এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ভ্রমণ  দেখেছি পথে যেতে

  • দুই দাপুটের কাশীভ্রমণ - ৪

    লেখকের গ্রাহক হোন
    ভ্রমণ | দেখেছি পথে যেতে | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩৩২ বার পঠিত | রেটিং ৫ (২ জন)
  • দুপুরের সুর্য মাথার উপরে একেবারে গনগনিয়ে আগুন ঢাললে কি হবে গঙ্গার দিক থেকে ফুরফুরিয়ে  বয়ে আসা হাওয়াখানা ভারী স্নিগ্ধ। একটুখানি ছায়ায় বসলেই এনার্জিলেভেল  দিব্বি রিচার্জ হয়ে যায়।  আরো কয়েকটা ছোট বড়  ঘাট পেরিয়ে দুজনে উপস্থিত হলেন রাজরাজেশ্বরী মন্দির ও  মানমহল ঘাটে। আমেরের রাজপুতরাজ সওয়াই মানসিং ষোড়শ শতকে এই মন্দির,  ঘাট ও সংলগ্ন প্রাসাদ বানিয়েছিলেন। পরে তাঁর পুত্র জয়সিং- ২ ১৭১০ সাল নাগাদ প্রাসাদের ছাদে মানমন্দির তৈরী করেন। সূর্যঘড়ি ছাড়াও সূর্য, চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান মাপার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আছে। 


    রাজরাজেশ্বরী মন্দির


    মানমহল মিউজিয়াম ও মানমন্দির

    রাজরাজেশ্বরী মন্দির বাইরে থেকে স্থাপত্যের  খুব আহামরি কিছু নমুনা বলে মনে হল না। বরং  মানমন্দিরের নীচে আর্কিওলজিকাল সোসাইটি একটা মিউজিয়াম বানিয়ে রেখেছে সেটা ভাল করে দেখলেই সময়ের সদ্ব্যবহার হবে। মিউজিয়াম ও মানমন্দিরে ঢোকার ফী ২৫/- টাকা। ঢুকতেই সুরক্ষাকর্মী টিকিট দেখে নিয়ে বলেন কিছু একটা শো সবে শুরু হয়েছে সেটা দেখে নিয়ে এগোতে। কারণ পরের শো আবার ১ না ২ ঘন্টা পরে। তো সেই শোতে গিয়ে দেখা গেল কাশীর পৌরাণিক গল্প টল্প প্রোজেক্টার দিয়ে  সামনের আর দুপাশের  দেওয়ালজুড়ে দেখানো হচ্ছে, সাথে হিন্দিতে ধারাভাষ্য।  খানিকটা থ্রিডি মুভি টাইপের এফেক্ট আসছে। 


    অস্ত্রোপচার দৃশ্যের রিলিফ ও অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি 

    মুভির দৃশ্যাবলী বেশ স্থুলমত। খানিক দেখে বেরিয়ে অন্য গ্যালারিগুলোর দিকে যাওয়া গেল। বড় বড় টাচস্ক্রিনে কাশীর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ছোট ছোট ফিল্ম দেখা যায়। প্রধান মেনু থেকে সিলেক্ট করে করে কাঠ দিয়ে তৈরী, পাথর দিয়ে তৈরী, বেনারসী বুননের বিভিন্ন শিল্পসামগ্রীর নির্মাণ সম্পর্কে জানা গেল। কাশীর বিভিন্ন গলি, নানান আখড়া আর নানাধরণের খাবার দাবার নিয়েও টুকরো টুকরো ফিল্ম ছিল।   সেসব খানিকটা করে দেখে টেখে মানমন্দিরের খোঁজে গিয়ে দেখা গেল দোতলায় উঠে একটা বিশাল ছাদ আর তার কোণায় ওই  প্রায় ৮৫ ডিগ্রি কোণে খাড়া উঠে যাওয়া একটা সরু সিঁড়ি। এ নির্ঘাৎ মানসিঙের আমলে বানানো সিঁড়ি। 


