এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • হরিদাস পাল  ব্লগ

  • বাংলাদেশ সমাচার - ২০ 

    bikarna লেখকের গ্রাহক হোন
    ব্লগ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১ বার পঠিত
  • গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের খবর কী? ইউনুস সাহেবের ৫৫৯ দিনের শাসনামল কেমন ছিল? অন্ধের দেশে আয়না বিক্রির গল্প বলে যে সরকারের যাত্রা শুরু সেই যাত্রার শেষ খবর কী? এগুলাই এখন জন মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন। কী পাইলাম আর কী হারাইলাম, এই হচ্ছে বড় জিজ্ঞাস সবার। 

    ইউনুস সরকারের সমালোচনা তো করছি পুরো সময় জুড়েই। সেই দিকে একটু পরে যাই, নতুন সরকারের আলাপ করি বরং। সরকার গঠন করেই বিএনপি প্রথম যে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে তা হচ্ছে জুলাই সনদে সাক্ষর না করা। নানা নাটক করে জামাত জোট শপথ নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই নিয়ে তাদের নানা তোরজোড় চলছে। সামনে প্রথম আন্দোলন হয়ত আমরা এই কারণেই দেখতে পাব। বিএনপির যুক্তি এখানে পরিষ্কার - সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়ে তারপরেই আবার সংবিধান ভাঙার শপথ কীভাবে নেওয়া সম্ভব? আপনে এক মুখে শপথ নিলেন যে এই সংবিধান মেনে চলবেন আর এরপরেই শপথ নিবেন আগের সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলে দিবেন! এইটা কেমনে সম্ভব? 

    জামাত জোটের প্রশ্ন হচ্ছে তোমরা তো জুলাই সনদে সাক্ষর করছ, তাহলে এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের শপথ কেন নিবা না? এর উত্তর দিয়েছে বিএনপির একজন এমপি, তিনি পরিষ্কার করে বলে দিছেন তখন এইটা না করলে ইনুস সরকার নির্বাচন দিতে চাচ্ছিল না! ফাইন না? এক্কেরে একের ক! 

    নব নির্বাচিত সরকার ক্ষমতার মসনদে বসার পরেই রোজা শুরু হয়েছে। মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে চিন্তায় আছে, কারণ দাম চান্দে উঠে বসে আছে। লেবু, যেটা ইফতারিতে মানুষ শরবত বানিয়ে খায়, সেই জিনিসের হালি ঢাকায় দেখলাম ১৫০ টাকাও পার হয়ে গেছে। এদিকে আমাদের মত মফস্বল শহরে ৬০-৮০ টাকা হালি পাওয়া যাচ্ছে! এগুলা মানুষ মানতে নারাজ। কিন্তু মানুষ অবুঝ না, মাত্র তারা বসল, তাই এইটা নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তা নিয়ে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না কেউ। আমরা অপেক্ষা করতে রাজিই আছি। দেখা যাক আই হ্যাভ এ প্ল্যানের কোন নমুনা আমরা সামনে দেখতে পাই! 

    এর মধ্যেই চলে আসল ২১ ফেব্রুয়ারি। বিএনপি প্রধান জনাব তারেক জিয়া একুশের প্রথম প্রহরে এক অদ্ভুত কাণ্ড করলেন। তিনি ফুল দিলেন এবং সেখানেই মোনাজাত ধরলেন শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য! শহীদ মিনার, যেটা ছিল অসাম্প্রদায়িক একটা জায়গা সেখানে এই দৃশ্য কোনমতেই মেনে নেওয়ার মত না। তার মোনাজাত ধরতে ইচ্ছা করছিল অন্য কোথাও ধরত। শহীদদের কবরের কাছে গিয়ে দোয়া করত! তা না করে তিনি যা করলেন এইটা সামনের বাংলদেশের জন্য একটা সমস্যা তৈরি করল। উগ্রবাদীরা এরপরে শহীদ মিনারে গরু কুরবানি দিয়ে জেফত খাওয়ার ব্যবস্থা করলে খুব একটা আশ্চর্য হব না। এতদিন শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে আমরা ব্যাখ্যা করছি যে এইটাতে কোন দোষ নাই, কারণ এইটা শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়া হচ্ছে। এইটা কোন পূজা না, আমি ফুল দিয়ে কোন কিছু চাচ্ছি না কারো কাছে। আমি মানত করছি না কিছু। যখন কোন বেদিতে ফুল দিয়ে প্রার্থনা করা হয় তখন তাকে পূজা বলা চলে, তখন তাকে শেরক বলা চলে। এতদিন এই দোষ ছিল না, এবার সম্ভবত তা যোগ হল! আমি অন্তত তাই মনে করি। 

