এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • টইপত্তর  বাকিসব  শোনা কথা

  • কি ভাবিতে হইবে

    বোদাগু
    বাকিসব | শোনা কথা | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ৩৮ বার পঠিত
  • ( শিরোনামের পরের লাইনে যারা অট্টাহস্যের পরে এসে পৌঁছতে পেরেছেন, তাঁদের ও তাঁদের ঘোড়াশালের ঘোড়াদের ধাতস্থ হতে আরো দশ সেকেন্ড দেওয়া হল )

    প্রতীক এর বিতর্ক, বিতর্কের প্রতীক

    বামফ্রন্ট এবং সিপিএম পার্টির অভ্যন্তরে কার সঙ্গে জোট করা হবে তাই নিয়ে বিতর্ক চলছে বলে শোনা গেছে। এ প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত এবং সুপরিচিত গাঁয়ে-মানেনা-আপনি-মোড়ল-হিসেবে আমি কিছু কথা ফেসবুকে লিখেছি। সেগুলি এখানে তারিখ ও সাক্ষর সহ ব্লগাকারে রাখা হল। কারণ ফেসবুকের মহান ​​​​​​দুশ্চিন্তা ​​​​​​তার প্রাপ্ত বুড়ো আঙুল চিহ্নের মতই ​সর্বদা ​​​​​​​বিরল ও ​​​​​​​কালের ​​​​​​​গর্ভে ​​​​​​​পলায়নপ্রবণ।

    ১৯ ০২ ২০২৬

    প্রশ্নটা সেকুলারিজম এর শুধু না। প্রশ্নটা সাবর্ণ আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র ও সামাজিক মতাদর্শের মধ্যে অংশীদারিত্বের রাজনীতির কর্মপদ্ধতি প্রসঙ্গে।

    - প্রথমে দেখা যাক হুমায়ুন কেন খারাপ লোক? কারণ তিনি প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন ? তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এবং এটা শুভেন্দু বা দিলীপ বা অর্জুন ছেড়ে দিন মেডিয়ার কুসুম বালক বালিকা বা সবচেয়ে মূলধারার মিডিয়ার অংশে মুসলমানদের সম্পর্কে যে ভাষায় কথা হয় বাংলাদেশ এর প্রগতিশীলদের সম্পর্কে যে ভাষায় কথা হয় কাউকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে বলে শুনিনি।

    - আরেকটা কারণে হুমায়ূন খারাপ লোক, কারণ তিনি নাকি বাবরির রাজনীতি এনেছেন বাংলায়? তো বাবরি ধ্বংসের সমাধান যার করার কথা ছিল সেই বিচার ব্যবস্থা যখন ব্যর্থ হয়েছে, লিবারহানস কমিশন রিপোর্ট ডাস্টবিনে তখন বেলডাঙার গাঁয়ের নেতা যদি শুধু উচ্চাকাঙ্খার জন্য বাবরি নাম ব্যবহার করে মসজিদ নির্মাণের ডাক দেন, এমন একটা আবহে যখন সরকারি টাকায় মন্দির গড়া হচ্ছে, কি বাড়তি দোষ করলেন, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা কি একমাত্র কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদপ্রাপ্ত হলে শুদ্ধ?

    সিপিএম এখন একটা ছোট এবং প্রায় গুরুত্বহীন পার্টি, তবু তার সর্বস্তরে পার্টি লাইন নিয়ে বিতর্কের একটা চর্চা আছে। আর আছে একটা অদ্ভুত ইতিহাস। কৃষক আন্দোলনে সে সারা দেশে এগোলেও বাংলায় পেছিয়ে, কারণ কৃষক এমনকি জমি বেচতে চাওয়া কৃষক ও নতুন করে জমিহারা ক্ষেতমজুর ও এখনো ব্যাপক হারে তিতিবিরক্ত হবার কারণ থাকলেও সিপিএম এ ফেরেন নি, শ্রমিকের লড়াই সম্পূর্ণ ভাবে সত্তরের স্ট্রাইক ব্রেকারদের কব্জায়, উচ্চশিক্ষায় রেজিস্টান্স আছে কিছু কিন্তু কল্পিত কর্মসংস্থানের জগতে স্বল্পশিক্ষিতের উচ্চাকাঙ্খার জায়গা বেশি নেই। পাবলিক সেক্টর প্রকাশ্যে বা গোপনে কমানো চলছে, সরকারি চাকরিই হয়ে যাচ্ছে কন্ট্রাক্ট ভিত্তিক, ধর্মঘটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, জনদরদের তীব্রতায়। নতুন শ্রমসুযোগ তৈরি হবার যো নেই, যদি না চীনের কোম্পানিকে বাংলায় কারখানা করতে আহ্বান করা হয় অথবা দেশব্যাপী আমদানিতে কিছু বাঁধ এনে পূর্বাঞ্চলের উৎপাদন বাজার তৈরি হয়, এবং পাশাপাশি গ্রীন ইনোভেশনের জগতে যদি জোয়ার না আসে।
    কারণ শিল্পে গুজরাট মডেল হলেও ভারত মডেল হবার সুযোগ নেই।

