেলেটার সঙ্গে…”

    “হ্যাঁ হ্যাঁ। কালই চলুন সবাই”।

    কিন্তু ওরা চারজন গেলেও পুলিশ ওদেরকে প্রণয়ের সঙ্গে দেখা করতে দিল না। বলল যা বলার কোর্টে বলবেন।

    ওদিকে প্রথম শুনানির দিন থেকে বৈদেহী লক্ষ করছিল যে সে যেখানেই যাচ্ছে সেখানে একটা গাড়ি ওকে ফলো করছে। লালবাজার, সিটি সেসন কোর্ট বা এসএসকেএম। প্রণয়কে জানাতে সে বলল, “মনে হয় পুলিশ”।

    এদিকে প্রণয়ের উকিল প্রণয়ের কথা মতো সেই সার্জেন্টকে খুঁজে বের করল যার নাম রক্তিম শিট। উকিল তাকে অনুরোধ করল যে পরের হিয়ারিং এ সে যেন একবার অন্তত আসে।

    নির্দিষ্ট দিনে আবার কেস উঠল কোর্টে। প্রণয়ের কেসটা নিয়ে কাগজে আর টিভিতে প্রচার হওয়ার ফলে সেদিন দারুণ ভিড় জমে গেল। কেউ কেউ ধিক্কার জানালো আর একদল প্রণয়ের নামে জয়ধ্বনি করল।

    প্রথমে প্রণয়ের উকিল জজ সাহেবকে জানালো যে আজ তারা এমন একজন সাক্ষী আর আরেকটি রেকর্ডিং মহামান্য আদালতের সামনে পেশ করতে চায় যা এই কেসের ফয়সলা আজকেই করে দিতে পারে। জজ সাহেব তাদের অনুমতি দিলেন।

    প্রথমে উকিল সাহেব রক্তিম শীটকে আদালতের কাঠগড়ায় ডেকে সেদিনের সমস্ত কথা জজ সাহেবকে বলতে বললেন। রক্তিম সমস্ত কথা যথাযথ বলল। তারপর বলল যে সেদিন যাদেরকে প্রণয় পার্কে দেখেছিল তারা হলেন নিশান্ত ভুতোরিয়া আর তার গার্ল ফ্রেন্ড।

    জজ জানতে চাইলেন, “তাহলে এর মধ্যে আকাশ রায়চৌধুরি আর বি এম ডবলু গাড়ি এল কোথা থেকে?”
     
    কেউই এর সদুত্তর দিতে পারল না। বেগতিক দেখে প্রণয় তখন পার্কে শোনা কথাগুলো আবার কোর্টের সামনে বলল। শুনে সাগ্নিক একটু ভ্রু কোঁচকাল। সে রুমের বাইরে গিয়ে ভাবতে থাকল। পাবলিক প্রসিকিউটারও অবাক। ভাবছেন ব্যাপারটা হচ্ছেটা কী?

    এরপর প্রণয়ের উকিল আদালতের কাছে প্রণয় আর পরিচালক আকাশের সেই নিউটাউনের রেস্তরাঁর কথোপকথনের রেকর্ডিং শোনালো। শুনে তো পরিচালক আকাশের চোয়াল পড়ল ঝুলে। প্রণয়ের উকিল রেকর্ডিং শোনা শেষ হওয়ার পর বলল, “তাহলে এইটা আদালতের কাছে একদম স্পষ্ট যে আমার ক্লায়েন্ট প্রণয় নির্দোষ। যদি কেউ এখানে দোষী হন তাহলে তিনি হলেন পরিচালক আকাশ রায়চৌধুরী। যিনি এই রেকর্ডিং-এ প্রণয়কে প্ররোচিত করছেন যে ভাড়াটে গুন্ডা ফিট করে সোহিনীকে যেন এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়”।

    জজ সব শুনলেন। আর প্রণয়ের জামিন মঞ্জুর করে আবার এক মাস পরের একটা ডেট দিলেন। সঙ্গে বললেন যে পরিচালক আকাশকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তাকে জেরা করতে। আর পুলিশকে বললেন যে পরদিন কোর্টে যেন নিশান্ত ভুতোরিয়া এবং তার গার্ল ফ্রেন্ড হাজির থাকেন।

    জজের এই রায় শুনে উপস্থিত একজন বৃদ্ধা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন।

    ওদিকে সাগ্নিক হন্তদন্ত হয়ে ঢুকে প্রণয়ের উকিলকে কানে কানে কী একটা যেন বলল। শুনে প্রণয়ের উকিলের মুখের হাসি আরও চওড়া হল। তিনি সাগ্নিককে বললেন, “দাঁড়ান, আজ লাঞ্চ টাইমে একবার আপনাকে নিয়ে জজ সাহেবের কাছে দেখা করতে যাব”।

    বৈদেহী আর বিপাশা খুব খুশি কারণ প্রণয়ের জামিন হয়েছে। ওরা প্রণয়কে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেল।

    পরদিন তিনজন আকাশ দেখা করতে এল প্রণয়ের সঙ্গে। বৈদেহীকে ডেকে নিল প্রণয়।তারপর ওদের সমস্ত কিছু এক এক করে বলল। বলল, “আমার প্রথম সন্দেহ পড়ে আপনার দিকে…”, প্রণয় ফটোগ্রাফার আকাশের দিকে তাকাল, “আর পরিচালক মিঃ আকাশের দিকে”।

