এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  প্রবন্ধ

  • পড়াশুনো করে যে গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে? 

    Anirban M লেখকের গ্রাহক হোন
    প্রবন্ধ | ১১ মার্চ ২০২৬ | ৩৫ বার পঠিত
  • আগের লেখায় পশ্চিমবঙ্গের শ্রমের বাজার এবং সেখানে বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার লোকেদের গড় মাসিক আয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। মুল যে জায়গাটা দেখতে চাইছিলাম তা হল শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে জীবিকার বাজারে লাভ হয় কি না সেটা দেখা। যাঁরা লেখাটি পড়েন নি তাঁদের জন্য লেখাটির সংক্ষিপ্তসার দিয়ে দিই। আমি দেখেছিলাম, শিক্ষার মান বাড়লে আয় বাড়ে কিন্তু খুব বেশি কিছু না যদি না আপনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেন। তখন মাইনে বাড়ে অনেকটা। এছাড়া উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত লোকজন মূলতঃ কৃষিক্ষেত্রের বিভিন্ন লেশায় থাকেন। ডিপ্লোমা বা গ্র্যাজুয়েশন করলে কাজের মূল ক্ষেত্র হয় খুচরো ব্যবসা এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করলে চাকরি হয় শিক্ষাক্ষেত্র। সেই লেখাটি ছিল শুধু পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে। আর  এই লেখায় আমরা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ভারতের একটা তুলনামূলক আলোচনা করব। আমাদের তথ্যসূত্র একইঃ পিএলএফএস। এবং এখানেও পুরো ডেটার কাজটা করেছে ক্লড এআই।
    শুরুতে আমরা একটি সারণি দিই যেখান থেকে ভারত-পশ্চিমবঙ্গের একটা সার্বিক তুলনামূলক ছবি স্পষ্ট হবে।
     
    Table 1: Headline Labour Market Indicators — West Bengal vs All-India, PLFS 2023–24

    Source: PLFS 2023–24 microdata, survey-weighted estimates (Subsample_Multiplier). Age 15+, Usual Principal Status. ‘Rank’ is among 29 major states; 1st = best performance.
    এখান থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট -- প্রায় সব বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় গড়ের থেকে পিছিয়ে। ব্যতিক্রম শুধু বেকারত্বের হার এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট গড় (মিডিয়ান) মাসিক আয়। পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার কম এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট দের মাসিক আয় বেশি।  লেবার ফোর্স পার্টিসেপেশন রেট (LFPR) বা কাজের বাজারে যোগদানের হারে আবার নারী ও পুরুষের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। বাংলায় পুরুষদের LFPR ভারতীয় গড়ের থেকে বেশি, কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ভারতীয় গড়ের থেকে কম।
    কিন্তু আমাদের মূল প্রশ্ন হল, কতটা শিক্ষিত হলে কতটা আয় করা যায়। সেই প্রশ্নটায় এবার আসা যাক।
    Table 2: Education-Level Outcomes — West Bengal vs All-India, PLFS 2023–24 (Survey-Weighted)

    Source: PLFS 2023–24 microdata, survey-weighted estimates. Monthly wages exclude zero earners. Reg Sal % = share of workers in regular salaried employment.