    সূর্যঘড়ি





    ইলিনয় টকাটক উঠতে শুরু করলে কোন্নগর হাঁচড় পাঁচড় করে তাঁর পেছনে ওঠেন। উঠেই সামনে রাখা দাগ কেটে বানানো অর্ধচন্দ্রাকৃতি সূর্যঘড়ি। রাত বারোটা থেকে দুপুর ১১.৫৯ অবধি প্রথমে।  একটা পিলারের ওপাশে আবার দুপুর বারোটা থেকে রাত ১১.৫৯ অনুযায়ী দাগ কাটা। ছায়ার অবস্থান দেখে সময় নির্নয় করা যায়। গুণে দেখা গেল ছায়ার অবস্থান অনুযায়ী ১.৪০ বাজে, হাতঘড়ি বলছে ১.৫০। দশটা মিনিট কোথায় লুকালো রে ভাই? এর পরেই ছাদের বিভিন্ন অংশে ছড়ানো ছিটানো কিছু যন্ত্রপাতি। একটার নাম দক্ষিণত্তোরা ভিত্তি যন্ত্র ( Dhakshinottara Bhitti Yantra)। এটা দিয়ে নাকি সূর্য চন্দ্র আর অন্য গ্রহদের মাপামাপি করা হয়। 


    চক্র যন্ত্র 



    একটা ছিল চক্র যন্ত্র। এইসব যন্ত্র ঘুরে দেখতে দেখতে দুজন আলাদা হয়ে যান। আর কোথা থেকে যেন এক স্কুলের প্রচুর ছাত্র ছাত্রী উঠে আসে মানমন্দিরে।  ফলে উপস্থিত  পর্যটকরা একটু কোণঠাসা হয়ে ফাঁকা জায়গা খুঁজতে থাকেন। এক দাপুটে  একটা দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে গলে গঙ্গার দিকের কার্নিশের পাশে উপস্থিত হয়ে থমকে যান। সামনে উদার উন্মুক্ত গঙ্গা,  সূর্যের আলো একটু পাশ থেকে পড়ায় জলের রঙ  আকাশের রঙের সাথে  মিলিয়ে নীল।  এদিকের পাড়ে রঙ বেরঙের নৌকো বাঁধা। ওপারে রামনগরের দিকে ধু ধু বালুচর। এক্কেবারে সেই ‘'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।’’ 


    নিষিদ্ধ কোণা থেকে তোলা 


    ওই কোণা থেকেই চটপট তুলে নেওয়া  - ও ও ই যে মালব্য ব্রিজ

    এদিকে অন্য দাপুটে চারিদিকে তাকিয়ে অন্যজনকে দেখতে না পেয়ে একটা হাঁক দেন। ইনি সাড়া দিতেই এক সুরক্ষাকর্মী অন্যজনের পেছন পেছন এসে হাজির। ছাদের এই কোণাটায় নাকি পর্যটকদের আসার অনুমতি নেই। কোথাও ক্যামেরা আছে, বসেরা ফুটেজ দেখলে ওনার মুশকিল হয়ে যাবে। অগত্যা দুজনে  কর্মীর পেছনে পেছনে বেরিয়ে এসে একটু ঘুরে দেওয়ালের ওপাশে কার্নিশের ধারে যান। সেখানে স্বল্পপরিসর জায়গায় পর্যটকরা গঙ্গার বিস্তৃতি পেছনে রেখে পরপর ফোটো তুলছেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে জায়গাটা ফাঁকা হলে এঁরাও ফোটো তুলে নীচে নামেন। 
    যে কোন জায়গায়, সে জীবনের সিঁড়িই হোক কি রাস্তাঘাটের,  ওঠা কঠিন হলে নামাটা আরো বেশী কঠিন হয় সর্বদা। এখানেও তার ব্যতিক্রম হল না। একজন সবে ভাবছেন এবারে বসে বসে নামা যাক, ওটাই সহজ হবে, সেই সুরক্ষাকর্মী এগিয়ে এসে তাড়াতাড়ি হাত বাড়ান। তিনিই বলেন এ সিঁড়ি বদলানো যাবে না, আর্কিওলজিকাল সোসাইটি এটা এরকমই রাখতে চান। সে অবশ্য ভালই। কাশীর প্রাচীন সবকিছুই তো ভেঙেচুরে শেষ করে দিচ্ছে, এটা অন্তত থাকুক। তবে সওয়াই মানসিং হিন্দুরাজা,  তাই তাঁর বানানো স্থাপত্য অনেকটাই ঠিক থাকবে বলে আশা করা যায়। 

