এই সাইটটি বার পঠিত
ভাটিয়ালি | টইপত্তর | বুলবুলভাজা | হরিদাস পাল | খেরোর খাতা | বই
  • খেরোর খাতা

  • বুথ-ফেরত রক্তের দাগ: আমাদের গণতান্ত্রিক সার্কাসের অন্দরমহল

    হারামির হাতবাক্স লেখকের গ্রাহক হোন
    ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৪৩ বার পঠিত
  • রিপোস্ট করতে হলো, ভয়ে কাঁপছে শাসক! ক্ষমতা থাকলে রুখে দেখাও, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা অসম্ভব। লড়াই চলবে।
     
    ভূমিকা: গণতন্ত্রের যে মুখটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে না
     
    ভোটের মরশুমে পশ্চিমবঙ্গ একটি অদ্ভুত রূপান্তর ঘটায়। টেলিভিশনের পর্দায় যুক্তি-তর্ক-বাগবিতণ্ডার ঝড় ওঠে, প্যানেলিস্টরা ডেসিবেল প্রতিযোগিতায় নামেন, এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র এমন ভাব দেখান যেন তাঁর দলটিই ভারতে গণতন্ত্রের একমাত্র সত্যিকারের অভিভাবক। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে, স্টুডিওর এয়ার কন্ডিশনার থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে, বাস্তব পশ্চিমবঙ্গ তার পুরনো অভ্যাসমতো রক্তের হিসাব মেলাচ্ছে।
     
    এই প্রবন্ধটি সেই রক্তের হিসাব নিয়ে। সংখ্যা দিয়ে, ঘটনা দিয়ে, নির্দিষ্ট সাল-তারিখ দিয়ে। কারণ স্মৃতি রাজনৈতিক হয়, কিন্তু মৃতদেহ রাজনীতি মানে না।
     
    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা কোনো একটি দলের পাপ নয়, এটি এই রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই এক কলঙ্কিত ঐতিহ্য — যা বামফ্রন্টের ৩৪ বছর থেকে শুরু করে বর্তমান শাসনকাল পর্যন্ত একটি অব্যাহত ধারায় প্রবহমান। শুধু পোশাক বদলেছে, রক্তের রঙ বদলায়নি।
     
    ---
     
    প্রথম অধ্যায়: লাল আলোয় ঢাকা অন্ধকার — বামফ্রন্ট আমলের সহিংসতা (১৯৭৭–২০১১)
     
    ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছিল — অন্তত প্রতিশ্রুতির দিক থেকে। কিন্তু ক্ষমতার দীর্ঘ ৩৪ বছরে যা তৈরি হয়েছিল, সেটি হলো একটি সুবিশাল পৃষ্ঠপোষকতার জাল, যেখানে রাজনৈতিক আনুগত্য ছাড়া জীবনযাপন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছিল — বিশেষত গ্রামীণ বাংলায়।
     
    মরিচঝাঁপি গণহত্যা, ১৯৭৯:
     
    এটি বামফ্রন্ট শাসনের একটি কালো অধ্যায় যা দশকের পর দশক ধরে সুচিন্তিতভাবে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৭৮-৭৯ সালে বাংলাদেশ থেকে আসা লক্ষাধিক উদ্বাস্তু সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে আশ্রয় নেন — যারা ছিলেন মূলত নিম্নবর্ণের দলিত মানুষ। তাঁরা স্বাধীনভাবে বসবাসের চেষ্টা করছিলেন। বামফ্রন্ট সরকার তাঁদের উচ্ছেদ করতে পুলিশ পাঠায়। জানুয়ারি ১৯৭৯ থেকে মে ১৯৭৯ পর্যন্ত চলা এই অবরোধে অনাহার, গুলিবর্ষণ এবং নির্যাতনে কতজন মারা গিয়েছিলেন, তার সরকারি হিসাব কখনো স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হয়নি। গবেষক তুষার চক্রবর্তীর লেখা এবং বেঁচে থাকা মানুষদের সাক্ষ্যমতে মৃতের সংখ্যা কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী কেউ মারা যাননি — যে দাবিটি একই সঙ্গে অবিশ্বাস্য এবং অপমানজনক।
     
    সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড, ১৯৭০ (পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট):
     
    যদিও এটি বামফ্রন্ট আমলের আগের ঘটনা, তবু বর্ধমান জেলার সাঁইবাড়ি গ্রামে ১৯৭০ সালে কংগ্রেস কর্মী হত্যার ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতার সেই মানসিকতার ভিত্তি স্থাপন করে, যা পরবর্তী দশকগুলিতে আরো পরিশীলিত রূপ নেয়।
     
    ছোটো আঙারিয়া গণহত্যা, ১৯৯০:
     
    মেদিনীপুর জেলার ছোটো আঙারিয়া গ্রামে মার্চ ১৯৯০ সালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মীদের উপর হামলায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হন। এই ঘটনাটি সেই সময়ের সংবাদমাধ্যমে যতটুকু জায়গা পেয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটি একটি প্যাটার্নকে উন্মোচন করে — ভোটের আগে এবং পরে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর পদ্ধতিগত নির্যাতন।
     
    নন্দীগ্রাম, ২০০৭:
     
    এটি সম্ভবত বামফ্রন্ট শাসনের সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং ডকুমেন্টেড রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের উপর ১৪ মার্চ ২০০৭ সালে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা গুলি চালায়। সরকারি হিসাবে ১৪ জন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি আহত হন। বেসরকারি হিসাব এবং স্থানীয় সাক্ষীরা আরো বেশি সংখ্যার কথা বলেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পরে এই ঘটনাকে "রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস" বলে অভিহিত করেছিল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেদিনের সেই গুলির শব্দ এখনো ওই অঞ্চলের মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত।
     
    ভোট-কারচুপির পরিসংখ্যান:
     
    অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (ADR) এবং বিভিন্ন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, বামফ্রন্ট আমলে পশ্চিমবঙ্গে বহু নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভুয়ো ভোট এবং বুথ ক্যাপচারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮২ এবং ১৯৮৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া, বিরোধী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেওয়ার অভিযোগ ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত হয়েছে।
     
    ১৯৯৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতায় ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের লোকসভা ভোটে পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায় সংঘর্ষে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
     
    সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো National Crime Records Bureau (NCRB)-এর রিপোর্ট, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘকাল ধরে ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে রাজনৈতিক হত্যার সংখ্যায় শীর্ষস্থানে ছিল।
     
    ---
     
    দ্বিতীয় অধ্যায়: পরিবর্তনের স্লোগান, অপরিবর্তিত রক্ত — ২০১১ পরবর্তী সহিংসতা
     
    ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বামশাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার আসার প্রতিশ্রুতি ছিল 'পরিবর্তন'-এর। সেই পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে, সেটি বুঝতে হলে ২০১১ পরবর্তী সহিংসতার ইতিহাসটি পড়তে হবে।
     
    ২০১১ সালের পরবর্তী প্রতিশোধমূলক সহিংসতা:
     
    ক্ষমতার হাতবদলের পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বামফ্রন্টের সাবেক কর্মী এবং নেতাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায় পার্টি অফিস ভাঙচুর, কর্মীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং মারপিটের ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক প্রতিশোধের এই চক্র প্রমাণ করে যে ক্ষমতা বদলালেও সংস্কৃতি বদলায় না।
     
    পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০১৩:
     
    ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আসে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন নিহত হন। কলকাতা হাইকোর্ট নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে।
     
    পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০১৮:
     
    এই নির্বাচনটি পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি বিশেষ কলঙ্কিত অধ্যায়। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় থেকেই সহিংসতা শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৪,৬৫৫টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশ আসনে বিরোধীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। অর্থাৎ, একটি 'প্রতিযোগিতামূলক' নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জয়ী হন। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া অভিযোগের সংখ্যা ছিল হাজারের উপরে। নির্বাচনী সহিংসতায় ১০ থেকে ১২ জন নিহত হন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়।
     
    ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা:
     
    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) তদন্তের পর যে রিপোর্ট প্রকাশ করে, সেখানে বলা হয়:
     
    - নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ন্যূনতম ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
    - হাজারো মানুষ গৃহছাড়া হয়েছেন।
    - মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
    - সম্পত্তি ধ্বংস ও লুটপাটের ঘটনা রাজ্যের একাধিক জেলায় ব্যাপকভাবে ঘটেছে।
     
    NHRC রিপোর্ট আরো জানায় যে রাজ্য পুলিশ এই সহিংসতায় নীরব ভূমিকা পালন করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট এই সহিংসতার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে CBI তদন্তের নির্দেশ দেয়।
     
    ভাটপাড়া, ২০১৯:
     
    উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংঘাত চলে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সত্ত্বেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে এবং এলাকায় কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়।
     
    সন্দেশখালি, ২০২৩-২০২৪:
     
    উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত ব্যাপক অভিযোগ উঠে আসে। স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল এবং মহিলাদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন দল পাঠিয়ে তদন্ত করে এবং ভিকটিমদের সাথে কথা বলে। সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।
     
    ---
     
    তৃতীয় অধ্যায়: তুলনামূলক বিশ্লেষণ — কী বদলেছে, কী বদলায়নি
     
    পরিসংখ্যানের দিক থেকে একটি তুলনামূলক চিত্র তৈরি করলে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হয়:
     
    সাদৃশ্যের জায়গাগুলি:
     
    প্রথমত, উভয় আমলেই বিরোধীদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার রীতি অব্যাহত থেকেছে। রূপ বদলেছে, কিন্তু সারমর্ম একই। বামফ্রন্ট আমলে 'লোক কমিটি' এবং পার্টি ক্যাডারের মাধ্যমে যা করা হতো, পরবর্তী আমলে সেটি করা হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মাধ্যমে।
     
    দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় কাঠামো উভয় আমলেই ক্ষমতাসীন দলের সহায়তায় ব্যবহৃত হয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, FIR না নেওয়া, অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করার অভিযোগ দুই আমলেরই বৈশিষ্ট্য।
     
    তৃতীয়ত, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার অনুপস্থিতি। বামফ্রন্টের নেতারা যেমন মরিচঝাঁপিতে কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন তার হিসাব দেননি, বর্তমান সরকারও ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় নিহতদের সম্পূর্ণ তালিকা স্বীকার করেনি।
     
    পার্থক্যের জায়গাগুলি:
     
    প্রথমত, সহিংসতার প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। বামফ্রন্ট আমলের সহিংসতা অনেক সময়ে মতাদর্শগত লড়াইয়ের আড়ালে ঢাকা পড়তো। পরবর্তী আমলে সহিংসতা অনেক বেশি প্রকাশ্য এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
     
    দ্বিতীয়ত, বিচারিক হস্তক্ষেপ বেড়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, যা রাজনৈতিক জবাবদিহির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
     
    তৃতীয়ত, তথ্যের প্রাপ্যতা বেড়েছে। সামাজিক মাধ্যম এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার কারণে অনেক ঘটনা যা আগে চাপা পড়ে যেত, এখন আর সম্পূর্ণ চাপা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
     
    কিন্তু সবচেয়ে বড় মিল হলো এই — উভয় আমলেই ক্ষমতাসীনরা বিশ্বাস করেছে যে রাজনৈতিক ক্ষমতা তাদের যে কোনো কাজ করার অধিকার দেয়। এই বিশ্বাসটাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে গভীরে প্রোথিত কারণ।
     
    ---
     
    চতুর্থ অধ্যায়: টেলিভিশনের পর্দায় গণতন্ত্র এবং মাঠের বাস্তবতা
     
    এখানে একটু থামা দরকার। কারণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস বলতে বসলে একটি অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হতে হয় — যাঁরা এই সহিংসতাকে সবচেয়ে জোরালো কণ্ঠে অস্বীকার করেন, তাঁরাই প্রায়শই সেই সব দলের মুখপাত্র যাঁদের দলের বিরুদ্ধে সহিংসতার সবচেয়ে বেশি অভিযোগ।
     
