এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ধারাবাহিক  উপন্যাস

  • লা পত্নী ভ্যানতাড়াঃ পর্ব ১৩ 

    রানা সরকার লেখকের গ্রাহক হোন
    ধারাবাহিক | উপন্যাস | ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ৮৩ বার পঠিত
  • 0 | | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩
    প্রোফেসর আকাশও তৈরি হয়ে হাজির হয়েছে হোটেল ব্লু-মুনে। সেও আজকে সাগ্নিকের পার্টিতে নিমন্ত্রিত। মৈথিলী আসবে না জানাতে সে তানিয়াকে ফোন করেছিল। তানিয়া অবশ্য মৈথিলীর তার বাড়িতে আসা আর তাকে হুমকী দেওয়ার ব্যাপারটা আগেই জানিয়েছিল প্রোফেসর আকাশকে। সঙ্গে গেস্ট আনা যেতে পারে এই কথা ইনভিটিশন কার্ডে লেখা থাকাতে আকাশ তানিয়াকে আসতে বলে দিয়েছে। ভেবেছিল মৈথিলীও তার সঙ্গে আসবে আর পার্টিতে এসে আকাশ আর তানিয়া সম্পর্কে মৈথিলীর ভুল তারা দুজনে মিলে ভাঙিয়ে দেবে।
     
    কিন্তু প্রোফেসর আকাশ খেয়াল করে নি যে তাকে আসবে না জানালেও মৈথিলী তার পিছু পিছু একটা ভাড়া করা গাড়ি করে পড়েছিল বেরিয়ে।

    ডাক্তার আকাশ অবশ্য রুক্মিণীকে আনেনি কারণ লোকে আবার ওদের একসঙ্গে দেখলে বাড়িতে রিপোর্ট করতে পারে।

    পার্টি শুরু হলেই মদ্যপান আর নাচানাচি শুরু হল। ডিজে ভাড়া করা হয়েছিল সেখানে। ওদিকে প্ল্যান মাফিক সাগ্নিকের ফিট করা সেই গোয়েন্দা গিয়ে ঢুকল সোহিনীদের বাড়িতে। বিভিন্ন ঘরের নানান জায়গা আঁতিপাঁতি খুঁজে একটা লোডেড রিভলভার আর একটা ডায়েরী পেল সে।

    ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা আছে ‘To Mio Amore’. তারপরে একটা বেশ কিছু কবিতা। গোয়েন্দা পড়ে বুঝতে পারল যে সব কবিতাগুলো কোনও প্রণয়িনীকে উদ্দেশ্য করে লেখা আছে। সে তার মোবাইলের ক্যামেরায় কবিতাগুলোর ছবি নিল তুলে। সঙ্গে একটা ওয়ার্ডড্রোবের চোরাকুঠুরি থেকে পাওয়া গেল ভাঁজ করে রাখা দামী নাইট ড্রেস, ব্রা আর প্যান্টি। সঙ্গে মহিলাদের ব্যবহারের জন্য দুটো দামী ফরাসী পারফিউম।

    এদিকে পার্টিতে সাগ্নিক সোহিনীকে ইশারা করে জানিয়ে দিল যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আনন্দে সোহিনী এমন পান করতে শুরু করে দিল যে অত্যাধিক নাচতে গিয়ে মেঝেতে পড়ল মাথা ঘুরিয়ে। আকাশ বেশ অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তবে সব কিছু সামলে নিল সাগ্নিক। ডাক্তার আকাশ যেহেতু সেখানে উপস্থিত ছিল সে সোহিনীকে প্রাথমিক পরীক্ষা করে দেখল। বলল যে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্য এইরকম ঘটেছে। উনি সোহিনীকে বাথরুমে গিয়ে বমি করে আসতে বললেন।

    একজন ওকে ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে বাথরুমের দরজা খুলতে গিয়ে দেখে যে সেখানে মৈথিলী দাঁড়িয়ে আছে। ওরা দুজনে অবশ্য কেউই মৈথিলীকে চিনতে পারল না। কিন্তু ভয়ে উঠল চিৎকার করে কারণ মৈথিলীর হাতে ছিল একটা লোহার রড।