    অন্যদিকে সামাজিক মনুবাদ ক্ষমতার শীর্ষে, সারা দেশে ফিউডালিজম এর রাজা গজা তন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চলছে, মুসলমানদের ওপরে, নিম্নবর্গীয়দের উপরে মহিলাদের উপরে আদিবাসীদের উপরে সর্বাত্মক সাংস্কৃতিক এবং প্রশাসনিক আক্রমণ আনা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সারা দেশের বামপন্থা যে ভাবে নিজেকে সঙ্জ্ঞায়িত করছে সেভাবে বাংলার বামপন্থীদের এগোতে হবে। পুরোনো সেকুলারিজমের ধারণা এবং আকাশবাণীর পুরোনো খবরের মতো, 'দুটি গোষ্ঠী' এবং 'ফ্ল্যাগ মার্চের' উল্লেখ কিংবা প্রচেষ্টা কোনোটাই যথেষ্ট না। মন্ডল কমিশন পরবর্তী ভারতে যাদের পক্ষ বাছতে অসুবিধে হয় নি, সাচার কমিশন পরবর্তী বঙ্গে তাদের পক্ষ বাছতে অসুবিধা হবার কথা না।

    মমতা তার টোকেনিজম এবং ট্রানসাকশনাল দেওয়া-নেওয়ার রাজনীতি চালাবেন, তিনি সঞ্জয় গান্ধীদের আমলে তৈরি হওয়া নেতা। তিনি লেপচা পরিষদ তরি করে গোর্খা সমস্যা সমাধান দাবী করলে হাততালি দেবারর লোকের অভাব নেই। কিন্তু সিপিএম এর উত্তর সত্তর কলোনীর রাজনৈতিক ভিত্তি রাখতে গিয়ে আর সব হারাতে বসলে মুশকিল। জাতি বর্ণের রাজনীতিকে কি ভাবে দেখা হবে সেটা একা সিপিএম-এর আর জেএনইউ-এর জয় ভীম ওয়ালাদের সমস্যা ভেবে যেসব বামেরা বা লিবারেল রা আনন্দবাজারী অপএডের মুচকিতে বা দীর্ঘশ্বাসের পডকাস্টে ব্যস্ত তারা নতুন সমস্যা টের পাবেন যখন দেখবেন, কৃষি আন্দোলনে জাতি সমীকরণ আনলে তাঁরা আজকের শহুরে লিবেরাল-দের কাছে গালাগাল খাবেন। বহু বাঙালি জাতীয়তাবাদকেও চ্যালেঞ্জ করেই সেটাকে এগোতে হবে। এসআইআর পরবর্তী মতুয়া রাজনীতিতেও সেই পরিবর্তন আসতে বাধ্য। কি ওয়ার্ড অংশীদারিত্ব এবং ক্ষমতায়ন। আম্বেদকর একটা রাস্তা, তারও বিস্তৃতি চাই কারণ পূর্বাঞ্চলে সেটা সমাধান আনেনি।

