বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে বসল! আমার কোনমতেই বিশ্বাস হচ্ছে না এই কথা। সমস্যা ছিল, আছেও হয়ত তাই বলে বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নিতে হবে? এ কোন সময়ে কোন যুগে বাস করছি আমরা? পুরো বিষয়টাই একটা বড় রকমের ফাইজলামি মনে হচ্ছে আমার। আমার ধারণাটা একটু বলে রাখি এখানে। কেন জানি মনে হচ্ছে আমি যা মনে করছি তার থেকে সত্য বেশি দূরে হবে না।
এই সরকারের অন্যতম শক্তিশালী উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি তার অতীতের নানা মন্তব্য, ফেসবুক পোস্ট নিয়ে একটু বিব্রত অবস্থাতেই আছেন। কারণ যার কাজ করতে হয় না, সমালোচনা করেই চলে যায় দিন তার তো মুখের লাগাম থাকে না। আসিফ নজরুলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। নানা সময় নানা কথা বলেছেন। যেহেতু প্রমাণের দায় ছিল না তাই বলে গেছেন যা ইচ্ছা তাই। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাচারটা হচ্ছে ২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে চাকরি করছে। তাদেরকে দেশ থেকে তাড়ানো কথা বলে বলে এক সময় মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন। কিন্তু যখন নিজেই সরকারের অংশ হলেন তখন আর ২৬ লক্ষের ২৬ হাজার কিংবা ২৬০০ ভারতীয়কেও তিনি খুঁজে বের করে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছেন এমন নজির স্থাপন করতে পারলেন না। এইটা নিয়ে বেশ ভালো রকমের বিব্রত ছিলেন তিনি। নানা জায়গায় এই প্রশ্ন এসে পড়ত। বিব্রত না হয়ে উপায় কী?
সরকারের শুরু থেকেই প্রবল ভারত বিরোধিতার সুর নিয়ে বসে ছিল। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মায়েরে খালাম্মা ডেকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত সেভেন সিস্টার নিয়ে মন্তব্য করে বসে থাকতেন। কথায় কথায় ভারত দখল করে নিচ্ছে আমাদের অবসর প্রাপ্ত সেনা অফিসাররা। ভারত বিরোধী প্রবল বাতাস দেশ জুড়ে বয়ে চলছে। এই বাতাস যেন বন্ধ না হয় তার জন্য নানা মহল হাওয়া দিয়েই যাচ্ছে এই পালে। কিন্তু এগুলো সবই মুখে মুখে রাজা উজির মারা। কাজের কাজ কিছু না। লীগ সরকারকে এত বছর গালি দেওয়া লোকেরা একটা চুক্তিও বাতিল করতে পারল না বা দেশবাসীর সামনে আনতে পারল না এমন কোন চুক্তি যা দিয়ে প্রমাণ হয় দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিল লীগ। এই যে দেখাতে পারল না এইটাও একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছিল। দেখা যাচ্ছিল আগের চেয়ে বাণিজ্য বেড়েছে বেশি, আগের চেয়ে বেশি চাল ডাল, পেঁয়াজ আসতেছে। আগের চেয়ে বেশি ইলিশ যাচ্ছে। সীমান্ত হত্যা নিয়ে যে এত কিছু সেই সীমান্ত হত্যাও বেড়ে গেছে এখন তবুও কোন শব্দ করতে পারছে না। সরকার চালাতে গিয়ে তারা বুঝছে বাহির থেকে নানা মন্তব্য করাই যাই কিন্তু সরকার চালাতে গেলে বুঝা যায় কত ধানে কত চাল।
এগুলা সবই এরা নিজেদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতেছিল। ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোন উপায় পাচ্ছিল না। যতই রাগ থাকুক, দাঁতে কামড় দিয়ে বসে ছিল এরা। দেশ চালাতে হলে ভারতের সাথে পাঙ্গা নিয়ে চালানো সম্ভব না। যে পণ্য ভারত থেকে আনলে কমে আনা যায় তা আরেক দেশ ঘুরে কিনে বেশি টাকা খরচের কোন মানে হয় না। যদিও সেই চেষ্টাও এই উপদেষ্টারা করেছে। ভারতের চিনি আরেক দেশ থেকে কিনেছে বেশি দামে। তাই বাধ্য হয়েই ভারতের সাথে সম্পর্ক ধরে রেখেছিল তারা। মুখে ভারত বিরোধিতা করা জারি রাখলেও কাজের মধ্যে তা দেখানোর কোন সুযোগ পায় নাই এরা।