    বাংলা টেলিভিশনের প্রাইমটাইম ডিবেটে প্রতিদিন সন্ধ্যায় যা ঘটে, সেটি ভারতীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য বিনোদন। ত্রিশোর্ধ্ব মুখপাত্ররা — যাঁদের অনেকে রাজনৈতিক বিজ্ঞান বা আইনের ডিগ্রিধারী — এমন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে তাঁদের দলের আমলে "একটিও" রাজনৈতিক হত্যা হয়নি, যে শুনলে মনে হয় NHRC, কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সবাই মিলে একটি সুবিশাল মিথ্যে বলার ষড়যন্ত্রে নেমেছেন।
     
    এই মুখপাত্রদের মধ্যে একটি অদ্ভুত সাহস লক্ষ্য করা যায়। যে সাহস তথ্যের মুখে চোখ বন্ধ রেখে বক্তব্য দিতে সাহায্য করে। যে সাহস জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টকে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে উড়িয়ে দেয়। যে সাহস আদালতের রায়কে "পক্ষপাতদুষ্ট" বলে নাকচ করতে দ্বিধা করে না।
     
    এই বিশেষ ধরনের সাহস অর্জনের জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স পড়ানো হয় না। এটি বোধহয় দলীয় প্রশিক্ষণের একটি বিশেষ মডিউল।
     
    কিন্তু হাস্যরসের বাইরে এই বিষয়টি আসলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অস্বীকারের সংস্কৃতিই রাজনৈতিক সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয়। যখন ক্ষমতার কাছের মানুষরা বারবার বলেন যে কিছুই হয়নি, তখন যারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাঁরা দ্বিগুণ আহত হন — একবার সহিংসতায়, আরেকবার সেই সহিংসতার অস্বীকৃতিতে।
     
    একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়া যাক: ২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার পর যখন NHRC রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, তখন রাজ্য সরকারের একাধিক মুখপাত্র টেলিভিশনে বলেন যে এই রিপোর্টটি "রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ"। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই রিপোর্টকে যথেষ্ট গুরুতর বলে মনে করেছিল — এবং CBI তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতকে কি তাহলে "রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ" বলা হবে?
     
    আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা হলো — উভয় দলের মুখপাত্ররাই প্রতিপক্ষের আমলের সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে অত্যন্ত উৎসাহী, কিন্তু নিজেদের আমলের সহিংসতা নিয়ে আলোচনা হলে হঠাৎই বিষয় পাল্টে যায়। এই দ্বৈততা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আলোচনার একটি চিরন্তন বৈশিষ্ট্য।
     
    একজন তরুণ মুখপাত্রকে একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল — "নন্দীগ্রামে যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য আপনার দল কি কখনো দায় স্বীকার করেছে?" উত্তর ছিল: "সেটা অনেক পুরনো বিষয়, এখন আমরা ভবিষ্যতের কথা ভাবছি।" একই ধরনের প্রশ্ন যখন বর্তমান শাসকদলের প্রতিনিধিকে ২০২১-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে করা হয়, উত্তর আসে: "বিজেপি নিজে হিংসা করে আমাদের উপর দোষ চাপাচ্ছে।"
     
    উভয় উত্তরেই একটি জিনিস সমানভাবে অনুপস্থিত — নিহত মানুষগুলোর কথা।
     
    ---
     
    পঞ্চম অধ্যায়: কাঠামোগত কারণ — সহিংসতা কেন থামছে না
     
    রাজনৈতিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য শুধু দলীয় অভিলাষ নয়, কাঠামোগত কারণগুলিও বুঝতে হবে।
     
    প্রথম কারণ: নির্বাচনী বন্দোবস্তের দুর্বলতা।
     
    পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষমতা সীমিত। এই কাঠামোগত দুর্বলতাকে ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতাসীন দল নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে — বামফ্রন্টও, বর্তমান শাসকরাও।
     