    আর মেরিটপন্থীদেরও নতুন করে ভাবা দরকার যে স্বল্প শিক্ষিতের উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে নাক শিঁটকানির কারণ নেই, স্বল্প শিক্ষিতের জীবনযাত্রার উন্নতির ইচ্ছাই ঐতিহাসিক দিক থেকে যুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপ ও আমেরিকাকে স্বচ্ছলতা এবং প্রগতিশীল অন্তর্ভুক্তির গণতন্ত্র দিয়েছে, এবং চীনকে অন্ততঃ প্রথমটি দিয়েছে। চোর ও দাঙ্গাবাজদের মোকাবিলায় সব বামদলের তার্কিক বামপন্থীরা অন্ততঃ একদা সুতোহীন ক্যাম্পাস ক্যান্টিনপুষ্ট বামপন্থীর এই একটি কথা মনে রাখবেন। আপনাদের মতাদর্শের বিশুদ্ধতা বা পার্টি শৃঙ্খলা সংক্রান্ত আলোচনা দুটিই হচ্ছে মনুবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের নতুন জলসার বন্ধুত্বের আমলে। অতএব অন্তর্কলহে আর যাই হোক বিরোধী রাজনীতির অবস্থা ভালো হবে না, বৃহত্তর লড়াই বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা কমবে না আর মানুষের অধিকারের লড়াই এর পিছিয়ে পড়া থেকে মুক্তি হবে না। শুধু তর্ক না তর্কের কাঠামোটাকেও প্রশ্ন করা জরুরী। সেটা নতুন না, বামপন্থী দলগুলিতে, ধর্ম জাতি বর্ণ লিংগ প্রশ্নে যা গঠনমূলক পরিবর্তন আনার আন্তরিক প্রচেষ্ট হয়েছে, অনেক বিরোধী দলেই সেটা হয় নি, আর আপনাদের তিন থেকে ছ পার্সেন্টের জন্য বিজেপি বা তৃণমূলের প্রচার কেষ্টবিষ্টুদের পর্যন্ত অল্পস্বল্প মতাদর্শের বিতর্ক করতে হচ্ছে, সেটার জন্য সামান্য কলার উঁচু রাখতেই পারেন। এবং এটা বলাও একটু আধটু স্পেকুলেটিভ হলেও বলতে পারা যায়, একমাত্র বুড়ো ওয়েলফেয়ার ওয়ালাদের নির্বাচনী প্রভাব কিছুটা থাকলে তবেই হয় তো পশ্চিমবংগের এক অংশের লাদাখের মত কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল বা রাজ্য করার ভাবনা একটু পেছোতে পারে। অতএব আমার মতে বামেদের পক্ষে শুধু এগোনোটাই বাকি।

    বোদাগু
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:b0fc:d6:22d1:5c66:***:*** | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২১746818
  • ১৬ ০২ ২০২৬

    শাসকের প্রোপাগান্ডা মেশিনারি গত দুদিনে দুজনকে টার্গেট করেছে, একজন ভিক্টর, আরেকজন প্রতীক উর। এর আগে টার্গেট হয়েছেন নৌশাদ, হুমায়ুন, এবং সাগরের বায়রন এবং টার্গেট হয়েছে নাতাশা খান দের আশাকর্মী সংগঠন সহ আরো অনেকে। এঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনীতিবোধে আলাদা, নিজ নিজ শিক্ষাদীক্ষা এবং মননে স্বতন্ত্র আলাদা আলাদা ঝোঁকের বুদ্ধিজীবি রাজনীতিবিদ। কাউকে মেডিয়ার বয়ান অনুযায়ী আমরা, অর্থাৎ হিন্দু উচ্চবর্ণগণ, কখনো বেশি গ্রহণযোগ্য কখনো কম গ্রহণযোগ্য মনে করে থাকি এদেশে জন্মে এই আয়েশ আমরা অধিকার হিসেবে পেয়েছি। এবং অজান্তে white বা black listing করে থাকি। তো রাজনীতির ইতিহাসে এঁরা কেউ কখনো এগোচ্ছেন কখনো পেছোচ্ছেন। আমরা যারা বাম ঘরানার নিউজ জাঙ্কি, সাধারণ ভাবে কাজ করা খেটে খাওয়া এবং নানাভাবে ধর্ম বা জাতি বা লিঙ্গ বা অঞ্চলের পরিচয়ের কারণে নিপীড়িত মানুষের উত্তরণ দেখতে চাই, তাদের চোখ কান খোলা রাখাই ভালো। একটা জিনিস বোঝা দরকার, তাঁরা মুসলমান বলেই বা অন্ততঃ ছক ভাঙা রাজনীতি করে থাকেন বলেই তাঁরা টার্গেট। এবং তাঁরা নতুন যুগের কাঙ্খিত নাগরিক অংশীদারিত্বের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধি, এবং মতাদর্শ এবং কর্মপদ্ধতির কারণে হয়তো আরো আলাদা হবেন ভবিষ্যতে বা হয়তো সবাই মিলে তিতিবিরক্ত হয়ে একটা জায়গায় আসবেন বা আসবেন না, অন্য পেশা হয়তো বেছে নেবেন। যেমন বেছে নিয়েছেন অনেক প্রাক্তন ছাত্র নেতানেত্রী। বলে রাখা ভালো মূল যে বিতর্ক তিনটে এখন মুসলমানদের রাজনৈতিক মূলধারায় চলছে সেটা হল কেন্দ্রীয় না রাজ্য ভিত্তিক স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠনটা সঠিক পথ, নাকি সমস্ত ধরনের সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গেই কাজ করতে রাজি থাকাটাই বেশি বাস্তব সম্মত নাকি আম্বেদকরীয় ধারার রাজনৈতিক পরিভাষা ও কর্মসূচী কতটা গ্রহণ করা সম্ভব। বলাবাহল্য তারিক আলি-রা যে হা হুতাশ করতেন, মুসলমানদের নিজেদের রিফর্মেশন হল না, আমার দাবি হল এই বিশেষভাবে ভারতীয় বিতর্ক ও ভারতীয় churning-টিই ভবিষ্যতে একটি ভারতীয় মুসলমানের রিফর্মেশন হিসবে গণ্য হলে আশ্চর্য হব না। বলা বাহুল্য আমরা অনেকে ডিবেট-গুলিকে পার্টিশনের আমলে পেছোতে চাইবো, এবং আশা করি ব্যর্থ হব।