    এখানে দেখুন নিরক্ষর থেকে গ্র্যাজুয়েট -- পশ্চিমবঙ্গে সবার মাসিক গড় আয় ভারতীয় গড়ের থেকে কম। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ফারাক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য। ভারতীয় গড় যেখানে ১৭০০০ টাকা, পশ্চিমবঙ্গের গড় সেখানে ১৪০০০ টাকা। কিন্তু পোস্ট গ্রাজুয়েটদের ক্ষেত্রে এই ফারাকটা উলটো। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের পোস্ট গ্রাজুয়েটরা গড়ে অন্য রাজ্যের থেকে মাসে প্রায় ৬০০০ টাকা বেশি রোজগার করেন। আরেকটা জিনিষও খেয়াল করুন। বেশিরভাগ শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্যই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নিয়মিত মাইনের চাকরিতে নিয়োজিত মানুষের শতাংশ বেশি (টেবিলের শেষ দুটি কলাম দেখুন)। একমাত্র ব্যাতিক্রম উচ্চমাধ্যমিক পাশকরা লোকজন। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নিয়মিত কর্মীর হার সর্বভারতীয় হারের থেকে কম। কিন্তু কেন এই ফারাক? এর উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে বিভিন্ন রাজ্যের মূল পেশার পার্থক্যের মধ্যে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে আরেকটি ছবিতে আমরা চোখ রাখব। পরবর্তী ছবিতে আমরা গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট আয়ের ভিত্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের একটি র‍্যাঙ্কিং উপস্থাপনা করব।
    প্রথমে চিত্র ১ এ দেখুন বিভিন্ন রাজ্যের গ্র্যাজুয়েটদের মাসিক আয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এটি ১৪০০০ টাকা এবং পশ্চিমবঙ্গে নিচের দিক থেকে চতুর্থ। তবে ভারতে যেগুলো শিল্পায়িত রাজ্য বলে পরিচিত সেখানেও যে গ্র্যাজুয়েটদের মাসিক আয় খুব্ বেশি তা নয় কিন্তু। যেমন মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং গুজরাটে এই আয় মাসিক ১৮০০০ টাকা এবং তামিলনাডুতে ১৯৫০০ টাকা। গ্র্যাজুয়েট আয়ের হিসেবে অনেক ওপরের দিকে আছে মূলত কিছু অরুণাচল, মিজোরামের মত কিছু উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য এবং লাদাখ, লাক্ষাদ্বীপ বা চন্ডীগড়ের মত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
     
     
    Figure 1: Graduate median wage for different states. Source: PLFS 2023


    Figure 2: Post Graduate median wage for different states. Source: 2023
    পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটদের মাসিক আয়ে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ ওপরের দিক থেকে ১৩ নম্বরে। গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আয়ের ফারাক আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য আমি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করার প্রিমিয়াম হিসেব করে পরের ছবিতে প্লট করলাম। প্রিমিয়ামের ফর্মূলা হল
         প্রিমিয়াম=(P-G)×100G
    যেখানে P হল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটদের মাসিক আয়, G হল  গ্র্যাজুয়েটদের মাসিক আয়। বিভিন্ন রাজ্যের জন্য এই প্রিমিয়ামের মান দেওয়া হল নিচে।

    Figure 3: Post Grad education premium for different states. Source PLFS 2023, Authors' calculations
    বোঝার সুবিধের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানটি খয়েরি রঙ্ দিয়ে আঁকলাম। ছবি থেকে এটা পরিষ্কার যে পশ্চিমবঙ্গে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করার রিটার্ন খুব বেশি – ১০০% এর বেশি, এবং এই হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম তিন-চারটি রাজ্যের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গে একজন গ্র্যাজুয়েশন করে যা রোজগার করবে (১৪০০০/মাস), পোস্টগ্র্যাজুয়েট করলে রোজগার করবে তার দ্বিগুণেরও বেশি (৩১০০০/মাস)। একই কথা কিন্তু গুজরাতের জন্য প্রযোজ্য নয়। সেখানে গ্রাজুয়েটরা রোজগার করছে ১৮০০০ টাকা/মাস যা পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করলে বেড়ে হবে ২২০০০ টাকা/মাস। মহারাষ্ট্রে অন্যদিকে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করলে মাসিক আয় বাড়ে ১৭০০০টাকা/মাস (১৮০০০ থেকে ৩৫০০০ টাকা প্রতি মাসে)। এই আলোচনাটা শেষ করার আগে আরেকবার আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব টেবিল ২ এর দিকে। শিক্ষাগত যোগ্যতা যত বাড়ে সেটা যেমন ঠিক, তেমনই বেকারত্বের হারও কিন্তু বাড়ে। মজা হল, কম শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের হার ভারতীয় গড়ের থেকে কম। কিন্তু গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে ছবিটা উলটো – পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের হার ভারতের থেকে বেশি। আমরা একবার দেখে নেব, বেকারত্বের হার এবং উচ্চশিক্ষিত আয়ের সম্পর্ক ভারতে কোথায় কেমন। সেটা বোঝার জন্য দুটো স্ক্যাটার প্লট করলাম। এই প্লটের যেকোন বিন্দু, বিভিন্ন রাজ্যের জন্য মাসিক আয় (গ্র্যাজুয়েট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট) েবং বেকারত্বের হারের কম্বিনেশনকে দেখায়।