    বিরোধীদলের নেতা হিসেবে জামাতের আমির শহীদ মিনারে গিয়েছিল। তার যাওয়া নিয়ে রাত থেকেই নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। এক সাংবাদিক তাকে সেখানেই প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে। কেন আসছেন? আগে কেন আসেন নাই? এখন কি শহীদ মিনারে আসাকে জায়েজ মনে করেন? দায়িত্ব হিসেবে আসছি, এইটা ভালমত বলেছেন এরপরেই রাগ পেয়ে গেলেন! এগুলা কেমন প্রশ্ন, কেন আজকের দিনে এমন প্রশ্ন করছেন বলে রেগে চলে গেলেন! মানুষ জামাতের শহীদ মিনারে যাওয়াকে নানা ভাবে দেখছে। কেউ কেউ দেখছি খুব কষ্ট পেয়েছে, জামাত কেন যাবে! কিন্তু আমি একে ভালোভাবেই দেখছি। বরঞ্চ এইটা আমাকে একটা আলাদা সুখানুভূতি দেয়। এই যে যাকে অস্বীকার করি কিন্তু এই দেশে রাজনীতি করতে হলে এই জিনিস করেই করতে হবে এইটা যে প্রমাণ হয় তা আমাকে সুখ দেয়। এই প্রথম না, জামাতের শীর্ষ রাজাকারেরা স্মৃতিসৌধে গেছে, ফুল দিয়েছে এর আগে। তখনও আমার একই রকম অনুভূতি হয়েছিল। জানি অন্তর থেকে যায় নাই তবুও শান্তি যে তাদের যেতে হচ্ছে। এই দেশে থেকে রাজনীতি করলে আজীবন এইটা করতে হবে, এর চেয়ে বড় প্রশান্তি আর কী? কিন্তু অন্য রকম একটা খোঁচাও তো লাগে, এও তো সত্যই।যেমন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি এটিএম আজহারুল যখন শহীদ মিনারী যায় তখন তো কেমন লাগেই। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি, তার নামে যে অভিযোগ গুলো ছিল তার মধ্যে একটা হচ্ছি সরাসরি গণহত্যায় সামিল হওয়া। এক হাজারেরও বেশি মানুষ একদিনে হত্যার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। সে সব দিন বাসি হয়েছে। গত বছর তিনি বেকসুর খালাস হয়েছেন। নির্বাচনে জিতে এমপিও হয়েছেন। পুরাই সোনার বাংলা ফকফকা! 

    আবার আমাদের আসনে যে জামাত পাশ করল তিনি কিন্তু আমাদের শহীদ মিনারে যান নাই। কেন্দ্রীয় কোন সিদ্ধান্ত আসে নাই না তিনি এই সব নাজায়েজ কাজ পছন্দ করেন না দেখে যান নাই তা জানা গেল না। তবে আমাদের এখানে যে শহীদ দিবসের কোন তাপ উত্তাপ পাওয়া যায় নাই তা সত্য। একুশে ফেব্রুয়ারি বলতে আমরা যে স্মৃতি নিয়ে বসে আছি তার সাথে কোন মিল ছিল না। ডিসি অফিস, পুলিশ সুপার এরা ফুল দিয়ে দায়িত্ব পালন করল। এরপরে নানা সংগঠন, সকালে কিছু স্কুল কলেজ, ব্যস, এই তো! গানে গানে ভরে উঠত যে প্রাঙ্গণ তা আর হল কই? মাইকে কখন কোন স্কুল বা কোন প্রতিষ্ঠান আসছে তা ঘোষণা দেওয়া হত, তেমন কোন ব্যবস্থাও চোখে পড়েনি। ম্যাড়ম্যাড়ে নিয়ম রক্ষার শহীদ দিবস পালন, যাতে এমপি সাহেব যাওয়ার প্রয়োজনও বোধ করে নাই। 