সেই সুযোগ এসে গেল মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরে। আসিফ নজরুল গং একটা উপায় পেল ভারত বিরোধিতাকে একটা রূপ দেওয়ার। সব কিছু একদম সুন্দর টাইমিং হয়ে গেল। তারা সুযোগটা লুফে নিলো। এতদিনের সব রাগ দেখানোর সুযোগ এসে গেল। যে জিনিস তীব্র প্রতিবাদ দেখানোর মাধ্যমেই শেষ হতে পারত। আইপিএলের খেলা দেখানো বর্জন করার মাধ্যমেও মধুর প্রতিশোধ হতে পারত তা গিয়ে দাঁড়াল বিশ্বকাপ বর্জনের মত ভয়ংকর সিদ্ধান্তে। টাইমিং দারুণ হল। তাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তে ভারত বিরোধিতা দেখানোও হল। এরপরে যা যা ভোগ করবে বোর্ড, খেলোয়াড়রা তা দায়ও তাদের থাকছে না। তারা তো আর এই জিনিসের মুখোমুখি হবে না। সরাসরি হিসেবেই প্রায় চার পাঁচশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। এর বাহিরে বিশ্বকাপ ঘিরে যে আয়োজন চলে দেশ জুড়ে তার হিসাব করতে হবে না? মিডিয়া হাউজ থেকে শুরু করে লোকাল জার্সির দোকান পর্যন্ত বিশ্বকাপের জন্য আয়োজন করে বসে থাকে। এগুলার প্রভাব নাই? আছে কিন্তু এইটা নিয়ে তো তাদের ভাবার দরকার নাই। তারা যাওয়ার আগে প্রবল ভারত বিরোধিতা দেখানোর সুযোগ পেল, সেই সুযোগ ছাড়বে কেন?
ভারতের দায় ছিল না? ছিল বা আছেই হয়ত। কিন্তু এই কারণে তো আমি আমার ক্ষতি করতে পারি না। ভারত বহুদিন ধরেই ক্রিকেটে দাদাগিরি করে। তো? এইটা নতুন? এইটা মেনে নিয়েই তো খেলে আসছে সবাই। ভারতের দাদাগিরি কেন মেনে নিচ্ছে সবাই? কারণ ব্যবসা, টাকা! ভারতের সাথে একটা টুর্নামেন্ট খেলে যা আয় হয় তা দিয়ে বোর্ডের সারা বছরের খরচ উঠে পরে। পাকিস্তান ভারত আগের মত খেলা না হওয়ায় পাকিস্তান বোর্ডের অবস্থা কাহিল হয়ে আছে। এইটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। আইসিসি যে গরু দুধ বেশি দিচ্ছে তার দিকে একটু সুনজর সব সময়ই দিয়ে যাচ্ছে। সবাই এইটাকে মেনেই নিয়েছে। কারণ বাস্তবতাকে অস্বীকার করবে কীভাবে? সেই বাস্তবতা মেনে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল না? আমরা কত বড় বোর্ড? আইসিসি থেকে প্রায় ৬০ ভাগ টাকা আসে বোর্ডের। এখন? আইসিসি এমন করে হুট করে বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করলে কিছুই বলবে না? কোন শাস্তি আসতেছে না আমাদের ঘাড়ে? নিশ্চিত ভাবেই আসতেছে। কিন্তু তা আসিফ নজরুলের ভাবার সময় হয় নাই। কারণ তিনি চলে যাওয়ার আগে ভারত বিরোধী কার্ডটাকে নবায়ন করে নিতে পেরেছেন।
আমার কাছে এর চেয়ে যুক্তিযুক্ত আর কিছু মনে হয় না। আসিফ নজরুলের মত লোকের ইগোর কাছে বলি হল বাংলাদেশ ক্রিকেট। ভারতকে একটা জবাব তো দেওয়া হল। এতে ভারতের কী ক্ষতিটা হল আর আমাদের কী লাভ হল সেই হিসাব করার সময় কই? পাকিস্তান আছেই বাহাবা দিতে। দেশে যে ছাগল গুলোকে এতদিন লালন পালন করে আসতেছিল তাদেরকে কিছু খোরাক দেওয়া গেল। ফেসবুকে ভেসে যাচ্ছে প্রশংসায়। তামিম ইকবাল সব সিদ্ধান্ত ভেবে চিন্তে নিতে বলায় তাকে ভারতের দালাল বলে দিছে সোজা! যে তামিম দুইদিন আগে ছিল বিএনপির দালাল সে হয়ে গেল ভারতের দালাল! যারা, যে সাংবাদিক এর বিরোধিতা করে কথা বলছে তার কপালেই জুটছে ভারতের দালাল খেতাব। কে কথা বলবে?
