এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • রামিসার মৃত্যু আর ভণ্ডদের আস্ফালন! 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৭ মে ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • আমাদের স্বভাব হচ্ছে আমরা যখন সামনে যা পাই তা নিয়েই মেতে থাকি। তখনকার রাগই রাগ, তখনকার রাগের মাথার বিচারবুদ্ধিই আমার সিদ্ধান্ত। এমন অবস্থা দেখেই আমাদের এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে রাগ ট্রান্সফার হতে সময় লাগে না। এবং আগের প্রসঙ্গ আর সামনে আসে না, তাই সেই রাগ কেন করছিল, সেই প্রসঙ্গ এখন কেমন অবস্থায় আছে এই সব কিছুই আর প্রাসঙ্গিক থাকে না। অতলে হারিয়ে যায় সব।

    রামিসা নামের একটা তরতাজা ফুলকে দুমড়ে মুচড়ে মেরে ফেলেছে এক বা একাধিক পিশাচ। মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। রাগে সবাই দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছে। প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখতে চাচ্ছে, নৃশংস ভাবে তার মৃত্যু কামনা করছে। সবই যৌক্তিক। মুশকিল হচ্ছে এই রাগ, এই ক্ষোভ আমরা এর আগেও দেখিয়েছি। নানা সময়ই এমন দিন আসছে আমাদের কপালে। আমরা বাক্যহারা হয়েছি বহুবার। মানুষ আর কত নিচে নামতে পারে ভেবে শিউরে উঠেছি। প্রচণ্ড আক্রোশে বিচার চেয়েছি, নৃশংস ভাবে অপরাধীর মৃত্যু চেয়েছি। ফলাফল? দুইদিন পরে ভুলে গেছি। যার গেছে সে আমৃত্যু এই যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকবে। আমরা আবার ফুল পাখি লতাপাতায় মজে যাব। এরপরে আবার এক কাল ভোরে আরেকটা নৃশংস কাণ্ড ঘটবে, আমাদের মাথা আবার শর্টসার্কিট হয়ে যাবে। কতক্ষণ প্রলাপ বকে ঝিমিয়ে যাব! এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী?

    সারা দুনিয়াতেই কিছু সাইকো টাইপ মানুষ থাকে। তাদের হিসাব আলাদাই আসলে। আমাদের এখানে কিন্তু তেমন না। খুব সাধারণ মানুষ অনায়াসে ভয়ংকর কাণ্ড করে বসে থাকে। খুব স্বাভাবিক ঘটনা এই দেশে এখন একটা ধর্ষণ হওয়া। এই বাচ্চা একটা মেয়ে, একেই ধর্ষণ করা জায়েজ করে দিচ্ছে কিছু মানুষরূপী পিশাচ। আর যদি আল্লা না করুক এই মেয়ের বয়স আরও একটু বেশি হত, তাহলে দেখতেন এতক্ষণে বরাহ শাবকদের আস্ফালন! আপনি আজকে যে নৃশংসভাবে এর মৃত্যু কামনা করছেন, এতে করে এই লোকগুলোর চৈতন্য আসবে? এরা ভয় পেয়ে সবাই নারী দেখলে দূর থেকে সালাম দিয়ে চলে যাবে? এইটা বাস্তব সম্মত মনে হয়? না।

    আপনি কঠিন শাস্তি দিয়ে এই সব বন্ধ করতে পারবেন না। কেউ পারে নাই। সব দেশে নরমাল শাস্তিই আছে। তাদেরকে চার রাস্তার মোড়ে কাওকে মেরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখিয়ে সমাজ থেকে এমন ঘটনা দূর করতে হয় নাই। কী করেছে তারা? খুব ইউনিক কিছু না। নারীকে মানুষ হিসেবেই চিহ্নিত করেছে, আর কিছু না। আমাদের এখানে যে নারীকে অন্য একটা প্রজাতি হিসেবে দেখা হয় এইটাই হচ্ছে সমস্যা। বাই ডিফল্ট পুরুষ ধরেই নেয় তার অধিকার আছে নারীর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ার। ধরেই নেয় তারই দায়িত্ব নারীকে লাইনে রাখার। এই দায়িত্ব সে নিজেই ঘাড়ে নিছে এবং নিজের পরিবারর দায়িত্ব তো নিছেই সেই সাথে তার আশেপাশের সবার দায়িত্ব সে নিয়ে বসে থাকে। তাই এখানে কোন সম্মানের জায়গা নাই। নারীকে তাই যে যখন যেমনে পারে তেমনেই একটু করে লাইনে আনতে চায়। যে বয়সই হোক, ওর আবার কিসের বক্তব্য? আমার ইচ্ছা হইছে, আমার এখন ওরে দেখে কাম জাগছে, আমার এখন মনে হইছে, আমিই চাই এই হচ্ছে শেষ কথা।