    নির্বাচনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের জেতায় অনেকেই খুব খুশি হয়েছেন। তাকে ইনকিলাব মঞ্চের পুলাপান যা ইচ্ছা তাই বলে অপমান করেছে শুধু মাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলার জন্য। তাকে এমন কি বিএনপি থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল সাময়িক ভাবে। তিনি বলেছিলেন তার আসনে যদি তিনি জামাতের সাথে নির্বাচন করে হেরে যান তাহলে তিনি বিষ খাবেন! তাকে বিষ খেতে হয় নাই, ৪০ হাজার ভোটের বিপুল ব্যবধানে জিতেছেন তিনি। তো সবাই একে খুব দারুণ সাধুবাদ জানিয়েছেন। আরও যে মুক্তিযোদ্ধারা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতেছে তাদেরকে সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। এবং বলা শুরু করেছে এই দেখ মুক্তিযুদ্ধের জয় হল! মুশকিল হচ্ছে এইটা এক তরফা আলাপ হচ্ছে! আপনি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জিতেছে দেখে যদি বলেন মুক্তিযুদ্ধের জয় হয়েছে তাহলে জামাত জোট যে আশিটা সিট পেয়ে গেল, তার বেলা? জামাত ভোট পেয়েছে ত্রিশ শতাংশের উপরে, এই লোক গুলোকে? কারা ভোট দিল জামাতকে এত? আড়াই কোটি ভোট পেয়েছে জামাত! এইটা সোজা কথা? জিতছে কে? চিহ্নিত রাজাকারদের সন্তানেরা সবাই জিতছে। রাজাকার সাইদির পুত্র জিতছে, সাকা চৌধুরীর ছেলে জিতেছে, মীর কাসেমের ছেলে জিতেছে, আজহারুলের কথা তো বললামই, সে নিজেই কুখ্যাত রাজাকার, তিনিও জিতেছেন! তাহলে মুক্তিযুদ্ধের জয় হয়েছে এইটা বলার সুযোগ আছে? বরং মুক্তিযুদ্ধের পরে এই প্রথম এতগুলো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে জিতল বাংলাদেশে! এইটাই লজ্জার। 

    ইনুস শাহের জমানায় বড় কোন প্রকল্প নেওয়া হয় নাই তবুও ঋণ বেড়েছে ৪ লক্ষ কোটি টাকা! ১৮ মাসে ৪ লক্ষ কোটি টাকা বাড়তি ঋণ কেন নেওয়া হল তার কোন উত্তর অন্তত আমি খুঁজে পাই নাই। কানাঘুষায় শোনা যায় বিখ্যাত বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধারা কেউ নাকি হাজার কোটি টাকার নিচে কামাই করে নাই! তথ্য প্রমাণ নাই তাই সেই প্রসঙ্গে আর গেলাম না। এই যে ঋণের বোঝা ঘাড়ে আসল তার থেকেও বড় সর্বনাশ করে গেছে আরেকটা। ১৮ মাসে নানা কিছু হয়েছে কিন্তু শেষ মুহূর্তে যে বাঁশটা আমাদের উপহার দিয়ে গেলেন নোবেল ম্যান তার কোন তুলনা নাই। এই বাঁশ একই সাথে প্রমাণ করেছে যে তিনি ও তার সরকার আসলে কাদের সরকার ছিলেন। বুঝা যাচ্ছে না? বলছি… 