    মিউজিয়াম থেকে বেরোনর পথ যে রাস্তা দিয়ে ঢোকা হয়েছিল সেদিকে নয়, একটা অন্য গলির মধ্যে। এ বেশ মজা কিন্তু।  গঙ্গার দিকটা মাথায় রেখে একে তাকে জিজ্ঞাসা করে দু এক পাক খেয়ে আবার চেনা রাস্তায় ফেরত আসা।  মিউজিয়ামের এক ফিল্মে কাশীর বিখ্যাত কাঠের খেলনা পুতুল শিল্প দেখে, প্রহরীকে জিজ্ঞাসা করে জানা গিয়েছিল বিশ্বনাথ গলিতে সেসবের অনেক দোকান আছে। অতএব দুজনে চললেন বিশ্বনাথ গলি খুঁজতে। তা সে বেশী দূর নয়, দু চার পাক ঘুরতেই পাওয়া গেল অতিই সরু বিশ্বনাথ গলি যার দুপাশে নানান কিসিমের নানান রঙের দোকান। অনেকটাই কলকাতার বড়বাজারের একদম ভেতরের গলিগুলোর মতই,  তবে আরো অনেক সরু, চাপা। 

    তাতে অবশ্য লোকের আনাগোণার কোন কমতি নেই। এই গলির ভেতর দিয়ে গেলে বিশ্বনাথ মন্দিরের কোন একটা দরজা পড়ে। সেখান থেকে একটু পরে পরেই স্রোতের মত ভক্তের দল বেরিয়ে আসছে। অনেকের খালি পা,  প্রায় সকলের কপালে চিত্র বিচিত্র ত্রিশুলগোছের কিছু আঁকা। এদিকে কাঠের কাজের,  পিতল কাঁসার জিনিষের, নানারকম চুড়ির, পাথরের জিনিষের, বেনারসী শাড়ি স্টোল ইত্যাদির,  চিকনকাজের জামাকাপড়ের অজস্র দোকান, দুটো কাটরা (মানে ভেতরে আরো দোকান) আর খান তিন চার হজমীগুলি, চুরনগুলী, মুখশুদ্ধি মশলা, আমলকি শুকনো, আমসত্ত্ব আর আম শুকনোর দোকান।  

    হজমীগুলি, মুখশুদ্ধির দোকানকটাই সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। আপনি কিনুন আর নাই কিনুন এরা চেষ্টা করে দোকানে প্রাপ্ত যাবতীয় জিনিষের নমুনা টেস্ট করাতে। আর সে বড়ই সুস্বাদু। কিনবো না কিনবো না করেও বেশ কিছু কেনা হয়ে যায়। কাঠের খেলনা, জিনিষপত্রের দোকানে নানা সাইজের ডুগডুগি (ডমরু) পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেশী বাচ্চা খুব চেঁচামেচি করে? একখানা কিনে দিন,  চেঁচামেচি বন্ধ করে সারাদিন বাজাবে। পাঁচমাথাওয়ালা বা তিনমাথাওয়ালা গনেশমূর্তি, বিশ্বনাথ মন্দিরের রেপ্লিকাও নানা সাইজের। একটা হাতি দেখে দেখাতে বলায় দোকানি ত্রস্ত হয়ে বলেন ‘'গনেশজি? এই যে।’’ আচ্ছা তার মানে এটা একমাথাওলা গনেশ। 

    অনেক ঘোরাঘুরি হাঁটাহাঁটি হয়েছে, খিদেও পেয়েছে দিব্বি। অতএব দুজনে হাজির বিশ্বনাথ চাট ভান্ডার। একজন টমাটর চাট আর অন্যজন টিকিয়া চাট খেয়ে  একটু এগিয়ে গেলেন এক দোকানে লস্যি খেতে। সেখানে দুই ভাঁড় করে মালাইও আর একভাঁড় করে লস্যি খেয়ে  ঘুরেফিরে মেন রোডে। লস্যিটা তেমন ভাল নয়, তবে মালাইও খাসা। টমাটর অর্থাৎ টমেটোর চাট বেশ নতুন রকমের খেতে। টিকিয়া চাট অবশ্য যেমন হয় তেমনই। যাই হোক খেয়েদেয়ে মেন রাস্তায় আসতেই এক ছোকরা পাকড়ালো।  নৌকো করে ৮৪টা ঘাট আর দশাশ্বমেধে সন্ধ্যারতি দেখাবে। একজনের ছোট নৌকোয় প্রচন্ড গা গুলায়, তো বড় মোটরলঞ্চ নেওয়া হবে ঠিক হল। 

