একক,
মনে হচ্ছে আগে থেকেই এত রেগে আছেন যে ফোকাস নড়ে গেছে।
এই লেখায় “আমরা” শব্দ গৌরবে বহুবচন নয়। এটা প্লেস হোল্ডার।
কিসের?
পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো ও মূল্যবোধের। সেখানে আপনার আমার পরিবারের গল্প অপ্রাসঙ্গিক।
ভারতে এই কাঠামোর সবচেয়ে বড় ধারক বাহক হোল হিন্দি বলয়। আমার জীবনের ৫৫ বছর কেটেছে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, দিল্লি ও গুরগাঁওয়ে—গ্রাম এবং শহরে।
ছেড়ে আসার আগেও দেখেছি বিশেষ পরিবর্তন হয় নি।
যেমনঃ
এখনও আমার বন্ধু এবং পরিচিতদের তাঁদের স্ত্রী আপনি করে সম্বোধন করেন। কিন্তু স্বামীরা বয়সে বড় সেই সুবাদে ওদের নাম ধরে ডাকেন এবং ‘তুই’ করে সম্বোধন করেন।
এখনও বাইরের থেকে এসে ‘পতিদেব’ চেয়ারে বসলে পত্নীরা জুতোর ফিতে খুলে দেন।
এখনও বাড়ির কর্তা মারা গেলে রেভিনিউ রেকর্ডে বিধবা মায়ের আগে নতুন কর্তার (বড় ছেলের) নাম লেখা হয়।
এখনও স্ত্রীর চাকরি দুধভাত। মাইনের টাকা স্বামীর হাতে তুলে দিতে হয়। তিনি ঠিক করবেন টাকাটা কোন খাতে খরচ হবে অথবা কোথায় জমা করা হবে।
এখনও ঘরে কোন কাজ পড়লে স্ত্রীকে ছুটি নিতে হয়, স্বামীকে নয়।
এখনও অফিস থেকে স্বামীর বন্ধুরা ঘরে আসতে পারে, স্ত্রীর সহকর্মীরা (যদি পুরুষ হয়) নয়।
এখনও স্বামীদের কাছে ম্যারিটাল রেপ বা গার্হস্থ্য শ্রমের অর্থমূল্য নির্ধারণের প্রশ্ন হয় হাসির খোরাক, নয় আংরেজি পনা।
তাই রাজস্থান হাইকোর্টে এক বিচারক মেয়েদের গার্হস্থ্য শ্রমকে অনুৎপাদক এবং বেশ্যাবৃত্তির সংগে তুলনা করেছিলেন।
ইউনিসেফ থেকে জেন্ডার সেন্সিটিভিটি ( হিন্দিতে লিঙ্গ সংবেদনশীলতা) নিয়ে ওয়ার্কশপ করল। তাতে আমার হেড অফিস দু’জন পুরুষকেপাঠাল। ওদের মনে ধরল না যে একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে পাঠাই।
এবং ন্যাশনাল লেভেল সার্ভেতে দেখা গেছে যে প্রায় ৭০% মহিলা মনে করেন বাইরে থেকে এসে ক্লান্ত তিতিবিরক্ত স্বামী বৌকে দু'চার ঘা দিতেই পারেন। সেটা দোষের নয়।
স্টকহোম সিন্ড্রোম? নাকি অন্য কিছু!
আমারই অক্ষমতা যে লেখাটায় বক্তব্য স্পষ্ট করতে পারি নি।
আমার আর কিছুই বলার নেই।