    নির্বাচন হয়েছে ১২ তারিখ, ৯ তারিখ ইউনুস সরকার আমেরিকার সাথে এক চুক্তি করেছেন! একেই বলছি বাঁশ। আপনি আমাকে বুঝান কেন এত বড়, বিতর্কিত একটা চুক্তি করার ঝুঁকি নিবে একটা অন্তর্বর্তী সরকার? দুই দিন পরে ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে, আমি কেন এই ঝামেলায় যাব? আমি তো কোনমতে দিন পার করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যাব। এবার তোমরা বুঝগা কেমনে ট্রাম্প পাগলাকে সামলাবা সামলাও! কিন্তু তারা তা করল না। কেন করল না এইটাই হচ্ছে প্রশ্ন। এখানেই প্রমাণ হয় তারা আসলে কাদের পক্ষের খেলোয়াড় ছিল। কেন এমন বলছি তা চুক্তির কিছু ধারা বললেই বুঝতে পারবেন। এইটা আবার এমনই চুক্তি যা প্রকাশ করা হয়েছে তার বাহিরেও যদি কিছু থেকে থাকে তাহলে তা আমরা জানব না। কারণ আমেরিকা আগেই আমাদেরকে দিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি করিয়ে নিয়েছে। এইটাও মহান ইউনুস সরকারর অবদান। আমরা এই বিতর্কিত চুক্তি সম্পর্কে জানতে পারছি কারণ আমেরিকা তা প্রকাশ করেছে। যা প্রকাশ করেছে তাই জানি, এর বাহিরে থাকলে তা জানি না কারণ আমাদের সরকার তা প্রকাশ করতে পারবে না। এবার আসি চুক্তিতে কী কী আছে সেই বিষয়ে। 

    বাণিজ্য সমতা আনার জন্য ১৪টা বিমান কিনতে হবে আমাদেরকে। দরকার আছে কী না তা দেখার প্রয়োজন নাই। কেনার চুক্তি করা শেষ। এখানেই কেনাকাটার হিসাব শেষ না, আগামী ১৫ বছরে ১৫শ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি করবে এবং প্রতিবছর সাড়ে তিনশো কোটি ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে বাংলাদেশ! ঠিক আছে না? চুক্তিতে আরও আছে দুই পক্ষ শুল্ক মুক্তি পাবে পণ্যে আমদানিতে। এখন আমাদের কতগুলো পণ্য আর আমেরিকার কতগুলা পণ্য? বেশি না, আমেরিকার হচ্ছে মাত্র ৬ হাজার ৭১০টি পণ্য এবং বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্য! এইটা আরও ফাইন না? আমাদের কৃষি কই গিয়ে দাঁড়াবে বুঝা যাচ্ছে? আজকে ইফতারের আগে মার্কিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত একটা দোকানের ছবি দিয়ে পোস্ট করেছেন বাংলাদেশে আমেরিকার পণ্য রোজায় এসে গেছে, এতে বাংলাদেশের ভোক্তা আর আমেরিকার কৃষক সবাই লাভবান হবে! এখন আমাদের মত গরীবের যদি আমেরিকার কৃষকের চিন্তা করতে হয় তাহলে আমরা বাঁচব? ওদেরকে লাভবান করা আমাদের পক্ষে সম্ভব? পরনে কাপড় থাকব তো পরে? 

    চুক্তির মজা শেষ হয় নাই এখনও। চুক্তিতে বলা আছে আমরা অন্য কোন পক্ষ থেকে জ্বালানি কিনতেও পারব না! মানে যদি কোথাও কমে পাই তাহলেও কিনা যাবে না। কিনলে চুক্তি শেষ, শুল্ক বসবে ৩৭%! অন্য কোন দেশ আমাদের এখানে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রিও করতে পারবে না। চীন থেকেই অনেকে কম মূল্যে জিনিসপত্র আনে, বিক্রি করে। এখন এইসবে যুক্তরাষ্ট্র নজরদারই করবে। ওদের ব্যবসায় ক্ষতি হয় এমন কোন কিছু ওরা মানেব না!  এমন চুক্তিই করছে ইনুস সাহেব! 