    ছোকরা তখনই নিয়ে গিয়ে একদম ফাঁকা একটা লঞ্চের দোতলায় বসিয়ে দিল, ৪০০/- মাথাপিছু ভাড়া। তখন বাজে বিকেল ৫টা। ফাঁকা দেখে খুঁতখুঁত করায় ছোকরা বলে আরে তোমরা বোসো না, তোমাদের দেখে আরো লোক আসবে। ক্লান্ত দুজোড়া পা’কে বিশ্রাম দিতে দুজনেই ধপাস করে বসে পড়েন একদম সামনের সারিতে। প্রথম ভুল। দুজনেই ভেবেছিলেন আরতি তো সাড়ে ছটায়, দিনের আলো থাকতে থাকতেই ঘাটগুলো ঘুরিয়ে আনবে,  গোল্ডেন আওয়ারে ফোটো তোলা যাবে। এই হল দ্বিতীয় ভুল।  সামনে দেখা যায় মানমহলের পাশের এক বাড়ির দোতলা নাকি তেতলায় আখড়ায় লোকে মুগুর ভাঁজছে। লঞ্চে লোক আস্তে আস্তে ভরতে লাগল বটে, কিন্তু লঞ্চ ছাড়ল না। ছাড়ল না তো ছাড়লই না। 

    পাশ থেকে অন্য লঞ্চেরা ছেড়ে গেল, দশাশ্বমেধে স্তোত্রপাঠ শুরু হয়ে গেল। এ লঞ্চে স্রেফ লাইফ জ্যাকেট দিয়ে গেল কেবল। লোকজন ক্ষেপে উঠতে লাগল। এক দাপুটে বললেন পয়সা ফেরত দিয়ে নামিয়ে দাও আমরা যাবো না। আরো কিছু মানুষ সেই দাবী তুললেন। বেগতিক দেখে লঞ্চ ছাড়ল, ততক্ষণে আরতি শুরু হয়ে গেছে। সামনে সব বড় বড় লঞ্চ দাঁড়ানো একটা কোণা দিয়ে লঞ্চটা কোনোমতে নাক ঢোকানোয় কেউই কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না। শুরু হল তুমূল ঝামেলা। দাপুটেদ্বয় বলছেন টাকা ফেরত দিয়ে নামিয়ে দাও, এক্ষুণি। অন্যরা মারতে গেছেন। লাইফ জ্যাকেট মেঝেয়  পড়ছে দমাদ্দম। 


    শেষে যে একফালি আরতি দেখা যাচ্ছিল

    মিনিট দশেক তুমূল চেঁচামেচির পরে লঞ্চটা পিছিয়ে এনে আরো খানিকটা বাঁয়ে সরে একজায়গায় দাঁড়ালো যেখান থেকে সামনের সারির মানুষে  একফালি আরতি দেখতে পাচ্ছেন, পেছনের দিক থেকে বিশেষ কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মিনিট পনেরোমত সেখানে দাঁড়িয়ে লঞ্চ রওনা দিল অসসি ঘাটের দিকে। পথে ঘাটগুলোর নাম বলতে বলতে। তবে অসসি, দশাশ্বমেধ, গাইঘাট এরকম কয়েকটা ঘাট ছাড়া বাকী কোনটাতেই লাইটের ব্যবস্থা ভাল না। আর অন্ধকারে বিশেষ কিছু বোঝাও গেল না। ওদিকেও নমোঘাট অবধি গেল না, গাইঘাটের পরেই হুউই দেখো নমোঘাট বলে ঘুরিয়ে নিল। 