    Figure 4 . Graduate median monthly wage (x-axis, Rs. thousand) vs graduate unemployment rate (y-axis, %) by state/UT. Point size proportional to log(graduate labour force). OLS trend line shown. Source: PLFS 2023–24, survey-weighted

    আমরা বোঝার সুবিধের জন্য ছবিটাকে চারটে কোয়াড্রেন্টে ভাগ করে ভাবি – উত্তর পূর্ব, উত্তর পশ্চিম, দক্ষিণ পূর্ব, দক্ষিণ পশ্চিম। উত্তর-পূর্বে আয় বেশি, কিন্তু বেকারত্বও বেশি। এই কোয়াড্রান্টে উত্তর-পূর্ব ভারতের মত কিছু রাজ্য আছে। যেমন মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ যেখানে বেকারত্বের হার এবং আয় দুইই খুব বেশি। কিন্তু এই সব জায়গার স্যাম্পল খুব ছোট। তাই েই ফলাফল নিয়ে একটু সংশয় থেকে যায়। অন্যদিকে দক্ষিণ পশ্চিম কোয়াড্রেন্টে বেকারত্ব কম, কিন্তু মাসিক আয়ও কম। পশ্চিমবঙ্গ গ্র্যাজুয়েট আয়ের হিসেবে এই কোয়াড্রেন্টে পড়ছে। বাকি রাজ্যগুলি বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এর থেকে সরলরৈখিক কোন সম্পর্ক ঠিক ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। ছবিতে অন্তত, প্যাটার্নটা কিছুটা বৃত্তাকারই বলা যায়। এবার আসা যাক বেকারত্বের হার এবং পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট আয়ের সম্পর্কে।


    Figure 5. Post-graduate median monthly wage (x-axis, Rs. thousand) vs post-graduate unemployment rate (y-axis, %) by state/UT. Asterisked labels (*) indicate states with small post-graduate samples; interpret with caution. Source: PLFS 2023–24, survey-weighted
    এটা তুলনায় একটু বেশি সরলরৈখিক যেটা  দুটি ছবির ফিটেড লাইন দেখলে বোঝা যাবে। যদিও মাসিক আয় ও বেকারত্বের হার যে খুব সরলরৈখিক তা বলা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ এখানে দক্ষিণ-পূর্ব কোয়াড্রান্টে রয়েছে। অর্থাৎ আয় বেশি, কিন্তু বেকারত্ব কম।
        এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, এই যে শিক্ষার সঙ্গে মাসিক আয়ের বাড়া বা না বাড়া (অথবা কাজ পাওয়া বা বেকার থাকা) সেটা কোন ধরনের কাজ থেকে আসছে? পেশা বা শিল্পের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতের থেকে আলাদা কিছু? এই প্রশ্নের একটা উত্তর পাওয়া যাবে যদি আমরা নিচের সারণীর দিকে তাকাই।  

    Table 3: Industry and Occupation by Education Level — West Bengal vs All-India, PLFS 2023–24