    এই পিশাচ এই কাণ্ড করার আগে নেশা করেছিল। এই হচ্ছে আরেক সর্বনাশা কাণ্ড। একবার একটু ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন। এই যে দেশে এত কিছু হয়ে গেল। দেশের ইতিহাস বদলে গেল। অত শক্তিশালী সরকারকে মুহূর্তের মধ্যে নাই হয়ে যেতে হল। একবার কী ভাবছেন এই যে নেশার জগত এর কেন কোন হেরফের হয়নি? কেন? লীগের আমলের সমস্ত সেটআপ নাই হয়ে গেছে। একেকটা গড ফাদার, মাদার, ব্রাদার সিস্টার সব হাপুস হয়ে গেল। কই কোথাও তো শুনি নাই যে নেশাখোরদের নেশায় সমস্যা হয়েছে? দেখলাম না তো কোন নেশাখোর নেশার দ্রব্য না পেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে! অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে কেউ? অস্বীকার করার উপায় নাই, যে কয়জনকে চিনি তারা সবাই আগের মতই আছে। কারো এক পুরিয়াও কম পরে নাই। দাম হয়ত বেড়েছে, কিন্তু এই জিনিস এখনও বাজারেই আছে। এইটা কেমনে সম্ভব? পুরো একটা সিস্টেম ক্র্যাশ করল অথচ এদের সিস্টেমে আঁচরও লাগে নাই!

    আমরা এই প্রশ্ন গুলোই করি না। কীভাবে এই বাণিজ্য এখনও হয়? কীভাবে কারা এখন ব্যবসা করছে? দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অবশ্যই দিতে হবে, দাবি করতে হবে, সেই সাথে এই প্রশ্ন গুলোও করতে হবে। একটা অপরাধ কেন সংঘটিত হয়? এর পিছনের বিজ্ঞান কী? না বুঝলে দুইদিন পরে পরে তীব্র প্রতিবাদই জানায় যেতে হবে আমাদের।

    এ তো গেল সাধারণ কথাবার্তা। এবার একটু অসাধারণদের কথা বলি। রামিসা হত্যাকাণ্ডের পরে নানা জায়গা থেকে দেশে শরিয়া আইন চাওয়া শুরু হয়ে গেল! বেশ কয়েকজন হুজুর মতবাদ দিয়ে দিলেন শরিয়া চালু হলেই এগুলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হুজুরদের সাথে সাথে ভণ্ড গুলো সব একই স্বরে হুক্কাহুয়া শুরু করে দিল। এক উৎকৃষ্ট ছাগল, যার নানান কিচ্ছা অনলাইন অফলাইনে সয়লাব হয়ে আছে, সেও শরিয়া আইন চায় দেশে! গোলাম মাওলা রনি তাকে নিয়ে মজা করে বলেছেন জেনা করলে শরিয়া আইন অনুযায়ী একশ বেতের বাড়ি দিতে হয়। যে ছাগল শরিয়া চাইছে তার কথা তিনি বলছেন যে তাকে এই অপরাধে বেত মারা শুরু করলে কেয়ামতের সময় হয়ে যাবে, ইসরাফিল ফেরেশতা এসে তাগদা দিবে ওর বেত মারা দ্রুত শেষ করার জন্য, বলবে তাড়াতাড়ি শেষ করেন, শিঙ্গায় ফু দিতে হব!