    অন্ধকারে কোন একটা ঘাটের পাশে হাভেলি

    মোদ্দা কথা পুরোটাই চিটিংবাজী। এমনিতে সন্ধ্যারতি গঙ্গা থেকে দেখতেই সবচেয়ে ভাল। কারণ আরতির প্রদীপ, ধুনুচি ইত্যাদির প্রতিফলন জলে পড়ে অতি চমৎকার দৃশ্যকল্প তৈরী হয়। সে দৃশ্য দেখার সেরা উপায় দাঁড় টানা ছোট নৌকো। এরা সুরুৎ করে একেবারে সামনে চলে যেতে পারে। নাহলে অলকানন্দা ক্রুজের মত নামী কোম্পানি, যাদের নিজস্ব জায়গা আছে দাঁড় করানোর। এরা যে ঘাট থেকে তুলেছে সেখানেই নামায়। রাজেন্দ্রঘাটে নামানোর পরে বিরক্ত, ক্রুদ্ধ,  হাক্লান্ত দুই দাপুটে ওঠেন দশাশ্বমেধ দিয়েই।  রাস্তায় উঠেই চোখে পড়ে শ্রী ক্যাফে। সেখানেই ঢুকে ডাল, ভাত, আলুচোখা আর আলু ফুলকপির তরকারি দিয়ে রাতের খাওয়া সারা হয়।  

    খাবারের স্বাদ ভাল। ক্যাফে মালিকের GSD বেলাকে রিসেপশানের মেঝেতে শুয়ে  বা মালিকের চেয়ারে বসে চারিদিকে নজর রাখতে দেখে দুজনের মেজাজ কিছুটা ঠান্ডা হয়।  খেয়েদেয়ে বেরিয়ে ফেরার সময় আরেক ঝকমারি। গোধুলিয়া মোড় থেকে গাইঘাট যেতে হলে হয় দেড় কি দুই কিমি হেঁটে পরের মোড়ে গিয়ে রিকশা বা টোটো ধরা নয়ত ২০ কি ২৫ মিটার করে ভেঙে ভেঙে  রিকশায় যাওয়া। তো হাঁটার মাঝে এক গলির পাশে এক অটোয়ালা পাকড়ায়। সে গাইঘাট নিয়েই যাবে তবে মাঝে কয়েকটা মার্কেটে দাঁড় করিয়ে ম্যাডামজিদের আচ্ছা আচ্ছা স্যুট, শাড়ি দেখিয়ে দেবে।  

    মার্কেট যাব না এই কথা মানতে সে রাজী নয়। বেশ ভাই তোমার অটোতেই যাবো না। নাহ এ কথাও মানতে সে রাজী নয়। পারলে হাত ধরে টেনে নিয়ে যায়। অগত্যা একজন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। এবারে পিঠটান দেয় সে। থানা চকের কাছাকাছি এসে রিকশা মেলে।  হোমস্টে ফিরতে পৌনে দশটা। ভেতরের কোলাপ্সিবল গেট  এমনভাবে আটকানো যে হাত গলিয়ে খোলা যাচ্ছে না। ডাকাডাকি হাঁকাহাঁকির পরে আন্টিজি এসে খুলে দেন। ওঁদের পোষ্য জ্যাকি মহা বিরক্ত হয়ে বকাবকি করে। জ্যাকির গল্প পরে বলব। ঘরে ফিরে ভোর সাড়ে তিনটেয় অ্যালার্ম লাগিয়ে ঘুম। 