    দ্বিতীয় কারণ: দণ্ডহীনতার সংস্কৃতি।
     
    রাজনৈতিক সহিংসতার অপরাধে দোষীদের শাস্তি পাওয়ার হার অত্যন্ত কম। যে পুলিশ অফিসার অভিযোগ নেননি, যে নেতা হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যে কর্মী অগ্নিসংযোগ করেছেন — তাঁদের প্রায় কেউই দীর্ঘমেয়াদী শাস্তি পাননি। এই দণ্ডহীনতাই পরবর্তী সহিংসতার প্রণোদনা।
     
    তৃতীয় কারণ: রাজনীতির অর্থনৈতিকীকরণ।
     
    গ্রামীণ বাংলায় রাজনৈতিক আনুগত্য অনেক সময়ে অর্থনৈতিক সুবিধার সাথে সরাসরি যুক্ত। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া, কাজ পাওয়া, ব্যবসার অনুমতি পাওয়া — এসব অনেক সময়ে দলীয় পরিচয়ের উপর নির্ভরশীল। এই কাঠামোতে রাজনৈতিক বিরোধিতা শুধু মতামতের ব্যাপার নয়, জীবিকার ব্যাপারও।
     
    চতুর্থ কারণ: মিডিয়ার ভূমিকা।
     
    বাংলা সংবাদমাধ্যমের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের কাছাকাছি থেকেছে। এর ফলে সহিংসতার রিপোর্টিং অনেক সময়ে সম্পূর্ণ হয়নি। যে চ্যানেল বাম আমলের সহিংসতা নিয়ে নীরব ছিল, সে হয়তো তৃণমূল আমলে সরব হয়েছে — বা উল্টোটা। কিন্তু কোনো আমলেই সম্পূর্ণ, নিরপেক্ষ রিপোর্টিং সহজ হয়নি।
     
    ---
     
    ষষ্ঠ অধ্যায়: সংখ্যার সাক্ষ্য — একটি সামগ্রিক চিত্র
     
    NCRB-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক হত্যার পরিসংখ্যানে দীর্ঘকাল শীর্ষ বা শীর্ষের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ২০১৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৫ জন নিহত হন (NCRB রিপোর্ট)। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩১। ২০১৮-এ পঞ্চায়েত নির্বাচনের বছরে সংখ্যাটি আরো বাড়ে।
     
    তুলনামূলকভাবে দেখতে গেলে, ২০০৫ থেকে ২০১০ — বামফ্রন্টের শেষ পাঁচ বছরে — NCRB-এর রেকর্ড অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হত্যার সংখ্যা প্রতি বছর গড়ে ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে ছিল।
     
    অর্থাৎ, সংখ্যার দিক থেকে কোনো আমলেই পশ্চিমবঙ্গ নিরাপদ ছিল না — এবং এটি বলার জন্য কোনো দলবিশেষের পক্ষ নেওয়ার দরকার নেই।
     
    ADR (Association for Democratic Reforms) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার অভিযোগে ৩,৫০০ এরও বেশি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়ে, যা দেশের যে কোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ।
     
    ---
     
    উপসংহার: একটি প্রশ্নের উত্তর কে দেবেন?
     
    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস পড়তে বসলে একটা বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয় — এই রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতাই নির্ধারণ করে কার মৃত্যু ইতিহাসে লেখা হবে আর কার হবে না। বামফ্রন্ট আমলে নিহত বিরোধী কর্মীদের একটি অংশ পরে "শহিদ" হয়েছেন, কিন্তু একই আমলে নিহত বামকর্মীরা সংখ্যায় বেশি হলেও তাঁরা কতটুকু ইতিহাসে আছেন? বর্তমান আমলে নিহতদের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য।
     
    মরিচঝাঁপির মৃতরা কি কখনো প্রকৃত স্বীকৃতি পেয়েছেন? নন্দীগ্রামের নিহতদের পরিবার কি কখনো ন্যায়বিচার পেয়েছেন? ২০২১ সালের পরবর্তী সহিংসতায় গৃহহারা মানুষগুলো কি তাদের বাড়িতে ফিরতে পেরেছেন?
     
    এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যখন টেলিভিশনের ডিবেটে খোঁজা হয়, তখন পাওয়া যায় আরো বেশি প্রশ্ন — এবং দলীয় বক্তব্যের এক অক্লান্ত মহাকাব্য।
     
    কিন্তু মৃত মানুষরা দলীয় বক্তব্য শোনেন না। তাঁরা শুধু অপেক্ষা করেন — কেউ তাঁদের নাম মনে রাখবেন কিনা।
     
    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই — কারণ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে এই সহিংসতার জন্ম, সেই সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের কোনো সত্যিকারের সংকল্প কোনো দলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। 'পরিবর্তন' এসেছে ক্ষমতায়, কিন্তু সহিংসতার চরিত্রে নয়।
     
    এই রাজ্যে প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখতে চাইলে প্রথমে দরকার সৎ স্বীকৃতি — নিজের দলের পাপের স্বীকৃতি। দ্বিতীয়ত দরকার প্রকৃত জবাবদিহির সংস্কৃতি, যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতার অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিচারের মুখোমুখি হবে।
     
    কিন্তু যেদিন কোনো দলের নেতা টেলিভিশনে বলবেন, "হ্যাঁ, আমাদের সময়েও সহিংসতা হয়েছে, এবং সেটা ভুল ছিল" — সেদিন বোধহয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি একটু হলেও পরিণত হবে।
     
    ততদিন পর্যন্ত, প্রাইমটাইম ডিবেট চলতে থাকবে। মুখপাত্ররা চিৎকার করতে থাকবেন। এবং মাঠের মানুষ নীরবে গুনতে থাকবেন — আরো কতদিন আর কতটা রক্ত।
     
    বিঃদ্রঃ: নির্বাচনে আবেগ নয়, বরং ঘিলু কাজে লাগিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। বুদ্ধিদীপ্ত ভোটই কাম্য।
     
    ---
     
    তথ্যসূত্র: National Human Rights Commission রিপোর্ট (২০২১), National Crime Records Bureau বার্ষিক রিপোর্ট, Association for Democratic Reforms নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ, কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়, People's Union for Civil Liberties রিপোর্ট, Ananda Bazar Patrika এবং The Telegraph-এর সংরক্ষিত প্রতিবেদন।