    পরিচালক, ডাক্তার ও প্রোফেসর আকাশ, সাগ্নিক সঙ্গে তানিয়া সমেত কয়েকজন ছুটে গেল সেদিকে। সেখানে মৈথিলীকে রড হাতে দেখে তানিয়া আর প্রোফেসর আকাশ তো একেবারে অবাক! তাদের মাথায় দেড় ইঞ্চি পেরেক। কিন্তু তাড়াতাড়ি সামাল দিল ওরা। প্রোফেসর আকাশ বলল, “আরে, পার্টিতে আসবার পথে দুম করে যে কোথায় নেমে গেল বুঝতে পারিনি…”

    “কোথা থেকে নামলেন?”, সাগ্নিক জানতে চাইল।

    “চলন্ত গাড়ি থেকে…”

    “চলন্ত গাড়ি! মাই গুডনেস!”

    “না। ওর অভিজ্ঞতা আছে…”।

    আরেকজন আবার বলল, “আমি কিন্তু ওকে পার্টিতে ঢুকতে দেখেছিলাম। কিন্তু ওর যে মাথায়…”

    “আমার মাথা ঠিক আছে। আমি এখানে খুনি ধরতে এসেছি…”। চিৎকার করে বলল মৈথিলী। সোহিনী ওদিকে বমি করছে।

    “খুনি!”, ডাক্তার আকাশ অবাক হল।

    সামাল দিল প্রোফেসর আকাশ। “আরে, তানিয়ার স্টুডিও থেকে ওর আঁকা আমার একটা ছবি কয়েকদিন আগে চুরি গেছে তো…”

    “তার সঙ্গে এই পার্টির সম্পর্ক কী? আর খুনের সম্পর্কই বা কী”

    “মৈথিলীর ধারণা হয়েছে যে সেই চোর পার্টিতে আসতে পারে…, আর তাকে নাকি খুন করতে পারে…”

    “মানে!”

    ইশারায় প্রোফেসর জানাল যে ওর বৌয়ের মাথায় ক্র্যাক আছে।

    “এই তো খুনি মানে চোর…”, বলে মৈথিলী তানিয়াকে দেখিয়ে চিৎকার করতে থাকল।

    “খুনি না চোর? কোনটা?” অন্য একজন জিজ্ঞাসা করল। বাকি আরেকজন বাজি ধরল। চোর হলে ১ টাকায় ৫ টাকা আর খুনি হলে ১ টাকায় ১০ টাকা। কে যেন এসে খানিকটা মদ ছিটিয়ে দিয়ে বলল, “বাল শান্তি!”। কেউ কেউ আবার ভিডিও রেকর্ডিং করতে গেছিল। সাগ্নিক তাদেরকে নিরস্ত করল।

    বাকিরা ভাবল সে কী করে সম্ভব। যে ছবি তানিয়া নিজে এঁকেছে সেই ছবি আবার সেইই চুরি করে কী করে। আর সেইবা কেন মৈথিলীকে খুন করতে যাবে? মনে হচ্ছে মহিলার মাথাটা একেবারে গেছে। প্রোফেসর বাকিদের আরও বলল যে তার বউয়ের ক্লস্টোফোবিয়া আছে; সঙ্গে তার প্যানিক অ্যাটাক হয়। আর তখন সে হাতে যা থাকে তা নিয়ে একে ওকে মারতে আসে। শুনে ভয়ে বাকিরা সরে গেল। ওদিকে সোহিনীর বমি করা গেছে থেমে। সে দুদ্দার করে ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে এল।

    পাশে আর কেউ নেই দেখে তানিয়া মৈথিলীকে সামলাল। “আরে, তুমি আকাশের সঙ্গেই তো আসতে পারতে। তাহলে ও আমাকে আর ডাকত না । ছিঃ ছিঃ। কী একটা সিন ক্রিয়েট করলে বলো তো?”