    এই লেবেলের ভণ্ড আমাদের চারপাশে। এরা বিদেশ আকণ্ঠ মদ পান করে, এরপরে হালাল মাংস খুঁজে ভাত খাওয়ার জন্য। এরা দেশে ঘুষ খায়, সুদ খায়, নানান ধরণের নেশা করে, নারী কেলেঙ্কারি এদের প্রায় সবার গলায় হার হয়ে ঝুলে কিন্তু তারা দেশে শরিয়া আইন চায়! এরা ইসলামের খেদমত করে মরে যেতে চায়। শহীদ হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি বলা চলে!

    বেশির ভাগ মানুষের কোন ধারণাই নাই শরিয়া আইন কী জিনিস। ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা, ব্যাস, আর কিছু দরকার নাই। গলাবাজি শুরু হয়ে যায় এইটা নিয়ে। যেহেতু ইসলামিক আইন তাই যে কোন সাধারণ মানুষ সরাসরি এর বিরোধিতা করার কথাও ভাবে না। এর বিরুদ্ধে বললে যদি পাপ হয়ে যায়। কে হায় সরাবান তাহুরা পান করা ছাড়তে চায়? হুরের নেশা ছাড়া সহজ? তাই সবাই চুপ হয়ে যায়। আর এই সুযোগেই আহমাদুল্লাহ হুজুরেরা শরিয়া আইনের জিকির তুলে।

    আমার কাছে শরিয়া শাসন ব্যবস্থাকে মনে হয় ইউটোপিয়া ভাবনা। বাস্তবে এই জিনিস সম্ভব না। নবী মুহাম্মদের শাসন আমল পুরোটা কী শরিয়া আইনে চলেছে আরব রাজ্য? না। তখন ছিল ছোট্ট একটা এলাকা নিয়ে রাজ্য। তাই ঐশী বানী দ্বারা শাসন করা সম্ভব হয়েছে। নবীর মৃত্যুর পরে? চার খলিফার শাসনকালকে ইসলামের স্বর্ণ যুগ বলা হয়। অথচ তখনও শরিয়া আইন দ্বারা শাসন করা সম্ভব হয়নি। চার খলিফার মধ্যে তিন খলিফাই আততায়ীদের হাতে খুন হয়েছে। এর মধ্যে একজনের বিচারই করা সম্ভব হয় নাই! উমরের খুনিকে তখনই মেরে ফেলে হয়। উমরের ছেলে খুনিকে মেরে শান্ত না হয়ে খুনির পিছনে যারা ছিল তাদেরকে, তাদের পরিবারের লোকজনকেও হত্যা করে। এই হত্যার জন্য তাকে আটক করা হয়। তখন একটা গুঁজামিল দিয়ে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়! যিনি এই গুঁজামিল দেন, তৃতীয় খলিফা ওসমান, তিনিও খুনির হাতে মারা যান, এরপরে আলীও একই পরিণতি ভোগ করেন। এই দুইজনকেই আবার হত্যা করেছে মুসলমানরাই। এরপরে উমাইয়া, আব্বাসি খেলফতের সময় তো পুরাই রাজতন্ত্র চলেছে সেখানে। যে বিখ্যাত অটোম্যান সাম্রাজ্যের গল্প বলে আমাদের এদিকের মুসলমানরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে সেই অটোম্যানরা শরিয়া আইনে শাসন করত তাদের বিশাল সাম্রাজ্য? না। তো? সেই অলৌকিক শাসন ব্যবস্থার আশায় কেন আমাদের মানুষ স্বপ্ন দেখে?

