এই ২০২৫ সালের দশ-দশটা বছর কক্ষপথে ঘুরে ২ বিলিয়ন জ্যোতিষ্কের ৩ ট্রিলিয়ন অবজার্ভেশন নেওয়ার পর, শেষমেশ সে অবসর নিয়েছে। ২০১৩ সালে গেইয়া উৎক্ষেপণের সময় লক্ষ ছিল, "টু ম্যাপ আ বিলিয়ন স্টার" - সেই লক্ষ্য যে পূরণ হয়েছে তাই না, এর মাঝে গেইয়ার ম্যাপে ধরা পড়েছে ব্রাউন ডোয়ার্ফ, এক্সোপ্ল্যানেট, কোয়াসার, মিল্কি ওয়ের স্যাটেলাইট গ্যালাক্সির ছোট্ট ছোট্ট তারার শহর (স্টেলার সিটি)। এমন কী কোন সুদূর অতীতের কোন কলিশনের ফলে আমাদের মিল্কি ওয়ের আকৃতি কেমন হয়েছে সেইসবের-ও আভাষ পাওয়া গেছে কিছু কিছু। আরও কত যে পাওয়া যাবে অনাগত ভবিষ্যতে, এক্ষুণি বলা ভারি শক্ত। পুরো সার্ভের বিপুল পরিমাণ ডেটা পাবলিক ডোমেইনে আসতে আসতে হয়তো আরও বছর কয়েক লেগেই যাবে। কিন্তু এই অ্যাস্ট্রোনমির গল্পে রাশিবিজ্ঞানের ভূমিকা কী? সেইটেই আমাদের আসল আগ্রহ। ... ...
যাইহোক, গল্পটা মোটেও সাঁতরাপাড়ার না। গল্পটা সাঁতরাপাড়া থেকে আরেকটু দূরে, দমদম জং স্টেশনের দিকে যাওয়ার রাস্তায় আরেকটা মাঠের। তখনকার দিনে সেটা ছিলো অমৃতলাল ওঝা স্কুলের মাঠ। সেখানে আরেক দল, আমাদের-ই বয়সী আরেকটি ছেলেমেয়ের দল খেলতো। আমরা মাঝেমধ্যে, মানে ন'মাসে কী ছ'মাস ওদের মাঠে খেলতে যেতাম, এবং প্রায়২ প্রত্যেকবারেই হেরে ভূত হয়েই ফিরতাম। তো সেই দলের যে সেরা খেলোয়াড়, তার নাম ছিল টুকটুকি। সেটা যে ডাকনাম, বলাই বাহুল্য, ভালো নাম জানি না। বয়সে আমার থেকে সামান্য বড়োই, তবে দিদি বলার চল ছিলো না। আর আমাদের দিকের সেরা খেলুর নাম ছিল পচা। যদিও, পচা শুধুই ব্যাটসম্যান - সেহওয়াগ-সম, আর টুকটুকি যদ্দূর মনে আছে, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি - বেসিক্যালি যা যা খেলা হ'ত সবেতেই সর্দার ছিল একপ্রকার। ... ...
একটা কবিতা ভাস্করের, অন্যটা চার্লস বুকোওস্কির। এইদুটো কবিতা কেন জানি না, একে অপরের জুড়ি মনে হয়। "কেন জানি না" বলা ঠিক না, বলা উচিত যে কারণে এদের জুড়িদার মনে হয় সেটা হয়তো আমার কবিতা বা ইংরেজি বোঝার অসুবিধে। কে জানে, হয়তো দুটোই। আসলে তো একটি মৃত্যুর, অন্যটি বিচ্ছেদের? কিন্তু বিচ্ছেদমাত্রেই কি মৃত্যু নয়? অথবা মৃত্যুমাত্রেই বিচ্ছেদ? তবুও, দেখুন। ভাস্কর লিখছেন, "এই সেই ঘর যেখানে তোমার গন্ধ এখনো ভেসে আছে"। আর বুকোওস্কি লিখছেন, "ইন দিস রুম, দ্য আওয়ার্স অফ লভ, স্টিল মেক শ্যাডোজ়।" ... ...