    এবার আসেন মজার শেষ ধাপে। এই চুক্তির পিছনের মূল কারিগরের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন ইনুস সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বিএনপি এক সময় তার পদত্যাগ চেয়েছে। বলেছে তিনি বিদেশি নাগরিক। তীব্র সমালোচনা করেছে। মজাটা হচ্ছে বিএনপি এই জিনিসকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রী বানিয়েছে! খেলাটা বুঝা গেল? অনেকেই বুঝে নাই। অনেকের মাথা আউলায় গেছে। বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে বিএনপির অনেকে নেতাই নাকি অবাক হয়েছে এই সিদ্ধান্তে। নানা সময় বিতর্কিত মন্তব্য করা কবি ব্রাত রাইসু এই বিষয়ে একটা দারুণ পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। তিনি লিখেছেন খলিলকে বিএনপি চেয়ারে বসাল না খলিলই বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাল এইটা আগে চিন্তা করেন! বিষয় এইটাই, আর কোন হিসেব মিলে না এখানে। খলিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রানলয় পাওয়া এক কথায় অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোন লেবেলের খেলা হয়ে গেছে তা বুঝা আপনার আমার বুঝার অনেক বাহিরের বিষয়। অন্তত আমার জ্ঞানের বাহিরে তা আমি নিশ্চিত। এই হল ইনুসের ১৮ মাস, ৫৫৯ দিনের শাসনের নির্জাস। 

    নির্বাচনের পরে লীগের অফিস খুলেছে বেশ কিছু জায়গায়। এইটা ভালো লক্ষণ লীগের জন্য। বিএনপির আনঅফিসিয়াল সম্মতি আছে হয়ত এর পিছনে। কারণ বিএনপি এইটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য কিছুই করে নাই। যা করার করছে এনসিপি আর জামাতের লোকজন। এইটা কিসের লক্ষণ তা সামনে বুঝা যাবে। লীগ যদি এই বছরে দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারে তাহলে সামনে অনেক কিছুই হবে যা ভাবা যায়নি আগে! কী হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষাই করতে হচ্ছে আপাতত। 

    নির্বাচনের পরে ঢাবিতে রাজাকার বিরোধী মিছিল হয়েছে, ট্রাকে স্পিকার নিয়ে ঘুরেঘুরে রাজাকারদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। মানুষ খুব খুশি। কিন্তু এখানেও আমার মাথায় যে প্রশ্নটা প্রথমে আসল তা হচ্ছে তোমরা কারা? কই ছিলা এতদিন? এই যে বস্তায় বস্তায় ভোট দিয়ে পুরো প্যানেলকে ছাত্র সংসদে শিবিরকে পাশ করালা, তখন তোমাদের মনে হয় নাই এরা সব রাজাকাদের শাবক? এখন বাতাস ঘুরে যেতেই মনে পড়ছে রাজাকারদের কৃতির কথা? এদেরকে আমি আর বিশ্বাস করি না। এরাই আমি রাজাকার স্লোগান দিয়ে মাঠে নামছিল! আশ্চর্য প্রজন্ম। 

    শেষ করি। সাবেক জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল বাংলাদেশে আসছিল। এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার উদ্বোধন করেছেন! কেন এই আলাপ করছি এখানে? বাকিটুকু পড়লে বুঝবেন। তার সাথে আসছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ছেলে। আর এদেরকে আনছিল সাদিক কায়েম, শিবিরের নেতা, ডাকসুর প্রেসিডেন্ট! অনেকদিন থেকেই বাতাসে গুঞ্জন যে জামাত শিবির এখন তুরস্ক মুখি। এবং তুরস্কও জামাত মুখি! গত বছর শিবির তুরস্কের ফান্ডে ছাত্রদের মধ্যে রীতিমত টাকা বিলিয়েছে! এইটা সদ্য ক্ষমতায় বসা বিএনপি এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশের জন্যও মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ হবে হয়ত। 

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • ব্লগ | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২১ বার পঠিত
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • . | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:৩০738749
  • জটিল অবস্থা 
  • হীরেন সিংহরায় | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫১738750
  • দেশটার সঙ্গে বিশ বছরের পরিচয়ে কত কিছু বদলালো  কত বিশ্বাস ভেঙে গেল। একটা সময়ে আমার ব‍্যাংকের সহকর্মীদের Banker to the poor বই কিনে বিলি  করেছি। তাঁর নামটাই ম‍্যাজিক তখন। আর আজ?
    ভালো থাকবেন। 
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। লুকিয়ে না থেকে প্রতিক্রিয়া দিন