    “তোমার জন্য কি আমি একটুও শান্তিতে থাকতে পারবো না?”         

    রাগে হাতের রড সামনে ছুঁড়ে মারল মৈথিলী। এবার যেন ওর খানিকটা লজ্জা লাগছে। ভাবছে ইস, এইসব না করলেই ভালো হত মনে হয়। ডাক্তার আকাশ মৈথিলীকে অন্য ঘরে নিয়ে পরীক্ষা করল। যদিও ওর চোখে তেমন কোনও অস্বাভাবিকতা তিনি দেখতে পেলেন না।

    এদিকে এই দুটো ঘটনায় পার্টিতে নাচগান বন্ধ হয়ে গেছিল। লোকজন ফিসফিসিয়ে নানান কথা বলতে শুরু করে দিল। কেস জন্ডিস দেখে পরিচালক আকাশ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে সোহিনীকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। নেশাগ্রস্ত সোহিনীও না করতে পারল না।

    বেগতিক দেখে সাগ্নিক ফোন করল ওই গোয়েন্দাকে। ওদিকে গোয়েন্দার ফোন ছিল এরোপ্লেন মোডে। এইসব অপারেশনে এলে সে তার ফোন এরোপ্লেন মোডে করে রাখত যাতে টাওয়ার লোকেশন না ধরা যায়। বিরক্ত হয়ে সাগ্নিক একটা SMS করে ফোন পকেটে ঢুকিয়ে রাখল।

    পার্টি আবার চালু হল। যদিও প্রোফেসর আকাশও চলে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু ডাক্তার আকাশ আর সাগ্নিকের জোরাজুরিতে নিরস্ত হল। তানিয়া অন্য ঘরে গিয়ে মৈথিলীকে বোঝাতে থাকল।

    বাড়িতে আসবার সময় বাইরের হাওয়ায় আর গাড়িতে প্যাকেটে রাখা কমলালেবুর জুস খাওয়ার ফলে হুঁশ ফিরতে শুরু করল সোহিনীর। সঙ্গে ছিল আকাশের শাপশাপান্ত। রাগে গজগজ করতে করতে সে বলছিল যে এইরকম বেহেড মাতাল বউয়ের জন্য আজ তাকে সবার সামনে বেইজ্জত হতে হল। লজ্জায় তার মাথা কাটা যাচ্ছে। আগামীকাল কাগজে আর ইন্ডাস্ট্রিতে এই নিয়ে ঠিক ঢি ঢি পড়ে যাবে।

    কিন্তু বড় গেটের সামনে গাড়ি নিয়ে দাঁড়াতেই আকাশ দেখল যে বাড়ির সদর দরজা খোলা। ঘরে আলো জ্বলছে। ভাবল যে সর্বনাশ! কাজের লোকেদের ছুটি দেওয়া সত্ত্বেও তাদের কেউ কি চুরির উদ্দেশ্যে ঘরের তালাচাবি ভাঙল নাকি? অল্প নেশায় থাকা সোহিনী বুঝতে পারল যে সাগ্নিকের পাঠানো লোকটা এখনও ঘরেই রয়েছে। তার বুকের ভেতরটা ঢিপঢিপ করতে থাকল। ওদিকে গাড়ির শব্দে সচকিত হয়ে গোয়েন্দা প্রবরটি গিয়ে লুকালো ড্রয়িংরুমের একটা লম্বা পর্দার পেছনে।