    বর্তমান সময়ে সৌদি আরব, ইরান, তালেবান আফগানিস্তান, এরা সবাই "শরিয়া রাষ্ট্র" দাবি করে। তিনটার একে অপরের সাথে কোন মিল আছে? যদি তর্কের খাতিরে ধরেই নেই যে আজকে দেশে শরিয়া আইন চালু করব আমরা। কাকে ফলো করব আমরা? ইরান, সৌদি না তালেবানদের শাসন ব্যবস্থা? এর উত্তর কেউ দিবে না। কিন্তু চাইবে দেশে শরিয়া আইন আসুক! যদি বলেন না, অন্যদেকে কেন অনুসরণ করব। তবুও সমস্যা মিটবে না। কারণ ইসলামের মধ্যেই এখন চারটা ধারা বিদ্যমান। এর বাহিরে আবার আরও কয়েকটা ধারা আছে। চার ইমামের চারটা মতবাদ, একে মাযহাব বলে। এরা একে ওপরকে খারিজ করে দেয় না। বলা হয় সব গুলাই ঠিক। তাই যে কোন একটা পালন করলেই হবে। আমরা শরিয়া মানতে চাইলে কারটা মানব? হানাফি যেহেতু এই অঞ্চলে বেশি, তাহলে তাদেরটাই ঠিক? হানাফি মাযহাব কুরবানিকে ওয়াজিব বলে (সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য), শাফেয়ী, মালিকী, হাম্বলী মাযহাবে এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা, ওয়াজিব নয়। ওয়াজিব অবশ্য পালনীয়। কিন্তু সুন্নত পালনে সোয়াব আছে কিন্তু না করলে গোনাহ নাই। তো এখন আমরা কী করব?

    এরা আবার শুধু ধর্ষণ বন্ধ করতে শরিয়া আইন চায়। এদিকে দিনের পর দিন যে মাদ্রাসায় ছেলে শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে তার বেলায় সবাই এক যোগে নীরবতাই হিরণ্ময় নীতি পালন করে। তারা তো ইসলামিক শাসন ব্যবস্থাতেই চলে, জাতীয় সঙ্গীতও গায় না ওরা। তো সেখানের এই সব কাণ্ডের বিচার কবে চাইবে? কীভাবে শরিয়া আইন এদেরকে এই কুৎসিত কাণ্ডের জন্য ধরবে?

    অনেকের মধ্যে বেশ কঠিন একটা বিশ্বাস আছে যে কোরানেই সব কিছু আছে। আসলে নাই। নাই বলেই শরিয়ায় ফিকহ, মানে হচ্ছে যখন কোরানে সরাসরি কোন দিক নির্দেশনা পাওয়া না যায় তখন আলেমরা মিলে একটা সিদ্ধান্তে আসে। একে ফিকহ বলা হচ্ছে। তো ক্লাসিক্যাল ফিকহ মতবাদে এমন অনেক কিছুই আছে যা সেই সময়ের জন্য হয়ত ঠিক ছিল এখন নাই। ৭ম–১০ম শতাব্দীর আলেমরা তাদের সময়ের সমাজ বুঝে লিখেছেন। তো এখন নতুন করে এই মতবাদ গুলোকে নিয়ে বসা উচিত না? কিন্তু একবার যে ফিকহ দেওয়া হয়েছে তা এখনও চলছে, এবং চলতেই থাকবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এইটা তো আর কোরানের আয়াত না, মানুষের ব্যাখ্যা। তো এই ব্যাখ্যা সময়ের সাথে পরিবর্তন হলে সমস্যা কী? কিন্তু না, এগুলা বললেই কল্লা নাই! আর তাই শরিয়া বলে চার বিয়ে বৈধ ঘোষণা করে, ধর্ষণ হলে নারীকেই চারজন সাক্ষী হাজির করার দরকার পরে, না হলে উল্টো জেনা করার অপরাধে পাথর খেয়ে মরতে হবে নারীকেই, তালাক দিয়ে দেওয়া যাবে মুখের কথায়, ধর্ম ত্যাগ করলে মুরতাদ ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, অন্য ধর্মের লোকদের জিজিয়া কর দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রেখে দেওয়ার মত মতবাদ এখনও শরিয়ায় টিকে আছে। কেউ নতুন করে এগুলো নিয়ে বসতে রাজি না। এই জন্য বর্তমান ইসলাম হয়ে যাচ্ছে বন্ধ কুপের মত, যা এখন আর সুমিষ্ট পানির প্রতিশ্রুতি দেয় না, গন্ধ ছড়ায়!

