বাংলাদেশের মানুষের আইকিউ লেবেল গড়ের থেকেও নিচে, এমন একটা খবর এখন বেশ প্রচার হচ্ছে। এইটা নিয়ে আগেও অনেকবার অনেকেই বলেছে। এখন কেন আবার এইটা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে বুঝি নাই। এইটা তো সত্যই, এ নিয়ে সন্দেহ করার কী আছে? দেখুন, আমি বুঝি নাই লিখেছি দেখে আবার ভেবে বসবেন না যে আমার আইকিউও গড়ের নিচে। আমার বুদ্ধিমত্তা ঠিক আছে একদম। এর জন্যই আমি আগেই বুঝতে পারছি। অনেকে বুঝে নাই দেখেই এই অবস্থা।
আমাদের যে গড় বুদ্ধিমত্তার থেকে বুদ্ধি কম এইটা অনেক আগেই আমার সন্দেহ হয়েছিল। কত আগে? এইটা বলা মুশকিল আসলে। এখন মনে পড়ছে যখন পদ্মা সেতুর কাজ চলছিল তখনকার কথা। তখন অনেকের মাথার খুলি নিয়ে সন্দেহ করল। বলল এগুলা ভুয়া কথা। অথচ এইটা তো সাইন্স যে মাথার খুলিতে ম্যাগনেট থাকে, তা ব্রিজের খুঁটি দিতে লাগে, খুঁটির নিচে খুলি দিলে তা মজবুদ হয় বেশি। এইটা তো মিথ্যা না রে ভাই। এইটা অনেকেই না জেনে নানা মন্তব্য করতে থাকল! আমি আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম সেইদিন। মানুষের এত বুদ্ধি কম? কীভাবে দেশ আগাবে? আরে এই দেশে অনেক শিক্ষিত মানুষ বিবর্তনে বিশ্বাস করে, বুঝচ্ছেন অবস্থা? কই নামছে আমাদের বুদ্ধিমত্তা?
আমাদের যে সাইন্স বুঝতে সমস্যা হয় তা না। আমাদের নানা কিছু বুঝতেই সমস্যা হয়। অনেকেই বেশি বুঝে ভাব দেখায় আসলে কিছুই জানে না। ইতিহাস তো জানেই না। এই যে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের খাতা চুরি করে নোবেল জিতল এইটা কে না জানে? শুধু তাই? নজরুলের প্রতিভা যে আর বিকশিত না হয়, যেন সে আবার লিখে নোবেল টবেল পেয়ে না যায়, তাই বিষ খাইয়ে মাথাটাকেই নষ্ট করে দিয়েছিল রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু দেখেন এই দেশের অনেকেই এইটা বিশ্বাস করে না! আরে ভাই ফ্যাক্ট তুমি বিশ্বাস করে বা না করে বদল করতে পারবা? ফ্যাক্ট, এইটা পরিষ্কার একটা ফ্যাক্ট। তুমি জানো না মানেই যে নাই তা না। এই সব কারণেই আইকিউয়ে ধরা খাচ্ছি আমরা। রবীন্দ্রনাথ যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে বাধা দিছিল তা তো দিনের আলোর মত সত্য। অথচ এই বিলো অ্যাভারেজ মানুষ এগুলা জানে না, বুঝে না। সারাদিন তর্ক করে শুধু।
আমাদের বুদ্ধিমত্তা যে কম এর আরও বড় প্রমাণ হচ্ছে যে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত লিখছে একটা ভারতীয় হিন্দু লেখক! ৯০% মুসলিমের দেশে হিন্দু ভারতীয় লেখকের গানকেই কেন জাতীয় সঙ্গীত করতে হবে? সব যে ভারতের ষড়যন্ত্র এগুলাও মানুষ বুঝে না, এতই বুদ্ধি কম মানুষের। এই যে ২৪ সালে এত বড় একটা গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল। কী দেখলাম আমরা? দেশ স্বাধীন হল। এর আগ পর্যন্ত ভারতের অলিখিত অঙ্গরাজ্য হয়ে ছিল এই দেশ। ঢাকায় গিজগিজ করত রয়ের এজেন্ট। আন্দোলনের সময় আমার বন্ধু নিজে শুনছে সামরিক পোশাক পরা, পুলিশের পোশাক পরা লোকজন হিন্দিতে কথা বলছে! অনেকেই বলে আমি সাম্প্রদায়িক কথা বলছি। কিন্তু সত্যকে লুকাব কীভাবে? এত বছর হিন্দুদের সব বড় বড় পদে বসায় রাখছিল ভারতের তাবেদার সরকার। আরে মুসলমানের দেশে হোটেলে গরু বিক্রি করে না, একবার ভাবেন অবস্থা! বুদ্ধি কম থাকলে যা হয় আর কী! এমন করে শোষণ করে গেছে আমাদেরকে।
আমাদের ইমান আকিদাও ঠিক নাই। করোনার সময় দৌড় দিল টিকা নিতে! আশ্চর্য! আমরা যে টিকা নিলাম না, মরে গেছি? বেশিরভাগ মানুষই নিলো টিকা, কারণ? কারণ আমাদের বেশির ভাগ মানুষের বুদ্ধিমত্তা গড়ের চেয়ে কম। না হলে কালোজিরা মধু খেলেই তো এই সব রোগ সেরে যায়। মানুষ বুঝলই না। কোরানে সব আছে এইটাই বিশ্বাস করে না মানুষ। কিন্তু বিধর্মীরা সব কোরান থেকেই নিয়ে এগুলা আবিষ্কার করে তারপরে মুসলমানের বিরুদ্ধে এগুলাই আবার কাজে লাগায়। আধুনিক যা যা আবিষ্কার দেখছেন সব কোরান থেকে নিয়েই তো বানিয়েছে। কম্পিউটার, ফেসবুক সব কোরান থেকেই আবিষ্কার! আর সব ষড়যন্ত্র করে করে আমাদেরকে শেষ করে দিচ্ছে। সবাই ষড়যন্ত্র করে শুধু। ইহুদি নাছারার ষড়যন্ত্র, হিন্দুদের ষড়যন্ত্র, ইশকনের ষড়যন্ত্র, ভারতের ষড়যন্ত্র! কেমনে আগাব আমরা?
আপনারা শুনলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে এখনও এই দেশে বহু মানুষ বিশ্বাস করে না যে নীল আমস্ট্রং চাঁদে গিয়ে চাঁদ যে দ্বিখণ্ডিত হয়ে ছিল তা দেখে এসেছে। চাঁদে যে উনি আজান শুনে আসছে, পরে পৃথিবীতে এসে এই জিনিসের মত আর কিছুই খুঁজে পান নাই, একদিন মসজিদের পাস দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি শুনেন যে সেই মিউজিক কোথা থেকে যেন কে গাইছে। পরে তিনি কথা বললেন, জানলেন যে এইটাকে আজান বলে, এইটা কোন সঙ্গীত না। তখন তিনি বললেন যে এইটা তো আমি চাঁদে শুনে আসছি! পরে তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন। এমন কংক্রিট তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই এইটাকে বিশ্বাস করে না। এদের আইকিউ যে কম হবে তা তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে? এইটা তো আর মিথ্যা কথা না, এগুলা সব লিখা আছে, আমি নিজে দেখছি লেখা আছে, স্পষ্ট লেখা আছে!
আমাদের মত যাদের দিন দুনিয়া সম্পর্কে ধারণা আছে তারা এখন কথা বলা শুরু করছে। সামনে হয়ত সব ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের পাঠ্য বই থেকে ঝেটিয়ে সব অপসংস্কৃতির কথাবর্তা, অবৈজ্ঞানিক কথা বাদ দিয়ে যখন সুষ্ঠু একটা হালাল বিজ্ঞানভিত্তিক সিলেবাস দেওয়া যাবে তখন আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে আসবে। তখন কেউ আর আমাদের আইকিউ নিয়ে খোটা দিতে পারবে না!
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।