    গেটের সামনে গাড়িটাকে রেখেই দুজনে হুড়মুড় করে ঢুকল এসে ঘরে। সোহিনী ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে লক্ষ করতে থাকল যে লোকটা কোথায় থাকতে পারে। ভাবতেই তার সমস্ত শরীর কাঁপছিল যে লোকটা যদি ধরা পড়ে তাহলে কী হবে? আকাশ এ ঘর সে ঘর খুঁজে দেখে আলমারি খুলে রিভলবারটা বের করে দেখল যে সেটাকে একটাও গুলি নেই। দেখেই অবাক হল সে। এই তো পার্টিতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত দেখে গেল যে আছে। রাগে গজগজ করে বলতে থাকল, “বাড়ির সমস্ত ঘরের দরজা আর আলমারি পর্যন্ত খুলেছে দেখছি। রিভলভারে গুলি পর্যন্ত নেই। তবে এইটা আছে”, বলে দেওয়ালে ঝোলানো দুটো তরোয়ালের মধ্যে একটা নামিয়ে হাওয়ায় সেটাকে খেলালো। “আজ শালার মুন্ডু না কেটেছি তো আমার নাম আকাশ রায়চৌধুরি নয়”।

    শুনে সোহিনী আর গোয়েন্দা লোকটা ভয় পেয়ে গেল। গোয়েন্দার গা দিয়ে ঘাম বেরোচ্ছে। সে ভাবছে, ইস, এইরকম ফ্যাসাদে আগে সে কখনও পড়েনি। শালা, ক্লায়েন্টের সময় জ্ঞান নেই। আরও এক-দেড় ঘন্টা পরে আসবার কথা।

    “সারাটা ঘর তছনছ করে আবার ফ্রিজ থেকে বের করে বিরিয়ানিও পর্যন্ত খেয়ে নিয়েছে দেখছি”।

    “মনে হয় চোর নয়, বুঝলে। ক্ষিদে পেয়েছিল তাই ঢুকে পড়েছে…”

    “জীবনে কোনোদিন এই ঘটনা ঘটে নি। ক্ষিদে পেলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাক আসা অবধি। শালা ঘরের তালা খুলে খাবার খাবে, এত সাহস? শালা বেরিয়ে আয় মাদারচোদ…”।

    গোয়েন্দা ফিসফিস করে নিজের মনে বলছে, “বিরিয়ানি আমি খাই নি। বাড়ির ছেলেটার জন্য নিয়েছি। খেয়েছি শুধু এক বোতল বিয়ার…”

    “কী হবে গো?” ন্যাকামো মেরে কথাটা সোহিনী বললেও এদিক সেদিক সেও চোখ চালাচ্ছে। “এই, আমার না মনে হয় সে নেই। চলে গেছে”।

    “কী করে বুঝলে?”

    “থাকলে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসত”।

    “রিভলভারের গুলিগুলো পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছে। তা সেগুলোও কি তার খাবারের মধ্যে পড়ে?”

    “হয়তো হজমি গুলি মনে করেছে…”

    “ক্যা!”

    “ও তুমি আবার কিনে নেবে হানি। এখন চলো তো শুতে যাই…”।

    “গেলে তুমি যাও। মদনাটাকে আজ পেলে টুকরো টুকরো করে ফেলতাম”। হাতের তরোয়ালটা আবার হাওয়ায় ঘোরাল আকাশ। তারপর বলল, “ওমা! আমি তো ভুলেই গেছিলাম সিসি ক্যামেরার কথা”।

    “তুমি রাগ করবে না তো?”

    “কেন?”

    “ওটা না ক’দিন ধরে খারাপ হয়ে আছে। তোমাকে বলতে ভুলে গেছি জানু…”

    “বাহ! বাহ! ঘরে কে ঢুকল বেরোলো তার জন্য তুমিই ওটা জেদ করে বসিয়েছিলে। আর এখন তুমিই বলছ…, বাহ! বাহ! আরে!…”। হঠাৎ আকাশের চোখ গেল লম্বা পর্দার দিকে। সে বলল, “পর্দার পেছনে কী যেন একটা নড়েচড়ে উঠল না?”