বিষয়টাকে কৌশলে সামাল দেওয়া যেত না? অবশ্যই যেত। আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছিল। আমার যেহেতু ঠেকা তাই আমার উচিত ছিল আমার একটা প্রতিনিধি দল নিয়ে ইন্ডিয়া যাওয়া। আমাদের কোথায় সমস্যা তা তাদেরকে বুঝানো। আমরা যে খেলতে চাই এইটাকে জোর দিয়ে সমস্যার সমাধান চাওয়া। ভারতে ভারতের মানুষকেই বাংলাদেশী বলে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটছে। সেই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকতেই পারে আমাদের। সেই নিরাপত্তার ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিবে ভারত বা আইসিসি তা নিয়ে বসা যেত। বিসিসিআই মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার জন্য কোন যুক্তি দিয়েছে? সেই যুক্তি নিয়ে কথা বলা যেত। বিসিবি যে যুক্তি দিচ্ছে মুস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না পুরো দলকে কীভাবে দিবে, এইটা খুব বড় কঠিন যুক্তি মনে করছে অনেকে। কিন্তু ভুলে যাচ্ছে আইপিএলের আর বিশ্বকাপ এক বিষয় না। বিশ্বকাপের দায়িত্ব থাকে আইসিসির হাতে। বৈশ্বিক একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে তার নিরাপত্তা আর জাতীয় পর্যায়ের একটা টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা এক হবে না। যত যাই হোক, আইপিএল তো শেষ পর্যন্ত একটা লোকাল টুর্নামেন্টই, এরচেয়ে বেশি কিছু তো আর না। এই জায়গায়টাতেই দর কষাকষিতে হেরেছে বাংলাদেশ। আইসিসি কেন ভারতের ঘরোয়া লীগের ব্যাপারে কথা শুনে ভেনু পরিবর্তনের মত পদক্ষেপ নিবে? আরও একটা কথা উঠে আসছে। ভারত পাকিস্তান যেতে চায় নাই নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে, আইসিসি ভেনু পরিবর্তন করেছে। এইটাও একটু গভীর ভাবে না ভাবলে বুঝা কষ্টকর হবে। ভারত ভেনু পরিবর্তন করতে বলছিল কতদিন আগে মানে টুর্নামেন্ট শুরুর কতদিন আগে? একদম আমাদের মত শেষ সময়ে? আমার এখন ঠিক মনে পড়ছেন না। দ্বিতীয়ত পাকিস্তানে নিরাপত্তা সমস্যা, এইটা বললে যে কারোই বিশ্বাস হবে। খালি চোখেই দেখা যায় যে হ্যাঁ, নিরাপত্তা সমস্যা হইতে পারে। অন্য দেশের ক্ষেত্রে তো তেমন না। অন্য দেশের প্রতি একই আঙুল তুলতে হলে শক্তিশালী কারণ দেখাতে হবে। না হলে ধোপে টিকবে না এমন আবদার।
এর বাহিরে কথা থাকে কিছু। ভারতে বাংলাদেশী সন্দেহে ভারতীদেরই ধরে ধরে মারা হচ্ছে। সত্যিকারের বাংলাদেশীদের পাইলে কিছুই করবে না? আমার পরিচিত একজন চিকিৎসা নিতে চেন্নাই গিয়েছিল। প্ল্যান ছিল ফেরার সময় কলকাতা হয়ে ফিরবে, শপিং করে টরে ফিরবে। রীতিমত দৌড়ানই খেয়ে জান হাতে নিয়ে চলে আসছে তারা! সেখান থেকেই বিমানে চলে আসছে দেশে। আমার বোন ভগ্নীপতি চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সমস্ত পরিকল্পনা করেছিল, তাদের এই কাহিনী শুনে তারা এখন পিছাচ্ছে। হয়ত অন্য কোথাও যাবে। তো, এইটা একটা বাস্তব সমস্যা। এর সমাধান কী দেওয়া হয়েছে? আইসিসি তো শুধু খেলোয়াড় আর অফিসিয়ালদের দায়িত্ব নিত, সাংবাদিক, সমর্থকেরা নিরাপদ থাকত? এই বিষয়টা কি ভেবে দেখা হয়েছে? এর জবাব কী দিয়েছে তারা? এখন সাংবাদিকদেরও প্রবেশ অধিকার দিচ্ছে না আইসিসি! এইটা কেমন? যাই হোক, আমার মনে হয় ঠিকঠাক পদক্ষেপ নিলে এগুলারও নিশ্চয়ই সমাধান বের করা যেত।