    (চলবে)
    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ভ্রমণ | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩৩২ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • হেঁয়ালি | 103.87.***.*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৪738813
  • গঙ্গার জল এরকম নীল ? surprise​বর্ষাকালে অনেক ঘোলাটে দেখেছিলাম। রত্নেশ্বর মহাদেবও অনেকটা জলের তলায় ছিল। 
  • Aditi Dasgupta | 43.25.***.*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৫738814
  • মান মন্দিরে যেখানে এখন পৌরানিকের ডিজিটাল আলো ,গঙ্গার দিকের জানালা গুলির অনেকতটাই ঢাকা পড়েছে -- সেখানে আগে সারি সারি জানালা র হাহা করে আসা হাওয়া আর রোদ মেখে চুপচাপ গঙ্গা দেখা যেত পা ছড়িয়ে বসে। ফাঁকা ফাঁকা ছিল।পুরোটা।
  • dc | 2402:3a80:439:9116:e058:b4e0:f736:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:৪৪738817
  • "প্রতিবেশী বাচ্চা খুব চেঁচামেচি করে? একখানা কিনে দিন,  চেঁচামেচি বন্ধ করে সারাদিন বাজাবে" - এটা পড়ে খুব হাসলাম। এর মানে দুটো অপশান, সারাদিন বাচ্চার চেঁচানি, নাকি ডুগডুগির আওয়াজ laugh
  • @dc | 2402:3a80:1c71:62b2:378:5634:1232:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৩738818
  • "The longest drum performance was 10 hrs 26 minutes, on a delta airlines flight from Tokyo to JFK , by a child performer sitting right behind me. "
  • dc | 2402:3a80:439:9116:e058:b4e0:f736:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩২738819
  • বাপরে, সাড়ে দশ ঘন্টা ড্রাম বাজিয়েছে! এখান থেকেই বোধায় হুইপল্যাশের গল্পটা তৈরি হয়েছিল। 
  • | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৩738820
  • হেঁয়ালি, 
    বর্ষাকালে তো এমনকি শ্যিয়োক বা  সিন্ধুনদের জলও  ঘোলাটে বিশ্রি হয়ে থাকে। গঙ্গা তো হবেই।  তবে এই নীলটা একটু ওপর থেকে নিলে এরকম আসে। হোমস্টের ছাদ থেকেও দেখেছি। একদম ঘাটে দাঁড়িয়ে নিলে নীলের মধ্যে সাদা, ছাই এসব শেড ঢুকে যায়। 
     
    অদিতি, 
    হ্যাঁ গো  ওই ডিজাইন করা জানলা অমন ইঁট গেঁথে বন্ধ করে দিয়েছে দেখে খুব কষ্ট হল। অতবড় বাড়িটার খুব সামান্য অংশেই যেতে দেয়। 
     
    ডিসি, 
    laugh
     
    ১৭:০৩, 
    বাপরে! 
  • kk | 2607:fb91:4c1f:10de:8549:4fd9:331c:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০১738828
  • এই সিরিজটা পড়তে আমার অত্যন্ত রকমের ভালো লাগছে! গঙ্গার থেকে দেখা ওরকম সোনালী আলোজ্বলা হাভেলী কী সুন্দর! কিন্তু হায় হায়, ঐ 'নাড়ীবলয় দক্ষিণ ও উত্তর গোল' এর নীচে দুটো প্লাস্টিকের জলের বোতল?!! আর গল্পের শুরুতে একজন দাপুটে 'আইওয়া' ছিলেন না? এই পর্বে 'ইলিনয়' হয়ে গেছেন?
  • | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৭738830
  •  হীরেনদা, 
    এত কিছু নীল তো আমার সিস্টেমে দেখাচ্ছে না! 
     
    কেকে, 
     ইলিনয়ই। আমি প্রথম পর্বে আইওয়া লিখলেও এক ঘন্টার মধ্যেই সংশোধন করেছিলাম।  তুমি তার মানে ওই এক ঘন্টার মধ্যেই পড়ে ফেলেছিলে আর কি। 
     
    বেনারস ভারী ইন্টাতেস্টিং শহর ছিল।  এই সব ভেঙে অন্য শহরের ছাঁচে ঢালাই করে ফেলছে আপদগুলো।
     
     
     ঘাটের লেভেল থেকে নেওয়া আরেকটা ছবি দিলাম। এটায় বেশ ছাইরঙা শেড আছে নীলের সাথে।
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:258a:9955:c3c8:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৯738831
  • এতে তো সবই নীল। নীল আকাশ, নীল জল, নীল নৌকো। শুধু একটুখানি ছাইরঙা সিমেন্টের ঘাট। 
  • | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১১738832
  • আকাশ তো নীলউ। আর ঘাট তো বেজ কালারের বা কিছুটা বালি রঙের। 
  • | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২738833
  • ও আর নৌকো কাছেরটা বেগুনী
    laugh
  • dc | 2402:e280:2141:1e8:258a:9955:c3c8:***:*** | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২০738834
  • ঐ আর কি, যাহা বেগুনি তাহাই নীল :-)
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৪738835
  • খুব ভালো হচ্ছে সিরিজটা। মনে হচ্ছে আবার যেন পৌঁছে গেছে ঐখানে। ওই ছাদটা থেকে দুর্দান্ত ভিউ, দূর দুরান্ত অব্দি দেখা যায়।  
     