    পুনঃপ্রকাশ সম্পর্কিত নীতিঃ এই লেখাটি ছাপা, ডিজিটাল, দৃশ্য, শ্রাব্য, বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিলিপিকরণ বা অন্যত্র প্রকাশের জন্য গুরুচণ্ডা৯র অনুমতি বাধ্যতামূলক। লেখক চাইলে অন্যত্র প্রকাশ করতে পারেন, সেক্ষেত্রে গুরুচণ্ডা৯র উল্লেখ প্রত্যাশিত।
  • মতামত দিন
  • বিষয়বস্তু*:
  • কি, কেন, ইত্যাদি
  • বাজার অর্থনীতির ধরাবাঁধা খাদ্য-খাদক সম্পর্কের বাইরে বেরিয়ে এসে এমন এক আস্তানা বানাব আমরা, যেখানে ক্রমশ: মুছে যাবে লেখক ও পাঠকের বিস্তীর্ণ ব্যবধান। পাঠকই লেখক হবে, মিডিয়ার জগতে থাকবেনা কোন ব্যকরণশিক্ষক, ক্লাসরুমে থাকবেনা মিডিয়ার মাস্টারমশাইয়ের জন্য কোন বিশেষ প্ল্যাটফর্ম। এসব আদৌ হবে কিনা, গুরুচণ্ডালি টিকবে কিনা, সে পরের কথা, কিন্তু দু পা ফেলে দেখতে দোষ কী? ... আরও ...
  • আমাদের কথা
  • আপনি কি কম্পিউটার স্যাভি? সারাদিন মেশিনের সামনে বসে থেকে আপনার ঘাড়ে পিঠে কি স্পন্ডেলাইটিস আর চোখে পুরু অ্যান্টিগ্লেয়ার হাইপাওয়ার চশমা? এন্টার মেরে মেরে ডান হাতের কড়ি আঙুলে কি কড়া পড়ে গেছে? আপনি কি অন্তর্জালের গোলকধাঁধায় পথ হারাইয়াছেন? সাইট থেকে সাইটান্তরে বাঁদরলাফ দিয়ে দিয়ে আপনি কি ক্লান্ত? বিরাট অঙ্কের টেলিফোন বিল কি জীবন থেকে সব সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার দুশ্‌চিন্তার দিন শেষ হল। ... আরও ...
  • বুলবুলভাজা
  • এ হল ক্ষমতাহীনের মিডিয়া। গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল যখন নিজের ঢাক নিজে পেটায়, তখন তাকেই বলে হরিদাস পালের বুলবুলভাজা। পড়তে থাকুন রোজরোজ। দু-পয়সা দিতে পারেন আপনিও, কারণ ক্ষমতাহীন মানেই অক্ষম নয়। বুলবুলভাজায় বাছাই করা সম্পাদিত লেখা প্রকাশিত হয়। এখানে লেখা দিতে হলে লেখাটি ইমেইল করুন, বা, গুরুচন্ডা৯ ব্লগ (হরিদাস পাল) বা অন্য কোথাও লেখা থাকলে সেই ওয়েব ঠিকানা পাঠান (ইমেইল ঠিকানা পাতার নীচে আছে), অনুমোদিত এবং সম্পাদিত হলে লেখা এখানে প্রকাশিত হবে। ... আরও ...
  • হরিদাস পালেরা
  • এটি একটি খোলা পাতা, যাকে আমরা ব্লগ বলে থাকি। গুরুচন্ডালির সম্পাদকমন্ডলীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই, স্বীকৃত ব্যবহারকারীরা এখানে নিজের লেখা লিখতে পারেন। সেটি গুরুচন্ডালি সাইটে দেখা যাবে। খুলে ফেলুন আপনার নিজের বাংলা ব্লগ, হয়ে উঠুন একমেবাদ্বিতীয়ম হরিদাস পাল, এ সুযোগ পাবেন না আর, দেখে যান নিজের চোখে...... আরও ...
  • টইপত্তর
  • নতুন কোনো বই পড়ছেন? সদ্য দেখা কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনার জায়গা খুঁজছেন? নতুন কোনো অ্যালবাম কানে লেগে আছে এখনও? সবাইকে জানান। এখনই। ভালো লাগলে হাত খুলে প্রশংসা করুন। খারাপ লাগলে চুটিয়ে গাল দিন। জ্ঞানের কথা বলার হলে গুরুগম্ভীর প্রবন্ধ ফাঁদুন। হাসুন কাঁদুন তক্কো করুন। স্রেফ এই কারণেই এই সাইটে আছে আমাদের বিভাগ টইপত্তর। ... আরও ...
  • ভাটিয়া৯
  • যে যা খুশি লিখবেন৷ লিখবেন এবং পোস্ট করবেন৷ তৎক্ষণাৎ তা উঠে যাবে এই পাতায়৷ এখানে এডিটিং এর রক্তচক্ষু নেই, সেন্সরশিপের ঝামেলা নেই৷ এখানে কোনো ভান নেই, সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা তৈরি করার কোনো ঝকমারি নেই৷ সাজানো বাগান নয়, আসুন তৈরি করি ফুল ফল ও বুনো আগাছায় ভরে থাকা এক নিজস্ব চারণভূমি৷ আসুন, গড়ে তুলি এক আড়ালহীন কমিউনিটি ... আরও ...
গুরুচণ্ডা৯-র সম্পাদিত বিভাগের যে কোনো লেখা অথবা লেখার অংশবিশেষ অন্যত্র প্রকাশ করার আগে গুরুচণ্ডা৯-র লিখিত অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। অসম্পাদিত বিভাগের লেখা প্রকাশের সময় গুরুতে প্রকাশের উল্লেখ আমরা পারস্পরিক সৌজন্যের প্রকাশ হিসেবে অনুরোধ করি। যোগাযোগ করুন, লেখা পাঠান এই ঠিকানায় : guruchandali@gmail.com ।


মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি বার পঠিত
পড়েই ক্ষান্ত দেবেন না। যা মনে চায় মতামত দিন