এ নিয়ে আসলে আমার বলার কিছু নাই। যাদের উদ্দেশে বলছি তারা এগুলা ভালো করেই জানে। তারা সেই রাস্তায় হাঁটবেই না তা আগেই পাকা করে বসে আছে। Between the lines একটা কথা আছে না? আমরা যেমন জানি যাই বলুক বিসিসিআই মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে। তারা অন্য যে কারণই দেখাক না কেন আসল কারণ হচ্ছে এইটা। তেমনই আসিফ নজরুল গং যে যুক্তিই দিক না কেন আসল কারণ হচ্ছে ভারত বিদ্বেষ। এই অসম লড়াইয়ে প্রথম চোটেই মারা গেছে ক্রিকেট আর স্পোর্টসম্যানশিপ! যে খেলাধুলাকে সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে রাখা হয়, ব্যবহার করা হয় সমস্ত লড়াই দ্বন্দ্বের সমাধান হিসেবে। এখানে তাকেই ব্যবহার করা হল হিংসা বৃদ্ধি করতে।
হাস্যকর কাজ হয়েছে এরপরে। বিসিবি হুট করেই মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে টানতেই কি না কে জানে, তারা এখন সাকিব আল হাসান নিয়ে কথা বলা শুরু করছে। তাকে এখন জাতীয় দলে খেলতে দিবে! বিশ্বকাপের কবর দিয়ে এখন সাকিবকে খেলতে দিবে ঘোষণা যে কোন মাপের ফাইজলামি তারা কি বুঝতে পারছে? এই সরকারের নানা উচ্চমার্গিয় আলাপের মধ্যে দুইটা নাম বলবেন শুধু, সব হয়ে যাবে নিমিষেই। একটা হচ্ছে ব্যারিস্টার সুমন দ্বিতীয়টা হচ্ছে সাকিব আল হাসান! সুমন স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে সংসদে গেছিলেন। তীব্র ভাষায় লীগের সমালোচনা করে গেছেন। আন্দোলনের সময়ও সে ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেছেন। বিনা পয়সায় লড়তে চাইছেন ছাত্রদের পক্ষে। যখন সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নিলো তখন সে বলছে না, আমি তো এইটার পক্ষে নাই। শুধু তাই না। তখন সুমন যা যা বলেছিল পরবর্তীতে তাই তাই হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমন নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে। শুধু এইটুকু বলি, এই লোকটা সামনের বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সুমনের অবস্থান আর আপামর সাধারণ মানুষের অবস্থান একদম একবিন্দুতে এক। তাঁকে বড় আটকে রাখা যাবে না।
২
লেখাটা শেষ করেই দিচ্ছিলাম। কিন্তু মনে হল আরেকটা বিষয় লিখে রাখি এখানে। বাগেরহাটের এক ছাত্রলীগ নেতা জেলে বন্দি। বেচারার একটা বাচ্চা হয়েছে, স্ত্রী দারে দারে ঘুরেছে জামিনের জন্য। বেচারা জুলাই আন্দোলনের সময় দেশেও ছিল না, চিকিৎসার জন্য ভারতে ছিল। অথচ জুলাইয়ের নানা মামলায় তাকে জেলে ঢুকানো হয়েছে। দেশের এই মাপের নেতাকর্মীরা ভীষণ বিপদে আছে। সাদ্দাম নামের এই নেতাও বিপদেই আছে। বাচ্চা নিয়ে দিশাহারা মা বাচ্চাসহ আত্মহত্যা করেছে! সাদ্দামের কষ্ট এখানেই শেষ হয় নাই। বেচারাকে জানাজার জন্যও জামিন দেয় নাই শান্তির দূতের সরকার। জেল গেটে ৫ মিনিটের জন্য দেখতে দিছে মৃত সন্তান আর স্ত্রীকে। এমন দিন বাংলাদেশ আগে দেখছে কি না আমার জানা নাই। কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ লিখেছে - 'মৃত শিশু দেখা করতে গেছে, তার জীবিত পিতার সাথে!' আমাদের কোনদিকে ঠেলে দিচ্ছে বুঝা যায়?
পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।