    ইশশ আমি ভাবছিলাম লঞ্চের স্ক্যামটা নিয়ে তোমায় সাবধান করে দেব, তারপর ভাবলাম তুমি হয়তো এমনিতেই ওই স্ক্যামে ফাঁসবে না। বিকেলে ওই রকম ইচ্ছে করে লোকের সময় নষ্ট করে। আর অন্ধকারে ঘাট ঘুরে কিচ্চুটি বোঝা যায় না দূর থেকে। আমরা কিছুক্ষন লঞ্চে বসেই ওদের মতলব বুঝে ফেলে নেমে চলে এসেছিলাম। 
     
    সকালে গঙ্গাবক্ষে নৌকা বিহারে ঘাট গুলো দেখাই বেস্ট।আরেকটা আছে বড় একটা বজরা। তাতে করে গেলে টাইমলি ঘোরায়, কী যেন নাম, ভাগীরথী রিভার ক্রুজ বা এরকম কিছু। টিকিট অনেক বেশি। 
     
    সাড়ে তিনটের এলার্ম পড়েই বুঝতে পারছি পরের পর্বে আসছে সুবাহ-ই-বানারস
  • r2h | 134.238.***.*** | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৪738836
  • অন্ধকারে কোন একটা ঘাটের পাশে হাভেলি
     
    - এটা দেখে মনে হচ্ছে ছ'সাত তলা একটা দালান, নীচের গোটা চারেক তলায় কোন জানলা দরজা নেই, অন্তত নদীর দিকে। ব্যাপারটা কি তাই?
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:০৫738839
  • এটা দ্বারভাঙ্গা ঘাটের কাছে বৃজরাম প্যালেস। নাগপুরের মহারাজা বানিয়েছিলেন অষ্টাদশ শতকে। বেনারসের অন্যতম প্রাচীন এক স্থাপত্য। এখন এটা হেরিটেজ হোটেল। বৃজ গ্রুপের আন্ডারে।
  • r2h | 134.238.***.*** | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:১০738840
  • আচ্ছা। এই নীচের দিকের তলাগুলি কি সত্যিই দরজা জানলা নেই, নাকি এটা দেওয়াল?
  • aranya | 2601:84:4600:5410:5482:8e7c:d83:***:*** | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:২০738841
  • দারুণ লেখা + ছবি 
    একটা প্রশ্ন - বিজেপি যে কাশীর পুরনো বাড়ি ভেংগে  গংগা অব্দি চওড়া রাস্তা বানাল , তাতে কাশীর চেহারা কতটা বদলেছে? 
    বিজেপি-র ধ্বংস লীলার আগের কাশী এবং আজকের কাশী , দুটো ই দেখেছেন, এমন কেউ আছেন ? 
  • b | 14.139.***.*** | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬738843
  • "আরেকটা আছে বড় একটা বজরা।"
    হ্যাঁ ও তো জানি ।মালিকের নাম মি: এম এল মেঘরাজ তো ?
  • রমিত চট্টোপাধ্যায় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৯738845
  • @র2হ ,  ওই অংশের ভেতরে আমি ঢুকিনি, কিন্তু বাইরে থেকে মনে হয়েছে, ওটা কোনো বিশাল ঘর নয়, একটা ভিত, যেটা দিয়ে মূল প্যালেসকে ঘাট থেকে তুলে ওপরের মাটির সমান উঁচু করা হয়েছে। তার ওপরে মূল দোতলা প্যালেস। সামনের দিকের দেওয়ালে থাম টাম দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। 
  • | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০৬738857
  • রমিত, 
    হ্যাঁ এটা খুবই ঠকবাজী।  অলকনন্দা ক্রুজার বলে একটা আছে সেটাও  দুইবেলা দুটো ঘাটের ট্রিপ কিরায়। দুটোই  নাকি গোল্ডেন আওয়ারে করায়।
     
    বি, 
    হ্যা হ্যা হ্যা খিক খিক। 
     
    গঙ্গার ধারের প্রায় সবকটা হাভেলি হোটেল হয়ে গেছে। দামী দামী সব হোটেল। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। চটপট মতামত দিন