    এটাকে শুধুই দলীয় বা নির্বাচনের চশমা পড়ে দেখা ঠিক হবেনা। অন্ততঃ সচেতন বাম সমর্থক দের পক্ষে। কারা কি পথ কেন বাছবেন, মুসলমানের রাজনৈতিক আর্টিকুলেশনকে কিভাবে আরো গভীর এবং আরো প্রসারিত করবেন, বিশেষতঃ এই সর্বাত্মক আক্রমণের মুখে, সেটা তাঁদের ব্যাপার। হিন্দু উচ্চবর্ণের আলোকিত বা ডিলমেকার-দের ইচ্ছা অনিচ্ছা মর্জি বা এমনকি ঔদার্যের বা মতাদর্শের উপরে নির্ভর করবে না। এবং মুসলমানদের যাঁরা ভোট ব্যাঙ্ক বলে অপমান করে থাকেন, প্রত্যহের প্রশাসনিক ও সামাজিক অপমানের বাইরে আলাদা করে, তাঁদেরও ভারতীয় মুসলমানের আভ্যন্তরীন এবং বহির্মুখী দুধরনের বিতর্কে অংশগ্রহণে ও বৈচিত্রে ও গভীরতায় অনেকে ই আশ্চর্য হবেন আশা করি। তাতেই বাংলার ভালো হবে।

    বোদাগু
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:b0fc:d6:22d1:5c66:***:*** | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৪746819
  • ১৩ ০২ ২০২৬

    বাংলাদেশে নির্বাচন প্রসংগ 

    আমরা উচ্চবর্ণ ব ফারোয়ার্ড কাস্ট গণ আসামে, বাংলায়, ত্রিপুরায় এবং কেন্দ্রে বিজেপির শক্তি বাড়াবো আর ঢাকায় নতুন কামাল পাশা ক্ষমতায় আসবেন এসব বাজে আশা না করাই ভালো। একটা স্বাধীন দেশে কাকে সরকারে আনবে কাকে তাড়াবে সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। আমরা যেমন একদলকে এনে ত্রাহি ত্রাহি করছি বলে আনার অধিকার নেই তা তো না।
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:b0fc:d6:22d1:5c66:***:*** | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:২৭746820
  • ১৩ ০২ ২০২৬

    এটা অবশ্য বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে 

    আমরা উচ্চ ও মধ্য উচ্চবর্ণরা আসামে, বাংলায়, ত্রিপুরায় এবং কেন্দ্রে বিজেপির শক্তি বাড়াবো আর ঢাকায় নতুন কামাল পাশা ক্ষমতায় আসবেন এসব বাজে আশা না করাই ভালো। একটা স্বাধীন দেশে কাকে সরকারে আনবে কাকে তাড়াবে সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। আমরা যেমন একদলকে এনে ত্রাহি ত্রাহি করছি বলে আনার অধিকার নেই তা তো না।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবরকম সমস্যা আছে। এবং সে দেশের লোকেরা সেসব সমাধানে তাঁদের রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন। সে দেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে নতুন সরকার কেমন কাজ করবে তার উপরে তাদের স্থায়িত্ব দাঁড়য়ে থাকবে, যেমন হওয়া উচিত। আর তাদের নিজেদের ইতিহাস নিয়ে যেটা বিতর্ক, সেটা তো মেটার না, তবে আমাদের দুদেশেই পেশাদারি ঐতিহাসিকদের কাজের গুরুত্ব বাড়লে উপকার হয়। এবং দক্ষিন এশিয়ার ঐতিহাসিক দের যে নতুন করে ন্যাশনালিস্ট হবার দরকার একেবারেই নেই এটুকু অনুভব করলে উপকার হয়। এবং ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে যেন তথ্য সূত্র খোঁজা হয় তাহলে এই আকচা আকচি একটু কমে।