    ফটোগ্রাফার আকাশ একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেল। সেটা কাটাতে বৈদেহী বলল, “না, এখন আর ভাবনার কিছু নেই। আমরা জেনে গেছি যে পরিচালক আকাশই…”।

    “কিন্তু আদালতে আপনি বলেছিলেন যে লালবাজারে দু দুবার আপনি কথাগুলো শুনেছিলেন? এইটা কী করে হল?”, ডাক্তার আকাশ প্রণয়ের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।

    মাথা নিচু করল প্রণয়। “আমি ঠিক বলতে পারবো না। কিন্তু হলফ করে বলছি যে শুনেছি…”

    “তাহলে পরিচালক আকাশকে কি সন্দেহ করা যায়?”

    “কিন্তু মিঃ প্রণয় আমাদের যে রেকর্ডিংটা শুনিয়েছেন তাতে কিন্তু পরিচালক আকাশের ইন্টেনশনটা স্পষ্ট”। এবার বলে উঠল প্রোফেসর আকাশ।

    “আচ্ছা, যদি কিছু না মনে করেন…”, ডাক্তার আকাশ ইতস্তত করছিল।

    “আরে বলুন না…”, প্রণয় তাকে বলতে বলল।

    “দেখুন, আপনি আগেও বলেছেন, আমার চেম্বারে গিয়ে, যে আপনার IBS আছে। আপনি এইসব হ্যালুসিনেট করেননি তো? এখানে আপনার বইয়ের তাকে দেখছি বেশ কিছু রহস্য রোমাঞ্চ আর থ্রীলারের বইয়ে ঠাসা। সেগুলোর দ্বারা…”

    “না।আমি আবার বলছি যে তিন তিনবার আমি সেই কথাবার্তা শুনতে পেয়েছি…”

    “কিন্তু আমি ভাবছি যে আমার বউ গেল কোথায়?” প্রোফেসর জানতে চাইল। “আমি বা তানিয়া তো তাকে ভালো করে বুঝিয়েছিলাম”।

    “সেইই। ব্যাপারটা কিন্তু আমার কাছে অদ্ভুত লাগছে”। এর মধ্যে বিদিশা চা করে দিয়ে ব্যাঙ্কে বেরিয়ে গেল।চায়ে চুমুক দিয়ে ডাক্তার প্রণয়কে জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা, এই নিশান্ত ভুতোরিয়াকে কি আপনি আগে থাকতে চিনতেন?”

    “না”।

    “কিন্তু আমি ভাবছি মরতে ভুতোরিয়া ওই পার্কেই বা গেল কেন আর সেখানেই বা ব্যাপারটা তার গার্ল ফ্রেন্ডের সঙ্গে আলোচনা করল কেন? আর সেইই বা নিজেকে আকাশ রায়চৌধুরি বলে পরিচয় দিল কেন?”

    “আমিও সেটাই ভাবছি”। প্রোফেসর বলে উঠল। “আচ্ছা, নিশান্ত ভুতোরিয়ার গার্ল ফ্রেন্ড আবার সোহিনী বা আমার বউ নয়তো?”

    “কেন একথা বলছেন?”

    “কারণ ওরা হয়তো চাইছিল, মানে আসলে প্ল্যানটা ছিল এইরকম…”

    “আরে কীরকম মশাই…”

    “আহ, বলছি। প্ল্যানটা হল, হয় সোহিনীর বা মৈথিলীর – কোনও একজনের ভুতোরিয়ার সঙ্গে টরেটক্কা আছে। এখন তারা হয়তো পরিচালক আকাশ বা আপনাকে ফাঁসাতে চায়?”

    “হতে পারে। এই দিকটা তো ভেবে দেখিনি”। বৈদেহী বলে উঠল।

    “হয়তো দেখা যাবে যে যেদিন যেদিন মিঃ প্রণয় লালবাজারে ওই কথা গুলো আবার শুনেছিলেন সেদিন নিশান্ত আর এই দুজনের মধ্যে কেউ ওখানে ছিল। প্রণয় নিশান্তকে আকাশ ভেবে আমাদের ওপর নজর রাখছিল আর ওদিকে…”

    “কিন্তু সোহিনীর বিড়ালের মৃত্যু আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?”

    “খুব সিম্পল। সে নিজেই কফিতে বিষ মিশিয়ে তারপর সেই দোষ আকাশের ঘাড়ে ফেলতে চাইছিল আর তা না হলে বিড়ালটা অসুস্থ ছিল”।

    “কিন্তু মৈথিলী?”

    “হয়তো মৈথিলী ওদের ব্যাপারটা কোনোভাবে ধরে ফেলেছিল…”

    “আর তাই ওরা মৈথিলীকে…। ও মাই গড। ডাক্তারবাবু আপনি তো দেখছি একদম এরকুল পোয়ারো!”

    ওরা চলে গেলেন। ডাক্তারের কথাটা প্রোফেসরের মনে খচখচানি বাড়িয়ে দিল।

    (এরপর বাকী অংশ বইমেলার পর)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    0 | | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ | ১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯
  • ধারাবাহিক | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২৭ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। খারাপ-ভাল মতামত দিন