বাঙালি লেখক সংসদ : এক সৃজনশীল পথচলার ইতিবৃত্ত
কলমে : বিষ্ণুপদ ভৌমিক
( বাঙালি লেখক সংসদ : সহ সম্পাদক)
◆ ভূমিকা : বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী যাত্রায় শব্দ ও ছন্দের আলপনায় এক অনন্য মাইলফলক হলো ‘কবিকণ্ঠ’। শংকর হালদার শৈলবালা-এর সূক্ষ্ম পর্যালোচনা ও সুযোগ্য সম্পাদনায় এই সংকলনটি আজ নবম ভাগে পদার্পণ করল। ‘বাঙালি লেখক সংসদ’-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সাহিত্যিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমরা আজ এক গর্বিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
সাহিত্যের বাতিঘর 'বাঙালি লেখক সংসদ' সৃষ্টিশীলতা যেখানে প্রাণের স্পন্দন এবং শব্দ যেখানে অজেয় শক্তি, সেখানেই জন্ম নেয় নতুন কোনো ইতিবৃত্ত। বাংলা সাহিত্যের সেই শাশ্বত উত্তরাধিকারকে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে এবং দুই বাংলার নবীন-প্রবীণ কলম সৈনিকদের একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চে মিলিত করতে আত্মপ্রকাশ করেছে— 'বাঙালি লেখক সংসদ'।
২৫ জানুয়ারি ২০২০ সালে নদীয়ার পবিত্র মৃত্তিকায় শংকর হালদার শৈলবালা মহাশয়ের ঐকান্তিক সাধনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে যে বীজটি রোপিত হয়েছিল, আজ তা এক সুবিশাল ও ফলবান মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এই সংসদ কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি সৃজনশীল আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য হলো—লুপ্তপ্রায় সাহিত্যিক স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, নবাগত প্রতিভাকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করা এবং গবেষণাধর্মী লেখনীর মাধ্যমে সমাজকে এক নতুন পথের দিশা দেখানো।
নদিয়া জেলার দত্তপুলিয়ার নিভৃত আঙিনা থেকে শুরু করে কলকাতার মহানগরীর রাজপথ—সর্বত্রই এই সংসদ ছড়িয়ে দিয়েছে সাহিত্যের সুবাস। বিগত বছরগুলোতে একে একে প্রকাশিত হয়েছে কবি ও সাহিত্যিকদের জীবনঘনিষ্ঠ আকর গ্রন্থ 'অন্বেষণে লেখকের আত্মজীবনী', কবিতা পর্যালোচনার অনন্য দলিল 'কবিকণ্ঠ' এবং গবেষণামূলক কাজ 'নদীয়া জেলার কবি ও সাহিত্যিকদের পরিচয়'। দীপঙ্কর পোড়েল এবং পরবর্তীতে ড. স্বপন কুমার নাথ মহাশয়ের মতো বিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের অভিভাবকত্বে এই সংগঠন আজ তার সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আসীন।
মানবিকতা, সাম্যবাদ এবং ত্যাগের দর্শনে জারিত এই সংগঠনের পথচলা কেবল দাপ্তরিক স্বীকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি আর্তের সেবায় এবং প্রথাগত প্রথার বাইরে গিয়ে 'গল্প দিবস'-এর মতো অভিনব ভাবনার মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্যের আঙিনায় এক স্বতন্ত্র স্বাক্ষর রাখতে বদ্ধপরিকর। নিম্নে এই গৌরবময় পথচলার প্রতিটি সোপান, অনুষ্ঠান এবং বিবর্তনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে বিধৃত হলো।
◆ প্রথম অনুষ্ঠান : সূচনালগ্নের সাহিত্য সম্মেলন (২০২০)
“২৫ জানুয়ারি ২০২০” তারিখ কিন্তু 'বাঙালি লেখক সংসদ'-এর ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এই দিনেই নদীয়া জেলার **দত্তপুলিয়া** স্থিত সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বাঙালি লেখক সংসদ'-এর পথচলা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক **শংকর হালদার শৈলবালা** মহাশয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই প্রথম প্রতিষ্ঠা দিবস ও সাহিত্য সম্মেলনটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য স্থির করা হয়, যা আজ অবধি সাহিত্যসেবায় নিয়োজিত।