ধরা যাক দুজন লোক - রামবাবু আর শ্যামবাবু ফরেন ট্যুর সেরে দেশে ফিরছেন। দুজনের লাগেজে দুটি আইডেন্টিকাল অ্যান্টিক দ্রব্য। ফিরে দেখছেন এয়ারলাইন্সের বদান্যতায় ওদের দুজনের-ই অ্যান্টিক চোট পেয়েছে। এয়ারলাইনের ম্যানেজার ক্ষতিপূরণ দিতে চান, কিন্তু তাঁর আবার ঐ বস্তুটির দাম কত সেই নিয়ে কোনো ধারণা-ই নেই আর দুজনকে দাম জিজ্ঞেস করতে মোট্টে চান না, কারণ জিজ্ঞেস করলে নির্ঘাত বাড়িয়ে-চাড়িয়েই বলবে দুজন। এই অবস্থায় ম্যানেজার বাবু একটা জটিল স্কিম বা খেলা মাথা থেকে বের করলেন। খেলাটা এই রকম : রাম আর শ্যাম দুজনকেই একটা চিরকুটে ২ থেকে ১০০-র মধ্যে একটা পূর্ণসংখ্যা লিখতে হবে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা বারণ। যদি দুজনেই এক-ই সংখ্যা লেখেন, ম্যানেজার ধরে নেবেন ঐটিই সঠিক দাম, আর সেটাই হাতে ধরে দেবেন। যদি দুজনে আলাদা আলাদা সংখ্যা লেখেন, তাহলে, ম্যানেজার ধরে নেবেন যে কম লিখেছে সে-ই সত্যি বলেছে, অর্থাৎ সে যেটা লিখেছে সেটাই, মানে সেই লোয়ার ভ্যালুটাই আসল দাম, আর অন্যজন ঠকানোর চেষ্টা করছে। এবার ঐ ম্যানেজার রাম-শ্যাম দুজনকেই ঐ দামটা (লোয়ার ভ্যালু) তো দেবেন-ই, কিন্তু একজনকে অল্প পুরস্কার আর অন্যজনকে শাস্তি। যিনি কম লিখেছেন তাকে দেবেন ঐ লোয়ার ভ্যালুর থেকে ২টাকা বেশি, আর যে বেশি লিখেছেন তাকে দেবেন ঐ লোয়ার ভ্যালুর থেকে দুটাকা কম। অর্থাৎ, যদি রাম চিরকুটে লেখে ৪৬, আর শ্যাম লেখে ১০০। তাহলে ম্যানেজার রামকে দেবেন.৪৬ + ২ = ৪৮, আর শ্যামকে দেবেন ৪৬ - ২ = ৪৪। এবার গপ্পো হচ্ছে যে সত্যিকারের খেলা-টা খেলা হলে রাম আর শ্যাম কী লিখতো? আপনি-ই যদি এইরকম সিচুয়েশনে পড়েন, আপনি-ই বা চিরকুটে কী লিখবেন? ১৯৯৪ সালের পেপারে কৌশিক বাবু দেখিয়েছিলেন যে এইরকম গেমের "লজিক্যাল" সলিউশন দুজনের-ই ২ লেখা। গেম থিওরির ভাষায় বললে এই গেমের ন্যাশ ইকুইলিব্রিয়াম একটাই, এবং সেটা ঐ (২,২)। মানে রাম-ও দুই, শ্যাম-ও দুই। ... ...
আসলে, কোহেন-কে নিয়ে কোনো লেখার-ই শেষ, শুরু কিছুই থাকার কথা নয়, এই লেখাটাও সেই অর্থে শুরু বা শেষ কোনোটাই হয় নি। ধরে নিন একটা লম্বা রোড-ট্রিপ, পুরোনো ক্যাসেট-প্লেয়ারে কোহেন ভেসে আসছেন আর বাঁক ঘুরলেই বাড়ি। আপনাকে এবার থামতেই হবে, কিন্তু গানটুকু শেষ না হওয়া অব্দি ইঞ্জিন বন্ধ করতে ইচ্ছে করছে না। এই লেখাটুকু সেই পৌঁছনো আর না-পৌঁছনোর মাঝে চুরি করে নেওয়া একটা মিনিট। আর কিছু নয়। ... ...
আর যেটা আরো প্রাথমিক, বা বলা ভালো, সত্যিকারের দরকার সেটা হ'ল "ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং"। একটু তলিয়ে, গভীরে গিয়ে ভাবা। বেশির ভাগ ভুয়ো খবর-ই কিন্তু অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য অন্ততঃ একেবারে ভয়ানক অবিশ্বাস্য না। সেই জন্য নিজের বায়াসকেও প্রশ্ন করতে হবে প্রতিনিয়ত। এই যেমন আমার সামান্য বাঁদিকে কান্নিক, আমাকে কেউ যদি বলে বিজেপির প্রোটেস্ট মিছিলে চটুল নাচ হচ্ছে স্টেজে, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হবে। যেমন হয়েছিল গুচ্ছ লোকের। আমার বন্ধুদের-ও কেউ কেউ শেয়ার করেছিলেন। পরে জানা গেলো ঐটা নবদ্বীপের একটা মেলার ভিডিও। এই প্রোটেস্টের সাথে সম্পর্কহীন। কাজেই “এমনটা হতেই তো পারে” ভাবা-ই যথেষ্ট না, আপনার বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে কি না সেটাও হয়তো আসলে ভুল দিকেই নিয়ে যাচ্ছে, নিজের বায়াস সরিয়ে রেখেই যাচাই করতে হবে প্রত্যেকটি খবর। আসলে সব ফেক নিউজ-ও এইরকম-ই। এতো সুচারু ভাবে সেগুলো বানানো যে শুনে মনে হবে কী জানি হতেও তো পারে। আজকালকার সমাজে কী-ই না সম্ভব? কিন্তু ঐরকম-ই একটা ফেক নিউজ়ের ফলে গণরোষের শিকার হতে পারেন নির্দোষ কেউ, বা সাঙ্ঘাতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগে যেতে পারে কোথাও। জীবন-মরণের প্রশ্ন। ... ...