    সোহিনীও অবাক হয়ে দেখল যে পর্দার পেছনে একজোড়া বুট পরা পা। দেখেই ও প্রমাদ গুনল। লোকটাকে যদি আকাশ ধরে ফেলে তাহলে হাটে হাঁড়ি ভেঙে যাবে। এদিকে আকাশ তার ডানহাতে শক্ত করে তরোয়ালটা ধরে শিকারির মতো আস্তে আস্তে করে এগোচ্ছে।

    মুহুর্তের মধ্যে একটা কান্ড ঘটিয়ে ফেলল সোহিনী। খানিকটা টলতে টলতে গিয়ে ঘরের সুইচবোর্ডের ওপরে এমনভাবে গিয়ে পড়ল যে একটা ডিম লাইট ছাড়া বাকীগুলো গেল দপ করে নিভে। তারপর সে চিৎকার করে অজ্ঞান হওয়ার ভান করে পড়ে গেল কার্পেটের ওপর।

    আকাশের তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। একদিকে বউ আর অন্যদিকে চোর।

    আর এই পরিস্থিতিকে সুবর্ণ সুযোগ ভেবে নিয়ে গোয়েন্দাটি পর্দার পেছন থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে এল। তারপর বড় বড় লাফ মেরে আসবাবপত্রে ঠোক্কর খেয়ে সদর দরজা দিয়ে গেল পালিয়ে। শুধু পালাবার আগে আকাশের দিকে তার হাতে ধরে থাকা বিরিয়ানীর প্যাকেটটা ছুঁড়ে দিয়ে বলল, “নিন খান। ভারী তো এক বিরিয়ানি! তাও শালা বাসি!”।

    চোরটাকে ধরতে না পারার জন্য বিরক্তিতে গালি দিয়ে উঠল আকাশ। সুইচ অন করে সোহিনীর চোখে মুখে জল দিতেই সে উঠে বসে বলল, “চলে গেছে? যাক বাবা বাঁচা গেছে। ও যদি পিস্তল চালাতো…, তুমি তো তাহলে মরে যেতে সোনা…”

    “তুমি মরতে সুইচটা অফ করতে গেলে কেন?”

    “আমি টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেছিলাম গো”।

    “শিট। একে পার্টিতে ওইরকম অসভ্যতা করলে, ঘরে চোর ঢুকল ধরতে পারলাম না… উফ! আজ দিনটাই…, কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম…”

    “কিন্তু ওর কাছে যদি রিভলভার থাকত? আর সেটা যদি চালিয়ে দিত?”

    “আরে যাও তো। রিভলভার চালানো অতো সোজা না”, মুখ ভেংচে বলল আকাশ। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে গোটা ব্যাপারটা ভাবতে বসল। একদম শুরু থেকে। সোহিনীর তাকে বায়না করে পার্টিতে নিয়ে যাওয়া, কাজের লোকজনদের হাফ-ছুটি দিয়ে দেওয়া, ঘরে চোরের আগমন আর তারপর সোহিনী দাবি মতো সে টাল সামলাতে না পেরে সুইচ অফ করে ফেলা। ভাবতে ভাবতে চোখমুখ শক্ত হয়ে উঠল আকাশের। সে সোহিনীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “Oh! Fuck”.

    আর কথা না বাড়িয়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা এঁটে দিল সোহিনী।

    (ক্রমশ)
     
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
    0 | | | | | | | | | | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩
  • ধারাবাহিক | ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | ৮৩ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    বিজাপুর - %%
    আরও পড়ুন
    হামপি - %%
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • :|: | 2607:fb90:bd92:387:d1f3:4aac:73bc:***:*** | ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪৮736201
  • "সঙ্গে দুটো দামী ফরাসী মহিলাদের পারফিউম।"
    পারফিউম গুলি ফরাসী হতে পারে কিন্তু মনে হয় শুধুই ফরাসী মহিলাদের জন্য না। যেকোনও মহিলাই ব্যবহার করতে পারেন। তেমনটি হলে বাক্যটি দাঁড়াবে খুব সম্ভবত এই রকম --
    "সঙ্গে মহিলাদের দামী দুটো ফরাসী পারফিউম।"
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট প্রতিক্রিয়া দিন