◆ দ্বিতীয় অনুষ্ঠান : ভাষা শহীদ স্মরণে গ্রন্থ প্রকাশ (২০২২)
ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে **২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২** তারিখে দত্তপুলিয়া যুব গোষ্ঠী ক্লাবে সংগঠনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই বিশেষ দিনে কবি ও সাহিত্যিকদের জীবনীমূলক আকর গ্রন্থ **“অন্বেষণে লেখকের আত্মজীবনী - প্রথম খণ্ড”** আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মূলত সাহিত্য সম্মেলন ও গ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠান। সাহিত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই মঞ্চে প্রায় **৯০ জন কবি ও সাহিত্যিককে** বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়, যা সাহিত্য সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
◆ তৃতীয় অনুষ্ঠান : তিলোত্তমার বুকে দ্বিতীয় বাৎসরিক সম্মেলন (২০২২)
সংগঠনটি তার ব্যাপ্তি বাড়িয়ে ** ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ ** তারিখে কলকাতার শিয়ালদহ সংলগ্ন **কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হলে** দ্বিতীয় বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রাক্তন সভাপতি **দীপঙ্কর পোড়েল** মহাশয়ের বলিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রায় ** ২০০ জন লেখককে ** তাঁদের সৃষ্টিশীল কাজের জন্য বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই অনুষ্ঠানেই দীপঙ্কর পোড়েল ও শংকর হালদার শৈলবালার যৌথ সম্পাদনায় “সাগুন” নামক একটি অনবদ্য কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়।
◆ চতুর্থ অনুষ্ঠান : আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ও অনন্য সম্মাননা (২০২৩)
** ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, রবিবার **, 'বাঙালি লেখক সংসদ' তার সাফল্যের মুকুটে আরও একটি উজ্জ্বল পালক যোগ করে। সভাপতি ** দীপঙ্কর পোড়েল ** মহাশয়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ** শংকর হালদার শৈলবালা ** মহাশয়ের তত্ত্বাবধানে কলকাতার ৫৫ এ সূর্য সেন স্ট্রিটস্থ ** কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হলে ** টানা ৫ ঘণ্টা ব্যাপী ** তৃতীয় বাৎসরিক আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও কবি সম্মেলন ** অত্যন্ত মর্যাদার সাথে অনুষ্ঠিত হয়।
◆ অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব : এই মহতী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আসন অলংকৃত করেছিলেন কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ** গৌতম কুমার দাস **। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতীক মুখার্জী (অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনার), কবিরুল ইসলাম (উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট কবি ও প্রকাশক), সৈয়দ খায়রুল আলম (চেয়ারম্যান, পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থা, বাংলাদেশ), বিশিষ্ট সাংবাদিক বেবি চক্রবর্তী এবং স্বরস্বতী মন্ডল (প্রাক্তন এ.ডি.পি.ও)। আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তালিকায় আরও ছিলেন সমাজসেবী নাথ বসু, অধ্যাপক ড. নির্মল বর্মন, কবি রেবা সরকার, নদীয়া জেলার বিশিষ্ট কবি দীলিপ কুমার প্রামাণিক, রবীন্দ্র গবেষক ড. সমীর শীল, শিক্ষাবিদ স্বাগতা দাস এবং অবসরপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার দেবনারায়ণ দাস প্রমুখ।