    কিন্তু ঘটনাটা হল, বাংলাদেশে যে দল বা গোষ্ঠিই ক্ষমতায় আসুক এদিকের বা আসাম ও বাংলার বিজেপি ভারতবর্ষের সমস্ত সমস্যার জন্য বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং ভারতীয় বাঙালি ঘটি মুসলমান বা শরণার্থীদের দায়ী করা বন্ধ করবে না। এমনকি ভারতের সরকারের সঙ্গে যদি বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় তাও। তাই অনেকদিন পরে একটা বড় ঘটনা ঘটলো, যাকে ভারতীয় ভোটারদের মধ্যে বিজেপি বিরোধী ভোটার হিসেবে বিজনেস অ্যাজ ইজুয়াল ছাড়া কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আর সোশাল মেডিয়ার মুর্খ দাপাদাপি দিয়ে যদি রাষ্ট্র দুটি ফরেন পলিসি র কাজ করে তাহলে দুটি দেশের সরকার কে ই দুটি দেশের সেন্সিবল লোকজন গালাগাল করলে ভালো লাগবে এটুকু বলতে পারি।

    আর যদি চীন বা আমেরিকার ভুলভাল ডমিনাম্স এর খেলায় দক্ষিন এশিয়ার সব দেশই নাম কম লেখালে ভাল হত, কিন্তু ঐটিই মেন চাপ।

    বোদাগু
  • বোদাগু | 2406:b400:1a:b0fc:d6:22d1:5c66:***:*** | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩০746821
  • ০৫ ০২ ২০২০৬

    ফুলবাবুর সংবাদ পরিক্রমা

    - তৃণমূলের সমর্থক রা হয়তো ভাবছেন রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা সংবেদনশীল ভাবে বিজেপির নাগরিকত্ব হরণ এজেন্ডা আটকাবেন, তাঁরা জানেন না রাজ্য সরকারের হোক কেন্দ্র সরকারের হোক একটা বড় অংশের বাঙালি চাকুরিজীবি মধ্যবিত্ত মনে করতে শুরু করেছেন মুসলমানের বা দলিতের ভোট দেবার অধিকার বা গণতন্ত্রই নষ্টের গোড়া। এই ন্যারেটিভই তাদের গেলানো হয়েছে, আর.এস.এস আর বিজেপির কাছ থেকে টাকা খাওয়া মেডিয়ার মাধ্যমে। মমতা তৃণমূল-এর জয় নিশ্চিত করতেই পারেন, কিন্তু নাগরিকত্ব হরণের এই চক্রান্ত আটকানোর ক্ষমতা বা ইচ্ছা আছে কিনা বলা মুশকিল। ছোটখাটো নামের ভুলে যেন বাদ না যায় বলছে বটে কোর্ট, কিন্তু তার পরেও লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্নই থাকবে। কারণ এসআইআর সে ভাবেই তৈরি করা হয়েছে, আজগুবি নিয়মের উপরে ভিত্তি করে। মমতা ধর্মের বা জাতির ভিত্তিতে টার্গেটেড সিস্টেমিক একসক্লুশনর কথা অন্তত কোর্টে বলেন নি।

    - বাম রাজনৈতিক বৃত্তে প্রকৃত অংশীদারিত্বের রাজনীতিতে যাদের আপত্তি তারা ছাড়া আর সকলেই সেলিমকে সমর্থন করবেন এবং মেডিয়ার সুরে না নেচে পার্টির মধ্যে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টাকে প্রতিহত করবেন। যাদের ন্যূনতম রাজনীতিবোধ আছে তাঁরা বুঝবেন প্রতিদিন রাজ্যে এবং কেন্দ্রে আক্রান্ত হবার সময়ে, চুড়ান্ত ধর্মীয় মেরুকরণের পরিস্থিতিতে সিপিএম-এর সমর্থকের সৌভাগ্য যে তাঁদের নেতৃত্বে একজন উচ্চশিক্ষিত মুসলমান এখনো আছেন। এই মুহুর্তে আনন্দবাজারি ন্যাকামো করলে সেটা আর ভবিষ্যতে ঘটবে না।

    বোদাগু
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। ঠিক অথবা ভুল মতামত দিন