    একা একটা রাষ্ট্র চাইলেই শরিয়া আইনে চলতে পারে? তার সাথে বহিঃ বিশ্বের সম্পর্ক থাকবে না? তা কীভাবে থাকবে? ব্যাংকিং কীভাবে হবে? আমদানি রপ্তানি কীভাবে হবে? বহুদিন আগে আরজ আলী মাতুব্বর লিখেছেন শয়তানের জবানবন্দি, তিনি লিখেছেন, - “বিশ্বাসীরা মনে করেন যে, শয়তান না থাকলে মানবজাতির মঙ্গল হতো। তাঁরা ভেবে দেখেননি যে, আমার নির্দেশিত পথে চলেই বর্তমান জগতের মানুষের যতো সব আয়-উন্নতি এবং তারই সাহায্যে চলছে ভালো ধর্মের বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য। আজ যদি আমি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাই বা আমার দাগাকাজ বন্ধ করি, তাহলে মানবসমাজে যে বিপর্যয় দেখা দেবে তা থেকে রক্ষা পাবে না বিশ্বাসীরাও। প্রথমত কতিপয় রাষ্ট্ৰীয় দপ্তর থাকবে না। ফলে মন্ত্রিত্ব হারাবে অনেকে এবং রাজ্যশাসনে বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ হবে কর্মহীন। সুরশিল্পী, চিত্রশিল্পী থাকবে না, থাকবে না মাদকদ্রব্যের ব্যবসা। এছাড়া থাকবে না সুদ, ঘুষ, কালোবাজারী ইত্যাদির পেশা। আর এতে মানবসমাজে যে ভয়াবহ বেকারত্ব ও আর্থিক সংকট দেখা দেবে, তার প্রতিক্রিয়া হবে ধর্মরাজ্যেও। কেননা ঐসব অসৎবৃত্তির আয় দ্বারাই তো হচ্ছে যতো মসজিদ-মাদ্রাসার ছড়াছড়ি ও হজ্জ্বযাত্রীদের সংখ্যাবৃদ্ধি।"

    তাই আমরা চাইলেও এখন এমন শাসন ব্যবস্থা চালু করতে পারব না। আমার ধরনা এগুলা তারাও জানে। আমি শুধু শুধুই এত কিছু লিখলাম। এরা এদের যে ছাগল ভক্তকুল আছে তাদেরকে মাঝে মধ্যে উসকায় দেওয়ার জন্য এই সব বলে। এবং পরে হোটেল রুমে আরেক নারীর সাথে আটক হয়, টিকটক করতে দেখা যায়, পরে ফেঁসে গিয়ে বিয়ে করে। নানা জায়গায় প্রেম করে, তাকে হালাল ঘোষণা করে। এরপরে সাধারণ মানুষের প্রেমের ব্যাপারে ফতোয়া দেয়, বলে উচ্চ শিক্ষিত নারী সব বেশ্যা! এরা সব ছেলেমেয়ে এক সাথে পড়ে, সেখানে কী হয় আমরা জানি না? এই চলছে যুগের পর যুগ।
     
    আমরা আলোর পথে হাঁটতে চাই। এরা আমাদেরকে ধরে বেঁধে নিয়ে যেতে চায় অন্ধকারে। দৈনিক রামিসার মত ফুল এদের হাতে তছনছ হয়। এর আগে আছিয়ার কথা লিখেছি। এমন রামিসা, আছিয়া শত শত আছে এই দেশে।বিচার হয় না। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় টাকা, কখনও কখনও ক্ষমতা। তাই বসুন্ধরা গ্রুপের ছেলের কিছুই হয় না। প্রবল প্রতিপক্ষ যে প্রথম আলো, তারাও লিখে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রধানের ছেলে, নামটা পর্যন্ত নেয় না! আবার সেনানিবাসের মধ্যে ধর্ষণ ও খুন হওয়া তনুর বিচার হয় না কারণ সেনাবাহিনী বলে কথা! তারা কোনদিন কোন অন্যায় করতে পারে? এইসবকে তাই আমাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয় শরিয়া আইনের গল্প বলে। আমরা যেন কোনদিনই সঠিক প্রশ্নটা করতে না পারি।

     

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৭ মে ২০২৬ | ২২ বার পঠিত
  • আরও পড়ুন
    Jealousy  - Srimallar Speaks
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ২৭ মে ২০২৬ ০২:১৭740861
  • দুনিয়া ভণ্ডে ভরে গেছে।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যুদ্ধ চেয়ে মতামত দিন