◆ অনন্য সম্মাননা প্রদান : সমাজ ও সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এদিন একগুচ্ছ সম্মাননা প্রদান করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জীবন কৃতি সম্মান, বর্ষসেরা কবি সম্মান, বাংলার গর্ব সম্মান, দশভূজা সম্মান, সমাজ গৌরব সম্মান, রজনীকান্ত সেন স্মৃতি সম্মান, সাহিত্য ও সমাজ গৌরব সম্মান, নজরুল স্মৃতি সম্মান, মহারাজা সম্মান, সরস্বতী সম্মান, বিভূতিভূষণ সাহিত্য সম্মান এবং বিদ্যাসাগর স্মৃতি সম্মান। বিশেষ কৃতি হিসেবে কয়েকজন লেখককে ** স্বর্ণপদক ** এবং রৌপ্য পদক সহ ** 'বর্ষসেরা কবি সম্মান ২০২৩' ** ও ** 'বিদ্যাসাগর স্মৃতি সম্মান ২০২৩' **-এ ভূষিত করা হয়।
◆ মানবসেবায় বিশেষ উদ্যোগ : অনুষ্ঠান চলাকালীন মধ্যাহ্নভোজের সুশৃঙ্খল আয়োজন ছিল। তবে আয়োজনের সার্থকতা কেবল হলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। অনুষ্ঠান সমাপ্তির কয়েক ঘণ্টা পর পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ এক মহতী উদ্যোগে শামিল হন। তাঁরা কলকাতা মহানগরীর রাজপথে ঘুরে ঘুরে ক্ষুধার্ত পথশিশুদের জন্য ** ৬০ প্যাকেট ডিম-বিরিয়ানি ** বিতরণ করেন, যা সংগঠনের মানবিক সত্তাকে উজ্জ্বল করে তোলে।
◆ ঐতিহাসিক উদ্ভাবন : এই সম্মেলনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ ছিল শংকর হালদার শৈলবালা মহাশয়ের এক অনন্য ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কয়েক হাজার কবি ও সাহিত্যিকদের জন্য তিনি ** “সম্মানীয় লেখকের পরিচয় পত্র (Identity Card)” ** প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন, যা সাহিত্যিকদের সামাজিক মর্যাদা ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
◆ পঞ্চম অনুষ্ঠান : বিবেকানন্দ স্মরণে কাব্যবাসর (২০২৪)
** ১২ জানুয়ারি ২০২৪ **, যুগপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি উপলক্ষে দত্তপুলিয়াস্থ সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে এক অনন্য সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে মূলত নবীন ও প্রবীণদের মেলবন্ধনে একটি প্রাণবন্ত কবিতা পাঠের আসর বসে। প্রায় ** ৫৫ জন কবি ** তাঁদের স্বরচিত কবিতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। আধ্যাত্মিকতা ও সাহিত্যের এই অপূর্ব সংমিশ্রণ উপস্থিত সকলের মন জয় করেছিল।
◆ ষষ্ঠ অনুষ্ঠান : নদীয়ার সাহিত্যিক ইতিহাসের আকর গ্রন্থ প্রকাশ (২০২৪)
** ৬ অক্টোবর ২০২৪ ** তারিখে দত্তপুলিয়া যুব গোষ্ঠী ক্লাব প্রাঙ্গণে 'বাঙালি লেখক সংসদ' এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকে। এই দিন ** "নদিয়া জেলার কবি ও সাহিত্যিকদের পরিচয়" ** নামক একটি সুবিশাল গবেষণা গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়।
◆ গ্রন্থের বিশেষত্ব : এই আকর গ্রন্থটিতে নদীয়া জেলার ** ৯২২ জন কবি ও সাহিত্যিকদের ** জীবনী ও পরিচিতি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
◆ সম্মাননা : এই গৌরবময় মঞ্চে ** 'কবি কবিন্দ ধোয়ী স্মৃতি সম্মান ২০২৪' ** প্রদান করা হয়। এছাড়া নদীয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ** ২০০ জন কবি ও সাহিত্যিক কে ** বিশেষ সম্মানে ভূষিত করে তাঁদের সাহিত্যকর্মকে কুর্নিশ জানানো হয়।
◆ সপ্তম অনুষ্ঠান : মা সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে সাহিত্য আসর (২০২৫)
** ৭ জুলাই ২০২৫ **, নদীয়ার মাজদিয়ার নিকটবর্তী খাটুরা দোলন ঘাটা স্থিত ** শ্রী শ্রী মা সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে ** সপ্তম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে প্রায় ** ৭৮ জন কবি ** অংশগ্রহণ করেন। আশ্রমের শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে আয়োজিত এই সাহিত্য সম্মেলন ও কবিতা পাঠের আসরটি ছিল আধ্যাত্মিকতা ও সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য মেলবন্ধন।
◆ অষ্টম অনুষ্ঠান : 'কবিকন্ঠ' সিরিজের শুভারম্ভ ও কলকাতা সম্মেলন (২০২৫)