    Source: PLFS 2023–24 microdata, survey-weighted estimates. Modal = highest weighted share category. NIC-2008 corrected (zero-padding). NCO-2015 three-digit
    ওপরের সারণী থেকে একটা সাধারণ প্যাটার্ন পাওয়া যাচ্ছে। সারা ভারতে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত সবাই কৃষি বা তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোন পেশায় থাকে। পোস্ট-গ্রাজুয়েশনের পর লোকে শিক্ষাক্ষেত্রে চাকরি নেয়। পশ্চিমবঙ্গে এই প্যাটার্নটা প্রায় একই রকম। শুধু গ্র্যাজুয়েশনের পরে মূল পেশা হয়ে দাঁড়ায় খুচরো ব্যবসা। যদিও এই গ্রুপটি মোডাল অর্থাৎ, সব থেকে বেশি লোক এই ধরনের কাজ করে, কিন্তু খেয়াল করুন এখানে ১২.৯% লোক এই পেশায় কাজ করে। অন্য কোন একটি পেশায় তার থেকে কম লোক থাকলেও, প্রায় ৮৭% লোক অন্য অনেক পেশায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের আগে কৃষি এবং পোস্ট-গ্রাজুয়েশনের পরে শিক্ষাক্ষেত্রে চাকরি – এই প্যাটার্ন সারা ভারতের মত পশ্চিমবঙ্গেও আছে। কিন্তু তাহলে পশ্চিমবঙ্গে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট দের মাসিক আয় এত বেশি কেন? তার একটা কারণ সম্ভবত ভারতের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুল-কলেজ অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গে সরকারি মাইনেতে ডিএ কম হলেও, সরকারি চাকরি যেহেতু বেশি এবং সরকারি মাইনে বেসরকারি মাইনের থেকে বেশি, তাই গড় মাসিক আয়ও বেশি। আরেকটা সম্ভাবনা হল প্রাইভেট টিউশন – যার প্রচলন অন্য যেকোন রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি। আগ্রহী পাঠক পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুল এবং স্কুল শিক্ষায় টিউশন অন্য রাজ্যের থেকে বেশি -- এটা বোঝার জন্য ASER Report (https://www.pratham.org/programs/education/aser/) দেখতে পারেন।
    লেখা প্রায় শেষের দিকে। শেষ করার আগে বিভিন্ন শিক্ষাশ্রেণীর জন্য মাসিক আয়ের বিষয়টি নারী ও পুরুষের মধ্যে ভাগ করে দেখি।
     Table 4: Gender × Education Outcomes — West Bengal vs All-India, PLFS 2023–24 (Survey-Weighted)

    Source: PLFS 2023–24 microdata, survey-weighted estimates. Zero-wage earners excluded from wage statistics.

    এখানেও ছবিটা একই রকম। ছেলেদের আয় দেশে এবং রাজ্যে, দু’জায়গাতেই মেয়েদের থেকে বেশি।   কিন্তু ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যেকার মাসিক আয়ের ব্যবধান কমে আসে শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বিশেষ করে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনের প্রিমিয়াম পশ্চিমবঙ্গের মেয়েদের জন্য চমকপ্রদ। গ্র্যাজুয়েশন থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করলে ছেলেদের আয় ১৫০০০ থেকে বেড়ে হয় ৩২,০০০। সেখানে মেয়েদের জন্য তা ৪০০০ থেকে বেড়ে হয় ৩০০০০। একই রকম ছবি সর্বভারতীয় গড়ের ক্ষেত্রেও, যদিও সেখানে বৃদ্ধিটা এত বেশি না। কিন্তু একই সঙ্গে খেয়াল করার ব্যাপার পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট মেয়েদের মধ্যে বেকারত্বের হার (পঃবঙ্গ ১৮%, ভারত ২১.৫%), ছেলেদের হারের (পঃবঙ্গ ৫.৮%, ভারত ৯.২%) থেকে অনেক বেশি। লেখা শেষ করব একটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে। উপরের সারণী থেকে বোঝা যায়, নিরক্ষর থেকে গ্র্যাজুয়েশন অবধি, পশ্চিমবঙ্গের গড় মাসিক আয় ভারতের গর মাসিক আয় থেকে দু-তিনহাজার টাকা মত কম। এবার যদি খেয়াল করেন লক্ষীর ভান্ডার বা যুবসাথীর মত প্রকল্প এই ফারাকটাই কমিয়ে আনছে। যুবসাথী যদিও খাতায় কলমে বেকারদের জন্য, কিন্তু আমাদের মত দেশে কেউ বেকার কিনা তা যাচাই করা খুব কঠিন কাজ যদি না সে বড় কোন কোম্পানিতে চাকরি করে। সুতরাং ধরে নেওয়া যায় এই প্রকল্পের সুবিধে নিম্নবিত্ত প্রায় সবাই পাবেন যারা একটি নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে পড়ছেন। এই ধরনের প্রকল্প ভালো না খারাপ, সে অন্য আলোচনা। সেটা এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু নয়। আমি শুধু মনে করিয়ে দিলাম যে আপাত দৃষ্টিতে দু-তিন হাজার টাকা কম মনে হলেও, দেশ ও রাজ্যের সাধারণ অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • প্রবন্ধ | ১১ মার্চ ২০২৬ | ৩৫ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। কল্পনাতীত প্রতিক্রিয়া দিন