** ১৭ আগস্ট ২০২৫ **, কলকাতার শিয়ালদহ স্থিত ** কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হলে ** সংগঠনের অষ্টম (কলকাতার নিরিখে ষষ্ঠ) মেগা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি ছিল সংগঠনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এদিন কবিতা পর্যালোচনা ভিত্তিক অনন্য গ্রন্থ “কবিকন্ঠ”-এর প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ ও তৃতীয় ভাগ একসাথে প্রকাশিত হয়।
এই মঞ্চে প্রবর্তিত হওয়া বিশেষ সম্মাননাগুলো হলো:
১. ** শ্রী রাসবিহারী নাথ স্মৃতি পুরস্কার-২০২৫ ** (কবিকন্ঠ : প্রথম ভাগ-এর জন্য)।
২. ** শ্রী অপূর্ব্বমনি দত্ত স্মৃতি সম্মান-২০২৫ ** (কবিকন্ঠ : দ্বিতীয় ভাগ-এর জন্য)।
৩. ** দ্বিজেন্দ্রলাল রায় স্মৃতি সম্মান-২০২৫ ** (কবিকন্ঠ : তৃতীয় ভাগ-এর জন্য)।
কলকাতার এই জমকালো সম্মেলনে প্রায় ** ১৭৪ জন কবি ও সাহিত্যিক কে ** তাঁদের নিরলস সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ মঞ্চে সম্মানিত করা হয়। এটি সংগঠনের ইতিহাসে এক বিশাল সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
◆ নবম অনুষ্ঠান : বিবেকানন্দ স্মরণে 'কবিকণ্ঠ' ও ত্যাগের মেলবন্ধন (২০২৬)
** ১২ জানুয়ারি ২০২৬ **, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথিতে নদীয়ার মাজদিয়ার নিকটবর্তী দোলন ঘাটা স্থিত ** শ্রী শ্রী মা সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে ** এক বর্ণাঢ্য সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রভুপাদ দেবানন্দ গোস্বামীর ঐকান্তিক উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যতম মাইলফলক ** “কবিকণ্ঠ : চতুর্থ ভাগ ও ষষ্ঠ ভাগ” **-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সাহিত্য আলোচনার পাশাপাশি প্রীতিভোজ বা বনভোজন, যা উপস্থিত সুধীজনদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে।
এই সম্মেলনে সৃজনশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়:
১.“মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মৃতি সম্মান-২০২৬” (কবিকণ্ঠ : চতুর্থ ভাগ)।
২. “লুইপা স্মৃতি সম্মান-২০২৬” (কবিকণ্ঠ : ষষ্ঠ ভাগ)।
◆ বিশেষ সম্মান : সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রদান করা হয় ** 'কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস সাহিত্য সম্মান-২০২৬' **।
এই পবিত্র তীর্থ প্রাঙ্গণে প্রায় ** ৯৬ জন কবি ও সাহিত্যিক কে** তাঁদের সাহিত্য সাধনার জন্য বিরল সম্মানে ভূষিত করা হয়।
◆ দশম অনুষ্ঠান : আসন্ন মহোৎসব ও সাহিত্যের মহামিলন (২০২৬)
** ২৬ জুলাই ২০২৬ ** তারিখে নদীয়ার সেই পুণ্যভূমি ** শ্রী শ্রী মা সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে ** অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সংগঠনের দশম মেগা অনুষ্ঠান। প্রভুপাদ দেবানন্দ গোস্বামীর তত্ত্বাবধানে এই সম্মেলনে একযোগে পাঁচ টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের উদ্বোধন হতে চলেছে, যা বাংলা সাহিত্য জগতে এক বিরল ঘটনা। এদিন কবিতা পর্যালোচনা সংকলন 'কবিকণ্ঠ' -এর তিনটি ভাগ (সপ্তম ভাগ, অষ্টম ভাগ ও নবম ভাগ), গল্প পর্যালোচনা সংকলন 'কালান্তরের কথামালা - প্রথম ভাগ' এবং সংসদের মুখপাত্র ত্রৈমাসিক মাসিক পত্রিকা “শব্দ-ছায়া” প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা-এর শুভ মুক্তি ঘটবে।
এই আসন্ন অনুষ্ঠানে যে বিশ্ববরেণ্য মনীষীদের স্মৃতি বিজড়িত সম্মাননা প্রদান করা হবে এবং বইয়ের মধ্যে তাদের একটি করে মূল্যবান রচনা থাকবে তা হলো:
১. কবিকণ্ঠ (সপ্তম ভাগ) : বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি সম্মান- ২০২৬
২. কবিকণ্ঠ (অষ্টম ভাগ) : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মৃতি সম্মান- ২০২৬
৩. কবিকণ্ঠ (নবম ভাগ) : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতি সম্মান- ২০২৬
৪. কালান্তরের কথামালা : বনফুল স্মৃতি সম্মান- ২০২৬
এছাড়াও সাহিত্যের বিভিন্ন স্তরে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদান করা হবে :
১. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস সাহিত্য সম্মান- ২০২৬
২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাহিত্য সম্মান- ২০২৬
৩. শেক্সপিয়ার সাহিত্য সম্মান- ২০২৬
দশম অনুষ্ঠানের বিশেষ অলঙ্করণ : সম্মাননা ও গুণীজন সংবর্ধনা
এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সর্বমোট ১২০ জন কবি ও সাহিত্যিক কে মঞ্চে সম্মানিত করা হবে। তবে তাঁদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত কৃতি ব্যক্তিত্বদের নিম্নলিখিত তিনটি বিশেষ ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন সম্মানে ভূষিত করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে:
১. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস সাহিত্য সম্মান ২০২৬
সাহিত্যে গভীর প্রজ্ঞা, সৃজনশীলতা এবং মৌলিক চিন্তাধারার জন্য এই বিরল সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন যে সকল গুণীজন:
◆ সন্ধ্যা মন্ডল (দোয়ারী)
◆ সঙ্গীতা বসু রায়
◆ রুপালী দাস ধর
◆ শীর্ষেন্দু সরকার
◆ কৃষ্ণকুসুম পাল
◆ শরিফুল মন্ডল
◆ ডাঃ অনিরুদ্ধ পাল
◆ নায়েব আলি গায়েন
◆ নিমাই চন্দ্র মন্ডল
◆ কার্তিক হালদার
◆ বিপুল কুমার ঘোষ
◆ তুলসী দে
◆ প্রভুপাদ দেবানন্দ গোস্বামী
২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাহিত্য সম্মান ২০২৬
কথাসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মানটি প্রদান করা হচ্ছে:
◆ সরোজ ভট্টাচার্য
(বিশেষত তাঁর রচিত সার্থক ও হৃদয়স্পর্শী উপন্যাস “দেখা হলো পৌষমেলায়” গ্রন্থটির জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে)
৩. শেক্সপিয়ার সাহিত্য সম্মান ২০২৬
বাংলা সাহিত্যে বিশেষ পারদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সাহিত্যকর্মের নিরিখে এই বিশেষ সার্টিফিকেট ও সম্মাননাটি প্রদান করা হচ্ছে:
◆ কিশোর ব্যানার্জী
(তাঁর বাংলা ভাষায় রচিত বিশেষ ও অনবদ্য সাহিত্য কর্মের জন্য তাঁকে এই উচ্চতর সম্মানে মনোনীত করা হয়েছে)
◆ প্রকাশনা ও সম্পাদনা : সাহিত্যের এক অক্ষয় ভাণ্ডার
'বাঙালি লেখক সংসদ'-এর অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো এর প্রকাশনা বিভাগ। ২৫ জানুয়ারি ২০২০ সাল থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এই সংসদ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়, বিশেষ করে জীবনী, কবিতা এবং সাহিত্য পর্যালোচনায় যে বিপুল সংখ্যক আকর গ্রন্থ উপহার দিয়েছে, তা এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ** শংকর হালদার শৈলবালা ** মহাশয়ের নিরলস পরিশ্রমে এই গ্রন্থ গুলি আজ গবেষক ও সাহিত্য প্রেমীদের কাছে অমূল্য সম্পদ।
১. জীবনী ও পরিচয়মূলক গ্রন্থ : অন্বেষণে লেখকের আত্মজীবনী
২০২০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কবি ও সাহিত্যিকদের জীবন ও কর্মকে নথিবদ্ধ করার লক্ষ্যে চারটি খণ্ডে এই সিরিজটি প্রকাশিত হয়েছে। এর বাইরে নদীয়া জেলার সাহিত্যিকদের নিয়ে একটি সুবিশাল গবেষণা গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।
◆ অন্বেষণে লেখকের আত্মজীবনী (প্রথম খণ্ড) : ২০২২
◆ অন্বেষণে লেখকের আত্মজীবনী (দ্বিতীয় খণ্ড) : ২০২২
◆ অন্বেষণে লেখকের আত্মজীবনী (তৃতীয় খণ্ড) : ২০২২
◆ অন্বেষণে লেখকের জীবনী (চতুর্থ খন্ড) : ২০২৩
◆ নদীয়া জেলার কবি ও সাহিত্যিকদের পরিচয় : ২০২৪ (৯২২ জন সাহিত্যিকের জীবন নিয়ে রচিত আকর গ্রন্থ)
২. সম্পাদিত কবিতা সংকলন : কবিতা চর্চাকে উৎসাহিত করতে শংকর হালদার শৈলবালা মহাশয় একক এবং যৌথভাবে বেশ কিছু প্রভাবশালী সংকলন সম্পাদনা করেছেন।
◆ কবিতা দিবস ও কবির ভাবনা : ২০২২
◆ “সাগুন” (যৌথ কবিতা সংকলন) : ২০২৩ (দীপঙ্কর পোড়েল ও শংকর হালদার শৈলবালা সম্পাদিত)
◆ “বাংলার শ্রেষ্ঠ কবি ও কবিতা”: ২০২৫ (আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত; শংকর হালদার শৈলবালা ও রণজিৎ বালা সম্পাদিত)
৩. 'কবিকণ্ঠ' সিরিজ : কবিতা পর্যালোচনার অনন্য দলিল
শংকর হালদার শৈলবালা মহাশয়ের পর্যালোচনা ও সম্পাদনায় 'কবিকণ্ঠ' সিরিজটি বাংলা সাহিত্য সমালোচনার ধারায় এক বৈপ্লবিক সংযোজন। এই সিরিজে কবিদের লেখনীর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও মান নির্ণয় করা হয়েছে।
◆ কবিকণ্ঠ (প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ ও তৃতীয় ভাগ) : ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে একযোগে প্রকাশিত।
◆ কবিকণ্ঠ (চতুর্থ ভাগ ও ষষ্ঠ ভাগ) ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একযোগে প্রকাশিত।
◆ কবিকণ্ঠ (সপ্তম ভাগ, অষ্টম ও নবম ভাগ) : ২৬ জুলাই ২০২৬ সালে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
◆ কবিকণ্ঠ (পঞ্চম ভাগ): ২০২৬ (বর্তমানে যন্ত্রস্থ/মুদ্রণাধীন)।
৪. গল্প পর্যালোচনা ও সাময়িকী : কবিতার পাশাপাশি ছোটগল্পের তাত্ত্বিক আলোচনায় সংসদ বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে। এছাড়া নিয়মিত সাহিত্য চর্চার জন্য একটি জনপ্রিয় পত্রিকাও সম্পাদিত হচ্ছে।
◆ কালান্তরের কথামালা (প্রথম ভাগ) : এটি মূলত একটি গল্প সংকলন পর্যালোচনা গ্রন্থ (২৬ জুলাই ২০২৬)।
◆ শব্দ-ছায়া : শংকর হালদার শৈলবালা সম্পাদিত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
নেতৃত্বের পরিবর্তন : এক যুগের অবসান ও নতুন দিগন্তের সূচনা
একটি সংগঠনের গতিশীলতা ও আদর্শকে অক্ষুণ্ণ রাখতে নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। 'বাঙালি লেখক সংসদ' তার সূচনালগ্ন থেকেই সুযোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে সংগঠনটি তার শীর্ষ নেতৃত্বে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী হলো।
◆ বিদায়ী সভাপতি : দীপঙ্কর পোড়েল (২০২১ – ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
২০২১ সাল থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সংগঠক “দীপঙ্কর পোড়েল” মহাশয়। তাঁর পাঁচ বছরের গৌরবময় কার্যকালে সংগঠনটি অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখেছে। শিয়ালদহের কৃষ্ণপদ ঘোষ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট হলের বিশাল সাহিত্য সম্মেলনগুলো থেকে শুরু করে 'সাগুন' ও 'কবিকণ্ঠ' সিরিজের প্রকাশনায় তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অভিভাবকত্ব ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় 'বাঙালি লেখক সংসদ' একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তিনি তাঁর সফল কার্যকাল সমাপ্ত করে বিদায় গ্রহণ করেন। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
◆ নবনিযুক্ত সভাপতি: ড. স্বপন কুমার নাথ (মার্চ ২০২৬ – বর্তমান)
মার্চ ২০২৬ থেকে 'বাঙালি লেখক সংসদ'-এর নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রাজ্ঞ গবেষক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের অন্যতম বিশিষ্ট ইংরেজি সাহিত্যিক ড. স্বপন কুমার নাথ। তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে সংগঠনের সাংগঠনিক ও তাত্ত্বিক কাঠামো এক নতুন ও বৈশ্বিক মাত্রা লাভ করল।
ড. নাথ মূলত ইংরেজি সাহিত্যের ওপর তাঁর সুগভীর জ্ঞান ও অনবদ্য লেখনীর জন্য বিশ্বদরবারে সুপরিচিত। একজন প্রতিভাবান কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিটি কাজ ইংরেজি সাহিত্যের চিরায়ত গাম্ভীর্য এবং আধুনিক মননশীলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।
তাঁর এই অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সাহিত্যের প্রতি নিঃস্বার্থ অনুরাগ সংগঠনের আগামীর পথচলাকে কেবল তাত্ত্বিক দিক থেকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং 'বাঙালি লেখক সংসদ'-কে এক আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ড. নাথের সুযোগ্য সভাপতিত্বে সংগঠনটি এখন কেবল তার সাংগঠনিক বিস্তারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সাহিত্য গবেষণার এমন সব নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা সকল সদস্য ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।
বর্তমানে তাঁরই সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় সংগঠনের আসন্ন দশম মেগা অনুষ্ঠান এবং বহুল প্রতীক্ষিত 'কবিকণ্ঠ' ও 'কালান্তরের কথামালা'র নতুন খণ্ডগুলোর প্রকাশনা এক অনন্য শৈল্পিক উচ্চতা লাভ করতে চলেছে। আমরা আশাবাদী, ড. স্বপন কুমার নাথের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে 'বাঙালি লেখক সংসদ' আগামী দিনে সাহিত্য চর্চার এক বিশ্বস্ত ও আন্তর্জাতিক বাতিঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
◆ অভিনব উদ্ভাবন ও আগামীর স্বপ্ন
সাহিত্যের আঙিনায় “শংকর হালদার শৈলবালা” মহাশয় কেবল একজন সম্পাদক বা সংকলক নন, বরং তিনি একজন প্রথাবিরোধী ও সৃষ্টিশীল চিন্তক। তাঁর প্রতিটি কাজের মধ্যেই একধরণের অভিনবত্ব ও গভীর জীবনবোধ পরিলক্ষিত হয়, যা বাংলা সাহিত্য জগতে ইতিপূর্বে খুব একটা দেখা যায়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, সাহিত্যিকদের কেবল লেখনীর মাধ্যমে নয়, বরং সামাজিকভাবেও একটি সুসংহত পরিচয় থাকা প্রয়োজন।
◆ ১. শ্রদ্ধা ও স্মরণের এক অনন্য রীতি: "উৎসর্গ" ও "স্মরণিকা"
তিনি তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থগুলোতে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও সর্বপ্রথম এক অভিনব পদ্ধতি চালু করেছেন। বইয়ের **“উৎসর্গ”** পৃষ্ঠায় তিনি কেবল কোনো প্রিয়জনকে স্মরণ না করে, প্রয়াত কবি-সাহিত্যিকদের মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ করে তাঁদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। একইভাবে, “স্মরণিকা” নামক বিশেষ পৃষ্ঠায় তিনি বিশিষ্ট গুণীজনদের জন্মতারিখ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। এর মাধ্যমে তিনি বর্তমান প্রজন্মের পাঠকদের কাছে ক্ষণজন্মা পূর্বসূরিদের অমর করে রাখার এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জগতকে জানানোর এই সৃজনশীল কায়দাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
◆ ২. "সম্মানিত লেখক পরিচয়পত্র" : এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি
শংকর হালদার শৈলবালা মহাশয় গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে একজন মানুষের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা জন্ম সার্টিফিকেট থাকলেও একজন লেখকের জন্য স্বতন্ত্র কোনো পরিচয়পত্র নেই। এই অভাববোধ থেকেই তিনি তাঁর সংগঠনের পক্ষ থেকে “সম্মানিত লেখক পরিচয়পত্র (Identity Card)” প্রদানের এক যুগান্তকারী ও অভিনব পদ্ধতি চালু করেন। তাঁর এই মহতী উদ্যোগের ফলে পৃথিবীর প্রথম “৩৮৬৫ জন” বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এই অনন্য কার্ডটি লাভ করেছেন, যা সাহিত্যিক সমাজে এক বিরল ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
◆ ৩. পর্যালোচনা সাহিত্যে বৈপ্লবিক জোয়ার
তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম নতুনত্ব হলো সার্বজনীনভাবে কবিতা ও গল্পের চুলচেরা বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা। তিনি কেবল কবিতা বা গল্প সংকলনই প্রকাশ করেননি, বরং সেগুলোর গভীর তাত্ত্বিক পর্যালোচনা বই আকারে প্রকাশ করে সাহিত্য জগতে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সম্পাদিত 'কবিকণ্ঠ' এবং 'কালান্তরের কথামালা' সিরিজগুলো মূলত এই অভিনব ধারারই সার্থক প্রতিফলন, যা বর্তমান বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ও গঠনমূলক কায়দা হিসেবে সমাদৃত হচ্ছে।
◆ ৪. আগামীর সংকল্প: "বিশ্বের বাঙালি লেখকদের তালিকা"
বর্তমানে সম্পাদক মহাশয় এক সুবিশাল ও ঐতিহাসিক পান্ডুলিপির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যার শিরোনাম “বিশ্বের বাঙালি লেখকদের তালিকা”। এই গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সর্বস্তরের পূর্বসূরী ও উত্তরসূরি কবি ও সাহিত্যিকদের তথ্য নথিবদ্ধ করা হবে। এটি সম্পন্ন হলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালি লেখকদের জন্য এটি একটি প্রামাণ্য আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।
◆ ৫. “জীবন্ত বাণী ও পর্যালোচনা”: আগামীর এক অনন্য সংকলন
শংকর হালদার শৈলবালা মহাশয়ের সৃষ্টিশীল ভাবনায় বর্তমানে “জীবন্ত বাণী ও পর্যালোচনা” নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির কাজ অতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এটি কেবল একটি সংকলন নয়, বরং জীবনদর্শন ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এই অভিনব পদ্ধতির গ্রন্থটির জন্য জীবনের বিশেষ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ১০টি অর্থবহ ও দ্বিপদী (দুই লাইনের) বাণী সংগ্রহ ও বিন্যাস করা হচ্ছে।
শৈল্পিক উৎকর্ষ ও পর্যালোচনার এই বিশেষ গ্রন্থটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসের শুভক্ষণে প্রকাশিত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হলে তা পাঠককুলে এক নতুন আদর্শিক চেতনার উন্মেষ ঘটাবে এবং পর্যালোচনা সাহিত্যের ইতিহাসে আরও একটি স্বর্ণালি অধ্যায় যুক্ত করবে।
◆ ৬. ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: "বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ গল্প দিবস"
সম্পাদক মহাশয়ের আগামী দিনের পরিকল্পনা আরও বৈপ্লবিক। বিশ্বে 'কবিতা দিবস' বা 'বই দিবস' পালিত হলেও নির্দিষ্ট কোনো 'গল্প দিবস' নেই। এই অভাববোধ থেকেই তিনি আগামী ৭ আগস্ট তারিখটিকে (বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ দিবস) “বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ গল্প দিবস” হিসেবে নামকরণের এবং পালনের সদিচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বকবির প্রয়াণকে শোকের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁর কালজয়ী ছোটগল্পের উদযাপনে রূপান্তর করাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
◆ ৭. "গল্প কল্পদ্রুম" যৌথ সংকলন : এই প্রস্তাবিত 'গল্প দিবস' উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি “গল্প কল্পদ্রুম” নামক একটি সুবিশাল যৌথ গল্প সংকলন প্রকাশের সংকল্প গ্রহণ করেছেন। এটি কেবল একটি বই হবে না, বরং ছোটগল্পের এক সমৃদ্ধ কানন হিসেবে পাঠকদের কাছে সমাদৃত হবে। তাঁর এই নিরন্তর নতুন কিছু করার মানসিকতা এবং বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বজনীন রূপ দেওয়ার প্রয়াস 'বাঙালি লেখক সংসদ'-কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।